সৌরজগতের সবচেয়ে আকর্ষণীয় গ্রহ হয়তো শনি। চারপাশের বিশাল ও সুন্দর বলয়ের জন্য মহাকাশপ্রেমীদের কাছে এর কদর একটু বেশি। কিন্তু এবার সেই শনি গ্রহ এমন এক অদ্ভুত কাণ্ড ঘটিয়েছে, যা দেখে রীতিমতো চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। গ্রহটির বায়ুমণ্ডলে, ঠিক দক্ষিণ মেরুর ওপর দিয়ে বিশাল এক তরঙ্গের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এটি সাধারণ কোনো ঢেউ নয়, দেখতে একেবারে নিখুঁত দশভুজের মতো! মহাকাশের বুকে হঠাৎ এমন জ্যামিতিক আকার দেখে বিজ্ঞানীরা রীতিমতো বিস্মিত।
বিষয়টা একটু সহজ করে বলা যাক। পৃথিবীতে যখন কোনো ঘূর্ণিঝড় বা বায়ুপ্রবাহ তৈরি হয়, সেটি সাধারণত বৃত্তাকার হয় এবং স্থলভাগে আঘাত হানার পর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যায়। কারণ পাহাড় বা মাটির ঘর্ষণে বাতাসের গতি বাধা পায়। কিন্তু শনির মতো গ্যাসীয় দানব গ্রহগুলোতে কঠিন মাটির কোনো অস্তিত্বই নেই! সেখানে পুরোটাই গ্যাস ও মেঘের রাজত্ব। ফলে সেখানে যখন কোনো ঝড় বা বায়ুপ্রবাহ তৈরি হয়, সেটি বাধাহীনভাবে বছরের পর বছর চলতে পারে। স্পেনের বিলবাও স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পদার্থবিদ অগাস্টিন সানচেজ-লাভেগার মতে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে এমন কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই, যার সঙ্গে শনির এই দশভুজ তরঙ্গের তুলনা করা চলে।
পৃথিবীতে যখন কোনো ঘূর্ণিঝড় বা বায়ুপ্রবাহ তৈরি হয়, সেটি সাধারণত বৃত্তাকার হয় এবং স্থলভাগে আঘাত হানার পর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যায়। কারণ পাহাড় বা মাটির ঘর্ষণে বাতাসের গতি বাধা পায়।
হুট করে গ্রহটির দক্ষিণ মেরুতে কেন এমন দশ কোণবিশিষ্ট একটি বিশাল তরঙ্গের সৃষ্টি হলো, তা এক বিরাট রহস্য। বিজ্ঞানীরা নিশ্চিতভাবে এখনো এর পেছনের কারণ বের করতে পারেননি। তবে তাঁদের ধারণা, গ্যাসের প্রবাহে কোনো বড় ধরনের গোলমালের কারণে এমনটা হতে পারে। হয়তো শনির ওই অঞ্চলে কোনো উচ্চচাপের বিশাল ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়েছে, ঠিক যেমনটা দেখা যায় বৃহস্পতি গ্রহের বিখ্যাত গ্রেট রেড স্পটের ক্ষেত্রে।

গবেষক সানচেজ-লাভেগা জানান, এটি ব্যাখ্যা করার মতো একক কোনো বৈজ্ঞানিক মডেল আপাতত তাদের হাতে নেই। হয়তো গ্রহটির প্রবল বায়ুপ্রবাহের অস্থিতিশীলতার কারণে এমনটা হয়েছে, অথবা গ্রহটির বায়ুমণ্ডলের অনেক গভীর থেকে কোনো শক্তিশালী ঢেউ ওপরের দিকে উঠে এসেছে। এই গবেষণার বিস্তারিত ফলাফল সম্প্রতি বিখ্যাত সায়েন্স অ্যাডভান্সেস বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
অবাক করা বিষয় হলো, মাত্র কয়েক বছর আগে, ২০২৩ সালে হাবল টেলিস্কোপের তোলা ছবিতে প্রথমবারের মতো এই ঢেউটি দানা বাঁধতে দেখা যায়। এরপর এটি ধীরে ধীরে আরও স্পষ্ট হতে থাকে।
শনির বুকে অদ্ভুত আকারের ঢেউ দেখার ঘটনা কিন্তু এটাই প্রথম নয়। ১৯৮০-এর দশকে বিজ্ঞানীরা শনির উত্তর মেরুতে একটি বিশাল ষড়ভুজাকার ঢেউ আবিষ্কার করেছিলেন। তখন থেকেই অনেকের ধারণা ছিল, দক্ষিণ মেরুতেও হয়তো এমন কোনো আকারের দেখা মিলতে পারে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, এই দশভুজটি একেবারেই নতুন একটি ঘটনা।
নাসার ক্যাসিনি মহাকাশযান ২০০৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৩ বছর শনি গ্রহকে খুব কাছ থেকে প্রদক্ষিণ করেছে। এত লম্বা সময় ধরে গ্রহটির প্রতিটি কোণ স্ক্যান করার পরও ক্যাসিনির তীক্ষ্ণ চোখে দক্ষিণ মেরুর এই দশভুজটি ধরা পড়েনি। এমনকি হাবল স্পেস টেলিস্কোপের পুরোনো ছবিতেও এর কোনো অস্তিত্ব ছিল না। অবাক করা বিষয় হলো, মাত্র কয়েক বছর আগে, ২০২৩ সালে হাবল টেলিস্কোপের তোলা ছবিতে প্রথমবারের মতো এই ঢেউটি দানা বাঁধতে দেখা যায়। এরপর এটি ধীরে ধীরে আরও স্পষ্ট হতে থাকে। বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে তোলা ছবিগুলোতে এই দশভুজটি একেবারে পূর্ণাঙ্গ ও স্পষ্ট আকার ধারণ করেছে। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে এত বিশাল একটি গ্রহে এমন নিখুঁত জ্যামিতিক আকার তৈরি হওয়ার ঘটনা সত্যিই রোমাঞ্চকর।
বিশেষ করে ২০৩২ সালের দিকে যখন ওই নির্দিষ্ট অক্ষাংশে সূর্যালোকের পরিমাণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে, তখন এই দশভুজটি হয়তো তার সবচেয়ে ভয়ংকর বা স্পষ্ট রূপ ধারণ করবে।
এই দশভুজ তরঙ্গটি কি এভাবেই থাকবে, নাকি ভবিষ্যতে আরও রূপ বদলাবে? গবেষকদের মতে, এই কাঠামোর উৎপত্তির পেছনে শনির দক্ষিণ মেরু অঞ্চলের ঋতু পরিবর্তন বা সূর্যালোকের চক্রের একটি বড় ভূমিকা থাকতে পারে। যদি তা-ই হয়, তবে আগামী বছরগুলোতে এটি আরও বেশি স্পষ্ট ও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ২০৩২ সালের দিকে যখন ওই নির্দিষ্ট অক্ষাংশে সূর্যালোকের পরিমাণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে, তখন এই দশভুজটি হয়তো তার সবচেয়ে ভয়ংকর বা স্পষ্ট রূপ ধারণ করবে।
বর্তমান ছবিগুলো খুব কাছ থেকে বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, দশভুজের কিছু কিছু রেখা এখনো বেশ ঝাপসা। মানে ঢেউটি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হতে পারেনি।

বিজ্ঞানীদের জন্য আরেকটি বড় চিন্তার বিষয় বৃহস্পতি গ্রহ। বৃহস্পতিও শনির মতোই গ্যাসীয় দানব এবং সেখানেও সারাক্ষণ ভয়ংকর সব ঝড় চলতে থাকে। কিন্তু এমন জ্যামিতিক আকারের ঢেউ কেবল শনিতেই কেন দেখা যাচ্ছে, তা এক বিরাট প্রশ্ন। তাছাড়া এক মেরুতে ছয় কোণ এবং অন্য মেরুতে দশ কোণ কেন হবে? হয়তো দুই মেরুর অক্ষাংশের পার্থক্যের কারণে এমনটা হচ্ছে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
চট্টগ্রামে নিহত সেনাসদস্য তাসনিম রিফায়াতের বাড়িতে মাতম চলছে। দুপুরের দিকে তার মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিহত তাসনিম রিফায়াতের বাবার নাম আসাদুল হক। তাদের বাড়ি রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে রিফায়াত ছিলেন মেজ। প্রায় ১২ বছর ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন তাসনিম রিফায়াত। তার আড়াই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাত ৯টায় চট্টগ্রাম সেনানিবাসে তাসনিম রিফায়াতের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তার মরদেহ ঢাকায় নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আরও পড়ুন ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনায় ২ সেনাসদস্য নিহত নিহত সেনাসদস্য তাসনিম রিফাতের ছোট ভাই শামসাদ আহমেদ বলেন, এর আগেও একই ট্যাংকে একই ধরনের দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছিলেন। ঘটনার আগের দিন রিফাত ওই ট্যাংকে ফায়ারিং করেছিলেন। পরদিন সেখানে বিস্ফোরণে দুজন নিহত হন। আগের ঘটনাটি গোপন রাখা হয়েছিল বলেও তিনি পরিবারকে জানিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, “এসব ঘটনায় রিফাতের মধ্যে সবসময় ভয় কাজ করত। তিনি ভিডিওকলের মাধ্যমে কর্মস্থলের বিভিন্ন বিষয় পরিবারকে দেখাতেন এবং ঝুঁকির কথা বলতেন। এমনকি চাকরি নিয়েও তিনি ভীত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের তিনি প্রায়ই বলতেন, ‘আমার সঙ্গে এমন কিছু হলে হয়তো আমার অস্তিত্বও থাকবে না’। এ কারণে তিনি চাকরি করতে না চাওয়ার কথাও একাধিকবার জানিয়েছিলেন।” ছেলের শোকে বাকরুদ্ধ বাবা আসাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমার তিন ছেলে ও এক মেয়ে। এখন আর চাওয়ার কিছু নেই, ছেলের জন্য সবার কাছে শুধু দোয়া চাই।’ এর আগে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে, ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুইজন সৈনিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজন কর্মকর্তা গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। মনির হোসেন মাহিন/এসআর
অ্যাটাক্সিয়া স্নায়ুতন্ত্রের একটি সমস্যা। হাঁটার সময় বারবার ভারসাম্য হারানো এবং হাত দিয়ে কোনো কিছু ধরতে গেলে লক্ষ্যচ্যুত হওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয় এ রোগে। অ্যাটাক্সিয়া রোগের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করতে পারলে এবং দ্রুত চিকিৎসা নিলে রোগী সুস্থ হয়ে যেতে পারেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও নিয়মিত থেরাপির মাধ্যমে এই রোগের প্রকোপ কমানো যায়। তবে অনেক ক্ষেত্রে শুরুর দিকে রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব হয়।অ্যাটাক্সিয়া হলে মানুষের সমন্বয়ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায় এবং চলাফেরা ও শারীরিক কাজগুলো করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থা জিনগত কারণ, স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি বা ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ই বা থায়ামিনের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাবের কারণে হতে পারে, যা নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য রাখায় ব্যাঘাত ঘটায়।অ্যাটাক্সিয়া কত ধরনেরকয়েক রকম অ্যাটাক্সিয়া আছে। সেরেবেলার অ্যাটাক্সিয়া হলে মস্তিষ্কের সেরেবেলাম অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে হাঁটার সমস্যা, হাতের লেখা ও ভারসাম্য হারিয়ে যায়। সেন্সরি অ্যাটাক্সিয়া স্নায়ুতন্ত্রের সেন্সরি অংশের সমস্যা। যেমন পায়ের পেশি বা ত্বকে অনুভূতি হারিয়ে গেলে এ ধরনের অ্যাটাক্সিয়া হয়। এতে রোগী ব্যালেন্স হারিয়ে ফেলেন। বিশেষ করে হাঁটার সময় চোখ বন্ধ হয়ে যায়।মস্তিষ্কের গতি নিয়ন্ত্রণের অংশে সমস্যা হলে দেখা দেয় মোটর অ্যাটাক্সিয়া। এর ফলে শারীরিক গতি ও দক্ষতা কমে যায়। সেরেবেলার ও সেন্সরি অ্যাটাক্সিয়া সাধারণত জেনেটিক বা জন্মগত কারণে হয়। এ ছাড়া ভিটামিন ই, বি১২ বা থায়ামিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির ঘাটতির সঙ্গে এই রোগ যুক্ত। আবার কোনো নির্ধারিত কারণ ছাড়াই হতে পারে, যাকে স্পোরাডিক অ্যাটাক্সিয়া বলে।কেন হয়, লক্ষণগুলো কীজেনেটিক বা বংশগত কারণ: জিনগত মিউটেশন যা সেরিবেলাম, স্নায়ু বা পেশির গঠন ও এর কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। অজ্ঞাত কারণ: উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত অ্যাটাক্সিয়া, যেমন ফ্রাইডরিখের অ্যাটাক্সিয়া। পুষ্টিগত ঘাটতি: ভিটামিন বি১, বি১২, ভিটামিন ই। টক্সিক: বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শ যেমন অ্যালকোহল ও ভারী ধাতু, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।অ্যাটাক্সিয়ার সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে এলোমেলো হাঁটা, লেখা বা জামার বোতাম লাগানোর ক্ষেত্রে অদক্ষতা; চলাচলে সমস্যা, বিশেষ করে হাত বা পায়ের ঝাঁকুনি; পেশিশক্তির দুর্বলতা; কথা জড়িয়ে যায়; গিলতে অসুবিধা হয়; চোখ অস্বাভাবিক নড়াচড়া করে; ইচ্ছাকৃত কম্পন বা ক্লান্ত বোধ করা।প্রতিরোধের উপায় অ্যাটাক্সিয়া একটি জটিল স্নায়বিক অবস্থা, যা সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। রোগের প্রাথমিক লক্ষণ চিহ্নিত করা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত থেরাপি রোগীর জীবনমান উন্নত করতে সাহায্য করে। পুষ্টির ঘাটতিজনিত অ্যাটাক্সিয়া খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সঠিকভাবে পরিকল্পিত খাদ্য ব্যবস্থাপনা উপসর্গ উপশম করতে, সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং অবস্থার অবনতি রোধ করতে সাহায্য করে।ডা. হারাধন দেবনাথ, অধ্যাপক, নিউরোসার্জারি বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
২৩তম আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের জন্য (আইজেএসও ২০২৬) বাংলাদেশ দল ঘোষণা করা হয়েছে। ছয় সদস্যের এ দলের সঙ্গে আরও রয়েছেন একজন দলনেতা এবং দুজন উপদলনেতা। আগামী ২ থেকে ৯ ডিসেম্বর বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় ২৩তম আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হবে। আজ বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৮ আগস্ট রাজধানীর উত্তরার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজিতে (আইইউবিএটি) ১২তম বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের (বিডিজেএসও) জাতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাংলাদেশ দল গঠন করা হয়েছ। যৌথভাবে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি (এসপিএসবি) ও বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (বিএফএফ)।আইজেএসও দলের সদস্যরা হলো ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবরার জাহিন, সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আহমেদ সাদ, এসএফএক্স গ্রিনহেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী কাজী সুনেহরা ইসলাম, সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাইফান হায়দার, এসএফএক্স গ্রিনহেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারজানা মানহা ও ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাশওয়ান হক।আইজেএসও দলের প্রধান দলনেতা হিসেবে রয়েছেন বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী। সহকারী দলনেতা হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের সমন্বয়কারী ও সমিতির জ্যেষ্ঠ প্রোগ্রাম অফিসার মো. রেজাউল ইসলাম এবং একাডেমিক সমন্বয়কারী ফারজানা আক্তার।বাংলাদেশ দলের ৬ শিক্ষার্থীকে আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডের জন্য প্রস্তুত করতে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ধানমন্ডির মাকসুদুল আলম বিজ্ঞানাগারে (ম্যাসল্যাবে) শুরু হবে বিশেষ প্রস্তুতিমূলক ক্যাম্প।