জাতীয়

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট লংমার্চে মিটলে আমরাই আগে করতাম: প্রধানমন্ত্রী

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট লংমার্চে মিটলে 
আমরাই আগে করতাম: প্রধানমন্ত্রী
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট লংমার্চে মিটলে আমরাই আগে করতাম: প্রধানমন্ত্রী

গাড়ির লংমার্চ করে গ্যাস বা বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করা গেলে বিএনপিই সবার আগে লংমার্চের আয়োজন করত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিরোধী দলের লংমার্চ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ সংকট সমাধানে সরকার বিরোধী দলের সহায়তা আশা করেছিল। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া এসব সমস্যাকে অজুহাত হিসেবে না দেখিয়ে সমাধানে কাজ করছে সরকার।

আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান এসব কথা বলেন। গত ২৭ আগস্ট এই অধিবেশন শুরু হয়েছিল। সমাপনী বক্তব্যে তিনি গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও তা সমাধানে সরকারের উদ্যোগ, বিভিন্ন খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি এবং সরকারি ও বিরোধী দলের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন।

সরকার কী পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছিল তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় গ্যাস-বিদ্যুৎ, শিল্পকারখানা, শিক্ষাব্যবস্থা ও ব্যাংক খাতসহ প্রতিটি খাতে অনিয়ম-দুর্নীতির পাহাড় ছিল। এসব বিষয়ে দেশের জনগণ ওয়াকিবহাল।

কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, এর নামে কিছু মানুষকে সুবিধা দিয়ে রাষ্ট্রকে ঋণগ্রস্ত করা হয়েছে। তারপরও বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে পারেনি বিগত সরকার।

লংমার্চে সমাধান হলে আমরাই আগে করতাম

গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট সমাধানে সরকার বিরোধী দলের সহায়তা আশা করেছিল বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখলাম, একটি বিশাল গাড়ির লংমার্চ আয়োজন করা হয়েছিল। বাইরে বিভিন্ন মানুষ একটি কথা বলে যে, জনগণকে অযথা উত্তেজিত করে অন্য কিছু করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল কি না? গাড়ির লংমার্চ করে যদি গ্যাস বা বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করাই যেত, তাহলে আমরাই সবচেয়ে আগে লংমার্চের আয়োজন করতাম।’

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ২০২২ সালে তৎকালীন সরকারের নেওয়া কিছু উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যারা ২০০৯ সাল থেকে বছরের পর বছর ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিল, মানুষের কথা বলা ও ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তাদেরও বিদ্যুৎ সমস্যা মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখনো চলছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দেশে একটি এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনা ঘটেছে। এরপরও সরকার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে।

বাস্তব পরিস্থিতি জনগণের সামনে তুলে ধরা সব সংসদ সদস্যের দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন সংসদ নেতা। তিনি বলেন, এই অধিবেশনেই বিদ্যুৎ সমস্যা মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ইতিমধ্যে সরকার অনেকগুলো ব্যবস্থা নিয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করতে পারবে বলে সরকার দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি যতবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, প্রতিবার দেশকে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি থেকে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছে। এ সময় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিভিন্ন অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

অদৃশ্য ইশারায় গ্যাস উত্তোলনের চেষ্টা হয়নি

দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনে বিগত সরকারের উদ্যোগের সমালোচনা করে সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের ডানে এবং বামে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলো সমুদ্র থেকে গ্যাস আহরণ করছে। কোনো এক অদৃশ্য ইশারায় মধ্যখানে বাংলাদেশের অংশে বঙ্গোপসাগর থেকে গ্যাস উত্তোলনের কোনো চেষ্টা করা হয়নি।’

কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে তারেক রহমান বলেন, ‘অনেকে বলে থাকে, বিশেষ কোনো দেশ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তারা যাতে নির্বিঘ্নে গ্যাস নিয়ে যেতে পারে, সেই জন্যই বাংলাদেশের অংশে বঙ্গোপসাগরে গ্যাসকূপ খনন করা হয়নি।’ তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ছিল বাংলাদেশের গ্যাস আমদানির প্রধান উৎস। দেশকে পুরোপুরি আমদানিনির্ভর করে ফেলা হয়েছিল।

বর্তমান সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের ১০-১২ দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হয়। এতে ওই অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাস আমদানিতে সমস্যা দেখা দেয়। এর মধ্যে দেশে থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিটের (এফএসআরইউ) একটিতে দুর্ঘটনা ঘটে। সেটি বিকল হয়ে যাওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে।

দুর্নীতি ও খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট অপশক্তি ২০০১ সালের জুনে বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে জুলাই মাসে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়েছিল। তাঁর দাবি, বিএনপি সরকার ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশকে দুর্নীতির কলঙ্ক থেকে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছিল।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থ পাচারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে পালানোর আগ পর্যন্ত তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশকে ঋণখেলাপির অপবাদ সইতে হয়েছে। এই অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করার দায়িত্ব এখন বিএনপির কাঁধে পড়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে বর্তমানে খেলাপি ঋণের অনুপাত কমেছে এবং পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ভিন্নমত যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়

বাক্‌স্বাধীনতা চর্চায় শালীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলে জনগণের সকল গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বাক্‌স্বাধীনতা। বর্তমানে দেশে গণতান্ত্রিক একটি পরিবেশ বিরাজ করছে, বাক্‌স্বাধীনতা অবারিত। কিন্তু আমাদের মনে রাখা দরকার, বাক্‌স্বাধীনতা যেন বাক্শালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে।’

রাজনীতিতে গালাগালির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারেক রহমান। এ জন্য দলমত নির্বিশেষে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের তাগিদ দেন তিনি।

সরকারি ও বিরোধী দল মিলে কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তির মধ্যে বিভেদ-বিরোধ শেষ পর্যন্ত বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট অপশক্তিকে পুনর্জীবিত করতে পারে। সেই পথ সুগম করতে পারে। এটি যেন কেউ ভুলে না যান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় ভিন্নমত ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে। সারা পৃথিবীতেই তা আছে। এটিও গণতান্ত্রিক চর্চা। তবে ভিন্নমত যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

সংসদকে সমস্যা সমাধানের কেন্দ্র করতে চান

চলতি অধিবেশনে বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন সংসদ নেতা। তিনি বলেন, প্রতিটি আলোচনা কার্যকর হয়েছে, এমন দাবি তিনি করবেন না। তবে সদিচ্ছার অভাব ছিল না, সেটি প্রমাণিত হয়েছে। তাঁরা সংসদকে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু করতে চান।

তারেক রহমান বলেন, উভয় পক্ষ দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাজ করছে, আলোচনা করেছে এবং কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছে—এ বিষয়ে তাঁর বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়ে দলটিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। কার্যকর সংসদীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলও সরকারের অংশ। তাই বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চান। জনগণকে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের জন্য বিএনপি কাজ করছে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
আন্তদেশীয় ট্রেন চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি, ভারতকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিতে হবে
আন্তদেশীয় ট্রেন চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি, ভারতকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিতে হবে

বন্ধ থাকা বাংলাদেশ-ভারত আন্তদেশীয় ট্রেন চালুর বিষয়ে ভারত আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলে তা পরীক্ষা করে দেখবে বাংলাদেশ। তিন দিন ধরে অনুষ্ঠিত ৩৮তম বাংলাদেশ-ভারত আন্তসরকার রেলওয়ে মিটিংয়ে (আইজিআরএম) ভারতীয় পক্ষ থেকে মৈত্রী এক্সপ্রেসকে পদ্মা সেতু হয়ে চালানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বন্ধ থাকা মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস কবে চালু হবে, সেই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।বৃহস্পতিবার রেলভবনে তিন দিনব্যাপী আইজিআরএম বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউল হক। তিনি বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে তিনটি আন্তদেশীয় ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে এসব ট্রেন বন্ধ করা হয়নি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষই এগুলো বন্ধ করেছে। ফলে চালুর বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাওয়ার পরই বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।মৈত্রী এক্সপ্রেসকে পদ্মা সেতু হয়ে চালানোর বিষয়ে জিয়াউল হক বলেন, ভারতীয় পক্ষ এ বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা করেছে। বাংলাদেশ জানিয়েছে, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক চ্যানেলে প্রস্তাব আকারে এলে তা পরীক্ষা করে দেখা হবে। কারণ, পদ্মা সেতু দিয়ে এর আগে কোনো আন্তদেশীয় ট্রেন চলেনি। নতুন রুটে ট্রেন চালাতে কারিগরি ও পরিচালনাগত সক্ষমতা যাচাই করতে হবে।জিয়াউল হক আরও বলেন, পদ্মা সেতু হয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস চললে যাত্রাপথের দূরত্ব কমবে এবং যাত্রীদের দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হতে পারে। একই সঙ্গে দূরত্ব কমার কারণে ভাড়াও পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রাণালয়ের এই কর্মকর্তা বলেন, এবারের বৈঠকে এ দুটি ট্রেন চালুর বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে ছিল না। তবে গত বছরের বৈঠকে এসব ট্রেন নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলে তা সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে।আখাউড়া-আগরতলা রেলপথে যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান জিয়াউল হক। তিনি বলেন, আগের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে ওই রুটে ট্রেন চালুর সম্ভাব্য যাত্রীচাহিদার তথ্য ও সহায়ক নথি দিতে হবে। কিন্তু এবারের বৈঠক পর্যন্ত ভারতীয় পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য দেয়নি। বৈঠকে বিষয়টি তাদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।তিনটি আন্তদেশীয় ট্রেন চালুর ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ও আস্থার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ কি না, জানতে চাইলে জিয়াউল হক বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের রেলওয়ের সম্পর্ক খারাপ ছিল না, এখনো ভালো আছে। এবারের বৈঠকে দুই পক্ষকেই ইতিবাচক মনে হয়েছে। গত বছর ভারতীয় পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানানো হলেও এবার সে বিষয়ে কোনো কথা ওঠেনি। এবার পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে দুই দেশের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কীভাবে তা সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে পর্যায়ে যেসব বিষয় সমাধান করা সম্ভব, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আর যেসব বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন, সেগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় উপস্থাপন করা হবে।

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
মক্কা চুক্তির আকার বাড়ানোর আপাতত পরিকল্পনা নেই: পাকিস্তান

মক্কা চুক্তির আকার বাড়ানোর আপাতত পরিকল্পনা নেই: পাকিস্তান

পুলিশই যখন খুনির শিকার

পুলিশই যখন খুনির শিকার

আত্মহত্যার বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টিতে টিএসসিতে মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি

আত্মহত্যার বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টিতে টিএসসিতে মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি

কড়াইলে বস্তিতে অভিযান, হেরোইন-গাঁজা উদ্ধার
কড়াইলে বস্তিতে অভিযান, হেরোইন-গাঁজা উদ্ধার

রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিতে অভিযান চালিয়ে হেরোইন, গাঁজা ও টাকা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। ডিএনসি জানিয়েছে, রাকিব ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এসব মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। তবে রাকিব পালিয়ে গেছেন।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. আল-আমিন ওরফে সাকিব (২৩) ও মো. মোজাম্মেল হক (৩২)।ডিএনসি জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, বনানী থানার কড়াইল বস্তির এরশাদ মাঠ এলাকায় মো. কালু মিয়ার ভাড়াটে মো. রাকিব ইসলাম তাঁর সংঘবদ্ধ দল নিয়ে তিন কক্ষের একটি ভাড়া বাড়ি থেকে অবৈধ মাদকদ্রব্য বিক্রি করছেন। ওই তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৫ গ্রাম হেরোইন, ২ কেজি গাঁজা, মাদক কারবারের ১৭ হাজার টাকাসহ আল-আমিন ও মোজাম্মেল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় মাদক কারবারি রাকিব ইসলাম পালিয়ে যান।অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, গ্রেপ্তার দুজনকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাঁরা জানান, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের প্রকৃত মালিক রাকিব ইসলাম। তাঁরা রাকিব ইসলামের পক্ষে অবৈধ মাদকদ্রব্য কেনাবেচার কাজে সহযোগিতা করতেন। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত, ২০২৬) অনুযায়ী মামলার কার্যক্রম চলছে।এর আগে গত ২৯ আগস্ট কড়াইল বস্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি মমিনের বাসায় অভিযান চালানো হয়েছিল। ওই অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক ও মাদক ব্যবসার ৪৩ লাখ টাকাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
মিরপুর ১ থেকে টেকনিক্যাল সড়কে বর্জ্য অপসারণে ডিএনসিসিকে আইনি নোটিশ

মিরপুর ১ থেকে টেকনিক্যাল সড়কে বর্জ্য অপসারণে ডিএনসিসিকে আইনি নোটিশ

‘আমার ছেলেকে বাঁচান’, ট্রেন থেকে পড়ে বাঁ হাত ও বাঁ পা হারানো আজমীরের মায়ের আকুতি

‘আমার ছেলেকে বাঁচান’, ট্রেন থেকে পড়ে বাঁ হাত ও বাঁ পা হারানো আজমীরের মায়ের আকুতি

চট্টগ্রাম নগরে ৭০ বিদেশি নাগরিক আটক, পুলিশ বলছে অনলাইন প্রতারক চক্রের সদস্য

চট্টগ্রাম নগরে ৭০ বিদেশি নাগরিক আটক, পুলিশ বলছে অনলাইন প্রতারক চক্রের সদস্য

এত তেল কেন পোড়ালাম, বিরোধী দলের লংমার্চ প্রসঙ্গে ফয়জুল করীম
এত তেল কেন পোড়ালাম, বিরোধী দলের লংমার্চ প্রসঙ্গে ফয়জুল করীম

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। তিনি বলেছেন, ‘বিরোধী দলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো তারা কী করে, আর কী বলে, এটা আমাদের বোধগম্য না। লংমার্চ করছে সরকারের বিরুদ্ধে, আবার সংসদে বলতেছে, এটা সরকারের সৃষ্ট নয়, তারা আন্তরিক। তাহলে কেন লংমার্চ করলাম, মানুষের ভোগান্তি কেন করলাম, এত তেল কেন পোড়ালাম? একটা লংমার্চের সার্থকতা কী?’আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম এ কথা বলেন। ‘হেবা আইনের বিতর্কিত সংশোধন প্রসঙ্গে শরিয়াহ্‌ ও আমাদের অবস্থান’ শিরোনামে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ইসলামী আন্দোলন।সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেন, এমন কোনো কর্মসূচি এখনো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দেয়নি যে সরকার চাপে পড়ে। কেন দেয়নি? কারণ, সরকারকে একটু সময় দিচ্ছে।… সৃষ্ট সমস্যার সমাধানে একটু সময় লাগবে। এ জন্য সমস্যার সমাধানের জন্য প্রেশারও করছেন এবং অপেক্ষাও করছেন যে সরকার সময় নিক।সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, ‘সরকারকে আমরা বক্তব্য দিয়ে প্রেশারে রাখব এবং সময় দিব। যদি এই সময়ের মধ্যে সরকার ব্যর্থ হয়, তাহলে অবশ্যই আমরা এমন কর্মসূচি দিব, সরকার নামতে বাধ্য হবে।’ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির বলেন, মাত্র ছয় মাস শেষ হতেই সরকারের বিরুদ্ধে লংমার্চ হয়েছে। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, দ্রব্যমূল্যের অবস্থা খুবই খারাপ। সরকার যানজট থেকে পরিত্রাণ দিতে পারেনি। সরকার সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এসব বিষয়ে মনোনিবেশ না করে সরকার হঠাৎ শরিয়াহ্‌বিরোধী আইন করছে। সরকারের মনে রাখা উচিত, মুসলমানদের ইমানের ওপর আঘাত এলে তারা রাস্তায় নামবে। গণ-অভ্যুত্থানের পর তাঁরা চেয়েছিলেন ইসলাম অনুযায়ী দেশ চলবে। সরকার এতে ব্যর্থ হলে তাঁরা আবার রাস্তায় নামবেন।হেবাসংক্রান্ত আইনের মাধ্যমে সরকার দেশের ওলামাদের অপমান করেছে বলে মন্তব্য করেন সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। তিনি বলেন, হেবাসংক্রান্ত আইনের বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম আগেই ভিন্নমত পোষণ করেছেন। সেখানে শরিয়াহ্‌–সংক্রান্ত একটি বিষয়ে খ্রিষ্টান পণ্ডিতদের রেফারেন্স ব্যবহার করে শরিয়াহ্‌বিরুদ্ধ আইন প্রণয়ন করা দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জ্ঞানীয় সম্পদের প্রতি স্পষ্ট উপেক্ষা। এর মাধ্যমে সরকার দেশের ওলামাদের অপমান করেছে।ফয়জুল করীম বলেন, বর্তমান সরকার কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন করবে না বলে বারবার অঙ্গীকার করেছে। কিন্তু ছয় মাস না যেতেই সরকার শরিয়াহ্‌বিরোধী আইন পাস করেছে। ইসলামী আন্দোলন এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। একই সঙ্গে দাবি জানাচ্ছে, অবিলম্বে এই আইন বাতিল করতে হবে।শুক্রবার বিক্ষোভসংবাদ সম্মেলনে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন-২০২৬’ আরও পর্যালোচনার দাবি জানান সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। এ দাবিতে শুক্রবার সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি।‘নারী সাংবাদিকদের পর্দা করে আসতে হবে’সংবাদ সম্মেলনে এক নারী সংবাদকর্মীকে সামনের কাতার থেকে সরিয়ে পেছনে বসানোর অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ইসলামী আন্দোলনের কোনো অনুষ্ঠানে নারী সাংবাদিকেরা সামনে বসবেন, নাকি পেছনে বসবেন?এর জবাবে ইসলামী আন্দোলনের দ্বিতীয় শীর্ষনেতা সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেন, ‘পর্দা করে আসবে...।’তখন এক সাংবাদিক বলেন, ‘আপনাদের দলের নেতা তো নারীদের সঙ্গে টক শো করেন।’জবাবে ফয়জুল করীম বলেন, ‘না, না, সেটা ঠিক না। যদি টক শো করে, আমরা সেখানে বলব, যদি শরিয়তের খেলাপ হয়, ঠিক না।’তখন সাংবাদিক বলেন, ‘আপনাদের মহাসচিবসহ অনেকে টক শো করেছেন।’ফয়জুল করীম এর জবাবে বলেন, ‘এ তথ্যটাও ঠিক না; মহাসচিব করে নাই। একটা করছিল; আমরা বাধা দিয়েছি। আমার কথা হইছে, আমার কোনো বোন যদি আসে, শরিয়তসম্মতভাবে আসবে। আমরা তাঁকে বাধা দিচ্ছি না। আমার কোনো বোন যদি সাংবাদিকতা করে, আমরা তাঁকে বাধা দিচ্ছি না কিন্তু। আমার বোন যদি সাংবাদিকতা করে, সে করবে, কিন্তু শরিয়তসম্মতভাবে। যদি সে শরিয়ত না মানে, আমাকে শরিয়ত মানার সুযোগ করে দিতে হবে।’সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমানসহ বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
ঋণখেলাপির অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করার দায়িত্ব বিএনপির কাঁধে পড়েছে: প্রধানমন্ত্রী

ঋণখেলাপির অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করার দায়িত্ব বিএনপির কাঁধে পড়েছে: প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘে উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান হবে, প্রধানমন্ত্রী হবেন প্রধান বক্তা

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘে উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান হবে, প্রধানমন্ত্রী হবেন প্রধান বক্তা

পাকিস্তানকে চোখ রাঙাচ্ছে তিন দিনে ইনিংস হার

পাকিস্তানকে চোখ রাঙাচ্ছে তিন দিনে ইনিংস হার

0 Comments