সাত বছর পর ভারত সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দিল্লিতে শনিবার (১২ সেপ্টম্বর) ও রোববার অনুষ্ঠিত হতে চলা ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি।
তার দিল্লি সফর হবে, সে বিষয়টি চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তিনি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়। এর আগে ২০১৯ সালে ভারতে গিয়েছিলেন শি জিনপিং। সে সময় তিনি চেন্নাইয়ের কাছে মামাল্লাপুরমে অনুষ্ঠিত এক অনানুষ্ঠানিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন।
তার এই আসন্ন সফরকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা এশিয়ার এই দুই পরাশক্তির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থিতিশীল করার চলমান প্রচেষ্টার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। পাশাপাশি ব্রিকসে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই সফর এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক পরিস্থিতি এরই মধ্যে জটিল ও ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার উপর তার প্রভাব পড়েছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে উষ্ণতা লক্ষ্য করা গিয়েছে এবং শি জিনপিংয়ের এই সফর সেক্ষেত্রে আরও বেশি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
চীনের প্রেসিডেন্টের ভারত সফর সম্পর্কে ব্লুমবার্গ-এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯ সালের পর শি জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর, মোদীর দিকে বন্ধুত্বের হাত প্রসারিত করছে। তবে রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্কের উন্নতি হবে এমনটা আশা করলে খুব হয়তো খুব তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে। দুই দেশের ব্যবসায়ীরা এখনো নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
এর নেপথ্যে কঠোর বিধিনিষেধের ফলে বিনিয়োগ স্থগিত হওয়া, ভিসা পাওয়ায় বিলম্ব এবং শিল্প সরঞ্জামের উপর বিধিনিষেধ আরোপের মতো কারণ রয়েছে।
গালওয়ানের পর সম্পর্কে উত্তেজনা কমবে?
২০২০ সালে ভারত-চীন সীমান্তের কাছে গালওয়ানে সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছিলেন। এরপর দুই দেশের সম্পর্কের আরো অবনতি ঘটে। সংঘর্ষে তাদের মাত্র চারজন সেনার মৃত্যু হয়েছিল বলে চীন দাবি করেছিল।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। গত বছর নরেন্দ্র মোদী সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) বৈঠকে যোগ দিতে চীনে তিয়ানজিন সফর করেন। সেই সময় শিরোনামে উঠে এসেছিল রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে তার বৈঠকের প্রসঙ্গ।
প্রধানমন্ত্রী মোদী ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও হয়।
সেই সময় আরও একটা উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল এবং তা হলো, ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের তরফে ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা যা ভারতীয় অর্থনীতির জন্য একটা বড় ধাক্কার চেয়ে কম ছিল না।
আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং দিল্লি-ভিত্তিক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট হর্ষ ভি পান্থের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ভরসার যোগ্য নয়’ এমন নীতি দুই দেশকে একটা জায়গা দিয়েছে যেখানে তাদের নিজেদের মতপার্থক্য সরিয়ে রেখে দেশের মানুষের স্বার্থের জন্য আলোচনার টেবিলে বসতে পারে।
পান্থ বিবিসি নিউজ হিন্দিকে বলেন, দুই প্রতিবেশী দেশেরই একে অন্যকে প্রয়োজন ও সেই কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষই নরম মনোভাব দেখিয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন চলতি সপ্তাহের ৬ সেপ্টেম্বর প্রথম সিনিয়র মিলিটারি কমান্ডার পর্যায়ের ফ্ল্যাগ মিটিং ভারতের অরুণাচল প্রদেশের ওয়াচাতে অনুষ্ঠিত হয় ও ৭ সেপ্টেম্বর সীমান্তে চীনের দিকে থাকা দামাইয়ে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় বৈঠক।
গত বছর, ভারত ও চীনের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হয়। দুই দেশের ব্যবসায়ী ও পেশাদারদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াও শিথিল করা হয়েছিল।
২০২৪ সালে রাশিয়ার কাজানে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও শি জিনপিং প্রায় পাঁচ বছর পরে বৈঠক করেছিলেন। সেসময় তারা লাইন অব কন্ট্রোল বা এলএসি থেকে সেনা প্রত্যাহার ও ২০২০ সালে যে বিবাদ শুরু হয়েছিল তা সমাধানের জন্য চুক্তিকে স্বাগত জানান।
একই সঙ্গে ধারণা করা হয়েছিল, দুই দেশের সম্পর্কে বরফ গলতে শুরু করেছে। তবে হর্ষ ভি পান্থ মনে করেন সীমান্ত বিরোধ এত তাড়াতাড়ি শেষ হবে না ও এটা এমন কোনো বিষয়ও না যাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
তার কথায়, এখন দুই পক্ষের তরফে চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে সমস্যা আর না বাড়ে। ২০২০ সালের মতো ঘটনা যেন আর না ঘটে ও সীমান্ত সম্পর্কের ওপর আস্থা তৈরি হয়। এজন্য ওয়াং ই ও ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের মধ্যে বৈঠকও হয়েছিল। এরপর কমান্ডারদের মধ্যেও বৈঠক হয়।
ভারত ও চীনের মধ্যে দুটি বড় ইস্যু
পান্থ ব্যাখ্যা করেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মোড় নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু আস্থার ঘাটতি ও বাণিজ্য ঘাটতি দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে।
তার মতে, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শি জিনপিং এই সফরে ৪০০ জন প্রতিনিধির একটা বড় প্রতিনিধি দলকে সঙ্গে নিয়ে আসছেন, যাদের বেশিরভাগই ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত।
এর অন্যতম কারণ হলো গালওয়ানের ঘটনার পর ভারত খুব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিল যে সীমান্তে যে কোনো রকম সমস্যা সামগ্রিক সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলবে। বাণিজ্য অংশীদারিত্বের ওপরও প্রভাব ফেলবে।
দেখা গিয়েছে যে, একদিকে যেমন সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, তেমনই দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্কেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।
চলতি বছরের মার্চ মাসে চীনা বিনিয়োগের ওপর আরোপ করা কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করে ভারত। গালওয়ানে সংঘর্ষের পর এইসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিধিনিষেধের মধ্যে ইলেক্ট্রনিক্স, ক্যাপিটাল গুডস ও সোলার সেল সেক্টর ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ক্যাপিটাল গুডস বা মূলধনী পণ্য বলতে ভৌত, মানবসৃষ্ট সম্পদকে বোঝায় যা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি উপভোক্তাদের কাছে বিক্রি না করে অন্যান্য পণ্য ও পরিষেবা উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করে।
কয়েকটা নির্দিষ্ট শিল্পের ক্ষেত্রে ভারত দুই দেশের সংস্থাগুলোর মধ্যে যৌথ উদ্যোগের দ্রুত অনুমোদনেরও অপেক্ষা করছে।
সম্প্রতি, নয়াদিল্লি স্মার্টফোন উৎপাদনের জন্য ভারতের ডিক্সন টেকনোলজিস ও চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা ভিভো মোবাইলের মধ্যে যৌথ উদ্যোগসহ কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অনুমোদন জানিয়েছে। তবে কিছু বড় বিনিয়োগ ও প্রকল্পের ক্ষেত্রে এখনো কিছু বাধা রয়ে গিয়েছে।
ভারত সরকারের এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিওয়াইডি ও গ্রেট ওয়াল মোটরের মতো বড় চীনা সংস্থাগুলোর জন্য এই শিথিলতা যথেষ্ট নয়। এই গাড়ি নির্মাতারা দিল্লির পক্ষ থেকে ক্রমবর্ধমান তদন্তের মুখোমুখি হওয়ার পর ভারতে প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিকল্পনা স্থগিত রাখে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, সম্প্রতি কিরগিস্তানে আয়োজিত সম্মেলনের সময় শি জিনপিং ও নরেন্দ্র মোদী একটা সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন এবং সে সময় তারা জানিয়েছিলেন, দুই দেশ ‘প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার ও তারা একে অন্যের উন্নয়নের জন্য হুমকি নয়, বরং সুযোগ’।
আসলে দুই দেশই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিজেদের অস্থিতিশীল সম্পর্ককে কেন্দ্র করে লড়ছে।
হর্ষ ভি পান্থ ব্যাখ্যা করেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কের দ্রুত অবনতি হয়েছে। এমনকি, ইউরোপও চীনের প্রতি কঠোর হতে শুরু করেছে। চীনের অর্থনীতি মূলত রপ্তানিভিত্তিক ও তাদের বাজার প্রয়োজন। ভারত তাদের কাছে একটা বড় বাজার হয়ে উঠতে পারে।
তার মতে, ভারতের দিক থেকে একটা বড় সমস্যা হলো বাণিজ্য ঘাটতি, যা ১০০ বিলিয়ন (দশ হাজার কোটি) ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ভারতের পণ্যের জন্য চীনে কোনো বাজার নেই। ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরে (উৎপাদন ক্ষেত্রে) ভারত কৌশলগত ক্ষেত্র ছাড়িয়ে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে বাড়াতে চায়, তবে প্রযুক্তি হস্তান্তর হওয়া দরকার, যাতে ভারত ভ্যালু চেইনের (মূল্য শৃঙ্খলে) নিরিখে এগিয়ে যেতে পারে।
পান্থের মতে শি জিনপিংয়ের দিল্লি সফরের সময় দু'পক্ষের মধ্যে এই নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
চীন কী চায়?
সাংহাইয়ের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ ও নয়াদিল্লিতে চীনা দূতাবাসের সাবেক কূটনীতিক লিন মিনওয়াং রয়টার্সকে বলেছেন, চীন অবশ্যই সম্পর্কের উন্নতি করতে চায়, কিন্তু আমরা দেখতে চাই ভারত সত্যিই কতটা আগ্রহী। তবে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলেই ইঙ্গিত করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, পান্থের কথায়, চীনের অর্থনৈতিক শক্তি রয়েছে ও একটা নির্ভরযোগ্য অংশীদার হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে তারা তা (অর্থনৈতিক শক্তি) ব্যবহার করতে পারে। বিশেষ করে, এমন এক সময় যখন দুই দেশই মার্কিন বাণিজ্য নীতি দ্বারা প্রভাবিত।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক ইস্যুতে মনোনিবেশ করা দুই দেশের স্বার্থের পক্ষে, তবে বিষয়টা তেমন সহজ নয়। বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়াও বাজার প্রবেশাধিকার, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বিধিনিষেধের বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। দুই পক্ষই এই সমস্যাগুলো কতটুকু সমাধান করতে পারে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
চীনের সরকারি মিডিয়া গ্লোবাল টাইমস ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নতির বিষয়ে আশাবাদী।
গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ আর্থিক বর্ষে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১৫১.১ বিলিয়ন (১৫ হাজার ১১০ কোটি) ডলারে পৌঁছেছে, যা চীনকে আরও একবার ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার করে তুলেছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উত্থান-পতন সত্ত্বেও, এই উৎসাহব্যঞ্জক পরিসংখ্যান দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নতি এবং দুই দেশের অর্থনীতির ক্রমাগত শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির প্রতিফলন।
‘তারা একসঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের আরো সম্প্রসারণ ও উন্নতির জন্য একটা শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করেছে।’
যেসব বাণিজ্যিক বাধার সমাধান দরকার
সম্পর্কের উষ্ণতা আনা ও উন্নতি সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও অচলাবস্থা রয়ে গেছে। গত সপ্তাহে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চীনের অ্যান্ট গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান আলিপের দেওয়া এক প্রস্তাব অনুমোদন করতে রাজি হয়নি দিল্লি। এই প্রস্তাবে ভারতের তাৎক্ষণিক পেমেন্ট সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করার কথা ছিল।
অনুমোদন না দেওয়ার কারণ হিসেবে জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগের কথা জানিয়েছিল ভারত।
রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত সরকার চীনের মোবাইল ফোন নির্মাতা শাওমির বিরুদ্ধে তদন্তের সুপারিশ করার কথা বিবেচনা করছে। এই তদন্তের ভার ছিল সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিসের ওপর। ভারতে ওই কোম্পানির কার্যক্রম সংক্রান্ত কথিত অনিয়ম ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে তদন্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে শাওমি বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তারা আইন মেনেই কাজ করেছে।
অন্যদিকে, চীনের পক্ষ থেকেও অনেক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ভারতীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চীনা কর্মকর্তারা তাদের সংস্থাগুলোকে বন্দরের সরঞ্জাম, সৌর প্যানেল ও মোবাইল উৎপাদন সরঞ্জামসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং অবকাঠামোগত পণ্য ভারতের কাছে না বিক্রি করার কথা বলেছে।
রয়টার্স এও দাবি করেছে যে, সৌরশক্তি ও ইলেকট্রনিক্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ চীনা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে আটকে রাখা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে একজন সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থাটি জানিয়েছে, সুড়ঙ্গ নির্মাণের কয়েকটা মেশিন এইভাবে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আটকে রাখা হয়েছে।
হর্ষ ভি পান্থ বলছিলেন, দুইপক্ষের পক্ষ থেকেই কিছু বিধিনিষেধ কমানো যেতে পারে। তবে রাতারাতি দৃশ্য বদলে যাবে বলে মনে হয় না। চীনের অর্থনৈতিক শক্তি থেকে লাভবান হতে চায় ভারত। কীভাবে চীনা বিনিয়োগ আনার চেষ্টা করা যায় তা নিয়েও ভারতে বিতর্ক রয়েছে।
‘আর চীনকে দেখাতে হবে যে তারা ভারতের প্রতি অর্থনৈতিক ইস্যু নিয়ে সিরিয়াস ও এর একটা উদাহরণ হতে পারে ভারতকে তাদের (চীনা) বাজারে প্রবেশাধিকার দেওয়া।’
গ্লোবাল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের বাজারে ভারতের কৃষিপণ্য, খনিজ সম্পদ ও বিশেষত ভোগ্যপণ্য প্রবেশের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। ভারত ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য সহযোগিতা থেকে ভারতের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ক্ষেত্র উপকৃত হবে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
এসএএইচ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। একদিনে মারা গেছেন আরও দুজন। এ নিয়ে চলতি বছর মোট ১৪১ জনের মৃত্যু হলো। এছাড়া নতুন ৭৯০ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর ফলে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে আসা মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯ হাজার ২২০ জন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গু-সংক্রান্ত নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, মারা যাওয়া দুজনই পুরুষ। তাদের মধ্যে একজন পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং একজনের বয়স ৪১ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে। আরও পড়ুন নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ভোগান্তির অপর নাম ‘সিট খালি নাই’ মোট মারা যাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৪১ জনের মধ্যে নারী ৫২ দশমিক ১ শতাংশ এবং পুরুষ ৪৭ দশমিক ৯ শতাংশ। ঢাকা বিভাগের ক্ষেত্রে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ৪৬, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ১৮ ও সিটি করপোরেশনের বাইরে আটজন প্রাণ হারিয়েছেন। সেই সঙ্গে খুলনায় ২৫, ময়মনসিংহে ১৪, বরিশালে ১২, চট্টগ্রামে ১০, রাজশাহীতে ছয় এবং রংপুর ও সিলেটে একজন করে মারা গেছেন। এ পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৯ হাজার ২২০ জন। তাদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৬৪৫ জন। একিউএফ/
কারিগরি ত্রুটিতে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ। হাম ও ডেঙ্গুতে মৃত্যুসহ দিনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খবর শুনুন অডিও সংবাদে…
জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েছেন। বোর্ডের রোষানলে পড়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারই হুমকির মুখে। এর মধ্যে ঘরোয়া ক্রিকেট থেকেও দুঃসংবাদ পেলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান আর ইমাম-উল-হক। বাধ্যতামূলক ফিটনেস টেস্টের রিপোর্ট জমা না দেওয়ায় পাকিস্তানের উইকেটকিপার-ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ওপেনার ইমাম-উল-হক ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার যোগ্যতা হারিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। সূত্রের বরাত দিয়ে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ফিটনেস রিপোর্ট না থাকায় দুজনই প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড-১-এ খেলতে পারবেন না। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নির্বাচিত খেলোয়াড়দের ফিটনেস পরীক্ষা নেওয়া এবং সেই পরীক্ষার রিপোর্ট পিসিবির কাছে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে রিজওয়ান ও ইমাম নিজ নিজ বিভাগীয় দলের হয়ে নির্ধারিত ফিটনেস টেস্টে অংশ নেননি। ফলে তাদের সংশ্লিষ্ট দলের কাছে প্রয়োজনীয় অফিসিয়াল ফিটনেস রিপোর্টও নেই। এর ফলেই আপাতত ঘরোয়া ক্রিকেটে তাদের খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা তৈরি হয়েছে। রিজওয়ান স্যুই নর্দার্ন গ্যাস পাইপলাইনস লিমিটেডের সহ-অধিনায়ক। দলের অধিনায়ক শান মাসুদের অনুপস্থিতিতে উদ্বোধনী ম্যাচে তার নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল। শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ স্টেট ব্যাংক। কিন্তু ফিটনেস রিপোর্টের জটিলতায় রিজওয়ানের মাঠে নামা এখন অনিশ্চিত। অন্যদিকে ইমাম-উল-হক ওজিডিসিএল দলের অধিনায়ক। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ পিটিভি। ইংল্যান্ড সফর থেকে দুজনকে পাকিস্তান দলের বাইরে রাখার পরই তাদের ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। জানা গেছে, তারা বর্তমানে চলমান তদন্তেরও মুখোমুখি হচ্ছেন। এর মধ্যেই প্রয়োজনীয় ফিটনেস পরীক্ষার রিপোর্ট না থাকায় ঘরোয়া ক্রিকেটে তাদের অংশগ্রহণ নিয়েও তৈরি হয়েছে জটিলতা। তবে সংশ্লিষ্ট নিয়ম পূরণ করে প্রয়োজনীয় ফিটনেস রিপোর্ট জমা দিতে পারলে রিজওয়ান ও ইমাম আসন্ন ঘরোয়া ম্যাচগুলোতে খেলতে পারবেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। এমএমআর