প্রতিবছর ২০-২২ লাখের বেশি তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছেন। কিন্তু শুধু পুরোনো কয়েকটি খাতের ওপর আর কত দিন? নতুন কাজ, ব্যবসা আর ডলার আনার রাস্তা খুঁজতে হবে। সেই রাস্তার একটি হতে পারে সিলভার ইকোনমি। সিলভার ইকোনমি কী? চীন, জাপান, ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশে কীভাবে এই অর্থনীতি কাজ করছে, তা নিয়ে লিখেছেন মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার
বিশ্ব এখন অনিশ্চিত সময় পার করছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, যুক্তরাষ্ট্র-চীনের টানাটানির সঙ্গে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও উত্তেজনা বাড়ছে। ২০২৫ সালে আইইউ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রোলান্ড ব্রান্ডটিয়েন তাঁর ইকোস অব দ্য নাইনটিন থার্টিজ: আ সায়েন্টিফিক কমপারেটিভ অ্যানালাইসিস অব প্রি-ওয়ার্ল্ড ওয়ার টু ডায়নামিকস অ্যান্ড কনটেমপোরারি জিওপলিটিকস গবেষণাপত্রে বর্তমান সময়ের সঙ্গে ১৯৩০-এর দশকের কিছু মিল দেখিয়েছেন। ২৪ মার্চ ২০২৬-এ ওয়্যার্ড ম্যাগাজিনের ‘টেক সাপোর্ট’ প্রশ্নোত্তরে সাবেক মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা বেন রোডস বলেন, পৃথিবী তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ‘অস্বস্তিকর রকম কাছাকাছি’। তবে বড় যুদ্ধ হবেই—এটা নিশ্চিত নয়।
এই বদলে যাওয়া বিশ্বে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জও কম নয়। প্রতিবছর ২০-২২ লাখের বেশি তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছেন। বিশ্বব্যাংকের ২০১৯ সালের ‘স্কিলিং আপ বাংলাদেশের ইয়ুথ ফর আ চেঞ্জিং জব মার্কেট’ এবং আইএলওর ২০২১ সালের ‘আ বুস্ট টু স্কিলস ট্রেনিং ইন বাংলাদেশ’—দুই লেখাতেই প্রায় একই হিসাব এসেছে।
তাহলে এত মানুষের কাজ আসবে কোথা থেকে? তৈরি পোশাক, প্রবাসী আয়, চামড়া—এগুলো থাকবে। কিন্তু শুধু পুরোনো কয়েকটি খাতের ওপর আর কত দিন? নতুন কাজ, ব্যবসা আর ডলার আনার রাস্তা খুঁজতে হবে। সেই রাস্তার একটি হতে পারে সিলভার ইকোনমি।
নামটা শুনতে কঠিন, কিন্তু বিষয়টা সহজ। ধরুন, একজন মানুষের বয়স ৭০ বছর। তাঁর ডাক্তার, ওষুধ, নার্স বা কেয়ারগিভার লাগতে পারে। হাঁটার জন্য হুইলচেয়ার কিংবা নিরাপদে চলাফেরার ব্যবস্থাও দরকার হতে পারে।
কিন্তু তিনি শুধু রোগী নন। তিনি খাবার কেনেন, ব্যাংকে টাকা রাখেন, বিমা করেন, বেড়াতে যান, মোবাইল বা স্মার্টওয়াচ ব্যবহার করেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে এসব চাহিদা ঘিরে যে পণ্য, সেবা, প্রযুক্তি আর ব্যবসা গড়ে ওঠে, সহজ কথায় সেটাই সিলভার ইকোনমি।
এর মানে শুধু নার্স বা কেয়ারগিভার নয়। হোম কেয়ার, হাসপাতাল, রিহ্যাবিলিটেশন, বয়স্কদের উপযোগী বাড়ি, বিমা, পেনশন, পর্যটন, পরিবহন, হুইলচেয়ার, মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি, টেলিমেডিসিন, স্মার্ট হোম, পড়ে গেলে খবর দেওয়ার সেন্সর, এমনকি এআই দিয়ে স্বাস্থ্য দেখাশোনা ও কেয়ার রোবটও এর অংশ।
কারণটা সোজা—মানুষ বেশি দিন বাঁচছে, কিন্তু অনেক দেশে সন্তান হচ্ছে কম। জাতিসংঘের ‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশন প্রসপেক্টস ২০২৪’ বলছে, বিশ্বের অর্ধেকের বেশি দেশে একজন নারী গড়ে ২ দশমিক ১টির কম সন্তান জন্ম দিচ্ছেন। একই সঙ্গে মানুষের আয়ুও দীর্ঘ হচ্ছে। ফলে একদিকে মানুষ দীর্ঘ জীবন পাচ্ছেন, অন্যদিকে নতুন প্রজন্ম তুলনামূলক ছোট হচ্ছে। তাই তাঁদের দেখাশোনা এবং অর্থনীতির কাজ চালানোর লোক পাওয়া অনেক দেশে কঠিন হয়ে পড়ছে।
ইউরোপিয়ান কমিশনের ২০২১ সালে প্রকাশিত গবেষণা ‘গ্রিন পেপার অন এজিং’ বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রতি পাঁচজনের প্রায় একজনের বয়স ৬৫ বছরের বেশি। ২০৭০ সালের দিকে তা প্রায় প্রতি তিনজনে একজন হতে পারে। তখন একজন ৬৫ বছরের বেশি মানুষের বিপরীতে কাজ করার বয়সী মানুষ থাকবে দুজনের কম।
এর সঙ্গে আছে ‘বেবি বুমার’ প্রজন্ম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপ, আমেরিকাসহ অনেক দেশে একসঙ্গে অনেক শিশুর জন্ম হয়েছিল। সেই প্রজন্ম এখন অবসরের বয়সে পৌঁছাচ্ছে। জার্মানির সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা ডেস্টাটিস বলছে, আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে তাঁদের বড় অংশ চাকরির বাজার ছাড়বেন। অথচ জায়গা পূরণের মতো নতুন প্রজন্ম তুলনামূলক ছোট।
তাই একদিকে সেবা নেওয়ার মানুষ বাড়ছে, অন্যদিকে তা দেওয়ার লোক পাওয়া কঠিন হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, পরিবহন, বিমা ও প্রযুক্তিতে।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ২৬ আগস্ট ২০২৬-এর ‘হাউ এজিং কনজ্যুমারস আর রিশেপিং দ্য গ্লোবাল ইকোনমি’ লেখায় ওয়ার্ল্ড ডেটা ল্যাবের তথ্য দিয়ে বলেছে, বয়সী মানুষের জন্য বিশেষভাবে তৈরি পণ্য ও সেবার বিশ্ববাজার এখন প্রায় ৪ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। এটি বছরে প্রায় ৭ শতাংশ হারে বড় হচ্ছে। একই সূত্র অনুযায়ী, বিশ্বের জনসংখ্যার মাত্র ১৫ শতাংশের বয়স ৬০ বছরের বেশি। অথচ ২০২৬ সালে মোট ভোক্তা খরচের প্রায় ২৭ শতাংশ বা ১৯ ট্রিলিয়ন ডলার তাঁদের হাত থেকে আসবে।
দুটো হিসাব আবার এক নয়। ১৯ ট্রিলিয়ন ডলার হলো ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের মোট কেনাকাটা ও খরচ। আর ৪ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার হলো তাঁদের বিশেষ চাহিদা ঘিরে তৈরি পণ্য ও সেবার বাজার। অর্থাৎ তাঁরা শুধু চিকিৎসা বা পরিচর্যা নেওয়ার মানুষ নন; বড় এক ক্রেতাগোষ্ঠীও।
ইউরোপিয়ান কমিশনের ২০২১ সালের ‘সিলভার ইকোনমি’ পেজে এর আকার প্রায় ৫ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ইউরো বলা হয়েছে। আবার কমিশনের ‘ইউরোপিয়ান কেয়ার স্ট্র্যাটেজি’ বলছে, বর্তমান দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা ধরে রাখতেই ২০৫০ সালের মধ্যে আরও ১৬ লাখের বেশি কর্মী যোগ করতে হবে।
জার্মানিতে ২০৪৯ সালে প্রায় ২১ লাখ ৫০ হাজার কেয়ার কর্মী দরকার হতে পারে। ডেস্টাটিসের ২০২৪ সালের হিসাবে, তারপরও ২ লাখ ৮০ হাজার থেকে ৬ লাখ ৯০ হাজার লোকের ঘাটতি থাকতে পারে।
আমেরিকায় ইউএস ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকস বা বিএলএস-এর প্রক্ষেপণেও হোম হেলথ ও পার্সোনাল কেয়ার এইড পেশায় প্রতিবছর কয়েক লাখ কাজের সুযোগের কথা বলা হয়েছে। এর সবই নতুন পদ নয়; অবসর, চাকরি ছাড়া ও নতুন কাজ মিলিয়ে এই সংখ্যা।
জাপানের মিনিস্ট্রি অব হেলথ, লেবার অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার ২০২৪ সালে জানিয়েছে, ২০২২ সালে প্রায় ২১ লাখ ৫০ হাজার কেয়ার কর্মী ছিলেন। ২০২৬ সালে লাগবে প্রায় ২৪ লাখ, আর ২০৪০ সালে ২৭ লাখ ২০ হাজার। অর্থাৎ আরও প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার জন লাগবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট–কেডিআইয়ের গবেষক জংহিউন কওন ২০২৬ সালের ‘এল্ডারকেয়ার ওয়ার্কফোর্স: প্রজেকশনস অ্যান্ড পলিসি ইমপ্লিকেশনস’ গবেষণায় দেখিয়েছেন, এখনকার কাজের চাপ একই রাখতে ২০৩৩ সালে আরও প্রায় ৩ লাখ ৩২ হাজার, আর ২০৪৩ সালে প্রায় ৯ লাখ ৯০ হাজার কর্মী লাগতে পারে। কেডিআই বিদেশি কর্মী আনার পথ সহজ করার পাশাপাশি কেয়ার রোবট ব্যবহারের কথাও বলছে।
এই পরিবর্তন দেখে বিভিন্ন দেশ শুধু কর্মীর ঘাটতি মেটানোর কথা ভাবছে না; নতুন ব্যবসাও ধরতে চাইছে। সবচেয়ে ভালো উদাহরণ চীন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে চীনের স্টেট কাউন্সিল ‘ডেভেলপিং দ্য সিলভার ইকোনমি অ্যান্ড ইমপ্রুভিং দ্য ওয়েল-বিয়িং অব দ্য এলডারলি’ নামে একটি জাতীয় নীতিপত্র প্রকাশ করে। সেখানে সিলভার ইকোনমিকে বড় সম্ভাবনার শিল্প হিসেবে দেখা হয়েছে।
চীন কী করতে চাইছে, সেটাই আসলে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তারা বয়স্কদের উপযোগী পোশাক ও জুতা, খাবার, স্মার্ট হোম, স্মার্ট ঘড়ি ও পরিধানযোগ্য যন্ত্র, কেয়ার রোবট, স্মার্ট হুইলচেয়ার, পুনর্বাসন সরঞ্জাম তৈরির কথা বলছে। এর সঙ্গে বিমা ও আর্থিক সেবা, হোটেল-মোটেল এবং প্রবীণবান্ধব পর্যটনও রয়েছে। অর্থাৎ এখানে শুধু চাকরি নয়—কারখানা আছে, প্রযুক্তি আছে, রপ্তানি আছে, পর্যটন আছে, নতুন ধরনের সেবাও আছে।
অন্যদিকে ভারত প্রশিক্ষিত জেরিয়াট্রিক কেয়ারগিভার তৈরির জন্য সরকারি কর্মসূচি নিয়েছে। দেশটির মিনিস্ট্রি অব সোশ্যাল জাস্টিস অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্টের ‘ট্রেনিং অব জেরিয়াট্রিক কেয়ারগিভার্স’ কর্মসূচির উদ্দেশ্যই হলো বাড়তে থাকা চাহিদার বিপরীতে পেশাগতভাবে প্রশিক্ষিত কর্মীর ঘাটতি কমানো।
কেউ দক্ষ মানুষ তৈরি করছে, কেউ নতুন পণ্য বানাচ্ছে, কেউ প্রযুক্তিতে ঢুকছে, কেউ পর্যটন ও সেবা গড়ে তুলছে। অর্থাৎ ৪ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের এই অর্থনীতি ধরার রাস্তা একটাই নয়। মানুষ পাঠানো তার একটি পথ; পণ্য, প্রযুক্তি, ব্যবসা ও সেবা নিয়ে ঢোকাও আরেকটি বড় পথ।
ফিলিপাইনও অনেক আগে থেকেই জাপানের সঙ্গে ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট ব্যবহার করে নার্স ও কেয়ারগিভার তৈরি ও পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে। সেখানে শুধু প্রশিক্ষণ নয়; জাপানি ভাষা শেখানো এবং গন্তব্য দেশের পেশাগত পরীক্ষার জন্যও কর্মীদের প্রস্তুত করা হয়।
এই উদাহরণগুলোর মধ্যে একটা মিল আছে। কেউ দক্ষ মানুষ তৈরি করছে, কেউ নতুন পণ্য বানাচ্ছে, কেউ প্রযুক্তিতে ঢুকছে, কেউ পর্যটন ও সেবা গড়ে তুলছে। অর্থাৎ ৪ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের এই অর্থনীতি ধরার রাস্তা একটাই নয়। মানুষ পাঠানো তার একটি পথ; পণ্য, প্রযুক্তি, ব্যবসা ও সেবা নিয়ে ঢোকাও আরেকটি বড় পথ।
বাংলাদেশকে শূন্য থেকে শুরু করতে হবে না। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) অধীনে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) আছে, নার্সিং শিক্ষা আছে, বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানও আছে। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ–এনএসডিএর অধীনে বয়স্কদের কেয়ারগিভিং প্রশিক্ষণও হচ্ছে। সমস্যা হলো, এগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে; সিলভার ইকোনমিকে সামনে রেখে এক পরিকল্পনায় আনা হয়নি।
প্রথম কাজ হওয়া উচিত একটি জাতীয় টাস্কফোর্স। প্রবাসীকল্যাণ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাণিজ্য, শিল্প ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বিএমইটি, এনএসডিএ, বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্যবসায়ীদের একসঙ্গে বসাতে হবে। কোন দেশে কী ধরনের কর্মী, পণ্য ও সেবার চাহিদা আছে, সেটা দেখে একটি জাতীয় পরিকল্পনা করতে হবে।
নতুন প্রতিষ্ঠান বানানোরও দরকার নেই। বিদ্যমান কয়েকটি টিটিসিকে বিশেষায়িত কেয়ারগিভিং একাডেমিতে রূপান্তর করা যায়। সেখানে কেয়ারগিভিংয়ের সঙ্গে জাপানি, জার্মান, কোরীয়সহ প্রয়োজনীয় ভাষা ও গন্তব্য দেশের কাজের নিয়ম শেখাতে হবে। বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব করে তাদের কারিকুলাম, প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষার মান যুক্ত করতে হবে, যাতে এখানকার সনদ বিদেশেও সহজে গ্রহণযোগ্য হয়।
ভালো প্রশিক্ষক ও ভাষাশিক্ষকের ঘাটতি আছে। রাতারাতি তা পূরণ হবে না। বিদেশে থাকা দক্ষ বাংলাদেশিদের অনলাইনে যুক্ত করা যেতে পারে। যাঁরা সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা ও কাজের পরিবেশ জানেন, সরকার তাঁদের সম্মানী দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের ক্লাস নিতে পারে। এতে ভাষা শেখানোর পাশাপাশি বিদেশের কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতাও দেশে আসবে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও নার্সিং প্রতিষ্ঠানে জেরিয়াট্রিক কেয়ার, এল্ডার কেয়ার ম্যানেজমেন্ট ও রিহ্যাবিলিটেশনে অনার্স, মাস্টার্স, ডিপ্লোমা ও স্বল্পমেয়াদি কোর্সের সুযোগ বাড়াতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক বাধা ও বিভিন্ন অংশীজনের স্বার্থে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান অবকাঠামো পুরোপুরি কাজে লাগছে না। প্রয়োজনীয় মান ও নিয়ন্ত্রণ রেখে এই সুযোগ উন্মুক্ত করার সময় এসেছে।
তবে পরিকল্পনাটা শুধু লোক পাঠানোয় আটকে থাকলে চলবে না। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের কারখানা, দক্ষতা ও বিদেশি ক্রেতার যোগাযোগ আগে থেকেই আছে। এগুলো কাজে লাগিয়ে বয়স্কদের উপযোগী পোশাক, বিশেষ জুতা ও ব্যবহারযোগ্য পণ্য তৈরি করা যায়। পাশাপাশি ওষুধ, হালকা চিকিৎসা সরঞ্জাম, সহায়ক যন্ত্র, সফটওয়্যার ও ডিজিটাল সেবার বাজারও খুঁজতে হবে। প্রবীণবান্ধব পর্যটন, ওয়েলনেস ও রিহ্যাবিলিটেশন সেবার সুযোগও যাচাই করা যেতে পারে।
তাই কাজটা দুই পথে একসঙ্গে করতে হবে—আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ মানুষ তৈরি করে বিদেশে পাঠানো এবং বিদ্যমান শিল্পের শক্তি কাজে লাগিয়ে নতুন পণ্য ও সেবা নিয়ে এই বাজারে ঢোকা। সরকারের কাজ হবে দেশভিত্তিক চুক্তি, প্রশিক্ষণ ও সনদের স্বীকৃতি, বিদেশি অংশীদার আনা এবং ব্যবসার পথ সহজ করা। অর্থাৎ সিলভার ইকোনমিকে শুধু শ্রমবাজার নয়; মানুষ, পণ্য ও সেবা মিলিয়ে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে।
মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার শিক্ষক ও গবেষক, রাষ্ট্র ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়
মতামত লেখকের নিজস্ব
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে সংগঠনটির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় শাখা ছাত্রদলের দুই যুগ্ম আহ্বায়ককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। আজ বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নির্দেশে এই নোটিশ দেওয়া হয়।নোটিশ পাওয়া দুই নেতা হলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার ও মোস্তাফিজুর রহমান রুমি। তাঁদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দায়িত্বশীল পদে থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠালতলা এলাকায় ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, নবীনবরণ উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্টে স্টেজে বসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুমন সরদার ও মোস্তাফিজুর রহমান রুমির অনুসারীদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তা ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষে গড়ায়।সংঘর্ষে তিন শিক্ষার্থী আহত হন। তাঁরা হলেন গণিত বিভাগের ১৮তম ব্যাচের তানজিল আহমেদ মিথিল, রসায়ন বিভাগের ১২তম ব্যাচের রবিউল ইসলাম শাওন এবং ম্যানেজম স্টাডিজ বিভাগের ১৬তম ব্যাচের মনিরুজ্জামান মনির। তাঁদের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের মাথায় আঘাত রয়েছে।ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কামাল হোসেন জানান, তিনজন চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে দুজনের মাথায় আঘাত ছিল। একজনকে সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. আজম খান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। কেউ যদি লিখিত অভিযোগ দেয়, তাহলে আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার বলেন, ‘আমরা তো প্রোগ্রাম নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। এদিকে সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়েছে।’ কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি এখনো কিছু জানি না।’
মৌলভীবাজার জেলা শহরের বাতাস যেন সব সময় মিষ্টি আর তাজা বেকারি পণ্যের সুবাসে ম-ম করে। নদীতীরের এই শহরে আধুনিক করপোরেট কোম্পানিগুলোর প্রবল প্রতিযোগিতার পরও বেকারি ও দুগ্ধজাত পণ্যের বাজারের সিংহভাগ, অর্থাৎ প্রায় ৮০ শতাংশই নিয়ন্ত্রণ করছে স্থানীয় নিজস্ব প্রতিষ্ঠানগুলো। দেশীয় ও বহুজাতিক ব্র্যান্ডের আগ্রাসনের এই যুগেও নিজস্ব মান ও অবিচল আস্থার জোরে একচেটিয়াভাবে টিকে থাকার এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে মৌলভীবাজারের পশ্চিম বাজারকেন্দ্রিক এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, যা সত্যিই দেশের অন্যান্য জেলার জন্য অত্যন্ত চমৎকার ও অনুকরণীয় একটি দৃষ্টান্ত।একনজরে শহরের সার্বিক বাজারচিত্র বিশ্লেষণ করলে তা বেশ চমকপ্রদ মনে হয়। বাজারের প্রায় ৬০ শতাংশ দখল করে আছে বৃহৎ স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো। এর মধ্যে অন্যতম বেঙ্গল ফুড, স্বাদ অ্যান্ড কোং ও পিউরিয়া। গুণগত মান, ড্রাই কেক, মুচমুচে বিস্কুট এবং নিরাপদ খাদ্যের জন্য এগুলো সব শ্রেণির ক্রেতার কাছে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়। বাজারের আরও ২০ শতাংশ রয়েছে ঐতিহ্যবাহী স্থানীয় সাধারণ প্রতিষ্ঠানগুলোর দখলে। রাজমহল সুইটস, মহানগর ও রহমান সুইট মার্ট নামের এসব প্রতিষ্ঠান খাঁটি ছানার মিষ্টি, দই এবং বিয়েসহ যেকোনো উৎসবের বড় অর্ডারের ক্ষেত্রে সাধারণ থেকে অভিজাত ক্রেতাদের বেশ পছন্দ। অন্য অংশে রয়েছে টেস্টি ট্রিট, মিঠাই ও বনফুলের মতো আধুনিক করপোরেট চেইন শপ, যারা মূলত আধুনিক বার্থডে কেক, প্যাকেটের পণ্য এবং ঝটপট ফাস্ট ফুডের (বার্গার, পিৎজা) বাজারে শহুরে তরুণ প্রজন্মের কাছে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।স্থানীয় সফলতার এই চমৎকার ভিড়ে গুণগত মান আর ক্রেতাদের অবিচল আস্থার এক অনন্য নামের পরিচিতি পেয়েছে ‘স্বাদ অ্যান্ড কোং’। ২০০৫ সালে পশ্চিম বাজারে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি এখন ভোক্তাদের পছন্দের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড। জেলাজুড়ে বর্তমানে তাদের ১৮টি আউটলেট রয়েছে, যা মানসম্মত খাবার পরিবেশনের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও দারুণ ভূমিকা রাখছে। এই ব্যবসায়ী পরিবারের ঐতিহ্য বেশ পুরোনো। পাকিস্তান আমলে স্থানীয় বাজারে তাদের মনিহারি ও পেট্রোলিয়ামের ব্যবসা ছিল। পরবর্তী সময় প্রতিষ্ঠাতা গিয়াস আহমেদ চৌধুরী কুয়েতে ব্যবসা গড়লেও উপসাগরীয় যুদ্ধের কারণে দেশে ফেরেন। ১৯৯৮ সালে দেশে সুপারশপ চালুর পর, ২০০৫ সালে ফ্র্যাঞ্চাইজির মাধ্যমে তিনি এই বেকারি ব্যবসা শুরু করেন। বাবার সেই সফল উদ্যোগের হাল এখন ধরেছেন ছেলে জাহেদ আহমেদ চৌধুরী।‘স্বাদ অ্যান্ড কোং’ মূলত জনপ্রিয়তা পেয়েছে নিজস্ব ফ্যাক্টরিতে তৈরি প্রিমিয়াম মানের বেকারি পণ্য ও ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির জন্য। ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে স্বাদ ঘি, রসমালাই, লাল মোহন, মালাইকারি, চমচম, ছানার পায়েস, লাড্ডু, ড্রাই কেক, বাদামি বিস্কুট, ক্রিস্পি টোস্ট ও পেস্ট্রি। আধুনিক কনফেকশনারি হিসেবে এখন আউটলেটগুলোয় জুস, লাচ্ছি, শর্মা, স্মোকিং স্যান্ডউইচ ও বার্গার পাওয়া যায়। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে তারা এ গ্রেড সার্টিফিকেশন অর্জন করেছে। কেমিক্যাল ও প্রিজারভেটিভমুক্ত খাবারের পাশাপাশি তারা নির্ধারিত গোয়ালার কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করে। সম্পূর্ণ হালাল খাবারের এই প্রতিষ্ঠানে ক্রেতাদের চাহিদায় কেবল পবিত্র রমজান মাসে বিফ বিরিয়ানি বিক্রি হয়। সেবার মান ও সততার স্বীকৃতিস্বরূপ তারা কয়েকবার জেলায় শ্রেষ্ঠ ভ্যাট প্রদানকারী নির্বাচিত হয়েছে।খাদ্য ব্যবসার গণ্ডি পেরিয়ে পর্যটনেও বড় ভূমিকা রাখছে পরিবারটি। মৌলভীবাজারে ১১ একর জায়গার ওপর প্রবাসীদের সঙ্গে নিয়ে তারা গড়ে তুলেছে দেশের প্রথম ‘বার্ড পার্ক ও রিসোর্ট’।
চিত্রনাট্যে প্রয়োজন ছিল কানাডার বরফাবৃত সুবিশাল পর্বতমালা কিংবা ১৯৩০ সালের বুদাপেস্ট শহরের ব্যস্ত পথঘাট। কিন্তু বাজেট সীমিত, শুটিং স্পটে যাওয়া অসম্ভব। কয়েক বছর আগেও এমন পরিস্থিতিতে প্রকল্পের কাজ থমকে যেত বা নির্মাতাদের বিপুল অঙ্কের অর্থ গুনতে হতো। তবে বর্তমানে এই সমস্যার সমাধান করে দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। চলচ্চিত্র প্রযুক্তির এই নতুন জোয়ারে ভারতে চলচ্চিত্র নির্মাণের খরচ এক ধাক্কায় অন্তত ৩০ শতাংশ কমে আসছে, বেঁচে যাচ্ছে শুটিংয়ের মূল্যবান সময়ও।চলচ্চিত্র প্রযুক্তির এই নতুন জোয়ারে ভারতে চলচ্চিত্র নির্মাণের খরচ এক ধাক্কায় অন্তত ৩০ শতাংশ কমে আসছে, বেঁচে যাচ্ছে শুটিংয়ের মূল্যবান সময়ওসম্প্রতি মুম্বাইয়ের স্টুডিওতে বসেই এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি ছবির জন্য ইতালির আল্পস পর্বতমালার সাধারণ দৃশ্যকে কানাডার তুষারাবৃত পাহাড়ে রূপান্তর করেছেন প্রযোজক আরফি লাম্বা। তিনি জানান, বুদাপেস্টের একটি সেটকে পুরোনো দিনের রূপ দিতে সাধারণ ভিএফএক্স টিম দিয়ে কাজ করালে যেখানে অন্তত ১৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার ইউরো খরচ হতো, এআই দিয়ে মাত্র ১৫ শ ইউরোর মধ্যে সে কাজ নিখুঁতভাবে শেষ করা গেছে।কাজ হারিয়ে দাদার সঙ্গে সবজি বিক্রি করছেন ‘দাপুটে সিইও’চলচ্চিত্র–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ভারতীয় বিনোদনজগতে এআইয়ের ব্যবহার এখন কেবল শুরু। ভারতের খ্যাতনামা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইরোস ইন্টারন্যাশনাল ও জিও স্টুডিওস দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে। এমনকি ইরোস ইন্টারন্যাশনাল পুরোপুরি এআই-ভিত্তিক চলচ্চিত্রপ্রক্রিয়ার দিকে ঝুঁকছে।চিত্রনাট্যের ভুলত্রুটি ধরা থেকে শুরু করে ডাবিং, কালার গ্রেডিং ও সম্পাদনার কাজ দ্রুত শেষ করতে চালু হয়েছে নানা এআই টুলস। হাইপারকগ টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা রঞ্জিত কুমারের মতে, সিনেমায় এআইয়ের সম্ভাব্য ক্ষমতার মাত্র ১০ শতাংশ এখন ব্যবহৃত হচ্ছে। আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে বাকি ৯০ শতাংশ প্রযুক্তির বিকাশ ঘটবে, যা ইন্ডাস্ট্রিকে পুরোপুরি বদলে দেবে।বিনোদন দুনিয়ায় চমক, এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে হচ্ছে সিনেমাতবে এআইয়ের এই জয়জয়কারের পেছনের অন্ধকার দিকটি হচ্ছে কর্মসংস্থান হ্রাস। ভিএফএক্সশিল্পী, চিত্রসম্পাদক ও সহকারী পরিচালকদের কাজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেড়ে নেওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন শিল্পের সঙ্গে জড়িত কলাকুশলীরা। অনেকেই কাজ হারিয়ে ভিন্ন পেশায় যেতে বাধ্য হচ্ছেন।প্রযুক্তির এমন বিকাশ সত্ত্বেও মানুষের আবেগ ও মৌলিকতার জায়গা এআই কখনো নিতে পারবে না বলে মনে করছেন চিত্রনাট্যকার ও নির্মাতারা। চিত্রনাট্যকার সুধাকর একলব্যের মতে, এআই দিয়ে একটি সাধারণ বা ভালো চিত্রনাট্য তৈরি করা সম্ভব হলেও মানুষের তৈরি অনবদ্য ও কালজয়ী গল্প উপহার দেওয়া এআইয়ের পক্ষে অসম্ভব।একই সঙ্গে কেবল এআই চরিত্র দিয়ে তৈরি ছবিগুলো মানবিক অনুভূতি ও বৈচিত্র্যের অভাবে দ্রুতই দর্শকের কাছে একঘেয়ে হয়ে পড়ে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন প্রযোজকেরা।আরব নিউজ অবলম্বনে