জাতীয়

সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া ঢেলে সাজানোর আহ্বান টিআইবির

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ট্রান্সপোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিয়নের ম্যাগাজিন ‘ট্র্যাব বার্তা’
ট্রান্সপোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিয়নের ম্যাগাজিন ‘ট্র্যাব বার্তা’

অবশেষে প্রকাশিত হলো বাংলাদেশ ট্রান্সপোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিয়নের বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাগাজিন ‌‘ট্র্যাব বার্তা’। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাগাজিনটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর পথচলা শুরু করে বাংলাদেশ ট্রান্সপোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিয়ন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের পরিবহন খাত, সড়ক যোগাযোগ, যানবাহন ব্যবস্থাপনা, যাত্রীসেবা, সড়ক নিরাপত্তা এবং পরিবহন সাংবাদিকতা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরার কাজ করে আসছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে পেশাগত সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারেও নিরলস ভূমিকা রাখছে তারা। ​প্রতিষ্ঠার দুই বছরের মাথায় সংগঠনের সদস্যদের পরামর্শ, সহযোগিতা ও অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ম্যাগাজিন প্রকাশের সিদ্ধান্তটি বাস্তবে রূপ নেয়। নানা প্রতিকূলতা ও দীর্ঘ প্রস্তুতির পর কাঙ্ক্ষিত সেই শুভ মুহূর্তে শনিবার সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সহ অন্য সদস্যরা একত্রিত হয়ে ম্যাগাজিনটির আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করেন। ​মোড়ক উন্মোচনকালে উপস্থিত সদস্যরা জানান, এটি কেবল একটি প্রকাশনা নয় বরং এটি পরিবহন খাত ও পরিবহন সাংবাদিকতার সার্বিক চিত্র তুলে ধরার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও জনবান্ধব করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা জোরদার করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ​অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ম্যাগাজিন প্রকাশের সার্বিক দিক ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। দীর্ঘদিনের এই স্বপ্ন ও প্রচেষ্টাকে সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় সাংবাদিক নেতা ও সদস্যরা ভবিষ্যতেও সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ​সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও ঐক্যের মাধ্যমে ম্যাগাজিনটি আত্মপ্রকাশ করা সংগঠনের পথচলায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তাদের প্রত্যাশা ভবিষ্যতে এই প্রকাশনাটি পরিবহন খাতের ইতিবাচক উন্নয়নের পাশাপাশি অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও জনদুর্ভোগের খবর বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে প্রকাশ্যে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ​দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণের মধ্য দিয়ে এই ম্যাগাজিন প্রকাশ বাংলাদেশ ট্রান্সপোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিয়নের সাংগঠনিক কার্যক্রমে এক নতুন ও ইতিবাচক মাত্রা যোগ করলো বলে মত প্রকাশ করেছেন সংগঠনটির সদস্যরা। এসএনআর

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
২২ বছর আগের ভ্রূণ থেকে মা হলেন গ্রিক নারী

২২ বছর আগের ভ্রূণ থেকে মা হলেন গ্রিক নারী

বোয়ালমারীতে খানাখন্দে ভরা সড়কে দুর্ভোগ

বোয়ালমারীতে খানাখন্দে ভরা সড়কে দুর্ভোগ

৬৫ রুপি বেতনের স্কুলশিক্ষক থেকে প্যারিসের সুপারমডেল, অঞ্জলির অবিশ্বাস্য গল্প

৬৫ রুপি বেতনের স্কুলশিক্ষক থেকে প্যারিসের সুপারমডেল, অঞ্জলির অবিশ্বাস্য গল্প

রিটার্ন জমার সময় যে ৫ ভুল বেশি হয়, কী করবেন
রিটার্ন জমার সময় যে ৫ ভুল বেশি হয়, কী করবেন

দেশে এখন সোয়া এক কোটি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) আছেন। তাঁদের মধ্যে ৫০ লাখের মতো প্রতিবছর আয়কর রিটার্ন দেন। এবার সবাইকে অনলাইনে রিটার্ন দিতে হবে।কিন্তু রিটার্ন দিতে গিয়ে অনেকেই কিছু সাধারণ ভুল করেন। সেই ভুলগুলো কীভাবে সংশোধন করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা করা হবে।আয়কর রিটার্নে নগদ টাকার পাশাপাশি যত সম্পদ দেখাবেন, এসব সম্পদ অর্জনের ব্যাখ্যা যেন থাকে। আয়ের উৎসের ব্যাখ্যাও দিতে হবে। এসব সম্পদের সপক্ষে যথাযথ প্রমাণ সংরক্ষণ করবেন।১. বেশি সোনার গয়না দেখানোঅনেক করদাতা রিটার্নে অতিরঞ্জিতভাবে সোনা দেখান। যেমন অনেকেই ৪০–৫০ ভরি সোনা দেখান। বর্তমান বাজারদরে এই বিপুল পরিমাণ সোনার গয়নার দাম কোটি টাকার বেশি। কিন্তু এটা পেলেন কীভাবে, এর উৎস নেই।কী করবেনআপনার যতটা সোনার গয়না আছে, ততটা দেখানোই ভালো। কারণ, আয়ের সঙ্গে সংগতি রেখে সোনা না থাকলে পরে বিপাকে পড়তে পারেন।২. বেশি নগদ টাকা দেখানোরিটার্নে মাত্রাতিরিক্ত নগদ টাকা দেখান অনেকে। এতেও আয়ের সঙ্গে সংগতি না থাকলে এই নগদ টাকা নিয়ে বিপদে পড়বেন।কী করবেনযা নগদ আপনার কাছে আছে, তা–ই দেখাবেন। তবে কিছুটা বেশি দেখান অনেকে। কারণ, অনেকে ব্যাংকে না জমিয়ে নিজেরা বন্ধুবান্ধব মিলে বা অন্য কোনো উপায়ে প্রতি মাসে নিজেরা সঞ্চয় গড়ে তোলেন। যখন টাকা একসঙ্গে নিজের হাতে আসে, তখন তা একসঙ্গে রিটার্নে দেখানো হলে উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই অনেক করদাতা রিটার্নে আগে থেকেই নগদ টাকা বেশি দেখানোর এই কৌশল করেন।৩. উপহারজমি–ফ্ল্যাট, গয়নাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন করা হয় না।কী করবেনঅবশ্যই রিটার্নে দেখাবেন। মা–বাবা, ভাইবোন, স্ত্রী–সন্তানদের কাছ থেকে উপহার নিলে কর দিতে হয় না।৪. বিনিয়োগ না দেখানোকরদাতাদের অনেকেই এফডিআর, ডিপিএস, সঞ্চয়পত্র ইত্যাদিতে বিনিয়োগ করেও তা আয়কর রিটার্নে দেখান না, যা একটি ভুল কৌশল। এখন অটোমেশনের যুগে কর কর্মকর্তারা সহজেই তা বের করতে পারবেন।কী করবেনএফডিআর, ডিপিএস, সঞ্চয়পত্র ইত্যাদিতে বিনিয়োগ করে তা দেখিয়ে দেবেন। এতে লাভ আছে, কর কমে যাবে। তবে বিনিয়োগযোগ্য খাতেই বিনিয়োগ করবেন।৫. আয়ের চেয়ে খরচ বেশি দেখানোআয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি দেখানো ঠিক নয়। তাহলে আয় বাদে খরচের বাকি অর্থের উৎস দেখাতে হবে। তা না হলে বিপাকে পড়বেন।কী করবেনমনে রাখবেন, কর বসে আয়ের ওপর। খরচের ওপর কর বসে না। তাই যা আয় করবেন, তাই রিটার্ন দেখিয়ে করযোগ্য হলে কর দেবেন।মনে রাখতে হবেআপনি প্রথমবার আয়কর রিটার্নে নগদ টাকার পাশাপাশি যত সম্পদ দেখাবেন, এসব সম্পদ অর্জনের ব্যাখ্যা যেন থাকে। আয়ের উৎসের ব্যাখ্যাও দিতে হবে। এসব সম্পদের সপক্ষে যথাযথ প্রমাণ সংরক্ষণ করবেন।

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
টিভিতে আজকের খেলা, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টিভিতে আজকের খেলা, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফরিদপুরে চা দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা

ফরিদপুরে চা দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা

কর্ণফুলীতে কাভার্ডভ্যান-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৮

কর্ণফুলীতে কাভার্ডভ্যান-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৮

বর্ণিল রেখায় রূপের মায়াজাল
বর্ণিল রেখায় রূপের মায়াজাল

বীরেন সোম। আশি ছুঁই ছুঁই। তবু আজও শিল্পের কাছে যেন এক অনুসন্ধিৎসু শিক্ষার্থী তিনি। দীর্ঘ শিল্পীজীবনের এ অধ্যবসায়ই তাঁর শিল্পীসত্তার এক বড় পরিচয়। তিনি কাজ করেছেন বিভিন্ন মাধ্যমে—জলরং, তেলরং, ড্রয়িং, ছাপচিত্র। এঁকেছেন বইয়ের প্রচ্ছদ। তাঁর হাতে ফুটে উঠেছে নান্দনিক সব অলংকরণ। এসব বিভিন্ন মাধ্যমে দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তিনি হয়ে উঠেছেন এক স্বতন্ত্র শিল্পভাষার অধিকারী। তাঁর কাজের বৈশিষ্ট্য কেবল বিষয় নির্বাচনেই নয়; রেখা, রং, টেক্সচার ও পরিসরের সংযত ব্যবহারে তিনি দৃশ্যমান বাস্তবতাকে রূপান্তরিত করেন অনুভূতির নিজস্ব জগতে।শিল্পী হিসেবে সৃষ্টিশীলতার পাশাপাশি চারুশিল্প বিষয়ে গবেষণা ও শিল্প-ইতিহাসচর্চায়ও বীরেন সোমের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে শিল্পীসমাজ’ এবং ‘বাংলাদেশের চিত্রকলার বিকাশ ও আমার অভিযাত্রা’ বই দুটি বাংলাদেশের শিল্প-ইতিহাসের অমূল্য দলিল। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, প্রত্যক্ষ স্মৃতি, শিল্পীসমাজের ভূমিকা এবং বাংলাদেশের চিত্রকলার বিকাশের নানা পর্ব তিনি এসব গ্রন্থে নথিবদ্ধ করেছেন। ফলে তাঁর অবদান কেবল সৃষ্টিশীল শিল্পকর্মে সীমাবদ্ধ নয়; বাংলাদেশের চারুশিল্পের ইতিহাস ও উত্তরাধিকার সংরক্ষণেও তাঁর এ প্রয়াস গুরুত্বপূর্ণ।'আমার স্টুডিয়োর একটি পৃষ্ঠা',এচিং অ্যাকোয়াটিন্টবীরেন সোমের শিল্পজীবনের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসও গভীরভাবে যুক্ত। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বিভিন্ন গণ–আন্দোলনে তিনি সহযোদ্ধা শিল্পীদের সঙ্গে রাজপথে থেকেছেন; এঁকেছেন পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানার। একাত্তরে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রকাশনা বিভাগে নকশাবিদ হিসেবেও কাজ করেছেন। স্বাধীনতার পরও নানা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর শিল্পীসত্তা রাজপথের সঙ্গে যুক্ত থেকেছে। ফলে তাঁর শিল্পে প্রকৃতি, মানুষ ও লোকজীবন যেমন উপস্থিত, তেমনি গভীরে প্রবাহিত হয়েছে দেশপ্রেম, মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ও সমাজচেতনার অন্তস্রোত।দীর্ঘ চৌত্রিশ বছর ন্যাশনাল হার্বেরিয়ামে কাজ করার সূত্রে উদ্ভিদ, লতাপাতা, ফুল ও প্রাকৃতিক রূপের সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ বীরেন সোমের শিল্প-অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক কাজে সেই প্রত্যক্ষ বাস্তবানুগ অনুকরণের প্রবণতা অনেকটাই রূপান্তরিত হয়েছে অলংকারধর্মী, দ্বিমাত্রিক ও প্রাচ্যনির্ভর এক প্রকাশভঙ্গিতে। প্রকৃতির উপাদান এখানে আর নিছক দৃশ্যমান বস্তু নয়; ফুল, পাতা, পাখি, বৃক্ষ কিংবা মানবদেহ হয়ে ওঠে স্মৃতি, অনুভব ও অন্তর্জগতের প্রতীক।'স্বাধীনতা', এচিং অ্যাকোয়াটিন্টরাজধানীর লালমাটিয়ায় শিল্পাঙ্গনের আয়োজনে দ্য ইল্যুয়েশন গ্যালারিতে চলমান ‘স্টোরিজ অব মেমোরিজ’ বা ‘স্মৃতির গল্প’ শিরোনামের ১৪তম একক চিত্রকলা প্রদর্শনীর বিভিন্ন সিরিজে সেই রূপান্তরের বহুমাত্রিক প্রকাশ দেখা যায়। প্রিন্টের ওপর মার্কার, জলরং ও গোয়াশের ব্যবহারে লতাপাতা, নর-নারী, রাখাল ও অচিন পাখির উপস্থিতি কখনো লোকজ স্মৃতির, কখনো বাংলার চিরায়ত প্রকৃতির রূপক হয়ে উঠেছে। পাখি এখানে বাস্তব শরীরের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তার প্রতীকী ও আবেগীয় তাৎপর্যে। ‘পানাম’ ও ঐতিহ্যভিত্তিক কাজগুলোয় অতীত ও বর্তমানের এক আকর্ষণীয় সংলাপ তৈরি হয়েছে। ২০১৪ সালের পানাম নগরের স্থাপত্য ও কলামের লাইভ স্টাডির পুরোনো প্রিন্টের ওপর আবার কাজ করে স্মৃতিকে বর্তমানের টেক্সচার ও ডিজিটাল অনুভূতির সঙ্গে মিলিয়েছেন শিল্পী। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আহসান মঞ্জিল ও পানাম নগরকে ঘিরে নতুন জলরং ও ওয়াশের কাজ। স্থাপত্য এখানে শুধু স্থাপত্য নয়; সময়ের ক্ষয়, স্মৃতি ও ইতিহাসের দৃশ্যমান অবশেষ। এচিং অ্যাকুয়াটিং ও সাম্প্রতিক ‘ব্ল্যাক’ সিরিজে বীরেন সোমের রেখার স্বকীয়তা বিশেষভাবে উজ্জ্বল। কালো তলের ওপর সোনালি ও রুপালি বলপেন, প্যাস্টেল ও রঙিন পেনসিলের স্বতঃস্ফূর্ত রেখায় বাউল, মুক্তিযুদ্ধ, ভেনাস কিংবা ঢেঁকিশাকের মতো বিষয় নতুন প্রতীকী অর্থ লাভ করেছে। পুরোনো এচিং-কাজেও সূক্ষ্ম রেখা, হ্যাচিং ও ক্রস-হ্যাচিংয়ের দক্ষ ব্যবহার আলো-ছায়া, গভীরতা ও রহস্যময় আবহ নির্মাণ করেছে। বিশেষত মানবমুখের ওপর লতাপাতা ও ফুলের উপরিপাতন কিংবা নৈশ প্রকৃতির মধ্যে নত মানবাকৃতির উপস্থিতি মানুষ ও প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক, ক্ষয়, রূপান্তর ও নশ্বরতার এক অন্তর্মুখী দর্শনের দিকে নিয়ে যায়।'নগর বাউল', ড্রয়িংশিল্পী রশিদ চৌধুরী একসময় লক্ষ করেছিলেন, বীরেন সোম প্রকৃতির মধ্যে ফুলকে শুধু দেখেননি; বরং ফুলের মধ্যেই আবিষ্কার করেছেন নিসর্গের ব্যাপ্তি। এই পর্যবেক্ষণের তাৎপর্য আজও অটুট। সময়ের সঙ্গে তাঁর বিষয় ও মাধ্যম বদলেছে, কিন্তু প্রকৃতির অন্তর্নিহিত ছন্দ, রেখার সংগীত ও প্রাচ্যচেতনার প্রতি তাঁর আকর্ষণ অক্ষুণ্ন রয়েছে। ফুল, পাতা, পাখি কিংবা মানবদেহ—সবই তাঁর কাছে বৃহত্তর জীবনের রূপক।বীরেন সোমের শিল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তাঁর স্বভাবজাত সংযম। কবি শামসুর রাহমান যথার্থই তাঁকে নিরলস, বিনয়ী ও আত্মপ্রচারে অনাগ্রহী জাত শিল্পী হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। এই নিভৃতচারিতাই সম্ভবত তাঁর দীর্ঘ শিল্পসাধনার শক্তি। তিনি জনপ্রিয়তার পেছনে ছোটেননি; বরং কাজের মধ্য দিয়েই নিজের অবস্থান নির্মাণ করেছেন। চার দশক আগে কাইয়ুম চৌধুরী তাঁর অক্লান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা লিখেছিলেন; আজকের প্রদর্শনী যেন সেই একই অনুসন্ধিৎসার আরও পরিণত অধ্যায়।প্রদর্শনীর একমাত্র ক্যানভাস ‘রেড ফ্যান্টাসি’ এবং বিভিন্ন মাধ্যমের কাজগুলো মিলিয়ে বীরেন সোমের শিল্পযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট হয়—শিল্প তাঁর কাছে কোনো স্থির অর্জন নয়; এটি নিজেকে ক্রমাগত নতুন করে আবিষ্কারের প্রক্রিয়া। তাঁর রেখা কখনো স্মৃতির, কখনো প্রকৃতির, কখনো মানুষের; কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা এসে মেশে বাংলার দীর্ঘ সাংস্কৃতিক স্মৃতি ও জীবনবোধে। ১৪তম একক প্রদর্শনীতে তাই আমরা শুধু এক প্রবীণ শিল্পীর সাম্প্রতিক কাজ দেখি না; দেখি দীর্ঘ শিল্পসাধনার মধ্য দিয়ে নিজস্ব ভাষা নির্মাণ করে যাওয়া এক শিল্পীর জীবন্ত উত্তরাধিকার। তাঁর রেখায় শাশ্বত বাংলার রূপ যেমন আছে, তেমনি আছে সময়কে অতিক্রম করে শিল্পের নিজস্ব সত্যকে খুঁজে চলার এক নিরন্তর প্রত্যয়।৫ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া প্রদর্শনীটি দর্শকদের জন্য খোলা থাকবে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
এআইয়ের যুগে আমরা কি অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাব

এআইয়ের যুগে আমরা কি অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাব

ছিলেন রাখাল, পরে বাদাম বিক্রেতা, এখন বছরে বরই বিক্রি করেন এক কোটি টাকার

ছিলেন রাখাল, পরে বাদাম বিক্রেতা, এখন বছরে বরই বিক্রি করেন এক কোটি টাকার

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ৫৫ অনলাইন কোর্স বিনা মূল্যে শেখার সুযোগ

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ৫৫ অনলাইন কোর্স বিনা মূল্যে শেখার সুযোগ

0 Comments