ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, মাননীয় স্পিকার, প্রত্যেকটা সরকারের একটা চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আবার সারের সংকট হবে না, এটা হতে পারবে না। বিএনপি ক্ষমতায় আছে, সার কারখানা সেটা লুট করবেন না, সেটাও হতে পারে না।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে একটি বিলের ওপরে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় সংসদে রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে হট্টগোল শুরু হয়। এরপরেও বক্তব্য চালিয়ে যান রুমিন ফারহানা।
রুমিন ফারহানা বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটাও হওয়া অসম্ভব না। মাননীয় স্পিকার, বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করবে না, সেটাও হইতে পারে না। সুতরাং বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ হওয়া, ৬ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার ওপরে ঋণখেলাপি হওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি।
তিনি বলেন, মাননীয় স্পিকার, এত অসহিষ্ণু সংসদ! মনে হয় যেন একেবারে আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি আমরা। আওয়ামী লীগকে যখন বলতাম, তখন তারাও হট্টগোল করতো। এখন বিএনপি একই ধরনের আচরণ করছে, আরও খারাপ আচরণ বরং বলি। এ সংসদে বেশিরভাগ সংসদ সদস্য ঋণখেলাপি হিসেবে পরিচিত।
মাননীয় স্পিকার, ওনারা নির্বাচনের আগে নামটা কাটানোর জন্য হাইকোর্টে গিয়ে রিট করেন- এগুলো আমাদের পুরানো সংস্কৃতি। এগুলো আমরা বহু দেখছি, মাননীয় স্পিকার। ইলেকশনের আগে তাড়াতাড়ি ঋণখেলাপি থেকে বাদ দেয়, আর ইলেকশনটা যেই শেষ হয়।
এমওএস/এমএএইচ/
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন সুসংহত করতে জাতিসংঘের আসন্ন অধিবেশনে একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান (ইভেন্ট) আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে এই আয়োজন করা হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন।আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এই তথ্য জানিয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই সংকটের সৃষ্টি মিয়ানমারের এবং এর টেকসই সমাধানও নিহিত রয়েছে মিয়ানমারেই।’ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বর্তমানে দেশে নেই। লিখিত প্রশ্নোত্তরে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসতে আমরা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরছি। বন্ধুরাষ্ট্র, দাতাদেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী চীন ও মালয়েশিয়া সফরে এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করেছেন।’এর পাশাপাশি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ও মানবাধিকার কাউন্সিলে রোহিঙ্গাবিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের চলমান মামলা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জবাবদিহি প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হয়েছে। আর অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক।অতীতে লোকদেখানো তৎপরতা ছিলসংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয়নি। এর পরিবর্তে তারা লোকদেখানো তৎপরতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এর ফলে সংকট আরও দীর্ঘায়িত ও জটিল হয়েছে।সরকার রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান ও বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক—সব পর্যায়ে দৃঢ় কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে এই সংকটের দ্রুত ও টেকসই সমাধানে কাজ করছে।পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সম্প্রতি রোহিঙ্গাবিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন কমিটি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ক্যাম্পের শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ‘সমমর্যাদার ভিত্তিতে’সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আবদুল খালেকের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে সরকার আন্তরিক। তবে সেটা অবশ্যই সমমর্যাদার ভিত্তিতে হতে হবে। সীমান্ত এলাকার বাংলাদেশি জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও বৈধ পথে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে।সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে ঠেলে পাঠানো (পুশ ইন) বিষয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের নেওয়াজ হালিমা আরলীর প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সীমান্তে কোনো ধরনের পুশ ইন বা পুশ ইনের প্রচেষ্টাকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশের গভীর উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জোরালো প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দেশের সার্বভৌমত্ব ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আমাদের সরকার দৃঢ়তার সঙ্গে সীমান্তে পুশ ইন রোধে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করে যাচ্ছে।’কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহে কার্যক্রমে দুর্বলতা ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার দূতাবাসগুলোকে জবাবদিহিমূলক কার্যক্রমের আওতায় এনেছে।
সংকটে থাকা শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। এখন পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য আগের ‘হেয়ারকাট’ বা মুনাফা কর্তনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্ধারিত ৪ শতাংশ হারে মুনাফা দেওয়ার পরিবর্তে ব্যাংকের ওই সময়ের কার্যকর মুনাফার হার অনুযায়ী আমানতের হিসাব পুনর্নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক রেজোল্যুশন ডিপার্টমেন্টের অতিরিক্ত পরিচালক শামস তিবরীজ ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠি অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সময়ের জন্য ব্যক্তিগত (অপ্রাতিষ্ঠানিক) মেয়াদি আমানত ও কিস্তিভিত্তিক আমানতের ক্ষেত্রে ‘ইহসান’ হিসাবে বার্ষিক ৪ শতাংশ হারে মুনাফা দেওয়ার পরিবর্তে ওই সময়ের মুনাফার হার অনুযায়ী হিসাব করে প্রতিটি হিসাবের বিপরীতে স্থিতি পুনরায় হিসাব করতে হবে। এ ছাড়া ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য ব্যাংকের পুনর্নির্ধারিত মুনাফার হার প্রযোজ্য হবে।চিঠিতে বলা হয়, ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার, ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা এবং মুনাফা সমন্বয়সংক্রান্ত বাস্তব জটিলতা বিবেচনায় ‘হেয়ারকাট’ সংক্রান্ত নির্দেশনা পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশনার ফলে নির্ধারিত সময়ের ব্যক্তিগত ও কিস্তিভিত্তিক আমানতের মুনাফা ৪ শতাংশ ধরে না রেখে সংশ্লিষ্ট সময়ের ব্যাংকের কার্যকর মুনাফার হার অনুযায়ী পুনরায় হিসাব করতে হবে।
রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪৭৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ সময় তাঁদের বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় ৩৯টি মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে বুধবার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান চালানো হয়।ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১২২ জন মিরপুর বিভাগের। এ ছাড়া তেজগাঁওয়ে ৭০ জন, মতিঝিলে ৬৯ জন, ওয়ারী বিভাগে ৬২ জন, গুলশানে ৪৮ জন, উত্তরায় ৪৮ জন, লালবাগে ২৯ জন, রমনা বিভাগে ২৭ জন এবং ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) গ্রেপ্তার ১ জন রয়েছেন।অভিযানের সময় আসামিদের কাছ থেকে ৩৬ কেজি ২৯০ গ্রাম গাঁজা, ৯২ বোতল ফেনসিডিল, ১৪৩টি ইয়াবা, ১০ গ্রাম হেরোইন, ১টি বিদেশি পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি, ১টি ম্যাগাজিন, ৭টি মুঠোফোন, ১টি ইয়াবা সেবনের পাইপ, ২টি ফয়েল পেপার, ৩টি গ্যাসলাইট, ২০০টি ইলাস্টিক বেল্ট ও নগদ ৮ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।