ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সদস্য পরিচয়ে ২৬ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এক ব্যবসায়ীর কর্মচারী ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. রেজাউল করিম গতকাল শুক্রবার বিকেলে সাভার মডেল থানায় অজ্ঞাতনাম চারজনকে আসামি করে মামলা করেছেন।
মামলার এজাহারে উল্লখ করা হয়েছে, সাভার উপজেলার হেমায়েতপুরের পূর্বহাটি উত্তরপাড়া এলাকায় ‘আর কে এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রয়েছে মো. রেজাউল করিমের (৩৮)। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে গত বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী মো. ইসরাফিল হককে (৩৮) হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ২৬ লাখ টাকা তুলতে পাঠান তিনি।
এজাহারে বলা হয়, টাকা তোলার পর বেলা ১১টার দিকে হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারমুখী লেনের দক্ষিণ পাশ থেকে উত্তর পাশে পায়ে হেঁটে সড়ক পার হচ্ছিলেন ইসরাফিল। এ সময় একটি প্রাইভেট কারে করে র্যাবের জ্যাকেটের আদলে জ্যাকেট পরা অবস্থায় চালকসহ চার ব্যক্তি এসে র্যাব পরিচয় দিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁকে ঘিরে ধরেন।
এজাহারের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তিরা হত্যার হুমকি দিয়ে টাকাভর্তি ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ইসরাফিল বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁরা ইসরাফিলকে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ব্যাগভর্তি ২৬ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে সাভারের দিকে চলে যান। টাকা ছিনিয়ে নেওয়া ব্যক্তিদের বয়স ৩০ হতে ৩৫ বছর।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের পাশাপাশি অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব জহিরুল ইসলাম বলেছেন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের বিকাশে সরকারের বিদ্যমান নীতিগত সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করতে হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও সহজ ও কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপোর ১১তম আসরের সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জহিরুল ইসলাম বলেন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত খাতে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। তাই এখন সুনির্দিষ্ট অ্যাকশন প্ল্যান নিয়ে এগোতে হবে। আরও পড়ুন বাপা / মোবাইল কোর্ট যেন ব্র্যান্ডের সুখ্যাতি বিনষ্টের হুমকি না হয় তিনি বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে আমাদের কৃষক এবং শিল্প খাতের মধ্যে যে সংযোগের দুর্বলতা রয়েছে, তা দূর করতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের এবং বাজারের সার্বিক দামের একটি সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা দিতে হবে। পাশাপাশি এই খাতে প্রযুক্তির আধুনিকায়ন বা টেকনোলজি অ্যাডভান্সমেন্ট নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।’ দেশীয় পণ্যের ব্র্যান্ডিংয়ে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারি এবং বেসরকারি উভয় খাতেই গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম বহুগুণ বাড়াতে হবে। একটি মজবুত ভ্যালু চেইন গড়ে তোলা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মার্কেট রিপ্লেসমেন্ট নিয়ে সরকারি-বেসরকারি সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘সবশেষে বলব, দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সমাজের সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা ভোক্তা অধিদপ্তর শুধু অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেই ক্ষান্ত হতে চাই না। নকল ও নিম্নমানের পণ্যের ভিড়ে যেসব আসল ও গুণগত মানসম্পন্ন কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, আমরা তাদেরও পূর্ণ সহায়তা দিতে চাই।’ আরও পড়ুন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী / ছয় দফা বাস্তবায়ন না হলে তা এক দফায় পরিণত হবে অনুষ্ঠানে বাপার সভাপতি মাহবুব আনাম, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি উজমা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ মুহাম্মদ শোয়াইব হাছান, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ডেপুটি এডিটর সাজ্জাদুর রহমান, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (এক্সপোর্ট) মিজানুর রহমান এবং স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পারভেজ সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এনএইচ/এসএইচএস
দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায় সরকার। এজন্য সেখানকার এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য আচরণবিধি প্রণয়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আকর্ষণীয় পাঠদান ও শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ১৫ দফা বাস্তবায়নে সম্প্রতি মাঠে নেমেছে শিক্ষা প্রশাসন। কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, সারাদেশে স্কুল-কলেজের শ্রেণিকক্ষে অভিন্ন পাঠ পরিকল্পনা ও রুটিন বাস্তবায়ন, মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা এবং শিক্ষকদের পাঠদান সরাসরি তদারকি (লাইভ মনিটরিং) করতে শিক্ষা প্রশাসন মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম বাড়ানো, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পদক ও পুরস্কারের ব্যবস্থা এবং একটি ‘জাতীয় শিক্ষা চ্যানেল’ চালুর বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে। আরও পড়ুন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পেতে যেসব কাগজপত্র লাগবে কর্মপরিকল্পনায় সবচেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য প্রণীত আচরণবিধি সংশোধন ও শিক্ষকদের শিক্ষাবহির্ভূত কাজ থেকে মুক্ত রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বলেন, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া অনুশাসনগুলো বাস্তবায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে এরই মধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, অনুশাসনগুলো একটি সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী দৃশ্যমান করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি তা বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে জানাতে বলা হয়েছে। এএএইচ/একিউএফ
ভালুকা থেকে নারায়ণগঞ্জে ফেরার পথে বাসে জিম্মি করে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমের স্বজনদের কাছ থেকে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করে একটি চক্র। পরে র্যাবের অভিযানে তাকে উদ্ধার এবং চক্রটির মূলহোতা জাবেদ ইকবাল ওরফে বিহারি বাদলকে আটক করা হয়েছে। র্যাবের দাবি, বাসটিকে ভাসমান আস্তানা বানিয়ে যাত্রীদের জিম্মি ও লুটপাট করত চক্রটি। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে ময়মনসিংহের দিঘারকান্দা এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে বাসটি আটক করা হয়। পরে বাসে তল্লাশি চালিয়ে ধারালো ছুরিসহ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়। র্যাব জানায়, আটক জাবেদ ইকবাল ময়মনসিংহ নগরীর পাটগুদাম মদের ডিপো এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১০টির বেশি ডাকাতির মামলা রয়েছে। বাসটিকে ভাসমান আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করে যাত্রীদের জিম্মি, লুটপাট ও মুক্তিপণ আদায় করত চক্রটি। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অফিসের কাজ শেষে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জে ফেরার জন্য ভালুকায় মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় একটি বাস এসে তাকে তুলে নেয়। কিছুদূর যাওয়ার পর চক্রের সদস্যরা বাসে থাকা অন্য যাত্রীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা কেড়ে নিয়ে তাদের রাস্তায় নামিয়ে দেন। এরপর বাসের জানালার পর্দা টেনে জাহাঙ্গীরের হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা হয়। জাহাঙ্গীর বলেন, প্রাণ বাঁচাতে স্বজনদের মাধ্যমে বিকাশে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা আনেন জাহাঙ্গীর। তবে টাকা পাওয়ার পরও চক্রটি তার কাছে আরও টাকা দাবি করতে থাকে। তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে বাসটি নারায়ণগঞ্জের দিকে না গিয়ে আব্দুল্লাহপুর ঘুরে আবার ময়মনসিংহের দিকে রওনা হয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে জাহাঙ্গীর বিষয়টি স্বজনদের জানান। পরে তার ছোট ভাই শাহারুল তাৎক্ষণিকভাবে র্যাবকে বিষয়টি অবহিত করেন। র্যাব-১৪-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর মুক্তিপণের টাকা পাঠানো মুঠোফোনের অবস্থান এবং বাসটির গতিবিধি শনাক্ত করা হয়। পরে ত্রিশাল ও দিঘারকান্দা এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে বাসটির গতিরোধ করা হয়। তিনি আরও বলেন, বাসটি আটক করার পর জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় চক্রের মূলহোতা জাবেদ ইকবাল বাদলকে আটক করা হলেও অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। র্যাবের দাবি, আটক বাদলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১০টির বেশি ডাকাতির মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাসটিকে ব্যবহার করে যাত্রীদের জিম্মি ও লুটপাটের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। হোসাইন সুলভ/এসজেডএইচ