সুনেরাহ্ বিনতে কামাল দেশের সেই হাতে গোনা ভাগ্যবান অভিনয়শিল্পীদের একজন, যিনি অভিষেক সিনেমার জন্য পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। নিজের সিনেমা নিয়ে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে যাওয়ার জন্য মুখিয়ে ছিলেন সুনেরাহ্। অবশেষে সেই সুযোগ এল এবং স্বপ্নপূরণ শেষে ঢাকায় ফিরেও এসেছেন। ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমায় অভিনয় করা এই অভিনেত্রী ও মডেলের সঙ্গে কথা বললেন জিনাত শারমিন। শুনলেন তাঁর ভেনিসের অভিজ্ঞতা, অভিনয়জীবন, ফ্যাশন, খাবার, প্রতিদিনের রুটিন, ফিটনেস ও রিলেশনশিপ স্ট্যাটাসের কথা
অভিনন্দন। কোথায় আছেন, কেমন আছেন?
ধন্যবাদ। বাসায় আছি। ভালো আছি। শুটিংয়ের জন্য প্যাক করছি।
ফিরেছেন কবে?
দুদিন হলো।
কী কাজ এটা? কোথায় যাচ্ছেন?
রাফাত মজুমদার রিংকুর একটা সিঙ্গেল নাটক। খুবই সুন্দর গল্প। আমার সঙ্গে আছেন ইয়াশ রোহান। চার দিনের শুটিং হবে ময়মনসিংহে।

বাহ্, ফ্রম ভেনিস টু ময়মনসিংহ। ভেনিস থেকে কী কী নিয়ে এলেন?
অনেক অনেক কমপ্লিমেন্ট, আত্মবিশ্বাস, সুন্দর সুন্দর মুহূর্ত, স্মৃতি এবং আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা। ওখানে অনেকেই আমাকে ঘুরেফিরে তিনটা কথা বলেছে। এক, আমি খুবই সুন্দর। অনেক সুন্দর করে নিজেকে ক্যারি করি। দুই, আমি ভালো অভিনয় করি। তিন, আমি অনেক সুন্দর করে কথা বলি।
আমি আসলে অনেক দিন ধরেই এ রকম একটা ফেস্টিভ্যালে যেতে চাইছিলাম। এর আগে আমি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে গিয়েছিলাম ‘মশারি’ (নুহাশ হুমায়ূন পরিচালিত হরর স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা) নিয়ে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ভেনিসে অনেকে ‘মশারি’ দেখেছেন। আর আমাকে বলেছেন, ‘তুমি ওই শর্টফিল্মটায় ছিলে না?’
আমার খুব অবাক লেগেছে, তার চেয়েও বেশি ভালো লেগেছে। এখানে বিশ্বের নানা প্রান্তের সিনেমার মানুষজন—সাংবাদিক, সমালোচক, প্রযোজক, পরিচালক ও অন্যান্য কলাকুশলীর সঙ্গে আলাপ-পরিচয় হয়। সিনেমার মানুষ মানে তো আমরা আমরাই।
ওখানকার অনেকেই আমার ফোন নম্বর নিয়ে রেখেছেন। অনেকেই বলেছেন, আমি কেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করছি না! প্রযোজকেরা বলেছেন, আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আমি বলেছি, ‘শিডিউল থাকবে কি না জানি না, তবে অবশ্যই জানাব।’

আপনার হাতে কি এখন অনেক কাজ?
হ্যাঁ। আলহামদুলিল্লাহ, এখন, এ সময়ে দাঁড়িয়ে অনেক কাজের অফার পাচ্ছি। এখন আমার হাতে ভালো কিছু স্ক্রিপ্ট আছে। ভারতেও তো দুটি প্রজেক্টে কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু সেসব আর করা হলো না। এ ছাড়া আমি তো বাংলাদেশের অন্যতম ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড এক্সট্যাসিতে ২০১৫ সাল থেকে চাকরি করি। শুটে মডেলদের স্টাইলিস্ট হিসেবে কাজ করি। এখন মার্কেটিংও দেখি।
আপনি তো ওখানকার মডেল ছিলেন শুরুতে?
হ্যাঁ। ২০১৩ সাল থেকে ওখানে মডেলিং করতাম।

আপনি রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’–এ যুক্ত হলেন কীভাবে?
খুবই আচমকা যুক্ত হয়েছি। কয়েক বছর আগে রুবাইয়াত হোসেনের সঙ্গে আমি নারীদের একটা টক শোতে অতিথি হিসেবে ছিলাম। সেই অনুষ্ঠানে রুবাইয়াত জানিয়েছিলেন, তিনি আমার সঙ্গে কাজ করতে চান।
আমি তাৎক্ষণিকভবে বলেছিলাম, ‘অবশ্যই!’ এরপর একদিন আমাকে ফোন করে বলেন, এ রকম একটা কাজ করছেন। এই চরিত্রটার জন্য আমাকেই চান। তারপর আমরা বসলাম। আর এত ইন্টারেস্টিং একটা চরিত্র!
আপনার চরিত্র নিয়ে একটু বলবেন? আমাদের তো কোনো ক্লুও নেই।
আমি একটা গোস্ট-ব্রাইড। একেবারে খাঁটি বাংলাদেশি, ঢাকা শহরের বউ যাকে বলে! তবে এর বেশি কিছুই বলা যাবে না।
শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা বলুন একটু।
প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু করে ২–৩ ঘণ্টা ধরে পুরোপুরি ব্রাইডাল মেকআপ নিতাম। লাক্সারি ব্রাইডাল আউটফিটের ব্র্যান্ড সারা করিমের নকশা করা ভারী একটা লেহেঙ্গা, ভারী গয়না, বিয়ের ওড়না, হাতে ফেব্রিক দিয়ে আঁকা, ফেক নেইলস—এসব নিয়ে সারা দিন ওয়াশরুমে যেতে পারতাম না।
ভোরে মেকআপ নিতে বসার আগে যেতাম অথবা শুটিং শেষ হওয়ার পর। এটুকু ছাড়া খুবই দারুণ ছিল অভিজ্ঞতা। পুরো বিদেশি সেটআপ, ক্রু। আমি আগে এমন সেটআপে কাজ করিনি। আমাকে এই সিনেমায় এত সুন্দর লেগেছে যে এত সুন্দর বোধ হয় আমাকে আর কোথাও লাগেনি!

শুটিং তো হয়েছে রুবাইয়াত হোসেনের বাসায়?
হ্যাঁ। আমার সাত–আট দিনের শুটিং ছিল।
সিনেমায় আপনার মেকআপ করেছেন কে?
নাভিন আহমেদের গ্ল্যাম মেকওভার স্টুডিও অ্যান্ড স্যালন।
আপনি যখন জানতে পারলেন, সিনেমাটা ভেনিসে আমন্ত্রিত হয়েছে, আপনার প্রথম প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল? কীভাবে ভেনিসের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন?
আমি আসলে জানতাম, সিনেমাটা বিশ্বের প্রথম সারির চলচ্চিত্র উৎসবগুলো থেকে আমন্ত্রণ পাবে। আর আমি ভেনিসেই যেতে চেয়েছিলাম। অন্যদের মতো বলব না যে ‘আমি তো আকাশ থেকে পড়েছি। আমি তো ভাবতেও পারিনি। আমি খুবই সারপ্রাইজড।’
না, আমি জানতাম। একটা কাজ করলে বোঝা যায় যে এটার ক্যালিবার কী, কত দূর যাবে। তাই আমি মোটেও সারপ্রাইজড হইনি। প্রস্তুতি বলতে কেবল কাপড় গুছিয়েছি।

আপনি তো ভেনিসে কোনো প্রিন্টেড আউটফিট নিয়ে যাননি। সবই ক্ল্যাসিক সাদা, কালো, গাঢ় বাদামি, গোলাপি মনোক্রোম। সাদাটাও ঠিক সাদা নয়, একটু আইভরি ধরনের…আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে ওই স্ট্রিটওয়্যারটি, স্রেফ সাদা একটা রেট্রো প্যান্ট, সাদা ট্যাংক টপ–জাতীয় খুবই মিনিমাল একটা টপ আর সাদা ব্যাগ। সঙ্গে সানগ্লাস আর খুবই মিনিমাল জুয়েলারি।
ওটা কিন্তু আমি কোথাও থেকে নিইনি। আমার নিজের সংগ্রহ থেকে পরেছি। নিজেই স্টাইলিং করেছি। আমি এমনভাবে পোশাক বেছে নিয়েছি, যাতে লোকজন নিজে এসে আমার সঙ্গে কথা বলে। হয়েছেও তা–ই। অনেকেই জিজ্ঞেস করেছে, ‘তুমি কোন দেশ থেকে এসেছ? বা কোন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করো?’

আপনি যে ভেনিসে শুধু একটা গাঢ় বাদামিরঙা মিনিমাল টপ আর সিম্পল একটা মম জিনস, মাথায় একটা বেসবল ক্যাপ আর সানগ্লাস পরে নিজেকে ক্যারি করেছেন, প্রথম সারির একটা চলচ্চিত্র উৎসবে এত মিনিমাল কেউ ছিল কি না কে জানে! কিন্তু খুবই ভিনটেজ, অভিজাত লেগেছে।
ওই ক্রপ টপটা আমি জারা থেকে নিয়েছিলাম। জারা ওই টপের যতগুলো রঙে এনেছে, সবই আমার সংগ্রহে আছে। এটা আমার খুবই পছন্দের একটা টপ। আর এটা ছিল আমার এয়ারপোর্ট লুক।
এই পোশাকটার ওপরে একটা স্কাই ব্লু রঙের ডেনিমের জ্যাকেট পরেছিলাম। ভেনিসে নেমে গরম লাগছিল, তাই খুলে ফেলি আর ক্যাপটা পরি।

গোলাপি জামদানির ব্লাউজের পেছনে যে অলংকারটা, সেটার সঙ্গে আপনার নেকপিস, কানের দুল, হাতের বাজু, বালা, আংটি আর টিকলির সেটের সঙ্গে মিলে যায়! টিকলিটা এত কিউট! বটুয়াতেও একই মোটিফের অলংকার। যেখান থেকে গয়না নিয়েছেন, সেখান থেকে রেড কার্পেট লুকের জন্য ব্লাউজে আর ব্যাগে জুয়েলারি বসিয়ে কাস্টমাইজড করেছেন?
একদম। আমার ভেনিসের সব গয়না গ্লুড টুগেদার স্পনসর করেছে। ওদের গয়নাগুলো এত সুন্দর! আমি সাধারণত ওদের থেকেই নিই। খুবই মিনিমাল আর সনাতনী।
আপনার প্রিয় পোশাক কী?
জিনস টপ আর শাড়ি। আমার সুতি শাড়ি খুবই পছন্দ। নিজের যে কতগুলো আছে, তার কোনো হিসাব নেই। মায়েরগুলো নিয়েও পরতে থাকি। আর রংপুরে নানির কাছে গেলেও যেগুলো পছন্দ হয়, ভুলিয়ে–ভালিয়ে একটা–দুটো করে নিয়ে আসি। এই পৃথিবীতে আমার নানি আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ।
আপনি কীভাবে এত ফিট থাকেন? গড়পড়তা একটা দিনে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আপনি কী খান?
আমি সকালে ভাত বা রুটি খাই। এক কাপ ভাত অথবা দুটি রুটি। সঙ্গে সবজি, ডিম, মাংস। মাঝেমধ্যে ইংলিশ ব্রেকফাস্ট করি। দুইটা সসেজ আর ডিমসেদ্ধ। কর্নফ্লেক্সও খাই। পরোটা–মাংসও খাই।
দুপুরে আবার ভাত খাই। বিকেলে নাশতা করি। ফল খাই, বাদাম খাই। পিৎজা, পাস্তা, শর্মা, নুডলস—সব খাই।
সন্ধ্যায় কিছু একটা খাই। ঠিকঠাক ডিনার করি। ডিনারটা সাধারণত বাইরে করি। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে দেখা করতে, আড্ডা দিতে গিয়ে অথবা কাজের মিটিং সেরে নিই।শুটিং থাকলে সাধারণত ডিনার করি না।
আমি প্রচুর পোলাও আর খিচুড়ি খাই। সঙ্গে সফট ড্রিংকস। সফট ড্রিংকস ছাড়া তো খেতেই পারি না। ছাড়ার চেষ্টা করছি। পারি না। আর প্রচুর চিজ খাই। সকালের নাশতায় চিজ থাকেই।
তবে আমি ব্যালান্স করে খাই। অতিরিক্ত খাই না। আমার ডায়েট শুনলে কেউ বিশ্বাস করতে চায় না। কিন্তু এটাই সত্যি। বোধ হয় মেটাবলিজম ভালো।

আপনার রান্না কে করেন?
একজন কুক আছেন বাসায়।
বনানীতে একা থাকেন?
না। একা কীভাবে থাকব? একা থাকতে ভয় লাগে। আম্মু, আব্বু, ভাই আছে।
দুটি হরর সিনেমায় অভিনয় করেও একা থাকতে ভয়?
খুউউব। তবে আমি এবার একটা পেতনি চরিত্রে অভিনয় করতে চাই। আমি আসলে খানিকটা সময়ের জন্য পেতনি হতেও চাই। যারা যারা আমার সঙ্গে সুবিচার করেনি, ওদের একটু ভয় দেখাব। এই আরকি।
ভেনিসে গিয়ে কী কী খেলেন?
ইতালীয় কুজিন আমার সবচেয়ে পছন্দের। আমি একটু পরপর খেয়েছি। বাঁধন আপু (আজমেরী হক বাঁধন) অবাক হয়ে বলেও ফেলেছেন, ‘তুমি না একটু আগে খাইলা?’
আমার একটু পরপর ক্ষুধা লাগত। আমি খেতাম আর হাঁটতাম। হেঁটে হেঁটে ঘুরে বেড়াতাম। কিছুক্ষণ পরপর স্প্যাগেটি খেতাম। মাছ খেতাম। স্টেক, পিৎজা, সিফুড, পাস্তা—মানে কিছু বাদ নেই! খুবই ভালো একটা ট্রিপ ছিল।

এবার আপনার সবচেয়ে প্রশংসিত লুক নিয়ে কথা বলি। প্রাডার ককটেল পার্টিতে স্ট্র্যাপলেস করসেট টপ আর একটা মারমেইড স্কার্ট… পোশাকটা এত ‘ওয়েল ফিটেড’। কাদের করা?
জোয়ান অ্যাশের। তিনবার গিয়ে মাপ দেওয়া। একেবারে কাস্টমাইজড। প্রথমে একটা ডেমো বানিয়ে শরীরের ওপর বসিয়ে মাপ নিয়েছে। সেটা সেলাই করে একবার পরিয়েছে। তারপর সেটার ওপরে কাজ করা।
এরপর তৃতীয় দফায় আবার পরিয়ে চূড়ান্ত করা। এই ককটেল পার্টিতে যে কত মানুষ আমাকে বলেছে, আমি সুন্দর, স্মার্ট, আমার ইংরেজি খুবই ভালো…আমি অবাক হয়ে গেছি। দেশে তো কেউ আমাকে এভাবে বলে না।
ওখান থেকে আমি যে সম্মান, অ্যাপ্রিসিয়েশন পেয়েছি, এটা দেশে কখনোই পাই না, পাইনি। আমার মনে হয়েছে, আমি কি আসলেই এত সুন্দর, এত স্মার্ট, এত ভালো অভিনয় পারি?

আচ্ছা, আপনি সামিয়া খানের একটা সিল্কের নকশি স্টিচের স্কার্ট নিয়ে গিয়েছিলেন না? সেটা তো খুবই সুন্দর। পরেননি? ছবি দেখিনি…
হ্যাঁ, হ্যাঁ। ওটা ভেনিসে পরতে পারিনি। ভেনিস থেকে স্পেনে ঘুরতে গিয়েছিলাম। সেখানে জাদুঘরে গিয়ে পরেছিলাম।

আপনার ওয়ার্কআউট রুটিন বলুন।
(হাসতে হাসতে) আমি ওয়ার্কআউট করি না। তবে আমি প্রচুর হাঁটি। যোগব্যায়াম করি। মাঝেমধ্যে স্ট্রেচিং করি। আমি হাঁটতে খুবই ভালোবাসি। আগে শাহাবুদ্দিন পার্কে (রাজধানীর গুলশান–২–এ বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্ক) হাঁটতাম।
মাস্ক পরে, ক্যাপ পরেই হাঁটতাম। কিন্তু তবু মানুষ এখন চিনে ফেলে। তাই বসুন্ধরার দিকটায় গিয়ে হাঁটি। আর বেশির ভাগ সময় হাঁটি ঢাকার বাইরে গিয়ে। আউটডোর শুটিংয়ে বা দেশের বাইরে ঘুরতে গিয়ে।

আপনার পছন্দের ঘুরতে যাওয়ার জায়গা কোনটি?
এত দিন থাইল্যান্ড ছিল। এখন থেকে ভেনিস। আবার ঘুরতে যাব।
আচ্ছা, শেষ প্রশ্ন। আপনি চাইলে না-ও উত্তর দিতে পারেন। আপনার রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস কী?
একদম সিঙ্গেল। সিঙ্গেল, সিঙ্গেল! (হাসি)
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
পবিত্র মক্কা নগরীর দক্ষিণে হুথি বিদ্রোহীরা ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সৌদি আরব। তবে, ড্রোনটি ধ্বংস করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী। পবিত্র মক্কা ও মুসল্লিদের নিরাপত্তার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি। গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মক্কার দক্ষিণে ড্রোনটি শনাক্ত করে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী।সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, ড্রোনটি মক্কার নির্ধারিত সীমার আকাশসীমায় ঢোকার আগেই ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি বলেন, মক্কাকে নিশানা করে হুথিদের এটি দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা। এর আগে ২০১৭ সালে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনাকেও মক্কায় হামলার চেষ্টা বলে উল্লেখ করেছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। আরও পড়ুন সৌদি আরবের দুই এলাকায় জরুরি সতর্কতা তবে, মক্কাকে নিশানা করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুথিরা। গোষ্ঠীটির মুখপাত্র হাজেম আল-আসাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সৌদির দাবিটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, এর আগেও সৌদি আরব একই ধরনের অভিযোগ করেছিল। এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। সংস্থাটি ঘটনাটিকে গুরুতর হামলা হিসেবে বর্ণনা করে এর জন্য হুথিদের দায়ী করেছে। একই সঙ্গে, ৫৭টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের এ জোট সৌদি আরবের বিরুদ্ধে চলমান হামলারও নিন্দা জানিয়েছে। এদিকে, সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে হুথিদের হামলা বেড়ে যাওয়ার পর এই সতর্কতা জারি করা হয়। এতে আঞ্চলিক সংঘাতে সৌদি আরব আরও জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আরও পড়ুন পাইপলাইন বন্ধ / সৌদির তেল ফুরিয়ে যেতে পারে কয়েক দিনের মধ্যেই হুথিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এসব এলাকা বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন হয়। হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর লোহিত সাগরপথে তেল পরিবহন নিয়েও নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, গত কয়েক দিনে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে হুথিরা। এসব হামলার পর দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ানএমডিআরএইচ/
সাপ মানেই সেটি বিষধর- এমন ধারণা আমাদের অনেকের মধ্যে রয়েছে। বাড়ির উঠান, ঝোপঝাড়, কৃষিজমি কিংবা জলাশয়ের পাশে সাপের দেখা গেলে আতঙ্কিত হয় আমরা। অনেকে সাপটি চেনার আগেই সেটিকে মেরে ফেলে। অথচ বাংলাদেশে নিয়মিত দেখা যায় এমন সাপের একটি বড় অংশই বিষধর নয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ আহসান বলেছেন, বাংলাদেশে যেসব সাপ আছে, তার ৮০ শতাংশই বিষধর না। এইসব সাপের কোনোটি মানুষের বসতবাড়ির আশপাশে থাকে, কোনোটি কৃষিজমি বা জলাশয়ে, আবার কোনোটির দেখা মেলে গাছপালা ও ঝোপঝাড়ে। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. এম. মনিরুল এইচ. খানের ‘ফটোগ্রাফিক গাইড টু দ্য ওয়াইল্ডলাইফ অব বাংলাদেশ’ বইয়ে বাংলাদেশে মোট ১০৫ প্রজাতির সাপ আছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে বাংলাদেশে ২৪ প্রজাতির সাপের উপস্থিতি এখনো নিশ্চিত হয়নি। আইইউসিএন বাংলাদেশের ২০১৫ সালের রেড লিস্টে ৮১ প্রজাতি সাপের মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু প্রজাতি বিরল এবং নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ। আবার কিছু সাপ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। আইইউসিএন বাংলাদেশ এমন ১০টি নাম জানিয়েছে। চলুন, সেগুলোর নাম, কোথায় বসবাস এবং কোনগুলো বিষধর, জেনে নিই। ঢোঁড়াবাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এমন সাপের একটি ঢোঁড়া। এর বৈজ্ঞানিক নাম জেনোক্রোফিস পিসকেটর। ইংরেজিতে এটি চেকার্ড কিলব্যাক বা এশিয়াটিক ওয়াটার স্নেক নামে পরিচিত। আইইউসিএন বাংলাদেশের ২০১৫ সালের রেড লিস্টে এটিকে ‘লিস্ট কনসার্ন’ বা অনুন্যতম সংকটাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দেশের প্রায় সব অঞ্চলেই ঢোঁড়া পাওয়া যায়। পুকুর, খাল, হ্রদ, ধীরগতির নদী, জলাভূমি, মাছের খামার ও ধানক্ষেতের মতো পানির কাছাকাছি পরিবেশ এদের পছন্দ। গ্রাম কিংবা শহরের বসতবাড়ির পাশের পুকুর বা জলাশয়েও তাই প্রায়ই এই সাপের দেখা মেলে। ছোট ঢোঁড়া ব্যাঙের ডিম, ব্যাঙাচি, ছোট ব্যাঙ ও পোকামাকড় খায়। বয়স বাড়লে মাছ ও ব্যাঙের পাশাপাশি টিকটিকি, ইঁদুর এবং ছোট পাখিও শিকার করতে পারে। মানুষের আশপাশে প্রায়ই দেখা গেলেও ঢোঁড়া বিষধর নয়। তবে বিপদের মুখে পড়লে আত্মরক্ষার জন্য কামড় দিতে পারে। এদের শরীর বাদামী রঙের, তার ওপর কালো ও হলুদ রঙের ছোপছোপ দাগ থাকে। লাউডগালাউডগা বাংলাদেশের পরিচিত বৃক্ষচারী সাপগুলোর একটি। আইইউসিএনের রেড লিস্টে আহেটুলা নাসুটা এবং আহেটুলা প্রসিনা, দুই প্রজাতির স্থানীয় নাম হিসেবেই লাউডগা বা সুতানলি সাপের উল্লেখ রয়েছে। উভয় প্রজাতিই বাংলাদেশে অনুন্যতম সংকটাপন্ন হিসেবে তালিকাভুক্ত। লম্বা, সরু ও সবুজ দেহের কারণে গাছের ডালপালা ও পাতার সঙ্গে সহজেই মিশে থাকতে পারে লাউডগা। বন ও ঝোপঝাড়ের পাশাপাশি বাগান এবং মানুষের বসতবাড়ির আশপাশের গাছেও এর দেখা মেলে। দিনের বেলায় এরা বেশি সক্রিয় থাকে এবং বেশিরভাগ সময় গাছেই কাটায়। টিকটিকি, গিরগিটি, ব্যাঙ, ছোট পাখি ও অন্যান্য ছোট প্রাণী এদের খাবার। শিকার ধরার সময় গাছের ডালে প্রায় নিশ্চল হয়ে অপেক্ষা করতে পারে। লাউডগা বিষধর না হলেও ‘চট করে কামড় দিয়ে ফেলে,’ বলেন অধ্যাপক ফরিদ আহসান। এরা বেশ লম্বা ও চিকন হয়। পাশাপাশি, গাছে বেশি থাকলেও এরা নিচে নামে মাঝে মাঝে। কালনাগিনীউজ্জ্বল রঙের কারণে সহজেই নজর কাড়ে কালনাগিনী। এর ইংরেজি নাম অর্নেট ফ্লাইং স্নেক। বৈজ্ঞানিক নাম ক্রাইসোপেলিয়া অর্নাটা। নামের সঙ্গে ‘নাগিনী’ থাকলেও এটি গোখরা বা কেউটে গোত্রের সাপ নয়। কালনাগিনী মূলত বৃক্ষচারী। বনাঞ্চল, ঝোপঝাড়, বাগান এবং গাছপালাসমৃদ্ধ এলাকায় এদের দেখা যায়। গাছ বেয়ে ওঠায় অত্যন্ত দক্ষ এই সাপ এক গাছ থেকে অন্য গাছে যাওয়ার সময় শরীর চ্যাপ্টা করে বাতাসে ভেসে কিছুটা দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। এ কারণেই এর ইংরেজি নামে ‘ফ্লাইং স্নেক’ কথাটি এসেছে। টিকটিকি, গিরগিটি, ব্যাঙ, ছোট পাখি ও বাদুড়সহ ছোট প্রাণী এদের খাবার। সাধারণত দিনের বেলায় বেশি সক্রিয় থাকে। ধারণা প্রচলিত আছে, এই সাপ ছোবল দিলেই নিশ্চিত মৃত্যু। কিন্তু বাস্তবে এটি মানুষের জন্য সাধারণত বিপজ্জনক নয়। অধ্যাপক আহসান বলেন, ‘কালনাগিনী দেখতে খুব সুন্দর। এই সাপ খুবই হালকা বিষধর। তবে এখন পর্যন্ত ওই বিষে কোনো মানুষ মারা যায়নি।’ ঘরগিন্নীঘরগিন্নী নামের সাপটি মানুষের বসতবাড়ির আশপাশে দেখা যাওয়ার কারণেই সম্ভবত এমন নাম পেয়েছে। আইইউসিএনের তালিকায় লাইকোডন অলিকাস, লাইকোডন জারা, লাইকোডন জাউইসহ একাধিক সাপের স্থানীয় নামের সঙ্গে ঘরগিন্নী নামটি যুক্ত রয়েছে। ঘরের দেয়ালের ফাঁক, ইটের স্তূপ, পুরোনো ঘর, গাছের বাকল ও বসতবাড়ির আশপাশের আড়ালযুক্ত জায়গায় এদের দেখা যেতে পারে। এরা মূলত নিশাচর। দিনের বেলায় লুকিয়ে থাকে এবং রাত হলে খাবারের সন্ধানে বের হয়। টিকটিকি ও স্কিঙ্কজাতীয় ছোট টিকটিকি এদের অন্যতম প্রধান খাবার। মানুষের বাসা-বাড়িতে টিকটিকি বেশি থাকায় অনেকসময় খাবারের সন্ধানে ঘরেও ঢুকে পড়ে এরা। এছাড়া, ছোট ইঁদুর ও অন্যান্য ছোট প্রাণীও খেতে পারে। ঘরগিন্নী সাপ বিষধর নয়। তবে শরীরের রঙ ও নকশার কারণে অনেক সময় বিষধর সাপ ভেবে মানুষ একে মেরে ফেলে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ আহসান বলেন, এই সাপ চট্টগ্রাম অঞ্চলে খুবই পরিচিত। পাতি দুধরাজপাতি দুধরাজের বৈজ্ঞানিক নাম কোয়েলোগনাথাস হেলেনা। ইংরেজিতে এটি কমন ট্রিঙ্কেট স্নেক নামে পরিচিত। বাংলাদেশে পরিচিত নির্বিষ সাপগুলোর একটি এটি। ঝোপঝাড়, বনাঞ্চলের প্রান্ত, কৃষিজমি এবং মানুষের বসতবাড়ির আশপাশেও পাতি দুধরাজের দেখা পাওয়া যায়। মাটিতে চলাচল করলেও প্রয়োজনে গাছেও উঠতে পারে। বিভিন্ন ধরনের পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা থাকায় লোকালয়েও এর দেখা মেলে। ইঁদুর এই সাপের অন্যতম খাবার। এছাড়া, টিকটিকি, ব্যাঙ, ছোট পাখি ও অন্যান্য ছোট প্রাণীও খেতে পারে। ইঁদুর শিকার করায় কৃষিজমি ও বসতবাড়ির আশপাশে এদের দেখা যায়। নামের মধ্যে ‘দুধ’ থাকলেও এই সাপ দুধ খেতে আসে, এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বেত আঁচড়াবেত আঁচড়া বা কমন ব্রোঞ্জব্যাক ট্রি স্নেকের বৈজ্ঞানিক নাম ডেনড্রেলাফিস ট্রিস্টিস। ইংরেজিতে এর নাম দাউদিন'স ব্রোঞ্জব্যাক। এটি সরু ও লম্বাটে দেহের অত্যন্ত দ্রুতগতির একটি বৃক্ষচারী সাপ। তাই এটি স্থানীয়দের কাছে গেছো সাপ নামেও পরিচিত। বন, ঝোপঝাড়, বাগান ও গাছপালাসমৃদ্ধ এলাকায় এই সাপের দেখা পাওয়া যায়। মানুষের বসতবাড়ির আশপাশে পর্যাপ্ত গাছপালা থাকলেও সেখানে চলে আসতে পারে। মাটিতে নামলেও এদের জীবনের বড় একটি অংশ গাছ ও ঝোপঝাড়েই কাটে। এটি প্রধানত দিনের বেলা সক্রিয় থাকে। টিকটিকি, গিরগিটি, ব্যাঙ এবং ছোট পাখি এদের খাবারের মধ্যে রয়েছে। দ্রুত চলাফেরা এবং গাছে ওঠার দক্ষতা শিকার ধরতে সাহায্য করে। বেত আঁচড়া বিষধর নয়। মানুষকে এড়িয়ে চলতেই পছন্দ করে এবং সুযোগ পেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। দাঁড়াশবাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচিত বড় আকারের নির্বিষ সাপগুলোর একটি দাঁড়াশ। এর বৈজ্ঞানিক নাম পিটিয়াস মিউকোসা এবং ইংরেজিতে ইন্ডিয়ান র্যাট স্নেক বা ওরিয়েন্টাল র্যাট স্নেক নামে পরিচিত। কৃষিজমি, ঝোপঝাড়, গ্রামের বসতবাড়ি, পুকুরপাড় এবং মানুষের ব্যবহৃত বিভিন্ন জায়গায় দাঁড়াশের দেখা পাওয়া যায়। মাটিতে দ্রুত চলতে পারে, আবার প্রয়োজন হলে গাছে ওঠা ও পানিতে সাঁতার কাটতেও সক্ষম। ইঁদুর দাঁড়াশের অন্যতম প্রধান খাবার। এছাড়া ব্যাঙ, টিকটিকি, পাখি, ডিম ও অন্যান্য ছোট প্রাণীও খায়। ইঁদুর শিকার করার কারণে কৃষিজমিতে এই সাপের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আকারে বড় এবং দ্রুত চলার কারণে দাঁড়াশ দেখে অনেকে ভয় পেলেও এটি বিষধর নয়। বিপদে পড়লে আত্মরক্ষার জন্য কামড় দিতে পারে, তবে এতে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি নেই। অধ্যাপক ফরিদ আহসান বলেন, দাঁড়াশ সাপে কামড় দিলে অনেকসময় মাংসও ছিঁড়ে যেতে পারে। এই সাপে কামড় খাওয়া সাধারণ ঘটনা। মাইট্যামাইট্যা বা মেটে সাপ বলতে সাধারণত অলিভ কিলব্যাক ওয়াটার স্নেককে বোঝানো হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম অ্যাট্রেটিয়াম স্কিস্টোসাম। এটি মূলত পানির কাছাকাছি থাকা সাপ। পুকুর, জলাভূমি, ধানক্ষেত, খাল ও অন্যান্য স্বাদুপানির জলাশয়ের আশপাশে এদের দেখা যায়। জলজ পরিবেশের সঙ্গে ভালোভাবে মানিয়ে নেওয়ায় গ্রামীণ এলাকার পুকুর ও ধানক্ষেতেও মানুষের চোখে পড়ে। ব্যাঙ, ব্যাঙাচি, মাছ এবং জলাশয়ের আশপাশে থাকা বিভিন্ন ছোট প্রাণী এদের খাবার। মাটি ও পানি দুই জায়গাতেই চলাচল করতে পারে। মাইট্যা সাপ বিষধর নয়। জলাশয়ের কাছাকাছি বেশি দেখা যাওয়ায় অনেক সময় ঢোঁড়ার সঙ্গেও এটিকে গুলিয়ে ফেলা হয়।এই সাপ সহজে কামড়ায় না, বলেন অধ্যাপক আহসান। গোখরাগোখরা বাংলাদেশের বহুল পরিচিত অত্যন্ত বিষধর সাপ। বাংলাদেশে একাধিক প্রজাতির গোখরা পাওয়া যায়, যার মধ্যে মনোকল্ড কোবরা বা নাজা কাউথিয়া (পদ্ম গোখরা) এবং স্পেকট্যাকল্ড কোবরা বা নাজা নাজা (খৈয়া গোখরা) উল্লেখযোগ্য। কৃষিজমি, ঝোপঝাড়, গ্রামের বসতবাড়ির আশপাশ, ইঁদুরের গর্ত, পরিত্যক্ত জায়গা ও বিভিন্ন আড়ালযুক্ত স্থানে গোখরার দেখা পাওয়া যেতে পারে। মানুষের বসতির আশপাশে ইঁদুরের উপস্থিতি থাকায় খাবারের সন্ধানে গোখরাও সেখানে চলে আসতে পারে। অধ্যাপক ফরিদ আহসান বলেন, পদ্ম গোখরা ও খৈয়া গোখরা সারা বাংলাদেশেই আছে। পদ্ম গোখরা বেশি থাকে পানিযুক্ত এলাকার কাছাকাছি, আর খৈয়া গোখরা থাকে ধানক্ষেতে। তবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে পদ্ম গোখরা বেশি, রাজশাহীতে আবার খৈয়া গোখরা বেশি। ইঁদুর, ব্যাঙ, টিকটিকি এবং অন্যান্য সাপ এদের খাবারের মধ্যে রয়েছে। বিপদের মুখে পড়লে গোখরা শরীরের সামনের অংশ উঁচু করে ফণা মেলে, যা এর সবচেয়ে পরিচিত আত্মরক্ষামূলক আচরণ। গোখরার বিষ স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলতে পারে এবং দংশনের পর দ্রুত চিকিৎসা না হলে পরিস্থিতি গুরুতর হতে পারে। তাই, গোখরা দেখলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি। অধ্যাপক আহসান বলেন, কোবরা ভালোভাবে কামড় দিলে আধ ঘণ্টার মাঝেই লক্ষণ দেখা যায়। কাল কেউটেকাল কেউটে বাংলাদেশের পরিচিত বিষধর সাপগুলোর একটি। বাংলাদেশে যে কয়টি সাপের ছোবলে মানুষের মৃত্যু সবচেয়ে বেশি হয়, এটি তার অন্যতম। বাংলাদেশে বাঙ্গারাস গণের একাধিক প্রজাতির কেউটে রয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে 'কাল কেউটে' বা 'কালাচ' নামটিও একাধিক কাছাকাছি প্রজাতির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। অধ্যাপক ফরিদ আহসান বলেন, গোখরার চেয়ে বেশি বিষধর হলো এই কালাচ সাপ। কেউটে মূলত নিশাচর। দিনের বেলায় গর্ত, ইট-কাঠের স্তূপ, মাটির ফাটল কিংবা অন্য কোনো অন্ধকার ও আড়ালযুক্ত জায়গায় লুকিয়ে থাকে। রাত হলে খাবারের সন্ধানে বের হয়। মানুষের বসতবাড়ির কাছেও এদের দেখা যেতে পারে। অন্যান্য সাপ এদের খাবারের বড় অংশ। পাশাপাশি, টিকটিকি, ব্যাঙ বা ছোট প্রাণীও খেতে পারে। রাতের বেলা সক্রিয় হওয়ায় অন্ধকারে মানুষের সঙ্গে হঠাৎ মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অধ্যাপক আহসান আরও বলেন, কেউটে চুপচাপ থাকে এবং ফস করে কামড় দেয়। বোঝাও যায় না। তিন থেকে চার ঘণ্টা পরে এর বিষের প্রভাব শুরু হয়। তার আগে হয় না। কাল কেউটের বিষ স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলে এবং গুরুতর বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে। দংশনের শুরুতে ব্যথা বা ফোলা তুলনামূলক কম হলেও পরে গুরুতর উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এই সাপের গায়ের রঙ সাদা কালো এবং এদের শিরদাঁড়া তুলনামূলত উঁচু।জেএইচ
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্ট। সবে ভোরের সূর্য উঁকি দিয়েছে পুব দিগন্তে। এত ভোরেও সৈকতে যে দুই-একজন পর্যটক এসেছেন, তাঁরা কৌতূহল নিয়ে দেখেন, বালিয়াড়ি দিয়ে সুইমিং স্যুট পরে সার্ফিং বোর্ড বগলে নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন দুই সার্ফার। পানিতে সার্ফবোর্ড ভাসিয়ে জলক্রীড়ায় মেতে ওঠা দুই সার্ফারের কসরত দেখতে অল্প সময়ে ভিড় জমে ওঠে ভোরের সৈকতে। লাবণী পয়েন্ট সৈকতের পরিচিত দৃশ্য হয়ে উঠেছে সার্ফার ফাতেমা আক্তার ( ১৬) ও মো. মান্নানের (২২) এমন নিবিড় অনুশীলন। সার্ফিং গুরু ও কোচ রাশেদ আলমের তত্ত্বাবধানে নিজেদের প্রস্তুত করছেন তাঁরা। স্বপ্ন বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করা। এই দুই সার্ফার প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন এশিয়ার সর্ববৃহৎ ক্রীড়াযজ্ঞ এশিয়ান গেমসে। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ৪ অক্টোবর জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠেয় গেমসে অংশ নিয়ে ইতিহাস রচনা করতে চলেছেন এই দুই সার্ফার। সব প্রতিকূলতা, বাজেট-স্বল্পতা, সামাজিক বাধা এবং অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের পরও ফাতেমা ও মান্নানের চোখেমুখে আশার আলো। কেমন করবেন তাঁরা? জানতে চাইলে সাবেক সার্ফার ও কোচ রাশেদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সীমাবদ্ধতার পাহাড় ডিঙিয়েও মান্নান-ফাতেমা বিশ্বমঞ্চে চমক দেখাতে পারবেন, দুজনের সেই প্রতিভা আছে। প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে কক্সবাজারের সৈকতে যে ঘাম তাঁরা ঝরাচ্ছেন, তার সুফল যেন জাপানের মাটিতেও দেখা মেলে—এটাই এখন দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের একমাত্র প্রত্যাশা।’অনেক সমালোচনা ও কটূক্তি সয়ে সার্ফিং করছে ফাতেমা আক্তারকটূক্তির বিরুদ্ধে ফাতেমার লড়াইকক্সবাজারের মহেশখালীর সাধারণ এক পরিবার থেকে উঠে এসেছেন ফাতেমা আক্তার। তিন বোনের মধ্যে দুই বোনের আগেই বিয়ে হয়ে গেছে। পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্য ফাতেমা কক্সবাজার শহরের ঘোনাপাড়ায় মায়ের সঙ্গে থেকে লেখাপড়ার পাশাপাশি সার্ফিং রপ্ত করছেন। তিনি এখন দশম শ্রেণির ছাত্রী। অভাবের তাড়না আর সামাজিক নানা বেড়াজাল ডিঙিয়ে ফাতেমার এই অবস্থানে পৌঁছানো রূপকথাকেও হার মানায়।একবার কটূক্তির কারণে সাত দিন সার্ফিং বন্ধ রাখতে হয় বলে ফাতেমা জানান। কোচ রাশেদ আলম তখন তাঁর মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁকে বোঝান। ফাতেমাও নিয়মিত মাকে বোঝাতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত মায়ের সম্মতি মেলে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রেখে ফাতেমা প্রমাণ করতে চান, মেয়েরাও সব পারে।সার্ফিং শুরু করার পর থেকেই নানা কটূক্তি সইতে হয়েছে তাঁকে। ফাতেমা বলেন, ‘আমি যখন প্রতিদিন সার্ফিং করতে আসতাম, তখন মানুষ অনেক কিছু বলত, খারাপ চোখে তাকিয়ে থাকত। এমনকি আমার পরিবারকেও নানা কথা শুনতে হয়েছে। বলত, মেয়ের বিয়ে হবে না।’একবার এমন কটূক্তির কারণে সাত দিন সার্ফিং বন্ধ রাখতে হয় বলে ফাতেমা জানান। কোচ রাশেদ আলম তখন তাঁর মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁকে বোঝান। ফাতেমাও নিয়মিত মাকে বোঝাতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত মায়ের সম্মতি মেলে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রেখে ফাতেমা প্রমাণ করতে চান, মেয়েরাও সব পারে।সার্ফার মান্নানে বাড়ি শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন বাহার ছড়ায়। চতুর্থ শ্রেণি পড়া মান্নান মাকে হারিয়েছেন শৈশবে। বাবা ভাঙারির জিনিসপত্র বিক্রি করেন। সংসারের দায়িত্ব অনেকটাই মান্নানের কাঁধে চেপেছে এখন। তাই দিনে সার্ফিং অনুশীলনের পর রাতে সৈকতে ঝিনুকের মালা বিক্রি করেন তিনি। মান্নান বলেন, ‘অনেক বাধা ছিল, এখনো আছে। কিন্তু এসব বাধা এড়িয়ে আমি সার্ফিংকে আঁকড়ে ধরে আছি, সার্ফিং করে যাচ্ছি, যার কারণে আজ এশিয়ান গেমসে নির্বাচিত হতে পেরেছি।’ফাতেমা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার স্বপ্ন ছিল দেশের বাইরে গিয়ে সার্ফিং প্রতিযোগিতায় অংশ নেব। সেই স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। প্রত্যাশা, জাপানে গিয়ে বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু করব।’দিনে সার্ফিং রাতে ঝিনুকের মালা বিক্রিসার্ফার মান্নানে বাড়ি শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন বাহার ছড়ায়। চতুর্থ শ্রেণি পড়া মান্নান মাকে হারিয়েছেন শৈশবে। বাবা ভাঙারির জিনিসপত্র বিক্রি করেন। সংসারের দায়িত্ব অনেকটাই মান্নানের কাঁধে চেপেছে এখন। তাই দিনে সার্ফিং অনুশীলনের পর রাতে সৈকতে ঝিনুকের মালা বিক্রি করেন তিনি। মান্নান বলেন, ‘অনেক বাধা ছিল, এখনো আছে। কিন্তু এসব বাধা এড়িয়ে আমি সার্ফিংকে আঁকড়ে ধরে আছি, সার্ফিং করে যাচ্ছি। যার কারণে আজ এশিয়ান গেমসে নির্বাচিত হতে পেরেছি।’দারিদ্র্য জয় করে সার্ফিং করছেন মান্নানপ্রস্তুতি কতটুকুকক্সবাজার সৈকত প্রাকৃতিকভাবে সার্ফিংয়ের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হলেও এখানকার ঢেউয়ের ধরন এবং জাপানের আইচি-নাগোয়ার সমুদ্রের পরিবেশ সম্পূর্ণ আলাদা। জাপানে যে ধরনের শক্তিশালী ও টেকনিক্যাল ঢেউয়ের মুখোমুখি হতে হবে, তার জন্য আগে থেকেই আন্তর্জাতিক মানের ট্রেনিং ক্যাম্পে অভ্যস্ত হওয়া জরুরি বলে জানান সার্ফাররা। সার্ফার মান্নান বলেন, ‘কক্সবাজারের ঢেউ আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে ঠিকই, কিন্তু বিদেশের ওই চ্যালেঞ্জিং ঢেউয়ের সঙ্গে যদি আমরা আগে পরিচিত না হই, তবে প্রতিযোগিতায় গিয়ে তো টেকাই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে!’মান্নান ও ফাতেমার স্বপ্নযাত্রার পেছনে আছেন কোচ রাশেদ আলম। বছরের পর বছর সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে যিনি তৈরি করছেন দেশের সম্ভাবনাময় সার্ফারদের। রাশেদ আলমেরও অভিযোগ-নিয়মিত প্রশিক্ষণ কিংবা আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতির জন্য নেই পর্যাপ্ত সহায়তা।কোচ রাশেদ আলম আক্ষেপের বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া বা বালিতে গিয়ে অনুশীলন করতে। কারণ, জাপানে গিয়ে যে ধরনের ঢেউয়ের মুখোমুখি হতে হবে, সেগুলোর সঙ্গে আগে থেকে পরিচিত হলে আমাদের সার্ফারদের পারফরম্যান্স আরও ভালো হতে পারত।’কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে কোচ রাশেদ আলমের সঙ্গে সার্ফার মান্নান ও ফাতেমা। সম্প্রতি তোলাবাজেট-স্বল্পতার কারণে এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ দলকেও সাজাতে হয়েছে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত পরিসরে। বাংলাদেশ সার্ফিং অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ ও সার্ফিং প্রশিক্ষক সাইফুল্লাহ সিফাত জানান, বর্তমান সরকারের বাজেট-স্বল্পতা ও সার্বিক যৌক্তিক কারণে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ২১ সেপ্টেম্বর দুই অ্যাথলেটের সঙ্গে মাত্র একজন অফিশিয়াল জাপানে যাবেন। সেই একজন মানুষই একই সঙ্গে কোচ, ম্যানেজার ও কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। আলাদা করে কোচ বা টেকনিক্যাল টিম পাঠানোর সুযোগ না থাকায় কিছুটা হলেও দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়েছে দলটিকে।ফাতেমা বলেন, ‘কোচ ছাড়া এত বড় প্রতিযোগিতায় গিয়ে আমরা কীভাবে নিজেদের সেরাটা দেব? পানিতে নামার পর আমাদের ভুলগুলো ধরে দেওয়ার জন্য কোচের উপস্থিতি অপরিহার্য ছিল।’২০২৬ সালের জাতীয় সার্ফিং প্রতিযোগিতায় পুরুষ ও নারী বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়ে মান্নান ও ফাতেমা এশিয়ান গেমসের জন্য নির্বাচিত হন। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ থেকে মোট ২৩টি ডিসিপ্লিন অংশগ্রহণ করছে। বর্তমানে সার্ফিং দলের প্রশিক্ষণ চলছে কক্সবাজার সৈকতে। সমুদ্রের ঢেউ ও আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেই চলছে অনুশীলন।