রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রক্তসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বাইরে থেকে পরীক্ষা করিয়ে আনার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব অনিয়মের প্রমাণ পান। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসার কাগজপত্র ও বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্ট দেখেন।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যে অভিযোগ শুনে এখানে এসেছি সেটা শতভাগ সত্যি। ডেঙ্গু শনাক্তে সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষার সুবিধা থাকা সত্ত্বেও বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার (জমজম, সততা ও সান) থেকে লোক এসে রোগীদের রক্ত সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়ার প্রমাণ পেয়েছি।'
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে সুবিধা আছে। বাইরে থেকে লোক এসে এখান থেকে ব্লাড নিয়ে যায়, এরা কি অন্ধ? ডাক্তার আছে, চোখে দেখবে না?’
সাংবাদিকদের সামনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাগজ দেখিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি অর্থে রোগীদের পরীক্ষা করার ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বাইরের লোক এসে নমুনা নিয়ে যাচ্ছে। রোগীরা কেন বাইরে পরীক্ষা করাবেন সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে রোগীদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করার ব্যবস্থা রয়েছে। এরপরও যদি বাইরের লোক এসে রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যায় তাহলে এর সঙ্গে কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হবে।

এদিকে পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের রোগী ও স্বজনরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে লিফট নিয়মিত চালু না থাকা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগী ও স্বজনদের একাধিক তলায় ছোটাছুটি করতে হওয়ার অভিযোগ করেন তারা।
এক রোগীর স্বজন বলেন, লিফট নিয়মিত চালু থাকলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য অনেক সুবিধা হতো। বর্তমানে পরীক্ষার জন্য রোগী ও স্বজনদের এক তলা থেকে আরেক তলায় যেতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং রোগীদের চিকিৎসা কীভাবে চলছে, কোন কোন পরীক্ষা করানো হয়েছে এবং কোথা থেকে রিপোর্ট এসেছে এসব বিষয়ে খোঁজ নেন।
এ সময় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতালগুলোতে প্রস্তুতি রয়েছে। রোগীর সংখ্যা বাড়লে চিকিৎসা সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও প্রতিরোধমূলক অভিযান জোরদার করার কথাও জানান তিনি। স্বাস্থ্য খাতের অনিয়মের বিরুদ্ধে এ ধরনের সরেজমিন পরিদর্শন অব্যাহত থাকবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এমইউ/বিএ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে দুই হাজার পিস ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল ও ১৩ রাউন্ড গুলিসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে উপজেলার চুনতী রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে চেকপোস্টে একটি পিকআপে তল্লাশি চালিয়ে এসব মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন- কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুসকুল এলাকার মো. তারেকুল ইসলাম (২৬) ও মো. রাশেদুল ইসলাম প্রকাশ রুবেল (৩৮)। পুলিশ জানায়, চুনতী রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে চেকপোস্টে একটি ফোটন পিকআপ (চট্টগ্রাম মেট্রো-ন-১২-০৬৩৪) আটক করা হয়। পরে গাড়িটিতে তল্লাশি চালানোর একপর্যায়ে গ্রেফতারদের দেখানো এবং তাদের নিজ হাতে বের করে দেওয়ার ভিত্তিতে চালকের সিটের পেছনের পকেটে বিশেষ কৌশলে লুকানো একটি পুটলা উদ্ধার করা হয়। পরে ওই পুটলা থেকে ২ হাজার পিস ইয়াবা, একটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। সাদা পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় দুই হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। এ ছাড়া একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগজিন ও ১৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা পুলিশকে জানিয়েছেন, তারা কক্সবাজারের কুরুশকুল এলাকা থেকে চট্টগ্রাম নগরের রিয়াজউদ্দিন বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। একই এলাকার মামুন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশে বিক্রির উদ্দেশ্যে ইয়াবা ও আগ্নেয়াস্ত্রগুলো পরিবহন করছিলেন তারা। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, মাদক ও অস্ত্র গ্রহণের উদ্দেশ্যে মামুন এরই মধ্যে বাসযোগে চট্টগ্রাম শহরে চলে গেছেন। তাকে গ্রেফতার এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধে নিয়মিত চেকপোস্ট, যানবাহনে তল্লাশি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উদ্ধার করা মাদক ও অস্ত্রের ঘটনায় প্রচলিত আইনে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এমআরএএইচ/এমএএইচ/
পায়রা নদীতে মাছ ধরছেন জেলেরা। আয়লা, বরগুনা, ১০ সেপ্টেম্বর দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় মন্দিরের দেয়ালে জন্মেছে গাছপালা। শ্যামসুন্দর মন্দির, সোনাবাড়িয়া, কলারোয়া, সাতক্ষীরা, ১১ সেপ্টেম্বরসিংড়ার বিয়াশবাজারে অভিযান চালিয়ে সার মজুত রাখার দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিয়াশবাজার, সিংড়া, নাটোর, ১০ সেপ্টেম্বরভাদ্রের হঠাৎ নামা বৃষ্টিতে শরীর ভিজিয়ে নিচ্ছে হাঁসটি। আমভিটা, ডুমুরিয়া, খুলনা, ১১ সেপ্টেম্বরকাপ্তাই হ্রদের মাঝে ডিঙিনৌকাভর্তি জাল নিয়ে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেরা। বালুখালী, রাঙামাটি, ১১ সেপ্টেম্বরনদী-বিলের দেশি মাছের সমারোহ। তবে দাম চড়া। মাসুমবাজার, পাবনা, ১১ সেপ্টেম্বরভাঙনের কারণে হাঁটার জায়গা কমেছে সৈকতে। তাই জিও ব্যাগের বাঁধের ওপর বসানো হয়েছে পর্যটকদের চেয়ার-ছাতা। লাবণী পয়েন্ট, কক্সবাজার, ১১ সেপ্টেম্বরগাছে পেরেক ঠুকে লাগানো হয়েছে নানা ধরনের ব্যানার। ঘটবাড়িয়া বাজার, বরগুনা, ১০ সেপ্টেম্বরবৃষ্টিভেজা সকালে ফুটে আছে রেইন লিলি। হানসামাপাড়া, বান্দরবান, ১১ সেপ্টেম্বরগ্রামের পথে খেলনা গাড়িতে ভাইকে নিয়ে আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে বড় বোন। জামছড়িমুখপাড়া, বান্দরবান, ১১ সেপ্টেম্বর
শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বিকেল ৩টা থেকে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হয় জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। তবে জাদুঘর খোলার সময় না জেনে সকালেই দূর-দূরান্ত থেকে সেখানে এসে ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেক দর্শনার্থী। কড়া রোদ ও ভ্যাপসা গরমে জাদুঘরের বাইরে অপেক্ষা করতে না পেরে অনেককে আশপাশের বিভিন্ন স্থানে সময় কাটাতে চলে যেতে দেখা যায়। ছুটির দিনে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে বের হওয়া অনেকের গন্তব্য ছিল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। কিন্তু সেখানে পৌঁছে টিকিট কাউন্টার বন্ধ এবং প্রবেশের সুযোগ না পেয়ে হতাশ হতে দেখা যায় তাদের। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, জাদুঘরের টিকিট কাউন্টারের সামনে দর্শনার্থীরা এসে দাঁড়িয়ে আছেন। তবে সেখানে টিকিট বিক্রেতা ছিলেন না। নারী ও শিশুদের নিয়ে অনেকে জাদুঘরের গেটসংলগ্ন ছায়ায় অপেক্ষা করছিলেন। কেউ কেউ জাদুঘরের ভেতরে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে জানতে চাইছিলেন, কখন প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে, জাদুঘর বন্ধ কি না বা কেন বন্ধ। অনেক দর্শনার্থী জাদুঘর খোলার সময় না জানায় কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে অন্যত্র চলে যান। কেউ কেউ সময় কাটাতে পাশের চন্দ্রিমা উদ্যান ও সংসদ ভবনের সামনের এলাকায় চলে যান। দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে সাত বন্ধুকে নিয়ে জাদুঘরে আসেন জুবায়ের। তিনি বলেন, ‘জানতাম না এটি বিকেল ৩টায় খোলা হয়। এত দূর থেকে এসে আমরা বিপদে পড়েছি।’ মিরপুর-১ নম্বর থেকে তিন বন্ধুকে নিয়ে এসেছেন মাদরাসা শিক্ষার্থী সিফাত। তিনি বলেন, ‘আমরা শুক্রবার ছুটি পাই। সন্ধ্যার আগেই মাদরাসায় ফিরতে হয়। এখন এসে দেখি জাদুঘর খুলবে বিকেল ৩টায়। আশপাশের কোনো মসজিদে গিয়ে তারপর আসবো ভাবছি।’ দর্শনার্থীরা জানান, শুক্রবারের মতো ছুটির দিনে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে জাদুঘর দেখতে আসেন। তাই সকাল থেকেই জাদুঘর খোলা রাখলে দর্শনার্থীদের ভোগান্তি কমবে। পুরান ঢাকা থেকে দুই মেয়েকে নিয়ে জাদুঘরে আসেন সিরাজুল। এক্সিট গেটে থাকা নিরাপত্তাকর্মী তাকে জানান, জাদুঘর বিকেল ৩টায় খুলবে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে পরে চন্দ্রিমা উদ্যানের দিকে চলে যান তিনি। সিরাজুল বলেন, ‘ছুটির দিন সকাল থেকে খোলা রাখা যেত। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে ভোগান্তিতে পড়ছে।’ এদিকে, জাদুঘর সংলগ্ন গেটে দর্শনার্থীদের কাছে আইসক্রিম, আখের শরবত ও লেবুর পানি বিক্রি করতে একাধিক হকারকে দেখা যায়। তারা জানান, দুপুর ২টার পর থেকে জাদুঘর এলাকায় লোকসমাগম বাড়তে থাকে। এসএম/এমকেআর