
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাস্তায় নারী বাইকারের পিছু নিয়েছিল একটি প্রাইভেটকার। গাড়ির ভেতর থেকে ওই বাইকারকে বিভিন্ন ইশারা করছিলেন চালক। এ অবস্থায় তাকে এড়িয়ে নিরাপদস্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন ওই নারী। তবু শেষরক্ষা হয়নি। একপর্যায়ে মদ্যপ ওই গাড়িচালক তার বাইকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেন। চলন্ত বাইক থেকে পড়ে আহত হন নারী। এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে। জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের গুরগাঁওয়ে। ভুক্তভোগী নারীর নাম সিয়া। ইনস্টাগ্রামে এই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে সিয়া লিখেছেন, গুরগাঁওয়ের রাস্তা আজ আর নারীদের জন্য নিরাপদ নয়। আরও পড়ুন পুতিন-জিনপিংরা যাবেন বলে কাপড়ে ঢেকে গেল দিল্লির বস্তি! সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সিয়া তার এপ্রিলিয়া আরএস ৪৫৭ বাইক নিয়ে বাইকার গ্রুপের সঙ্গে গলফ কোর্স রোড ধরে যাচ্ছিলেন। রাইডের শুরু থেকেই একটি প্রাইভেটকার তাদের তাড়া করছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। View this post on Instagram A post shared by Sia (@rebelwheels_sia_) সিয়ার দাবি, চলন্ত গাড়িটির ভেতর থেকে তাকে আক্রমণাত্মকভাবে ইশারা করা হচ্ছিল। মদ্যপ অবস্থায় থাকা ওই চালকদের তিনি দূরত্ব বজায় রাখতে বললেও তারা বাইক থামানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। আরও পড়ুন পশ্চিমবঙ্গে পর্যটনের বিজ্ঞাপনে নেই পশ্চিমবঙ্গই, সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রল পরিস্থিতি বুঝে সিয়া তার গতি বাড়িয়ে দেন এবং তার এক বন্ধু তাকে আড়াল করার চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। গাড়িটি হঠাৎ সিয়ার বাইকের সামনে এসে সজোরে ধাক্কা মারে এবং পালিয়ে যায়। পুরো ঘটনাটি সিয়ার বাইকে লাগানো অ্যাকশন ক্যামেরায় বন্দি হয়। দুর্ঘটনার পর সিয়ার এক বন্ধু গাড়িটির পেছনে ধাওয়া করেন। সিগন্যালে গাড়িটি থামলে তিনি চালককে আটকালেও চালক দায় অস্বীকার করে চম্পট দেন। নিজের ভিডিওতে ওই গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করে গুরগাঁও পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছেন সিয়া। আরও পড়ুন ‘গোরখপুরকে স্পেন মনে হয়,’ রবি কিষাণের বক্তব্যে হেসে ফেললেন অতিথিরাই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর সাধারণ মানুষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। হরিয়ানা, গুরগাঁও এবং দিল্লি পুলিশকে ট্যাগ করে দোষী চালকের বিরুদ্ধে দ্রুত এফআইআর দায়ের ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নেটিজেনরা। সূত্র: এনডিটিভিকেএএ/
ওয়াশরুমে যাওয়ার পর সৌদিপ্রবাসী এক যাত্রীকে ফেলে চলে যায় হানিফ পরিবহনের একটি বাস। তবে ওই যাত্রীর দুটি পাসপোর্ট, বিমানের টিকিট ও বিদেশ থেকে আনা মালামালসহ লাগেজ বাসটিতে থাকায় বিপাকে পড়েন তিনি। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ বাসটি থামিয়ে তার মালামাল উদ্ধার করে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থানার দশমাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জাতীয় জরুরি সে-৯৯৯ এর পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার জানান, সৌদিপ্রবাসী মোজাম্মেল ঢাকার বিমানবন্দরে নামার পর আব্দুল্লাপুর থেকে হানিফ পরিবহনের একটি বাসে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হন। পথে দিনাজপুরের দশমাইল এলাকায় যাত্রী নেওয়ার জন্য বাসটি থামলে তিনি সুপারভাইজারকে জানিয়ে ওয়াশরুমে যান। পরে ওয়াশরুম থেকে ফিরে এসে মোজাম্মেল দেখতে পান, তাকে রেখেই বাসটি চলে গেছে। তার দুটি পাসপোর্ট, একটি বিমানের টিকিট এবং বিদেশ থেকে আনা মালামালসহ লাগেজ বাসটির ভেতরে রয়ে যায়। আরও পড়ুন হানিফ পরিবহনের ঢাকাগামী বাসে ইয়াবার বিশাল চালান, চালক-হেলপার গ্রেফতার পরে তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানান। কলটি রিসিভ করেন ৯৯৯ কলটেকার কনস্টেবল মো. রুহুল আমিন। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থানাকে জানানো হয়। উদ্ধার তৎপরতা তদারক ও সমন্বয় করেন ৯৯৯ ডিসপাচার এসআই আব্দুল মান্নান। খবর পেয়ে বীরগঞ্জ থানার একটি টহল দল শহীদ মিনার মোড়ে চলন্ত বাসটি থামায়। পরে বাস থেকে মোজাম্মেলের দুটি পাসপোর্ট, লাগেজসহ অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে মোজাম্মেল থানায় উপস্থিত হলে উদ্ধার করা পাসপোর্ট, লাগেজ ও অন্যান্য মালামাল তার কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। টিটি/এমআইএইচএস/
মুক্তির দুই মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই ইতিহাস গড়ল ক্রিস্টোফার নোলান পরিচালিত ‘দ্য ওডিসি’। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির ৫৭ দিনেই সিনেমাটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সাল পিকচার্সের ১১৪ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্রের রেকর্ড গড়েছে। আরও পড়ুন হঠাৎ অসুস্থ সোনালি দিনের নায়ক মাহমুদ কলি, চাইলেন দোয়া ইউনিভার্সাল পিকচার্সের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির ৫৭ দিন শেষে বিশ্বজুড়ে ‘দ্য ওডিসি’র মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৬৮ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে উত্তর আমেরিকার বাজার থেকে এসেছে ৬০ কোটি ১২ লাখ ডলার এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আয় হয়েছে ১০৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এর মধ্য দিয়ে ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া ইউনিভার্সালের জনপ্রিয় সিনেমা ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’-এর ১৬৭ কোটি ডলারের রেকর্ড ভেঙে শীর্ষস্থান দখল করেছে ‘দ্য ওডিসি’। গ্রিক কবি হোমারের প্রায় তিন হাজার বছরের পুরোনো মহাকাব্য অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। মুক্তির পর থেকেই বিশ্বজুড়ে দর্শকের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছে নোলানের এই ছবি। শুধু ইউনিভার্সালের ইতিহাসেই নয়, আরও বেশ কিছু রেকর্ড নিজের করে নিয়েছে ‘দ্য ওডিসি’। ২০০৯ সালের পর কোনো সিকুয়েল বা পুনর্নির্মাণ নয় এমন সিনেমা হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে একশ কোটি ডলারের বেশি আয় করা প্রথম চলচ্চিত্র এটি। পাশাপাশি বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত শ্রেণির সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমা এবং আইম্যাক্স প্রযুক্তিতে সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্রের রেকর্ডও গড়েছে এটি। ‘দ্য ওডিসি’ নোলানের ক্যারিয়ারেরও সবচেয়ে সফল সিনেমা। এর আগে তার সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমা ছিল ‘দ্য ডার্ক নাইট রাইজেস’, যা বিশ্বজুড়ে একশ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছিল। ওয়ার্নার ব্রাদার্স ছেড়ে ইউনিভার্সাল পিকচার্সে যোগ দেওয়ার পর নোলানের জন্য এটি দ্বিতীয় বড় সাফল্য। এর আগে ২০২৩ সালে একই প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে মুক্তি পাওয়া তাঁর ‘ওপেনহাইমার’ বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার আয় করেছিল এবং সাতটি বিভাগে অস্কার জিতেছিল। আরও পড়ুন মোশাররফ করিমের কাছ থেকে অভিনয় শিখতে চান? জানুন কীভাবে ‘দ্য ওডিসি’র অভাবনীয় সাফল্যের ওপর ভর করে ২০২৬ সালে বক্স অফিসে চারশ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছে ইউনিভার্সাল পিকচার্স। এ বছর প্রতিষ্ঠানটির আরও কয়েকটি সিনেমা সাফল্য পেয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অ্যানিমেশনভিত্তিক ‘দ্য সুপার মারিও ব্রাদার্স মুভি ২’ এবং ‘মিনিয়নস অ্যান্ড মনস্টারস’। এলআইএ