উয়েফা নেশনস লিগে আজ বৃহস্পতিবার ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচ পর্তুগালের। এর ২৪ ঘণ্টা আগে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো দিলেন জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার খবর।
‘পানি নিরাপত্তা ও সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক গোলটেবিলের আয়োজক ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও প্রথম আলো।
যে আট জেলায় শান্তিনিবাস করা হয়েছে তার মধ্যে গোপালগঞ্জ, লালমনিরহাট, সুনামগঞ্জ ও নোয়াখালীতে শুধু নারীরা থাকতে পারবেন। পুরুষদের জন্য চারটি নিবাস রয়েছে ময়মনসিংহ, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালে।
<p>‘ভাষা যেখানে শেষ হয়, সেখান থেকেই সংগীত শুরু হয়।’ —হাইনরিশ হাইনে (১৭৯৭—১৮৫৬)</p><p> কিছু কিছু ঘটনার রেশ মানুষের মনে গেঁথে রয়। আর সেই ঘটনা যদি হয় শিল্পসাহিত্য–সম্পর্কিত, তাহলে তার রেশ দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থায়ী হয়ে যায়। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিঠাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিউটি রানী পালের ঘটনাটি দেশজুড়ে এমনই আলোড়ন তুলেছিল যে ‘বিউটি পাল’ নামটি দেশের অধিকাংশ মানুষই আজ জানে। অবশ্য আবার নতুন করে আলোচিত হয়েছেন বিউটি পাল। সম্প্রতি প্রথম আলোর বরাতে বিউটি রানী পালের গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি সিলেট জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ আমাদের নিশ্চিত করেছেন।</p><p> বিউটি পাল। গুণী শিক্ষক। গত ২৩ জুলাই তাঁর ফেসবুক পেজে কয়েক সেকেন্ডের একটি রিল পোস্ট করে রিলটির ব্যাকগ্রাউন্ডে যুক্ত করেছিলেন ডিফরেন্ট টাচ ব্যান্ডের মেজবাহ রহমানের গাওয়া ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গানটির একটি অংশ। বিউটি পালের সুন্দর ভিডিওটি পরে কোনো এক ‘অসুর’ একটি ফেসবুক পেজ থেকে ‘নেতিবাচক তথ্য যুক্ত করে’ ছড়িয়ে দেয়।</p><p>সংগীত আসলে এমন এক অতীন্দ্রিয়জাত ব্যাপার, মানুষের ভেতরের যেসব অনুভূতিকে শব্দবাক্যে প্রকাশ করা যায় না, সংগীত তা সুরের মূর্ছনা দিয়ে প্রকাশ করতে পারে। আমাদের মধ্যে এমন ব্যাপার হরহামেশাই ঘটে যে একটি পুরোনো গানের সুর বা কথা কোনো বিশেষ মুহূর্ত বা মানুষ বা স্থানকে চোখের সামনে মূর্ত করে তোলে। আর মানুষ ক্ষণিকের জন্য হারিয়ে যায় সুরের দোলায়। এটা একান্তই অনুমান যে সেদিন আমাদের এই শিক্ষকের মনের ভেতরেও হয়তো এমন কিছু সুপ্ত হাহাকার বা আনন্দ ভর করেছিল। ফলে না–বলা কথাগুলো সুরের মূর্ছনায় রূপ দিয়ে তাঁর উদাসী মন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শাড়ি পরে হেঁটে হারিয়ে যেতে চেয়েছিল দূর অজানায়।</p><p>মানবমনের ওপর সংগীতের প্রভাব ব্যাপক। এর সপক্ষে কবি–সাহিত্যিক–শিল্পীরা বলেছেনও বিস্তর। জার্মান কবি হাইনরিখ হাইনের কালজয়ী উক্তিটি তো সুবিদিতই, ডেনিশ সাহিত্যিক হান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের অভিমতটিও কমবেশি অনেকেরই জানা, ‘যেখানে শব্দ ব্যর্থ হয়, সংগীত সেখানে কথা বলে।’ ‘টুয়েল্ফথ নাইট’-এ তো শেক্সপিয়ার বলেই দিয়েছেন, ‘যদি সংগীতই হয় প্রেমের রসদ, তবে বাজুক অবিরাম মূর্ছনা সুরের।’ তবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উল্লেখ করে বলা যায়, মানুষের অবচেতন বা সুপ্ত মন হলো আবেগ, স্মৃতি এবং অনুভূতির এমন এক গোপন প্রকোষ্ঠ, যেখানে সাধারণ কথা সহজে পৌঁছাতে পারে না। কিন্তু সুরের কোনো সীমানা বা বাধা নেই; এটি সরাসরি হৃদয়ে গিয়ে আঘাত করে এবং সুপ্ত আবেগকে জাগিয়ে তোলে। ‘জীবনস্মৃতি’ গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ ব্যাপারে বলেছেন, ‘যেখানে অনির্বচনীয় সেইখানেই গানের প্রভাব। বাক্য যাহা বলিতে পারে না গান তাহাই বলে।’</p><blockquote>বিউটি পাল। গুণী শিক্ষক। গত ২৩ জুলাই তাঁর ফেসবুক পেজে কয়েক সেকেন্ডের একটি রিল পোস্ট করে রিলটির ব্যাকগ্রাউন্ডে যুক্ত করেছিলেন ডিফরেন্ট টাচ ব্যান্ডের মেজবাহ রহমানের গাওয়া ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গানটির একটি অংশ। বিউটি পালের সুন্দর ভিডিওটি পরে কোনো এক অসুর একটি ফেসবুক পেজ থেকে ‘নেতিবাচক তথ্য যুক্ত করে’ ছড়িয়ে দেয়।</blockquote><p>সংবাদমাধ্যম মারফত থেকে জানা যায়, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে বিউটি পাল একজন জনপ্রিয় শিক্ষক। তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিদ্যালয়ে আনন্দঘন পরিবেশে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের শরীরচর্চা করানো, নাচের মাধ্যমে গণিতের বিভিন্ন চিহ্নসহ পাঠ্যবইয়ের পড়া শেখানো, বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণের ভিডিও আপলোড করা আছে। তবে উত্তর মেরুতে বরফে আটকা পড়া নীল তিমিকে বেটোফেনের সুরের মোহে নিরাপদ সমুদ্রে বের করে আনা সম্ভব হলেও কিছু মানুষ তো এই পৃথিবীতে আছে, যাদের মন কোনো সুরই টলাতে পারে না। কেননা, এরা ‘মিউজিক্যাল অ্যানহেডোনিয়া’। এদের মস্তিষ্কে ‘এনডোরফিন’ নিঃসৃত হয় না। এদের কোনো প্রিয় ‘প্লে-লিস্ট’ নেই৷ এরা কোনো গানের আসর দেখে মনের ভুলে থমকে দাঁড়িয়ে কান পাতে না। ‘অ্যামিউজা’ নামক একটি বিশেষ অবস্থায় থাকার ফলে সংগীতের বিভিন্ন তানগুলোকে এরা মস্তিষ্কে প্রক্রিয়াজাত করতে পারে না। ফলে এদের মধ্যে ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি হয় না।</p><p>সংগীতের শক্তি এবং সুরহীন মানুষের অন্ধকার মানসিকতার মধ্যকার পার্থক্যটি খুব ভালোভাবে অনুধাবন করা যায় উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের ‘দ্য মার্চেন্ট অব ভেনিস’ নাটকের একটি বিখ্যাত উক্তি পাঠ করে। শেক্সপিয়ার বলেছেন, যে মানুষের অন্তরে কোনো সুর জাগে না, যাকে কোনো মধুর তান করে না আপ্লুত, ব্যাকুল; সে আসলে যোগ্য কেবলই দেশদ্রোহ, চক্রান্ত আর লুণ্ঠনের। এমন সব মানুষকে ভুলেও বিশ্বাস করতে বারণ করেছেন শেক্সপিয়ার। কেননা, এদের আত্মার গতি নিশুতি রাতের মতোই জড়, আর এদের অনুরাগ পাতালের অন্ধকারের মতো কালিমাময়। আমরা মনে রাখি, ওই পরিস্থিতিতে জীবনের ভয়ে ভীত বিউটি পাল ভিডিওটি সরিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরও একে কেন্দ্র করে ঘটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রোল, থানায় অভিযোগ, পুলিশি তদন্ত আর প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কমিটি গঠনের চিন্তাভাবনাসহ নানান ঘটনা।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-07-27/i7yj1bxw/SylhetDH052920260727FBIMG1785126747448.jpg"><figcaption>বিউটি রানী পাল</figcaption></figure><p>ব্যাপারটি ভীষণ তাৎপর্যপূর্ণ একটি বার্তা বহন করে যে বিউটি পাল সাইবার হয়রানির শিকার হওয়ার পরপরই তাঁর সহকর্মী ও দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকেরা তাঁর সঙ্গে সংহতি জানাতে শুরু করেন। আমরা এ–ও দেখেছি, নিজেদের ফেসবুক প্রোফাইলে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ দেশের সচেতন নাগরিকেরা ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানের ওই নির্দিষ্ট অংশ ব্যবহার করে নানা রকম ভিডিও পোস্ট করেছেন। কেউ কেউ স্কুলের ভেতরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভিডিও দেন, কেউ স্কুলের বাইরে থাকা অবস্থায় করা ভিডিও পোস্ট করেন।</p><p>তবে যে প্রশ্নগুলো সর্বাগ্রে আমাদের ভাবনায় করাঘাত করে তার মধ্যে অন্যতম হলো, বিউটি পালের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা আর প্রতিবাদী ভিডিওর মধ্যে আর সীমাবদ্ধ ছিল না। এই ভিডিও নিয়ে আলোচনা তৈরি হওয়ার পর সিলেট জেলার সেই প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, এমনকি পত্রিকায় বলেছেন যে তাঁরা চিন্তা করেছিলেন, এই ভিডিও সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নীতিমালা লঙ্ঘন করে কি না, এ ব্যাপারে তাঁরা খতিয়ে দেখবেন। সিলেট সফরে গিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করার পরই মূলত তাঁরা আর বিউটি পালের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে না বলে জানান।</p><blockquote>সংবাদমাধ্যম মারফত থেকে জানা যায়, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে বিউটি পাল একজন জনপ্রিয় শিক্ষক। তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিদ্যালয়ে আনন্দঘন পরিবেশে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের শরীরচর্চা করানো, নাচের মাধ্যমে গণিতের বিভিন্ন চিহ্নসহ পাঠ্যবইয়ের পড়া শেখানো, বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণের ভিডিও আপলোড করা আছে।</blockquote><p>এর অর্থ এই দাঁড়ায়, তাঁরা কি মব সন্ত্রাসের ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে সেই কমিটি করতে চেয়েছিলেন? ভিকটিমের পক্ষে না দাঁড়িয়ে তাঁর বিরুদ্ধে কমিটি করবেন? প্রতিমন্ত্রী স্টেটমেন্ট না দিলে তাঁরা তাঁদের জ্ঞান, বোধবুদ্ধি প্রয়োগ করবেন না? বিউটি পালের পর অন্য কাউকে যদি মব সন্ত্রাস বা সাইবার সন্ত্রাসের কবলে পড়তে হয়, এর জন্য রাষ্ট্রের মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীকেই দেখভাল করতে হবে?</p><p>কোনো রাখঢাক না করে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ একজন গুণী শিক্ষকের পাশে দাঁড়িয়ে একটি দৃষ্টান্তমূলক কাজ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘গান গাওয়া অন্যায়, এটা আর কেউ মানুক বা না মানুক, আমি মানতে রাজি না।’ না, আমি শিল্পসাহিত্যে অশ্লীলতার পক্ষে নই। তবে প্রতিমন্ত্রীর কথার রেশ ধরে, ‘আমি আশপাশে জিজ্ঞেস করে জানলাম, একজন একটা গান গেয়ে একটি ভিডিও করেছে এবং সেখানে অশ্লীলতা বা তেমন কিছু নেই।’ একটি প্রশ্ন জাগ্রত হয়েছে, শিল্পসাহিত্যে শ্লীল বা অশ্লীলতার মাপকাঠি আসলে কোন নিক্তিতে নির্ধারণ করা হবে? মব বা প্রেশার গ্রুপের চাপে? অশ্লীলতা তেমন কিছু নেই, এই অংশটুকুও পরিষ্কার করার জোর আহ্বান জানাই।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/uva4ogm4ai">‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে’ গানের রিলে আলোচিত বিউটি সিলেটের গুণী শিক্ষক</a></aside>
জাতিসংঘের সভাপতির চেয়ারে বাংলাদেশ, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম নিউইয়র্ক সফর, দিল্লিতে ব্রিকসের ফাঁকা চেয়ার, মক্কা জোটে আপাতত যুক্ততা নয় আর লোহিত সাগরের উত্তাপ রান্নাঘর থেকে কলকারখানা
চার বছর ধরে ওয়ানডে ও টি–টুয়েন্টি, দুই সংস্করণেই বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা। কিন্তু এশিয়ান গেমসের আগে টি-টুয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিয়েছেন।
দেশে উচ্চশিক্ষা বিস্তারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকাকে কোনোভাবে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।
কোনো নদী, বন, মাটি বা প্রাণীকে বরবাদ করার ফয়সালা কি শুধু অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতির হিসাবেই নির্ধারিত হবে? নাকি এর মধ্যে এমন একটি নৈতিক প্রশ্নও নিহিত থাকবে।
মার্ক জানান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্য ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সড়ক পাড়ি দেওয়ার সময় মার্ক সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা পেয়েছেন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আইল্যান্ডে লাগানো বিভিন্ন শোভাবর্ধনকারী গাছ কেটে স্থানীয় লোকজনের সবজি চাষের যে চিত্র সম্প্রতি উঠে এসেছে, তা নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ঐশ্বরিয়া জানিয়েছিলেন, কেন তাঁকে সিনেমাগুলো থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, তার কোনো ব্যাখ্যা তিনি পাননি।
<p>১ অক্টোবর বিশ্ব প্রবীণ দিবস। জাতিসংঘ ১৯৯০ সালে আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি প্রতিবছর ১ অক্টোবর পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রবীণদের সুরক্ষা এবং অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি বার্ধক্যের বিষয়ে বিশ্বব্যাপী গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৯১ সাল থেকে দিবসটি পালন শুরু হয়। মূলত প্রবীণদের সুরক্ষা এবং অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি বার্ধক্যের বিষয়ে বিশ্বব্যাপী গণসচেতনতা সৃষ্টিই দিবসটি পালনের মুখ্য উদ্দেশ্য। এ বছর ৩৩তম দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে-‘সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণায় প্রবীণদের জন্য প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি পূরণে প্রজন্মের ভূমিকা’।</p><p> জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা অনুসারে, বাংলাদেশে ৬০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের প্রবীণ বলে অভিহিত করা হয়। সে হিসেবে দেশের মোট জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশই বয়সে প্রবীণ। মূলত চিকিৎসা বিজ্ঞান ও আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের ফলে দেশের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের চেয়ে প্রবীণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে বেশি হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জনশুমারি ও গৃহগণনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের জনসংখ্যা ১৬,৫১,৫৮,৬১৬ জন এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ১,৫৩,২৬,০০০ জন। হিসাব অনুযায়ী তাঁরা মোট জনসংখ্যার ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ। বাংলাদেশ প্রবীণহিতৈষী সংঘের তথ্যও একই তথ্য দেয়।</p><p>বাংলাদেশে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ও আনুপাতিক আকার বাড়ছে, যা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় দ্রুততম গতিতে বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের তথ্যানুসারে, ২০৩০ সালে দেশে মোট জনসংখ্যার ২২ শতাংশ (২ কোটি ১০ লক্ষ) হবে বয়সে প্রবীণ এবং ২০৫০ সালে দাঁড়াবে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ। ইউনিসেফ বলছে, আগামী দুই থেকে আড়াই দশকের মধ্যে বাংলাদেশ জাপানের মতো প্রবীণপ্রধান দেশে পরিণত হবে। উল্লেখ্য জাপানের মোট জনসংখ্যার ২৯ দশমিক ৬ শতাংশই বয়সে প্রবীণ। আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী, কোনো দেশের মোট জনসংখ্যার ৭ শতাংশ প্রবীণ হলে তাকে এজিং সোসাইটি এবং ১৪ শতাংশ পার করলে এজেড সোসাইটি বলা হয়। সে মোতাবেক বাংলাদেশ বর্তমানে দ্রুতগতিতে এজেড সোসাইটির দিকে ধাবিত হচ্ছে। দ্রুততম সময়ে এই পরিবর্তন ঘটতে চলেছে, বিশ্বে এমন সব দেশের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। দেশের আইনে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রত্যেক বয়স্ক নাগরিকের মর্যাদাসহ বেঁচে থাকার অধিকার আছে।</p><blockquote>নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: ns@prothomalo.com</blockquote><p>বর্তমানে গড় আয়ু বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানে ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সেও অবসর প্রদান করতে হয়। সক্ষম প্রবীণদের প্রতি সমাজের এটা বৈষম্যমূলক আচরণ। তবে প্রবীণ নাগরিকদের মর্যাদা, অগ্রাধিকারসহ সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে সরকার নানা কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারের গৃহীত বয়স্কভাতা কর্মসূচি প্রশংসার যোগ্য। এ ছাড়া সরকারি চাকরিজীবীর বাইরে সর্বজনীন পেনশন ভাতা প্রবর্তন করেছে সরকার। বাংলাদেশে উন্নত দেশগুলোর মতো রাষ্ট্রীয় সামাজিক সুরক্ষা, যাতায়াত ও চিকিৎসা সুবিধা, বৃদ্ধনিবাস ইত্যাদি এখনো সেভাবে গড়ে ওঠেনি। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কাজ হয়েছে। তবে তার পরিমাণ খুবই কম। এই অবস্থায় রাষ্ট্র তথা সরকারকে প্রবীণ জনগোষ্ঠীকে নিয়ে আরও ভাবা দরকার। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে প্রবীণদের কল্যাণে অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে পারে। বর্তমানে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, দুস্থভাতাসহ সাশ্রয়ী মূল্যে চাল ও আনুষঙ্গিক কিছু কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যা দেশের প্রবীণদের জন্য কল্যাণকর।</p><p>বৃদ্ধ অবস্থায় মা–বাবাকে সন্তানের কাছ থেকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য ২০১৩ সালে ‘মা-বাবার ভরণপোষণ আইন’ প্রণয়ন করে সরকার। এ আইনে বলা হয়েছে, প্রত্যেক সন্তানকে তাদের মা-বাবার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে হবে। এই আইনের লক্ষ্য হলো প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ, দারিদ্র্যমুক্ত, কর্মময় ও নিরাপদ সামাজিক জীবন নিশ্চিত করা এবং জাতীয় নীতিমালায় প্রবীণ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করে যথাযথ কর্মপরিকল্পনা সুনির্দিষ্ট করে তা বাস্তবায়ন করা।</p><p>বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে-বিদেশে সর্বত্র আজ বার্ধক্যে উপনীত মানুষগুলো অসহায়। জাতিসংঘের তথ্যমতে, বিশ্বব্যাপী প্রবীণরা দুর্ব্যবহার, অবহেলা, নির্যাতন এবং শোষণের সম্মুখীন হচ্ছেন সবচেয়ে বেশি। আমাদের সমাজে অধিকাংশ প্রবীণই অবহেলিত ও নির্যাতিত। অথচ দেশের উন্নয়ন তথা আজকের সমাজ ও সভ্যতার মূল কারিগর তারাই। এক সময় যারা তাদের মেধা, শ্রম ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রেখেছেন, তারা প্রবীণ বয়সে অবহেলিত, বঞ্চনা, নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তাই প্রবীণ ব্যক্তির পারিবারিক ও সামাজিক অবদানের স্বীকৃতি প্রদান করা তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করা সবার নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। আমাদের ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কৃতিতেও জ্যেষ্ঠদের ভক্তি করা এবং পিতামাতার সেবা করাকে সর্বোচ্চ পুণ্যের কাজ বলা হয়েছে। যেমন ইসলাম ধর্মে প্রবীণ ও বয়োজ্যেষ্ঠদের অত্যন্ত সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ আসন দেওয়া হয়েছে। ইসলাম বার্ধক্যকে কোনো বোঝা বা অবহেলার বিষয় হিসেবে দেখে না; বরং এটি মানুষের জীবনচক্রের এক বিশেষ পর্যায়, যেখানে তাদের শ্রদ্ধা, যতœ ও সেবা করা অনুজদের জন্য ইবাদত সমতুল্য।</p><p>প্রবীণরা পরিবারের বা সমাজের বোঝা নন, বরং তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও নৈতিক নির্দেশনা সমাজকে সমৃদ্ধ করে। আজকের প্রবীণদের হাত ধরেই বর্তমান সময় আমরা পেয়েছি। তাই প্রবীণ জনগোষ্ঠীর কাছে বর্তমান সমাজ সবসময় ঋণী। ভাবা দরকার বর্তমানের তরুণ যুবকেরাও ভবিষ্যতে প্রবীণ হবে। তাই বর্তমানে প্রবীণ জনগোষ্ঠীকে যথাযথ সম্মান দেখাতে পারলে ভবিষ্যতের প্রবীণরাও উপযুক্ত সম্মান ও মর্যাদা আশা করতে পারবে। সবশেষে বলা যায়- জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা ০১৩ হালনাগাদ করে প্রবীণদের জীবন মানোন্নয়নে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেসব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে আমাদের দেশেও বাস্তবায়ন করা হলে পরিবার ও সমাজে প্রবীণরা কিছুটা হলেও স্বস্তি ও শান্তিতে থাকতে পারবেন। হাসপাতাল, অফিস, আদালত, গণপরিবহণসহ সর্বক্ষেত্রে প্রবীণদের জন্য আসন সংরক্ষণ, বিভিন্ন রকম সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, স্বল্পমূল্যে টিকিট প্রদান, গণসচেতনতা সৃষ্টি, পাঠ্যবইয়ে প্রবীণদের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে বিদ্যমান আইন বাস্তবায়নে সরকারকে আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। উন্নত বিশ্বের মতো সরকার সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য ব্যাংক, বিমা, গণপরিবহন, হাসপাতাল-চিকিৎসা ও চিকিৎসা সেবাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাধ্যতামূলক করবে; আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে এটাই প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশা।</p><p>*লেখক: অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান ও অতিরিক্ত পরিচালক, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, খুলনা-৯২০৩।</p>
<p>যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই)-এর ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং ২০২৭-এ বিশ্বের সেরা ১০০০ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে দেশের ৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। এবারের এ তালিকায় জায়গা পেয়েছে দেশের ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়। এই ২৫টির মধ্যে শীর্ষ ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাকি ৫টি বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।</p><p> এবারের তালিকায় র্যাঙ্কিংয়ের বাইরের ১০টিসহ দেশের মোট ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম এসেছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) টিএইচই–এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।</p><p>শিক্ষার মান, শিক্ষার্থী-শিক্ষকের অনুপাত, গবেষণার মান, সাইটেশন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীসহ কয়েকটি সূচকের ভিত্তিতে এ তালিকা করা হয়। বিশ্বের ১১৮টি দেশের ২ হাজার ২৯৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মূল্যায়ন করে করা হয়েছে তালিকা। বিভিন্ন মানসম্মত পারফরম্যান্স সূচক ব্যবহার করে শিক্ষার মান, গবেষণা পরিবেশ, গবেষণা শ্রেষ্ঠত্ব, ইন্ডাস্ট্রি সংযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সম্ভাবনা—এই গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি ক্ষেত্রে টাইমস হায়ার এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং বিশ্বের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র্যাঙ্কিং করে থাকে।</p><p>তালিকায় ৮০১ থেকে ১০০০ র্যাঙ্কের মধ্যে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (এআইইউবি), ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ)।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/admission/506v85alq1">শুধু প্রথম শ্রেণি নয়, পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লটারিতে ভর্তির পরিকল্পনা</a></aside><p>১০০১ থেকে ১২০০ র্যাঙ্কে রয়েছে যথাক্রমে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি (ব্র্যাক), গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি), ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি), যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)।</p><p>১২০১ থেকে ১৪০০ র্যাঙ্কে বর্ণমালার ক্রমানুসারে যৌথভাবে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ), মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি), শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ও ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) নাম রয়েছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/higher-education/8trtoqq7rp">পড়াশোনার সঙ্গে কাজ, ইউরোপের যে ১০ দেশে আয় বেশি</a></aside><p>১৪০১ থেকে ১৬০০ র্যাঙ্কে বর্ণমালার ক্রমানুসারে যৌথভাবে রয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি), আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি), নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)।</p><p>১৮০১-২০০০ র্যাঙ্কে আছে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি (ইডব্লিউইউ) ও মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/higher-education/ne6l21btqr">টাইমস হায়ার র্যাঙ্কিং: শীর্ষ ১০০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নেই ঢাবি-বুয়েট, আছে ৩ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়</a></aside><p>অন্যদিকে র্যাঙ্কিংয়ে অংশ নিলেও মূল র্যাঙ্ক অর্জনের প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না করায় তালিকায় স্থান পায়নি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন (এইউডব্লিউ), চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু), ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ), গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (জিইউবি), শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি), স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এসইউবি), ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব), উত্তরা ইউনিভার্সিটি, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (ডব্লিউইউবি)।</p>
<p>বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনে (পেট্রোবাংলা) নবম ও দশম গ্রেডে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। মোট পদসংখ্যা ৭৫৩। পেট্রোবাংলা এবং এর আওতাধীন ১২টি কোম্পানিতে এই নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদনের শেষ তারিখ ১৭ নভেম্বর ২০২৬।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/chakri/employment/z9efpbb70u">বিমান বাংলাদেশে বড় নিয়োগ, পদ ২৩৪</a></aside><p><strong>চাকরির বিবরণ<br></strong>১. পদের নাম: সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন)<br>পদসংখ্যা: ৯৭<br>২. পদের নাম: সহকারী ব্যবস্থাপক (আইন)<br>পদসংখ্যা: ৬<br>৩. পদের নাম: সহকারী ব্যবস্থাপক (অর্থ)<br>পদসংখ্যা: ৬৩<br>৪. পদের নাম: সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রকৌশল)<br>পদসংখ্যা: মেকানিক্যাল (৭৪), ইলেকট্রিক্যাল (৪৯), সিভিল (৪০), সিএসই/ আইটি (২৫), কেমিক্যাল (২৭), পেট্রোলিয়াম (১৪), আইপিই (৮), মেটালার্জি/ এমএমই (৭), ইলেকট্রনিকস (২), অটোমোবাইল (১)।<br>৫. পদের নাম: সহকারী ব্যবস্থাপক (জিওলজি)<br>পদসংখ্যা: ১২<br>৬. পদের নাম: সহকারী ব্যবস্থাপক (জিওফিজিকস)<br>পদসংখ্যা: ২<br>৭. পদের নাম: সহকারী ব্যবস্থাপক (জিওকেমিক্যাল)<br>পদসংখ্যা: ১<br>৮. পদের নাম: সহকারী ব্যবস্থাপক (কেমিস্ট্রি)<br>পদসংখ্যা: ১<br>৯. পদের নাম: সহকারী ব্যবস্থাপক (এনভায়রনমেন্ট)<br>পদসংখ্যা: ১<br>১০. পদের নাম: সহকারী ব্যবস্থাপক (চিকিৎসা)<br>পদসংখ্যা: ১৫<br>১১. পদের নাম: সহকারী ডিলার<br>পদসংখ্যা: ১</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/higher-education/ne6l21btqr">টাইমস হায়ার র্যাঙ্কিং: শীর্ষ ১০০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নেই ঢাবি-বুয়েট, আছে ৩ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়</a></aside><p>১২. পদের নাম: সহকারী ব্যবস্থাপক (কারিগরি)<br>পদসংখ্যা: ১১<br>১৩. পদের নাম: সহকারী কর্মকর্তা (প্রশাসন)<br>পদসংখ্যা: ৭৩<br>১৪. পদের নাম: সহকারী কর্মকর্তা (আইন)<br>পদসংখ্যা: ৪<br>১৫. পদের নাম: অ্যাসিস্ট্যান্ট লাইব্রেরিয়ান<br>পদসংখ্যা: ১<br>১৬. পদের নাম: সহকারী কর্মকর্তা (অর্থ)<br>পদসংখ্যা: ৫৩<br>১৭. পদের নাম: উপসহকারী প্রকৌশলী<br>পদসংখ্যা: মেকানিক্যাল (৫৬), ইলেকট্রিক্যাল (৩২), সিভিল (৩১), কম্পিউটার/ আইটি (৮), ইলেকট্রনিকস (৩), অটোমোবাইল (৯), কেমিক্যাল (৫), পাওয়ার (৫), টেলিকম (১)।<br>১৮. পদের নাম: ট্রেইনি ডিলার<br>পদসংখ্যা: ৪<br>১৯. পদের নাম: সহকারী কর্মকর্তা (কারিগরি)/ উপসহকারী কারিগরি কর্মকর্তা<br>পদসংখ্যা: ১১<br>গ্রেড ও বেতন স্কেল<br>*১ থেকে ১২ নম্বর পদ: গ্রেড-৯, বেতন স্কেল: ৪৪,০০০–১,০৫,৯০০ টাকা।<br>*১৩ থেকে ১৯ নম্বর পদ: গ্রেড-১০, বেতন স্কেল: ৩২,০০০০-৭৭,৩০০ টাকা।<br>বয়সসীমা<br>১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে অনূর্ধ্ব ৩২ বছর।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo/import/media/2016/10/21/3a749eb8c2cdf94e626d2226b8a10b6e-Untitled-13.jpg"></figure><p><strong>আবেদনের নিয়ম<br></strong><a href="http://bogmc.teletalk.com.bd/" target="_blank" rel="nofollow">http://bogmc.teletalk.com.bd</a> অথবা <a href="https://www.petrobangla.org.bd/" target="_blank" rel="nofollow">ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন</a> করতে হবে।<br><strong>আবেদন ফি<br></strong>২২৩ টাকা।<br>অনগ্রসর শ্রেণির (ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গ) প্রার্থীদের জন্য আবেদন ফি ৫৬ টাকা।</p><p><strong>আবেদনের সময়সীমা—<br></strong>আবেদনপত্র পূরণ এবং পরীক্ষার ফি জমাদান শুরু: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০টা;<br>আবেদনপত্র পূরণ এবং পরীক্ষার ফি জমাদান শেষ: ১৭ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫টা।<br>**শুধু ইউজার আইডিপ্রাপ্ত প্রার্থীরা ওই সময়ের পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত (অর্থাৎ ২০ নভেম্বর ২০২৬ তারিখ বিকেল ৫টা পর্যন্ত) ফি জমা দিতে পারবেন।<br><a href="https://objectstorage.ap-dcc-gazipur-1.oraclecloud15.com/n/axvjbnqprylg/b/V2Ministry/o/office-petrobangla/2026/8/40b33c54-081c-4757-81ac-abc7895013e1.pdf" target="_blank" rel="nofollow">বিস্তারিত দেখুন এই ঠিকানায়</a>।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/chakri/employment/t7wpwcbn2j">৫১তম বিসিএসের সিলেবাস প্রকাশ করল পিএসসি</a></aside>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন