জাতীয়

ঢাকার আকাশ থাকতে পারে মেঘলা, হতে পারে বজ্রসহ বৃষ্টি

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
টিভিতে আজকের খেলা, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
টিভিতে আজকের খেলা, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ক্রিকেটপ্রথম টি-টোয়েন্টিভারত-আফগানিস্তানরাত ৮টা, সনি স্পোর্টস ৫ নারী এশিয়া কাপ: ফাইনালভারত-শ্রীলঙ্কারাত ৮টা ৩০ মিনিট, টি স্পোর্টস ফুটবলইংলিশ প্রিমিয়ার লিগকভেন্ট্রি-ব্রাইটনসন্ধ্যা ৭টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড-ম্যানচেস্টার সিটিরাত ৯টা ৩০ মিনিট, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১ লা লিগাসেল্টা-মালাগাসন্ধ্যা ৬টা, টি স্পোর্টস/ট্যাপম্যাড লেভান্তে-বার্সেলোনারাত ৮টা ১৫ মিনিট, টি স্পোর্টস/ট্যাপম্যাড সোসিয়েদাদ-আতলেতিকোরাত ১টা, টি স্পোর্টস/ট্যাপম্যাড টেনিসইউএস ওপেন: পুরুষ ফাইনালজভেরেভ-শেলটনরাত ১২টা, স্টার স্পোর্টস ১ ও ২ এমএমআর

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
ফরিদপুরে চা দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা

ফরিদপুরে চা দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা

কর্ণফুলীতে কাভার্ডভ্যান-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৮

কর্ণফুলীতে কাভার্ডভ্যান-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৮

বর্ণিল রেখায় রূপের মায়াজাল

বর্ণিল রেখায় রূপের মায়াজাল

এআইয়ের যুগে আমরা কি অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাব
এআইয়ের যুগে আমরা কি অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাব

মানুষ হাজার হাজার বছর ধরে একটি কাজ করে পৃথিবীকে বদলে দিয়েছে: সে শিখেছে। আগুন থেকে চাকা, ছাপাখানা থেকে কম্পিউটার, ইন্টারনেট থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রতিটি বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন মানুষের শেখার ক্ষমতাকে আরও বিস্তৃত করেছে। কিন্তু এআইয়ের যুগে এসে প্রথমবারের মতো আমাদের সামনে একটি অদ্ভুত প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে। প্রযুক্তি কি আমাদের আরও বেশি শেখাবে, নাকি একসময় শেখার প্রয়োজনটাই কমিয়ে দেবে?কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন লিখতে পারে, অনুবাদ করতে পারে, হিসাব করতে পারে, কোড লিখতে পারে, তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে, ছবি তৈরি করতে পারে, গবেষণার প্রাথমিক কাজ করতে পারে। অর্থাৎ মানুষের মস্তিষ্ক যে কাজগুলো করতে বহু বছর ধরে অনুশীলন করেছে, তার অনেকগুলোই এখন কয়েক সেকেন্ডে একটি মেশিন করে দিতে পারে। এখানেই আসল প্রশ্নটি। এআই আমাদের কাজের কতটা নিয়ে নেবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, এআই কি আমাদের নিজের চিন্তা করার প্রয়োজনটিই কমিয়ে দেবে?কারণ মানুষ যদি ধীরে ধীরে প্রশ্ন করার বদলে উত্তর নিতে শেখে, বোঝার বদলে সারাংশ নিতে শেখে, লিখতে শেখার বদলে এআই দিয়ে লিখিয়ে নিতে শেখে, হিসাব শেখার বদলে হিসাব করিয়ে নেয়, তাহলে একসময় সমস্যাটি চাকরি হারানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তখন হারাতে শুরু করবে মানুষের শেখার ক্ষমতা, চিন্তার অভ্যাস এবং বিচার করার শক্তি। এআই মানুষকে অপ্রয়োজনীয় করবে না; মানুষ নিজেকেই অপ্রয়োজনীয় করে ফেলতে পারে।এই আশঙ্কার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগার হতে পারে শিক্ষাব্যবস্থা। কারণ, একটি শিশুকে আমরা শুধু তথ্য দিই না, তাকে শেখাই কীভাবে চিন্তা করতে হয়। আর সেই শেখার জায়গাতেই যদি প্রযুক্তি মানুষের হয়ে সবকিছু করতে শুরু করে, তাহলে ভবিষ্যতের মানুষটি কতটা স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে পারবে?সুইডেনের সাম্প্রতিক শিক্ষাচিত্র এই প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত পিআইএসএ (PISA) ২০২৫-এর ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, সুইডেনের ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের পড়ার স্কোর ২০২২ সালের তুলনায় ২১ পয়েন্ট কমে ৪৬৬ হয়েছে। গণিতে কমেছে ১৮ পয়েন্ট, স্কোর হয়েছে ৪৬৪। বিজ্ঞানে স্কোর ৪৮৫, যা ৮ পয়েন্ট কমলেও এই পরিবর্তনটি পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য নয়। একই সময়ে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (OECD)-এর গড়ও পড়া ও গণিতে উল্লেখযোগ্যভাবে নেমেছে।এই ফলাফল দেখে সরাসরি বলা যাবে না যে টিকটক, স্মার্টফোন বা এআইয়ের কারণেই সুইডেনের শিক্ষার্থীদের ফল খারাপ হয়েছে। পিআইএসএ এমন কোনো সরল কারণ—ফল সম্পর্ক প্রমাণ করে না। কিন্তু এটি অবশ্যই আমাদের থামিয়ে প্রশ্ন করতে বাধ্য করে: আমরা প্রযুক্তিকে শিক্ষার জন্য ব্যবহার করছি, নাকি প্রযুক্তিই ধীরে ধীরে শিক্ষার জায়গা দখল করছে?মানুষের ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’সুইডেনের নিজস্ব স্কোলভারকেটের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, উচ্চবিদ্যালয়ের নিচের স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ির কাজ ও স্কুলের কাজে এআই ব্যবহারের হার ২০২৪ সালের ২৫ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। ১৭-১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের অর্ধেকেরও বেশি জানিয়েছে, তারা স্কুলের কাজে লেখা সংক্ষেপ করা বা তৈরি করার জন্য এআই চ্যাটবোট ব্যবহার করে। একই সঙ্গে এআই ব্যবহার করে প্রতারণার কথাও শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে। স্কোলভারকেট বিষয়টিকে গুরুতর বলে দেখছে।এখানে আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য বুঝতে হবে। দ্রুত উত্তর পাওয়া আর গভীরভাবে শেখা এক জিনিস নয়।একজন শিক্ষার্থী এআইকে দিয়ে একটি কঠিন বিষয় সহজ ভাষায় বুঝিয়ে নিতে পারে। এটি শিক্ষার সহায়ক হতে পারে। সে কোনো ধারণা নিয়ে আরও প্রশ্ন করতে পারে, ভুল ধরতে পারে, নিজের লেখার উন্নতি করতে পারে। এটিও ইতিবাচক। কিন্তু একই শিক্ষার্থী যদি এআইকে দিয়ে পুরো উত্তর লিখিয়ে নেয় এবং নিজে না পড়ে, না বোঝে, না যাচাই করে, তাহলে সে হয়তো একটি ভালো বাড়ির কাজ জমা দিল, কিন্তু তার জ্ঞান বাড়ল না।এখানেই এআইয়ের সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্ব। একই প্রযুক্তি একজন মানুষকে আরও জ্ঞানী করতে পারে, আবার অন্য একজনকে আরও নির্ভরশীল করে তুলতে পারে।সিঙ্গাপুরের দিকে তাকালে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়। সিঙ্গাপুর পিআইএসএ ২০২৫-এ বিজ্ঞান, গণিত ও পড়াশোনায় বিশ্বের সর্বোচ্চ পারফরম্যান্সকারী শিক্ষাব্যবস্থাগুলোর একটি। অথচ সিঙ্গাপুরের শিক্ষার্থীরা এআই ব্যবহার থেকে পিছিয়ে নেই। বরং প্রায় ৬৬ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছে, তারা সপ্তাহে অন্তত একবার শেখার জন্য এআই চ্যাটবট ব্যবহার করে। প্রায় ৮১ শতাংশ শিক্ষার্থী বলেছে, স্কুলের পাঠে তাদের এআই দিয়ে তৈরি তথ্যের মান যাচাই করতে শেখানো হয়।এখানে পার্থক্যটি এআই ব্যবহারের পরিমাণে নয়, ব্যবহারের দর্শনে। সিঙ্গাপুর যেন শিক্ষার্থীকে বলছে না, ‘এআই ব্যবহার করো না।’ বরং বলছে, ‘এআই ব্যবহার করো, কিন্তু এআই যা বলছে, তা যাচাই করতে শেখো।’এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। এআইয়ের উত্তরকে শেষ কথা হিসেবে না দেখে একটি সম্ভাব্য উত্তর হিসেবে দেখা। এআইয়ের তথ্য গ্রহণের আগে প্রশ্ন করা। নিজের জ্ঞান দিয়ে যাচাই করা। ভুল হলে সংশোধন করা। অর্থাৎ প্রযুক্তিকে চিন্তার বিকল্প না বানিয়ে চিন্তার সহায়ক বানানো।পিআইএসএ ২০২৫-এর সামগ্রিক ফলাফলও একই দিকে ইঙ্গিত করে। ওইসিডি বলছে, প্রযুক্তি ও এআই শিক্ষা শক্তিশালী করতে পারে, কিন্তু তা হতে হবে উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে, মনোযোগ, পরিশ্রম ও বোঝাপড়ার বিকল্প হিসেবে নয়।তাহলে সুইডেন ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে আসল পার্থক্য কোথায়? প্রযুক্তিতে নয়। প্রশ্ন হলো, প্রযুক্তি মানুষকে কী করতে সাহায্য করছে।যদি প্রযুক্তি মানুষকে আরও জানতে, আরও প্রশ্ন করতে, আরও গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করে, তাহলে প্রযুক্তি মানুষের ক্ষমতা বাড়ায়। আর যদি প্রযুক্তি মানুষকে চিন্তা করা, পড়া, লেখা, হিসাব করা কিংবা শেখার পরিশ্রম থেকে মুক্তি দেওয়ার শর্টকাট হয়ে যায়, তাহলে একই প্রযুক্তি মানুষের ক্ষমতাকেই দুর্বল করতে পারে।এখন আসা যাক বাংলাদেশের কথায়। এখানেই আলোচনাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা।বাংলাদেশ পিআইএসএ ২০২৫-এর অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর তালিকায় নেই। তাই সুইডেন বা সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো সরাসরি পিআইএসএ স্কোর তুলনা করা ঠিক হবে না। কিন্তু এআইয়ের প্রশ্ন থেকে বাংলাদেশ কোনোভাবেই বাইরে নয়। বরং বাংলাদেশের জন্য প্রশ্নটি আরও গভীর।কারণ, এআই এমন এক সময়ে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রবেশ করছে, যখন আমাদের সামনে পুরোনো একটি সমস্যা এখনো রয়ে গেছে: শেখা আর পরীক্ষায় ভালো করার মধ্যে পার্থক্য।একজন শিক্ষার্থী যদি জ্ঞান অর্জনের চেয়ে পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়াকে বড় লক্ষ্য মনে করে, তাহলে এআই তার জন্য আশীর্বাদও হতে পারে, আবার বিপদও হতে পারে। আগে গাইডবই ছিল শর্টকাট। এখন চ্যাটবট হতে পারে নতুন শর্টকাট। আগে অন্যের লেখা মুখস্থ করে পরীক্ষায় উত্তর দেওয়া যেত। এখন এআই দিয়ে উত্তর তৈরি করে নিজের নামে জমা দেওয়া সম্ভব। আগে শিক্ষককে না বুঝেও পরীক্ষায় নম্বর পাওয়া সম্ভব ছিল। এখন এআইয়ের সাহায্যে না বুঝেও সুন্দর ভাষায় উত্তর তৈরি করা সম্ভব।প্রযুক্তি বদলেছে, কিন্তু শেখা এড়িয়ে যাওয়ার প্রলোভন বদলায়নি। তাই বাংলাদেশের আসল লড়াই এআইয়ের সঙ্গে নয়। বাংলাদেশের আসল লড়াই হবে, এমন একটি শিক্ষাসংস্কৃতি গড়ে তোলার সঙ্গে, যেখানে উত্তর পাওয়ার চেয়ে উত্তর বোঝা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।এআই বাংলাদেশের জন্য অসাধারণ সুযোগও তৈরি করতে পারে। একজন গ্রামের শিক্ষার্থী এমন কোনো বিষয় বুঝতে পারে, যা তার স্কুলে পর্যাপ্তভাবে শেখানো হয়নি। একজন তরুণ গবেষক বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তথ্যের কাছে দ্রুত পৌঁছাতে পারে। একজন কৃষক নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পারে। একজন চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মী তথ্য বিশ্লেষণে সহায়তা পেতে পারেন। একজন উদ্যোক্তা নতুন ধারণা পরীক্ষা করতে পারেন। ভাষাগত সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে একজন তরুণ বিশ্বের জ্ঞানভান্ডারের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।অর্থাৎ বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য এআই শুধু প্রযুক্তি নয়, জ্ঞানকে গণতান্ত্রিক করার একটি বড় সুযোগ।কিন্তু সেই সুযোগ তখনই কাজে লাগবে, যখন এআই আমাদের হয়ে চিন্তা করবে না, বরং আমাদের আরও ভালোভাবে চিন্তা করতে সাহায্য করবে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার তরুণ জনগোষ্ঠী। সেই তরুণদের হাতে এআই তুলে দেওয়া মানে শুধু একটি নতুন প্রযুক্তি তুলে দেওয়া নয়। তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ভবিষ্যৎ অর্থনীতি, বিজ্ঞান, শিক্ষা, প্রশাসন ও সমাজ নির্মাণের একটি শক্তিশালী যন্ত্র।কিন্তু শক্তিশালী যন্ত্রের মূল্য তার ব্যবহারকারীর ওপরও নির্ভর করে। একজন দক্ষ চালকের হাতে শক্তিশালী গাড়ি তাকে অনেক দূরে নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু চালক যদি ঘুমিয়ে পড়ে, গাড়ির শক্তি তখন আশীর্বাদ থাকে না। এআইয়ের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।বাংলাদেশকে তাই এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সে এআইকে কীভাবে ব্যবহার করবে। শুধুঅ্যাসাইনমেন্ট লেখার জন্য? নাকি গবেষণার জন্য? শুধু পরীক্ষার উত্তর তৈরি করার জন্য? নাকি প্রশ্ন করার ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য? শুধু দ্রুত তথ্য পাওয়ার জন্য? নাকি তথ্যের সত্যতা যাচাই করার জন্য?এখানে সুইডেন ও সিঙ্গাপুর বাংলাদেশের সামনে দুটি ভিন্ন শিক্ষা তুলে ধরছে। সুইডেন আমাদের সতর্ক করছে যে উন্নত প্রযুক্তি থাকা মানেই উন্নত শেখা নয়। প্রযুক্তি ব্যবহারের ধরন, মনোযোগ, শেখার সংস্কৃতি এবং শিক্ষার উদ্দেশ্য গুরুত্বপূর্ণ। সিঙ্গাপুর দেখাচ্ছে, এআইকে ভয় না পেয়েও তার সীমাবদ্ধতা বোঝানো যায়। শিক্ষার্থীকে এআই ব্যবহার করতে দেওয়া যায়, আবার একই সঙ্গে এআইয়ের তৈরি তথ্যকে প্রশ্ন ও যাচাই করতেও শেখানো যায়।বাংলাদেশকে তাই কারও অন্ধ অনুকরণ করার প্রয়োজন নেই। সুইডেন বা সিঙ্গাপুর এক দিনে বিশ্বের সেরা শিক্ষাব্যবস্থার জায়গায় পৌঁছায়নি। আবার একটি পিআইএসএ রিপোর্টে কোনো দেশ রাতারাতি ভেঙে পড়ে না, যেমন একটি ভালো ফলাফলেও কোনো দেশ রাতারাতি সেরা হয়ে যায় না।কিন্তু একটি রিপোর্ট কখনো কখনো আয়নার মতো কাজ করে। সুইডেনের গতকালের ফলাফল সেই আয়না। এটি আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নয়। বরং সতর্ক হওয়ার কারণ।পরিবর্তনের সময় এখনই। শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রযুক্তির বিরুদ্ধে দাঁড় করানো নয়, বরং প্রযুক্তিকে শিক্ষার সঠিক উদ্দেশ্যের অধীন আনা দরকার। কারণ, ভবিষ্যতের শিক্ষার্থীকে শুধু জানতে হবে না, তাকে জানতে হবে কোন তথ্য বিশ্বাস করতে হবে, কোনটি প্রশ্ন করতে হবে এবং কখন নিজের চিন্তাকে এআইয়ের উত্তরের ওপরে রাখতে হবে।আর বাংলাদেশ, তোমার সামনে প্রশ্নটি আরও সরাসরি। তুমি কি এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করবে, যারা এআইয়ের কাছ থেকে উত্তর নিতে জানে? নাকি এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করবে, যারা এআইয়ের উত্তরকে প্রশ্ন করতে জানে?প্রথমটি তৈরি করলে আমরা হয়তো দ্রুত উত্তর পাব। দ্বিতীয়টি তৈরি করতে পারলে আমরা তৈরি করব মানুষ।কারণ, ভবিষ্যতের পৃথিবীতে মানুষের সবচেয়ে বড় মূল্য হয়তো তার কত তথ্য জানা আছে, সেটি হবে না। এআইয়ের কাছে তথ্যের ভান্ডার মানুষের চেয়ে অনেক বড় হতে পারে। মানুষের মূল্য থাকবে তার কৌতূহলে, সৃজনশীলতায়, সহমর্মিতায়, নৈতিকতায়, বিচারবুদ্ধিতে, দায়িত্ববোধে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, কখন প্রশ্ন করতে হবে তা বোঝার ক্ষমতায়।তাই ভবিষ্যতের শিক্ষা হবে শুধু ‘এআই কী করতে পারে’ তা শেখানো নয়। ভবিষ্যতের শিক্ষা হবে, এআই কী করতে পারে, কী পারে না এবং কোন জায়গায় মানুষকে নিজেকেই চিন্তা করতে হবে, তা শেখানো।আমি মনে করি এআই আমাদের অপ্রয়োজনীয় করবে না।কিন্তু আমরা যদি নিজের চিন্তা করার ক্ষমতা, শেখার আগ্রহ, বিচারবুদ্ধি এবং দায়িত্ব নেওয়ার সাহস ছেড়ে দিই, তাহলে আমরা নিজেকেই অপ্রয়োজনীয় করে ফেলতে পারি।আর হয়তো এআইয়ের যুগে আমাদের সবচেয়ে বড় শিক্ষা এটিই:প্রযুক্তি যত বুদ্ধিমানই হোক, আমরা যেন আমাদের নিজেদের বুদ্ধিকে কখনো ছুটি না দিই।দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
ছিলেন রাখাল, পরে বাদাম বিক্রেতা, এখন বছরে বরই বিক্রি করেন এক কোটি টাকার

ছিলেন রাখাল, পরে বাদাম বিক্রেতা, এখন বছরে বরই বিক্রি করেন এক কোটি টাকার

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ৫৫ অনলাইন কোর্স বিনা মূল্যে শেখার সুযোগ

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ৫৫ অনলাইন কোর্স বিনা মূল্যে শেখার সুযোগ

পর পর ৩টি গ্ল্যাম লুকে অন্যরকম তিশা

পর পর ৩টি গ্ল্যাম লুকে অন্যরকম তিশা

অক্সফোর্ডের ইএমবিএতে প্রথম রিশাদ, গ্র্যাজুয়েশন স্পিকারও তিনি
অক্সফোর্ডের ইএমবিএতে প্রথম রিশাদ, গ্র্যাজুয়েশন স্পিকারও তিনি

পরদিন অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে। রাত তিনটায় ঘুম থেকে উঠে পড়তে বসে যেতেন রিশাদ শরিফ। অ্যাসাইনমেন্ট শেষে সকাল ছয়টায় ধরতেন অফিসের ট্রেন। এভাবেই কেটেছে গত দুই বছর। রিশাদ বলছিলেন, ‘স্বপ্ন দেখতে সবাই পছন্দ করে। কিন্তু সেটাকে বাস্তব করাটা আসলে খুব বোরিং হার্ডওয়ার্ক (একঘেয়ে পরিশ্রম), যেটা প্রতিদিন করতে হয়।’সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির এক্সিকিউটিভ এমবিএতে (ইএমবিএ) ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন রিশাদ। অক্সফোর্ড ইএমবিএর জানুয়ারি ২০২৪ কোহর্টে (ব্যাচ) প্রথম হয়ে এই স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। পেশাজীবীদের জন্য এক্সিকিউটিভ এমবিএ স্নাতকোত্তর পর্যায়ের একটি ডিগ্রি। র‍্যাঙ্কিংয়ে অক্সফোর্ডের এই ডিগ্রি বিশ্বের সেরা।রিশাদের বেড়ে ওঠা ঢাকার মালিবাগে। পড়েছেন সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে। নটর ডেম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক। ২০০৯ সালে গাজীপুরের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি) থেকে স্নাতক করেন। পরের বছর যোগ দেন ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশে। কাজের সূত্রে গত ছয় বছর সপরিবার যুক্তরাজ্যে আছেন। এখন তিনি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর অপারেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটির বৈশ্বিক প্রধান। ঐশীকে যতবার অপশন দেওয়া হবে, ততবারই কেন বান্দরবান বেড়াতে যেতে চাইবেন অক্সফোর্ডে তাঁর ইএমবিএর ব্যাচে প্রায় ২৬ দেশের ৬০ জন পেশাজীবী ছিলেন। তাঁদের কেউ ব্যবসায়ী, কেউ রাজনীতিবিদ, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা কিংবা চিকিৎসক। প্রত্যেকেরই সংশ্লিষ্ট পেশায় দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা আছে।আবার কেন পড়াশোনা রিশাদের পেশাজীবন প্রায় ১৬ বছরের। স্ত্রী ফারহা দিবা সুফিয়ান একজন অর্থনীতিবিদ। তাঁদের দুই সন্তান। ৯ বছরের নাদিন ও ৫ বছরের হামজা। প্রশ্ন ছিল, ‘এই ব্যস্ত জীবনে আবার কেন পড়ালেখার কথা ভাবলেন?’ রিশাদের সহজ উত্তর, ‘আমি এটাকে ব্যক্তি উন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছি।’কথায় কথায় আরও দুটি কারণ জানা গেল। প্রথমত, তিনি সন্তানদের অনুপ্রেরণা দিতে চান। দ্বিতীয়ত, দেশের প্রতিনিধিত্ব করার ভাবনাও তাঁর মাথায় ছিল। রিশাদ বলেন, ‘আমার কোহর্টে, কিংবা এর আগে-পরেও কোনো বাংলাদেশিকে আমি অক্সফোর্ডের ইএমবিএতে পাইনি। অনেকে তো আমাদের দেশকে নেতিবাচকভাবে দেখে। মনে করে শাসনব্যবস্থা ভালো না, গরিব। আমি দেশকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করতে চেয়েছি। সে জন্য ভালো রেজাল্ট করার একটা বাড়তি চেষ্টা ছিল।’এক্সিকিউটিভ এমবিএর জন্য অক্সফোর্ড ছাড়াও লন্ডন বিজনেস স্কুলে আবেদন করেছিলেন রিশাদ। সেখানেও তিনি নির্বাচিত হন। রিশাদ জানালেন, অভিবাসীরা সাধারণত বড় স্বপ্ন দেখার সাহস করে না। সেই অনিশ্চয়তা রিশাদেরও ছিল। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষ তার স্বপ্নের সমানই বড়। বলছিলেন, ‘বাস্কেটবল খেলোয়াড় মাইকেল জর্ডানের একটা কথা আছে। প্রতিটি না নেওয়া শট একটা মিসড শট। অর্থাৎ, তুমি যদি শটটা না-ই নাও, তার মানে তুমি সেটা মিস করলে। শটটা বরং নিয়ে দেখো, জিততেও পারো। আমার মনে হয়, নিজেকে সেই পারমিশনটা দেওয়া উচিত।’দেশের প্রতিনিধিত্ব করার ভাবনাও তাঁর মাথায় ছিলকীভাবে সামলাতেন পরিবার এবং কাজ সামলে প্রথমত ডিগ্রিটা অর্জন করাই ছিল চ্যালেঞ্জিং। একজন বাবা, স্বামী, চাকরিজীবীর দায়িত্বই অনেক বড়। তার সঙ্গে যোগ হয়েছিল আরও একটা পরিচয়—শিক্ষার্থী। তবে গত দুই বছর এই চ্যালেঞ্জ উপভোগও করেছেন তিনি।রিশাদ তাঁর কোহর্টের সহপাঠীদের ভোটে ‘গ্র্যাজুয়েশন স্পিকার’ নির্বাচিত হন। প্রায় ৬০০ মানুষের সামনে বক্তৃতা দেন তিনি। সেই বক্তব্যে গত দুই বছরের পথচলা প্রসঙ্গে রিশাদ বলেন, ‘গত ২৪ মাসের প্রতিটি সপ্তাহে কোনো দিন আমি ছিলাম একজন ব্যর্থ বাবা, কোনো দিন ব্যর্থ কর্মী, কোনো দিন ব্যর্থ বন্ধু আবার কোনো দিন একজন ব্যর্থ স্বামী। প্রতিদিন আপনি সবকিছু ঠিকভাবে করতে পারবেন না। কিন্তু আমি মনে করি, সামগ্রিকভাবে সবকিছুর মধ্যে একটা ভারসাম্য রাখতে হবে।’রিশাদ মনে করেন, সবকিছু একা করা সম্ভব ছিল না। বিশেষ করে স্ত্রী ফারহার সহযোগিতা পেয়েছেন। বন্ধু ও সহকর্মীরাও তাঁদের জায়গা থেকে সাহায্য করেছেন।স্ত্রী–সন্তানের সঙ্গে রিশাদতরুণদের জন্য কিছু করতে চান ছোটবেলা থেকে খেলাধুলা ভালোবাসতেন রিশাদ। স্কুলে ক্রিকেট, ফুটবল, বাস্কেটবলসহ সব ধরনের খেলাই খেলেছেন। স্কাউটিংও করতেন। বলছিলেন, ‘আমার মনে হয়, পড়ালেখার বাইরে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ। এটা আমাদের কঠিন সময়ে শান্ত থাকতে শেখায়, নেতৃত্ব শেখায়।’ প্রতিবছর ডিসেম্বরে দেশে আসেন তিনি। দেশে ‘হ্যামার হেডস’ নামে বন্ধুদের একটা ছোট ক্লাব আছে। দেশে এলে সেখানেই বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলেন।বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিতর্ক করতেন। ডিবেটিং ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। বিতর্ক করার পাশাপাশি শেখাতেনও। বিশেষ করে স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ দিতেন। বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।বিতর্কের সুবাদেই তাঁর একটা নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। দেশের তরুণদের ‘ক্রিটিক্যাল থিংকিং’ ও যোগাযোগ-দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করতে চান তিনি। রিশাদ বলেন, ‘জীবনে অসামান্য সব সুযোগ পেয়ে আমি অত্যন্ত ভাগ্যবান ও কৃতজ্ঞ। অর্জিত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি কাজে লাগিয়ে যদি কোনোভাবে দেশের উপকারে আসতে পারি, তবে তা হবে আমার সৌভাগ্য।’ঘরের ফেলনা জিনিস থেকে আয়, বাংলাবিনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
নাম রাজাউল্লাহ, রাজত্ব যাঁকে ডাকে

নাম রাজাউল্লাহ, রাজত্ব যাঁকে ডাকে

রংবেরঙের ফুলে ফুটে উঠেছে শরতের সৌন্দর্য

রংবেরঙের ফুলে ফুটে উঠেছে শরতের সৌন্দর্য

ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডে চাকরি, পদ ৮৬

ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডে চাকরি, পদ ৮৬

0 Comments