জাতীয়

চ্যাটজিপিটিতে সেলফি আপলোড করা কতটা নিরাপদ

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
চ্যাটজিপিটিতে সেলফি আপলোড করা কতটা নিরাপদ
চ্যাটজিপিটিতে সেলফি আপলোড করা কতটা নিরাপদ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আশির দশকের ছবি বানানো এখন ট্রেন্ড। চোখের পলকে নিজের আশির দশকীয় স্টাইলিশ ছবি বানিয়ে নেওয়া বেশ মজার। তবে এই আনন্দের আড়ালে বড় এক ঝুঁকিও আছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সাময়িকী ‘ওয়্যারড’-এর মতে, চ্যাটবটে হুটহাট নিজের সেলফি বা ব্যক্তিগত ছবি আপলোড করা মোটেও নিরাপদ নয়। চ্যাটজিপিটি বা জেমিনাইয়ের মতো এআইয়ের সঙ্গে মানুষের মতো কথা বলা যায় বলেই আমরা ধরে নিই, এগুলো সম্পূর্ণ গোপন। কিন্তু সত্যি বলতে, এই প্ল্যাটফর্মগুলোর গোপনীয়তা শতভাগ সুরক্ষিত থাকে না।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইকে কোনো ছবি বা লেখা দিলে মূলত চার ধরনের তথ্য তাদের কাছে চলে যায়। লেখা কথা, লেখা থেকে এআইয়ের বিশ্লেষণ করা তথ্য, নিজের ব্যবহারের নানা পরিসংখ্যান এবং সিস্টেমে জমা হওয়া ছবি ও ফাইল।

তাই যেকোনো গোপন কথা, ফোন নম্বর বা স্পর্শকাতর ছবি এআইকে দেওয়ার আগে ভাবা জরুরি। চ্যাটজিপিটির নিয়মেও স্পষ্ট বলা আছে, যে তথ্য গোপন রাখতে চান, তা কোনোভাবেই তাদের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না।

এআই চ্যাটবট আসলে কী কী তথ্য সংগ্রহ করে

যখন এআই চ্যাটবটে কোনো লেখা টাইপ করা হয়, তখন এটি শব্দগুলোকে ছোট ছোট অংশে ভেঙে ফেলে। কোটি কোটি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে শেখানো একটি ডিজিটাল মডেলের সাহায্যে আমাদের কথা, বিষয় ও উদ্দেশ্য বিশ্লেষণ করে এটি সম্পূর্ণ নতুন উত্তর তৈরি করে।

ছবির ক্ষেত্রে ঝুঁকিটা আরও এক ধাপ বেশি। মুখমণ্ডলের ছবি একটি অতিসংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য, কারণ এর মাধ্যমে তোমাকে সরাসরি চিনে নেওয়া সম্ভব। তা ছাড়া ছবির সঙ্গে যুক্ত থাকে মেটাডেটা। যেমন ছবি তোলার নির্দিষ্ট সময়, ডিভাইস এবং ভৌগোলিক অবস্থান। সেলফি আপলোড করলেই তা সঙ্গে সঙ্গে চুরি হয়ে যাবে কিংবা ডিপফেক তৈরিতে ব্যবহৃত হবে, বিষয়টি ঠিক তেমন নয়। তবে সেই ছবির একটি ডিজিটাল কপি সরাসরি অন্য একটি বিদেশি কোম্পানির সার্ভারে জমা হয়ে যায়। সেটা তাদের নিজস্ব নীতিমালার অধীন হয়ে পড়ে।

নিয়মিত এআই ব্যবহার করলে প্রশ্ন ও লেখার ধরন বিশ্লেষণ করেই যে কারোর পেশা, পছন্দ এবং নানা ব্যক্তিগত অভ্যাস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেয়ে যায় এআই। অন্যান্য সব অনলাইন সেবার মতোই এআই চ্যাটবট আইপি অ্যাড্রেস, ফোন বা কম্পিউটারের ধরন এবং অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে। এমনকি তোমার দেওয়া উত্তর, আপলোড করা ছবি ও ফাইলগুলোও তারা জমা রাখে। যাতে সিস্টেমকে আরও দক্ষ করে তোলা যায়।

তবে তথ্য কত দিন সংরক্ষিত থাকবে, তা নির্ভর করে নির্দিষ্ট টুলের প্রাইভেসি পলিসির ওপর। ওপেনএআই (চ্যাটজিপিটি) এবং গুগলের (জেমিনাই) গোপনীয়তা নীতি একদম আলাদা। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, উভয় প্রতিষ্ঠানেই ডেটা সেভ করা বন্ধ করা কিংবা ট্রেনিং বন্ধ রাখার সেটিংস অপশন রয়েছে।

চ্যাটজিপিটি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আপনার তথ্য কত দিন জমা রাখে

চ্যাটজিপিটি (ChatGPT)

চ্যাট হিস্ট্রি যতক্ষণ নিজে না মোছা হচ্ছে, ততক্ষণ তা অ্যাকাউন্টে জমা থাকে। মুছে দিলেও ওপেনএআইয়ের মূল সিস্টেমে তা ৩০ দিন পর্যন্ত থেকে যায়। আর তথ্য থেকে যদি ব্যবহারকারীর পরিচয় আলাদা করে ফেলা হয়, তবে নিরাপত্তার স্বার্থে তা আরও দীর্ঘ সময় তাদের কাছে থেকে যেতে পারে।

জেমিনাই

জেমিনাই (Gemini)

ডিফল্ট সেটিংসে জেমিনাই ১৮ মাস পর্যন্ত কথোপকথন জমা রাখে। জেমিনাই যেহেতু গুগলের ড্রাইভ বা ফটোজের মতো অন্যান্য সেবার সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাই এটি অনেক বেশি ব্যক্তিগত তথ্যে প্রবেশ করতে পারে। গুগল স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়েছে, অন্যকে দেখাতে চান না এমন কোনো গোপন তথ্য এআইকে দেওয়া যাবে না।

ক্লড (Claude)

ক্লডে চ্যাট মুছে ফেলার ৩০ দিনের মধ্যে ব্যাক এন্ড থেকে তা গায়েব হয়ে যায়। তবে কেউ যদি সিস্টেমকে তথ্য ব্যবহারের অনুমতি দেন, তবে তারা পরিচয় বিচ্ছিন্ন করে সেই তথ্য ৫ বছর পর্যন্ত ট্রেনিংয়ের জন্য রেখে দিতে পারে। নীতি লঙ্ঘনের মতো বিষয়ে চ্যাট ২ বছর এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত হিসাব ৭ বছর পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকে।

বিজ্ঞানীদের প্রতিনিয়ত নতুন নতুন এআই মডেল বানানোর জন্য প্রয়োজন হয় অতিরিক্ত সার্ভার

নতুন প্রযুক্তির নতুন ঝুঁকি

অ্যাপ থেকে কোনো চ্যাট ডিলিট করা মানেই কিন্তু কোম্পানির মূল সার্ভার থেকে সঙ্গে সঙ্গে তা মুছে যাওয়া নয়। দিন যত যাচ্ছে, সাইবার আক্রমণের ধরনও তত বদলাচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে মডেল ইনভারশনের মতো নতুন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। যেখানে সাইবার অপরাধীরা নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে এআই মডেলের ভেতর থেকে ব্যবহারকারীর গোপন তথ্য বের করার চেষ্টা করে। চ্যাটবটগুলোর হাতে যখন ই–মেইল, শপিং ও গুগল ড্রাইভের অ্যাকসেস চলে আসছে, তখন এই ঝুঁকির মাত্রা আরও বেড়ে যাচ্ছে।

নিরাপদ থাকার সহজ উপায়

প্রথমে সংবেদনশীল বা খুব ব্যক্তিগত তথ্য এআইকে বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। চ্যাটবটের সেটিংসে গিয়ে মডেল ট্রেনিং অপশনটি বন্ধ করে দেওয়াই ভালো। সাময়িক চ্যাটের জন্য প্রাইভেট বা টেম্পোরারি মোড ব্যবহার। চ্যাট শেষ হলে অপ্রয়োজনীয় কথোপকথন ও আপলোড করা ফাইল ডিলিট করা। এআই অ্যাসিস্ট্যান্টকে ই–মেইল বা ড্রাইভে প্রবেশাধিকার দেওয়া আছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তৈরি এআই চ্যাটবট নিয়মিত ব্যবহার করেন অনেকেই

ছবি আপলোডের ক্ষেত্রে সতর্কতা

সামাজিক মাধ্যমে নতুন কোনো ট্রেন্ড এলেই অন্যের ছবি তাদের অনুমতি ছাড়া এআইতে আপলোড করা ঠিক না। বিশেষ করে শিশুদের ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র বা সংবেদনশীল নথি এআই চ্যাটবটে দেওয়া একদমই উচিত নয়।

ভাইরাল হওয়া সেই ৮০-র দশকের স্টাইলের ছবি হয়তো সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দুই দিনে গায়েব হয়ে যাবে, কিন্তু সেটি বানানোর জন্য দেওয়া আসল ছবিটি এআই কোম্পানির সার্ভারে দীর্ঘদিন থেকে যাবে। তাই মূল বিষয় চ্যাটবট ব্যবহার বন্ধ করা নয়; বরং ব্যবহার করার সময় কী দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে সচেতন থাকা।

সূত্র: লাইভ মিন্ট ও ওয়্যার্ড ডটকম
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
খালেদ নিলেন আরও ৩ উইকেট, ম্যাচে মোট ৮টি
খালেদ নিলেন আরও ৩ উইকেট, ম্যাচে মোট ৮টি

দিনের শুরুতেই হাসান মাহমুদের একটি ভিডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে কেন্ট। সর্বশেষ ম্যাচ খেলার পর দেশে ফিরে এসেছেন এই পেসার। রয়ে গেছেন খালেদ আহমেদ। আর সেই খালেদই মঙ্গলবার ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে নিয়েছেন ৫ উইকেট। ভিডিও বার্তায় কেন্টের হয়ে ৫ উইকেট নেওয়ায় তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন হাসান। সঙ্গে ‘গুড লাক’ জানিয়েছেন ম্যাচের বাকি অংশের জন্য।আজ কেন্ট–ল্যাঙ্কাশায়ার ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে সেই ‘শুভ কামনা’ বৃথা যায়নি। ল্যাঙ্কাশায়ারের দ্বিতীয় ইনিংসে খালেদ নিয়েছেন আরও ৩ উইকেট। সব মিলিয়ে ম্যাচে বাংলাদেশি এ পেসারের শিকার মোট ৮ উইকেট।কেন্টারবেরির সেন্ট লরেন্স গ্রাউন্ডে আজ নিজের দ্বিতীয় বলেই কিটন জেনিংসকে জ্যাক ক্রলির ক্যাচ বানান খালেদ। তাঁর দ্বিতীয় শিকার মার্কাস হ্যারিস। অস্ট্রেলিয়ান এ ব্যাটসম্যানও ক্যাচ দেন ক্রলির হাতে। ল্যাঙ্কাশায়ারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৮ রান আসে হ্যারিসের ব্যাট থেকেই।খালেদের তৃতীয় উইকেট আরাব শেঠি। ১১ রান করা এই ব্যাটসম্যন ক্যাচ দেন বেঞ্জামিনের হাতে। আরাবের আউটটি ছিল ল্যাঙ্কাশায়ারের ষষ্ঠ উইকেট। অর্থাৎ, ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়ার হাতছানি ছিল খালেদের সামনে। তবে কেন্টের ম্যাট মিলনেস ও কিথ ডাজন দ্রুত শেষ চার উইকেট তুলে নিলে খালেদের আর খুব বেশি সুযোগ আসেনি। মাঠ ছেড়েছেন ১৫ ওভারে ৫ মেডেন ৫২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে। তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন মিলনেস ও ডাজনও। এর আগে খালেদ প্রথম ইনিংসে নিয়েছিলেন ৪২ রানে ৫ উইকেট।কাউন্টিতে এবার খালেদের ৫ উইকেটপ্রথম ইনিংসে ১৬১ রান করা ল্যাঙ্কাশায়ার দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট হয়েছে ১৯২ রানে। কেন্টে প্রথম ইনিংসে ৬৩ রানে লিড নেওয়ায় জয়ের জন্য চতুর্থ ইনিংসে পেয়েছে ১৪০ রানের লক্ষ্য। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২ উইকেটে ২২ রান তুলেছে কেন্ট।

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
সিলেটে সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু

সিলেটে সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু

কাউকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য করা হবে না: ছাত্রদল সভাপতি

কাউকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য করা হবে না: ছাত্রদল সভাপতি

লতিফ সিদ্দিকীর জন্ম না হলে আমি কাদের সিদ্দিকী হতাম না: কাদের সিদ্দিকী

লতিফ সিদ্দিকীর জন্ম না হলে আমি কাদের সিদ্দিকী হতাম না: কাদের সিদ্দিকী

হেবা-সংক্রান্ত বিধান নিয়ে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে ওলামা মাশায়েখদের সাক্ষাৎ
হেবা-সংক্রান্ত বিধান নিয়ে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে ওলামা মাশায়েখদের সাক্ষাৎ

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন ও হেবা-সংক্রান্ত বিধান নিয়ে আইনমন্ত্রী মুহাম্মাদ আসাদুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের নেতারা। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তারা এ বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য ও উদ্বেগ তুলে ধরেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়ক কে এম শরীয়াতুল্লাহ। জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুফতী রেজাউল করীম আবরার ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতী শামসুদ্দোহা আশরাফীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল আইনমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সাক্ষাৎকালে হেবা বিশুদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে শরিয়াহ নির্ধারিত শর্ত এবং সম্পত্তি হস্তান্তর-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত বা সংশোধিত আইনে শরিয়াহর সঙ্গে কোনো সাংঘর্ষিকতা নেই—এমন দাবির পক্ষে উপস্থাপিত বিভিন্ন যুক্তি ও অসংগতি তুলে ধরেন আলেমরা। তারা বলেন, মুসলিমদের পারিবারিক সম্পত্তি হস্তান্তর ও হেবা-সংক্রান্ত বিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে শরিয়াহর সুস্পষ্ট বিধান, ফিকহি মূলনীতি ও প্রচলিত বাস্তবতা যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। কোনো বিধান শরিয়াহর মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে সংশ্লিষ্ট আলেম-ওলামার সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা জরুরি। এ সময় আইনমন্ত্রী আলেমদের বক্তব্য ধৈর্যসহকারে শোনেন এবং তাদের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে অবগত হন বলে জানানো হয়েছে। জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত পর্যালোচনা করবে। একই সঙ্গে মুসলিম নাগরিকদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও শরিয়াহর বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইন প্রণয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এমইউ/কেএইচকে

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
সাংবাদিকের বাসায় ঢুকে গুলি: ‘ভইরা-দে’ গ্রুপের সহযোগী গ্রেপ্তার

সাংবাদিকের বাসায় ঢুকে গুলি: ‘ভইরা-দে’ গ্রুপের সহযোগী গ্রেপ্তার

সার মজুত রাখার অভিযোগ, বিএনপি নেতার গুদামে কৃষকদের হামলা

সার মজুত রাখার অভিযোগ, বিএনপি নেতার গুদামে কৃষকদের হামলা

হাসপাতাল-স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেও ছড়াচ্ছে হাম

হাসপাতাল-স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেও ছড়াচ্ছে হাম

আইনমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পত্তি হস্তান্তর আইন নিয়ে কিছু তরুণ আলেমের বৈঠক
আইনমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পত্তি হস্তান্তর আইন নিয়ে কিছু তরুণ আলেমের বৈঠক

‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬’ নিয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন একদল তরুণ আলেম। আজ বুধবার সকাল ৯টায় সচিবালয়ে আইনমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়।বৈঠকের পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তরুণ আলেমরা আইনমন্ত্রীকে বলেছেন, পিতা-মাতা, প্রবীণ ব্যক্তি ও দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তির ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার সুরক্ষার যে উদ্দেশ্য বিলটিতে রয়েছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। তবে মুসলিম নাগরিকদের সম্পত্তি হস্তান্তর, হেবা, ওসিয়ত ও মিরাসের মতো বিষয়গুলো কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক বিধানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় সম্ভাব্য শরয়ি জটিলতা রয়েছে। তাঁরা আইনমন্ত্রীকে জানান, দাতার জীবদ্দশায় মালিকানা হস্তান্তর করেও ভোগাধিকার মৃত্যুর পর কার্যকর করার ব্যবস্থা প্রচলিত হেবার শরয়ি কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্য তৈরি করতে পারে। আবার এর প্রয়োগ যদি ওসিয়তের বৈশিষ্ট্য ধারণ করে, তাহলে ওয়ারিসের জন্য ওসিয়ত এবং নির্ধারিত মিরাসের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।তরুণ আলেমদের পক্ষ থেকে বলা হয়, আইনটির অপব্যবহারের মাধ্যমে কোনো উত্তরাধিকারীকে ইচ্ছাকৃতভাবে বঞ্চিত করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। বৈঠকে তাঁরা দেশের শীর্ষ মুফতি, ফকিহ, ইসলামি আইন গবেষক ও আইনজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি বিশেষজ্ঞ পর্যালোচনা কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। তাঁদের মতে, এ কমিটির মাধ্যমে বিলটি পুনর্বিবেচনা করে এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে প্রবীণ ও দাতার নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মুসলিম নাগরিকদের হেবা, ওসিয়ত ও মিরাসের শরয়ি বিধানও ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা আফসার মাহমুদ, জাতীয় উলামা মশায়েখ আইম্মাহ পরিষদের মহাসচিব মুফতি রেজাউল করিম আবরার, ইসলামবাগ মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি আব্দুল কাইয়ুম কাসেমী, বাংলাদেশ ফিকহ একাডেমির মহাপরিচালক মুফতি ফয়সাল মাহমুদ হাবিবী, জাতীয় উলামা মশায়েখ আইম্মাহ পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী, মোহাম্মদপুর মোহাম্মদী হোমস জামে মসজিদের খতিব মুফতি আদনান মাসউদ প্রমুখ।

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
বাড়তি ৭ লাখ টন গ্যাস অয়েল ও জেট ফুয়েল আমদানি করবে সরকার

বাড়তি ৭ লাখ টন গ্যাস অয়েল ও জেট ফুয়েল আমদানি করবে সরকার

বাবা হারালেন কণ্ঠশিল্পী সালমা

বাবা হারালেন কণ্ঠশিল্পী সালমা

রুমিন ফারহানার সমর্থকদের ওপর বিএনপি নেতা–কর্মীদের হামলার অভিযোগ 

রুমিন ফারহানার সমর্থকদের ওপর বিএনপি নেতা–কর্মীদের হামলার অভিযোগ 

0 Comments