জাতীয়

হলান্ডের গোল নিয়ে ভুল স্বীকার করল রেফারিদের সংস্থা

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
হলান্ডের গোল নিয়ে ভুল স্বীকার করল রেফারিদের সংস্থা
হলান্ডের গোল নিয়ে ভুল স্বীকার করল রেফারিদের সংস্থা

ম্যানচেস্টার ডার্বির রোমাঞ্চ ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত কাঠগড়ায় সেই রেফারিং। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যানচেস্টার সিটির জয়সূচক গোলটি ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে অবশেষে ভুল স্বীকার করেছে প্রিমিয়ার লিগের রেফারিদের সংস্থা প্রফেশনাল গেম অফিশিয়ালস লিমিটেড (প্রো রেফ)। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, আর্লিং হলান্ডের দেওয়া গোলটি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত যেভাবে নেওয়া হয়েছে, সে প্রক্রিয়া তাদের বিচারে ভুল।

গতকাল ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যাচের ৬০ মিনিটের ঘটনা ছিল এটি। ইয়োস্কো গাভার্দিওলের ক্রসে দূরের পোস্ট থেকে বল জালে পাঠান হলান্ড। কিন্তু সহকারী রেফারি অফসাইডের পতাকা তোলেন। এরপর ভিএআর (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) হস্তক্ষেপ করে গোলটি বহাল রাখে। খালি চোখে মনে হয়েছিল প্যাট্রক ডরগুর বুটের অবস্থানের কারণে হলান্ড অফসাইড ছিলেন না। তবে আসল বিতর্ক তৈরি হয় বক্সে সিটি মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজের অবস্থান নিয়ে।

#MUNMCI – 59’ VAR OVERTURN

VAR checked the referee’s call of no goal for offside – and determined that Haaland was in an onside position and recommended that the goal was awarded.

The VAR also deemed that while in an offside position, Fernandez didn’t play the ball. pic.twitter.com/TyTip3ACIh

— Premier League Match Centre (@PLMatchCentre) September 13, 2026


হলান্ডের চেয়ে গোললাইনের কাছাকাছি জায়গায় থাকা এনজো হেডের চেষ্টা করেছিলেন। সরাসরি বলে স্পর্শ না লাগলেও তিনি বলের দিকে ডাইভ দেওয়ায় ইউনাইটেড ডিফেন্ডারদের খেলায় প্রভাব পড়েছিল কি না, তা নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়।


বিবৃতিতে প্রো রেফ জানায়, ‘এটা নিশ্চিত যে এনজো ফার্নান্দেজ বলে স্পর্শ করেননি। যার ফলে অফসাইড ধরা হবে কি না, তা ছিল রেফারির ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। এ ক্ষেত্রে ভিএআর তার (ফার্নান্দেজের) অবস্থানের কারণে খেলায় কী প্রভাব পড়তে পারে, তা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে। মাঠের রেফারিকে সিদ্ধান্ত পুনর্নিরীক্ষার (অনফিল্ড রিভিউ) পরামর্শ দেওয়া উচিত ছিল।’

হলান্ডের চেনা উদযাপন।


অর্থাৎ প্রো রেফ মনে করছে, এ ক্ষেত্রে ভিএআরের সরাসরি রেফারিকে সিদ্ধান্ত বদলের কথা না বলে সিদ্ধান্ত পুনর্নিরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া উচিত ছিল।
ভুল স্বীকার করে প্রো রেফ আরও জানিয়েছে, ‘ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমরা আমাদের এ সিদ্ধান্তের ভুলের কথা স্বীকার করেছি। পুরো ঘটনা পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে।’


ম্যাচ শেষে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের ক্ষোভ লুকিয়ে রাখেননি ইউনাইটেড ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। এটাকে তিনি স্পষ্ট ‘অবিচার’ বলে উল্লেখ করেন। ইউনাইটেড ম্যানেজার মাইকেল ক্যারিকও পুরো প্রক্রিয়ায় চরম ‘বিভ্রান্ত’ বলে জানান।

ম্যাচের ২৩ মিনিটে লালা কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ফিল ফোডেন

এর আগে ম্যাচের ২৩ মিনিটে সিটির ফিল ফোডেন লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় এনজো মারেসকার দল। মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় ইউনাইটেড অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজকে লাথি মারায় রেফারি মাইকেল অলিভার সরাসরি লাল কার্ড দেখান ফোডেনকে।
১০ জনের দল নিয়ে জয় পেলেও সিটির জয়সূচক গোলটি নিয়ে আলোচনা থামছে না। যদিও প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচ সেন্টার তাদের এক্স পেজে প্রাথমিক ব্যাখ্যায় বলেছিল, ভিএআর পরীক্ষা করে দেখেছে হলান্ড অনসাইডে ছিলেন এবং এনজো বলে স্পর্শ না করায় গোলটি বৈধ। তবে ফুটবলবোদ্ধাদের বড় অংশই বলছেন, বলে স্পর্শ না করলেও এনজোর ওই মুভমেন্ট ইউনাইটেড রক্ষণের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াকে ব্যাহত করেছে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
বুদ্ধিজীবী কবরস্থান থেকে শুটারগান উদ্ধার
বুদ্ধিজীবী কবরস্থান থেকে শুটারগান উদ্ধার

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এলাকা থেকে একটি দেশি শুটারগান উদ্ধার করেছে র‌্যাব-২। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) র‌্যাব-২-এর উপ-পরিচালক (মিডিয়া) মেজর এম মুবীন রহমান তাপস এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-২ জানতে পারে, রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এলাকায় দেশে তৈরি একটি শুটারগান পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। পরে তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি অভিযানিক দল সেখানে বিশেষ তল্লাশি চালায়। এ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা শুটারগানটি উদ্ধার করা হয়। আরও পড়ুন হারানো অস্ত্রের তথ্য দিলে গোপনে পুরস্কার দেবে র‌্যাব উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্রটি পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সাধারণ ডায়েরি (জিডি) মূলে মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন র‍্যাবের এই কর্মকর্তা। টিটি/ইএ

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
১৫ দিনের সফরে জামায়াত নেতা সেলিম উদ্দিন, যাবেন ৪ দেশে

১৫ দিনের সফরে জামায়াত নেতা সেলিম উদ্দিন, যাবেন ৪ দেশে

অবৈধ সম্পদ: সাবেক মেয়র আ জ ম নাছিরের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন

অবৈধ সম্পদ: সাবেক মেয়র আ জ ম নাছিরের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশক নিধন ও জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশক নিধন ও জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে

সুইডেনের নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীরা কে কতটা এগোলেন, যেভাবে প্রার্থী নির্বাচিত হন
সুইডেনের নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীরা কে কতটা এগোলেন, যেভাবে প্রার্থী নির্বাচিত হন

সুইডেনে ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের ভোট গণনা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। তবে ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত প্রায় ৯৪ শতাংশ ভোটকেন্দ্রের ফল প্রকাশ হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে ৩৪৯ আসনের রিক্সদাগে বিরোধী পক্ষ সামান্য এগিয়ে রয়েছে। Socialdemokraterna, Vänsterpartiet, Miljöpartiet ও Centerpartiet নিয়ে গঠিত বিরোধী পক্ষ এখন পর্যন্ত ১৭৬টি আসনে এগিয়ে আছে। অন্যদিকে Moderaterna, Sverigedemokraterna, Kristdemokraterna ও Liberalerna নিয়ে গঠিত Tidöpartierna রয়েছে ১৭৩টি আসনে। ফলে দুই পক্ষের ব্যবধান মাত্র তিনটি আসন। তবে এটিকে এখনই চূড়ান্ত ফল বলা যাচ্ছে না। ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে চূড়ান্ত ভোট গণনা শুরু হয়েছে। দেরিতে আসা ভোট ও বিদেশ থেকে দেওয়া ভোটসহ সব ভোট যাচাইয়ের পরই চূড়ান্ত ফল নির্ধারিত হবে। প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে Socialdemokraterna সবচেয়ে বড় দল হিসেবে ২৮ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়ে ১০০টি আসনের অবস্থানে রয়েছে। Moderaterna পেয়েছে ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট ও ৭০টি আসন। Sverigedemokraterna ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট নিয়ে ৬২টি আসনের অবস্থানে রয়েছে। Vänsterpartiet ৮ দশমিক ২ শতাংশ ভোটে ২৯টি, Centerpartiet ৭ দশমিক ১ শতাংশে ২৫টি, Kristdemokraterna ৬ দশমিক ২ শতাংশে ২২টি, Miljöpartiet ৬ দশমিক ১ শতাংশে ২২টি এবং Liberalerna ৫ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটে ১৯টি আসনের অবস্থানে রয়েছে। অর্থাৎ প্রাথমিক হিসাবে এবারও সুইডেনের রিক্সদাগে প্রতিনিধিত্ব করছে আটটি দল।এই ফলাফলের রাজনৈতিক গুরুত্বও কম নয়। Socialdemokraterna সবচেয়ে বড় দল হলেও তাদের ভোট ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় কমেছে। অন্যদিকে Moderaterna এবার Sverigedemokraterna-কে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে দুই রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে মাত্র তিনটি আসনের ব্যবধান থাকায় কে সরকার গঠন করবে, সেটিও এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। চূড়ান্ত ফল এবং পরবর্তী রাজনৈতিক আলোচনার ওপরই সুইডেনের নতুন সরকার গঠনের বিষয়টি নির্ভর করবে।দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.comএই নির্বাচনের আরেকটি দিক বিশেষভাবে নজর কেড়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুইডিশ নাগরিকদের মধ্যে। এবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হয়ে কয়েকজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী রিক্সদাগে যাওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তাঁদের মধ্যে Moderaterna-এর ফারজানা খান, Vänsterpartiet-এর লিও আহমেদ এবং Socialdemokraterna-এর মোহাম্মদ জসীম উদ্দীনের নাম বিশেষভাবে সামনে এসেছে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আরও কয়েকজন প্রার্থী আঞ্চলিক ও পৌর নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। কোনো প্রার্থী রিক্সদাগের নির্বাচনী তালিকায় থাকলেই তিনি রিক্সদাগের সদস্য হয়ে যান না। প্রথমে সংশ্লিষ্ট দলকে নির্বাচনে পর্যাপ্ত ভোট পেয়ে আসন অর্জন করতে হয়। এরপর সেই আসনগুলোর ভিত্তিতে প্রার্থীদের নির্বাচিত করা হয়। কোনো প্রার্থী তালিকার তুলনামূলক নিচের দিকে থাকলেও পর্যাপ্ত ব্যক্তিগত ভোট পেলে তাঁর অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে। তাই শুধু ব্যালটে কোনো প্রার্থীর অবস্থান দেখে তাঁর জয়-পরাজয় নির্ধারণ করা যায় না।বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীরা কোথায়মডারেট পার্টির ফারজানা খানের অবস্থানটি বিশেষভাবে আলোচনার দাবি রাখে। তিনি স্টকহোম কাউন্টির রিক্সদাগের তালিকায় ২১ নম্বরে ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সালেম পৌরসভাও দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। এবারের নির্বাচনে সালেম পৌরসভার তালিকাতেও তিনি মাডারেটের প্রার্থী ছিলেন। অর্থাৎ তাঁর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ শুধু জাতীয় নির্বাচনেই সীমাবদ্ধ নয়, স্থানীয় রাজনীতিতেও তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে মডারেট ৪৪টি রিক্সদাগ আসনের মধ্যে ১১টি আসনে অবস্থানে রয়েছে। ফলে শুধু দলীয় তালিকার ক্রম বিবেচনা করলে ফারজানা খানের রিক্সদাগে যাওয়ার অবস্থান শক্তিশালী নয়। তবে সুইডেনের নির্বাচনী ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত ভোটেরও গুরুত্ব রয়েছে। কোনো প্রার্থী তাঁর দলের নির্বাচনী এলাকার ভোটের অন্তত ৫ শতাংশ ব্যক্তিগত ভোট পেলে দলীয় তালিকার স্বাভাবিক ক্রম অতিক্রম করার সুযোগ পান। তাই তাঁর চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণের জন্য ব্যক্তিগত ভোটের হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ।বাম দলের প্রার্থী লিও আহমেদও রিক্সদাগ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তাঁর রিক্সদাগের দলীয় তালিকায় অবস্থান ছিল ৩৪ নম্বরে। একই সঙ্গে তিনি সিগটুনা পৌরসভায় শীর্ষস্থানীয় প্রার্থী ছিলেন। ফলে জাতীয় ও স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর অংশগ্রহণের দুটি পৃথক ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। তবে রিক্সদাগে তাঁর অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে তার দল কতটি আসন পায় এবং ব্যক্তিগত ভোটে তিনি কতটা এগিয়ে যান, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।সোশ্যালডেমোক্যাটার্নার প্রার্থী মোহাম্মদ জসীমউদ্দীনও এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম। উপাসালা ল্যান-এর সোশ্যালডেমোক্যাটার্না-এর রিক্সদাগ তালিকায় তাঁর অবস্থান ৩৫ নম্বরে। একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় নির্বাচনেও প্রার্থী হয়েছেন। এবারের নির্বাচনে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় দল হিসেবে এই দলটি অবস্থান করছে এবং ১০০টি রিক্সদাগ আসনের অবস্থানে রয়েছে। তবে দলের শক্তিশালী ফল সত্ত্বেও ৩৫ নম্বর অবস্থান থেকে রিক্সদাগে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।তিন প্রার্থীর ক্ষেত্রেই তাই একটি বিষয় স্পষ্ট। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী তাঁদের কেউই এখন পর্যন্ত রিক্সদাগের নির্বাচিত সদস্য হওয়ার অবস্থানে নেই। চূড়ান্ত গণনায় ব্যক্তিগত ভোটসহ সব হিসাব সম্পন্ন হওয়ার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে।কীভাবে একজন প্রার্থী রিক্সদাগের সদস্য হনসুইডেনের নির্বাচনী ব্যবস্থা বুঝতে হলে এখানে একটি বিষয় জানা জরুরি। রিক্সদাগে মোট ৩৪৯টি আসন। ভোটাররা মূলত একটি রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন এবং চাইলে সেই দলের একজন নির্দিষ্ট প্রার্থীর পাশে ব্যক্তিগত ভোটের চিহ্ন দিতে পারেন। রিক্সদাগের আসনগুলো ২৯টি নির্বাচনী এলাকার মধ্যে বণ্টিত। মোট ৩৪৯টি আসনের মধ্যে ৩১০টি আসন সরাসরি নির্বাচনী এলাকার ভিত্তিতে এবং ৩৯টি সমন্বয়কারী আসন, যার মাধ্যমে মোট ফলাফলকে ভোটের অনুপাতের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়।সাধারণভাবে কোনো দলকে রিক্সদাগে আসন পেতে সারা দেশে অন্তত ৪ শতাংশ ভোট পেতে হয়। তবে কোনো দল একটি নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় ১২ শতাংশ ভোট পেলেও সেখানে আসন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আসনগুলো আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে বণ্টন করা হয়।জিগাতলার সেই কিশোরী আজ সুইডিশ পার্লামেন্টের প্রতিদ্বন্দ্বীএরপর আসে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ভোটের বিষয়টি। কোনো প্রার্থী তাঁর দলের নির্বাচনী এলাকার ভোটের অন্তত ৫ শতাংশ ব্যক্তিগত ভোট পেলে দলীয় তালিকার স্বাভাবিক ক্রমের ওপরে উঠে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পান। আর পর্যাপ্ত ব্যক্তিগত ভোটে কোনো পরিবর্তন না হলে দলীয় ব্যালটে প্রার্থীদের যে ক্রম নির্ধারিত থাকে, সেই ক্রম অনুসারে আসন পূরণ হয়।অর্থাৎ একজন প্রার্থীর রিক্সদাগ সদস্য হওয়ার পথটি কয়েকটি ধাপের। প্রথমে তাঁকে কোনো দলের প্রার্থী হতে হয়। এরপর সেই দলকে পর্যাপ্ত ভোট পেয়ে আসন অর্জন করতে হয়। তারপর দলের পাওয়া আসনের মধ্যে প্রার্থীদের অবস্থান নির্ধারিত হয় দলীয় তালিকার ক্রম ও ব্যক্তিগত ভোটের ফলের ভিত্তিতে। সবশেষে চূড়ান্ত ভোট গণনা ও আসন বণ্টন শেষ হলে নির্বাচিত রিক্সদাগ সদস্যদের নাম নিশ্চিত হয়।এ কারণেই এবারের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের অবস্থানও দেখতে হবে দুই স্তরে। একদিকে তাঁদের নিজ নিজ দলের সামগ্রিক নির্বাচনী ফল, অন্যদিকে তাঁদের ব্যক্তিগত ভোট ও চূড়ান্ত প্রার্থী-নির্বাচনের ফল। বর্তমান প্রাথমিক ফল ও প্রার্থীদের তালিকার অবস্থান অনুযায়ী তাঁদের কেউই রিক্সদাগে নির্বাচিত হওয়ার অবস্থানে নেই। তবে আনুষ্ঠানিক চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগে নির্বাচনকে আইনগতভাবে সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে বলা যাবে না।এবারের নির্বাচনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের অংশগ্রহণ শুধু রিক্সদাগেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বিভিন্ন অঞ্চল ও পৌরসভাতেও তাঁদের প্রার্থী হিসেবে দেখা গেছে। অর্থাৎ সুইডিশ রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের অংশগ্রহণ ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি স্থানীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়েও বিস্তৃত হচ্ছে।বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের জন্য এবারের নির্বাচন তাই শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়। এটি সুইডেনের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় অভিবাসী প্রজন্মের অংশগ্রহণ কতটা গভীরে পৌঁছেছে, তারও একটি প্রতিচ্ছবি। কেউ এবার রিক্সদাগে জায়গা করে নিন বা না নিন, নির্বাচনী রাজনীতির মূলধারায় তাঁদের উপস্থিতি যে আগের চেয়ে দৃশ্যমান হয়েছে, এবারের নির্বাচন তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।*লেখক: রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
বৃদ্ধ শাহজাহানের ঘরে খাবার নেই, দুই মাসের ঘরভাড়া বাকি

বৃদ্ধ শাহজাহানের ঘরে খাবার নেই, দুই মাসের ঘরভাড়া বাকি

জামালপুর বন্ধুসভার পাঠচক্রে বিভূতিভূষণের ‘পাগলী’

জামালপুর বন্ধুসভার পাঠচক্রে বিভূতিভূষণের ‘পাগলী’

বিআরটিসি পিষে দিলো স্কুলছাত্রকে

বিআরটিসি পিষে দিলো স্কুলছাত্রকে

বিনামূল্যে ৮৩ হাজার গবাদিপশুকে টিকা, স্বস্তিতে প্রান্তিক খামারিরা
বিনামূল্যে ৮৩ হাজার গবাদিপশুকে টিকা, স্বস্তিতে প্রান্তিক খামারিরা

রাজশাহীর পবায় রোগের প্রাদুর্ভাব থেকে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগিকে সুরক্ষিত রাখতে বিনামূল্যে ৮৩ হাজার ৫০০ টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে উপজেলার প্রান্তিক খামারি ও কৃষকদের মধ্যে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের তালগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন। সোমবার সকাল থেকেই টিকা নিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হন স্থানীয় খামারি ও কৃষকেরা। তারা গরু, ছাগল এবং হাঁস-মুরগি নিয়ে আসেন। রোগের প্রাদুর্ভাবে পশুপাখি মারা যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানান তারা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমপি শফিকুল হক মিলন বলেন, বর্ষা মৌসুমে হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। এসব রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এর আগে হরিপুর ইউনিয়নের চর মাজার দিয়াড়েও অনলাইনে এ ধরনের কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। পবা উপজেলা অত্যন্ত উর্বর এলাকা। এখানে গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মাছ উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সঠিক পরিচর্যার অভাবে অনেক প্রান্তিক খামারি কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হন। বর্তমান সরকার প্রান্তিক কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বিপুল জনশক্তিকে জনসম্পদে পরিণত করতে সবাইকে উৎপাদনমুখী কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন। তিনি বলেন, বাড়িতে গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালন করে অনেক পরিবার সংসারের ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি আয় করে। কিন্তু রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ বেড়ে যায়। একই সঙ্গে পশুপাখি মারা যাওয়ার তাদের আয়ের পথও সংকুচিত হয়। প্রান্তিক খামারিদের কথা বিবেচনা করেই উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সময়মতো বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হচ্ছে। ইউএনও জানান, কর্মসূচির আওতায় গরুর তড়কা রোগের ২ হাজার, বাদলা রোগের ২ হাজার ৫০০ এবং গলাফুলা রোগের ২ হাজার টিকা দেওয়া হবে। এছাড়া ছাগলের পিপিআর রোগের ২ হাজার, মুরগির রানীক্ষেত রোগের ৭০ হাজার এবং হাঁসের ডাকপ্লেগ রোগের ৫ হাজার টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে ৮৩ হাজার ৫০০ টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তালগাছি এলাকার খামারি রেজাউল হক নিজের গরু, ছাগল ও হাঁস নিয়ে টিকা দিতে আসেন। তিনি বলেন, ‘আমার ২টি হাঁস, ৩টি গরু ও ৫টি ছাগলকে টিকা দিয়েছি। বিনামূল্যে টিকা পাওয়ায় আমাদের মতো ছোট খামারিদের অনেক উপকার হয়েছে। গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির রোগ হলে চিকিৎসার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এমন উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞ।’ বড়গাছী ইউনিয়নের গৃহিণী মরিয়ম বেগম বলেন, ‘আমি ২টি ছাগল ও ১টি গরুকে টিকা দিয়েছি। নিজের খরচে সব সময় টিকা দেওয়া সম্ভব হয় না। বিনামূল্যে টিকা পাওয়ায় পশুগুলোকে রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখার সুযোগ হয়েছে। এ জন্য আমরা খুবই খুশি।’ তালগাছি এলাকার কৃষক মোজাম্মেল হক একটি রাজহাঁস নিয়ে ডাকপ্লেগ রোগের টিকা দিতে আসেন। তিনি বলেন, ‘হাঁস-মুরগি আমাদের বাড়তি আয়ের একটি বড় ভরসা। একটি রোগে অনেকগুলো হাঁস-মুরগি মারা যেতে পারে। বিনামূল্যে টিকা পেয়ে খুব ভালো লাগছে। এমন কার্যক্রম নিয়মিত হলে আমাদের মতো প্রান্তিক খামারিরা আরও উপকৃত হবেন।’ এ সময় পবা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল লতিফ, ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. সোহরাব খানসহ উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মনির হোসেন মাহিন/কেজে/এএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
‘হয় ১৩ লাখ টাকা চাঁদা দে, না হয় এলাকা ছাড়’

‘হয় ১৩ লাখ টাকা চাঁদা দে, না হয় এলাকা ছাড়’

চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ

দিনাজপুরে অভিযানে চালিয়ে ১৩৯১ বস্তা সার জব্দ, অর্থদণ্ড

দিনাজপুরে অভিযানে চালিয়ে ১৩৯১ বস্তা সার জব্দ, অর্থদণ্ড

0 Comments