ইসলাম

মৃত্যুর পরের প্রথম রাত: কবরে কী ঘটে মানুষের সঙ্গে

নভেম্বর ৬, ২০২৬
মৃত্যুর পরের প্রথম রাত: কবরে কী ঘটে মানুষের সঙ্গে
মৃত্যুর পরের প্রথম রাত: কবরে কী ঘটে মানুষের সঙ্গে
<p>মৃত্যুর পর থেকে কেয়ামত পর্যন্ত সময়টিকে ‘বরজখ’ (অন্তর্বর্তীকালীন জগত) বলা হয়। আর কবর হলো পরকালের প্রথম গন্তব্য। আত্মীয়স্বজন যখন মৃত ব্যক্তিকে অন্ধকার কবরে একাকী রেখে ফিরে আসে, তখন শুরু হয় তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন ও অপরিচিত এক অধ্যায়—কবরের প্রথম রাত।</p><p>ওসমান (রা.) কবরের পাশে দাঁড়ালে অঝোরে কাঁদতেন; কারণ মহানবী (সা.) বলেছেন, কবর হলো পরকালের প্রথম ঘাঁটি, কেউ এখানে মুক্তি পেলে তার পরের স্তরগুলো সহজ হয়ে যায়।</p><h3>একাকিত্ব ও কবরের চাপ </h3><p>মৃত ব্যক্তিকে দাফন করে স্বজনেরা যখন ফিরে যায়, মৃত ব্যক্তি তখন তাদের জুতার আওয়াজ শুনতে পান। এরপরই শুরু হয় কবরের প্রথম ও অত্যন্ত ভীতিকর একটি অভিজ্ঞতা—যাকে হাদিসের ভাষায় ‘দাবগাতুল কবর’ (কবরের চাপ) বলা হয়।</p><p>মাটি তার ভেতরের বাসিন্দাকে চারদিক থেকে প্রবল জোরে চেপে ধরে। এই চাপ থেকে পাপী বা পুণ্যবান—কেউই পুরোপুরি মুক্ত নন; তবে পুণ্যবানদের জন্য এটি হয় মায়ের মমতাময়ী আলিঙ্গনের মতো, আর পাপীদের জন্য হয় পাঁজর ভেঙে দেওয়ার মতো।</p><p>মহানবী (সা.) মদিনার শ্রেষ্ঠ সাহাবিদের একজন সাদ ইবনে মুয়াজের জানাজা শেষে বলেছিলেন, ‘কবরের একটি চাপ আছে; যদি কেউ এই চাপ থেকে রেহাই পেত, তবে সাদ ইবনে মুয়াজ রেহাই পেত।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ২০৫৪)</p><p>অর্থাৎ, কবরের মাটির এই আলিঙ্গন বা চাপ প্রতিটি মানুষের জন্যই অবধারিত একটি প্রথম অভিজ্ঞতা।</p><blockquote>তাঁরা মৃত ব্যক্তিকে বসিয়ে অত্যন্ত কঠোরভাবে তিনটি মৌলিক প্রশ্ন করেন, ‘তোমার রব কে?’, ‘তোমার ধর্ম কী?’ এবং ‘এই ব্যক্তি (মুহাম্মদ সা.) সম্পর্কে তুমি কী বলতে?’</blockquote><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/qbkv890poz">কবর জিয়ারতে কী করব, কী করব না</a></aside><h3>ফেরেশতার জিজ্ঞাসাবাদ </h3><p>কবরের চাপ শেষ হওয়ার পরই সেখানে উপস্থিত হন দুজন ভয়াবহ আকৃতির ফেরেশতা—যাঁদের চোখগুলো তামার হাড়ির মতো জ্বলজ্বলে এবং গলার আওয়াজ বজ্রপাতের মতো। তাঁদের নাম ‘মুনকার’ ও ‘নাকির’।</p><p>তাঁরা মৃত ব্যক্তিকে বসিয়ে অত্যন্ত কঠোরভাবে তিনটি মৌলিক প্রশ্ন করেন, ‘তোমার রব কে?’, ‘তোমার ধর্ম কী?’ এবং ‘এই ব্যক্তি (মুহাম্মদ সা.) সম্পর্কে তুমি কী বলতে?’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৭৫৩)</p><p>পার্থিব বিদ্যা বা মুখস্থবিদ্যা দিয়ে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। শুধু যাদের অন্তরে প্রকৃত ইমান ছিল এবং যারা দুনিয়াতে ইসলাম অনুযায়ী জীবন যাপন করেছে, আল্লাহ তাদের জবানকে এই ভয়ংকর মুহূর্তে স্থির রাখবেন।</p><p>আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ মুমিনদের ইহকাল ও পরকালে (কবরে) শাশ্বত বাণীর ওপর সুদৃঢ় রাখেন...।’ (সুরা ইব্রাহিম, আয়াত: ২৭)</p><p>ইবনে কাসির এই আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেন, কবরে মুনকার-নাকিরের জেরার সময় মুমিনদের অন্তর স্থির রাখা এবং সঠিক উত্তর দেওয়ানোর নিশ্চয়তা আল্লাহ এই আয়াতে দিয়েছেন। (ইবনে কাসির, <em>তাফসিরুল কুরআনিল আজিম,</em> ৪/৫০৬, দারু তাইয়িবাহ, রিয়াদ, ১৯৯৯)</p><h3>ভালো কাজের প্রতিরক্ষা </h3><p>কবরের প্রথম রাতের ভয়ংকর একাকিত্বে মৃত ব্যক্তির একমাত্র আপনজন বা পাহারাদার হিসেবে আবির্ভূত হয় তার দুনিয়ার নেক আমলগুলো। যখন আজাব বা ভীতি তার কাছে আসতে চায়, তখন আমল তাকে শারীরিক রূপ নিয়ে ছায়ার মতো আগলে রাখে।</p><p>যখন মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখা হয়, তখন নামাজ তার মাথার কাছে এসে দাঁড়ায়, রোজা তার ডান পাশে দাঁড়ায়, জাকাত তার বাঁ পাশে এবং তার দান-সদকা ও মানুষের সঙ্গে করা সদাচরণগুলো তার পায়ের কাছে এসে দাঁড়ায়।</p><p>ফেরেশতারা যেদিক থেকেই আসতে চান, আমলগুলো বলে ওঠে—এদিক দিয়ে আসার কোনো পথ নেই। (আল-কুরতুবি, <em>আত-তাজকিরাহ বি-আহওয়ালিল মাওতা ওয়া উমুরিল আখিরাহ,</em> পৃষ্ঠা ১৫৪, মাকতাবাতুল বুখারি, কায়রো, ২০০৮)</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/adkgochcmm">জীবন ও মৃত্যু: পরিপূরক নাকি বিপরীত</a></aside><aside><cite>সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩২২১</cite>তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও এবং সে যেন (জিজ্ঞাসাবাদের সময়) অবিচল থাকতে পারে, সেই দোয়া করো; কারণ এখনই তাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে।</aside><h3>বেহেশতের বাগান অথবা দোজখের গর্ত </h3><p>মুনকার ও নাকিরের তিনটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়ার পর আসমান থেকে এক ঘোষক ঘোষণা দেন, ‘আমার বান্দা সত্য বলেছে।’</p><p>এরপর তার কবরে বেহেশতের বিছানা বিছিয়ে দেওয়া হয় এবং বেহেশতের দিকে একটি দরজা খুলে দেওয়া হয়, যেখান থেকে বেহেশতের সুঘ্রাণ ও প্রশান্তির বাতাস বইতে থাকে। আর যদি উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়, তবে কবরে দোজখের আগুন বিছিয়ে দেওয়া হয়।</p><p>মহানবী (সা.) এই চূড়ান্ত পরিণতির কথা এক বাক্যে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘কবর হলো বেহেশতের বাগানগুলোর মধ্য থেকে একটি বাগান অথবা দোজখের গর্তগুলোর মধ্য থেকে একটি গর্ত।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৪৬০)</p><h3>দাফনের পরপরই জীবিতদের করণীয় </h3><p>কবরের প্রথম রাতের এই কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি যখন মৃত ব্যক্তি হতে থাকেন, তখন কবরের ওপরে থাকা জীবিত মানুষের একটি বড় দায়িত্ব রয়েছে। নবীজির সুন্নত হলো, দাফন শেষ করে দ্রুত চলে না গিয়ে কিছু সময় কবরের পাশে দাঁড়ানো।</p><p>মহানবী (সা.) যখন কোনো মৃত ব্যক্তির দাফন শেষ করতেন, তখন তিনি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে সাহাবিদের বলতেন, ‘তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও এবং সে যেন (জিজ্ঞাসাবাদের সময়) অবিচল থাকতে পারে, সেই দোয়া করো; কারণ এখনই তাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩২২১)</p><p>কবরের জীবন মানুষের চোখের আড়ালে হলেও এটি চিরন্তন সত্য। দুনিয়ার প্রতিটি পদক্ষেপে পরকালের এই প্রথম রাতের প্রস্তুতি নেওয়াই হলো একজন বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ মুমিনের কাজ।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/g0hywv2qqd">কবর সংলগ্ন মসজিদে নামাজ আদায়ের বিধান কী</a></aside>

Prothomalo

View more
এখনো এক টাকা জরিমানা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, জমা দিতে যেতে হয় ব্যাংকে
এখনো এক টাকা জরিমানা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, জমা দিতে যেতে হয় ব্যাংকে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বই ফেরতে দেরির জরিমানা এক টাকা। অথচ সেই টাকা পরিশোধেও যেতে হয় ব্যাংকে। পুরোনো নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।

নভেম্বর ৬, ২০২৬
মৃত্যুর পরের প্রথম রাত: কবরে কী ঘটে মানুষের সঙ্গে
মৃত্যুর পরের প্রথম রাত: কবরে কী ঘটে মানুষের সঙ্গে

<p>মৃত্যুর পর থেকে কেয়ামত পর্যন্ত সময়টিকে ‘বরজখ’ (অন্তর্বর্তীকালীন জগত) বলা হয়। আর কবর হলো পরকালের প্রথম গন্তব্য। আত্মীয়স্বজন যখন মৃত ব্যক্তিকে অন্ধকার কবরে একাকী রেখে ফিরে আসে, তখন শুরু হয় তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন ও অপরিচিত এক অধ্যায়—কবরের প্রথম রাত।</p><p>ওসমান (রা.) কবরের পাশে দাঁড়ালে অঝোরে কাঁদতেন; কারণ মহানবী (সা.) বলেছেন, কবর হলো পরকালের প্রথম ঘাঁটি, কেউ এখানে মুক্তি পেলে তার পরের স্তরগুলো সহজ হয়ে যায়।</p><h3>একাকিত্ব ও কবরের চাপ </h3><p>মৃত ব্যক্তিকে দাফন করে স্বজনেরা যখন ফিরে যায়, মৃত ব্যক্তি তখন তাদের জুতার আওয়াজ শুনতে পান। এরপরই শুরু হয় কবরের প্রথম ও অত্যন্ত ভীতিকর একটি অভিজ্ঞতা—যাকে হাদিসের ভাষায় ‘দাবগাতুল কবর’ (কবরের চাপ) বলা হয়।</p><p>মাটি তার ভেতরের বাসিন্দাকে চারদিক থেকে প্রবল জোরে চেপে ধরে। এই চাপ থেকে পাপী বা পুণ্যবান—কেউই পুরোপুরি মুক্ত নন; তবে পুণ্যবানদের জন্য এটি হয় মায়ের মমতাময়ী আলিঙ্গনের মতো, আর পাপীদের জন্য হয় পাঁজর ভেঙে দেওয়ার মতো।</p><p>মহানবী (সা.) মদিনার শ্রেষ্ঠ সাহাবিদের একজন সাদ ইবনে মুয়াজের জানাজা শেষে বলেছিলেন, ‘কবরের একটি চাপ আছে; যদি কেউ এই চাপ থেকে রেহাই পেত, তবে সাদ ইবনে মুয়াজ রেহাই পেত।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ২০৫৪)</p><p>অর্থাৎ, কবরের মাটির এই আলিঙ্গন বা চাপ প্রতিটি মানুষের জন্যই অবধারিত একটি প্রথম অভিজ্ঞতা।</p><blockquote>তাঁরা মৃত ব্যক্তিকে বসিয়ে অত্যন্ত কঠোরভাবে তিনটি মৌলিক প্রশ্ন করেন, ‘তোমার রব কে?’, ‘তোমার ধর্ম কী?’ এবং ‘এই ব্যক্তি (মুহাম্মদ সা.) সম্পর্কে তুমি কী বলতে?’</blockquote><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/qbkv890poz">কবর জিয়ারতে কী করব, কী করব না</a></aside><h3>ফেরেশতার জিজ্ঞাসাবাদ </h3><p>কবরের চাপ শেষ হওয়ার পরই সেখানে উপস্থিত হন দুজন ভয়াবহ আকৃতির ফেরেশতা—যাঁদের চোখগুলো তামার হাড়ির মতো জ্বলজ্বলে এবং গলার আওয়াজ বজ্রপাতের মতো। তাঁদের নাম ‘মুনকার’ ও ‘নাকির’।</p><p>তাঁরা মৃত ব্যক্তিকে বসিয়ে অত্যন্ত কঠোরভাবে তিনটি মৌলিক প্রশ্ন করেন, ‘তোমার রব কে?’, ‘তোমার ধর্ম কী?’ এবং ‘এই ব্যক্তি (মুহাম্মদ সা.) সম্পর্কে তুমি কী বলতে?’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৭৫৩)</p><p>পার্থিব বিদ্যা বা মুখস্থবিদ্যা দিয়ে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। শুধু যাদের অন্তরে প্রকৃত ইমান ছিল এবং যারা দুনিয়াতে ইসলাম অনুযায়ী জীবন যাপন করেছে, আল্লাহ তাদের জবানকে এই ভয়ংকর মুহূর্তে স্থির রাখবেন।</p><p>আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ মুমিনদের ইহকাল ও পরকালে (কবরে) শাশ্বত বাণীর ওপর সুদৃঢ় রাখেন...।’ (সুরা ইব্রাহিম, আয়াত: ২৭)</p><p>ইবনে কাসির এই আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেন, কবরে মুনকার-নাকিরের জেরার সময় মুমিনদের অন্তর স্থির রাখা এবং সঠিক উত্তর দেওয়ানোর নিশ্চয়তা আল্লাহ এই আয়াতে দিয়েছেন। (ইবনে কাসির, <em>তাফসিরুল কুরআনিল আজিম,</em> ৪/৫০৬, দারু তাইয়িবাহ, রিয়াদ, ১৯৯৯)</p><h3>ভালো কাজের প্রতিরক্ষা </h3><p>কবরের প্রথম রাতের ভয়ংকর একাকিত্বে মৃত ব্যক্তির একমাত্র আপনজন বা পাহারাদার হিসেবে আবির্ভূত হয় তার দুনিয়ার নেক আমলগুলো। যখন আজাব বা ভীতি তার কাছে আসতে চায়, তখন আমল তাকে শারীরিক রূপ নিয়ে ছায়ার মতো আগলে রাখে।</p><p>যখন মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখা হয়, তখন নামাজ তার মাথার কাছে এসে দাঁড়ায়, রোজা তার ডান পাশে দাঁড়ায়, জাকাত তার বাঁ পাশে এবং তার দান-সদকা ও মানুষের সঙ্গে করা সদাচরণগুলো তার পায়ের কাছে এসে দাঁড়ায়।</p><p>ফেরেশতারা যেদিক থেকেই আসতে চান, আমলগুলো বলে ওঠে—এদিক দিয়ে আসার কোনো পথ নেই। (আল-কুরতুবি, <em>আত-তাজকিরাহ বি-আহওয়ালিল মাওতা ওয়া উমুরিল আখিরাহ,</em> পৃষ্ঠা ১৫৪, মাকতাবাতুল বুখারি, কায়রো, ২০০৮)</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/adkgochcmm">জীবন ও মৃত্যু: পরিপূরক নাকি বিপরীত</a></aside><aside><cite>সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩২২১</cite>তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও এবং সে যেন (জিজ্ঞাসাবাদের সময়) অবিচল থাকতে পারে, সেই দোয়া করো; কারণ এখনই তাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে।</aside><h3>বেহেশতের বাগান অথবা দোজখের গর্ত </h3><p>মুনকার ও নাকিরের তিনটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়ার পর আসমান থেকে এক ঘোষক ঘোষণা দেন, ‘আমার বান্দা সত্য বলেছে।’</p><p>এরপর তার কবরে বেহেশতের বিছানা বিছিয়ে দেওয়া হয় এবং বেহেশতের দিকে একটি দরজা খুলে দেওয়া হয়, যেখান থেকে বেহেশতের সুঘ্রাণ ও প্রশান্তির বাতাস বইতে থাকে। আর যদি উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়, তবে কবরে দোজখের আগুন বিছিয়ে দেওয়া হয়।</p><p>মহানবী (সা.) এই চূড়ান্ত পরিণতির কথা এক বাক্যে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘কবর হলো বেহেশতের বাগানগুলোর মধ্য থেকে একটি বাগান অথবা দোজখের গর্তগুলোর মধ্য থেকে একটি গর্ত।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৪৬০)</p><h3>দাফনের পরপরই জীবিতদের করণীয় </h3><p>কবরের প্রথম রাতের এই কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি যখন মৃত ব্যক্তি হতে থাকেন, তখন কবরের ওপরে থাকা জীবিত মানুষের একটি বড় দায়িত্ব রয়েছে। নবীজির সুন্নত হলো, দাফন শেষ করে দ্রুত চলে না গিয়ে কিছু সময় কবরের পাশে দাঁড়ানো।</p><p>মহানবী (সা.) যখন কোনো মৃত ব্যক্তির দাফন শেষ করতেন, তখন তিনি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে সাহাবিদের বলতেন, ‘তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও এবং সে যেন (জিজ্ঞাসাবাদের সময়) অবিচল থাকতে পারে, সেই দোয়া করো; কারণ এখনই তাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩২২১)</p><p>কবরের জীবন মানুষের চোখের আড়ালে হলেও এটি চিরন্তন সত্য। দুনিয়ার প্রতিটি পদক্ষেপে পরকালের এই প্রথম রাতের প্রস্তুতি নেওয়াই হলো একজন বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ মুমিনের কাজ।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/g0hywv2qqd">কবর সংলগ্ন মসজিদে নামাজ আদায়ের বিধান কী</a></aside>

নভেম্বর ৬, ২০২৬
ব্যাংকের দেউলিয়া হওয়া নিয়ে বিতর্ক, পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট
ব্যাংকের দেউলিয়া হওয়া নিয়ে বিতর্ক, পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট

উয়েনো ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর পর এ সংকট আর বিতর্কের সূত্রপাত। এরইমধ্যে আলোচিক এ ব্যাংকের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

নভেম্বর ৬, ২০২৬
ট্রাম্পের দলের ঐতিহাসিক ভরাডুবির নেপথ্যে
ট্রাম্পের দলের ঐতিহাসিক ভরাডুবির নেপথ্যে

অজনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট ও অজনপ্রিয় যুদ্ধ কীভাবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের সুযোগ করে দিল।

নভেম্বর ৬, ২০২৬
দিনভর অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করার পর মধ্যরাতে সড়কে নেমে ছাত্রীদের বিক্ষোভ
দিনভর অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করার পর মধ্যরাতে সড়কে নেমে ছাত্রীদের বিক্ষোভ

<p>রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ) অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছার পদত্যাগের দাবিতে মধ্যরাতে সড়কে অবস্থান নিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।</p><p>বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার পরে সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা। এরপর রাতের মতো কর্মসূচি শেষ করে রাত আড়াইটার দিকে তাঁরা ক্যাম্পাসে ফিরে যান।</p><p>শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তামান্না ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শুক্রবার সকাল আটটা থেকে আবার কর্মসূচি পালন করবেন তাঁরা। তবে শুক্রবার অনুষ্ঠেয় চাকরির পরীক্ষার সময় তারা আন্দোলন বন্ধ রাখবেন এবং পরীক্ষা শেষে আবার শুরু করবেন। </p><p>এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অধ্যক্ষকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ এসে অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জে দুজন ছাত্রী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।</p><p>এ ঘটনার পর ছাত্রীরা কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। রাত ১২টার পরে গিয়ে দেখা যায়, শতাধিক ছাত্রী সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগ দাবি করছেন তাঁরা।</p><p>এর আগে সকালে কলেজের প্রশাসনিক ভবনে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্রীরা। এ সময় ‘দফা এক দাবি এক, প্রিন্সিপালের পদত্যাগ’ এবং ‘প্রিন্সিপালের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তাঁরা। </p><p>আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পূজার ছুটির আগে কলেজ অডিটোরিয়ামে তিনটি আবাসিক হলের পাঁচ বিভাগের স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি প্রথমে রাত ১০টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে সময় বাড়িয়ে রাত ১২টা পর্যন্ত করা হয়। তবে অনুষ্ঠান শেষ হতে ভোর ৫টা বেজে যায়।</p><p>নির্ধারিত সময়ের পরও অডিটোরিয়াম ব্যবহার করায় অনুষ্ঠানের সমন্বয়কারী দুই শিক্ষার্থীর আবাসিক হলের আসন বাতিল করেন অধ্যক্ষ মেহেরুন্নেছা। পরে ওই শিক্ষার্থীরা ক্ষমা চাইতে গেলে আসন ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে তাঁদের কাছ থেকে এক রাতের অডিটোরিয়ামের এসি ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা চাওয়া হয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-05/i9q2fhyy/Home_Economics_01.jpg"><figcaption>অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন ছাত্রীরা। বৃহস্পতিবার বিকেলের চিত্র</figcaption></figure><p>কলেজের স্নাতকোত্তরের প্রথম পর্বের শিক্ষার্থী তাবাসসুম সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুইটা স্টুডেন্টের সিট অযৌক্তিকভাবে বাতিল করার কারণেই এই আন্দোলন। আমরা ম্যাডামের কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইলে ম্যাডাম বলেন, আমাদের স্যরি অ্যাকসেপ্ট করেছেন এবং শাস্তিস্বরূপ এক রাতের অডিটোরিয়ামের বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা দিতে হবে। আমাদের স্টুডেন্টদের পক্ষে এই টাকা দেওয়া সম্ভব না।’</p><p>অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় সন্ধ্যায় অধ্যক্ষ মেহেরুন্নেছা সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যা বলছে, তা টোটালি ঘটনার বিপরীত। আমি ওদের একটা অনুষ্ঠান করার অনুমতি দিয়েছিলাম রাত ১২টা পর্যন্ত। ওরা ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান করেছে। অনুষ্ঠান করার প্রেক্ষিতে আমি একটু রেগে গিয়ে ওদের দুইজনের আসন বাতিল করে দিয়েছি। পরবর্তীতে ওরা আমার কাছে মাফ চেয়েছে। আমি একটু নমনীয় হয়ে বলেছি, যেহেতু কোনো ডিসিপ্লিন মেইনটেইন করে নাই, ভবিষ্যতে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য শাস্তির আওতায় আসতে হবে। ওরা লংটাইম বিদ্যুৎ অপচয় করছে, এই বিলটা ওদের কাছ থেকে আমি নিব। এই জরিমানার নোটিশ আমি দিয়েছি, এটাই আমার অপরাধ।’</p><p>অধ্যক্ষ বলেন, ‘তারা সাদা কাগজে আমাকে পদত্যাগের স্বাক্ষর করতে বলছে। আমি কেন তাদের কাছে পদত্যাগ করব?’</p><p>এরপরও অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ চালিয়ে যান ছাত্রীরা। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ গিয়ে তাঁকে বের করে আনে। সে সময় পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার প্রথম আলোকে বলেন, অধ্যক্ষ নিরাপদে আছেন। কলেজের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করা ছাত্রীদের কলেজ ক্যাম্পাসে চলে যেতে বলা হয়েছে।</p><p>তবে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ দুই গাড়ি পুলিশ ক্যাম্পাসের ভেতর এনে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিপেটা করিয়েছেন। তাতে দুজন শিক্ষার্থী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এ ঘটনার পর অধ্যক্ষের পদত্যাগ ছাড়া তাঁরা আন্দোলন থামাবেন না। এরপর বিক্ষোভ করতে থাকেন ছাত্রীরা।</p><p>বিক্ষোভ চলার মধ্যে রাত পৌনে একটার দিকে কয়েকটি দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। তার মধ্যে রয়েছে ক্যাম্পাসের ভেতরে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিপেটা করা পুলিশ সদস্যদের শোকজ করতে হবে, অধ্যক্ষের পদত্যাগের লিখিত পত্র না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে এবং যেসব শিক্ষক ও কর্মচারী এই হামলাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাঁদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করতে হবে।</p>

নভেম্বর ৬, ২০২৬
রোনালদোর ২৩ বছরের কীর্তি মাপবেন কী দিয়ে
রোনালদোর ২৩ বছরের কীর্তি মাপবেন কী দিয়ে

<p>কিছু বিদায় আসে একটু পরে, কিন্তু বিদায়ের আভাস মেলে অনেক আগেই।</p><p> একটা মানুষ তখনো মাঠে নামেন, গোল করেন, জয়ের পর দুই হাত ছড়িয়ে উদ্‌যাপন করেন। গ্যালারি থেকে তাঁর নামে চিৎকার ওঠে। কিন্তু কোথাও একটা সময়ের শেষ হয়ে আসার শব্দ বাজতে থাকে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল-জীবনেও হয়তো সেই শব্দটা অনেক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল। এবার নিজেই জানিয়ে দিলেন, জাতীয় দলের ৭ নম্বর জার্সিটা ফিরিয়ে দেওয়ার সময় হয়েছে।</p><p> একটা জার্সির সঙ্গে কত স্মৃতি জমা হতে পারে? কত আনন্দ, কত কান্না, কত অপেক্ষা! ২৩ বছর ধরে পর্তুগালের জার্সি গায়ে রোনালদো এসবের সব কটিই দেখেছেন। কিশোর বয়সে যে ছেলেটি জাতীয় দলে এসেছিলেন, তিনি একদিন হয়ে উঠেছেন দেশের সবচেয়ে বড় ফুটবল তারকা। তাঁর পায়ের জাদুতে পর্তুগাল যেমন আনন্দে ভেসেছে, তেমনি তাঁর চোখের জলও দেখেছে পুরো বিশ্ব।</p><p> ২০০৩ সালের ২০ আগস্ট কাজাখস্তানের বিপক্ষে পর্তুগালের হয়ে অভিষেক হয়েছিল ১৮ বছর বয়সী রোনালদোর। তখনো তিনি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো হয়ে ওঠেননি। ছিলেন সম্ভাবনাময় এক তরুণ, যাঁর চোখে বড় হওয়ার স্বপ্ন। পরের বছরই ঘরের মাঠে ইউরোতে সেই তরুণের প্রথম বড় পরীক্ষা। গ্রিসের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে গোল করলেন। সেমিফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গোল করে দলকে ফাইনালেও তুললেন। কিন্তু ফাইনালে আবার সেই গ্রিস। ১-০ গোলে হেরে গেল পর্তুগাল। ম্যাচ শেষে কিশোর রোনালদোর চোখের জল দেখে সেদিন অনেকেই বুঝেছিলেন, তাঁর কাছে দেশের জার্সির অর্থ কতটা।</p><p>সেই কান্নার পরও পথটা সহজ হয়নি। ২০০৬ বিশ্বকাপে পর্তুগাল উঠেছিল সেমিফাইনালে। শেষ পর্যন্ত চতুর্থ হয়ে ফিরতে হয়েছিল। ২০০৮ ইউরোতে বিদায় কোয়ার্টার ফাইনালে। ২০১০ বিশ্বকাপে শেষ ষোলো, ২০১২ ইউরোতে সেমিফাইনাল। একের পর এক টুর্নামেন্টে রোনালদো বড় তারকা হয়ে উঠেছেন, গোল করেছেন, রেকর্ড গড়েছেন। কিন্তু দেশের হয়ে বড় শিরোপা তখনো অধরা।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-05/ppx00nv7/2026-06-23T170749Z748151363UP1EM6N1BL03BRTRMADP3SOCCER-WORLDCUP-POR-UZB.JPG"><figcaption>২০২৬ বিশ্বকাপে রোনালদোর চিরচেনা গোল উদ্‌যাপন</figcaption></figure><p>এর মধ্যে বদলে গেছে তাঁর পরিচয়ও। একসময় লুইস ফিগোদের পাশে দাঁড়ানো তরুণ রোনালদো হয়ে উঠেছেন পর্তুগালের অধিনায়ক। দলের আশা–ভরসা, সবচেয়ে বড় নাম। তাঁর ওপর প্রত্যাশার ভারও বেড়েছে। ২০১৪ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় সেই ভার আরও বাড়িয়েছিল। ২০১৬ ইউরোতে তাই পর্তুগালের সামনে ছিল বহু বছরের অপেক্ষা শেষ করার সুযোগ।</p><p>ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনাল। কিন্তু ম্যাচের ২৫ মিনিটের মাথায় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হলো অধিনায়ককে। সাইডলাইনে বসে সতীর্থদের জন্য চিৎকার করছিলেন তিনি। কখনো উঠে দাঁড়াচ্ছেন, কখনো হাত নেড়ে নির্দেশ দিচ্ছেন। মাঠে খেলতে না পারলেও দলকে ছেড়ে যাননি। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে এদেরের গোলে ফ্রান্সকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ইউরো চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল। রোনালদোর চোখে তখন আনন্দের জল। ১২ বছর আগে যে ছেলেটি ইউরোর ফাইনালে হেরে কেঁদেছিলেন, সেদিন সেই তিনিই দেশের প্রথম বড় শিরোপা জয়ের আনন্দে কাঁদলেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/7hy20eniwd">আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন রোনালদো </a></aside><p>সেই রাত যেন রোনালদোর পর্তুগাল-জীবনের সবচেয়ে বড় উত্তর। তবে গল্পটা সেখানেই শেষ হয়নি। ২০১৯ সালে নেশনস লিগের ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে আরেকটি শিরোপা জেতে পর্তুগাল। ২০২৫ সালে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান রোনালদো। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে জেতে পর্তুগাল। বয়স তখন তাঁর ৪০ পেরিয়েছে। তবু দেশের জার্সিতে গোল করার ক্ষুধা কমেনি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-05/zhor8hk2/Ronaldo_AFP.jpg"><figcaption>ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো</figcaption></figure><p>বিশ্বকাপের গল্পটা অবশ্য অন্য রকম। ছয়টি বিশ্বকাপে খেলেছেন রোনালদো। ২০০৬ সালে সেমিফাইনাল পর্যন্ত গেলেও আর কখনো ফাইনালে ওঠা হয়নি। ২০১০ ও ২০১৮ সালে শেষ ষোলো থেকে বিদায়, ২০১৪ সালে গ্রুপ পর্বেই শেষ, ২০২২ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল। ২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই অপূর্ণতা ঘোচেনি। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বোচ্চ ১৪ গোল, আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড, ছয়টি বিশ্বকাপে খেলার ইতিহাস, সবই তাঁর। কিন্তু বিশ্বকাপ হাতে তোলার ছবিটি আর পাওয়া হলো না।</p><p>রোনালদোর পর্তুগাল-জীবনে শেষের দিকটাও ছিল কিছুটা অস্বস্তির। কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন, দলে নিজের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ, সতীর্থদের সঙ্গে মাঠে ও মাঠের বাইরে কিছু মুহূর্ত, এসব আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে কোচের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু এসব দিয়ে ২৩ বছরের গল্পকে মাপা যায় না। একটি দীর্ঘ ক্যারিয়ারের শেষ দিকে এসে সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকতে পারে। তাতে মুছে যায় না দেশের হয়ে তাঁর দেওয়া অসংখ্য আনন্দের মুহূর্ত।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/jt200gx4t7">একটি দৃশ্য আমি সারা জীবন সঙ্গে নিয়ে যাব—বিদায়ী বক্তব্যে রোনালদো</a></aside><p>ইনস্টাগ্রামে দেওয়া ভিডিও ও চিঠিতে রোনালদো লিখেছেন, ‘জাতীয় দলের ৭ নম্বর জার্সিটি ফিরিয়ে দেওয়ার দিন এসে গেছে। কখনো ভাবিনি, জার্সিটি শুধু আমারই। তবে ২৩ বছর ধরে এটি পরার সৌভাগ্য ও দায়িত্ব দুটিই পেয়েছি।’ কথাগুলোয় যেন লুকিয়ে আছে একটি পুরো জীবন। যে জার্সি গায়ে প্রথম মাঠে নেমেছিলেন, সেই জার্সিই একদিন ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। মাঝখানে কতগুলো বছর, কতগুলো ম্যাচ, কতগুলো গোল, কতগুলো রাত!</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-05/60wra8n2/13.-2026-11-05T105337Z1461695701RC2OHBAPXWFCRTRMADP3SOCCER-RONALDO-1.JPG"><figcaption>পর্তুগালের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করেছেন রোনালদো</figcaption></figure><p>পর্তুগালের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করেছেন রোনালদো। পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার এবং সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড তাঁর। সংখ্যাগুলো একদিন হয়তো আরও পুরোনো হবে। কেউ হয়তো গোলের রেকর্ড ভাঙবেন, ম্যাচের রেকর্ডও পেরিয়ে যাবেন। কিন্তু পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসে রোনালদোর জায়গাটা শুধু সংখ্যায় লেখা থাকবে না।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/bar0k659ew">সবচেয়ে বেশি ম্যাচ, সবচেয়ে বেশি গোল—আন্তর্জাতিক ফুটবলে রোনালদোর আরও রেকর্ড</a></aside><p>কারণ, তিনি শুধু গোল করেননি। এক প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন। যে দেশ ২০০৪ সালে ঘরের মাঠে ইউরোর ফাইনালে হেরেছিল, সেই দেশকে ১২ বছর পর ইউরোপের সেরা হতে দেখেছেন। যে ছেলেটি একদিন কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছেড়েছিলেন, তিনি একদিন পর্তুগালের হাতে তুলে দিয়েছেন দেশের ইতিহাসের প্রথম ইউরো ট্রফি। তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে একটি দেশের ফুটবল-আবেগ, প্রাপ্তি আর অপেক্ষার গল্প।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-05/0b4pezix/821012_01_02.jpg"><figcaption>২০২৬ বিশ্বকাপে পর্তুগাল বাদ পড়ার পর কাঁদছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো</figcaption></figure><p>এখন থেকে পর্তুগালের মাঠে ৭ নম্বর জার্সি গায়ে অন্য কেউ নামবেন। গোল হলে গ্যালারি আবারও উল্লাস করবে। নতুন কোনো তারকা জন্ম নেবেন। কিন্তু গোলের পর দুই হাত ছড়িয়ে দাঁড়ানো সেই মানুষটিকে আর দেখা যাবে না। পর্তুগালের জার্সিতে তাঁর দৌড় থামবে, গোল থামবে, উদ্‌যাপনও থামবে। শুধু থেকে যাবে ২৩ বছরের স্মৃতি।</p><p>কিছু জার্সি শুধু শরীরে পরা হয় না, হয়ে ওঠে একটি দেশের পরিচয়। পর্তুগালের ৭ নম্বর জার্সিটি তেমনই। রোনালদো জার্সিটি ফিরিয়ে দিচ্ছেন, কিন্তু জার্সির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষটিকে কি আর ফিরিয়ে দেওয়া যায়?</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/ks2j2wqmwq">রোনালদোর উত্থান, অর্জন ও বিদায়: ১৫ ছবিতে এক কিংবদন্তির গল্প</a></aside>

নভেম্বর ৫, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।