জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মাণাধীন দুটি হলের কাজ চলছে ধীরগতিতে। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ চললেও এখনো ভবন দুটির কাজ শেষ হয়নি। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট আরও প্রকট হয়েছে। প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে আবাসন সুবিধা রয়েছে প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থীর। ফলে অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী আবাসন সংকটে ভুগছেন।
শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট লাঘবে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দুটি ১০ তলা হলের নির্মাণকাজ শুরু হয়। তবে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি ভবন দুটির নির্মাণকাজ।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিটি ভবনের নির্মাণকাজে হাতে গোনা কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছেন। নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে এরই মধ্যে দুই দফা মেয়াদ বাড়ানো হলেও কাজ শেষ হয়নি। ফলে ভবন দুটির নির্মাণকাজ কবে নাগাদ শেষ হবে, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
সরেজমিনে জানা যায়, ২০২৩ সালে শুরু হওয়া ভবন দুটির নির্মাণকাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিএসআই কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। একই প্রতিষ্ঠানের অধীনে একাধিক ভবনের নির্মাণকাজ চলায় শ্রমিক সংকটসহ নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। এতে দফায় দফায় কাজের মেয়াদ বাড়িয়েও নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।
নির্মাণকাজের এমন দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে জানতে চাইলে সিএসআই কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের ঠিকাদার ইঞ্জিনিয়ার জুয়েল মিয়া বলেন, ভবনের অধিকাংশ কাজ শেষ। আমরা এখন ফিনিশিংয়ের কাজ করছি। আশা করছি আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে আমরা কাজ শেষ করতে পারবো।
এর আগে কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানোর পরও প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে বারবার প্রশাসনিক পদে পরিবর্তন এবং ফাইল আটকে থাকার কারণে নির্মাণকাজে বিলম্ব হয়েছে বলে জানান।
এ বিষয়ে সিএসআই কনস্ট্রাকশনের প্রশাসক রুমেল ও রিপোর্টিং পরিচালক শাহআলম বাদশার সঙ্গে মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
এদিকে, প্রকল্পের কাজের বারবার মেয়াদ বাড়ানোর পরও নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ না হওয়া এবং প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সৈয়দ মোফাছিরুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অনুমতি ছাড়া কোনো তথ্য দেওয়া যাবে না। কোনো তথ্যের প্রয়োজন হলে উপাচার্য বরাবর আবেদন করেন। এরপর অনুমতি পেলে দেওয়া যাবে।
তবে চলমান বর্ধিত সময়সীমা ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করতে না পারলে তাদের আইনি শাস্তির আওতায় নেওয়া হবে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সৈয়দ মোফাছিরুল ইসলাম।
এনএইচআর/এএসএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
যমুনা ইলেক্ট্রনিক্স অ্যান্ড অটোমোবাইলস লিমিটেড ‘স্টোর ম্যানেজার’ পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রার্থীকে অবশ্যই বিবিএস/বিবিএ অথবা এমবিএস ডিগ্রিধারী হতে হবে। এক নজরে যমুনা ইলেক্ট্রনিক্স অ্যান্ড অটোমোবাইলস লিমিটেডের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ তথ্যের ধরন বিবরণ প্রতিষ্ঠানের নাম যমুনা ইলেক্ট্রনিক্স অ্যান্ড অটোমোবাইলস লিমিটেড বিভাগের নাম হোম অ্যাপ্লায়েন্সেস অ্যান্ড কুকওয়্যার প্রোডাকশন পদের নাম স্টোর ম্যানেজার পদসংখ্যা ১ জন চাকরির ধরন বেসরকারি, ফুল টাইম প্রার্থীর ধরন পুরুষ শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবিএস/বিবিএ অথবা এমবিএস অভিজ্ঞতা ৭ বছর বেতন ও অন্যান্য সুবিধা আলোচনা সাপেক্ষে বয়সসীমা ৩২-৪৫ বছর বছর সূত্র বিডিজবস ডটকম আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবেদন শুরু: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ: ৯ অক্টোবর ২০২৬ আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে কর্মস্থল: গাজীপুর জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক। আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন যমুনা ইলেক্ট্রনিক্স অ্যান্ড অটোমোবাইলস লিমিটেড। আরও পড়ুনসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪০ বছর বয়সেও আবেদনের সুযোগনার্স হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন যেভাবেনৌবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই অফিসার ক্যাডেট হওয়ার সুযোগসেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে১১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনসেনাবাহিনী নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এসএসসি পাসেই আবেদন১৪২ জনকে নিয়োগ দেবে সমরাস্ত্র কারখানা, এসএসসি পাসেও আবেদন৮৫ জনকে নিয়োগ দেবে পল্লী উন্নয়ন বোর্ড, আবেদন ফি ১০০ টাকাসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ এমআইএইচ
বাংলাদেশ ফুটবলে আবারও ফিরতে যাচ্ছেন নেদারল্যান্ডসের লোডভিক ডি ক্রুইফ। এবার জাতীয় দল নয়, তার সামনে ছোটদের দায়িত্ব। ২০২৭ এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব সামনে রেখে ডি ক্রুইফকে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ দলের প্রধান কোচ করার আলোচনা চলছে। বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটির এক সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, ডি ক্রুইফের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তাকে আপাতত দুই মাসের জন্য নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে চুক্তির বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কয়েক দিনের মধ্যেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানা যাবে। বাংলাদেশ ফুটবলে ডি ক্রুইফ অবশ্য নতুন নন। ২০১৩ সালে প্রথমবার জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন এই ডাচ কোচ। এরপর বিভিন্ন সময়ে স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে আবারও জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালে তার অধীনে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের ফাইনালেও খেলেছিল। বাফুফের সঙ্গে তার কাজের ধরন ছিল অ্যাসাইনমেন্টভিত্তিক স্বল্পমেয়াদি চুক্তি। এবার তার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ। ২০২৭ এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে বাংলাদেশ রয়েছে ‘সি’ গ্রুপে। প্রতিপক্ষ স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিরিয়া, ভুটান ও ম্যাকাও। বাংলাদেশের জন্য কাজটি সহজ হবে না। আরব আমিরাত ও সিরিয়া শক্ত প্রতিপক্ষ হলেও ভুটান ও ম্যাকাওয়ের বিপক্ষে ভালো ফল করার সুযোগ রয়েছে। তাই গ্রুপের শুরু থেকেই পয়েন্ট সংগ্রহ এবং গোল ব্যবধান ভালো রাখার দিকে নজর দিতে হবে। অল্প সময়ের চুক্তি হলেও ডি ক্রুইফের বাংলাদেশের ফুটবল সম্পর্কে পূর্বঅভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছোটদের অভিযানে কাজে লাগতে পারে। এখন অপেক্ষা শুধু বাফুফের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের। আরআই/আইএইচএস/
পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী বাংলাদেশেও জনপ্রিয়। ২০২৪ সালে শাকিব খানের বিপরীতে রায়হান রাফীর ‘তুফান’ সিনেমার পর তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে। সিনেমাটির ‘দুষ্টু কোকিল’ ও ‘লাগে উরা ধুরা’ ব্যাপকভাবে চর্চিত হয়। তবে সিনেমা নয়, ব্যক্তিজীবন নিয়ে আলোচনায় অভিনেত্রী। পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম আনন্দবাজার ও সংবাদ প্রতিদিন জানিয়েছে, চলতি বছরই বিয়ে করতে চলেছেন মিমি। আগামী ডিসেম্বরেই বিয়ে করবেন মিমি। বিয়ের আসর বসতে পারে পাহাড়ের শহর কালিম্পঙে। ঘনিষ্ঠ মহলে ইতিমধ্যেই নিমন্ত্রণের তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে বলেও খবর। যদিও মিমির পক্ষ থেকে এখনো এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তবে গুঞ্জনের কেন্দ্রে শুধু বিয়ের দিনক্ষণ নয়, পাত্রও। টালিপাড়ার সঙ্গে তাঁর কোনো যোগ নেই বলেই খবর। শোনা যাচ্ছে, নায়িকার হবু স্বামী পেশায় ভারতীয় নৌবাহিনীর সদস্য, নাম সিদ্ধার্থ। যদিও এখন পর্যন্ত বিয়ে নিয়ে পাত্র–পাত্রী উভয়ের মুখেই কুলুপ, তবে খবর পূজার আবহেই পরস্পরের মন বিনিময় হয়েছে! ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিয়ের শপিং থেকে নিমন্ত্রণপত্র বিলি পর্বও নাকি চলছে জোরকদমে। কারণ, হাতে আর মাত্র সাড়ে তিন মাস। মিমির প্রেমজীবন নিয়ে অবশ্য এর আগে কম আলোচনা হয়নি। সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা গুঞ্জন শোনা গেলেও মিমি নিজে সেগুলোকে কখনো বিশেষ গুরুত্ব দেননি। কয়েক বছর আগে বিয়ে নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে মিমি জানিয়েছিলেন, বিয়ে করতে হলে আগে তো পাত্র খুঁজতে হবে, তার জন্য দেখাসাক্ষাৎও করতে হবে—সেটুকু করার সময়ও নাকি তাঁর নেই। সেই ‘ব্যস্ত’ মিমির জীবনেই তবে এবার চুপিসারে এসেছেন কেউ! মিমি চক্রবর্তী। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে বিয়ের আগে নাকি নভেম্বরেই হবে আংটিবদল। আপাতত নায়িকা মুখে এঁটেছেন কুলুপ। সবটাই ক্রমে প্রকাশ্য। চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরুর আগে মিমি মডেল হিসেবেই শোবিজের জগতে পা রাখেন। ২০১০ ‘গানের ওপারে’ ধারাবাহিকে ‘পুপে’ চরিত্রটি করার পর মিমি রাতারাতি ঢুকে পড়েন বাঙালির ড্রেসিংরুমে। পরে ২০১২ ‘বাপি বাড়ি যা’ ছবির মাধ্যমে রুপালি পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর ‘বোঝে না সে বোঝে না’। নায়িকার যে ‘টিপিক্যাল’ চরিত্র বাণিজ্যিক ছবিতে দর্শক দেখতে অভ্যস্ত, তার থেকে কিছুটা আলাদা ছিল এই দুটি চরিত্র।ফুলের রাজ্যের শাকিবের নায়িকা মিমি, রইল নতুন ছবিঅভিনেত্রী হিসেবে এমন সাফল্যের মধ্যেই ২০১৯ সালে পা রাখেন রাজনীতির আঙিনাতেও। সেবার লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে জিতে সংসদ সদস্য হন। এই মুহূর্তে তিনি ব্যস্ত নিজের ছবির কাজে। পূজায় মুক্তি পাবে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’। আরও একটি নতুন ছবির শুটিংও শুরু করবেন।মিমি চক্রবর্তী। ইনস্টাগ্রাম থেকে