জাতীয়

সাফারি পার্কে চুরি হওয়া ২ লেমুর ভারতে, ডিএনএ প্রোফাইল না থাকায় জটিলতা

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
সাফারি পার্কে চুরি হওয়া ২ লেমুর ভারতে, ডিএনএ প্রোফাইল না থাকায় জটিলতা
সাফারি পার্কে চুরি হওয়া ২ লেমুর ভারতে, ডিএনএ প্রোফাইল না থাকায় জটিলতা

গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া দুটি লেমুর ভারতের একটি পার্কে বিক্রি করা হয়েছে—সিআইডির তদন্তে এমন তথ্য পাওয়ার পর প্রাণী দুটির পরিচয় নিশ্চিত করা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। কারণ, চুরি হওয়া লেমুর দুটির কোনো ডিএনএ প্রোফাইল সংরক্ষণ করেনি সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ।

সিআইডির তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চুরি হওয়া লেমুর দুটি ভারতের বানতারা পার্কে ৪৮ লাখ রুপিতে বিক্রি করা হয়েছে। এখন বানতারা কর্তৃপক্ষ প্রাণী দুটির পরিচয় নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের কাছে ডিএনএ প্রোফাইল চেয়েছে। কিন্তু সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে লেমুর দুটির ডিএনএ প্রোফাইল না থাকায় সেগুলো যে বাংলাদেশ থেকে চুরি হয়েছে, সেটা প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বন বিভাগের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী প্রথম আলোকে বলেন, বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের ফরেনসিক ল্যাব আছে। ফলে ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা কঠিন কোনো কাজ নয়। কিন্তু এর প্রয়োজনীয়তা হয়তো আগে এভাবে অনুভূত হয়নি। বন বিভাগের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনাও ছিল না। তিনি ডিএফওকে সিআইডির সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাজীপুর সাফারি পার্কে থাকা তিনটি লেমুরের মধ্যে দুটি ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জব্দ করা হয়েছিল। শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ ও ঢাকা কাস্টমস হাউস চোরাচালানের সময় প্রাণীগুলো জব্দ করে। পরে বন বিভাগের নির্দেশে সেগুলো গাজীপুর সাফারি পার্কে পাঠানো হয়। সাফারি পার্কে আনার পর লেমুরগুলো থেকে ছানাও জন্ম নেয়। ফলে পার্কে লেমুরের সংখ্যা বাড়ে। এর মধ্যে ২০২২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি একটি লেমুর মারা যায়। এরপর গত বছরের নভেম্বর মাসে পার্ক থেকে দুটি লেমুর চুরি হয়। এ ঘটনায় মামলা করা হয়। মামলায় মো. মঞ্জু মিয়াসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে সিআইডি।

তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, চুরি হওয়া লেমুর দুটি ভারতে নিয়ে বিক্রি করা হয়েছে। প্রাণী দুটির অবস্থান বানতারা পার্কে শনাক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সেগুলো চুরি যাওয়া লেমুর কি না, তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানকার কর্তৃপক্ষ ডিএনএ প্রোফাইল চাওয়ায় বিপত্তি দেখা দিয়েছে।

গাজীপুর সাফারি পার্কের এই বেষ্টনীতে ছিল লেমুরগুলো। শেষ পর্যন্ত তিনটি টিকে ছিল। একটি মারা যায় এবং দুটি গত বছরের নভেম্বরে চুরি হয়ে যায়। ছবিটি ২০২৩ সালে তোলা

বন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বন্য প্রাণী চোরাচালান ও পাচারের ঘটনা শনাক্ত এবং পাচার হওয়া প্রাণী দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ডিএনএ প্রোফাইল গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করতে পারে। বিশেষ করে একই প্রজাতির অনেক প্রাণী থাকলে কোন নির্দিষ্ট প্রাণী কোথা থেকে গেছে, তা শনাক্তে ডিএনএ প্রোফাইল কার্যকর।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ মনিরুল এইচ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সব প্রাণীর না হলেও যেগুলোর মূল্য বেশি, সেগুলোর অন্তত ডিএনএ প্রোফাইলিং করলে ভালো হতো। সাফারি পার্কের প্রাণীগুলোর মধ্যে লেমুর মূল্যবান প্রাণী। এদের ডিএনএন প্রোফাইল থাকলে আজ সহজেই ক্লেইমটি এস্টাবলিশ করা যেত।’

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ডুবে যাচ্ছে পদ্মার চর, আশ্রয়ের খোঁজে তাঁরা যাচ্ছেন শহরের পারে
ডুবে যাচ্ছে পদ্মার চর, আশ্রয়ের খোঁজে তাঁরা যাচ্ছেন শহরের পারে

নৌকায় গাদাগাদি করে রাখা গরু। কোনো নৌকায় ৫-৭টি গরু; কোনোটিতে আবার ২৫-৩০টি। গরুর পাশেই ধান, জাল ও সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। এগুলো যাবে পদ্মার ওপারের চর থেকে শহরের পারে। চরের বাসিন্দারা নিজ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে যাচ্ছেন; সঙ্গে নিয়েছেন শেষ সম্বল গবাদিপশুগুলোকে।রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের চর খিদিরপুরের মিডিল চরের চিত্র এখন এমনই। পদ্মার পানি বাড়তে থাকায় চরের অনেক বাড়ির উঠান ডুবে গেছে। কোথাও ঘরের ভেতর পানি ঢুকে যাচ্ছে। কোথাও আবার পানির মধ্যেই গবাদিপশু বেঁধে রেখেছেন বাসিন্দারা। রান্নার সুযোগ নেই, খাবারের সংকট, নেই গরু-ছাগল রাখার নিরাপদ জায়গাও। তাই কয়েক দিন ধরে চর ছাড়ছেন মানুষ।বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চর খিদিরপুরের মিডিল চরে গিয়ে দেখা যায়, অনেক বাড়ির উঠান পানিতে তলিয়ে গেছে। কোনো কোনো বাড়ির উঠান শুকনো থাকলেও চারপাশে পানি। যেকোনো সময় সেখানেও পানি ঢুকে পড়ার আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা। তাঁদের রাত কাটছে উৎকণ্ঠায়। এর মধ্যে আবার সাপের ভয়।চরের বাসিন্দা মো. রাকিবের প্রায় ৫০টি গরু। এর মধ্যে প্রায় ৪০টি গরু নৌকায় করে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে এসেছেন তিনি। রাকিব বলেন, ‘চরে থাকবার কোনো অবস্থা নেই। সব বাড়িঘর ডুইবে গিয়েছে। গরু নিয়ে বইসে আছি। খুব কষ্টের মধ্যে আছি ভাই। আমাদের একটু সাহায্য করলি ভালো হয়।’শুধু রাকিব নন, চরবাসীর অনেকেরই জীবিকার প্রধান অবলম্বন গবাদিপশু। কারও ৫০টি, কারও ৬০টি, কারও শতাধিক, আবার কারও কয়েকটি গরু-ছাগল। পানি বাড়ায় ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে হলেও এসব পশু ফেলে যাওয়ার সুযোগ নেই।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একটি নৌকায় ২৫-৩০টি গরু আনা হচ্ছে। যার যত গবাদিপশু, সামর্থ্য অনুযায়ী সেগুলো নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।এই পরিস্থিতিতে চরের বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম অসহায় হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার সব ডুইবে গেছে। তো শহরে জাগা নাই গো। জাগা না থাকলে কার বাড়িতে উইঠব? গরু-ছাগল রাখবার জাগা নাই। গরু শুইতে পারছে না। সকাল থেইক্যে এখনও পর্যন্ত খাইনি। এই যে গরু-ছাগলকে কী খাইতে দিব, সেটাই বুঝতে পারছি নে।’চর থেকে শহরে আসতেও নৌকার ভাড়া দিতে হয়। সেই টাকাও অনেকের হাতে নেই। মনোয়ারা বলেন, টাকা থাকলে তাঁরা গবাদিপশু নিয়ে আগেই নিরাপদ জায়গায় চলে আসতেন।স্বামীহারা মরিয়ম বেগমও বুধবার সন্তানদের নিয়ে শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। নৌকায় বসে তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরে তাঁরা পানির মধ্যে দুর্ভোগে আছেন। গবাদিপশুগুলোও পানিতে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের দেখাশোনা করার মতো পরিস্থিতি নেই।গবাদিপশুগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাচ্ছেন চরের বাসিন্দারাবর্ষা এলেই একই দুর্ভোগচরের বাসিন্দা মো. রেজাউল বলেন, বর্ষা এলেই তাঁদের এমন দুর্ভোগে পড়তে হয়। দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত কষ্ট করে থাকতে হয়। এবারও নদীর পানি বাড়ায় চলাফেরা কঠিন হয়ে পড়েছে। বেড়েছে সাপের উপদ্রব। গবাদিপশুর খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে গেছে।রেজাউল বলেন, এত দিন তাঁরা সরকারি কোনো সহায়তা পাননি। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়ার কথা শুনে কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছেন।চর খিদিরপুরের এই চরে দুই শতাধিক বাড়ি রয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, সেখানে প্রায় ১০ হাজার গবাদিপশু রয়েছে। পানি বাড়তে থাকায় এসব পশুর নিরাপদ আশ্রয় ও খাবারের ব্যবস্থা এখন বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।চরের বাসিন্দারা জানান, কেউ ১৫ দিন ধরে পানি বাড়ছে। পানি না কমা পর্যন্ত তাঁদের আবার কয়েক মাস দুর্ভোগ পোহাতে হবে। এর মধ্যে অনেকে ধান, জ্বালানি, প্রয়োজনীয় মালামাল, সন্তান ও গবাদিপশু নিয়ে চর ছাড়ছেন।শুধু চর খিদিরপুর নয়, রাজশাহীর চর খানপুর, মাঝারদিয়াড়, ১০ নম্বর চর ও চর আষাড়িয়াদহেও পানি বাড়ায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। পদ্মাঘেঁষা রাজশাহী শহরের নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকাও প্লাবিত হয়েছে। নগরের তালাইমারী শহীদ মিনার এলাকায় রাজশাহী আলোর পাঠশালার মাঠও জলমগ্ন হয়েছে।রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানির বিপৎসীমা ১৮ দশমিক শূন্য ৫ মিটার। বুধবার দুপুরে পানি ১৬ দশমিক ৮৫ মিটার পর্যন্ত উঠেছে। রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি ফারাক্কার উজানে গঙ্গার বিভিন্ন স্থানে পানি বিপৎসীমার ওপরে উঠেছে। সেই পানি ধীরে ধীরে বাংলাদেশের দিকে আসছে। ফলে রাজশাহীতে পদ্মার পানি আরও বাড়তে পারে।প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম আরও বলেন, রাজশাহীতে বন্যা ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় প্রস্তুতি অন্য অনেক এলাকার তুলনায় কিছুটা ভিন্ন। কারণ, সেপ্টেম্বরেও এখানে নদীর পানি বাড়তে পারে। এমনকি বর্ষা শেষ হওয়ার পরও হঠাৎ ভারী বৃষ্টিতে ছোট নদী ও খাল উপচে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়।রাজশাহী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পাঁচ শতাধিক মানুষকে দুপুরের খাবার দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে নগরের মালেক ডগার ঘাটেশহরের পাড়ে খাবার বিতরণচর থেকে নৌকায় করে যাঁরা শহরের পাড়ে আসছেন, তাঁদের জন্য মালেক ডগার ঘাটে খাবার ও ত্রাণের ব্যবস্থা করেছে রাজশাহী জেলা প্রশাসন।বুধবার দুপুরে সেখানে পাঁচ শতাধিক মানুষের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। চরের বাসিন্দা মো. জামু বলেন, ‘ডিসি স্যার আমাদিককে ত্রাণ দিয়্যাছে। তারপরে দুপুরের খাবার দিয়্যাছে। এটা ভালো ল্যাগছে।’ মো. আজাদ একজন বলেন, ‘আজ আমরা ত্রাণ পাইয়াছি। আমাদিককে বলেছে, গরু-বাছুর রাইখবার জাগা কইরে দেবেন জেলা প্রশাসক।’রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, বন্যাকবলিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চর, মাঝারচরসহ তিনটি স্থানে মেডিক্যাল ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে। সেখানে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। পানিবাহিত রোগের বিস্তার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ওষুধও দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য আপাতত ভ্রাম্যমাণ একটি জায়গায় আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে গবাদিপশুও রাখা হয়েছে।চর খিদিরপুরকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও জানান জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ১০ ফুট উঁচু দুটি বড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। সেখানে মানুষের পাশাপাশি কয়েক হাজার গবাদিপশু রাখার সুযোগ থাকবে।

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে তেলের দামে আগুন, ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়াল

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে তেলের দামে আগুন, ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়াল

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে তৃতীয় দিন ৩৮১ কোটি টাকা তুললেন গ্রাহকরা

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে তৃতীয় দিন ৩৮১ কোটি টাকা তুললেন গ্রাহকরা

রামদা ধার দিচ্ছেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী, ভিডিও ভাইরাল

রামদা ধার দিচ্ছেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী, ভিডিও ভাইরাল

রুমিনের বক্তব্য ঘিরে সংসদে ব্যাপক 
হট্টগোল, গালাগালের অভিযোগ
রুমিনের বক্তব্য ঘিরে সংসদে ব্যাপক হট্টগোল, গালাগালের অভিযোগ

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্য ঘিরে জাতীয় সংসদে ব্যাপক হট্টগোল হয়েছে। রুমিন বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে বক্তব্য দিলে সরকারি দলের সদস্যরা হইচই-হট্টগোল করে প্রতিবাদ জানান। এ সময় হঠাৎ করেই কিছু সময়ের জন্য সংসদ উত্তপ্ত হয়ে উঠে। রুমিনকে উদ্দেশ্য করে গালাগালি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।আজ বুধবার ব্যাংক রেজ্যুলেশন (সংশোধন) বিল পাসের আলোচনায় এই ঘটনা ঘটে। হইচই-হট্টগোলে কিছু সময়ের জন্য সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। একাদশ সংসদে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সদস্য ছিলেন রুমিন। এবার তিনি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য।বিলের আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, প্রত্যেকটা সরকারের একটা চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হইতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আবার সারের সংকট হবে না, গরিব কৃষক সার কারখানায় গিয়ে সেটা লুট করবেন না; সেটাও হতে পারে না।রুমিনের এমন বক্তব্যে বিএনপির সংসদ সদস্যরা হইচই করে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। রুমিন বলতে থাকেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না সেটাও হওয়া সম্ভব না, মাননীয় স্পিকার।’এ সময় বিএনপির সংসদ সদস্যরা আরও বেশি হইচই শুরু করেন। রুমিন বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ঋণ খেলাফিতে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করবে না, সেটাও হইতে পারে না। সুতরাং বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানে ঋণ খেলাফিতে সর্বোচ্চ হওয়া, ৬ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার ওপরে ঋণ খেলাপি হওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি।’সরকারি দলের সদস্যদের হট্টগোলের মধ্যে রুমিন বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, এত অসহিষ্ণু সংসদ, মনে হয় যেন আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি আমরা। মজা, মন্দ না। আওয়ামী লীগকে যখন বলতাম তখন তারাও হট্টগোল করত। এখন বিএনপি একই ধরনের আচরণ করছে। আরো খারাপ আচরণ।’হইচইয়ের মধ্যেই রুমিন বলতে থাকেন, ‘এই সংসদে বেশির ভাগ সংসদ সদস্য ঋণ খেলাপি হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনের আগে নামটা কাটানোর জন্য হাইকোর্টে গিয়ে রিট করা, এগুলো আমাদের পুরোনো সংস্কৃতি। এগুলো আমরা বহুত দেখেছি।’এ সময় রুমিনের জন্য নির্ধারিত সময় শেষ হলে মাইক বন্ধ হয়ে যায়। তবে সংসদে হইচই-হট্টগোল চলতে থাকে। রুমিনও মাইক ছাড়া কথা বলতে থাকেন। স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অশালীন ভাষায় গালি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করতে থাকেন তিনি। স্পিকার বারবার বসার অনুরোধ জানালেও তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন।এ সময় এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদও দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করতে থাকেন। মাইক ছাড়া তাঁকে বলতে শোনা যায়, একজন সংসদ সদস্যকে এভাবে গালি দেওয়া যায় না।হট্টগোলের মধ্যে সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বারবার সংসদ সদস্যদের শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু কেউ থামছিলেন না। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিও দাঁড়িয়ে কিছু বলছিলেন। ডেপুটি স্পিকার সব সদস্যকে শান্ত হওয়ার অনুরোধ করেন।কথা বলার স্বাধীনতা আছেডেপুটি স্পিকার বলেন, একজন সদস্য বক্তব্য রাখছেন। তাঁর কথা বলার স্বাধীনতা আছে। কিন্তু অন্যান্য সদস্যরা উনার বক্তব্যে বাধা প্রদান, সেটা কিন্তু গণতান্ত্রিক রীতিনীতির বাইরে।রুমিন এ সময়ও দাঁড়িয়ে কিছু বলতে চাইছিলেন। তাঁকে বসার অনুরোধ করেন ডেপুটি স্পিকার।চিফ হুইপের উদ্দেশে কায়সার কামাল বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের প্রত্যেকের এখানে লিবার্টি আছে, তারা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। আপনাদের টার্ন যখন আসে আপনারা তখন সেটা খণ্ডন করবেন। কিন্তু বক্তব্য প্রদানে বাধা কোনো অবস্থাতেই কাম্য নয়।’এরপর বিলের আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য আরেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমানকে আহ্বান জানান। তখনো হইচই চলছিল। এ সময় রুমিন ফারহানা ও হান্নান মাসউদকে দাঁড়িয়ে কিছু বলতে দেখা যায়। স্পিকার তাঁদের বসতে অনুরোধ করেন। এরপর শেখ মুজিবুর রহমান বক্তব্য দেন।পরে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে বলেন, সংসদ সদস্যের বক্তব্য অসংসদীয় হলে সেটা স্পিকার রুলিং দিতে পারেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী জবাব দিতে পারেন।বিরোধী দলীয় নেতা বলেন,‘ আজকে উনি কি বললেন আমরা তো একেবারেই বুঝতে পারলাম না। উনি কী গালি দিলেন, না দোয়া দিলেন কিছুই বুঝলাম না। এখন আসলেই কি তিনি বক্তব্য রাখতে পারলেন?’এ পর্যায়ে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, তাঁরা সংসদে সব সমস্যার সমাধান চান। কিন্তু নিজেরাই সমস্যা তৈরি করলে সেটা সমস্যা।বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, ভঙ্গুর রাজনীতি পেয়েছে উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, একজন সদস্য যখন কথা বলেন তার নিজেরও দৃষ্টি রাখা দরকার। মাত্র কয়েক দিন আগে উনি (রুমিন) বিএনপির পক্ষে কথা বলেছেন।এ পর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, ‘চিফ হুইপ হিসেবে আপনারও কিন্তু রেসপন্সিবিলিটি আছে, হুইপিং দ্য মেম্বারস অব দ্য পার্লামেন্ট। একজন সম্মানিত সদস্য উনি কথা বলতে পারবেন, অসংসদীয় হলে সেটা এই চেয়ার থেকে এক্সপান্স করা হবে। কিন্তু সেটাকে বাধাগ্রস্ত করা, এটা ঠিক না। আর চিফ হুইপ হিসাবে আপনার মূল দায়িত্ব হাউসের শৃঙ্খলা রাখা।’পরে বিলের আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আমির মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমিতো বিষয় কি সেটাই বুঝতে পারছি না। আমি কি বললাম, আলোচনা কি হলো?’ তিনি বলেন, দুঃখজনক, একটা সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা এখানে চলে আসছে।পরে রুমিন ফারহানা প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপির সংসদ সদস্যরা তাঁকে অশালীন ভাষায় গালাগালি করেছেন। এ সময় চিফ হুইপের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
সরকারি নিয়োগে ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে বেরোবিতে বিক্ষোভ

সরকারি নিয়োগে ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে বেরোবিতে বিক্ষোভ

মেসি এবার স্পেনের আরেকটি ক্লাব কিনছেন

মেসি এবার স্পেনের আরেকটি ক্লাব কিনছেন

ইরানের সরকার পতনের খুব কাছাকাছি: নেতানিয়াহু

ইরানের সরকার পতনের খুব কাছাকাছি: নেতানিয়াহু

যাত্রাবাড়ীতে ব্যবসায়ী সাগর হত্যা মামলায় তিনজনের রিমান্ড
যাত্রাবাড়ীতে ব্যবসায়ী সাগর হত্যা মামলায় তিনজনের রিমান্ড

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ব্যবসায়ী সাগর খান ওরফে ইমরানকে (৩৮) গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার তিন আসামির তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আসামিরা হলেন- রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ ওরফে কালিয়া রিয়াজ (৩১), মো. কামরুল হাসান (২৫) ও মো. সাইফুল হোসেন (২০)। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাতের আদালত শুনানি শেষে তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মহিউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তিন আসামিকে আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, ইমরানের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। এ নিয়ে রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ ও কামরুল হাসানের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জের ধরে ইমরানকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহার অনুযায়ী, গত ৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে রিয়াজ, কামরুলসহ কয়েকজন মোটরসাইকেলে করে ইমরানের অটোরিকশার গ্যারেজে যান। তাদের মাথায় হেলমেট ছিল। সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রও ছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। গ্যারেজে ঢুকে তারা গুলি ছোড়েন। একপর্যায়ে রিয়াজ পেছন থেকে ইমরানের মাথায় গুলি করেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে ইমরান মাটিতে পড়ে যান। এ সময় ইমরানের বন্ধু সাদ্দাম বাধা দিতে গেলে তাকে মারধর করা হয়। পরে তিনি পালানোর চেষ্টা করলে রিয়াজ তার বাম পায়ে গুলি করেন। অন্যরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে গুরুতর আহত করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা ইমরান ও সাদ্দামকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক ইমরানকে মৃত ঘোষণা করেন। সাদ্দামকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর ইমরানের স্ত্রী যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার সঙ্গে আসামিদের সংশ্লিষ্টতা, হত্যার কারণ এবং আরও কেউ জড়িত কি না- এসব বিষয়ে তথ্য জানতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। এ কারণে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এমডিএএ/এমএএইচ/

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সংসদে উত্তাপ

রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সংসদে উত্তাপ

বদলি আদেশের পরও থানা ছাড়ছেন না ওসি

বদলি আদেশের পরও থানা ছাড়ছেন না ওসি

হংকংয়ে নজরুল ইসলাম মজুমদার ও পরিবারের সম্পদ জব্দের নির্দেশ

হংকংয়ে নজরুল ইসলাম মজুমদার ও পরিবারের সম্পদ জব্দের নির্দেশ

0 Comments