জাতীয়

‘আমার ছেলেকে বাঁচান’, ট্রেন থেকে পড়ে বাঁ হাত ও বাঁ পা হারানো আজমীরের মায়ের আকুতি

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
‘আমার ছেলেকে বাঁচান’, ট্রেন থেকে পড়ে বাঁ হাত ও বাঁ পা হারানো আজমীরের মায়ের আকুতি
‘আমার ছেলেকে বাঁচান’, ট্রেন থেকে পড়ে বাঁ হাত ও বাঁ পা হারানো আজমীরের মায়ের আকুতি

বাবার বকাঝকায় অভিমান করে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার কাপড়ের দোকান থেকে বেরিয়ে ট্রেনে চড়ে ঢাকায় এসেছিল কিশোর আবু হুরাইবা আজমীর (১৪)। ঢাকায় এসে ভালো না লাগায় পরদিন সকালে আবার কুমিল্লায় ট্রেনে ফিরছিল সে; কিন্তু বাড়ি ফেরার আগেই ঘটে গেল ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ঢাকায় বিমানবন্দর এলাকায় চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয় আজমীর। এতে তার বাঁ হাত ও বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সে এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

হাসপাতালে ছেলের পাশে বসে আজমীরের মা কুলসুম বেগমের একটাই আকুতি—ছেলেকে বাঁচাতে হবে; কিন্তু চিকিৎসার খরচ জোগানোর সামর্থ্য তাঁদের নেই।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আজমীরের মায়ের ভাষ্যমতে, ট্রেনে এক যুবক জোর করে তার মানিব্যাগ নিয়ে নেয়। মানিব্যাগে ২০০–৩০০ টাকা ছিল। সে বাধা দিলে ওই যুবক তাকে ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এরপর কী হয়েছে, তা আর বলতে পারেনি আজমীর।

গুরুতর আহত অবস্থায় আজমীরকে ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য উদ্ধার করেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল আটটার দিকে বিমানবন্দর তৃতীয় টার্মিনাল বরাবর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পরে ঢাকা রেলওয়ে থানার বিমানবন্দর ফাঁড়ির এক কর্মকর্তা আজমীরকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। এরপর ফায়ার সার্ভিসের ওই সদস্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে খবর পেয়ে তাঁর আত্মীয়স্বজন হাসপাতালে আসেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আজমীরের বিচ্ছিন্ন বাঁ হাত ও বাঁ পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাসপাতালের পক্ষ থেকে রক্ত সংগ্রহ করে তাঁকে দেওয়া হয়েছে। তবে আরও চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের জন্য রক্তের প্রয়োজন। তাঁর রক্তের গ্রুপ ‘ও পজিটিভ’।

বাবার দোকানে হিসাব রাখত আজমীর

হাসপাতালে আজমীরের মা কুলসুম বেগম প্রথম আলোকে জানান, তাঁর স্বামী আলামিন কুমিল্লায় কাপড়ের ব্যবসা করেন। তাঁদের বাড়ি নরসিংদীর বেলাবর ওয়ারী গ্রামে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে আজমীর বড়। সে তার বাবার কাপড়ের দোকানের ব্যবসা দেখাশোনা করত। এর আগে সে কুমিল্লার একটি হেফজখানায় পড়ত। সেখানে সে পবিত্র কোরআনের ২০ পারা মুখস্থ করেছিল।

গত কোরবানির ছুটিতে বাড়িতে আসার পর আর হেফজখানায় যায়নি আজমীর। এরপর তাঁকে বাবার কাপড়ের দোকানে বসানো হয়। ব্যবসার হিসাব-নিকাশ ঠিকমতো রাখলেও একদিন এ নিয়ে বাবার বকাঝকা শুনতে হয় তাকে।

কুলসুম বেগমের ভাষ্যমতে, বাবার বকাঝকায় অভিমান করে বুধবার রাতে দোকান থেকে বের হয়ে ট্রেনে চড়ে ঢাকায় চলে আসে আজমীর; কিন্তু ঢাকায় এসে ভালো লাগছিল না তার। তাই পরের দিন সকালে কমলাপুর থেকে চট্টলা এক্সপ্রেসে করে কুমিল্লার উদ্দেশে বাড়ি ফিরছিল সে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা রেলওয়ে থানার বিমানবন্দর ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. মাহবুব প্রথম আলোকে বলেন, আজমীরের সঙ্গে আরও কয়েকজন কিশোর ছিল। তারা ট্রেনের ছাদে ছিল। তবে আজমীর ট্রেনের ছাদ থেকে পড়েছে, নাকি ট্রেনের ভেতর থেকে পড়েছে, নাকি কেউ তাকে ফেলে দিয়েছে—এই বিষয়ে তাঁরা এখনো নিশ্চিত নন। এই পুলিশ কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, আজমীর একেকবার একেক কথা বলছে। কিছুটা সুস্থ হলে তার সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
এক সাবস্ক্রিপশনে চ্যাটজিপিটি-জেমিনাই-ক্লডের মতো এআই সেবা দেবে গ্রামীণফোন ও রবি
এক সাবস্ক্রিপশনে চ্যাটজিপিটি-জেমিনাই-ক্লডের মতো এআই সেবা দেবে গ্রামীণফোন ও রবি

নতুন সেবা চালু করেছে দুই মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবি। এই সেবার আওতায় বিভিন্ন এআই প্ল্যাটফর্মের জন্য আলাদা সাবস্ক্রিপশন এবং আন্তর্জাতিক পেমেন্টের ঝামেলা দূর করে নিজেদের অ্যাপের মাধ্যমে একটি সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে এসব সেবা ব্যবহারের সুযোগ দেবে এই দুই অপারেটর। ফলে গ্রামীণফোন ও রবির গ্রাহকেরা এই সেবা নিলে ঝামেলা ছাড়াই চ্যাটজিপিটি, ক্লড, জেমিনাই, ডিপসিকসহ একাধিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মডেল ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। বৃহস্পতিবার গ্রামীণফোন এবং বুধবার রবির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এই সেবা চালুর কথা জানানো হয়েছে।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রামীণফোন জানিয়েছে, ‘ওয়ানএআই’ নামের এই সেবা চালু করেছে অপারেটরটি। মাইজিপি অ্যাপের মাধ্যমে একটি সাবস্ক্রিপশনে একাধিক এআই মডেল ও টুল ব্যবহারের সুযোগ পাবেন গ্রাহকেরা। এর মধ্যে রয়েছে চ্যাটজিপিটি, ক্লড, গ্রোক, ডিপসিক, জেমিনাইসহ বিভিন্ন এআই মডেল।গ্রামীণফোন বলছে, শেখা ও গবেষণা, কনটেন্ট লেখা, কোডিং ও সফটওয়্যার তৈরি, সৃজনশীল কাজ, এআই দিয়ে ছবি তৈরি, ডকুমেন্ট বিশ্লেষণ ও সারসংক্ষেপ তৈরি ইত্যাদি কাজে ওয়ানএআই ব্যবহার করা যাবে। গ্রাহকেরা মাইজিপি অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি সেবাটি ব্যবহার করতে পারবেন এবং মোবাইল ব্যালেন্সের মাধ্যমে পছন্দের প্যাকেজ কিনতে পারবেন।শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়ানএআইয়ের প্যাকেজ শুরু হচ্ছে মাসে ৭১ টাকা থেকে। এতে আনলিমিটেড এআই চ্যাটের পাশাপাশি গবেষণা, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন ও কোডিংয়ে সহায়তার সুবিধা থাকবে বলে জানিয়েছে গ্রামীণফোন।এই সেবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ানএআইয়ের মতো উদ্যোগ সাধারণ মানুষের কাছে এআই সহজলভ্য করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, গবেষণা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান বলেন, মাইজিপি অ্যাপে ওয়ানএআই যুক্ত করার মাধ্যমে বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের হাতে এআইয়ের সম্ভাবনা সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে শেখা, কাজ, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের পথ আরও সহজ হবে।‘রবি এআই স্পেস’এর আগে বুধবার একাধিক এআই মডেল ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে ‘রবি এআই স্পেস’ চালুর ঘোষণা দেয় রবি আজিয়াটা। ‘এভরি এআই’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে সেবাটি চালু করেছে অপারেটরটি।রবির গ্রাহকেরা মাই রবি অ্যাপের মাধ্যমে ‘রবি এআই স্পেস’ ব্যবহার করতে পারবেন। এতে চ্যাটজিপিটি, জেমিনাই, ক্লড ও ডিপসিকের মতো এআই মডেল ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। একটি প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন অথবা নির্দিষ্ট এআই বান্ডেল প্যাক কিনে এসব মডেল ব্যবহার করা যাবে।রবি বলছে, আন্তর্জাতিক পেমেন্টের সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশের অনেক ব্যবহারকারী এত দিন বিভিন্ন বৈশ্বিক ডিজিটাল সেবা সরাসরি ব্যবহার করতে পারেননি। মাই রবি অ্যাপের মাধ্যমে মোবাইল ডেটা বান্ডল কিনে এআই মডেল ব্যবহার বা এআই টোকেন সংগ্রহের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। ব্যবহারকারীরা এভরি এআই অ্যাপের মধ্যেই তাঁদের টোকেনের বর্তমান পরিমাণ দেখতে পারবেন।শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য করে সেবাটি চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রবি। গবেষণা, লেখালেখি, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও দৈনন্দিন কাজের জন্য এআইভিত্তিক বিভিন্ন টুল ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও জিয়াদ সাতারা বলেন, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের কম হার বাংলাদেশের বাজারে বৈশ্বিক ডিজিটাল টুল ব্যবহারের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের একটি বাধা। মাই রবি অ্যাপে অল-ইন-ওয়ান এআই প্ল্যাটফর্ম আনার মাধ্যমে সেই বাধা দূর করার চেষ্টা করা হয়েছে।

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
দেশে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ তরুণ ই-সিগারেটসহ নতুন তামাকপণ্য ব্যবহার করছেন

দেশে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ তরুণ ই-সিগারেটসহ নতুন তামাকপণ্য ব্যবহার করছেন

আন্তদেশীয় ট্রেন চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি, ভারতকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিতে হবে

আন্তদেশীয় ট্রেন চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি, ভারতকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিতে হবে

আপাতত মক্কা চুক্তি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেই: পাকিস্তান

আপাতত মক্কা চুক্তি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেই: পাকিস্তান

পুলিশই যখন খুনির শিকার
পুলিশই যখন খুনির শিকার

পুলিশের জরুরি নম্বরে ফোন করেন এক আতঙ্কিত নারী। তাঁর দাবি, এক ব্যক্তি ছুরি নিয়ে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান দুই পুলিশ কর্মকর্তা। কিন্তু সেখানে কাউকে পাওয়া যায় না। পরদিন উদ্ধার হয় তাঁদের মরদেহ—নৃশংসভাবে শিরশ্ছেদ করা। এক সপ্তাহ পর একই কায়দায় খুন হন আরও দুই পুলিশ কর্মকর্তা! গত ২০ আগস্ট নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে ‘ব্ল্যাড স্যাক্রিফাইস’। দ্য কিলিং ও ট্যাবু নির্মাতা ক্রিস্টোফার নায়হোমের সিরিজটি এখনো প্ল্যাটফর্মটির নন–ইংলিশ সিরিজের তালিকার শীর্ষে আছে। খুনি কেন পুলিশকেই বেছে নিচ্ছে পুলিশ হত্যার তদন্তে নামেন গোয়েন্দা টমাস বার্গ। শুরুতে ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন হত্যাকাণ্ড মনে হলেও দ্রুত বোঝা যায়, এর পেছনে রয়েছে আরও বড় পরিকল্পনা। তদন্তের একপর্যায়ে টমাসকে ফিরতে হয় বাবা আলফ্রেডের কাছে। বাবা একসময় ছিলেন পুলিশের দক্ষ গোয়েন্দা; কিন্তু পরে নানা কারণে বাহিনী থেকে ছিটকে পড়েন। বাবা-ছেলের সম্পর্ক বহু বছর ধরে তিক্ত। তবু এই ভয়ংকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য ভেদ করতে পুরোনো অভিমান সরিয়ে একসঙ্গে কাজ করেন তাঁরা।বাবা-ছেলের গল্পই হয়ে ওঠে আবেগের কেন্দ্রক্রাইম থ্রিলার হলেও এটি শেষ পর্যন্ত শুধু খুনিকে খোঁজার গল্প থাকে না। টমাস ও আলফ্রেডের সম্পর্ক ক্রমে সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। টমাস নিজেকে বাবার চেয়ে আলাদা মানুষ মনে করেন; কিন্তু নিজের পরিবার—স্ত্রী শার্লট ও ছোট মেয়ের সঙ্গে তাঁর দূরত্বও ধীরে ধীরে চোখে পড়ে। অর্থাৎ যে পেশার কারণে তাঁর বাবা পরিবার থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন, টমাসও কি অজান্তে একই পথে হাঁটছেন? বাবা-ছেলের সম্পর্ককেই সিরিজের মূল সুর।সমালোচকদের বড় একটি অংশ সিরিজটির আবহ, অভিনয় ও টান টান নির্মাণের প্রশংসা করেছেন। রটেন টমেটোজে নয়টি সমালোচনার ভিত্তিতে সিরিজটির স্কোর ৮৯ শতাংশ। সমালোচকেরা বলছেন, সিরিজটি নরডিক নোয়ার মূল বৈশিষ্ট্য—নিখুঁত তদন্ত, সামাজিক-প্রাতিষ্ঠানিক সংকট, ধূসর আবহ—সবই ধরে রেখেছে। পাঁচ পর্বের সংক্ষিপ্ত দৈর্ঘ্যকেও তাঁরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। কিছু সমালোচকের মতে, টমাসকে যতটা দক্ষ গোয়েন্দা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা হয়েছে, তাঁর নিজের তদন্ত-সাফল্য ততটা জোরালো নয়।‘ব্লাড স্যাক্রিফাইস’–এর পোস্টার। আইএমডিবি অভিনয়ের প্রশংসাটমাস বার্গের চরিত্রে ইয়াকভ অফটেব্রো সংযত অভিনয় করেছেন। চরিত্রটিকে অতিরিক্ত নাটকীয় না করে তাঁর মুখের অভিব্যক্তি ও নীরবতার মধ্য দিয়ে চাপ প্রকাশ করেছেন অভিনেতা। তবে আলফ্রেড চরিত্রে পিটার অ্যান্ডারসন অনেক বেশি স্মরণীয়। রুক্ষ, জেদি, পুরোনো ধাঁচের এই সাবেক গোয়েন্দার মধ্যে একই সঙ্গে আছে অভিজ্ঞতা, ক্ষোভ ও ভঙ্গুরতা। টমাসের সঙ্গে তাঁর মুখোমুখি দৃশ্যগুলোতেই সিরিজের সবচেয়ে শক্তিশালী আবেগ তৈরি হয়।৩ দিনে ৪ কোটি ভিউ! চমকে দিল যে সিনেমাসিরিজটির সবচেয়ে বড় শক্তিসবচেয়ে বড় শক্তি হলো ভয়ের অবস্থান বদলে দেওয়া। এখানে পুলিশ কেবল অপরাধীর পেছনে ছুটছে না; তারাও জানে, পরের ফোনকলটি হয়তো তাদের মৃত্যুর ডাক। আরেকটি বড় শক্তি হলো আবহ। সুইডেনের ঠান্ডা, নীরব পরিবেশের সঙ্গে রক্তাক্ত হত্যাকাণ্ডের বৈপরীত্য সিরিজটিকে অস্বস্তিকর করে তোলে। অতিপ্রাকৃত কোনো উপাদান নেই; কিন্তু অনেক দৃশ্য হরর ছবির মতো আতঙ্ক তৈরি করে।মাত্র পাঁচ পর্বে গল্প শেষ করাও সুবিধা। প্রতিটি পর্ব ৪৪ থেকে ৫৮ মিনিট; ফলে টানা দেখে শেষ করা যায়। এ জন্যই হয়তো বিশ্বজুড়ে দর্শকেরা মজেছেন নতুন এই নরডিক নোয়ায়।ভ্যারাইটি ও কোলাইডার অবলম্বনে

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
আত্মহত্যার বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টিতে টিএসসিতে মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি

আত্মহত্যার বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টিতে টিএসসিতে মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি

কড়াইলে বস্তিতে অভিযান, হেরোইন-গাঁজা উদ্ধার

কড়াইলে বস্তিতে অভিযান, হেরোইন-গাঁজা উদ্ধার

মিরপুর ১ থেকে টেকনিক্যাল সড়কে বর্জ্য অপসারণে ডিএনসিসিকে আইনি নোটিশ

মিরপুর ১ থেকে টেকনিক্যাল সড়কে বর্জ্য অপসারণে ডিএনসিসিকে আইনি নোটিশ

‘আমার ছেলেকে বাঁচান’, ট্রেন থেকে পড়ে বাঁ হাত ও বাঁ পা হারানো আজমীরের মায়ের আকুতি
‘আমার ছেলেকে বাঁচান’, ট্রেন থেকে পড়ে বাঁ হাত ও বাঁ পা হারানো আজমীরের মায়ের আকুতি

বাবার বকাঝকায় অভিমান করে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার কাপড়ের দোকান থেকে বেরিয়ে ট্রেনে চড়ে ঢাকায় এসেছিল কিশোর আবু হুরাইবা আজমীর (১৪)। ঢাকায় এসে ভালো না লাগায় পরদিন সকালে আবার কুমিল্লায় ট্রেনে ফিরছিল সে; কিন্তু বাড়ি ফেরার আগেই ঘটে গেল ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ঢাকায় বিমানবন্দর এলাকায় চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয় আজমীর। এতে তার বাঁ হাত ও বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সে এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।হাসপাতালে ছেলের পাশে বসে আজমীরের মা কুলসুম বেগমের একটাই আকুতি—ছেলেকে বাঁচাতে হবে; কিন্তু চিকিৎসার খরচ জোগানোর সামর্থ্য তাঁদের নেই।হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আজমীরের মায়ের ভাষ্যমতে, ট্রেনে এক যুবক জোর করে তার মানিব্যাগ নিয়ে নেয়। মানিব্যাগে ২০০–৩০০ টাকা ছিল। সে বাধা দিলে ওই যুবক তাকে ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এরপর কী হয়েছে, তা আর বলতে পারেনি আজমীর।গুরুতর আহত অবস্থায় আজমীরকে ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য উদ্ধার করেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল আটটার দিকে বিমানবন্দর তৃতীয় টার্মিনাল বরাবর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।পরে ঢাকা রেলওয়ে থানার বিমানবন্দর ফাঁড়ির এক কর্মকর্তা আজমীরকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। এরপর ফায়ার সার্ভিসের ওই সদস্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে খবর পেয়ে তাঁর আত্মীয়স্বজন হাসপাতালে আসেন।ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আজমীরের বিচ্ছিন্ন বাঁ হাত ও বাঁ পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাসপাতালের পক্ষ থেকে রক্ত সংগ্রহ করে তাঁকে দেওয়া হয়েছে। তবে আরও চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের জন্য রক্তের প্রয়োজন। তাঁর রক্তের গ্রুপ ‘ও পজিটিভ’।বাবার দোকানে হিসাব রাখত আজমীরহাসপাতালে আজমীরের মা কুলসুম বেগম প্রথম আলোকে জানান, তাঁর স্বামী আলামিন কুমিল্লায় কাপড়ের ব্যবসা করেন। তাঁদের বাড়ি নরসিংদীর বেলাবর ওয়ারী গ্রামে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে আজমীর বড়। সে তার বাবার কাপড়ের দোকানের ব্যবসা দেখাশোনা করত। এর আগে সে কুমিল্লার একটি হেফজখানায় পড়ত। সেখানে সে পবিত্র কোরআনের ২০ পারা মুখস্থ করেছিল।গত কোরবানির ছুটিতে বাড়িতে আসার পর আর হেফজখানায় যায়নি আজমীর। এরপর তাঁকে বাবার কাপড়ের দোকানে বসানো হয়। ব্যবসার হিসাব-নিকাশ ঠিকমতো রাখলেও একদিন এ নিয়ে বাবার বকাঝকা শুনতে হয় তাকে।কুলসুম বেগমের ভাষ্যমতে, বাবার বকাঝকায় অভিমান করে বুধবার রাতে দোকান থেকে বের হয়ে ট্রেনে চড়ে ঢাকায় চলে আসে আজমীর; কিন্তু ঢাকায় এসে ভালো লাগছিল না তার। তাই পরের দিন সকালে কমলাপুর থেকে চট্টলা এক্সপ্রেসে করে কুমিল্লার উদ্দেশে বাড়ি ফিরছিল সে।ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা রেলওয়ে থানার বিমানবন্দর ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. মাহবুব প্রথম আলোকে বলেন, আজমীরের সঙ্গে আরও কয়েকজন কিশোর ছিল। তারা ট্রেনের ছাদে ছিল। তবে আজমীর ট্রেনের ছাদ থেকে পড়েছে, নাকি ট্রেনের ভেতর থেকে পড়েছে, নাকি কেউ তাকে ফেলে দিয়েছে—এই বিষয়ে তাঁরা এখনো নিশ্চিত নন। এই পুলিশ কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, আজমীর একেকবার একেক কথা বলছে। কিছুটা সুস্থ হলে তার সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
চট্টগ্রাম নগরে ৭০ বিদেশি নাগরিক আটক, পুলিশ বলছে অনলাইন প্রতারক চক্রের সদস্য

চট্টগ্রাম নগরে ৭০ বিদেশি নাগরিক আটক, পুলিশ বলছে অনলাইন প্রতারক চক্রের সদস্য

এত তেল কেন পোড়ালাম, বিরোধী দলের লংমার্চ প্রসঙ্গে ফয়জুল করীম

এত তেল কেন পোড়ালাম, বিরোধী দলের লংমার্চ প্রসঙ্গে ফয়জুল করীম

ঋণখেলাপির অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করার দায়িত্ব বিএনপির কাঁধে পড়েছে: প্রধানমন্ত্রী

ঋণখেলাপির অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করার দায়িত্ব বিএনপির কাঁধে পড়েছে: প্রধানমন্ত্রী

0 Comments