আইরিশ প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন ৭ সেপ্টেম্বর দেশটির সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, এখন থেকে আয়ারল্যান্ডে নাগরিকত্বপ্রত্যাশীদের জন্য নতুন নিয়ম চালু হতে যাচ্ছে। আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি অফলির টুলামোরে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক দল ফিনা ফলের এক আলোচনা সভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আয়ারল্যান্ডের জাতীয় গণমাধ্যম আরটিই সূত্রে এ খবর পাওয়া গেছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, তাঁর সরকার আয়ারল্যান্ডের নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়ায় (ন্যাচারালাইজেশন সিস্টেম) এই প্রস্তাবগুলো নিয়ে চলতি সপ্তাহেই আলোচনা করতে যাচ্ছে; যার মাধ্যমে তাঁর ভাষায় আইরিশ নাগরিকত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে একটি ‘ভারসাম্য’ বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অপর দিকে আয়ারল্যান্ডের বিচার, স্বরাষ্ট্র ও অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রী জিম ও’ক্যালাহান জানিয়েছেন, ‘আইরিশ ন্যাশনালিটি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬’ বুধবার আলোচনার জন্য আইরিশ মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হবে। মন্ত্রী জিম ও’ক্যালাহান মনে করেন, এই পরিবর্তন এক প্রজন্মের মধ্যে নাগরিকত্ব আইনের সবচেয়ে বড় সংস্কার।
নতুন পরিকল্পনায় একটি অন্যতম শর্ত হলো আইরিশ নাগরিকত্বপ্রত্যাশীদের অবশ্যই এখন থেকে দেশটিতে কমপক্ষে আট বছর ধরে বসবাস করতে হবে; যে সময়সীমা বর্তমান পাঁচ বছর রয়েছে। এ ছাড়া আবেদনকারীদের একটি ভাষা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে (যার মধ্যে ইংরেজি ও আইরিশ ভাষার প্রাথমিক বিষয়গুলোর সঙ্গে পরিচিতি অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং আইরিশ নাগরিক-জ্ঞান বা ‘সিভিকস’ (civics) সম্পর্কেও ধারণা থাকতে হবে)। সেই সঙ্গে প্রমাণ করতে হবে যে নাগরিকত্ব পেতে ইচ্ছুক ব্যক্তি আয়ারল্যান্ডে বসবাস করতে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী। অর্থাৎ, আবেদনের তারিখের আগের নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত তিনি কোনো বিশেষ সামাজিক সুরক্ষা ভাতা বা সহায়তা গ্রহণ করেননি। তা ছাড়া আয়ারল্যান্ড ও সে দেশের মূল্যবোধ সম্পর্কে ধারণা এবং নাগরিকত্ব লাভের পাশাপাশি সমাজে অবদান রাখার সক্ষমতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও এসব শর্তের অংশ হবে। ক্ষমতাসীন সরকারের মতে, এসব পরিবর্তন আয়ারল্যান্ডকে অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলতে সহায়তা করবে। এ সময় আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ‘আমাদের অভিবাসনব্যবস্থা এখন অনেক বেশি দৃঢ় ও শক্তিশালী; আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কমছে এবং গত ১২ মাসে তা হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি, আশ্রয়প্রার্থীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াটিও এখন অনেক বেশি দক্ষ ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।’

অন্যদিকে অভিবাসনমন্ত্রী ও’ক্যালাহান জানান, পরবর্তী সংশোধনীগুলোর মাধ্যমে জনশৃঙ্খলা ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য মন্ত্রীর হাতে সুনির্দিষ্ট ক্ষমতা প্রদান করা হবে এবং নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়াটিকে দ্রুত ও সহজতর করার ব্যবস্থা করা হবে।
তবে এ বিষয়ে ভিন্ন মত জানিয়েছেন আয়ারল্যান্ডের লেবার পার্টির বিচারবিষয়ক মুখপাত্র অ্যালান কেলি। বিচারমন্ত্রীর প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়েছেন যেন বসবাসের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে আট বছর করার প্রস্তাবটি বাতিল করা হয়। তাঁর মতে, নাগরিকত্ব পাওয়ার অপেক্ষার সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে আট বছর করার বিষয়টি আয়ারল্যান্ডের অভিবাসনব্যবস্থার উন্নতির কোনো আন্তরিক প্রচেষ্টার চেয়ে বরং রাজনৈতিক অবস্থান তৈরির কৌশল। পাশাপাশি লেবার পার্টির অন্য একজন নেতার মতে, ‘নাগরিকত্ব সফলভাবে সমাজের মূলধারায় মিশে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে প্রস্তাবিত নিয়ম গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে কর্মী আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে জাতি হিসেবে আয়ারল্যান্ডের সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।’
এদিকে অভিবাসন সহায়তা সংস্থা ‘ডোরাস’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জানিয়েছেন যে নতুন প্রস্তাবগুলোর ‘কোনো কার্যকর উদ্দেশ্য নেই’। জন ল্যানন আরটিই–এর ‘নিউজ অ্যাট ওয়ান’ অনুষ্ঠানে বলেন যে আইরিশ নাগরিকত্ব পাওয়া এমনিতেই বেশ কঠিন। তিনি এই প্রস্তাবগুলোকে ‘বেশ কঠোর’ ও ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে অভিহিত করেন। ল্যানন জানান, ডোরাস এমন অনেক মানুষকে দেখেছে, যাঁদের নাগরিকত্বের আবেদন গৃহীত হওয়ার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে, অথবা দেশের বাইরে সময় কাটানোর কারণে আবেদন বাতিল হয়ে গেছে।
প্রস্তাবিত নীতিমালায় ভাষা-সংক্রান্ত যে শর্তের কথা বলা হয়েছে, সে প্রসঙ্গে ল্যানন মনে করেন, সরকার যদি এমনটা প্রত্যাশা করে, তবে ভাষা শেখার ক্লাসে অংশগ্রহণের পর্যাপ্ত সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘সামগ্রিকভাবে অভিবাসীদের জন্য ওরিয়েন্টেশন বা পরিচিতিমূলক কর্মসূচিতে আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন। কারণ, তা ছাড়া তাঁরা আইরিশ সমাজে পুরোপুরি মিশে যেতে পারবেন না।’
ল্যানন আরও যোগ করেন, নাগরিকত্ব না থাকায় অভিবাসীদের নিয়মিতভাবে তাঁদের ‘স্ট্যাম্প’ বা অভিবাসন অনুমতির জন্য আবেদন করতে হয়, যার প্রতিটির জন্য ৩০০ ইউরো খরচ করতে হয়। এর অর্থ হলো, এখানে নিজেদের অবস্থান বা মর্যাদা নিয়ে তাঁরা সব সময় একধরনের অনিশ্চয়তায় থাকেন এবং যেকোনো সময় তাঁদের অভিবাসন অনুমতির আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে।
তথ্যসূত্র: আরটিই
*লেখক: রাইসুল সৌরভ: আয়ারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব গলওয়েতে বিচারিক সিদ্ধান্তে এলএলএমের ব্যবহারবিষয়ক ডক্টরাল গবেষক
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বন্ধ থাকা বাংলাদেশ-ভারত আন্তদেশীয় ট্রেন চালুর বিষয়ে ভারত আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলে তা পরীক্ষা করে দেখবে বাংলাদেশ। তিন দিন ধরে অনুষ্ঠিত ৩৮তম বাংলাদেশ-ভারত আন্তসরকার রেলওয়ে মিটিংয়ে (আইজিআরএম) ভারতীয় পক্ষ থেকে মৈত্রী এক্সপ্রেসকে পদ্মা সেতু হয়ে চালানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বন্ধ থাকা মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস কবে চালু হবে, সেই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।বৃহস্পতিবার রেলভবনে তিন দিনব্যাপী আইজিআরএম বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউল হক। তিনি বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে তিনটি আন্তদেশীয় ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে এসব ট্রেন বন্ধ করা হয়নি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষই এগুলো বন্ধ করেছে। ফলে চালুর বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাওয়ার পরই বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।মৈত্রী এক্সপ্রেসকে পদ্মা সেতু হয়ে চালানোর বিষয়ে জিয়াউল হক বলেন, ভারতীয় পক্ষ এ বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা করেছে। বাংলাদেশ জানিয়েছে, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক চ্যানেলে প্রস্তাব আকারে এলে তা পরীক্ষা করে দেখা হবে। কারণ, পদ্মা সেতু দিয়ে এর আগে কোনো আন্তদেশীয় ট্রেন চলেনি। নতুন রুটে ট্রেন চালাতে কারিগরি ও পরিচালনাগত সক্ষমতা যাচাই করতে হবে।জিয়াউল হক আরও বলেন, পদ্মা সেতু হয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস চললে যাত্রাপথের দূরত্ব কমবে এবং যাত্রীদের দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হতে পারে। একই সঙ্গে দূরত্ব কমার কারণে ভাড়াও পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রাণালয়ের এই কর্মকর্তা বলেন, এবারের বৈঠকে এ দুটি ট্রেন চালুর বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে ছিল না। তবে গত বছরের বৈঠকে এসব ট্রেন নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলে তা সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে।আখাউড়া-আগরতলা রেলপথে যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান জিয়াউল হক। তিনি বলেন, আগের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে ওই রুটে ট্রেন চালুর সম্ভাব্য যাত্রীচাহিদার তথ্য ও সহায়ক নথি দিতে হবে। কিন্তু এবারের বৈঠক পর্যন্ত ভারতীয় পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য দেয়নি। বৈঠকে বিষয়টি তাদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।তিনটি আন্তদেশীয় ট্রেন চালুর ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ও আস্থার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ কি না, জানতে চাইলে জিয়াউল হক বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের রেলওয়ের সম্পর্ক খারাপ ছিল না, এখনো ভালো আছে। এবারের বৈঠকে দুই পক্ষকেই ইতিবাচক মনে হয়েছে। গত বছর ভারতীয় পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানানো হলেও এবার সে বিষয়ে কোনো কথা ওঠেনি। এবার পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে দুই দেশের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কীভাবে তা সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে পর্যায়ে যেসব বিষয় সমাধান করা সম্ভব, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আর যেসব বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন, সেগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় উপস্থাপন করা হবে।
রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিতে অভিযান চালিয়ে হেরোইন, গাঁজা ও টাকা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। ডিএনসি জানিয়েছে, রাকিব ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এসব মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। তবে রাকিব পালিয়ে গেছেন।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. আল-আমিন ওরফে সাকিব (২৩) ও মো. মোজাম্মেল হক (৩২)।ডিএনসি জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, বনানী থানার কড়াইল বস্তির এরশাদ মাঠ এলাকায় মো. কালু মিয়ার ভাড়াটে মো. রাকিব ইসলাম তাঁর সংঘবদ্ধ দল নিয়ে তিন কক্ষের একটি ভাড়া বাড়ি থেকে অবৈধ মাদকদ্রব্য বিক্রি করছেন। ওই তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৫ গ্রাম হেরোইন, ২ কেজি গাঁজা, মাদক কারবারের ১৭ হাজার টাকাসহ আল-আমিন ও মোজাম্মেল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় মাদক কারবারি রাকিব ইসলাম পালিয়ে যান।অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, গ্রেপ্তার দুজনকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাঁরা জানান, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের প্রকৃত মালিক রাকিব ইসলাম। তাঁরা রাকিব ইসলামের পক্ষে অবৈধ মাদকদ্রব্য কেনাবেচার কাজে সহযোগিতা করতেন। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত, ২০২৬) অনুযায়ী মামলার কার্যক্রম চলছে।এর আগে গত ২৯ আগস্ট কড়াইল বস্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি মমিনের বাসায় অভিযান চালানো হয়েছিল। ওই অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক ও মাদক ব্যবসার ৪৩ লাখ টাকাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। তিনি বলেছেন, ‘বিরোধী দলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো তারা কী করে, আর কী বলে, এটা আমাদের বোধগম্য না। লংমার্চ করছে সরকারের বিরুদ্ধে, আবার সংসদে বলতেছে, এটা সরকারের সৃষ্ট নয়, তারা আন্তরিক। তাহলে কেন লংমার্চ করলাম, মানুষের ভোগান্তি কেন করলাম, এত তেল কেন পোড়ালাম? একটা লংমার্চের সার্থকতা কী?’আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম এ কথা বলেন। ‘হেবা আইনের বিতর্কিত সংশোধন প্রসঙ্গে শরিয়াহ্ ও আমাদের অবস্থান’ শিরোনামে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ইসলামী আন্দোলন।সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেন, এমন কোনো কর্মসূচি এখনো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দেয়নি যে সরকার চাপে পড়ে। কেন দেয়নি? কারণ, সরকারকে একটু সময় দিচ্ছে।… সৃষ্ট সমস্যার সমাধানে একটু সময় লাগবে। এ জন্য সমস্যার সমাধানের জন্য প্রেশারও করছেন এবং অপেক্ষাও করছেন যে সরকার সময় নিক।সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, ‘সরকারকে আমরা বক্তব্য দিয়ে প্রেশারে রাখব এবং সময় দিব। যদি এই সময়ের মধ্যে সরকার ব্যর্থ হয়, তাহলে অবশ্যই আমরা এমন কর্মসূচি দিব, সরকার নামতে বাধ্য হবে।’ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির বলেন, মাত্র ছয় মাস শেষ হতেই সরকারের বিরুদ্ধে লংমার্চ হয়েছে। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, দ্রব্যমূল্যের অবস্থা খুবই খারাপ। সরকার যানজট থেকে পরিত্রাণ দিতে পারেনি। সরকার সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এসব বিষয়ে মনোনিবেশ না করে সরকার হঠাৎ শরিয়াহ্বিরোধী আইন করছে। সরকারের মনে রাখা উচিত, মুসলমানদের ইমানের ওপর আঘাত এলে তারা রাস্তায় নামবে। গণ-অভ্যুত্থানের পর তাঁরা চেয়েছিলেন ইসলাম অনুযায়ী দেশ চলবে। সরকার এতে ব্যর্থ হলে তাঁরা আবার রাস্তায় নামবেন।হেবাসংক্রান্ত আইনের মাধ্যমে সরকার দেশের ওলামাদের অপমান করেছে বলে মন্তব্য করেন সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। তিনি বলেন, হেবাসংক্রান্ত আইনের বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম আগেই ভিন্নমত পোষণ করেছেন। সেখানে শরিয়াহ্–সংক্রান্ত একটি বিষয়ে খ্রিষ্টান পণ্ডিতদের রেফারেন্স ব্যবহার করে শরিয়াহ্বিরুদ্ধ আইন প্রণয়ন করা দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জ্ঞানীয় সম্পদের প্রতি স্পষ্ট উপেক্ষা। এর মাধ্যমে সরকার দেশের ওলামাদের অপমান করেছে।ফয়জুল করীম বলেন, বর্তমান সরকার কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন করবে না বলে বারবার অঙ্গীকার করেছে। কিন্তু ছয় মাস না যেতেই সরকার শরিয়াহ্বিরোধী আইন পাস করেছে। ইসলামী আন্দোলন এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। একই সঙ্গে দাবি জানাচ্ছে, অবিলম্বে এই আইন বাতিল করতে হবে।শুক্রবার বিক্ষোভসংবাদ সম্মেলনে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন-২০২৬’ আরও পর্যালোচনার দাবি জানান সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। এ দাবিতে শুক্রবার সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি।‘নারী সাংবাদিকদের পর্দা করে আসতে হবে’সংবাদ সম্মেলনে এক নারী সংবাদকর্মীকে সামনের কাতার থেকে সরিয়ে পেছনে বসানোর অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ইসলামী আন্দোলনের কোনো অনুষ্ঠানে নারী সাংবাদিকেরা সামনে বসবেন, নাকি পেছনে বসবেন?এর জবাবে ইসলামী আন্দোলনের দ্বিতীয় শীর্ষনেতা সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেন, ‘পর্দা করে আসবে...।’তখন এক সাংবাদিক বলেন, ‘আপনাদের দলের নেতা তো নারীদের সঙ্গে টক শো করেন।’জবাবে ফয়জুল করীম বলেন, ‘না, না, সেটা ঠিক না। যদি টক শো করে, আমরা সেখানে বলব, যদি শরিয়তের খেলাপ হয়, ঠিক না।’তখন সাংবাদিক বলেন, ‘আপনাদের মহাসচিবসহ অনেকে টক শো করেছেন।’ফয়জুল করীম এর জবাবে বলেন, ‘এ তথ্যটাও ঠিক না; মহাসচিব করে নাই। একটা করছিল; আমরা বাধা দিয়েছি। আমার কথা হইছে, আমার কোনো বোন যদি আসে, শরিয়তসম্মতভাবে আসবে। আমরা তাঁকে বাধা দিচ্ছি না। আমার কোনো বোন যদি সাংবাদিকতা করে, আমরা তাঁকে বাধা দিচ্ছি না কিন্তু। আমার বোন যদি সাংবাদিকতা করে, সে করবে, কিন্তু শরিয়তসম্মতভাবে। যদি সে শরিয়ত না মানে, আমাকে শরিয়ত মানার সুযোগ করে দিতে হবে।’সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমানসহ বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।