ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুনের আতংকে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় পড়ে গিয়ে পদদলিত হয়ে নিহত হন সিএনজি চালক রমজান আলী (৩৮)। স্বামীকে হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তার দুই স্ত্রী। তারা দুজনই অন্তঃসত্ত্বা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম স্বামীর মৃত্যুতে অনাগত সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।
নিহত রমজান আলী জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার বিদ্যানন্দ গ্রামের মৃত আহাম্মদ আলীর ছেলে।
তার ভাই সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার দিন সকালে বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন রমজান আলী। পরীক্ষায় তার হার্টের সমস্যা ধরা পড়ে। তিনি হাসপাতালের চারতলায় ভর্তি ছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, রমজান আলী দুটি বিয়ে করেছেন। তার দুই স্ত্রীর নামই খাদিজা। একজনের বয়স ৩৫, অপরজনের বয়স ২৭ বছর। দুই স্ত্রীর ঘরের দুটি করে চার ছেলেমেয়ে রয়েছে। বর্তমানে শাহজাহানের দুই স্ত্রীই অন্তঃসত্ত্বা। একজন সাত মাসের ও অন্যজন চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ভাই রমজান আলী ফুলবাড়িয়া শাখা এশিয়া ব্যাংক থেকে এক লাখ ৫ হাজার, এনজিও থেকে ৬০ হাজার ও বিভিন্নজনের কাছ থেকে অন্তত এক লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। এখন তার দুই স্ত্রী সংসার চালাবে নাকি ঋণ দেবে? সরকার যদি সহায়তা না করে, তারা দুজনই চরম বিপাকে পড়বে।’
নিহত রমজান আলী
হাসপাতালে কথা হয় রমজানের স্ত্রী খাদিজার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা চারতলায় ভর্তি ছিলাম। আগুন লাগার খবরে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় আমার স্বামী সিঁড়িতে পড়ে যান। পদদলিত হয়ে তিনি মারা যান।’
আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘স্বামীকে বাঁচাতে হাসপাতালে নিয়ে এলাম, সেই হাসপাতালের আগুনেই মারা গেলেন আমার স্বামী। আমার স্বামীর দুটি সংসার। দুই সংসারই এখন অথৈ সাগরে ভাসছে। কীভাবে চলবে সংসার?’
তিনি আরও বলেন, তাদের কোনো অর্থ-সম্পদ নেই। স্বামীই ছিলেন সংসারের একমাত্র ভরসা। স্বামীকে সুস্থ করে বাড়ি ফিরিয়ে নেওয়ার আশায় তিনি তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বামীর মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাকে।
‘আমার চারটি সন্তান। আবার আমি গর্ভবতী। আমার স্বামী সিএনজি চালিয়ে সংসার চালাতেন। এখন আমি কী খাবো, সন্তানদের কীভাবে বড় করবো, কিছুই বুঝতে পারছি না’, বলছিলেন খাদিজা।
স্বামীর মৃত্যুর পর এক সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন দ্বিতীয় স্ত্রী। তার নিজের কোনো ঘরবাড়ি নেই। স্বামী যে ছোট্ট একটি ঘর করে দিচ্ছিলেন, সেটিও এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি।
খাতিজা আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার স্বামী ফোন দিয়ে বলেছিলেন, আমি আসতেছি, সুস্থ হয়ে গেছি। কিন্তু তিনি আর বাড়িতে আসতে পারলেন না। আমি আমার স্বামীকে চাই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কারণে যদি এমন হয়ে থাকে (মারা যায়), তাহলে আমি তাদের শাস্তি চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আগে গার্মেন্টসে চাকরি করে সংসার চালাতাম। এখন আমি অন্তঃসত্ত্বা, তাই চাকরি করতে পারি না। আমার এই মেয়েকে নিয়ে কোথায় যাবো? কে আমাদের খাওয়াবে? আমার বাড়িঘর কিছুই নেই।’
স্বামীর সংসারে সিএনজিটিই ছিল বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন জানিয়ে খাতিজা বলেন, ‘আমার স্বামী সিএনজি চালিয়ে সংসার চালাতেন। অনেক কষ্ট করে সিএনজিটি কিনেছিলাম। এখনো সেই ঋণ শোধ করতে পারিনি। স্বামী চলে যাওয়ার পর আমি কীভাবে সেই ঋণ শোধ করবো?’
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের বিভিন্ন তলা থেকে রোগী ও স্বজনরা আতংকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে থাকেন। এসময় কয়েকজন আহত হন। এর মধ্যেই জরুরি বিভাগের রেজিস্টারে চারজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনার তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, ‘একজন নার্স তাৎক্ষণিকভাবে রেজিস্টারে তথ্য লিখেছিলেন। তবে ওই চারজন পদদলিত হয়ে মারা গেছেন, এমন কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। তাদের শরীরেও পদদলিত হওয়ার কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘লিফটে আগুন লাগার ঘটনায় কোনো গাফিলতি ছিল কি-না, তদন্ত কমিটি তা খতিয়ে দেখবে। ঘটনায় কারও গাফিলতি থাকলে তা বিবেচনায় নেওয়া হবে।’
এরআগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এসআর
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নুর জাহান নামের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিজি হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুর সময় তিনি ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তার গর্ভে থাকা অনাগত শিশুটিও মারা গেছে। নিহত নুর জাহানের স্বামী জোবায়ের হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নুর জাহান কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার মোছাগাড়া গ্রামের বাসিন্দা। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দেড় বছর আগে জোবায়ের হোসেনের সঙ্গে নুর জাহানের বিয়ে হয়। আগামী অক্টোবরে তাদের সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার কথা ছিল। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) হঠাৎ করে নুর জাহানের জ্বর আসে। এরপর নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে তাকে কুমিল্লায় চিকিৎসা দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। নুর জাহানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষসহ বাংলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান ভূঞা বলেন, আমার ছাত্রী নুর জাহান অত্যন্ত ভদ্র মেয়ে ছিল। বিভাগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সে অংশগ্রহণ করতো। সে অনেক সৃজনশীল ছিল। তার মৃত্যু সংবাদে আমরা অত্যন্ত ব্যথিত। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল বাসার ভূঁইয়া বলেন, একজন মেধাবী ছাত্রীর অকালমৃত্যু সত্যিই দুঃখজনক। আমরা কলেজ পরিবার নুর জাহানের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। জাহিদ পাটোয়ারী/এসআর
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জন। আবেদন করেও আসন পায়নি ১৪ হাজার ৪১৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া ২ হাজার ২০৫ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেও নির্বাচিত হয়নি। আজ বুধবার রাতে প্রথম ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ফলাফল জানা যাবে। এবার সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। ফলে এবার বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকবে।ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ১১টি কলেজে ভর্তির জন্য কোনো শিক্ষার্থী আবেদনই করেনি। আর ৪১৬টি কলেজে আবেদন করা হলেও কোনো আসন বরাদ্দ করা হয়নি। এবার ভর্তিযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৮ হাজার ১৮০টি।একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির লক্ষ্যে ২ সেপ্টেম্বর আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছিল, গত রোববার তা শেষ হয়। সব কার্যক্রম শেষে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে ২৩ সেপ্টেম্বর।ভর্তির জন্য এবার মোট আবেদন করেছিল ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩০ জন শিক্ষার্থী।এবারও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হচ্ছে। কোনো ভর্তি পরীক্ষা হয়নি। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের ফলাফল, পছন্দক্রম ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনায় নিয়ে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়।উত্তরপত্র মূল্যায়নে এত ভুল কেন, মূল্যায়নব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নকয়েক বছর ধরেই এসএসসি ও সমমানের ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হচ্ছে। নির্ধারিত ফি দিয়ে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হয়।বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্রীয়ভাবে একাদশ শ্রেণির অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে। এই পদ্ধতিতে কলেজ ও মাদ্রাসায় ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোয় ভর্তি হয় পৃথক প্রক্রিয়ায়। ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের প্রায় সব কলেজ ও মাদ্রাসায় এ পদ্ধতিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়।গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি। তাদের মধ্যে পৌনে দুই লাখের বেশি শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদনই করেনি।এসএসসিতে যেসব কারণে ১৯ বছরে সর্বনিম্ন পাসের হার, আগে ফলাফল কেমন হতো
চট্টগ্রাম বিভাগে হামে আক্রান্ত ৩০০ শিশুর ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, তাদের ৮৫.২ শতাংশই টিকাবিহীন। তবে টিকাবিহীন শিশুদের একটি বড় অংশ তখনো নিয়মিত টিকাদানের বয়সে পৌঁছায়নি বলে এতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের পেডিয়াট্রিক রিসার্চ গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষণার প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কামরুন নাহার। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ‘বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে ২০২৬ সালের হাম প্রাদুর্ভাব: রোগতাত্ত্বিক চিত্র, ক্লিনিক্যাল বৈশিষ্ট্য, জিনগত বিশ্লেষণ এবং মা ও শিশুর অ্যান্টিবডির অবস্থা’ শীর্ষক এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গবেষণায় অংশ নেওয়া শিশুদের ৪৬ শতাংশের বয়স ছিল ৯ মাসের কম। সাধারণত ৯ মাস বয়সে হামের প্রথম টিকা দেওয়া হয়। অর্থাৎ আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশ টিকা নেওয়ার নির্ধারিত বয়সে পৌঁছানোর আগেই সংক্রমিত হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের বয়স ২ মাস থেকে ১১ বছর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। গবেষণায় অংশ নেওয়া শিশুদের ৭৫.৫ শতাংশ গ্রামীণ বা প্রত্যন্ত এলাকার এবং ৬৪.৮ শতাংশ নিম্ন আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবারের। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৩১ শতাংশ তীব্র বা একিউট পুষ্টিহীনতায় ভুগছিল। টিকা না নেওয়ার কারণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, টিকাবিহীন শিশুদের মধ্যে ৫২ শতাংশের ক্ষেত্রে সচেতনতার অভাব বা টিকার তারিখ ভুলে যাওয়াকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ৩০ শতাংশ শিশু অসুস্থ থাকার কারণে, ৮ শতাংশ মায়ের অসুস্থতার কারণে, ৪ শতাংশ টিকার ভয় এবং ৪ শতাংশ টিকা কার্ড হারিয়ে ফেলায় টিকা নেয়নি। গবেষণায় আরও দেখা যায়, মাত্র ৩২.১ শতাংশ শিশু গত ছয় মাসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল পেয়েছিল। ভিটামিন ‘এ’ না পাওয়া শিশুদের মধ্যে ৫৯ শতাংশের মারাত্মক বা তীব্র জটিলতা দেখা গেছে। আরও পড়ুন হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে জ্বর, ফুসকুড়ি, কাশি, সর্দি ও চোখ ওঠার মতো উপসর্গ ব্যাপকভাবে দেখা গেছে। রোগীদের জ্বরের গড় স্থায়িত্ব ছিল ৭ দশমিক ৩০ দিন এবং ফুসকুড়ির গড় স্থায়িত্ব ৫ দশমিক ৬৪ দিন। গবেষণায় দেখা যায়, আক্রান্ত শিশুদের ৫৯.৪ শতাংশ কোনো না কোনো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা হাসপাতাল থেকে হামে আক্রান্ত হয়েছে। গবেষকদের মতে, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। প্রাথমিক বিশ্লেষণে মাঝারি বা তীব্র পুষ্টিহীনতা, গ্রামীণ বা বস্তি এলাকায় বসবাস, দরিদ্রতা, অতিরিক্ত জনবহুল ঘর এবং ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতিকে মারাত্মক জটিলতার ঝুঁকি বাড়ানোর কারণ হিসেবে পাওয়া গেছে। চূড়ান্ত বিশ্লেষণে মাঝারি বা তীব্র পুষ্টিহীনতাকে মারাত্মক জটিলতার সবচেয়ে শক্তিশালী ও স্বাধীন কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামীণ পরিবেশ ও অপর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে এমন ঘরেও ঝুঁকি বেড়েছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, টিকাপ্রাপ্ত শিশুদের তুলনায় টিকাবিহীন শিশুদের মারাত্মক জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় দ্বিগুণ ছিল। টিকা নেওয়া শিশুদের মধ্যে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। গবেষণায় মা ও শিশুর অ্যান্টিবডির অবস্থাও বিশ্লেষণ করা হয়। ৯১ জন মায়ের (৯৪.৮ শতাংশ) Measles IgG positive পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে ৩৬ জন (৩৭.৫ শতাংশ) আগে হাম টিকা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে maternal IgG status-এর সঙ্গে severe disease বা pneumonia-এর পরিসংখ্যানগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। অনুষ্ঠানে হাম থেকে শিশুদের সুরক্ষায় সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের আইসোলেশন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। আরও পড়ুন চট্টগ্রামে হামে আক্রান্ত ৭১৬, শনাক্তদের মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু তিনি বলেন, প্রায় অর্ধেক শিশু নিয়মিত টিকাদানের বয়সে পৌঁছানোর আগেই হামে আক্রান্ত হয়েছে। তাই শুধু টিকাদান নয়, সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করাও জরুরি। একই সঙ্গে আক্রান্ত শিশুদের অন্য রোগীদের থেকে আলাদা রেখে চিকিৎসা করতে হবে। মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ক্যাম্পেইন না হওয়া এবং আগের কয়েক বছরের ব্যর্থতার কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ভ্যাকসিনেশন ও আইসোলেশন দুটোই নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি শিশুকে টিকা দেওয়ার পরও এত রোগী কেন এ বিষয়টি দেখতে হবে। যেহেতু হাম উচ্চ সংক্রমণশীল, তাই এখন মূল কাজ আইসোলেশন নিশ্চিত করা। শিশুর মায়েদের পুষ্টিও নিশ্চিত করতে হবে। চট্টগ্রামের সিআরবিতে অবস্থিত রেলওয়ে হাসপাতালকে হামে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য ডেডিকেটেড হাসপাতাল করার বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলেও জানান মেয়র। তিনি বলেন, রেলওয়ে হাসপাতালকে যদি ডেডিকেটেড হামের হাসপাতাল করা যায়, তাহলে সংক্রমণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। স্বাস্থ্য বিভাগ উদ্যোগ নিলে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করব। অনুষ্ঠানে এসপেরিয়া হেলথ কেয়ার লিমিটেড ও এসপেরিয়া হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান গোলাম বাকী মাসুদ বলেন, এ গবেষণা শুধু একটি প্রাদুর্ভাবের পরিসংখ্যান তুলে ধরার উদ্যোগ নয়; বরং হাম প্রতিরোধ, শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির জন্য প্রমাণভিত্তিক করণীয় তৈরির একটি প্রয়াস। তিনি বলেন, গবেষণার ফলাফলকে বাস্তবভিত্তিক জনস্বাস্থ্য উদ্যোগে রূপান্তর করতে হবে। গবেষণা শুধু ফলাফল পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা বাস্তব কর্মপরিকল্পনায় রূপ দিতে হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন এবং পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. তসলিম উদ্দিন। এছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ও কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক-গবেষকসহ স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এমআরএএইচ/ইএ