জাতীয়

মারিব-তাইজে হুতিদের অগ্রযাত্রা, ইরান যুদ্ধে নতুন চাপের মুখে সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
মারিব-তাইজে হুতিদের অগ্রযাত্রা, ইরান যুদ্ধে নতুন চাপের মুখে সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র
মারিব-তাইজে হুতিদের অগ্রযাত্রা, ইরান যুদ্ধে নতুন চাপের মুখে সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র

ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে দেশটির সরকারি বাহিনীর লড়াই তীব্রতর হচ্ছে। ইরান-সমর্থিত হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে দেশটির সরকারি বাহিনী তাদের ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে। এদিকে, এক সপ্তাহ ধরে হুতি বিদ্রোহীরা সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোয় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে চলেছে।

হুতি বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে এখন লড়াইয়ের মূল কেন্দ্র হয়ে উঠছে মারিব অঞ্চল। এটি ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে সরকারি বাহিনীর সর্বশেষ শক্ত ঘাঁটি। একই সঙ্গে এটি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাসকেন্দ্র।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, হুতিরা যদি মারিব অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, তবে লড়াইয়ের গতিপথ চূড়ান্তভাবে তাদের পক্ষে ঘুরে যেতে পারে। ঘুরে যেতে পারে ইরান যুদ্ধের মোড়ও।

দুপক্ষের এ সংঘাতের মধ্যে আটকা পড়েছে কয়েক হাজার বেসামরিক লোক। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে ইয়েমেনে ৮৫ হাজারের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজারের বেশি মানুষ জিবুতির উত্তর উপকূলে আশ্রয় নিয়েছে।

ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের তাইজেও তুমুল লড়াই চলছে। গত সপ্তাহে হুতিরা তাইজের পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকার দখল নেয়। সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট বাহিনী সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে এখন পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।

গতকাল সোমবার ইয়েমেনের সেনাবাহিনী একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেছে, ভিডিওতে যা দেখা যাচ্ছে, তা হুতিদের অবস্থান ও যানবাহনে বোমা হামলার দৃশ্য।

দুপক্ষের এ সংঘাতে আটকা পড়েছে কয়েক হাজার বেসামরিক লোক। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে ইয়েমেনে ৮৫ হাজারের বেশি লোক ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজারের বেশি মানুষ জিবুতির উত্তর উপকূলে আশ্রয় নিয়েছে।

কেন মারিব এত গুরুত্বপূর্ণ

মারিব উত্তর ইয়েমেনে হুতিবিরোধী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা সর্বশেষ শক্ত ঘাঁটি। মারিবে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ বাড়লে তা সেখানে সরকারি বাহিনীর উপস্থিতিকে হুমকির মুখে ফেলবে এবং দেশটির উত্তরাঞ্চলে সরকারের প্রভাব কমিয়ে দেবে।

তবে এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দেশটির সবচেয়ে বড় গ্যাস ও তেলক্ষেত্রগুলো মারিব অঞ্চলেই অবস্থিত। ফলে যে পক্ষ এর নিয়ন্ত্রণ নেবে, তারা ইয়েমেনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোগুলোর একাংশ এবং সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব আয়ের একটি বড় উৎস নিজেদের নিয়ন্ত্রণে পাবে।

ইয়েমেনের রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাদ্দাম আল-হুরাইবি আল-জাজিরাকে বলেন, হুতিরা এক দশকের বেশি সময় ধরে মারিবের তেল ও গ্যাসসম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে লড়াই করে যাচ্ছে। মারিবে বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে না পড়লে এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য তারা লড়াই চালিয়েই যাবে।

হুতিরা যদি মারিবের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, তবে ভবিষ্যতে কোনো মধ্যস্থতার উদ্যোগে নিজেদের পক্ষে সুবিধাজনক শর্ত আদায়ে আলোচনায় বড় ধরনের প্রভাব খাটানোর ক্ষমতা গোষ্ঠীটির হাতে চলে আসতে পারে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘নিউ আমেরিকা’র ‘ফিউচার সিকিউরিটি প্রোগ্রাম’-এর ফেলো অ্যাডাম ব্যারন বলেন, মারিব হুতিদের দখলে চলে গেলে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির ক্ষেত্রে তা হবে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মোড়’।

হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে একটি সাঁজোয়া যানে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সদস্যরা। ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তবে এ লড়াই কঠিন হবে বলেই ব্যারন মনে করেন। তিনি বলেন, সরকারি বাহিনী এ যুদ্ধকে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই হিসেবে দেখবে। মারিবের দখল হারানো ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত সেনাদের জন্য হবে ‘চরম পরাজয়’।

ভৌগোলিক দিক থেকেও মারিব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, উত্তর ইয়েমেন থেকে দক্ষিণের শাবওয়া প্রশাসনিক অঞ্চল ও আল-মাহরা প্রদেশে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ সড়ক মারিবের মধ্য দিয়ে গেছে। শাবওয়ার একদিকে এডেন উপসাগর ও আরব সাগরের উপকূল।

ইয়েমেনি লেখক ও মানবাধিকারকর্মী নাবিল হেতারি বলেন, মারিবে জয় হুতিদের জন্য নিজেদের পক্ষে প্রচারের শক্তিশালী হাতিয়ারও হবে। এর মাধ্যমে তারা অনেক ইয়েমেনিকে বোঝাতে পারবে যে সামরিকভাবে গোষ্ঠীটি একের পর এক সাফল্য পাচ্ছে এবং আরও বড় বিজয় অর্জনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।

তাইজের কৌশলগত গুরুত্ব মূলত এর ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে। অঞ্চলটি হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা উত্তরাঞ্চল, সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন দক্ষিণাঞ্চল ও লোহিত সাগর উপকূলের মধ্যে একটি সেতুর মতো। ফলে যে পক্ষ তাইজের নিয়ন্ত্রণ নেয়, তারা দেশের অভ্যন্তর থেকে দক্ষিণের বন্দরনগরী এডেনে অস্ত্রশস্ত্র ও রসদ সরবরাহে কৌশলগত সুবিধা পায়।

এখানে মানবিক দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৪ সালে হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করার পর সেখান থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষেরা বছরের পর বছর মারিব শহরে আশ্রয় নিয়ে আছেন। আইওএমের ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনে প্রায় ২৮ লাখ মানুষ দেশের ভেতরই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তাঁদের অর্ধেকের বেশি (৫৮ শতাংশ) মারিবে অবস্থান করছেন।

নাবিল হেতারি বলেন, এ যুদ্ধের ফলাফল কী হতে পারে, তা নির্ধারণে মারিব সম্ভবত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এমন সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে লড়াইয়ে জড়িত সব পক্ষই মারিবের দিকে নজর দিচ্ছে।

তাইজ কেন গুরুত্বপূর্ণ

তাইজের কৌশলগত গুরুত্ব মূলত এর ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে। অঞ্চলটি হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা উত্তরাঞ্চল, সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন দক্ষিণাঞ্চল এবং লোহিত সাগর উপকূলের মধ্যে একটি সেতুর মতো। ফলে যে পক্ষ তাইজের নিয়ন্ত্রণ নেয়, তারা দেশের অভ্যন্তর থেকে দক্ষিণের বন্দরনগরী এডেনে অস্ত্রশস্ত্র ও রসদ সরবরাহের ক্ষেত্রে কৌশলগত সুবিধা পায়।

তাইজের রাজনৈতিক গুরুত্বও যথেষ্ট। এটি ইয়েমেনের অন্যতম বড় জনবসতিপূর্ণ অঞ্চল। ২০১৪ সালে হুতিরা সানা দখল করার পর তাইজ নগরী তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল।

এরপর বছরের পর বছর ধরে এখানে লড়াই হয়েছে এবং শহরটিতে প্রবেশের ক্ষেত্রেও নানা বিধিনিষেধ ছিল। তাই তাইজে হুতিদের বড় ধরনের অগ্রগতি হলে এর প্রতীকী গুরুত্ব অনেক বেশি হবে।

তাইজের পশ্চিম উপকূল লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়েমেনের বন্দরনগরী মোখা পর্যন্ত বিস্তৃত। ঐতিহাসিক এ শহর গত সপ্তাহে হুতিরা দখল করে নেয়। উপকূলটি আরও বিস্তৃত হয়ে বাব আল-মানদেব প্রণালি পর্যন্ত চলে গেছে। সংকীর্ণ এ জলপথ লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

হেলিকপ্টার নিয়ে লোহিত সাগরে একটি জাহাজের পিছু নিয়েছে হুতিরা

বাব আল-মানদেব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। ২০ কিলোমিটার (১২ মাইল) প্রশস্ত এ জলপথ ইয়েমেন ও জিবুতির মধ্যে অবস্থিত এবং ইউরোপকে এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করেছে। লড়াই আবার শুরু হওয়ার আগে নৌপথে বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ এ পথ দিয়ে পরিচালিত হতো।

সাম্প্রতিক দিনগুলোয় হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বেশির ভাগ অংশ দখল করে নিয়েছে। এর মধ্যে ময়ুন বা পেরিম দ্বীপও আছে। দ্বীপটি বাব আল-মানদেব প্রণালির ভেতরে অবস্থিত। গত শুক্রবার ময়ুন দ্বীপ দখলের পর হুতি বিদ্রোহীরা বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়।

ইয়েমেনি বিশ্লেষক ও লেখক ফুয়াদ মুসেদ বলেন, হুতিরা এ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের কাছাকাছি নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চায়, যাতে সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল হুমকির মুখে ফেলা যায়। এর মাধ্যমে তারা হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মানদেবকে ইরানের প্রভাবাধীন রাখতে চায় এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে এগুলো ব্যবহার করতে চায়। এটি এমন একটি কৌশল, যা তেহরান বছরের পর বছর ধরে অনুসরণ করে আসছে।

হুতিদের বাব আল-মানদেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া ও অন্যান্য এলাকার দিকে অগ্রযাত্রা সৌদি আরবের জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। কারণ, হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল রপ্তানির জন্য দেশটি লোহিত সাগরের নৌপথের ওপর নির্ভর করে আসছে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
অবসর ঘোষণার পর বিদায়ী ম্যাচে ডাক পেলেন মেসি, কবে কার বিপক্ষে খেলবেন?
অবসর ঘোষণার পর বিদায়ী ম্যাচে ডাক পেলেন মেসি, কবে কার বিপক্ষে খেলবেন?

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে জায়গা পেয়েছেন লিওনেল মেসি। অক্টোবরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে অনুষ্ঠেয় প্রীতি ম্যাচগুলোর জন্য আর্জেন্টিনার স্কোয়াডে রাখা হয়েছে দলটির অধিনায়ককে। দেশের জার্সিতে মেসির আনুষ্ঠানিক বিদায়ী ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনাও জানিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় তারকা ও অধিনায়ককে তার প্রাপ্য বিদায় দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাপিয়া বলেন, ‘বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়, আমাদের দলের আইকন ও অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে ৬ অক্টোবর আর্জেন্টিনায় একটি বিদায়ী ম্যাচ খেলার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি।’ অক্টোবরে আর্জেন্টিনা ঘরের মাঠে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। ৩০ সেপ্টেম্বর কর্দোবায় বলিভিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এরপর ৩ অক্টোবর বুয়েনস আইরেসে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে খেলবে তারা। একই ভেন্যুতে ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচে মেসির মাঠে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসিকে শেষবারের মতো মাঠে দেখার অপেক্ষায় থাকতে পারেন সমর্থকরা। তবে ম্যাচটিই তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত বিদায়ী উপস্থিতি হবে কি না, সেটি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এদিকে দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞার কারণে অক্টোবরের ম্যাচগুলোতে খেলতে পারবেন না লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নাহুয়েল মোলিনা ও থিয়াগো আলমাদা। বিশ্বকাপ ফাইনালের পর স্পেনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় তাদের ওপর দীর্ঘ মেয়াদের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এমএমআর

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
সৌদি আরব ভ্রমণে সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র

সৌদি আরব ভ্রমণে সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ, দেখুন আবেদনের যোগ্যতা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ, দেখুন আবেদনের যোগ্যতা

‘হুঙ্কার’ এক কিশোরীর দ্রুত বড় হয়ে ওঠার গল্পও

‘হুঙ্কার’ এক কিশোরীর দ্রুত বড় হয়ে ওঠার গল্পও

ভুলে চ্যাটজিপিটিতে চ্যাট ডিলিট হলে, ফিরে পাবেন যেভাবে
ভুলে চ্যাটজিপিটিতে চ্যাট ডিলিট হলে, ফিরে পাবেন যেভাবে

চ্যাটজিপিটি এখন অনেকেরই দৈনন্দিন কাজের সঙ্গী। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, লেখালেখি, কাজের পরিকল্পনা কিংবা প্রয়োজনীয় নোট অনেক কিছুই চ্যাট হিস্ট্রিতে রেখে দেন ব্যবহারকারীরা। কিন্তু অসাবধানতায় গুরুত্বপূর্ণ কোনো কথোপকথন ডিলিট হয়ে গেলে বিপদে পড়তে হয়। তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, মুছে যাওয়া সেই চ্যাট কি আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব? ওপেনএআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটিতে কোনো চ্যাট একবার ডিলিট করা হলে সেটি আর পুনরুদ্ধার করা যায় না। এমনকি ভুল করে মুছে ফেলা চ্যাটও চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই প্রয়োজনীয় কথোপকথন সরানোর আগে ডিলিট এবং আর্কাইভের পার্থক্য জানা জরুরি। তবে চ্যাট হিস্ট্রিতে কোনো কথোপকথন খুঁজে না পেলেই ধরে নেওয়া ঠিক নয় যে সেটি ডিলিট হয়ে গেছে। চ্যাটটি আর্কাইভ করা থাকতে পারে। আবার অন্য অ্যাকাউন্ট বা ওয়ার্কস্পেসে লগ ইন থাকলেও পুরোনো চ্যাট দেখা যাবে না। তাই চ্যাট হারিয়ে গেছে মনে হলে কয়েকটি বিষয় আগে যাচাই করে নেওয়া ভালো। আরও পড়ুন চ্যাটজিপিটি জেনে যাচ্ছে আপনার নাড়ি-নক্ষত্র, সাবধান হবেন যেভাবে চ্যাটজিপিটিতে চ্যাট ডিলিট করবেন কীভাবে? অপ্রয়োজনীয় কথোপকথন চ্যাট হিস্ট্রি থেকে সরাতে ডিলিট অপশন ব্যবহার করা যায়। এর জন্য প্রথমে চ্যাটজিপিটি খুলে সাইডবারে চ্যাট হিস্ট্রিতে যেতে হবে। এরপর যে কথোপকথনটি মুছতে চান, সেটির পাশে থাকা তিন ডটের মেনুতে ক্লিক করুন। সেখান থেকে ডিলিট নির্বাচন করে চ্যাটটি মুছে ফেলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এরপর কথোপকথনটি হিস্ট্রি থেকে আর দেখা যাবে না। ডিলিট করা চ্যাট কি আবার উদ্ধার করা যায়? সংক্ষেপে উত্তর না। ওপেনএআই জানিয়েছে, ডিলিট করা চ্যাটজিপিটি চ্যাট ইন্টারফেস, এপিআই কিংবা সাপোর্টের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা যায় না। অর্থাৎ ভুল করে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন মুছে ফেললেও সেটি ফিরিয়ে আনার সুযোগ নেই। একইভাবে সেটিংসের ডাটা কন্ট্রোলস থেকে ডিলিট অল চ্যাটস ব্যবহার করে সব কথোপকথন মুছে ফেললে সেগুলোও পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। তাই ডিলিট বেছে নেওয়ার আগে চ্যাটটি সত্যিই আর প্রয়োজন নেই কি না, তা নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। চ্যাট হঠাৎ হিস্ট্রি থেকে উধাও হলে কী করবেন? কোনও চ্যাট খুঁজে না পাওয়া মানেই সেটি মুছে ফেলা হয়েছে এমনটা নয়। প্রথমে নিজের চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্টটি পরীক্ষা করুন। অনেক সময় অন্য অ্যাকাউন্টে লগ ইন থাকার কারণে আগের কথোপকথন দেখা যায় না। এ ছাড়া আপনি সঠিক ওয়ার্কস্পেস ব্যবহার করছেন কি না, সেটিও দেখে নিন। চ্যাটটি আর্কাইভ করা হয়েছে কি না সেটাও পরীক্ষা করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে চ্যাটজিপিটি পেজ রিফ্রেশ করে বা অ্যাকাউন্ট থেকে লগ আউট করে আবার লগ ইন করতে পারেন। এরপরও চ্যাট না পাওয়া গেলে ওপেনএআইয়ের সার্চস স্ট্যাটাস পেজে গিয়ে পরিষেবায় সাময়িক কোনও সমস্যা চলছে কি না দেখে নিতে পারেন। আর্কাইভ করা চ্যাট কোথায় পাবেন? কোনো কথোপকথন ভবিষ্যতে প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু আপাতত চ্যাট হিস্ট্রিতে রাখতে না চাইলে ডিলিটের বদলে আর্কাইভ করা নিরাপদ। আর্কাইভ করলে চ্যাটটি অ্যাকাউন্ট থেকে মুছে যায় না; শুধু সাধারণ হিস্ট্রি থেকে সরিয়ে রাখা হয়। আরও পড়ুন যে ১০ কাজ চ্যাটজিপিটি দিয়ে করতে পারবেন আর্কাইভ করা চ্যাট দেখতে চ্যাটজিপিটির সেটিংসে যান। এরপর ডাটা কন্ট্রোলস বিভাগে গিয়ে আর্কাইভ চ্যাটসের পাশে থাকা ম্যানেজ অপশন নির্বাচন করুন। সেখানে আর্কাইভ করা কথোপকথন দেখতে পারবেন। প্রয়োজন হলে আনআর্কাইভ করে সেটিকে আবার সাধারণ চ্যাট হিস্ট্রিতে ফিরিয়ে আনা যায়। চ্যাটজিপিটিতে চ্যাট আর্কাইভ করবেন কী ভাবে? চ্যাট আর্কাইভ করার প্রক্রিয়াও বেশ সহজ। সাইডবারে যে কথোপকথনটি রাখতে চান, সেটি খুঁজে নিন। এরপর চ্যাটের পাশে থাকা তিন ডটের মেনুতে ক্লিক করে আর্কাইভ নির্বাচন করুন। আর্কাইভ করার পর চ্যাটটি মুছে যাবে না এবং সাধারণত আলাদা করে ডিলিটের মতো নিশ্চিতকরণও প্রয়োজন হয় না। পরে প্রয়োজন হলে আর্কাইভড চ্যাটস থেকে সেটি আবার ফিরিয়ে নেওয়া যাবে। কেএসকে

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
শহুরে ডেঙ্গুর থাবায় আক্রান্ত প্রত্যন্ত উত্তরাঞ্চল

শহুরে ডেঙ্গুর থাবায় আক্রান্ত প্রত্যন্ত উত্তরাঞ্চল

কত ক্যারেটের সোনার অলংকার কেনা লাভজনক

কত ক্যারেটের সোনার অলংকার কেনা লাভজনক

শব্দ কীভাবে ভাষা ও জগৎকে নির্মাণ করে

শব্দ কীভাবে ভাষা ও জগৎকে নির্মাণ করে

বেধড়ক পিটুনিতে ইংল্যান্ড দলে পিটারসেনকে বরণ করলেন ব্রুক
বেধড়ক পিটুনিতে ইংল্যান্ড দলে পিটারসেনকে বরণ করলেন ব্রুক

৪৯ বলে ১১৪*। সেঞ্চুরিটা এসেছে ৪২ বলে—ইংল্যান্ডের হয়ে টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে দ্বিতীয় দ্রুততম। গতকাল রাতে ব্রুকের দুর্দান্ত এ সেঞ্চুরিতে সাউদাম্পটনে তিন ম্যাচ টি-টুয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১১৯ রানে হারায় ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ড যেখানে করেছে ২৫৪ রান, শ্রীলঙ্কা সেই উইকেটেই গুটিয়ে গেছে মাত্র ১৩৫ রানে।দুর্দান্ত এ ইনিংসে ইংলিশ কিংবদন্তি কেভিন পিটারসেনকে বরণ করে নিয়েছেন ব্রুক। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে জমে থাকা মান-অভিমান ভুলে এই সিরিজে ‘স্পেশালিস্ট মেন্টর’ হিসেবে ইংল্যান্ড দলে যোগ দিয়েছেন পিটারসেন।ব্রুক যে এমন বেধড়ক পিটুনি দিতে পারেন, সেটা পিটারসেন ভালো করেই জানেন। তিনিও আগে ব্রুকের প্রশংসা করেছেন। তবে এবার হয়তো প্রথমবার দেখলেন ড্রেসিংরুম থেকে। প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সঙ্গে মেন্টর পিটারসেনপিটারসেনের সঙ্গে এমনিতেই ব্রুকের নামটা জুড়ে আছে বেশ কিছুদিন। কে বেশি প্রতিভাবান, পিটারসেন নাকি ব্রুক, এই আলোচনাও নতুন নয়। এ প্রশ্নের উত্তর ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক বেন স্টোকস কাল নিজের মতো করে এক্সে দিয়ে দিয়েছেন, ‘আমার তো মনে হয় না, কেভিন পিটারসেনের মতো জিনিয়াসও প্রতিভার দিক থেকে হ্যারি ব্রুকের ধারেকাছে আসতে পারে।’আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ডের হয়ে তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৩২ সেঞ্চুরি করা পিটারসেনকে ব্রুক ছাড়িয়ে যেতে পারবেন কি না, সে রায় এখনই দেওয়া ঠিক হবে না। সেটা সময়ই বলবে। তবে ব্রুক পথেই আছেন, সেটা বলা যায়। ২৭ বছর বয়সী ব্রুকের সেঞ্চুরির সংখ্যা ১৫। সংখ্যাটা আরও বেশি থাকত। কিন্তু সেঞ্চুরির পরোয়া করে ব্রুক সাধারণত খেলেন না। সর্বশেষ পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজেই এক ইনিংসে ৯১ রানে আউট হন। এরপরও চলতি সময়ে ব্রুককে সব সংস্করণ মিলিয়ে দুনিয়ার সেরা ব্যাটসম্যান বিবেচনা করেন অনেকেই। সেটা এমনি এমনি নয়। সামর্থ্যই তার প্রমাণ। যেমন ধরুন, শ্রীলঙ্কার বোলারদের বেধড়ক পিটুনি দেওয়া ব্রুকই আইসিসি টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বর ব্যাটসম্যান।আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে লম্বা ক্যারিয়ার কারব্রুকের প্রশংসায় জস বাটলারকেও ভুলে যাওয়া যাবে না। কাল ৪৪ বলে ৮০ রানের ইনিংস খেলেন। এ মাঠেই সর্বশেষ জুলাইয়ে ভারতের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে করেছিলেন ১৩১। বাটলার করেছেন ৮০ রান, সেই পথে খেলছেন রিভার্স সুইপমানে শেষ দুই টি-টুয়েন্টিতে বাটলারের ব্যাট থেকে এসেছে মোট ২১১ রান। মজার ব্যাপার, চলতি বছর টি-টুয়েন্টিতে এ দুটি ম্যাচের আগে খেলেছেন ১৪ ম্যাচ, রান মাত্র ২১২। বাটলারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপও কেটেছে জঘন্য। অনেকে তো ইংল্যান্ডের ইতিহাসে অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যানের শেষটাই দেখেছিলেন। বাটলার আপাতত এ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিয়েছেন।শুধু তা–ই নয়, রোহিত শর্মাকে পেছনে ফেলে গতকাল আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের মালিক হয়েছেন বাটলার। ১৫১ ইনিংসে ৪২৩১ রান করা রোহিত এখন তৃতীয়, ১৪৮ ইনিংসে ৪২৯২ রান করা বাটলার দ্বিতীয়। ১৩৬ ইনিংসে ৪৫৯৬ রান নিয়ে শীর্ষে পাকিস্তানের বাবর আজম।কাউন্টিতে এবার খালেদের ৫ উইকেট

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
ঢাকায় পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৪৯৯, সবচেয়ে বেশি মিরপুরে

ঢাকায় পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৪৯৯, সবচেয়ে বেশি মিরপুরে

ওবায়দুল কাদেরের ফাঁসির রায়ে জামায়াতের ন্যারেটিভ পরাজিত: রাশেদ খাঁন

ওবায়দুল কাদেরের ফাঁসির রায়ে জামায়াতের ন্যারেটিভ পরাজিত: রাশেদ খাঁন

রহিমুদ্দির ভাইয়ের বেটা

রহিমুদ্দির ভাইয়ের বেটা

0 Comments