২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জন। আবেদন করেও আসন পায়নি ১৪ হাজার ৪১৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া ২ হাজার ২০৫ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেও নির্বাচিত হয়নি।
আজ বুধবার রাতে প্রথম ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ফলাফল জানা যাবে। এবার সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। ফলে এবার বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ১১টি কলেজে ভর্তির জন্য কোনো শিক্ষার্থী আবেদনই করেনি। আর ৪১৬টি কলেজে আবেদন করা হলেও কোনো আসন বরাদ্দ করা হয়নি। এবার ভর্তিযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৮ হাজার ১৮০টি।
একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির লক্ষ্যে ২ সেপ্টেম্বর আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছিল, গত রোববার তা শেষ হয়। সব কার্যক্রম শেষে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে ২৩ সেপ্টেম্বর।
ভর্তির জন্য এবার মোট আবেদন করেছিল ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩০ জন শিক্ষার্থী।
এবারও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হচ্ছে। কোনো ভর্তি পরীক্ষা হয়নি। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের ফলাফল, পছন্দক্রম ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনায় নিয়ে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়।
কয়েক বছর ধরেই এসএসসি ও সমমানের ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হচ্ছে। নির্ধারিত ফি দিয়ে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হয়।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্রীয়ভাবে একাদশ শ্রেণির অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে। এই পদ্ধতিতে কলেজ ও মাদ্রাসায় ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোয় ভর্তি হয় পৃথক প্রক্রিয়ায়। ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের প্রায় সব কলেজ ও মাদ্রাসায় এ পদ্ধতিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়।
গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি। তাদের মধ্যে পৌনে দুই লাখের বেশি শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদনই করেনি।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কাঁকড়া পিংলু উচ্চবিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে ২৫ শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আজ বুধবার দুপুরে তাদের পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এর মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ায় নেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরের পর কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে একে একে শিক্ষার্থীরা মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট ও বমি বমি ভাবের কথা জানায়। কেউ কেউ অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এভাবে ২৫ জন অসুস্থ হলে বিদ্যালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষক ও অভিভাবকেরা তাঁদের দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।শাহিনুর ইসলাম, প্রধান শিক্ষক, কাঁকড়া পিংলু উচ্চবিদ্যালয়মঙ্গলবার দুপুরে দশম শ্রেণির সাতজন শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের জিনে ধরেছে—এমন প্রচারও ছড়িয়ে পড়ে। তবে ওই শিক্ষার্থীরা পরে বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ হয়েছিল। আজ পাঠদান চলাকালে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ২৫ জন শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ বোধ করে। পরে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুন ফেরদৌসী বলে, দুই দিন ধরে দু–একজন করে শিক্ষার্থী হঠাৎ মাথা ঘুরে অসুস্থ হচ্ছিল। আজ দুপুর থেকে একে একে অনেক শিক্ষার্থী মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।শিক্ষার্থী জান্নাতুনের মা মোহাসিনা আক্তার বলেন, দুপুরে ক্লাস চলাকালে মেয়ের অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে আসেন। শিক্ষক ও পরিবারের সদস্যরা মিলে মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাচ্ছেন।কাঁকড়া পিংলু উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহিনুর ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে দশম শ্রেণির সাতজন শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের জিনে ধরেছে—এমন প্রচারও ছড়িয়ে পড়ে। তবে ওই শিক্ষার্থীরা পরে বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ হয়েছিল। আজ পাঠদান চলাকালে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ২৫ জন শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ বোধ করে। পরে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।বেলা পৌনে তিনটার দিকে শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে আনা হয় বলে জানান পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শ্রী তরুণ কুমার পাল। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আটজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। অভিভাবকদের কেউ কেউ ঘটনাটিকে ‘জিনের আসর’ মনে করছেন। তবে চিকিৎসকদের কাছে বিষয়টি সাইকোলজিক্যাল (মানসিক) সমস্যা বলে মনে হয়েছে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাশপিয়া তাসরিন বলেন, কী কারণে শিক্ষার্থীরা হঠাৎ অসুস্থ হলো, তা জানতে বিদ্যালয়ে একটি মেডিক্যাল টিম পাঠানো হবে। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেখতে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েছিলেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে উপজেলা বিএনপির নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার দুই সমর্থকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত ওই দুজন আশুগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁরা হলেন, আশুগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক আতাউর রহমান ও সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল বিপ্লব। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার পক্ষে নির্বাচন করায় তাঁদের দুজনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগামী শুক্রবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনার আয়োজন করেছে আবদুল কাদির শাহ পাঠাগার। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা প্রধান হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের বিষয়ে জানতে উপজেলা পরিষদে যান আবদুল কাদির শাহ পাঠাগারের সভাপতি ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক আতাউর রহমান এবং সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল বিপ্লব। তাঁরা ইউএনওর কক্ষের দিকে যান। সেখানে ইউএনওর সঙ্গে কথা বলছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন। তখন আতাউর রহমান ও রাসেল বিপ্লব ভেতরে ঢোকেননি। তাঁরা নিচে নেমে উপজেলা পরিষদের বিপরীত দিকে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। দুপুরে ওই দুজনের ওপর হামলা করা হয়। পরে উপজেলা পরিষদে থাকা গ্রামপুলিশের সদস্যরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।পরে হামলায় আহত আতাউর রহমান ও রাসেল বিপ্লব আশুগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। রাসেল বিপ্লব প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজ দুপুরে উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান তাঁর লোকজন নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বিজয়ী হওয়ার পর থেকে বিএনপির নেতা–কর্মীরা আমাদের প্রতিপক্ষ হয়ে আছেন। তাঁরা ইচ্ছাকৃতভাবেই হামলা চালিয়েছেন। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।’হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘মাদকের বিষয় নিয়ে আমাদের ছেলেপেলের সঙ্গে তাঁদের কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে এগিয়ে গিয়ে আমি তাঁদের ফিরিয়ে দিই।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এখন উপজেলায় কিছু হলেই আমাদের নাম ওঠে। কী করার আছে?’উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জামাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, উপজেলা পরিষদের পেছনের মাঠে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। তিনি (রুমিন ফারহানা) মাননীয় সংসদ সদস্য। তিনি চাইলে অবশ্যই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হবে। প্রশাসনের দায়িত্ব তাঁকে সার্বিক সহযোগিতা করা এবং নিরাপত্তা প্রদান করা। সরকারি দায়িত্ব পালন করা হবে।
মৌলভীবাজারের জুড়ীতে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো আমতৈল গ্রামের অমল দাসের ছেলে অনন্য দাস (৮) এবং শ্রীমঙ্গলের ভৈরব বাজার এলাকা থেকে আসা তার খালাতো ভাই নারায়ণ দাসের ছেলে দুর্জয় দাস (৯)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অমল দাসের মায়ের শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পরিবারসহ আমতৈল গ্রামে আসে শিশু দুর্জয়। বুধবার দুপুরে দুই ভাই মিলে বাড়ির পাশের নিলয় দাসের দোকানসংলগ্ন একটি জলাশয়ে বড়শি নিয়ে মাছ ধরতে যায়। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত একজন পানিতে পড়ে গেলে তাকে বাঁচাতে গিয়ে অন্যজনও তলিয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুপুরের দিকে স্থানীয় এক ব্যক্তি মাঠ থেকে ঘাস কাটতে যাওয়ার সময় জলাশয়ে দুই শিশুকে ভেসে থাকতে দেখেন। পরে তার চিৎকারে স্বজন ও স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষার পর দুই শিশুকেই মৃত ঘোষণা করেন। জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। মাহিদুল ইসলাম/এসআর