ভোলার মেঘনা নদীতে জেলের জালে ধরা পড়েছে একটি রাজা ইলিশ। ২ কেজি ৫৬০ গ্রাম ওজনের ইলিশটি বিক্রি হয়েছে ১৫ হাজার টাকায়। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরের এমন ঘটনা ঘটে ভোলার বিচ্ছিন্ন মনপুরা উপজেলার রামনেওয়াজ মাছ ঘাটে। পরে মাছটি আবার আরও বেশি মূল্যে বিক্রির জন্য কাওরান বাজারে পাঠানো হয়েছে।
রামনেওয়াজ মৎস্য ঘাটের জেলে ইব্রাহীম মাঝি ও জালাল মাঝি জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে মনপুরা উপজেলার কলাতলি ইউনিয়নের জেলে এমরান মাঝির নেতৃত্বে তার সঙ্গী মাঝিরা ওই এলাকার মেঘনা নদীতে জাল ফেলেন। কয়েক ঘণ্টা পর জাল টেনে ট্রলারে উঠালে বিভিন্ন সাইজের ইলিশের পাশাপাশি বিশাল আকারের রাজা ইলিশটি উঠে আসে। পরে তারা মাছটি দুপুরের দিকে রামেনওয়াজ মৎস্য ঘাটে নিয়ে নিলামে বিক্রি করেন। তখন ১৫ হাজার টাকায় আড়তদার শাওন হাওলাদার মাছটি ক্রয় করেন।
আড়তদার শাওন হাওলাদার জানান, তিনি প্রকাশ্যে নিলামের মাধ্যমে অনেক আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অংশ নেন। সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকায় নিলামে ক্রয় করেন।
তিনি আরও জানান, ২ কেজি ৫৬০ গ্রামের বিশাল সাইজের রাজা ইলিশটি তিনি অন্যান্য মাছের সঙ্গে বিকেলের দিকে লঞ্চে করে ঢাকায় পাঠিয়েছেন। তার এক পরিচিত আড়তদার ফোনে যোগাযোগ করেছেন মাছটি নিতে। তিনি যদি ভালো দাম দেয় তবে তাকে দিবেন। আর যদি তিনি না নেন তাহলে কাওরান বাজারে একটি ১৬/১৭ হাজার টাকারও বেশি বিক্রি করতে পারবেন।
মনপুরা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু জানান, সামনে ইলিশের ডিম ছাড়া মৌসুম হওয়ায় বড় ইলিশ সাগর থেকে নদীতে আসবে শুরু করেছে। অমাবস্যার সময় আরও বেশি বড় সাইজের ইলিশ নদীতে আসবে তখন জেলেদের জালে ধরা পরবে।
জুয়েল মাহা বিকাশ/এনএইচআর
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসতে থাকা মাছ ধরার ট্রলার এফবি নাঈমসহ ১২ জেলেকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে নৌবাহিনীর জাহাজ ‘পদ্মা’ কয়েক ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে ট্রলারটি শনাক্ত করে জেলেদের উদ্ধার করে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বঙ্গোপসাগরে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত চলাকালে রাতের অন্ধকার, বৈরী আবহাওয়া ও সি স্টেট-৪-এর উত্তাল সমুদ্রের মধ্যে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। রাডারের মাধ্যমে ট্রলারটির অবস্থান শনাক্তের পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে এফবি নাঈম ও এর ১২ আরোহীকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর জেলেদের খাবার ও বিশুদ্ধ পানি দেওয়া হয়। এ সময় মাছ ধরতে গিয়ে আহত এক জেলেকে প্রাথমিক চিকিৎসাও দেওয়া হয়। আরও পড়ুন সাগরে মাছ শিকার শেষে ফেরার পথে ট্রলারডুবি, ১৪ জেলে জীবিত উদ্ধার পরে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই ট্রলারটিকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার টেনে (টোয়িং) সুন্দরবনসংলগ্ন দুবলার চরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের আউটপোস্টের কাছে নেওয়া হয়। সেখানে ট্রলারসহ উদ্ধার হওয়া ১২ জেলেকে কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করে নৌবাহিনী। জেলেদের ভাষ্যমতে, গত ৮ সেপ্টেম্বর পায়রা বন্দর থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে সমুদ্রে যায় এফবি নাঈম। পরদিন রাতে ট্রলারটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে ১২ জেলেসহ সেটি বঙ্গোপসাগরে ভাসতে থাকে। আইএসপিআর জানায়, সমুদ্রে বিপদগ্রস্ত জেলে ও নৌযানকে দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপদে পৌঁছে দিতে নৌবাহিনী নিয়মিত টহল ও নজরদারি কার্যক্রমের পাশাপাশি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে আসছে। টিটি/এমএমকে
রাজধানীর খিলগাঁওয়ে জিরানী খাল থেকে জজ মিয়ার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার আব্দুল্লাহ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও আব্দুল্লাহর জবানবন্দির বরাতে জানা যায়, পূর্ববিরোধের জেরে জজ মিয়াকে বাড্ডার একটি গ্যারেজে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। পরে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তার মরদেহ ফেলে দেওয়া হয় জিরানী খালে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দিক আজাদের আদালতে আব্দুল্লাহর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন পুলিশের উপপরিদর্শক মারুফুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন। পুলিশের উপপরিদর্শক মারুফুজ্জামান বলেন, আসামিকে আদালতে হাজির করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. এরশাদ আলী। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আব্দুল্লাহকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আব্দুল্লাহর স্বীকারোক্তির বরাতে পুলিশ জানায়, পূর্ববিরোধের জেরে জজ মিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে বাড্ডার একটি গ্যারেজে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে আব্দুল্লাহসহ কয়েকজন তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন। পরে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে মরদেহ জিরানী খালে ফেলে দেওয়া হয়। আরও পড়ুন বাড্ডায় গ্যারেজে হত্যা করা হয় জজ মিয়াকে, ফেলা হয় জিরানী খালে এর আগে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে বাড্ডা থানার বাজার গলি এলাকা থেকে আব্দুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়। যেভাবে উদ্ধার হয় মরদেহ মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে রামপুরার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন জজ মিয়া। পরদিন বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে খিলগাঁও থানার ত্রিমোহনী বিশ্বরোড ওভারব্রিজের নিচে জিরানী খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের বুকের বাম পাশ, পিঠ ও পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রোজিনা খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে। এমডিএএ/এমএএইচ/
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীদের সরাসরি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দিতে জাকসুর উদ্যোগে ‘জাকসু জব ফেয়ার অ্যান্ড ক্যারিয়ার সামিট ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে দিনব্যাপী এ আয়োজন করা হয়। এতে ২৫টির বেশি শীর্ষস্থানীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। প্রতিষ্ঠানগুলোতে রয়েছে ৭০০টির বেশি চাকরির সুযোগ। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। জাকসু সূত্রে জানা যায়, জব ফেয়ারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে ব্র্যাক পরিচালিত ক্যারিয়ার হাব। প্লাটিনাম পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে নিউজিল্যান্ড ডেইরি ও এভারেস্ট ফার্মাসিউটিক্যালস। গোল্ড পৃষ্ঠপোষক ইংলিশ থেরাপি, আকিজ হেলথকেয়ার অ্যান্ড হাইজিন লিমিটেড, টেরাপ্রাইম হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টস প্রাইভেট লিমিটেড এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। সিলভার পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে দ্য একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড, স্পার্ক রাইড টেকনোলজি লিমিটেড ও হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ ওয়াকফ বাংলাদেশ। জব ফেয়ারে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে আবুল খায়ের গ্রুপ, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, ইফাদ গ্রুপ, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, আইআইডিএফসি সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড, ডেটা সলিউশন ৩৬০ লিমিটেড ও রিদম ব্লাড সেন্টারসহ আরও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের অনানুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকারের অভিজ্ঞতা অর্জন ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সময়ে প্রায় ২৫টি প্রতিষ্ঠানের প্রার্থীদের যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হওয়া একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা। এ কর্মসংস্থানমূলক আয়োজনের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।’ জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘জাকসুর মেয়াদের শেষ পর্যায়েও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন আজকের জব ফেয়ার ও ক্যারিয়ার সামিট।’ এজিএস ফেরদৌস আল হাসান বলেন, ‘এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য প্রথমবর্ষ থেকে মাস্টার্স এবং সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের করপোরেট খাতের সঙ্গে পরিচিত করা। জব ফেয়ারে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মানবসম্পদ বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা, চাকরির সুযোগ সম্পর্কে জানা এবং জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা।’ গোল্ড পৃষ্ঠপোষক টেরাপ্রাইম হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টস প্রাইভেট লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ অব সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং রুবিনা জাহান তিথি বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের সিভি পর্যালোচনা করে তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে যারা সবেমাত্র চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন, তাদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।’ জব ফেয়ারে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরাও আয়োজনটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। পরিসংখ্যান ও উপাত্ত বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী কায়েস মাহমুদ বলেন, ‘জব ফেয়ার নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের আয়োজন খুব কম হওয়ায় শিক্ষার্থীরা অনেকটা বঞ্চিত থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন নিয়মিত এমন আয়োজন করলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।’ ফার্মেসি বিভাগের ৫৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী আতিয়া বলেন, ‘এ আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা ও যোগ্যতার মানদণ্ড সম্পর্কে জানা যাচ্ছে। গ্র্যাজুয়েশন শেষে চাকরির জন্য আবেদন করার সময় কী ধরনের দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রয়োজন হবে, সে বিষয়ে এখন থেকেই ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।’ আয়োজকরা জানান, জব ফেয়ারের মূল কার্যক্রম শেষে সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘রোড টু করপোরেট ক্যারিয়ার সেশন’ অনুষ্ঠিত হবে। এতে করপোরেট খাতের অভিজ্ঞ বক্তারা ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, করপোরেট সংস্কৃতি, জীবনবৃত্তান্ত প্রস্তুত, সাক্ষাৎকারের দক্ষতা ও পেশাগত উন্নয়ন নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এসবের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে খাবার ও কফি, খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক আয়োজন এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ রাখা হয়েছে। আয়োজনে গণমাধ্যম সহযোগী হিসেবে যুক্ত রয়েছে দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস, স্টার নিউজ, চ্যানেল ওয়ান ও ফেস দ্য পিপল। মো. রকিব হাসান প্রান্ত/এসআর