জাতীয়

ভয় থেকে মুক্ত পরিবেশে ফিরে আসতে চান বাউলশিল্পী আবুল সরকার

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
ভয় থেকে মুক্ত পরিবেশে ফিরে আসতে চান বাউলশিল্পী আবুল সরকার
ভয় থেকে মুক্ত পরিবেশে ফিরে আসতে চান বাউলশিল্পী আবুল সরকার

সমাজের মৌলিক পরিবর্তনের জন্য দেশজুড়ে সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো প্রগতিশীল চিন্তার লেখক, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের জাতীয় কনভেনশন। আজ শুক্রবার ছুটির দিনে সকাল থেকে সারা দিন নানা কর্মসূচির ভেতর দিয়ে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় এই কনভেনশন হয়।

‘কণ্ঠে মোদের কুণ্ঠাবিহীন নিত্য-কালের ডাক’ স্লোগান নিয়ে কনভেনশনের আনুষ্ঠানিকতার সূচনা হয় সকালে জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনের লবিতে। সমবেত কণ্ঠে ‘এসো মুক্ত করো’, ‘ জনতার সংগ্রাম চলবেই’ ও ‘দুর্গমগিরি’ এই তিন সংগীতের পর জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পীরা।

উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক নূরুল কবির। তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক আন্দোলন হলো রাজনৈতিক আন্দোলনের পাটাতন। বর্তমান সময়ে প্রগতিশীল রাজনৈতিক ধারা এগিয়ে নিতে এই কনভেনশন অত্যন্ত প্রয়োজন।
উদ্বোধনের পর লেখক, শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মীদের একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নাট্যশালার প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে।

এর আগে সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে লেখক, শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মীরা কনভেনশন কেন্দ্রে আসতে থাকেন। প্রথমেই তাঁরা নাম নিববন্ধন করেন।

আয়োজকেরা জানান, দেশের ৪৫টি জেলা থেকে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা ছাড়াও অনেকে ব্যক্তিগতভাবে কনভেনশনে অংশ নিয়েছেন। তাঁরা পরস্পরের সঙ্গে চেনাজানা, কুশল বিনিময় ও আলাপচারিতায় মেতে ওঠেন। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল ও শ্রমজীবী–পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও এসেছিলেন অতিথি হয়ে।

মিলনায়তনের লবি সাজানো হয়েছিল সুদৃশ্য সজ্জায়। সব মিলিয়ে কনভেনশন উপলক্ষে এক উৎসমুখর আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল জাতীয় নাট্যশালায়।  

উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতার শেষে মিলনায়তনে শুরু হয় উদ্বোধনী অধিবেশন। একক কণ্ঠে হেমাঙ্গ বিশ্বাসের বিখ্যাত গণসংগীত ‘শঙ্খচিল’ পরিবেশন করেন শিল্পী মাইশা সুলতানা। আবৃত্তি করেন দীপক সুমন। খাগড়াছড়ির ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘প্রতিরোধ সাংস্কৃতিক স্কোয়াড’ জুম্ম জনগোষ্ঠীর জীবন ও সংস্কৃতি অবলম্বনে বিশেষ নৃত্য পরিবেশন করে। এরপর শুরু হয় আলোচনা পর্ব।

শুরুতেই এই কনভেনশনের পরিপ্রেক্ষিত ও লক্ষ্য তুলে ধরেন এই আয়োজনের সভাপতি ও গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক জামসেদ আনোয়ার। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসক শেখ হাসিনার প্রবর্তিত নিবর্তনমূলক সাইবার নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ৬ মে রাজধানীতে এক প্রতিবাদ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের সূত্রপাত। তখন ৩১টি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন যৌথভাবে এই কর্মসূচির পালন করেছিল। পরে সরকারের ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে আন্দোলন অব্যাহত ছিল। এরপর ২০২৪ সালে ২০ জুলাই কারফিউ জারি করা হলে সাংস্কৃতিক কর্মীদের এই মোর্চা প্রথম কারফিউ ভেঙে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদী সমাবেশ ও গানের মিছিল করে। এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ জুলাই গানে গানে প্রতিবাদী শিল্পীরা রাজপথ দখল করেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে ২ আগস্ট করেছিলেন দ্রোহযাত্রা।

জামসেদ আনোয়ার বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলেও সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য অক্ষুণ্ন আছে। দেশে আইনের শাসনের পরিবর্তে মাজার, ভাস্কর্য ভাঙা, মব–সন্ত্রাস, কবিগান, বাউলগান, যাত্রাপালা, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও নারীদের হেনস্তা করা হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের যেভাবে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে, তা অব্যাহত রয়েছে। তারা স্বাধীন মতপ্রকাশ, মুক্তচিন্তা ও সংস্কৃতির ওপর সুপরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করছে। এই পরিস্থিতিতে গণমানুষের পক্ষে সৃজনশীলতার চর্চা ও সাংস্কৃতিক সংগ্রাম অব্যাহত রাখার জন্য ব্যাপক ঐক্যের প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই এই কনভেনশন আয়োজন করা হয়েছে।

নূরুল কবির বলেন, সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য সারা দেশে সাংস্কৃতিক জাগরণ সৃষ্টি করতে হবে। এই সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পাটাতনে রাজনৈতিক সংগ্রাম অভীষ্ট লক্ষ্যের অভিমুখে নিয়ে যেতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় ইতিহাসকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। এটা করা যায়নি বলেই চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। একই কারণে নব্বই ও উনসত্তরের অভ্যুত্থানেরও কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ করা যায়নি। তিনি বলেন, যত দিন প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক পাটাতনের ওপর রাজনৈতিক সংগ্রাম না দাঁড়াবে, তত দিন বিপ্লব সফল হবে না। তিনি সাংস্কৃতিক কর্মীদের এই কার্যক্রমকে আরও ব্যাপকভাবে সারা দেশে সম্প্রসারিত করার আহ্বান জানান।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, প্রগতিশীল লেখক, শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মীদের এই কনভেনশন একটি নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সাংস্কৃতিক লড়াই সব লড়াইয়ের ভিত্তি। বৈষম্যবাদী চিন্তা, উগ্রধর্মীয় চিন্তা, সাম্প্রদায়িক চিন্তা এসবের নিজস্ব শক্তি আছে। সমাজের ভেতর থেকেই এসব গোষ্ঠীর সৃষ্টি হয়েছে। কাজেই তাদের প্রতিহত করতে হলে প্রগতির পক্ষের প্রবল শক্তির প্রয়োজন। সেই শক্তি আসবে ঐক্যের মাধ্যমে। এ কারণে এই কনভেনশন ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি কনভেনশনের উদ্যোক্তাদের আরও বেশি সংখ্যায় নারী, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির পরামর্শ দেন।

বাউল শিল্পী আবুল সরকার

সম্প্রতি জামিনে কারামুক্ত বাউলশিল্পী আবুল সরকার মহারাজ বলেন, কারাগার থেকে মুক্তি পেলেও তিনি নিজেকে মুক্ত বলে অনুভব করতে পারছেন না। তিনি তাঁর নিজের মতো করে গান করতে পারেন না। বাড়ি থেকে বের হতে পারেন না। স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। সব সময় ভয়ের মধ্যে রয়েছেন। এই বন্দিত্ব, এই ভয় থেকে মুক্ত পরিবেশে ফিরে আসতে চান তিনি। সমাজে সেই পরিবেশ সৃষ্টির আহ্বান জানন। যাঁরা তাঁর মুক্তির জন্য আন্দোলন করেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান বলেন, প্রগতিশীল লেখক, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের নিয়ে দানবীয় আকার পাওয়া ধর্মীয় উগ্রবাদীদের রুখে দিতে হবে। সাহসের সঙ্গে সাংস্কৃতিক কর্মীদের সংগ্রাম করতে হবে।

এই পর্বে আরও বক্তব্য দেন উনসত্তরের অভ্যুত্থানের নেত্রী দীপা দত্ত, লেখক রণজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যাত্রাশিল্প উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এস আলম, প্রগতি লেখক সংঘের কোষাধ্যক্ষ দীনবন্ধু দাস, সমাজ অনুশীলন কেন্দ্রের আহ্বায়ক বিমল কান্তি দাস, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, সমাজচিন্তা ফোরামের আহ্বায়ক কামাল হোসেন প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ও কনভেনশন প্রস্তুতি পরিষদের সদস্যসচিব মফিজুর রহমান।  

প্রথম অধিবেশনের পরে ছিল দুপুরের খাবারের জন্য বিরতি। বিকেলে ছিল সাংগঠনিক অধিবেশন, শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
কুষ্টিয়ায় পদ্মার পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী
কুষ্টিয়ায় পদ্মার পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী

পদ্মা নদীর পানি বাড়ায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার দুটি ইউনিয়নের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে আশপাশের গড়াই নদসহ বিভিন্ন নদী ও খাল-বিলের পানিও বাড়ছে।পদ্মার পানি বাড়ার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দৌলতপুর উপজেলার চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মানুষ। এ দুই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন, দুটি ইউনিয়নের ৩৫টি গ্রামে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৩৫ হাজার ও চিলমারী ইউনিয়নের ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী আছেন। ইউনিয়ন দুটির অধিকাংশ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। জরুরি প্রয়োজনে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মানুষকে।রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ইনসাফনগর গ্রামের বাসিন্দা আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এলাকার সব ডুইবি গিছে। বাড়ির উঠানে ও বাইরে পানি। যেগুলো মাটি তুলি উঁচু করা সেগুলোতে পানি কম ডুকছে। আমাদের বাড়ি উঁচু। কিন্তু চারপাশে পানি। রাস্তাঘাট ভাঙ্গি গিছে। রাতে পানি বেশি বাড়ছে। গত দুই–তিন দিন ধইরি পানি বাইড়িছে।’পদ্মার পানি ঢুকেছে লোকালয়ে। শুক্রবার কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের চিলমারী ইউনিয়নের চিলমারী এলাকায়শুক্রবার দুপুরে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা বলেন, ভারতে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি বেড়ে গেছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা আরও একটু পানি বাড়বে। এরপর পানি কমতে পারে।অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক, শিক্ষা ও আইসিটি এবং উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মো. মিজানুর রহমান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, পানি বাড়ার কারণে গত কয়েক দিনে ২০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। প্রতিনিয়ত খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।কুষ্টিয়ার পাউবো সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল নয়টা থেকে শুক্রবার সকাল নয়টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হার্ডিঞ্জ সেতু পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বেড়েছে ১৬ সেন্টিমিটার। এখানে পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক শূন্য ২ সেন্টিমিটার। পানির বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। বিপৎসীমা থেকে ৭৮ সেন্টিমিটার নিচে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল।অনিন্দ্য গুহ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, দৌলতপুর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। জরুরি ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত খোঁজ রাখা হচ্ছে। শুকনা খাবার, ওষুধ ও মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রয়েছে।পদ্মার পানি বাড়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত। গতকাল বিকেলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর চর এলাকায়চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি বাড়ায় বিষধর সাপের উপদ্রব বেড়েছে। ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন অনেকে।এদিকে পানি বাড়ায় চরাঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে গুজব ছড়িয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, চরাঞ্চলের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা বা পাঠদান স্থগিত করা হয়নি। এ রকম কোনো সিদ্ধান্তও হয়নি। যে তথ্য ছড়িয়েছে, তা গুজব ও বিভ্রান্তিকর।শুক্রবার বিকেলে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ইউনিয়নের ১৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সড়কগুলো ডুবে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক বাড়ির ভেতরে পানি না ঢুকলেও বসতভিটা পর্যন্ত পানি উঠেছে। পানির দুর্ভোগের পাশাপাশি সাপের আতঙ্কেও মানুষ দিশাহারা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পানি বেড়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সড়কগুলো তলিয়ে যাওয়ায় নৌকায় ও ভেলায় চলাফেরা করছেন মানুষ। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। প্লাবিত হয়েছে ফিলিপনগর, মরিচা, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর এলাকার ফসলি জমি। এতে রোপা আমন ধান, কলা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।পদ্মা নদীর পানি বেড়ে নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ফিলিপনগর চর এলাকায়কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) মো. আসফাউদদৌলা প্রথম আলোকে বলেন, পদ্মার পানি বাড়ছে। আগামীকাল (আজ শনিবার) পর্যন্ত আরেকটু পানি বাড়বে। এর পর থেকে পানি কমতে থাকবে।যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত আছে উল্লেখ করে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ প্রথম আলোকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। জরুরি ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত খোঁজ রাখা হচ্ছে। শুকনা খাবার, ওষুধ ও মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রয়েছে।উপজেলা কৃষি বিভাগের হিসাবে, নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩৫০ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। পানি আরও বাড়লে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও কৃষি পরামর্শ দেওয়া হবে।

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
ঝুম বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভূমিজদের ‘করমা’ উদ্‌যাপন

ঝুম বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভূমিজদের ‘করমা’ উদ্‌যাপন

এখনো অন্ধকারে পুলিশ, ঘুরপাক খাচ্ছে মোটরসাইকেলের সাদা আর নীল রঙে

এখনো অন্ধকারে পুলিশ, ঘুরপাক খাচ্ছে মোটরসাইকেলের সাদা আর নীল রঙে

বিশ্বকাপ নিয়ে স্পেন-মরক্কোর টানাটানি, মরিনিও বললেন ‘পর্তুগালে হোক’

বিশ্বকাপ নিয়ে স্পেন-মরক্কোর টানাটানি, মরিনিও বললেন ‘পর্তুগালে হোক’

দিল্লিতে মোদির আপ্যায়নে পুতিন-সি, তবে ব্রিকসে বড় হয়ে উঠবে ট্রাম্পের ছায়া
দিল্লিতে মোদির আপ্যায়নে পুতিন-সি, তবে ব্রিকসে বড় হয়ে উঠবে ট্রাম্পের ছায়া

যুক্তরাষ্ট্র ব্রিকসের সদস্য নয়। তারপরও আগামীকাল শনিবার দিল্লিতে শুরু হতে যাওয়া দুই দিনের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বড় হয়ে উঠবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছায়া।সম্মেলনের আয়োজক ভারত ছাড়াও চীন, রাশিয়া, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), ইরানসহ ব্রিকসের ১১টি দেশের নেতারা এই সম্মেলনে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে সৌদি আরবও অংশ নিচ্ছে সম্মেলনে। এই সম্মেলনে বর্তমান বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকা বিভিন্ন দেশের নেতাদের আলোচনায় খুব কম বিষয়ই ততটা গুরুত্ব পাবে, যতটা গুরুত্ব পাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেওয়া বিভিন্ন নীতির প্রভাব নিয়ে আলোচনা।ইরান যুদ্ধ ও হোয়াইট হাউসের শুল্ক আরোপের অব্যাহত হুমকি বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এতে বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।এমন এক পরিস্থিতির মধ্যেই ব্রিকসের নেতারা বৈঠকে বসছেন। তবে সম্মেলন থেকে এমন কোনো যৌথ বিবৃতি আসার সম্ভাবনা কম, যেখানে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করা হবে কিংবা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি ও ভূরাজনীতির মোকাবিলায় সমন্বিত কোনো কৌশলের কথা বলা হবে।এর একটি কারণ হলো, ওয়াশিংটনকে চ্যালেঞ্জ করতে ব্রিকস কতটা এগোবে, তা নিয়ে জোটটির সদস্যদের মধ্যে গভীর বিভাজন রয়েছে।মাইকেল কুগেলম্যান, জ্যেষ্ঠ ফেলো, আটলান্টিক কাউন্সিলভারতের এমন কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়ার সক্ষমতা নেই, যা ওয়াশিংটনের বিপক্ষে যায়। সম্প্রসারিত ব্রিকসের সদস্যদের স্বার্থের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির যেকোনো সমালোচনা হবে ‘অস্পষ্ট ও পরোক্ষ’।আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বিবিসিকে বলেন, ‘ভারতের এমন কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়ার সক্ষমতা নেই, যা ওয়াশিংটনের বিপক্ষে যায়।’ তাঁর ধারণা, সম্প্রসারিত ব্রিকসের সদস্যদের স্বার্থের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। সে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির যেকোনো সমালোচনা হবে ‘অস্পষ্ট ও পরোক্ষ’।এই জোট যেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আরও স্পষ্ট অবস্থান নেয়, সেই চেষ্টা করতে পারে রাশিয়া ও ইরান। তবে ব্রিকসের ভেতরের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা তা কঠিন করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে ভারত। এ সময় হোয়াইট হাউসকে অসন্তুষ্ট করতে পারে, এমন কোনো বিবৃতি দিতে চাইবে না দিল্লি। ব্রিকসকে ব্যবহার করে ওয়াশিংটনকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, এমন কোনো ধারণা তৈরি হওয়ার বিষয়ে চীনও সতর্ক থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।এরপরে আছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের জবাবে ইরান যে পাল্টা হামলা চালায়, তার শিকার হয়েছিল মার্কিন ঘাঁটি থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত। তাই তেহরানের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে, এমন কোনো বিবৃতি আমিরাতের সমর্থন করার সম্ভাবনা কম।কুগেলম্যান বলেন, ব্রিকসের সম্প্রসারণের ফলে জোটটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এর ফলে সদস্যদের মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছানোও কঠিন হয়েছে।আটলান্টিক কাউন্সিলের এই জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক বলেন, ‘আপনি এমন বেশ কয়েকটি সদস্যকে যুক্ত করেছেন, যাদের মধ্যে বনিবনা নেই।’ তাঁর মতে, ‘বিশ্বব্যবস্থা নিয়ে নানা মত ও ভিন্ন অবস্থান থাকা’ দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করা ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডানে) ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফ্রান্সের এভিয়ঁতে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে, জুন ২০২৬ট্রাম্প ব্রিকসের বিরুদ্ধেও বেশ সোচ্চার। বিশেষ করে বৈশ্বিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানো নিয়ে জোটটির প্রচেষ্টার সমালোচনা করেন তিনি। ডলারের ওপর এই নির্ভরতা কমানোর প্রক্রিয়া ডি-ডলারাইজেশন নামে পরিচিত।ব্রিকসের বিকল্প মুদ্রা চালু বা বৈশ্বিক বাণিজ্যে ডলারের প্রভাব কমানোর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রায় সময় হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। এমনই এক হুমকিতে ২০২৪ সালের নভেম্বরে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘শক্তিশালী মার্কিন ডলারের’ বিকল্প কোনো মুদ্রাকে ব্রিকসের দেশগুলো সমর্থন করলে তাদের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।এই পরিস্থিতিতে কী করতে পারে ব্রিকসগত এক দশকে ব্রিকসের ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। তাই জোটটি প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমাবিরোধী অবস্থান নিতে চাইবে না। তবে এত দিনে জোটটি যা অর্জন করেছে, সেগুলোকে আরও এগিয়ে নিতে চাইবে। একই সঙ্গে জি-২০ ও জি-৭-এর মতো জোটগুলোর বিকল্প হিসেবে নিজেদের আরও শক্তিশালী করে তুলতে চাইবে ব্রিকস।বিবিসি মনিটরিংয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ব্রিকস দেশগুলো এখন বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪৯ শতাংশ, বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪০ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ২৬ শতাংশ দখল করে আছে।ব্রিকসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জন হলো নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এনডিবি) প্রতিষ্ঠা। ব্যাংকটি অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে। এসব প্রকল্পের অনেকগুলোই বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোতে।আর্থিক সংকটে পড়া সদস্যদেশগুলোকে সহায়তা দিতে ব্রিকস ১০ হাজার কোটি ডলারের একটি জরুরি রিজার্ভ ব্যবস্থাও গড়ে তুলেছে। তবে তা এখন পর্যন্ত বাস্তবে ব্যবহারের প্রয়োজন পড়েনি।এবারের সম্মেলনে ব্রিকসের নেতারা স্থানীয় মুদ্রায় আন্তসীমান্ত লেনদেন আরও সহজ করার উপায় নিয়েও আলোচনা করতে পারেন। এটি মস্কো ও তেহরানের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দুই দেশই যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে।১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বিভিন্ন দেশের নেতারা দিল্লিতে আসতে শুরু করায় কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। শহরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে হাজারো নিরাপত্তাকর্মীবৈশ্বিক দক্ষিণের নেতৃত্বে ভারতের লক্ষ্যব্রিকস উন্নয়নশীল দেশগুলোর কণ্ঠস্বর হিসেবেও নিজেদের অবস্থান আরও জোরালো করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জোটের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংস্কারের দাবি জানাতে পারে। অনেক উন্নয়নশীল দেশের ধারণা, এসব প্রতিষ্ঠান বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র যথাযথভাবে তুলে ধরে না।বিশেষ করে ভারতের জন্য এই সম্মেলন বৈশ্বিক দক্ষিণের নেতৃত্ব দেওয়ার দাবিকে আরও জোরালো করার সুযোগ তৈরি করছে।বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা, আরও বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্ব, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বৃহত্তর প্রতিনিধিত্ব এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য আরও উন্মুক্ত করার মতো বিষয়গুলো ভারতের পররাষ্ট্রনীতির অনেক অগ্রাধিকার ব্রিকসের বৃহত্তর লক্ষ্যগুলোর খুব কাছাকাছি।তবে ব্রিকসের ভেতরে চীনের উল্লেখযোগ্য প্রভাব এবং উন্নয়নশীল বিশ্বের বড় একটি অংশে দেশটির শক্তিশালী উপস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, সেই পথও ভারতকে খুঁজে বের করতে হবে।কুগেলম্যান বলেন, মোদি সরকার ‘বৈশ্বিক দক্ষিণের নেতা বা কণ্ঠস্বর’ হয়ে ওঠার ওপর জোর দিয়েছে। তবে আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায় ভারতের প্রভাব আরও গভীর করার প্রচেষ্টার ‘সাফল্য সীমিত’। এসব অঞ্চলে চীন তুলনামূলকভাবে বেশি সফল হয়েছে।এই জোট যেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আরও স্পষ্ট অবস্থান নেয়, সেই চেষ্টা করতে পারে রাশিয়া ও ইরান। তবে ব্রিকসের ভেতরের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা তা কঠিন করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।ব্রিকসের বেশির ভাগ সদস্যই উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশ। কুগেলম্যান বলেন, সম্প্রসারিত এই জোট ভারতের জন্য ইথিওপিয়া, ব্রাজিল ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার এবং আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকাজুড়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করেছে।এবারের সম্মেলন থেকে একটি যৌথ বিবৃতি আদায় করতে পারাই দিল্লির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এমন বিবৃতিকে আয়োজক দেশের জন্য প্রায় সময় কূটনৈতিক সাফল্যের একটি মাপকাঠি হিসেবে দেখা হয়। তবে ইরানে চলমান যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য থাকায় এটি কঠিন হবে।এই চ্যালেঞ্জটা কত বড়, গত মে মাসের একটি ঘটনায় তার প্রমাণ পাওয়া যায়। ওই সময় ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইরানের যুদ্ধ নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে সম্মেলনের পর একটি যৌথ বিবৃতি দিতে একমত হতে পারেননি। ফলে আয়োজক দেশ ভারতকে ব্রিকসের সভাপতির পক্ষ থেকে বৈঠকের একটি সারসংক্ষেপ প্রকাশ করতে হয়েছিল।তবে ২০২৩ সালে জি-২০-এর শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের অভিজ্ঞতা থেকে ভারত আত্মবিশ্বাসী হতে পারে। সে সময় ইউক্রেনে–রাশিয়ার যুদ্ধ নিয়ে গভীর বিভাজন থাকা সত্ত্বেও ভারত একটি যৌথ ঘোষণার জন্য সদস্যদেশগুলোর সম্মতি আদায় করতে পেরেছিল।মাইকেল কুগেলম্যান, জ্যেষ্ঠ ফেলো, আটলান্টিক কাউন্সিলমোদি সরকার ‘বৈশ্বিক দক্ষিণের নেতা বা কণ্ঠস্বর’ হয়ে ওঠার ওপর জোর দিয়েছে। তবে আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায় ভারতের প্রভাব আরও গভীর করার প্রচেষ্টার ‘সাফল্য সীমিত’। এসব অঞ্চলে চীন তুলনামূলকভাবে বেশি সফল হয়েছে।তবে দিল্লি এটাও চাইবে, যেন এবারের ব্রিকস সম্মেলন থেকে কিছু সুনির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসে এবং জোটটির এখন পর্যন্ত অর্জিত সাফল্যগুলো তুলে ধরা যায়। এ বিষয়ে সদস্যদেশগুলোর একমত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ, ব্রিকসকে স্রেফ একটি ‘কথার দোকান’ হিসেবে খাটো করা হোক, তা কেউই চাইবে না।ব্রিকসের নেতারা আর্থিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে। বড় ধরনের ভূরাজনৈতিক ঘটনাগুলোও আলোচনায় আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে কোনো বক্তব্য দেওয়া হলে তা যেন সংঘাত এড়িয়ে যায়, সে জন্য ভাষা খুব সতর্কভাবে ব্যবহার করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।অন্যদিকে ওয়াশিংটন সম্মেলনটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।দিল্লিতে মোদি–সি–পুতিনের বৈঠকএই সম্মেলন সামনে রেখে দিল্লিকে দুর্গের মতো নিরাপত্তাবেষ্টিত করা হয়েছে। নেতারা আসতে শুরু করায় হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এরই মধ্যে দিল্লিতে পৌঁছেছেন। মোদি–পুতিন বৈঠকও হয়েছে। তাঁরা দুই দেশের বিশেষ সম্পর্ক আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন। আজ শুক্রবার তাঁদের বৈঠকে জ্বালানি, প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং (ডানে) ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাশিয়ার কাজানে ব্রিকস সম্মেলনে, ২৩ অক্টোবর ২০২৪এবার ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও হবে। শনিবার চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের দিকে বিশেষ নজর থাকবে। দুই দেশ ধীরে ধীরে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। তবে অগ্রগতি দুই পক্ষের প্রত্যাশার তুলনায় বেশি সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছে।ভূরাজনীতির বাইরেও রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ভারতের বাড়তে থাকা বাণিজ্যঘাটতি দুই দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।তবে শেষ পর্যন্ত সফলভাবে সম্মেলন শেষ করার দিকেই ব্রিকসের মনোযোগ থাকবে। কারণ, এতে জোটটির প্রভাব আরও জোরালো হবে।ব্রিকসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জন হলো নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এনডিবি) প্রতিষ্ঠা। ব্যাংকটি অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে। এসব প্রকল্পের অনেকগুলোই বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোতে।আর আয়োজক ভারতের জন্যও এটি হবে একটি কূটনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক সাফল্য। এমন এক সময়ে এই সাফল্য আসবে, যখন দিল্লি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের প্রভাব আবারও জোরালো করার চেষ্টা করছে।কুগেলম্যান বলেন, এই সম্মেলনে ভারতের জন্য ঝুঁকি ও গুরুত্ব বিশেষভাবে বেশি। তাঁর মতে, ইরানের যুদ্ধ ঘিরে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাসহ মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় দিল্লি কিছুটা আড়ালে পড়ে গেছে।মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ‘বিশ্বে ভারতের গুরুত্ব ও নেতৃত্ব আবারও জোরালোভাবে তুলে ধরার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এ কারণেই এই সম্মেলন ভারতের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ।’কিছু দিক থেকে পুরো ব্রিকস জোটের চেয়ে আয়োজক দেশ হিসেবে ভারতের জন্য এই সম্মেলন ‘বেশি গুরুত্বপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
গ্যাস সংকট আরও ৫-৭ দিনে স্বাভাবিক হতে পারে: প্রধানমন্ত্রী

গ্যাস সংকট আরও ৫-৭ দিনে স্বাভাবিক হতে পারে: প্রধানমন্ত্রী

বরিশালে পত্রিকা কার্যালয়ে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত লাশ

বরিশালে পত্রিকা কার্যালয়ে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত লাশ

বিচিত্র অ্যানিমে কসপ্লে, মাঙ্গা, অরিগ্যামি,  সুশি-রামেন: জাপানিজ পপ কালচারের অভিনব আয়োজন 'নিহন যাই'

বিচিত্র অ্যানিমে কসপ্লে, মাঙ্গা, অরিগ্যামি, সুশি-রামেন: জাপানিজ পপ কালচারের অভিনব আয়োজন 'নিহন যাই'

0 Comments