ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নুর জাহান নামের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তার গর্ভে থাকা অনাগত শিশুটিও মারা গেছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিজি হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত নুর জাহানের স্বামী জোবায়ের হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নুর জাহান কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার মোছাগাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দেড় বছর আগে জোবায়ের হোসেনের সঙ্গে নুর জাহানের বিয়ে হয়। আগামী অক্টোবরে তাদের সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার কথা ছিল। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) হঠাৎ করে নুর জাহানের জ্বর আসে। এরপর নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে তাকে কুমিল্লায় চিকিৎসা দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
নুর জাহানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষসহ বাংলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান ভূঞা বলেন, আমার ছাত্রী নুর জাহান অত্যন্ত ভদ্র মেয়ে ছিল। বিভাগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সে অংশগ্রহণ করতো। সে অনেক সৃজনশীল ছিল। তার মৃত্যু সংবাদে আমরা অত্যন্ত ব্যথিত।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল বাসার ভূঁইয়া বলেন, একজন মেধাবী ছাত্রীর অকালমৃত্যু সত্যিই দুঃখজনক। আমরা কলেজ পরিবার নুর জাহানের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।
জাহিদ পাটোয়ারী/এসআর
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মো. রাশেদ খাঁন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিশেষ সহকারী রাশেদ খাঁন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ধন্যবাদ জানান। আরও পড়ুন ঢাবি সিন্ডিকেটের ঘোষণায় ডাকসুর জিএস হলেন রাশেদ খাঁন এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ২০১৯ সালের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁনকে জিএস ঘোষণা করা হয়। সে সময় বিজয়ী হওয়া গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব বাতিল হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এমআইএইচএস/
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের মাধ্যমে কাল্পনিক বিষয় তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে দেশে একটি পক্ষ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, এসব করে কোনো লাভ হবে না। বাংলাদেশ তারেক রহমানের নেতৃত্বে এগিয়ে যাবে।প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ন্যানোটেকনোলজি ও রোবোটিকসসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসার ঘটছে। শিক্ষার্থীদের এসব বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন।আজ বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী জানান, কারিগরি শিক্ষায় পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে তিনি সম্প্রতি চীন সফর করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শেই তিনি চীনের মডেল দেখতে গিয়েছিলেন। সেখানে শিল্পের সঙ্গে কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থার যে কার্যকর সমন্বয় ঘটানো হয়েছে, তা বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে। লেখাপড়ার পাশাপাশি প্রযুক্তি, ভাষা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী।অতীতে শিক্ষার প্রসারে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর কথা স্মরণ করে এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে আমরা দেখেছি, তিনি শিক্ষাকে কতটা গুরুত্ব দিতেন। জাতিকে শিক্ষিত করার জন্য তিনি যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তার অনেক কিছুই আজও আমরা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারিনি।’অন্যদিকে নারীশিক্ষার প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘নারীদের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন, তা পরবর্তী সময়ে বিশ্বময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনুসরণ করা হয়েছে।’জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব শামসুল আরেফিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. মোফাজ্জল হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
বলিউডে নানা পাটেকারের রাগী স্বভাবের গল্প কম শোনা যায় না। তবে পর্দার বাইরের এই অভিনেতার মানবিক একটি দিকও রয়েছে, যা অনেকেরই অজানা। একবার বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দুই কোটি টাকা দিয়ে একটি গাড়ি কেনার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন নানা। কিন্তু কৃষক আত্মহত্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবারের দুরবস্থার কথা জানতে পেরে বদলে ফেলেন সিদ্ধান্ত। গাড়ি না কিনে সেই অর্থই বিলিয়ে দেন অসহায় পরিবারগুলোর মধ্যে। সম্প্রতি নানা পাটেকারকে নিয়ে এমনই একটি ঘটনা জানিয়েছেন চিত্রনাট্যকার রণবীর পুষ্প। ১৯৯৬ সালের ‘অগ্নিসাক্ষী’ ছবিতে নানার সঙ্গে কাজ করেছিলেন তিনি। রণবীরের দাবি, নানা পাটেকারকে নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রচলিত অনেক ধারণাই সঠিক নয়। অভিনেতা নাকি প্রযোজকদের আর্থিক ক্ষতি করেন, এমন অভিযোগেরও বিরোধিতা করেছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে নানার মানবিকতার একটি ঘটনা তুলে ধরেন রণবীর। তিনি জানান, একবার কৃষক আত্মহত্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবারের দুর্দশার কথা জানতে পারেন নানা। সে সময় দেড় কোটি টাকা দিয়ে একটি গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছিলেন অভিনেতা। কিন্তু পরিবারগুলোর পরিস্থিতির কথা জানার পর গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন তিনি। এরপর সেই দেড় কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন নানা। রণবীরের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। এক বন্ধুর মাধ্যমে পরিবারগুলোর কাছে সেই অর্থ পৌঁছে দেন অভিনেতা। রণবীর বলেন, যে মানুষ কৃষকদের চোখের জল মোছানোর চেষ্টা করেন, তিনি কারও ক্ষতি করতে পারেন না। কৃষকদের সহায়তার জন্য নানা ‘নাম’ নামে একটি সংস্থাও গড়ে তুলেছেন। ওই সংস্থার মাধ্যমে কৃষকদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে নানার রাগী স্বভাবের বিষয়টিও অস্বীকার করেননি রণবীর। তার দাবি, নানার রাগের পেছনেও অনেক সময় কারণ থাকে। এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনার কথাও জানান তিনি। রণবীরের ভাষ্য, একদিন চলন্ত গাড়ি থেকে এক ব্যক্তি প্লাস্টিকের বোতল রাস্তায় ছুড়ে ফেলছিলেন। বিষয়টি দেখে নানা গাড়ি থামিয়ে নিজেই বোতলটি তুলে নেন। পরে ট্রাফিক সিগন্যালে ওই গাড়িটি থামিয়ে চালককে জানালা খুলতে বলেন। সামনে মহাত্মা গান্ধীর ছবি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের বার্তা থাকা একটি বিজ্ঞাপনের দিকে ইঙ্গিত করে নানা ওই ব্যক্তিকে প্রশ্ন করেন, দেশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব কার? তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেন, একজন নাগরিক হিসেবে নিজের ব্যবহৃত আবর্জনা রাস্তায় না ফেলার দায়িত্ব প্রত্যেকেরই রয়েছে। রণবীরের মতে, ঘটনাটিকে নানার রাগ বলা যায় ঠিকই, তবে একই সঙ্গে ওই ব্যক্তিকে সচেতন করার চেষ্টাও ছিল এতে। এদিকে, ‘অগ্নিসাক্ষী’ ছবিতে নানার সঙ্গে কাজ করেছিলেন অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা। সেই সময় দুজনের মধ্যে প্রেমের গুঞ্জনও ছড়িয়েছিল। এ প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন রণবীর। তার দাবি, নানা ও মনীষার মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ছিল। সেটি বন্ধুত্ব নাকি প্রেম তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে দুজন একে অপরকে বুঝতেন এবং শুটিংয়ের আগে নিজেদের দৃশ্য নিয়ে আলোচনা করতেন বলে জানান তিনি। নানা পাটেকার ও মনীষা কৈরালা একসঙ্গে ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’, ‘অগ্নিসাক্ষী’ ও ‘যুগপুরুষ’ ছবিতে অভিনয় করেছেন। তাদের জুটি নিয়ে সেই সময়েও দর্শকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক আগ্রহ। এলআইএ