খাদ্য ও পুষ্টি দু’টি শব্দের খুব ঘনিষ্ঠতা থাকলেও অর্থের ব্যাপকতায় এরা আলাদা। বেশ কিছুদিন আগেও খাদ্য ও পুষ্টি নিয়ে আলাদা করে ভাবার অবকাশ ছিল না। কিন্তু বর্তমানে সুস্থ সবল ও কর্মক্ষম জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে হলে এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দেশ খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করলেও মানুষ সঠিক খাদ্যাভাস ও সঠিক জীবনযাত্রা না মানার কারণে শারীরিক মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যার ফলে মানুষকে ছুটতে হচ্ছে বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে। দ্বারস্থ হচ্ছেন নানান ধরনের সোশ্যাল মিডিয়ায় পাওয়া টিপসের কাছে। যা অনেকসময় উল্টো ফল দিচ্ছে।
সেজন্য আমাদের খাদ্য, পুষ্টি সম্পর্কে জানতে হবে। আমরা বেঁচে থাকার তাগিদে খাবার খেয়ে থাকি এর সঙ্গে পুষ্টি থাকতেও পারে নাও পারে। পুষ্টি হচ্ছে এমন একটি জৈবিক প্রক্রিয়া যাতে গ্রহণকৃত খাদ্য পরিপাক, বিপাকে ও পরিশোষণ হয়ে শরীরের বৃদ্ধি ক্ষয়পূরণ, শক্তি উৎপাদনে ও রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। মোট কথা পুষ্টি গ্রহণকৃত খাদ্যের বিভিন্ন উপাদানের মাধ্যমে পুষ্টি আমাদের শরীরের পরিচর্যা করে।
খাদ্যের উপাদানগুলোর তালিকা আমাদের জানতে হবে।
খাদ্যের উপাদানগুলো হলো-শর্করা, আমিষ, তেল/ চর্বি, ভিটামিন, খনিজ, আঁশ ও পানি। এই প্রতিটি উপাদান আমাদের শরীরে বিভিন্ন কাজ করে থাকে, যেমন- শর্করাজাতীয় খাদ্য আমাদের শরীরে শক্তি জোগায় যা আমাদের কাজ করতে সহায়তা করে। বিভিন্ন দানাদার খাদ্য যেমন- চাল, গম ভুট্টা, বার্লি, এ ছাড়া মিষ্টি আলু, কচু, চিনি মধু ইত্যাদিতে প্রচুর শর্করা আছে। আমাদের মোট ক্যালরি চাহিদার ৬০-৭০শতাংশ যেন শর্করাজাতীয় খাবার থেকে আসে। যদিও আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে শর্করাজাতীয় খাবার গ্রহণের পরিমাণটাই বেশি।
আমাদের দেশের মানুষ সর্বোপরি ৩৬৭ গ্রাম শর্করাজাতীয় খাবার খেয়ে থাকে। যেখানে শর্করা গ্রহণের পরিমাণ হওয়া উচিত সর্বোচ্চ ৩৫০ গ্রাম। এই অতিরিক্ত শর্করা গ্রহণই আমাদের দেহে শক্তি জোগান শেষে তা শরীরে চর্বি রূপে জমতে শুরু করে। যা পরবর্তীতে স্থূলতায় ভূমিকা রাখে। এছাড়া অতিরিক্ত শর্করা গ্রহণ শরীরে আয়রন শোষণে বাধা দেয়। যা রক্তশূন্যতার জন্য দায়ী। তাই আমাদের পরিমিত শর্করাজাতীয় খাবার খেতে হবে।
এরপরে রয়েছে আমিষজাতীয় খাদ্য, যার উৎস সাধারণত প্রাণিজ (মাছ, মাংস, দুধ, ডিম ইত্যাদি) ও উদ্ভিজ্জ (ডাল, বীজ ইত্যাদি) হয়ে থাকে। আমাদের শরীর গঠন, বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করে। আমিষে নাইট্রোজেন ও প্রয়োজনীয় এ্যামিনো এসিড থাকায় এই খাদ্যের গুরুত্ব শর্করা ও স্নেহজাতীয় খাদ্য থেকে আলাদা। ১ গ্রাম আমিষে ৪ ক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। রিকোমেন্ডেট ডায়েটারি এলাওয়েন্স অনুযায়ী শরীরের প্রতি কেজি ওজনের বিপরীতে ১.০ গ্রাম আমিষের প্রয়োজন। আমাদের শরীরে একসঙ্গে ৩০ গ্রাম আমিষ হজম করতে পারে। তাই এর বেশি আমিষ এক সাথে পেটে পড়লে তা কাজে লাগবে না।
আমিষজাতীয় খাদ্য বাড়ন্ত শিশু ও গর্ভবতী নারীদের তুলনামূলক বেশি লাগে যেহেতু শিশুরা ও গর্ভবতী মা ও গর্ভস্থ শিশু দ্রুত বৃদ্ধি পায়, সেক্ষেত্রে শিশু ও গর্ভবতী মা তাদের প্রতি কেজি ওজনের বিপরীতে ২-৩ গ্রাম আমিষজাতীয় খাবার খেতে পারে। আবার বয়স্ক ব্যক্তিদের পাকস্থলীতে হজমের প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে যায়, যার ফলে তারা আমিষজাতীয় খাবার দ্রুত হজম করতে পারে না আবার তারা ভারী কাজ করে ও হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে না। তাই আমিষজাতীয় খাবার গ্রহণের পর সঙ্গে সঙ্গে যেন শুয়ে না পড়ে এবং পরিমিত গ্রহণ করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
এবার তেল বা চর্বি, যা সাধারণ তাপমাত্রায় তরল তাকে তেল আর সাধারণ তাপমাত্রা যা কঠিন তাকে চর্বি বলা হয় এই তেল বা চর্বিজাতীয় খাবারের থেকে আমরা প্রচুর ক্যালরি বা তাপ শক্তি পেয়ে থাকি। ১ গ্রাম তেল বা চর্বি থেকে ৯ ক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়, যা শর্করা ও আমিষের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। দুধের সর, পনির, ডিমের কুসুম, বাদাম, সরিষার তেল, সূর্যমুখীর তেল, সয়াবিন তেল উপাদান হতে দ্বিগুণেরও বেশি শক্তি পাওয়া যায়, শিশুরা এসব খাবার অল্প পরিমাণে গ্রহণ করে এবং তাদের মোট ক্যালরির চাহিদা পূরণ করতে পারে। তেল বা চর্বি বাচ্চাদের ব্রেন ডেভেলপমেন্টে সহায়তা করে। আর প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির জন্য জনপ্রতি ৩০ গ্রাম তেল গ্রহণ করা উচিত। অতিরিক্ত ভাজা পোড়া ও তৈলাক্ত খাবার গ্রহণ করা উচিত নয়, কারণ এসব খাবার বদহজম, স্থূলতা কোন কোন ক্ষেত্রে কারসিনোজিস সৃষ্টি করে।
আঁশ, ভিটামিন ও মিনারেলসের নির্ভেজাল ও সহজলভ্য উৎস্য হলো বিভিন্ন প্রকার শাকসবজি, ফলমূল, বীজ, বাদাম, দুধ, ডিম, লাল চাল, লাল আটা, ছোট মাছ, মাশরুম ও কলিজা ও লাল মাংস। শাকসবজি ও ফলমূল লো-ক্যালরি ও অনেক ভিটামিন ও মিনারেলস এর আধার। তাই আমাদের খাদ্য তালিকায় এই ধরনের খাবার বেশি রাখা উচিত। প্রতিদিন ১০০ গ্রাম শাক, ২০০ গ্রাম সবজি, ১০০ গ্রাম টক ও মিষ্টি মিলিয়ে ১০০ গ্রাম ফল গ্রহণ করা উচিত।
আবার শাকসবজি যখন আমাদের প্লেটে আসে তখন আয়রন শোষণ করার জন্য শাকের সঙ্গে লেবু বা কাঁচামরিচ রাখতে হবে। আবার লবণের আয়োডিন পরিপূর্ণভাবে পেতে হলে আয়োডিনযুক্ত লবণ ঢেকে রাখতে হবে, রান্নার শেষে লবণ দিতে হবে এবং পরিমিত (৫-৬ গ্রাম) লবণ গ্রহণ করতে হবে। অতিরিক্ত লবণ উচ্চরক্তচাপসহ অন্যান্য রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। খাবারের সময় বাড়তি লবণ যেমন পরিহার করতে তেমনি ভাজা লবণ গ্রহণ থেকে ও বিরত থাকতে হবে।
মিষ্টিজাতীয় খাবার ও আমাদের পরিমিত (২৫ গ্রাম) গ্রহণ করতে হবে, চেষ্টা করতে হবে যেন মৌসুমি ফল থেকেই প্রাকৃতিকভাবে মিষ্টিজাতীয় খাবারের চাহিদা পূরণ করা যায়। এছাড়া আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গ্রহণকৃত খাবারের ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের কার্যকারিতা বাড়াতে শরীরে সূর্যের আলো ও লাগানো নিশ্চিত করতে হবে। সূর্যের আলো লাগানোর সঠিক সময় হলো সকাল ১০টা হতে বেলা ৩টা পর্যন্ত।
এছাড়া আমাদের সব ধরনের খাবার সঙ্গে ২-৩ লিটার নিরাপদ পানি পান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে আমাদের হজম, শোষণ ও শরীরে তাপমাত্রা সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে। কোমল পানীয় পরিহার করে ফলের রস পান করা বেশি পুষ্টিসম্মত। সর্বোপরি আমাদের সুষম খাবারের সঙ্গে নিরাপদ খাবার গ্রহণ, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, সঠিক শারীরিক পরিশ্রম, সঠিক বিশ্রামের ও সুস্থ চিন্তার মাধ্যমে নিজেদের সুস্বাস্থ্যের অধিকারি করতে পারব। সুস্থতা আমাদের সবার কাম্য এর জন্য আমাদের সচেতনতা, সদিচ্ছা প্রয়োজন। তবেই বাংলাদেশ সুস্থ, কর্মক্ষম ও উন্নত জাতি সম্মিলিতভাবে গঠন করা সম্ভব।
কেএসকে
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (এসিআই) ‘ট্রেইনি টেরিটরি ম্যানেজার’ পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রার্থীকে অবশ্যই স্নাতক অথবা সমমান ডিগ্রিধারী হতে হবে। এক নজরে অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের (এসিআই) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ তথ্যের ধরন বিবরণ প্রতিষ্ঠানের নাম অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (এসিআই) বিভাগের নাম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ বিজনেস পদের নাম ট্রেইনি টেরিটরি ম্যানেজার পদসংখ্যা নির্ধারিত নয় চাকরির ধরন বেসরকারি, ফুল টাইম প্রার্থীর ধরন নারী-পুরুষ শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক অথবা সমমান অভিজ্ঞতা প্রযোজ্য নয় বেতন ও অন্যান্য সুবিধা আলোচনা সাপেক্ষে বয়সসীমা ৩২ বছর সূত্র বিডিজবস ডটকম আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবেদন শুরু: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে কর্মস্থল: যে কোনো জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক। আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (এসিআই)। আরও পড়ুনসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪০ বছর বয়সেও আবেদনের সুযোগনার্স হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন যেভাবেনৌবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই অফিসার ক্যাডেট হওয়ার সুযোগসেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে১১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনসেনাবাহিনী নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এসএসসি পাসেই আবেদনপুলিশ সুপারের কার্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফি ১১২ টাকা১৪২ জনকে নিয়োগ দেবে সমরাস্ত্র কারখানা, এসএসসি পাসেও আবেদনসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ এমআইএইচ
একসময় পর্দা মাতিয়েছেন সাদিকা পারভীন পপি। নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ থেকে টানা প্রায় তিন দশক নিজের সৌন্দর্য ও অভিনয় দিয়ে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী। তবে সেই পপি এখন আর আলো ঝলমলে লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের দুনিয়ায় নেই। দীর্ঘদিন ধরেই নিজেকে আড়ালে রেখেছেন তিনি। আজ পপির জন্মদিন। বিশেষ এই দিনটিও এবার কাটছে অনেকটা নীরবেই, পরিবারের মানুষদের সঙ্গে। জন্মদিনের পরিকল্পনা জানতে চাইলে পপি বলেন, ‘সে রকম পরিকল্পনা নেই। ঘরোয়া ভাবেই দিনটি কাটছে। মসজিদ ও মাদ্রাসায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। বাসার সবাইকে নিয়ে কেক কেটেছি। মূলত পরিবারের সঙ্গেই বিশেষ দিনটি কাটছে।’ ১৯৭৯ সালের এই দিনে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন পপি। ১৯৯৭ সালে মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘কুলি’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। প্রথম সিনেমাতেই দর্শকের নজর কাড়েন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে প্রায় আড়াইশ সিনেমায় কাজ করেছেন পপি। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও। ‘কারাগার’, ‘মেঘের কোলে রোদ’ ও ‘গঙ্গাযাত্রা’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি। একসময় পপির জন্মদিন মানেই ছিল চলচ্চিত্রপাড়ায় আলাদা আয়োজন। জন্মদিনের আগের রাত থেকেই সহকর্মী, নির্মাতা ও ভক্তদের শুভেচ্ছায় ভরে উঠত তার চারপাশ। কেক কাটা, আড্ডা আর সহকর্মীদের ভালোবাসায় জমে উঠত বিশেষ দিনটি। তবে সময় বদলেছে, বদলেছে পপির জীবনও। সিনেমা থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকা এই অভিনেত্রী এখন পরিবারকেই দিয়েছেন জীবনের বড় অংশ। নিজের পুরোনো জন্মদিনের কথা মনে করে পপি বলেন, ‘যখন সিনেমায় নিয়মিত কাজ করেছি, তখন জন্মদিন ছিল উৎসবের মতো। এখন সেই দিনগুলো মিস করি। তবে বর্তমান জীবন নিয়েও আমি বেশ শান্তিতে আছি।’ প্রায় ছয় বছর ধরে মিডিয়া থেকে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন পপি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার সরব উপস্থিতি নেই। স্বামী আদনান উদ্দিন কামাল ও একমাত্র সন্তান আয়াতকে নিয়ে বর্তমানে তার সংসারজীবন। একসময় যার জন্মদিন ঘিরে চলচ্চিত্রপাড়ায় থাকত উৎসবের আমেজ, সেই পপি এখন সেই আলো থেকে অনেক দূরে। পর্দার ব্যস্ততা, শুটিং আর তারকাখ্যাতির বদলে তার বর্তমান সময় কাটছে পরিবার, সন্তান ও ঘরোয়া জীবনের আবহে। জন্মদিনে তাই পুরোনো সেই ব্যস্ততার কথা মনে পড়লেও বর্তমান জীবন নিয়েই সন্তুষ্ট পপি। আলো-ঝলমলে চলচ্চিত্রজগতের বাইরে থেকেও নিজের মতো করেই বিশেষ দিনটি কাটাচ্ছেন ঢালিউডের এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী। এমআই/এলআইএ
মানিকগঞ্জ শহরের দুটি মিষ্টির কারখানাকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরি এবং খাদ্যপণ্য সংরক্ষণে অনিয়মের অভিযোগে মোট ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরের সুইট হ্যাভেন ও মদিনা সুইস নামের দুটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করেন জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা। অভিযানে সুইট হ্যাভেনকে ২০ হাজার টাকা এবং মদিনা সুইসকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মানিকগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল এবং জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোছা. রৌশনারা বেগম। অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, সুইট হ্যাভেনে একই ফ্রিজে মিষ্টি তৈরির সরঞ্জামের সঙ্গে মাছ-মাংসসহ অন্যান্য খাদ্যপণ্য রাখা হচ্ছিল। এতে খাদ্য দূষণের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল। এছাড়া মিষ্টি তৈরির স্থানে পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছিল না। অভিযানের সময় সুইট হ্যাভেন কর্তৃপক্ষ আগামী এক মাসের মধ্যে মিষ্টি তৈরির কারখানাটি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেয়। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মানিকগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, খাদ্যপণ্য তৈরিতে স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরি, ব্যবহৃত তেল পুনরায় ব্যবহার এবং খাদ্য সংরক্ষণে অনিয়মের কারণে সুইট হ্যাভেনকে ২০ হাজার এবং মদিনা মিষ্টির দোকানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম না করার জন্য প্রতিষ্ঠান দুটিকে সতর্ক করা হয়েছে। মো. সজল আলী/কেজে/জেআইএম