বাংলাদেশ

এখনো এক টাকা জরিমানা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, জমা দিতে যেতে হয় ব্যাংকে

নভেম্বর ৬, ২০২৬
এখনো এক টাকা জরিমানা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, জমা দিতে যেতে হয় ব্যাংকে
এখনো এক টাকা জরিমানা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, জমা দিতে যেতে হয় ব্যাংকে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বই ফেরতে দেরির জরিমানা এক টাকা। অথচ সেই টাকা পরিশোধেও যেতে হয় ব্যাংকে। পুরোনো নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।

Prothomalo

View more
নতুন নাটক, সঙ্গে গান–কবিতা, ছুটির দিনে ঢাকায় কী দেখবেন
নতুন নাটক, সঙ্গে গান–কবিতা, ছুটির দিনে ঢাকায় কী দেখবেন

<p>আজ ও আগামীকাল ছুটির দুই দিন রাজধানীতে থাকছে নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন। এর মধ্যে আজ মঞ্চে আসছে নবরসের নতুন নাটক ‘<em>সোজন বাদিয়ার ঘাট’</em> ও ফরাসি পাপেটশিল্পী লরি ক্যানাকের পরিবেশনা ‘<em>ইনভিজিবল স্টোরিজ’</em>। ছুটির দুই দিনে আর কোথায় কী আয়োজন থাকছে, চলুন একনজরে দেখে নেওয়া যাক।</p><p><strong>সোজন বাদিয়ার ঘাট’–এর উদ্বোধনী মঞ্চায়ন</strong></p><p>জসীম উদ্‌দীনের আখ্যানকাব্য সোজন বাদিয়ার ঘাট অবলম্বনে নতুন নাটক আনছে <em>নবরস</em>। আজ সন্ধ্যা সাতটায় রাজধানীর বাংলাদেশ মহিলা সমিতি মিলনায়তনে নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হবে। নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন সৈয়দা শামছি আরা সায়েকা। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে নাটকটির কারিগরি মঞ্চায়ন হয় গত ২৫ অক্টোবর।</p><p>নাটকের কলাকুশলীদের মধ্যে আছেন আফিয়া জামান, কাশিফ আলফি আহমেদ, সৈয়দা শামছি আরা সায়েকা, ইউসুফ রাসেল, নাজমুল হাসান, নাজমুল হক, শাখাওয়াত হোসেন, হামীম সুলতান, মোহাম্মদ ইমরান খান, গোলাম মোর্শেদ, রাজীব চন্দ্র দাস, এম শাহজাদা, ওমর ফারুক প্রমুখ।</p><p><strong>দুই দিনে ‘ইনভিজিবল স্টোরিজ’</strong></p><p>বাংলাদেশের লোককথা, ভূতের গল্প ও সুন্দরবনের প্রকৃতিকে কেন্দ্র করে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দো ঢাকা, কম্পানি গ্রেইন দ্য ভি এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যৌথ প্রযোজনা <em>ইনভিজিবল স্টোরিজ</em>। আজ ও আগামীকাল সন্ধ্যা ছয়টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার মিলনায়তনে নাটকটির দুটি প্রদর্শনী হবে। ফরাসি পাপেটশিল্পী লরি ক্যানাকের নির্দেশনায় অভিনয় করবেন তিনি নিজে ও স্বাতী ভদ্র। সঙ্গে থাকবে সরাসরি সংগীত পরিবেশনা।</p><p>ভূত ও অতিপ্রাকৃত বিষয় নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে ঢাকা থেকে সুন্দরবনের রহস্যময় জগতে পৌঁছে যান দুই বিজ্ঞানী। তাঁদের অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে গল্প। আজকের প্রদর্শনী ইংরেজি ও বাংলায় হবে, আগামীকালেরটি ফরাসি ও বাংলায়। আসন খালি থাকা সাপেক্ষে বিনা মূল্যে নাটকটি দেখতে পারবেন দর্শক।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-05/sxg3wey1/Stage_play.jpg"><figcaption>‘সম্ + সার’-এর দৃশ্য। শূন্যের সৌজন্যে </figcaption></figure><p><strong>‘সম্ + সার’-এর দুটি প্রদর্শনী</strong></p><p>জীবনানন্দ দাশের উপন্যাস ‘<em>মাল্যবান’ </em>অবলম্বনে আজ মঞ্চস্থ হবে সম্ + সার। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে বিকেল পাঁচটা ও সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় নাটকটির দুটি প্রদর্শনী হবে। পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন খন্দকার রাকিবুল হক। মাল্যবান চরিত্রে অভিনয় করছেন শাহজাদা সম্রাট চৌধুরী। উৎপলা চরিত্রে আছেন যাজ্ঞোসিনী মৌ ও তাসনুভা তামান্না।</p><p><strong>গান–কবিতা ও শিল্পের ‘অযথাকাণ্ড’</strong></p><p>গুলশানের স্ট্যাক গ্যালারিতে আজ ও আগামীকাল হবে ‘অযথাকাণ্ড’। দর্শনীর বিনিময়ে আয়োজনটিতে থাকছে শিল্পকর্ম প্রদর্শনী, সংগীত পরিবেশনা, কবিতা আবৃত্তি ও খাবারের ব্যবস্থা।</p><p>প্রতিদিন বেলা তিনটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত চলবে আয়োজন। আজ সংগীত পরিবেশনায় থাকবেন ডিজে মাহদি। আগামীকাল থাকবেন ডিজে লুনিথভয়েড।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-05/gpyldzl1/sufitan.jpg"><figcaption>‘ইশক-এ-নুসরাত’–এ গাইবে ব্যান্ড সুফিতান। ব্যান্ডের ফেসবুক থেকে </figcaption></figure><p><strong>শনিবার ‘ইশক-এ-নুসরাত’</strong></p><p>১৩ অক্টোবর ছিল ওস্তাদ নুসরাত ফতেহ আলী খানের জন্মদিন। এ উপলক্ষে আগামীকাল শনিবার ঢাকায় বসবে বিশেষ কাওয়ালিসন্ধ্যা ‘ইশক-এ-নুসরাত’। ফার্মগেটের খামারবাড়ি এলাকার কেআইবি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছে ক্যাপিটাল কার্ভ কমিউনিকেশনস।</p><p>কাওয়ালি পরিবেশন করবে ব্যান্ড সুফিতান ও নাফস। পাশাপাশি এইচইউ সুফি ট্রুপের পরিবেশনায় থাকবে সুফি নৃত্য। বিকেল সাড়ে চারটায় দর্শকদের জন্য প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হবে। সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয়ে অনুষ্ঠান চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত।</p>

নভেম্বর ৬, ২০২৬
বিশ্বজুড়ে মানুষ কেন বাংকার বানাচ্ছে
বিশ্বজুড়ে মানুষ কেন বাংকার বানাচ্ছে

বিশ্বজুড়ে বাংকার তৈরির আগ্রহ বাড়ার পেছনে অন্যতম কারণ যুদ্ধ। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরু করার পর ইউরোপের অনেক দেশে বাসার নিচে ব্যক্তিগত বাংকার

নভেম্বর ৬, ২০২৬
গরুর দুধ: উপকার কতটা, ঝুঁকিই-বা কোথায়?
গরুর দুধ: উপকার কতটা, ঝুঁকিই-বা কোথায়?

গরুর দুধ পুষ্টিকর খাবার হিসেবে পরিচিত। তবে এটি কি সবার জন্য সমান উপকারী? হাড়ের স্বাস্থ্য থেকে ক্যানসারের ঝুঁকি—দুধ পানের উপকারিতা ও সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে নানা গবেষণা ও বিতর্ক রয়েছে।

নভেম্বর ৬, ২০২৬
গ্যাসের দাম বাড়ার পঞ্চহেতু
গ্যাসের দাম বাড়ার পঞ্চহেতু

<p>গ্যাসের দাম বাড়লে কয়েকটি পরিচিত কারণের কথা শোনা যায়—আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে, ডলারের সংকট, পরিবহন ব্যয়, আমদানি খরচ অথবা সরবরাহের জটিলতা। এসব কারণের সঙ্গে তর্ক করা কঠিন। কারণ, এগুলোর বেশির ভাগই আমাদের চোখের আড়ালে ঘটে, আর চোখের আড়ালে ঘটে যাওয়া বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুললে উত্তরও আসে বেশ আড়াল থেকেই।</p><p>আমার ধারণা, গ্যাসের দাম বাড়ার পেছনে অন্য কারণ আছে। যে কারণগুলো এখনো অর্থনীতিবিদদের গবেষণায় উঠে আসেনি। গভীর চিন্তাভাবনা করে গ্যাসের দাম বাড়ার পাঁচটি অব্যর্থ কারণ খুঁজে পেয়েছি।</p><p>আর এ কারণগুলো এতই গুরুত্বপূর্ণ যে এখনই প্রকাশ না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই একে একে তুলে ধরছি গ্যাসের দাম বাড়ার পঞ্চহেতু।</p><p>গ্যাসের দাম বাড়ার প্রথম হেতু: রান্নার বইয়ের ষড়যন্ত্র</p><p>গ্যাসের দাম বাড়ার পেছনে দায়ী রান্নার বই! আজকাল রান্নার বইতে নতুন নতুন রেসিপি বের হচ্ছে। একেক বইয়ে একেক রকম রান্না। একেক পদের জন্য একেক রকম আয়োজন। ফলে রান্নাঘরে গ্যাসের ব্যবহারও দিন দিন বাড়ছে। গ্যাসের ডিমান্ডের ওপর চাপ বাড়ছে। সিলিন্ডার কোম্পানি গ্যাস সাপ্লাই দিয়ে কুলাতে পারছে না। পণ্যের চাহিদা বাড়লে এবং সরবরাহ কমে গেলে সিন্ডিকেটের ভাষায় পণ্যের দাম বেড়ে যায়। তাই গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে।</p><blockquote>গ্যাসের দাম বাড়েনি, মানুষ এখনো পুরোনো দামে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে! সমস্যাটি মানুষের মানসিকতায়। মানুষ এখনো মনে করে রান্নার গ্যাস একটি সাধারণ প্রয়োজনীয় পণ্য। অথচ গ্যাস ইতিমধ্যে বিলাসপণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভবিষ্যতে গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতে গেলে শুধু টাকা দিলেই হবে না। সঙ্গে জমা দিতে হবে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, আয়কর রিটার্ন এবং পারিবারিক সম্পদের বিবরণী।</blockquote><p>দ্বিতীয় হেতু: সিলিন্ডারের আত্মসম্মানের সংকট</p><p>গ্যাস সিলিন্ডারের গায়ে বড় করে লেখা থাকে ১২ কেজি। এ লেখায় গ্যাস সিলিন্ডারের মন খারাপ হয়েছে। বেশি খারাপ। গ্যাস সিলিন্ডারের প্রশ্ন, মানুষ কি তাকে শুধু ওজন দিয়েই বিচার করবে? তার সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব, আভিজাত্য কিংবা সামাজিক অবস্থানের কোনো মূল্য নেই? এত দিন ধরে সে মানুষের রান্নাঘরে সেবা দিয়ে যাচ্ছে, অথচ তার পরিচয় কেবল ১২ কেজি! বিষয়টি নিয়ে সিলিন্ডার মহলে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত সিলিন্ডার ঘোষণা দিয়েছে, ওজনের ভিত্তিতে আর তার দাম নির্ধারণ করা যাবে না। এখন থেকে দাম নির্ধারণ করতে হবে ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক মর্যাদা দিয়ে। আর তাতেই গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে।</p><p>তৃতীয় হেতু: সিলিন্ডারের ভেতরে জায়গার সংকট</p><p>আগে ১২ কেজির সিলিন্ডারে ১২ কেজি গ্যাস থাকত। এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। সিলিন্ডারের ভেতরে গ্যাসের পাশাপাশি ঢুকে পড়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, বিশ্ব অর্থনীতি, পরিবহন ব্যয়, ডলারের সংকট এবং ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রাখার পর সিলিন্ডারে গ্যাসের জন্য জায়গা খুব অল্প অবশিষ্ট থাকে! ফলে সিলিন্ডারে গ্যাসের পরিমাণ আগের থেকে কমে গেছে। গ্যাসের দাম আগের মতোই আছে। শুধু আগের দামে কম গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। সাংবাদিকেরা এটাকেই গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি বলে চালিয়ে দিচ্ছে।</p><p>এবার বাড়বে পাইপলাইনের গ্যাসের দাম। তার পেছনেও আছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হেতু!</p><p>চতুর্থ হেতু: অটোরিকশা টেসলার জটিল কারসাজি</p><p>টেসলা বিশাল এক কৌশল হাতে নিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য, গ্যাসচালিত গাড়ির মালিকদের এমনভাবে বিপদে ফেলা, যাতে তারা বিরক্ত হয়ে গাড়ি চালানো বন্ধ করে দেন। তখন তাদের বাধ্য হয়ে টেসলায় চড়তে হবে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দেওয়া। গ্যাসের দাম যত বাড়বে, গ্যাসচালিত গাড়ির মালিকদের দুর্ভোগও তত বাড়বে। আর সেই সুযোগে টেসলার যাত্রীসংখ্যা বাড়বে। অর্থাৎ, গ্যাসের দাম বাড়ানো আসলে টেসলায় চড়ানোর এক অভিনব প্রচেষ্টা!</p><p>পঞ্চম হেতু: পুতুলের পাইপলাইনে পুতুল আটকে যাওয়া</p><p>রাস্তায় খেলার সময় এক শিশুর হাত থেকে কাপড় দিয়ে বানানো তার পুতুল কুকুর গ্যাসের পাইপলাইনে পড়ে গেছে। পুতুল উদ্ধারে কেউ রাজি হচ্ছে না। তারা এই কাজের জন্য অবিশ্বাস্য রকমের বেশি মজুরি দাবি করছে। ফলে শিশুর পুতুল উদ্ধারের ব্যর্থ অভিযান শেষ পর্যন্ত দেশে তীব্র জ্বালানিসংকট সৃষ্টি করবে।</p><p>উপসংহার: আদতে গ্যাসের দাম বাড়েনি!</p><p>গ্যাসের দাম বাড়েনি, মানুষ এখনো পুরোনো দামে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে! সমস্যাটি মানুষের মানসিকতায়। মানুষ এখনো মনে করে রান্নার গ্যাস একটি সাধারণ প্রয়োজনীয় পণ্য। অথচ গ্যাস ইতিমধ্যে বিলাসপণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভবিষ্যতে গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতে গেলে শুধু টাকা দিলেই হবে না। সঙ্গে জমা দিতে হবে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, আয়কর রিটার্ন এবং পারিবারিক সম্পদের বিবরণী। </p><p>প্রয়োজনে সিলিন্ডার কেনার আগে ক্রেতার আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য সাক্ষাৎকারও নেওয়া হতে পারে। তখন আর প্রশ্ন থাকবে না, ‘একটা সিলিন্ডারের দাম কত?’ প্রশ্ন হবে, ‘সিলিন্ডার কেনার মতো আর্থিক সামর্থ্য আপনার আছে তো?’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/l7k3q5hfqq">বিশ্বাসঘাতক কয়েল ও বড় ভাই মশা</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/iiun8w5sdj">আজব দেশে মীনা</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/6uwedlcbma">রসালো Billboard</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/2l03xca7h9">কাকালাপ</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/xuniyw60go">পাতি-নেতাদের নামতা</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/l5kxbvr6xd">একটি প্রকল্পের আত্মকাহিনি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/nay9oz11de">স্যরি!</a></aside>

নভেম্বর ৬, ২০২৬
আজ টিভিতে যা দেখবেন (৬ নভেম্বর ২০২৬)
আজ টিভিতে যা দেখবেন (৬ নভেম্বর ২০২৬)

সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিন আজ। শারজায় চলছে আফগানিস্তান–জিম্বাবুয়ে টেস্ট। চলছে অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপ ক্রিকেটও।

নভেম্বর ৬, ২০২৬
এখনো এক টাকা জরিমানা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, জমা দিতে যেতে হয় ব্যাংকে
এখনো এক টাকা জরিমানা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, জমা দিতে যেতে হয় ব্যাংকে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বই ফেরতে দেরির জরিমানা এক টাকা। অথচ সেই টাকা পরিশোধেও যেতে হয় ব্যাংকে। পুরোনো নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।

নভেম্বর ৬, ২০২৬
মৃত্যুর পরের প্রথম রাত: কবরে কী ঘটে মানুষের সঙ্গে
মৃত্যুর পরের প্রথম রাত: কবরে কী ঘটে মানুষের সঙ্গে

<p>মৃত্যুর পর থেকে কেয়ামত পর্যন্ত সময়টিকে ‘বরজখ’ (অন্তর্বর্তীকালীন জগত) বলা হয়। আর কবর হলো পরকালের প্রথম গন্তব্য। আত্মীয়স্বজন যখন মৃত ব্যক্তিকে অন্ধকার কবরে একাকী রেখে ফিরে আসে, তখন শুরু হয় তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন ও অপরিচিত এক অধ্যায়—কবরের প্রথম রাত।</p><p>ওসমান (রা.) কবরের পাশে দাঁড়ালে অঝোরে কাঁদতেন; কারণ মহানবী (সা.) বলেছেন, কবর হলো পরকালের প্রথম ঘাঁটি, কেউ এখানে মুক্তি পেলে তার পরের স্তরগুলো সহজ হয়ে যায়।</p><h3>একাকিত্ব ও কবরের চাপ </h3><p>মৃত ব্যক্তিকে দাফন করে স্বজনেরা যখন ফিরে যায়, মৃত ব্যক্তি তখন তাদের জুতার আওয়াজ শুনতে পান। এরপরই শুরু হয় কবরের প্রথম ও অত্যন্ত ভীতিকর একটি অভিজ্ঞতা—যাকে হাদিসের ভাষায় ‘দাবগাতুল কবর’ (কবরের চাপ) বলা হয়।</p><p>মাটি তার ভেতরের বাসিন্দাকে চারদিক থেকে প্রবল জোরে চেপে ধরে। এই চাপ থেকে পাপী বা পুণ্যবান—কেউই পুরোপুরি মুক্ত নন; তবে পুণ্যবানদের জন্য এটি হয় মায়ের মমতাময়ী আলিঙ্গনের মতো, আর পাপীদের জন্য হয় পাঁজর ভেঙে দেওয়ার মতো।</p><p>মহানবী (সা.) মদিনার শ্রেষ্ঠ সাহাবিদের একজন সাদ ইবনে মুয়াজের জানাজা শেষে বলেছিলেন, ‘কবরের একটি চাপ আছে; যদি কেউ এই চাপ থেকে রেহাই পেত, তবে সাদ ইবনে মুয়াজ রেহাই পেত।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ২০৫৪)</p><p>অর্থাৎ, কবরের মাটির এই আলিঙ্গন বা চাপ প্রতিটি মানুষের জন্যই অবধারিত একটি প্রথম অভিজ্ঞতা।</p><blockquote>তাঁরা মৃত ব্যক্তিকে বসিয়ে অত্যন্ত কঠোরভাবে তিনটি মৌলিক প্রশ্ন করেন, ‘তোমার রব কে?’, ‘তোমার ধর্ম কী?’ এবং ‘এই ব্যক্তি (মুহাম্মদ সা.) সম্পর্কে তুমি কী বলতে?’</blockquote><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/qbkv890poz">কবর জিয়ারতে কী করব, কী করব না</a></aside><h3>ফেরেশতার জিজ্ঞাসাবাদ </h3><p>কবরের চাপ শেষ হওয়ার পরই সেখানে উপস্থিত হন দুজন ভয়াবহ আকৃতির ফেরেশতা—যাঁদের চোখগুলো তামার হাড়ির মতো জ্বলজ্বলে এবং গলার আওয়াজ বজ্রপাতের মতো। তাঁদের নাম ‘মুনকার’ ও ‘নাকির’।</p><p>তাঁরা মৃত ব্যক্তিকে বসিয়ে অত্যন্ত কঠোরভাবে তিনটি মৌলিক প্রশ্ন করেন, ‘তোমার রব কে?’, ‘তোমার ধর্ম কী?’ এবং ‘এই ব্যক্তি (মুহাম্মদ সা.) সম্পর্কে তুমি কী বলতে?’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৭৫৩)</p><p>পার্থিব বিদ্যা বা মুখস্থবিদ্যা দিয়ে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। শুধু যাদের অন্তরে প্রকৃত ইমান ছিল এবং যারা দুনিয়াতে ইসলাম অনুযায়ী জীবন যাপন করেছে, আল্লাহ তাদের জবানকে এই ভয়ংকর মুহূর্তে স্থির রাখবেন।</p><p>আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ মুমিনদের ইহকাল ও পরকালে (কবরে) শাশ্বত বাণীর ওপর সুদৃঢ় রাখেন...।’ (সুরা ইব্রাহিম, আয়াত: ২৭)</p><p>ইবনে কাসির এই আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেন, কবরে মুনকার-নাকিরের জেরার সময় মুমিনদের অন্তর স্থির রাখা এবং সঠিক উত্তর দেওয়ানোর নিশ্চয়তা আল্লাহ এই আয়াতে দিয়েছেন। (ইবনে কাসির, <em>তাফসিরুল কুরআনিল আজিম,</em> ৪/৫০৬, দারু তাইয়িবাহ, রিয়াদ, ১৯৯৯)</p><h3>ভালো কাজের প্রতিরক্ষা </h3><p>কবরের প্রথম রাতের ভয়ংকর একাকিত্বে মৃত ব্যক্তির একমাত্র আপনজন বা পাহারাদার হিসেবে আবির্ভূত হয় তার দুনিয়ার নেক আমলগুলো। যখন আজাব বা ভীতি তার কাছে আসতে চায়, তখন আমল তাকে শারীরিক রূপ নিয়ে ছায়ার মতো আগলে রাখে।</p><p>যখন মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখা হয়, তখন নামাজ তার মাথার কাছে এসে দাঁড়ায়, রোজা তার ডান পাশে দাঁড়ায়, জাকাত তার বাঁ পাশে এবং তার দান-সদকা ও মানুষের সঙ্গে করা সদাচরণগুলো তার পায়ের কাছে এসে দাঁড়ায়।</p><p>ফেরেশতারা যেদিক থেকেই আসতে চান, আমলগুলো বলে ওঠে—এদিক দিয়ে আসার কোনো পথ নেই। (আল-কুরতুবি, <em>আত-তাজকিরাহ বি-আহওয়ালিল মাওতা ওয়া উমুরিল আখিরাহ,</em> পৃষ্ঠা ১৫৪, মাকতাবাতুল বুখারি, কায়রো, ২০০৮)</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/adkgochcmm">জীবন ও মৃত্যু: পরিপূরক নাকি বিপরীত</a></aside><aside><cite>সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩২২১</cite>তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও এবং সে যেন (জিজ্ঞাসাবাদের সময়) অবিচল থাকতে পারে, সেই দোয়া করো; কারণ এখনই তাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে।</aside><h3>বেহেশতের বাগান অথবা দোজখের গর্ত </h3><p>মুনকার ও নাকিরের তিনটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়ার পর আসমান থেকে এক ঘোষক ঘোষণা দেন, ‘আমার বান্দা সত্য বলেছে।’</p><p>এরপর তার কবরে বেহেশতের বিছানা বিছিয়ে দেওয়া হয় এবং বেহেশতের দিকে একটি দরজা খুলে দেওয়া হয়, যেখান থেকে বেহেশতের সুঘ্রাণ ও প্রশান্তির বাতাস বইতে থাকে। আর যদি উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়, তবে কবরে দোজখের আগুন বিছিয়ে দেওয়া হয়।</p><p>মহানবী (সা.) এই চূড়ান্ত পরিণতির কথা এক বাক্যে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘কবর হলো বেহেশতের বাগানগুলোর মধ্য থেকে একটি বাগান অথবা দোজখের গর্তগুলোর মধ্য থেকে একটি গর্ত।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৪৬০)</p><h3>দাফনের পরপরই জীবিতদের করণীয় </h3><p>কবরের প্রথম রাতের এই কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি যখন মৃত ব্যক্তি হতে থাকেন, তখন কবরের ওপরে থাকা জীবিত মানুষের একটি বড় দায়িত্ব রয়েছে। নবীজির সুন্নত হলো, দাফন শেষ করে দ্রুত চলে না গিয়ে কিছু সময় কবরের পাশে দাঁড়ানো।</p><p>মহানবী (সা.) যখন কোনো মৃত ব্যক্তির দাফন শেষ করতেন, তখন তিনি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে সাহাবিদের বলতেন, ‘তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও এবং সে যেন (জিজ্ঞাসাবাদের সময়) অবিচল থাকতে পারে, সেই দোয়া করো; কারণ এখনই তাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩২২১)</p><p>কবরের জীবন মানুষের চোখের আড়ালে হলেও এটি চিরন্তন সত্য। দুনিয়ার প্রতিটি পদক্ষেপে পরকালের এই প্রথম রাতের প্রস্তুতি নেওয়াই হলো একজন বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ মুমিনের কাজ।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/g0hywv2qqd">কবর সংলগ্ন মসজিদে নামাজ আদায়ের বিধান কী</a></aside>

নভেম্বর ৬, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।