রাজশাহীর পুঠিয়ায় বানেশ্বর ইসলামিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক সাহাদুল হক মারা গেছেন দুই দিন আগে। চার বছর আগে তাঁর ডায়েরিতে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানিয়েছিলেন। ‘হলফনামা’ শিরোনামের ওই লেখায় সাহাদুল হক হার্ট অ্যাটাক, ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো কারণে তাঁর মৃত্যুর জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে দায়ী করেন।
সাহাদুল হকের মৃত্যুর পর ওই ডায়েরির পৃষ্ঠা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে আজ বুধবার ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে।
সাহাদুল হকের বাড়ি পুঠিয়া উপজেলার ধোপাপাড়া গ্রামে। দুই মাস আগে তিনি বানেশ্বর কাচারিপাড়ায় বাড়ি নির্মাণ করেন। তাঁর পরিবারের সদস্যরা সেখানে থাকেন।
বানেশ্বর ইসলামিয়া উচ্চবিদ্যালয়টি বানেশ্বর ইউনিয়ন সদরে অবস্থিত। শিক্ষার্থীরা আজ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টার পর্যন্ত বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করে। পরে তারা বানেশ্বর বাজারে ঢাকা–রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে প্রায় ৩০ মিনিট যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানায়, দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দেবে।
বিক্ষোভকালে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাব্বির বলে, ‘সাহাদুল স্যার আমাদের অত্যন্ত প্রিয় ও সদয় একজন মানুষ ছিলেন। আমরা বেশ কিছুদিন ধরেই শুনছিলাম স্যারকে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। মৃত্যুর আগে ডায়েরিতে প্রধান শিক্ষকের নাম লিখে যাওয়া প্রমাণ করে যে স্যার কতটা নিরুপায় ছিলেন। আমরা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের অবলম্বে অপসারণ চাই।’
বানেশ্বর ইসলামিয়া উচ্চবিদ্যালয়টি বানেশ্বর ইউনিয়ন সদরে অবস্থিত। শিক্ষার্থীরা আজ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টার পর্যন্ত বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করে। পরে তারা বানেশ্বর বাজারে ঢাকা–রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে প্রায় ৩০ মিনিট যান চলাচল ব্যাহত হয়।
গত সোমবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাহাদুল হকের মৃত্যু হয়। হাসপাতালের ডেথ রেজিস্টারে মৃত্যুর কারণে হিসেবে লেখা আছে ‘কার্ডিওরেসপাইরেটরি ফেইলিয়র।’ তাঁর স্ত্রী শারমিন আক্তার বলেন, যখন তাঁর স্বামী স্কুল থেকে বাসায় আসতেন, তখন অনেক কষ্ট ও ভারাক্রান্ত মনে থাকতেন। প্রধান শিক্ষক তাঁর ওপর যে মেন্টাল প্রেশার দিতেন, তাতে তিনি ডিপ্রেশনে গিয়ে কথাগুলো লিখেছিলেন। অফিসে ডেকে নিয়ে গালাগালি করা হতো, এমনকি অসুস্থতার সময়েও ছুটি দিতেন না। এসব কারণেই আমার স্বামী মারা গেছেন।’
মৃত্যুর প্রায় চার বছরে আগে ২০২২ সালের ২৭ জুলাই ডায়েরির পাতায় ‘হলফনামা’ শিরোনামে সাহাদুল হক নিজের সম্ভাব্য মৃত্যুর বিভিন্ন কারণ ও পরিস্থিতির কথা লিখে যান। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ডায়াবেটিস বেড়ে যাওয়া, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক কিংবা অন্য কোনো কারণে তাঁর মৃত্যু হলেও বানেশ্বর ইসলামিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদ আলী ও তাঁর পরিবার মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবেন। বিদ্যালয়ের কোনো সহকারী শিক্ষকও যদি প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে তিনিও দায়ী থাকবেন।’
এ বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক আজাদ আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ফোন ধরেননি। বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মাহবুব সরকার বলেন, ‘মানসিক টর্চার বিষয়টা আসলে আপেক্ষিক। প্রতিষ্ঠান চালাতে গেলে অনেক কথা বলতে হয়। এখন কোন কথাটা কীভাবে কতটুকু বলা যাবে, তার তো কোনো প্যারামিটার নেই। তাই এটা নিপীড়ন বলা যাবে না।’
মাহবুব সরকার জানান, তাঁরা শিক্ষক সাহাদুল হকের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁদের কোনো অভিযোগ নেই। তাঁদের দাবি, মৃত শিক্ষকের যে পাওনা আছে, সেগুলো যেন দ্রুত পরিশোধ করা হয়। তাঁরা সেটা দ্রুতই করে দেবেন।

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লেখা চিরকুটের বিষয়ে সভাপতি বলেন, ২০২২ সালে তিনি ওটা লিখেছিলেন। ফেসবুকে এটা দেওয়ার পর প্রধান শিক্ষকও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানিয়েছিলেন এবং তাঁর কী করণীয় জানতে চেয়েছিলেন। পরে এ নিয়ে তদন্ত হয়। সে সময় সাহাদুল হক বলেছিলেন, তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে এটা দিয়েছিলেন। তবে ঠিক হয়নি।
পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বলেন, খবর পেয়ে তিনি ওই বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ের পরিবেশ স্বাভাবিক আছে। শিক্ষকের মানসিক নিপীড়নের অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে শিশুসাহিত্যিক ও চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান আমীরুল ইসলাম মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রকাশক কাদের বাবু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আমীরুল ইসলামের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন। তিনি রাজধানীর একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। ১৯৬৪ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন আমীরুল ইসলাম। শিশুসাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। এ ছাড়া দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। আরও পড়ুন আ’লীগের সাবেক এমপি মনোয়ার হোসেন চৌধুরী মারা গেছেন আমীরুল ইসলামের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দুই শতাধিক। তার প্রকাশিত সব বইই শিশুসাহিত্যের। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে শিশুদের জন্য গল্প, ছড়া ও নানা ধরনের সৃজনশীল লেখা লিখেছেন তিনি। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে গণমাধ্যমের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন আমীরুল ইসলাম। তিনি চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এসইউ/একিউএফ
বাণিজ্য, অর্থনীতি, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান বিনিময়ে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই) এবং ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম ইনস্টিটিউট (ইআরএফ ইনস্টিটিউট)। আজ বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের টিসিবি ভবনে অবস্থিত বিএফটিআইয়ের সম্মেলনকক্ষে এই সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠিত হয়। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে সই করেন বিএফটিআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা আবিদ খান এবং ইআরএফের সভাপতি দৌলত আক্তার মালা।এই সমঝোতার আওতায় প্রতিষ্ঠান দুটি বাণিজ্য, অর্থনীতি ও ব্যবসাসংক্রান্ত নানা বিষয়ে যৌথভাবে সেমিনার, কর্মশালা, গোলটেবিল বৈঠক ও জাতীয়-আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মতো জ্ঞান বিনিময়ের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। এর পাশাপাশি নীতিনির্ধারক, বাণিজ্যবিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী নেতা, গবেষক ও গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা ও কার্যকর মতবিনিময়ের একটি উন্মুক্ত ক্ষেত্র তৈরি করা হবে।অনুষ্ঠানে ইআরএফের সভাপতি দৌলত আক্তার মালা বলেন, এই সহযোগিতার মাধ্যমে অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে বিএফটিআই ও ইআরএফ একসঙ্গে কাজ করবে।বিএফটিআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা আবিদ খান বলেন, সমঝোতা স্মারকটি দুই প্রতিষ্ঠানের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক বিষয়ে যৌথ গবেষণা, সেমিনার, কর্মশালা এবং অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার একটি কাঠামো তৈরি করবে।আবিদ খান আরও বলেন, বাংলাদেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে তথ্যভিত্তিক ও গঠনমূলক আলোচনা এগিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠান দুটি নিজেদের দক্ষতা, যোগাযোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা কাজে লাগাবে।এই অংশীদারত্বের ফলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ইস্যুতে নীতিনির্ধারক, গবেষক ও বেসরকারি খাতের অংশীজনদের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় ও সংযোগ আরও বাড়বে বলে অনুষ্ঠানে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) একটি সিদ্ধান্তে বদলে যেতে পারে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বৈশ্বিক চিত্র। অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) এবার বেসরকারি বিনিয়োগের দরজা খুলে দিচ্ছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। আর সেই সুযোগে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখাতে পারে ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা। সে ক্ষেত্রে খোদ আইপিএলই ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে বলে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ২০২৭-২৮ মৌসুম থেকে বিবিএলের দলগুলোর মালিকানায় বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। প্রথম ধাপে মেলবোর্ন রেনেগেডসের শতভাগ মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটি বড় ধরনের পরিবর্তন। কারণ এতদিন বিশ্বের বড় ক্রিকেট লিগগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়াই ছিল অন্যতম প্রধান বাজার, যেখানে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো মূলত ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার নিয়ন্ত্রণেই ছিল। এখন সেই দরজা খুলে যাওয়ায় বৈশ্বিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে আইপিএল মালিকদের জন্য তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। আইপিএল মালিকদের কেন আগ্রহ থাকবে? আইপিএলের বড় কয়েকটি মালিকগোষ্ঠী ইতোমধ্যেই ভারতের বাইরে একাধিক টি-টোয়েন্টি লিগে দল কিনেছে। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট, আরপি-সঞ্জীব গোয়েঙ্কা গ্রুপ এবং জিএমআর-জেএসডব্লিউ গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠান ভারত ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিজেদের উপস্থিতি তৈরি করেছে। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ, দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০, যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেট (এমএলসি), ইংল্যান্ডের দ্য হান্ড্রেডসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় আইপিএল-সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিনিয়োগ রয়েছে। বিবিএলে দল কেনার সুযোগ সেই বৈশ্বিক নেটওয়ার্ককে আরও বড় করতে পারে। একটি অস্ট্রেলিয়ান ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনলে একই মালিকগোষ্ঠীর অধীনে আইপিএল, এসএ২০, এমএলসি এবং বিবিএলের মতো একাধিক লিগে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে। ফলে কোনো তারকার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বা বছরজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি চুক্তির সম্ভাবনাও বাড়বে। ক্যামেরন গ্রিন, টিম ডেভিড কিংবা গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের মতো ক্রিকেটারদের একই মালিকানাধীন বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজিতে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এতে শুধু খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনাই নয়, ব্র্যান্ডিং ও বিপণনেও বড় সুবিধা পেতে পারে মালিকগোষ্ঠীগুলো। রেনেগেডস দিয়ে শুরু বিগ ব্যাশের বেসরকারিকরণের প্রথম বড় পরীক্ষা হবে মেলবোর্ন রেনেগেডস। ২০২৭-২৮ মৌসুম থেকে দলটির শতভাগ মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখনো রেনেগেডস কেনার জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক দরপত্র বা প্রস্তাব পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের অনুমান, বর্তমানে একটি বিবিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির মূল্য প্রায় ১৫ থেকে ২০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলারের মধ্যে হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে অঙ্কটি কয়েক হাজার কোটি টাকার সমান। ফলে অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি এখন বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কাছে যথেষ্ট আকর্ষণীয় সম্পদ হয়ে উঠতে পারে। তবে পুরো নিয়ন্ত্রণ ছাড়ছে না ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া বিগ ব্যাশকে পুরোপুরি বেসরকারি মালিকদের হাতে তুলে দেওয়ার পথে হাঁটছে না ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বরং বোর্ডের পরিকল্পনা অনেকটা ‘নিয়ন্ত্রিত বেসরকারিকরণ’। আন্তর্জাতিক সূচি, খেলোয়াড়দের প্রাপ্যতা, সম্প্রচার স্বত্ব এবং বেতনসীমার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। এমনকি সম্ভাব্য কোনো ক্রেতা বা বিনিয়োগকারীকে দল কেনার অনুমোদন দেওয়া বা প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতাও থাকবে বোর্ডের হাতে। অর্থাৎ কোনো প্রতিষ্ঠান শুধু অর্থের জোরে বিবিএলের দল কিনে নিজের ইচ্ছামতো সবকিছু পরিচালনা করতে পারবে না। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে বৈচিত্র্য বজায় রাখতে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানা নিয়েও সীমা আরোপ করা হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, সর্বোচ্চ দুই বা তিনটি বিবিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি ভারতীয় মালিকানাধীন হতে পারে। এর উদ্দেশ্য হবে একটি নির্দিষ্ট দেশের বা কয়েকটি বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর হাতে পুরো লিগের মালিকানা চলে যাওয়া ঠেকানো। কারণ আইপিএলের অর্থনৈতিক শক্তি এখন এতটাই বেশি যে বিশ্বের অন্যান্য টি-টোয়েন্টি লিগে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি দ্রুত বাড়ছে। অস্ট্রেলিয়াও সেই প্রবণতা থেকে নিজেদের লিগকে সুরক্ষিত রাখতে চাইছে। ভারতীয় তারকারা কি খেলবেন বিবিএলে? বিগ ব্যাশে দল কিনলেও আইপিএল মালিকদের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা থাকবে ভারতীয় ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে। বিসিসিআই এখনো ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেটারদের বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার অনুমতি দেয় না। ফলে কোনো ভারতীয় মালিকানাধীন বিবিএল দল চাইলেই রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি কিংবা অন্য ভারতীয় তারকাদের অস্ট্রেলিয়ায় খেলাতে পারবে না। এটি বিবিএলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা ইংল্যান্ডের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেটারদের দেখা যায় না। তবে নারী ক্রিকেটে পরিস্থিতি ভিন্ন। স্মৃতি মান্ধানা ও হারমানপ্রিত কৌরের মতো ভারতীয় নারী তারকারা ইতোমধ্যেই বিবিএলে খেলেছেন। অতএব ভারতীয় মালিকানা এলেই যে বিবিএলে ভারতীয় পুরুষ তারকার ঢল নামবে, এমনটা এখনই ভাবার সুযোগ নেই। তাৎক্ষণিকভাবে ভারতীয় তারকাদের দলে নিতে না পারলেও অস্ট্রেলিয়ার বাজারে প্রবেশ আইপিএল মালিকদের দীর্ঘমেয়াদে বড় সুবিধা দিতে পারে। বিবিএলের মাধ্যমে তারা অস্ট্রেলিয়ার তরুণ প্রতিভাদের খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ ও বিকাশের সুযোগ পাবে। নিজেদের বৈশ্বিক একাডেমি বা স্কাউটিং নেটওয়ার্কের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের প্রতিভাবানদের যুক্ত করার পথও খুলতে পারে। ভবিষ্যতে বিসিসিআই যদি চুক্তিবদ্ধ নন এমন ক্রিকেটার, অবসরপ্রাপ্ত ক্রিকেটার কিংবা নির্দিষ্ট শ্রেণির খেলোয়াড়দের বিদেশি লিগে খেলার বিষয়ে নিয়ম শিথিল করে, তাহলে বিবিএলে বিনিয়োগকারী ভারতীয় মালিকেরা বড় সুবিধা পেতে পারেন। আইএইচএস/