মানুষ স্বভাবগতভাবেই সৌন্দর্যপ্রিয়। ইসলাম মানবপ্রকৃতির এই সহজাত চাহিদাকে কখনোই অস্বীকার করেনি; বরং বৈধ পন্থায় নিজেকে শালীন, পরিপাটি ও সুন্দর রাখার পূর্ণ অনুমতি দিয়েছে।
সমস্যা সৃষ্টি হয় তখন, যখন নিছক সৌন্দর্য প্রদর্শনের তাড়নায় সেই সীমা অতিক্রম করে মানুষের আল্লাহপ্রদত্ত স্বাভাবিক শারীরিক গঠনকে কৃত্রিম ও স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করা হয়।
বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞানের উৎকর্ষের সঙ্গে সঙ্গে প্লাস্টিক সার্জারি, কসমেটিক সার্জারি ও বিভিন্ন স্থায়ী বায়োমেডিক্যাল প্রক্রিয়ার প্রচলন বহুগুণ বেড়েছে।
নাকের আকৃতি পরিবর্তন (রাইনোপ্লাস্টি), মুখের চোয়ালের গড়ন বদলানো, কৃত্রিমভাবে ঠোঁট স্ফীত করা কিংবা ক্ষতিকর রাসায়নিকের সাহায্যে ত্বকের স্বাভাবিক গায়ের রং বদলে ফেলার নানা পদ্ধতিকে সৌন্দর্যের আধুনিক উপায় হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে।
এসব ক্ষেত্রে কোনটি ইসলামসম্মত ত্রুটি সংশোধন আর কোনটি নিষিদ্ধ কৃত্রিম বিকৃতি—তার সুস্পষ্ট সীমারেখা জানা জরুরি।
নিজেকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখার স্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা ইসলামে মোটেও নিন্দনীয় নয়। কিন্তু সেই সৌন্দর্য অর্জনের জন্য বান্দা কী পদ্ধতি অবলম্বন করছে—সেটিই হলো ইসলামের মূল বিবেচ্য বিষয়।
ইসলাম মানুষকে কখনোই বৈরাগ্য কিংবা সৌন্দর্যবিমুখ হওয়ার শিক্ষা দেয় না। সুন্দর ও মার্জিত পোশাক পরিধান করা, চুলে তেল দেওয়া ও পরিপাটি রাখা, সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং নিজেকে উপস্থাপনযোগ্য রাখা সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত।
একবার এক সাহাবি নবীজির কাছে আরজ করলেন, ‘মানুষ তো চায় তার পোশাক সুন্দর হোক, তার জুতো জোড়া পরিপাটি হোক (এটাও কি অহংকার?)’ তখন নবীজি বললেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্যকেই ভালোবাসেন। প্রকৃতপক্ষে অহংকার হলো সত্যকে অস্বীকার করা এবং মানুষকে অবজ্ঞা বা তুচ্ছজ্ঞান করা।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৯১)
অতএব, নিজেকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখার স্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা ইসলামে মোটেও নিন্দনীয় নয়। কিন্তু সেই সৌন্দর্য অর্জনের জন্য বান্দা কী পদ্ধতি অবলম্বন করছে—সেটিই হলো ইসলামের মূল বিবেচ্য বিষয়।
রূপচর্চার ক্ষেত্রে ইসলামে একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে: সাময়িক প্রসাধনী ব্যবহার এবং শরীরের স্থায়ী রূপবদল সম্পূর্ণ ভিন্ন বিধানভুক্ত।
ত্বকের সতেজতা বা উজ্জ্বলতার জন্য সাধারণ প্রাকৃতিক উপাদান, ক্রিম, লোশন কিংবা নারীদের ক্ষেত্রে মেকআপ ব্যবহার সাময়িক সাজসজ্জার অন্তর্ভুক্ত। এতে মূল অঙ্গের গঠনে কোনো পরিবর্তন আসে না; পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে বা নির্দিষ্ট সময় পর শরীর আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়।
কোনো ক্ষতিকর বা অপবিত্র উপাদানের মিশ্রণ না থাকলে এ ধরনের বাহ্যিক ও সাময়িক রূপচর্চা সম্পূর্ণ জায়েজ।
কিন্তু যখন কোনো চিকিৎসাগত প্রয়োজনীয়তা বা শারীরিক অস্বাভাবিকতা থাকে না, শুধু ‘সৌন্দর্য বাড়ানো’ কিংবা ফ্যাশনের তাড়নায় শল্যচিকিৎসা (সার্জারি) বা স্থায়ী ইনজেকশন ও লেজার পদ্ধতির মাধ্যমে স্বাভাবিক গঠনকে বদলে ফেলা হয়—তখন তা শরিয়তের নির্ধারিত সীমানা অতিক্রম করে যায়। (ইমাম কুরতুবি, আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন, ৭/১৪৪, মুআসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত, ২০০৬)
কোরআনে শয়তানের কুপ্রভাব ও প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে আল্লাহ বলেছেন, ‘(শয়তান বলল) আমি অবশ্যই তাদের বিপথগামী করব, তাদের হৃদয়ে মিথ্যা বাসনার সৃষ্টি করব... এবং আমি তাদের নিশ্চিত নির্দেশ দেব, ফলে তারা আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত ও পরিবর্তন করবে!’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১১৯)
তাফসির শাস্ত্রের ইমামরা স্পষ্ট করেছেন যে নিছক সামাজিক আভিজাত্য বা অতিরিক্ত সৌন্দর্যের মোহে শরীরের স্বাভাবিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে স্থায়ী পরিবর্তন আনা মূলত শয়তানের এই চক্রান্তেরই রূপায়ণ। (আবদুর রহমান ইবনে নাসির আস-সাদি, তাইসিরুল কারিমির রহমান ফি তাফসিরি কালামিল মান্নান, পৃষ্ঠা: ২২১, দারুস সালাম, রিয়াদ, ২০০২)
হাদিসে নবীজি বলেন, “আল্লাহর অভিশাপ সেই নারীদের ওপর, যারা উলকি আঁকে ও আঁকায়; যারা ভ্রু উপড়ে ফেলে এবং যারা সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ঘষে ঘষে দাঁতের মাঝে কৃত্রিম ফাঁক সৃষ্টি করে আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন আনে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৮৮৬)
হাদিসের মূল শব্দ হলো ‘আল-মুতাফাল্লিজাতি লিল-হুসন’ (সৌন্দর্যের জন্য দাঁত বিকৃত করা)। অর্থাৎ, শারীরিক সুস্থতা থাকা সত্ত্বেও শুধু অতিরিক্ত সৌন্দর্য ও কৃত্রিম যৌবন প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে স্বাভাবিক সৃষ্টিতে পরিবর্তন আনাই হলো এই অভিশাপের মূল কারণ।
ইসলামি আইনশাস্ত্রে ‘ইযালাতুল আইব’ (শারীরিক ত্রুটি বা কষ্ট দূর করা) এবং ‘তালিবুল হুসন’ (অতিরিক্ত সৌন্দর্যের পেছনে ছোটা)—এই দুইয়ের বিধান সম্পূর্ণ বিপরীত।
যদি কোনো ব্যক্তির শরীরে জন্মগত কোনো স্পষ্ট অস্বাভাবিকতা বা বিকৃতি থাকে (যেমন: ঠোঁট কাটা বা অতিরিক্ত ত্রুটিপূর্ণ অঙ্গ), কিংবা কোনো দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড, এসিড সন্ত্রাস বা রোগের কারণে শরীরের কোনো অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত বা বিকৃত হয়ে যায়—তবে তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য রিকনস্ট্রাকটিভ বা প্লাস্টিক সার্জারি করা সম্পূর্ণ বৈধ।
এটি নিষিদ্ধ অঙ্গবিকৃতির আওতায় পড়ে না; বরং এটি হলো চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাভাবিক অবস্থা পুনরুদ্ধারের বৈধ প্রচেষ্টা।
এর প্রমাণ হলো সাহাবি আরফাজাহ ইবনে আসআদের ঘটনা। জাহেলি যুগে কুলাবের যুদ্ধে তাঁর নাক কাটা গিয়েছিল। এরপর তিনি রুপা দিয়ে একটি কৃত্রিম নাক বানিয়ে পরেন। কিন্তু কিছুদিন পর সেই রুপার নাকে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হলে নবীজি (সা.) স্বয়ং তাঁকে সোনার নাক বানিয়ে ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছিলেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪২৩২)
সমকালীন ফকিহ মুফতি মুহাম্মদ তাকি ওসমানি এ বিষয়ে ইসলামের মূলনীতি সুস্পষ্ট করে লিখেছেন, ‘চিকিৎসাগত প্রয়োজন, দুর্ঘটনাজনিত বিকৃতি বা জন্মগত শারীরিক ত্রুটি সংশোধনের উদ্দেশ্যে অস্ত্রোপচার করা নিষিদ্ধ রূপান্তরের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং তা চিকিৎসার অংশ হিসেবে জায়েজ। কিন্তু সুস্থ ও স্বাভাবিক কোনো অঙ্গের আকৃতি কেবল কৃত্রিম রূপ বাড়ানো বা পশ্চিমা ফ্যাশন অনুসরণের জন্য অপারেশন করে বদলে ফেলা সম্পূর্ণ নাজায়েজ ও হারাম।’ (ওসমানি, তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম বি-শারহি সহিহিল ইমাম মুসলিম, ৪/১৬৯, দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবি, বৈরুত, ২০০৬)
কোনো মানুষের জন্মগত গায়ের রঙ কোনো ‘ত্রুটি’ নয় যে তা সংশোধন করতে হবে। আল্লাহ মানুষকে সাদা, কালো, শ্যামলা নানা বৈচিত্র্যে সৃষ্টি করেছেন তাঁর একত্বের নিদর্শন হিসেবে।
একই বিধান সৌন্দর্যচর্চার জন্য গায়ের স্বাভাবিক রঙ কৃত্রিমভাবে ফর্সা করার বিষয়ে। আধুনিককালে মেলানিন কমানোর বিপজ্জনক ইনজেকশন, কেমিক্যাল পিলিং কিংবা ক্ষতিকর পারদযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করে ত্বক ফর্সা করার এক উন্মাদনা তৈরি হয়েছে।
কোনো মানুষের জন্মগত গায়ের রঙ কোনো ‘ত্রুটি’ নয় যে তা সংশোধন করতে হবে। আল্লাহ মানুষকে সাদা, কালো, শ্যামলা নানা বৈচিত্র্যে সৃষ্টি করেছেন তাঁর একত্বের নিদর্শন হিসেবে। (সুরা রুম, আয়াত: ২২)
কৃত্রিম উপায়ে গায়ের রং বদলানোর এই হীনম্মন্যতা মূলত সমাজের তৈরি বর্ণবাদী মানসিকতা ও কৃত্রিম অহংকারের ফল।
ইসলাম মানুষের মর্যাদা ও সৌন্দর্যের এই ভিত্তিহীন মাপকাঠিকে গুঁড়িয়ে দিয়ে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাবান সেই ব্যক্তি, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান (খোদাভীরু)।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ১৩)
ফয়জুল্লাহ রিয়াদ: মুহাদ্দিস, জামিয়া আরাবিয়া দারুস সুন্নাহ রাজাবাড়ী, ঢাকা
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
দেশের বাজারে রেডমি নোট ১৭ সিরিজের শক্তিশালী ব্যাটারিযুক্ত নতুন তিনটি মডেলের স্মার্টফোন এনেছে শাওমি বাংলাদেশ। ‘রেডমি নোট ১৭ প্রো ম্যাক্স ফাইভজি’, ‘রেডমি নোট ১৭ প্রো ফাইভজি’ ও ‘রেডমি নোট ১৭ ফোরজি’ মডেলের ফোনগুলোতে প্রথমবারের মতো ২ বছরের বিক্রয়োত্তর সেবাসহ ১ বছরের স্ক্রিন প্রোটেকশন–সুবিধাও পাওয়া যাবে। ফোনগুলো বাড়তি খরচ ছাড়াই ১২ মাসের কিস্তিতে কেনা যাবে। শুধু তা–ই নয়, সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাকের পাশাপাশি বিভিন্ন উপহারও মিলবে। আজ বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে শাওমি বাংলাদেশ।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রেডমি নোট ১৭ প্রো ম্যাক্স ৫জি মডেলের ফোনটিতে ১০ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি রয়েছে। ১০০ ওয়াট হাইপার চার্জিং এবং ২৭ ওয়াট রিভার্স চার্জিং সুবিধা থাকায় দ্রুত শতভাগ চার্জ করা যায় ফোনটিতে, ফলে ব্যাটারির চার্জ নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। ১.৫কে ক্রিস্টালরেজ অ্যামোলেড পর্দার ফোনটিতে শক্তিশালী স্ন্যাপড্রাগন ৬ জেন ৫ প্রসেসর থাকায় দ্রুত কাজ করা যায়। আইপি৬৬, আইপি৬৮, আইপি৬৯ ও আইপি৬৯কে রেটিংযুক্ত ফোনটি ধুলোবালি ও পানি থেকেও নিরাপদ থাকে। ৮ ও ১২ গিগাবাইট র্যাম এবং ২৫৬ গিগাবাইট ধারণক্ষমতাযুক্ত ফোনটির দাম ধরা হয়েছে যথাক্রমে ৬৪ হাজার ৯৯৯ টাকা ও ৬৯ হাজার ৯৯৯ টাকা।রেডমি নোট ১৭ প্রো ৫জি মডেলের ফোনটিতে ৮ হাজার ৩৪০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার সিলিকন-কার্বন ব্যাটারির পাশাপাশি ৬৭ ওয়াট হাইপারচার্জ সুবিধা রয়েছে। ফলে দ্রুত চার্জ করার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা যায়। অপরদিকে রেডমি নোট ১৭ ফোরজি মডেলের ফোনটিতে ৭ হাজার ৭০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি এবং ৪৫ ওয়াট টার্বো চার্জিং–সুবিধা রয়েছে। রেডমি নোট ১৭ প্রো ৫জি মডেলের ফোনটিতে ৮ গিগাবাইট র্যাম এবং ২৫৬ গিগাবাইট ধারণক্ষমতা রয়েছে। দাম ধরা হয়েছে ৫৪ হাজার ৯৯৯ টাকা। অপরদিকে রেডমি নোট ১৭ ফোরজি মডেলটিতে সংস্করণভেদে ৬ ও ৮ গিগাবাইট র্যাম এবং ১২৮ ও ২৫৬ গিগাবাইট ধারণক্ষমতা রয়েছে। দাম ধরা হয়েছে যথাক্রমে ৩২ হাজার ৯৯৯ টাকা ও ৩৬ হাজার ৯৯৯ টাকা।নতুন মডেলগুলোর বিষয়ে শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি জেনারেল ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, আগের প্রজন্মগুলোর মতো এই সিরিজও ক্রেতাদের প্রত্যাশা পূরণ করবে এবং বাংলাদেশে রেডমি নোট ১৭ সিরিজের সাফল্যের ধারাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের ৯১ শিক্ষার্থীর অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণের টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন মাস্টাররোলে কর্মরত এক সহকারী কর্মচারী। অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি বুঝতে পেরে ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মো. শামীম আকতার ফুলবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন আত্মগোপনে চলে যাওয়া কর্মচারীর নাম আনোয়ার হোসেন। তিনি গত ৪ আগস্ট থেকে কলেজে আসছেন না এবং মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের দুই লাখ ৯৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য ইংরেজি বিভাগের ৯১ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে শিক্ষার্থীপ্রতি চার হাজার ৯৩৯ টাকা হারে মোট চার লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৯ টাকা সংগ্রহ করেন আনোয়ার হোসেন। সংগৃহীত টাকার মধ্যে এক লাখ ৫৩ হাজার ৪৪৯ টাকা কলেজের পাওনা মিটিয়ে বাকি দুই লাখ ৯৬ হাজার টাকা কলেজের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন। পরে কলেজের খাতায় বা ব্যাংকে সেই টাকা জমার কোনো প্রমাণ মেলেনি। অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি বুঝতে পেরে ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মো. শামীম আকতার গত ১২ আগস্ট ফুলবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে ‘পরীক্ষার ফরম ফিলআপ বাবদ সংগৃহীত অর্থ আত্মসাৎ এবং গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাগজপত্রের অনিয়ম ও অপব্যবহারের আশঙ্কা’ প্রকাশ করা হয়। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সংগৃহীত টাকা জমা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ার ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার মৌখিক দাবি করেন। কিন্তু হিসাব মেলানোর তাগিদ দেওয়ার পর গত ৪ আগস্ট থেকে তিনি আর কলেজে আসেননি এবং দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি। এ ছাড়া ইংরেজি বিভাগের গোপনীয় নথিপত্র, আবেদন ফরম ও রেজিস্টার খাতা তার জিম্মায় থাকায় সেগুলো গোপন বা অপব্যবহারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শামীমা ইয়াসমিন, রেজাউল করিম, গোপাল চন্দ্র সরকার, শাহেদ আলীসহ কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তারা জমানো টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করেছিলেন। এখন টাকা জমা না হওয়ায় তাদের পরীক্ষার প্রবেশপত্র পাওয়া ও অংশ নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত টাকা উদ্ধার ও অপরাধীর কঠোর শাস্তির দাবি করেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মো. আনোয়ার হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আহসান হাবীব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার প্রায় ২০ দিন পার হতে চলল। আনোয়ারের শ্বশুর (যিনি কলেজের এলপিআরে যাওয়া পিওন) রশিদ মিয়া আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন তার জামাতা আত্মসাৎ করা টাকা কলেজে ফেরত দেবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আনোয়ার কলেজে উপস্থিত হননি বা টাকা ফেরত দেননি। তাই কলেজ প্রশাসন বাধ্য হয়ে তার বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এমদাদুল হক মিলন/এসজেডএইচ
এআইয়ের ছোঁয়ায় আশির দশকের পোশাক, চুল ও সাজে ফিরছেন তারকারা। ইনস্টাগ্রাম থেকে ছড়িয়ে পড়া ৮০–এর ট্রেন্ডে মেতেছেন সাধারণ মানুষও। বিস্তারিত দেখুন প্রতিবেদন-