নোবিপ্রবিতে এআই ও ডেটা সায়েন্স ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা সায়েন্স ও হাই পারফরম্যান্স কম্পিউটিংয়ে গবেষণার সুযোগ বাড়াতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) আধুনিক গবেষণাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে পীরগঞ্জ পৌরভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করছিলেন ১৩ শ্রমিক। বিকেল ৫টার দিকে হঠাৎ ছাদ ঢালাইয়ের জন্য তৈরি অস্থায়ী কাঠামো (সাটারিং) ভেঙে পড়ে। এতে কয়েকজন শ্রমিক তার নিচে চাপা পড়েন। খবর পেয়ে পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় উদ্ধারকাজ শুরু করে
হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।
ভারতের প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (আইসা) এর সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরার জানিয়েছেন, দেশটিতে ছড়িয়ে পড়া তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনে বাংলাদেশ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার পক্ষে ইউক্রেন যুদ্ধ অংশ নিয়ে সেনা মোতায়েনের দক্ষতা অর্জন করেছে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন ফোর্সেস কোরিয়ার কমান্ডার জেনারেল জেভিয়ার ব্রুনসন।
কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
কক্সবাজারের চকরিয়ায় অস্থায়ী চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে মোটরসাইকেলের চাকার ভেতর থেকে ১৭ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পাবনার সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নে সুমন হোসেন (৩২) নামে এক মাদকাসক্ত যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও খুঁচিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন আটকে রেখে এক নারীকে ধর্ষণের মামলায় এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল।
শেরপুরে নিখোঁজের প্রায় ২৬ ঘণ্টা পর নদী থেকে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
একটি সম্পর্কে ঝগড়া কম হলেই কি দুজন মানুষ সুখী? সম্পর্ক ভালো রাখতে ভালোবাসার পাশাপাশি সঙ্গীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাও জরুরি।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। একই সঙ্গে রূপার দামও কিছুটা কমানো হয়েছে।
চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।
প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবার দেশের স্কুল পর্যায়ে রোবটিক্স শিক্ষা চালু করতে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শতাধিক স্কুলে এ পাঠ্যক্রম চালু করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষায় “ভূমিকা ভিত্তিক রোবটিক্স” শীর্ষক একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করা হয়েছে। এতে থাকবে সহজ প্রোগ্রামিং, সেন্সর ব্যবহার, অটোমেশন ধারণা, এবং ছোটখাটো রোবট তৈরি ও পরিচালনার হাতে-কলমে শিক্ষা। ভবিষ্যতের কর্মদক্ষতা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক হাফিজুর রহমান বলেন, “বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রযুক্তি-ভিত্তিক দক্ষতা সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন। আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্যই এই প্রস্তুতি।” তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে যাতে তারা ক্লাসে রোবটিক্স বিষয়টি সহজভাবে তুলে ধরতে পারেন। শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে ইতোমধ্যে কিছু বেসরকারি স্কুল পরীক্ষামূলকভাবে রোবটিক্স ক্লাব পরিচালনা করছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর একটি স্কুলের শিক্ষার্থী সানজিদা রহমান জানায়, “আমরা নিজেরাই ছোট একটি রোবট বানিয়েছি, সেটি চলতে পারে এবং নির্দেশ মানতে পারে—এটা ভীষণ রোমাঞ্চকর।” কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে দেশীয় স্টার্টআপ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে একাধিক দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। ‘টেকল্যাবস বাংলাদেশ’ নামের একটি স্টার্টআপ ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্কুলে লো-কোস্ট রোবটিক্স কিট সরবরাহ শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মত প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রাথমিক স্তরে রোবটিক্স শিক্ষা ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেকাট্রনিক্স এবং অটোমেশন সেক্টরে দক্ষ কর্মশক্তি গড়ার ভিত্তি তৈরি করবে।
শহুরে জীবনে গ্রিন লাইফস্টাইল: চাইলেই কি সম্ভব? শহর মানেই ব্যস্ততা, কংক্রিটের জঙ্গল, দূষিত বাতাস, এবং অনিয়ন্ত্রিত শব্দ। এই যান্ত্রিক পরিবেশে বসবাস করা মানুষ প্রতিদিন একটু সবুজ, একটু প্রশান্তি খোঁজে। তাই ‘গ্রিন লাইফস্টাইল’ বা পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের ধারণা শহরের মানুষদের মাঝেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই শহুরে বাস্তবতায় আমরা কি সত্যিই গ্রিন লাইফস্টাইল মেনে চলতে পারি? গ্রিন লাইফস্টাইল মানে শুধু গাছ লাগানো নয়। এটি একটি সামগ্রিক জীবনধারা, যেখানে প্রকৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে সহাবস্থানের চেষ্টা থাকে। যেমন—প্লাস্টিক ব্যবহার না করা, পুনর্ব্যবহারযোগ্য জিনিস ব্যবহার করা, গাছ লাগানো, অর্গানিক খাবার খাওয়া, কম দূষণ হয় এমন বাহনে চলাচল করা, বিদ্যুৎ ও পানি সাশ্রয় করা, এমনকি নিজস্ব ছাদে সবজি চাষ করাও এর অংশ হতে পারে। কিন্তু শহরে এই সবকিছু কি সহজে করা যায়? উত্তরটা একদম সরল নয়। শহরের বাসিন্দাদের জন্য অনেক সময় জায়গার অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফ্ল্যাটে থাকলে ছাদে বাগান করা যায় না, রান্নার সময় প্লাস্টিক প্যাকেট এড়ানোও কঠিন হয়ে পড়ে কারণ বাজারে সহজলভ্য জিনিসপত্রের বেশিরভাগই প্লাস্টিক মোড়ানো। তাছাড়া, ব্যস্ত জীবনযাপনের কারণে সময় বের করাও কঠিন হয়ে পড়ে। তবে আশার কথা হলো, ইচ্ছা থাকলে উপায় বের করা যায়। শহুরে জীবনে কিছু ছোট ছোট অভ্যাস বদলেই শুরু করা যায় সবুজ যাত্রা। যেমন ধরুন, কেউ যদি বাজারের ব্যাগ হিসেবে কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করেন, বা পানির বোতল বারবার রিফিল করেন, তবুও তিনি পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখছেন। অফিসে যাওয়ার সময় যদি বাস বা সাইকেল ব্যবহার করা যায়, তাহলেও কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমে। অনেক শহরেই এখন কমিউনিটি গার্ডেন, ছাদ কৃষি, সোলার প্যানেল স্থাপন, কিংবা জিরো ওয়েস্ট মুভমেন্ট জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। মানুষ নিজেরাই উদ্যোগ নিচ্ছে। ঢাকার মতো ব্যস্ত শহরেও অনেকে নিজেদের ব্যালকনিতে টব বসিয়ে ছোট পরিসরে সবজি ফলাচ্ছেন, কেউ আবার সোলার লাইট ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করছেন। তবে এই চর্চা টেকসই করতে হলে প্রয়োজন নীতিনির্ধারকদের সহায়তা। শহরের পরিকল্পনায় আরও বেশি সবুজ এলাকা, হাঁটার রাস্তা, বাইসাইকেল লেন, এবং রিসাইক্লিং ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি জরুরি। সরকার যদি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে ভর্তুকি দেয় বা সচেতনতা বাড়ায়, তাহলে মানুষ আরও সহজে গ্রিন লাইফস্টাইল গ্রহণ করতে পারবে। শহুরে জীবন যতই ব্যস্ত হোক না কেন, যদি সচেতনতা থাকে এবং ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে ‘গ্রিন লাইফস্টাইল’ একেবারেই অসম্ভব নয়। বরং, এটি হতে পারে একটি শান্ত, স্বাস্থ্যকর এবং টেকসই জীবনের সূচনা। আমাদের সবারই উচিত নিজ নিজ জায়গা থেকে যতটুকু সম্ভব, পরিবেশবান্ধব পন্থায় জীবনযাপন করার চেষ্টা করা। কারণ প্রকৃতি বাঁচলেই আমরা বাঁচব—এই সত্যটা আজ আরও বাস্তব হয়ে উঠেছে।
সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি কিনতে পারছেন না বলে দাবি ডিলারদের
<p>শারদীয় দুর্গাপূজা নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপনের লক্ষ্যে আয়োজক ও দর্শনার্থীদের জন্য একগুচ্ছ পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। এসব পরামর্শের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তথ্য যাচাই না করে শেয়ার না করা, পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা ও অগ্নিনির্বাপণযন্ত্র স্থাপন এবং প্রতিমা বিসর্জনে নির্ধারিত পথ অনুসরণ করার বিষয় রয়েছে।</p><p> আজ বুধবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো ঘটনার সত্যতা যাচাই না করে লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এতে গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর ঝুঁকি কমবে।</p><p>এ ছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে পূজামণ্ডপে নারী ও পুরুষ দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য আলাদা পথ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মণ্ডপে ব্যাগ, থলে বা পোটলা নিয়ে প্রবেশ না করতেও বলা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা ও অগ্নিনির্বাপণযন্ত্র স্থাপন, গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে আর্চওয়ে গেট বসানো এবং মণ্ডপ ও প্রতিমা বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে। সম্ভব হলে স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর বা চার্জার লাইটের ব্যবস্থাও রাখতে হবে।</p><p>এ ছাড়া মণ্ডপের নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য আলাদা পোশাক, দৃশ্যমান পরিচয়পত্র ও ‘স্বেচ্ছাসেবক’ লেখা আর্মব্যান্ড নিশ্চিত করতে আয়োজকদের পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।</p><h3>সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান </h3><p>পূজা উদ্যাপনের সময় অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। বিশেষ করে আজান ও নামাজের সময় মসজিদের পার্শ্ববর্তী পূজামণ্ডপে এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময় শব্দযন্ত্রের ব্যবহার সীমিত রাখতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের আতশবাজি ও পটকা ফোটানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।</p><p>যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রতিমা বিসর্জনের সময় নির্ধারিত পথ অনুসরণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্ধারিত স্থানেই বিসর্জন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।</p><h3>জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগ </h3><p>পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য কয়েকটি নম্বর দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো— পুলিশ সদর দপ্তর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ: ০২২২৩৩৮০৬৬১, ০২২২৩৩৮১৯৬৭, ০১৩২০০০১২৯৯, ০১৩২০০০১৩০০; ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি): ০২২২৩৩৫৫৫০০, ০১৮১৭৬০২০৫০; ঢাকেশ্বরী মন্দির কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ: ০২৯৬১১৩৫৩, ০১৭০৫৫০৫৫২৯; ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষ: ০২২২৩৩৫৫৫৫৫, ০১৭১৩০৩৮১৮১, ০১৭১৩০৩৮১৮২, ০১৭৩০৩৩৬৬৯৯।</p><p>এ ছাড়া যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে ২৪ ঘণ্টা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে বিনা মূল্যে ফোন করে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা পাওয়া যাবে। জেলা পুলিশ সুপার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নম্বর জানতে বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইট দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।</p>
<p>পুলিশ ও ড্রোন এবং রাজনৈতিক দলের নেতা–কর্মীদের কড়া পাহারায় সারা দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় দুর্গাপূজা আয়োজনের ঘটনাকে ‘দুঃখ ও দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। তারা বলেছে, এর মধ্য দিয়ে সংখ্যালঘু পূজার্থী জনগণের ধর্মীয় স্বাধীনতা যেমন সংকুচিত হচ্ছে, অন্যদিকে বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তিও নিদারুণ প্রশ্নের মুখে পড়ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।</p><p>আজ বুধবার ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্গাপূজার দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, সাম্প্রদায়িক দুর্বৃত্তদের ঘৃণ্য তৎপরতা ততই বাড়ছে। গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের আংশিক চালচিত্র থেকে দেখা যায়, হত্যার ঘটনা ঘটেছে ১৬টি; ধর্ষণ/শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে ৪টি; মন্দিরে হামলা ও লুটপাট, জায়গা দখল ও বিগ্রহ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে ৩৬টি।</p><p>এ ছাড়া কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে উল্লেখ করে ঐক্য পরিষদ বিবৃতিতে বলেছে, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে সাতটি। বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে ১১টি। হামলা, ছিনতাই, ডাকাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে ২৬টি। জমি/সম্পত্তি দখলের ঘটনা ঘটেছে ১৪টি। অপহরণ, হত্যার হুমকি ও হয়রানির ঘটনা ঘটেছে ৩টি। চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে ৪টি ও অন্যান্য ঘটনা ১৪টি।</p><p>১২ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে স্থাপিত মন্দিরের ইট ব্যবহার করে সে মন্দিরের সামনে গরুর মাংসের খিচুড়ি রান্না করে দুষ্টচক্র সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলেও উল্লেখ করেছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। তারা বলেছে, বিষয়টি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতে হেনেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য প্রচার অব্যাহত রয়েছে। প্রচারের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে। এসব ঘটনায় কাউকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় না আনায় দুর্বৃত্তরা অধিকতর উৎসাহী হয়ে ঘৃণ্য অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।</p>
<p>রাতে সাত-আট ঘণ্টা ঘুমানোর পরও সকালে বিছানা ছাড়তে ইচ্ছা করে না অনেকের। চোখ খুললেও মনে হয়, শরীর যেন ভারী হয়ে আছে। মাথা ঝিমঝিম করে, কাজে মন বসে না। এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। অথচ ঘুম হয়েছে প্রায় সাত-আট ঘণ্টা। সময়টা তো কম হয়নি। তাহলে সমস্যা কোথায়? পর্যাপ্ত ঘুমের পরও এই ক্লান্তির কারণ কী? এর উত্তর লুকিয়ে থাকতে পারে আপনার ঘুমের গভীরতা, শারীরিক অসুস্থতা কিংবা প্রতিদিনের কিছু অভ্যাসের মধ্যে। চলুন দেখে নেওয়া যাক।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/p2qnkml1lj">বিকেলে ঘুম থেকে উঠলেই বিষণ্ণ লাগে কেন</a></aside><blockquote>রেস্টলেস লেগস সিনড্রোমে বিশ্রামের সময় পায়ে অস্বস্তিকর অনুভূতি হয়। পা নাড়াচড়া করলে তা কিছুটা কমে। ফলে বারবার ঘুম ভেঙে যেতে পারে।</blockquote><h2><strong>ঘুমের সঙ্গে সুস্থতার সম্পর্ক</strong></h2><p>ঘুমের সঙ্গে শরীরের সুস্থতার সম্পর্ক বেশ গভীর। এ সময় শরীর বিশ্রাম নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়াও পরিচালনা করে। মস্তিষ্ক সারা দিনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি গুছিয়ে নেওয়ার কাজ করে। কিন্তু ঘুমের সময় যথেষ্ট হলেও ঘুম যদি বারবার ভেঙে যায়, তাহলে সকালে উঠে ক্লান্তি অনুভব করাটাই স্বাভাবিক। আসলে কতক্ষণ ঘুম হলো, সেটাই বড় কথা নয়; ঘুম কতটা নির্বিঘ্ন হলো, সেটাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।</p><h2><strong>স্লিপ অ্যাপনিয়া ও অন্যান্য ব্যাধি</strong></h2><p>পর্যাপ্ত ঘুমের পরও ক্লান্ত লাগার একটি কারণ হতে পারে স্লিপ অ্যাপনিয়া। এটি এমন একধরনের ঘুমের অসুখ, যেখানে ঘুমের মধ্যে বারবার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে অথবা শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা তৈরি হয়। ফলে মস্তিষ্ক শরীরকে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে সাহায্য করার জন্য বারবার ঘুমের গভীরতা কমিয়ে দেয়। অনেক সময় আক্রান্ত ব্যক্তি পুরোপুরি জেগে ওঠেন না। এমনকি রাতের এসব ঘটনার কথা তাঁর মনেও থাকে না। কিন্তু এতে ঘুমের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও ক্লান্তি অনুভূত হয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/blotr8fn/68dbdc87595bf2136c1a26eaGroup-2.jpg"><figcaption>স্লিপ অ্যাপনিয়া এমন এক ধরনের ঘুমের অসুখ, যেখানে ঘুমের মধ্যে বারবার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে অথবা শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা তৈরি হয়</figcaption></figure><p>ঘুমের আরও বেশ কিছু সমস্যাও একই ধরনের উপসর্গ তৈরি করে। যেমন অনিদ্রা বা ইনসমনিয়া, রেস্টলেস লেগস সিনড্রোম এবং নারকোলেপসি। রেস্টলেস লেগস সিনড্রোমে বিশ্রামের সময় পায়ে অস্বস্তিকর অনুভূতি হয়। পা নাড়াচড়া করলে তা কিছুটা কমে। ফলে বারবার ঘুম ভেঙে যেতে পারে। অন্যদিকে নারকোলেপসিতে দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব দেখা দেয়।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/cause/ly7h5rawqs">শিশুদের পর্যাপ্ত ঘুম কেন দরকার</a></aside><blockquote>ঘুমের সময় যথেষ্ট হলেও ঘুম যদি বারবার ভেঙে যায়, তাহলে সকালে উঠে ক্লান্তি অনুভব করাটাই স্বাভাবিক। আসলে কতক্ষণ ঘুম হলো, সেটাই বড় কথা নয়; ঘুম কতটা নির্বিঘ্ন হলো, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।</blockquote><h2><strong>শারীরিক সমস্যা ও পুষ্টির অভাব</strong></h2><p>ঘুমের ঘাটতি ছাড়াও শরীরের কিছু সমস্যার কারণে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতায় সমস্যা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, আয়রনের ঘাটতি কিংবা কিছু ভিটামিনের অভাব এর পেছনে দায়ী হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার কারণেও ঘুম থেকে ওঠার পর ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার, ক্লান্তি মানেই যে শরীরে কোনো নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদানের অভাব রয়েছে, তা কিন্তু নয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/rjhwk6c5/sleepy_woman_tired.jpg"><figcaption>দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার কারণেও ঘুম থেকে ওঠার পর ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে</figcaption></figure><p>একই উপসর্গের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। তাই নিজের অনুমানের ওপর ভিত্তি করে আয়রন বা ভিটামিনের ওষুধ খাওয়ার পরিবর্তে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। চিকিৎসক উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে রক্ত পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারেন।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/pbyyyisz1f">৪৫ মিনিটের ঘুম মস্তিষ্কের শেখার ক্ষমতা বাড়ায়</a></aside><blockquote>দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার কারণেও ঘুম থেকে ওঠার পর ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার, ক্লান্তি মানেই যে শরীরে কোনো নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদানের অভাব রয়েছে, তা কিন্তু নয়।</blockquote><h2><strong>ঘুমের পরিবেশ ও মেলাটোনিন হরমোন</strong></h2><p>ঘুমের পরিবেশকে আমরা অনেক সময় গুরুত্ব দিই না। অথচ পরিপূর্ণ ঘুমের জন্য ঘরের আলো, শব্দ ও তাপমাত্রা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত গরম ঘর, রাস্তার যানবাহনের শব্দ কিংবা জানালা দিয়ে আসা তীব্র আলো ঘুমের মধ্যে বারবার ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। আলোর সঙ্গে ঘুমের সম্পর্ক আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের শরীরের জৈবিক ঘড়ি আলো-অন্ধকারের সংকেত অনুসরণ করে। অন্ধকার বাড়লে মস্তিষ্কে মেলাটোনিন নিঃসরণের সংকেত তৈরি হয়। মেলাটোনিন মূলত একধরনের হরমোন, যা আমাদের ঘুমের প্রস্তুতিতে সাহায্য করে। রাতে উজ্জ্বল আলো মেলাটোনিনের এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাধা তৈরি করতে পারে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2024-08-09/2m8rs7y0/pexels-cottonbro-6940872.jpg"><figcaption>নিয়মিত বিছানায় ফোন ব্যবহার করলে বিছানার সঙ্গে ঘুমের বদলে জেগে থাকার অভ্যাসই তৈরি হয়</figcaption></figure><p>বিছানায় শুয়ে দীর্ঘ সময় ফোন চালানোর অভ্যাসও ঘুমের ক্ষতির আরেকটি বড় কারণ। শুধু ফোনের স্ক্রিনের আলোই নয়; বরং ভিডিও দেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করা কিংবা বারবার নতুন কিছু দেখার আগ্রহ ঘুমানোর সময় কমিয়ে দেয়। নিয়মিত বিছানায় ফোন ব্যবহার করলে বিছানার সঙ্গে ঘুমের বদলে জেগে থাকার অভ্যাসই তৈরি হয়। তাই ঘুমানোর আগে ফোন সরিয়ে রাখা এবং শোবার ঘর যথাসম্ভব অন্ধকার, নীরব ও আরামদায়ক রাখা জরুরি।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/lvi2cc7sje">নিজের নাক ডাকার শব্দে নিজের ঘুম ভাঙে না কেন</a></aside><blockquote>মেলাটোনিন মূলত একধরনের হরমোন, যা আমাদের ঘুমের প্রস্তুতিতে সাহায্য করে। রাতে উজ্জ্বল আলো মেলাটোনিনের এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাধা তৈরি করতে পারে।</blockquote><h2><strong>খাদ্যাভ্যাস ও ক্যাফেইনের প্রভাব</strong></h2><p>রাতে কী খাচ্ছি এবং কখন খাচ্ছি, সেটিও ঘুমের মানের সঙ্গে সম্পর্কিত। ঘুমানোর ঠিক আগে অতিরিক্ত খাবার খেলে হজমের অস্বস্তি বা বুকজ্বালার কারণে ঘুম ব্যাহত হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যেতে হবে। ঘুমানোর কাছাকাছি সময়ে ভারী খাবার এড়িয়ে চলা ভালো।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2023-10/8cd3db6b-6e7f-4b9b-988f-7252cefe7d98/pexels_karolina_grabowska_6660116.jpg"><figcaption>ঘুমানোর ঠিক আগে অতিরিক্ত খাবার খেলে হজমের অস্বস্তি বা বুকজ্বালার কারণে ঘুম ব্যাহত হতে পারে</figcaption></figure><p>ভালো ঘুমের ক্ষেত্রে ক্যাফেইনের প্রভাবও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। চা, কফি ও কিছু কোমল পানীয়তে থাকা ক্যাফেইন মস্তিষ্কে ঘুমের সংকেত তৈরির প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। কেউ কেউ দাবি করেন, কফি খেয়েও তাঁদের খুব সহজেই ঘুম চলে আসে। কিন্তু দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে পারা আর ভালো মানের ঘুম হওয়া এক বিষয় নয়। ক্যাফেইন ঘুমের গভীরতা ও স্বাভাবিক ধারাবাহিকতায় প্রভাব ফেলে। তাই বিকেল বা সন্ধ্যার পর চা-কফি কমিয়ে দেওয়াই ভালো।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/cause/t5pvifn024">রাতে টিভি দেখলে কি ঘুম কমে যায়</a></aside><blockquote>ভালো ঘুমের ক্ষেত্রে ক্যাফেইনের প্রভাবও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। চা, কফি ও কিছু কোমল পানীয়তে থাকা ক্যাফেইন মস্তিষ্কে ঘুমের সংকেত তৈরির প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।</blockquote><h2><strong>মানসিক চাপ ও উদ্বেগ</strong></h2><p>পরীক্ষার চাপ, কাজের চিন্তা, সম্পর্কের জটিলতা কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ—সারা দিনের এসব অভিজ্ঞতা রাতেও মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। শরীর বিছানায় থাকলেও মন তখন নানা চিন্তায় ব্যস্ত থাকে। উদ্বেগের কারণে মস্তিষ্ক থাকে অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থায়। ফলে সহজে ঘুমিয়ে পড়া এবং গভীর ঘুম ধরে রাখার পথে তা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ছাড়াও বিষণ্নতা ও বাইপোলার ডিজঅর্ডারের মতো মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যার সঙ্গে ঘুমের পরিবর্তন ও ক্লান্তির সম্পর্ক রয়েছে। তাই ঘুমের সমস্যা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে মানসিক সুস্থতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।</p><p>সাধারণভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য রাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম উপযোগী। তবে সবার ঘুমের চাহিদা এক নয়। বয়স, শারীরিক অবস্থা ও ব্যক্তিগত পার্থক্যের কারণে কারও বেশি ঘুমের প্রয়োজনও হয়। তবে নিয়মিত দীর্ঘ সময় ঘুমানোর পরও ক্লান্তি লাগলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/abjmgq499t">অর্থকষ্টে কেন মানুষের ঘুম আসে না, বিজ্ঞান কী বলে</a></aside><blockquote>শরীর বিছানায় থাকলেও মন তখন নানা চিন্তায় ব্যস্ত থাকে। উদ্বেগের কারণে মস্তিষ্ক থাকে অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থায়। ফলে সহজে ঘুমিয়ে পড়া এবং গভীর ঘুম ধরে রাখার পথে তা বাধা হয়ে দাঁড়ায়।</blockquote><h2><strong>ক্লান্তি কাটাতে করণীয়</strong></h2><p>প্রথমে নিজের দৈনন্দিন অভ্যাসের দিকে নজর দিন। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া আর ঘুম থেকে ওঠা, শোবার আগে ফোন ব্যবহার কমানো, রাতে ভারী খাবার এড়িয়ে চলা এবং ঘুমের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা ভালো অভ্যাস। পাশাপাশি দিনে নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখা এবং মানসিক চাপ সামলানোর চেষ্টা করাও জরুরি।</p><p>তবে এসব পরিবর্তনের পরও যদি নিয়মিত সকালে ক্লান্তি লাগে, দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম পায় কিংবা জোরে নাক ডাকার সঙ্গে ঘুমের মধ্যে শ্বাস আটকে আসার লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে ঘুমের পরীক্ষা বা রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে কারণ শনাক্ত করা সম্ভব।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-09-28/vlaxlvvq/1771040912-sleepingwiththelightonb3f1c30ac2.png"><figcaption>ভালো ঘুম শুধু বিশ্রাম নয়, সুস্থ থাকারও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত</figcaption></figure><p>ঘুমকে আমরা প্রায়ই দিনের কাজের ফাঁকে শরীরের বিশ্রাম নেওয়ার অংশ হিসেবে দেখি। কিন্তু ভালো ঘুম শুধু বিশ্রাম নয়, সুস্থ থাকারও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। তাই ঘড়ির হিসাবে পর্যাপ্ত সময় ঘুমানোর পরও যদি শরীর সতেজ না হয়, তাহলে ভাবতে হবে, আপনার ঘুমের মান ঠিক হয়তো ঠিক নেই।</p><h4>লেখক: শিক্ষার্থী, কৃষিবিজ্ঞান বিভাগ, এগ্রিকালচারাল সায়েন্স অনুষদ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি</h4><h4>সূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/v01abd9vo9">ঘুম নিয়ে আমাদের যত ভুল ধারণা</a></aside>
<p>সুইডিশ একাডেমির পক্ষ থেকে যখন সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে কানাডিয়ান কবি, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক ও ধ্রুপদি সাহিত্যের বিশিষ্ট অধ্যাপক অ্যান কারসনের নাম ঘোষণা করা হলো, তখন তা বিশ্বজুড়ে গভীর সন্তোষ ও আনন্দের এক নতুন তরঙ্গ তৈরি করেছে। একাডেমির আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তাঁর সাহিত্যকর্মের মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলা হয়েছে, ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে সৃজনশীল ও খেলাচ্ছলে সংলাপের মধ্য দিয়ে সমকালীন সাহিত্যের নতুন নতুন রূপ সৃষ্টিতে তাঁর সাহসী ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্মের জন্য তাঁকে এই সম্মান দেওয়া হলো। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আসলে এমন একজন অনন্য শব্দশিল্পীকে দেওয়া হয়েছে, যিনি দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে প্রাতিষ্ঠানিক পাণ্ডিত্য এবং স্বাধীন সৃজনশীলতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটিয়ে চলেছেন। তাঁর সাহিত্যচর্চা কোনো একটি নির্দিষ্ট ধারার ফ্রেমে বন্দী নয়; বরং তা একই সঙ্গে কবিতা, প্রবন্ধ, অনুবাদ এবং কথাসাহিত্যের প্রথাগত সীমানাকে সম্পূর্ণ একাকার করে দেয়। এই অনন্য মিশ্রণই তাঁকে সমসাময়িক সাহিত্যবিশ্বে এক সম্পূর্ণ পৃথক ও কালজয়ী আসন দিয়েছে, যা এই নোবেলপ্রাপ্তির মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ পেল। বিশ্বজুড়ে তাঁর এই মূল্যায়ন প্রমাণ করে যে প্রাতিষ্ঠানিক গভীরতা কীভাবে আধুনিক পাঠকদের হৃদয়ে আলোড়ন তুলতে পারে এবং কেন তাঁর লেখনী সমকালীন সাহিত্যের গতিপথ নির্ধারণে এক অপরিহার্য শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।</p><p> অ্যান কারসন কানাডার অন্টারিওর টরন্টোতে জন্মগ্রহণ করেন এবং খুব অল্প বয়স থেকেই গ্রিক ও লাতিন ভাষার ধ্রুপদি সাহিত্যের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের জন্ম হয়। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ধ্রুপদি সাহিত্যে তাঁর স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং ডক্টরাল থিসিস সম্পন্ন করার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেন। তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক জীবনের এই কঠিন ও নিবিড় ভিত্তিটিই পরবর্তী সময়ে তাঁর কবিসত্তার প্রধান জ্বালানি ও বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করেছে। কারসন নিজে একজন নিখাদ শব্দতত্ত্ববিদ, যিনি শব্দের আদি উৎসের গভীরে ডুব দিয়ে নতুন অর্থ ও দর্শনের অন্বেষণ করেন। তাঁর প্রথম দিককার তাত্ত্বিক কাজ ‘ইরোস দ্য বিটারসুইট’ গ্রন্থে তিনি প্রাচীন গ্রিক কবি স্যাফোর কবিতার সূত্র ধরে প্রেম, আকাঙ্ক্ষা এবং দূরত্বের এক মহাজাগতিক মনস্তত্ত্ব উন্মোচন করেছিলেন। এই বইটির পর থেকেই মূলত আন্তর্জাতিক সাহিত্যিক মহলে তাঁর ধ্রুপদি পাণ্ডিত্য এবং আধুনিক কাব্যিক বোধের যুগলবন্দী নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়, যা তাঁকে বিশ্বমঞ্চে এক উজ্জ্বল নাম হিসেবে পরিচিত করে তোলে।</p><p>কারসনের নোবেল জয়ের পর বিশ্বজুড়ে শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রগুলো এবং বিশিষ্ট লেখকেরা তাঁদের উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া ও গভীর বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছেন। বিখ্যাত কানাডীয় লেখিকা মার্গারেট অ্যাটউড তাঁর দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা ও বন্ধু কারসনের এই সাফল্যে উল্লাস প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ডিলাইটস অ্যাওয়েট! অর্থাৎ বাংলায় বলা যায়, আমাদের সামনে এখন আরও চমৎকার সব বিস্ময় অপেক্ষা করছে। অন্যদিকে সুইডিশ একাডেমির সদস্য ও ঔপন্যাসিক স্টিভ সেম-স্যান্ডবার্গ মন্তব্য করেছেন যে অ্যান কারসনের বইগুলো গ্রন্থাগারের কোন তাকে রাখবেন, তা নির্ধারণ করা অসম্ভব, কারণ তিনি সম্পূর্ণ নিজের তৈরি করা একটি স্বতন্ত্র সাহিত্যিক কাঠামোতে অবস্থান করেন। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকা কারসনের সাহিত্যকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে লিখেছে যে তাঁর এই পুরস্কার উচ্চমানের মেধাভিত্তিক সাহিত্যের এক মহিমান্বিত জয়, যা প্রমাণ করে যে ধ্রুপদি পাণ্ডিত্য কখনো সেকেলে হতে পারে না। প্রখ্যাত মার্কিন কবি ও সমালোচক ক্লডিয়া র্যাঙ্কিন অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করে বলেছেন যে কারসন হলেন এমন একজন মানুষ, যিনি আমাদের সাহিত্যিক কল্পনাকে সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রথাগত শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করেছেন।</p><p>অ্যান কারসনের সাহিত্যকর্মের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, তা কোনো সুনির্দিষ্ট জঁরা বা সাহিত্যের রূপভেদ মেনে চলে না। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’ এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদাহরণ, যেখানে তিনি প্রাচীন গ্রিক কবি স্টেসিকরাসের একটি খণ্ডিত কবিতাকে ভিত্তি করে এক আধুনিক রূপক আখ্যান তৈরি করেছেন। প্রাচীন পুরাণের দানব গেরিওনকে তিনি এখানে উপস্থাপন করেছেন এক বিষাদগ্রস্ত, সমকামী কিশোর আলোকচিত্রী হিসেবে, যে আধুনিক সমাজের রুক্ষতা ও একাকিত্বের মধ্য দিয়ে নিজের অস্তিত্বকে আবিষ্কার করে। নিউইয়র্ক টাইমস বুক রিভিউতে সমালোচক ড্যাফনে মার্কিন এই গ্রন্থের পর্যালোচনা করতে গিয়ে লিখেছিলেন যে কারসন সমকালীন কবিতার ছোট জগতে এক বিশাল তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন, যা একই সঙ্গে হিংসা এবং গভীর শ্রদ্ধার জন্ম দেয়। কারসনের এই সাহস পাঠককে শুধু বিনোদিত করে না; বরং মানুষের ভেতরের অবদমিত দানবীয় ও মানবিক সত্তার দ্বন্দ্বকে তীব্রভাবে আলোড়িত করে এবং জীবনের গূঢ় সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়।</p><blockquote>অ্যান কারসনের সাহিত্যকর্মের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, তা কোনো সুনির্দিষ্ট জঁরা বা সাহিত্যের রূপভেদ মেনে চলে না। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’ এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদাহরণ, যেখানে তিনি প্রাচীন গ্রিক কবি স্টেসিকরাসের একটি খণ্ডিত কবিতাকে ভিত্তি করে এক আধুনিক রূপক আখ্যান তৈরি করেছেন।</blockquote><p>ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে কারসনের এই যে সংযোগ, তা কখনোই একতরফা বা অন্ধ অনুকরণ নয়, বরং তা অত্যন্ত চপল, কৌতুকপূর্ণ ও সাহসী। সুইডিশ একাডেমি তাঁর এই খেলাচ্ছলে সংলাপের কথাটি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে, কারণ তিনি প্রাচীন গ্রিক ট্র্যাজেডি বা দেব-দেবীদের চরিত্র নিয়ে যখন কাজ করেন, তখন তার ভেতর সমকালীন পপ সংস্কৃতিকেও অনায়াসে ঢুকিয়ে দেন। যেমন তাঁর পারফরম্যান্স পিস বা গীতি-আলেখ্য ‘নর্মা জিন বেকার অব ট্রয়’ গ্রন্থে তিনি প্রাচীন গ্রিসের হেলেন অব ট্রয়ের মিথের সঙ্গে বিংশ শতাব্দীর মার্কিন পপ আইকন মেরিলিন মনরোর জীবনের ট্র্যাজেডিকে মিলিয়ে দিয়েছেন। দ্য নিউইয়র্কার ম্যাগাজিন কারসনের এই শৈলীকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লিখেছে যে কারসন ইতিহাস এবং সমকালকে এমনভাবে মুখোমুখি দাঁড় করান, যেখানে সময়ের ব্যবধান মুছে যায় এবং মানুষের মৌলিক বেদনাগুলো একই সুতোয় গেঁথে যায়। ‘দ্য বিউটি অব দ্য হাজব্যান্ড’ কাব্যে তিনি একটি বৈবাহিক সম্পর্কের পতনকে উনত্রিশটি পরিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে এমনভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, যা প্রথাগত আখ্যানের সীমানাকে ভেঙে দেয়।</p><p>অনুবাদক হিসেবেও অ্যান কারসন বিশ্বসাহিত্যে এক অনন্য উচ্চতায় আসীন, কারণ তাঁর কাছে অনুবাদ কেবল এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় রূপান্তর নয়, বরং তা এক সম্পূর্ণ স্বাধীন সৃষ্টি। স্যাফোর কবিতার ভাঙা টুকরোগুলো নিয়ে তাঁর করা অনুবাদ ‘ইফ নট, উইন্টার’ গ্রিক সাহিত্যের ইতিহাসে এক মাইলফলক। প্রাচীন পুঁথির যে অংশগুলো নষ্ট হয়ে গেছে বা হারিয়ে গেছে, কারসন সেগুলোকে কোনো কাল্পনিক শব্দ দিয়ে পূরণ করার চেষ্টা করেননি; বরং সেই শূন্যস্থানগুলোকে ফাঁকা রেখে পেজের ওপর বিশেষ বন্ধনী ব্যবহার করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে নীরবতা বা শূন্যতারও একটি নিজস্ব ভাষা আছে এবং প্রাচীন সাহিত্যের সেই ভগ্নাবশেষই তার আসল সৌন্দর্য। ইউরিপিদিস বা সোফোক্লিসের নাটকগুলোর অনুবাদেও তিনি সমকালীন কথ্য ভাষার ব্যবহার করেছেন, যাতে আধুনিক দর্শকেরা সহজেই সেই প্রাচীন ক্ষোভ, হাহাকার ও ট্র্যাজেডির তীব্রতাকে নিজেদের জীবনে অনুভব করতে পারেন এবং ইতিহাসের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করতে পারেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/vdqgpi81/Ann-Carson.jpg"><figcaption>কানাডীয় কবি, প্রাবন্ধিক ও ধ্রুপদি সাহিত্যের পণ্ডিত অ্যান কারসন</figcaption></figure><p>কারসনের সাহিত্য কেবল কাগজের পাতাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না, তা বইয়ের প্রথাগত অবয়ব বা দৈহিক রূপকেও চ্যালেঞ্জ করে। তাঁর ‘নক্স’ নামক বইটি এর একটি বড় প্রমাণ, যা মূলত তাঁর দীর্ঘদিনের নিখোঁজ এবং পরবর্তী সময়ে মৃত ভাই মাইকেলের স্মৃতির উদ্দেশে রচিত একটি শোকগাথা। বইটি কোনো সাধারণ বাঁধাই করা বই নয়, এটি একটি দীর্ঘ কাগজের ভাঁজ, যা অ্যাকর্ডিয়ন বা হারমোনিয়ামের মতো খুলে যায় এবং একটি কাঠের বাক্সের ভেতর বন্দী থাকে। এর ভেতরে রয়েছে তাঁর ভাইয়ের পুরোনো চিঠি, পারিবারিক ছবি, ডায়েরির ছেঁড়া পাতা এবং রোমান কবি ক্যাটুলাসের একটি কবিতার ওপর কারসনের নিজস্ব ব্যবচ্ছেদ। ফরাসি সাহিত্য সমালোচক ল্য মঁদ একে একটি দৃশ্যমান কোলাজ শিল্প এবং সাহিত্যের এক নতুন মাত্রা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে শব্দ ও স্পর্শ মিলেমিশে একাকার হয়ে শোকের এক মূর্ত রূপ ধারণ করে। তাঁর অন্য একটি সৃষ্টি ‘ফ্লোট’ বইটিতেও বেশ কয়েকটি স্বাধীন পুস্তিকা একটি স্বচ্ছ কেসের মধ্যে রাখা থাকে, যা পাঠক নিজের ইচ্ছেমতো যেকোনো ক্রমে পড়তে পারেন।</p><p>কারসনের সাম্প্রতিক কাজগুলোর মধ্যে ‘রং নর্মা’ (Wrong Norma) সংকলনটি পাঠকদের মধ্যে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যেখানে তিনি তাঁর প্রাত্যহিক জীবনের ক্ষুদ্র অনুভূতি, পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত হয়ে নিজের হাতের লেখা বদলে যাওয়ার বেদনা এবং বৈশ্বিক অস্থিরতাকে একসঙ্গে বুনেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস তাঁর এই বিবর্তনকে লক্ষ করে লিখেছে যে কারসন কবিতাকে সুশৃঙ্খল বা গীতিময় হওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত করেছেন এবং একে এক রূপহীন ও প্রসারিত অবয়ব দিয়েছেন। তাঁর লেখার জগৎটি একটি বিশাল আন্তপাঠযোগ্যতার জাল, যেখানে প্রবেশ করলে হোমার, ভার্জিনিয়া উলফ কিংবা কাফকার মতো বিচিত্র ব্যক্তিত্বের সঙ্গে অবলীলাক্রমে দেখা হয়ে যায়। এই অন্তহীন জটিলতা ও প্রাঞ্জলতার মিশ্রণই তাঁর কাজকে সাধারণ পাঠকদের কাছে যেমন কৌতূহলোদ্দীপক করে তোলে, তেমনি গবেষকদের জন্যও এক অনন্ত খনি হিসেবে উপস্থাপন করে এবং সমকালীন সাহিত্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।</p><blockquote>অনুবাদক হিসেবেও অ্যান কারসন বিশ্বসাহিত্যে এক অনন্য উচ্চতায় আসীন, কারণ তাঁর কাছে অনুবাদ কেবল এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় রূপান্তর নয়, বরং তা এক সম্পূর্ণ স্বাধীন সৃষ্টি। স্যাফোর কবিতার ভাঙা টুকরোগুলো নিয়ে তাঁর করা অনুবাদ ‘ইফ নট, উইন্টার’ গ্রিক সাহিত্যের ইতিহাসে এক মাইলফলক।</blockquote><p>যখন স্টকহোম থেকে নোবেল কমিটি কারসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছিল, তখন তিনি ছিলেন আটলান্টিকের বুকে বরফঘেরা দ্বীপরাষ্ট্র আইসল্যান্ডে এবং এক নির্জন প্রান্তরে দাঁড়িয়ে বাতাসের শব্দ শুনছিলেন। এই ঘটনা যেন তাঁর পুরো জীবন ও সাহিত্য দর্শনেরই একটি প্রতীকী রূপ, কারণ কারসন সব সময়ই প্রচারের আলো থেকে দূরে, নীরবতার গভীরে শব্দের সন্ধান করতে ভালোবাসেন। নোবেলপ্রাপ্তির খবরে তাঁর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত সহজ ও সরল, আইসল্যান্ডের পাবলিক ব্রডকাস্টার আরইউভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি কিছুটা রসিকতা করেই বলেছিলেন যে আমার মনে হয় বিচারকদের সবাই পাগল হয়ে গেছেন, পুরো বিষয়টাই আসলে এক পাগলামি। এই আপাত হালকা মন্তব্যটির পেছনে লুকিয়ে আছে তাঁর সেই আজীবন অহংকারহীন স্বভাব, যা বড় বড় প্রাতিষ্ঠানিক পুরস্কারের চেয়ে সৃষ্টির আনন্দকে সব সময় বেশি গুরুত্ব দিয়ে এসেছে এবং যা তাঁর লেখাকেও এনে দিয়েছে একধরনের আদিম ও অকৃত্রিম মুক্তি, যা যেকোনো বড় লেখকের আসল বৈশিষ্ট্য।</p><p>এই প্রেক্ষাপটে বলা যায়, অ্যান কারসনের এই নোবেল জয় কেবল তাঁর ব্যক্তিগত প্রতিভার স্বীকৃতি নয়; বরং তা সমকালীন বিশ্বসাহিত্যে ধ্রুপদি জ্ঞান ও পরীক্ষামূলক আঙ্গিকের এক যুগান্তকারী পুনরুত্থান। তিনি আমাদের দেখিয়েছেন যে প্রাচীন গ্রিস বা রোমের যে ঐতিহ্যকে আমরা মৃত বা জাদুঘরের সামগ্রী বলে মনে করি, তা আসলে কতটা জীবন্ত এবং আধুনিক মানুষের সংকটকে ব্যাখ্যা করার জন্য আজও কতটা অপরিহার্য। কবিতা এবং গদ্যের কৃত্রিম বিভাজনকে ভেঙে চুরমার করে দিয়ে তিনি যে নতুন সাহিত্যের রূপ তৈরি করেছেন, তা আগামী দিনের তরুণ লেখকদের জন্য এক অফুরন্ত অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। ধ্রুপদি ঐতিহ্যের এই আধুনিক রূপকার তাঁর অসামান্য লেখনীর মাধ্যমে বিশ্বসাহিত্যের মানচিত্রকে যেভাবে সমৃদ্ধ করলেন, তা মানবসভ্যতার ইতিহাসের পাতায় এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে চিরকাল খোদাই করা থাকবে এবং আগামী প্রজন্মকে সাহিত্যের এক নতুন দিগন্তে নিয়ে যাবে।</p><p>অ্যান কারসনের সাহিত্যিক যাত্রার গভীরে প্রবেশ করলে দেখা যায় যে তাঁর পাণ্ডিত্যের পরিধি কেবল একাডেমিক চৌহদ্দির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা ছিল সৃজনশীলতার এক অনন্ত প্রসারণ। তিনি যখন ধ্রুপদি গ্রিক সাহিত্যের উপাদানগুলোকে স্পর্শ করেন, তখন প্রাচীন ট্র্যাজেডিগুলোর ভেতরের চরিত্ররা বর্তমানের নাগরিক একাকিত্বের সমান্তরাল হয়ে ওঠে। তাঁর ডক্টরাল অভিসন্দর্ভ, যা পরবর্তী সময়ে ‘ইরোস দ্য বিটারসুইট’ নামে আত্মপ্রকাশ করে, সেখানে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে প্রাচীন গ্রিক কবি স্যাফোর কবিতায় প্রেম একই সঙ্গে মিষ্টি এবং তেতো অভিজ্ঞতার জন্ম দেয়। কারসন যুক্তি দেন যে প্রেমের আসল আনন্দ মিলনে নয়, বরং আকাঙ্ক্ষার মধ্যবর্তী যে দূরত্ব, সেই শূন্যতার মাঝে লুকিয়ে থাকে। এই তাত্ত্বিক দর্শনটি তাঁর পরবর্তী সমস্ত কাব্য ও উপন্যাসের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে তিনি চরিত্রদের ভেতরের মানসিক দূরত্ব ও অতৃপ্তিকে ভাষার নিখুঁত কারুকাজে ফুটিয়ে তুলেছেন। এই কারণেই বিশ্বজুড়ে সাহিত্য সমালোচকেরা তাঁকে কেবল একজন কবি হিসেবে দেখেন না, বরং একজন দার্শনিক হিসেবেও গণ্য করেন, যিনি মানব সম্পর্কের জটিলতাকে ইতিহাসের আলোয় নতুন করে ব্যাখ্যা করতে পারেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/pg2blyuo/1-32-6ac7705550d4e-scaled.webp"><figcaption>২০২৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডিয়ান কবি অ্যান কারসন</figcaption></figure><p>তাঁর অনুবাদকর্মের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করলে দেখা যায় যে কারসন প্রাচীন লেখার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা বজায় রেখেও তার ভেতর সমকালীন আধুনিকতার প্রাণ সঞ্চার করতে পারেন। সোফোক্লিসের ‘অ্যান্টিগোনে’ নাটকের তাঁর করা অনুবাদ ‘অ্যান্টিগোনিক’ এর একটি শ্রেষ্ঠ উদাহরণ, যেখানে তিনি প্রথাগত নাট্যভাষার সীমানা ভেঙে একদম আধুনিক আমেরিকান কথ্য ভাষা এবং দৃশ্যমান চিত্রকল্পের ব্যবহার করেছেন। তিনি মনে করেন যে প্রাচীন ধ্রুপদি সাহিত্যের অনুবাদ মানে কেবল অক্ষরের অনুবাদ নয়; বরং সেই যুগের তীব্র আবেগ ও রাজনৈতিক সংকটকে সমকালের পাঠকদের স্নায়ুতে পৌঁছে দেওয়া। ‘ইফ নট, উইন্টার’ গ্রন্থে স্যাফোর খণ্ডিত কবিতার অনুবাদের সময় তিনি যেভাবে শূন্যস্থানগুলোকে অক্ষত রেখেছেন, তা আধুনিক কবিতার নীরবতার নন্দনতত্ত্বকে স্মরণ করিয়ে দেয়। সমালোচকদের মতে, কারসনের এই অনুবাদশৈলী বিশ্বসাহিত্যকে শিখিয়েছে যে একটি লেখার যা কিছু হারিয়ে গেছে বা ধ্বংস হয়ে গেছে, তারও একটি নিজস্ব নান্দনিক মূল্য আছে এবং একজন কুশলী অনুবাদক সেই শূন্যতাকেই কবিতার প্রধান শক্তিতে রূপান্তর করতে পারেন।</p><p>কারসনের ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’ উপন্যাসটির সাফল্য নিয়ে যখন আমরা আলোচনা করি, তখন এর শৈল্পিক কাঠামোর বৈপ্লবিক রূপটি আমাদের বিস্মিত করে। গ্রিক পুরাণের দানব গেরিওনকে নিয়ে প্রাচীন কবি স্টেসিকরাস যে মহাকাব্য লিখেছিলেন, তার মাত্র কয়েকটি পঙ্ক্তি আজ টিকে আছে। কারসন সেই খণ্ডিত অংশকে ভিত্তি করে এমন এক আধুনিক আখ্যান তৈরি করলেন, যা সমকালীন কথাসাহিত্যের ইতিহাসকে বদলে দিয়েছে। এই উপন্যাসটিতে গেরিওন কোনো পৌরাণিক দানব নয়; বরং সে এক লাল ডানাওয়ালা কিশোর, যে নিজের ভেতরের ভিন্নতা ও সমাজের রুক্ষতার সঙ্গে লড়াই করছে। আলোকচিত্রের প্রতি তার যে গভীর অনুরাগ, তা আসলে জগতের রূপকে নিজের মতো করে ধরে রাখার এক আকুল প্রচেষ্টা। কারসনের এই অনন্য আখ্যানশৈলী প্রমাণ করে যে পুরাণ কোনো দূর অতীতের গল্প নয়, তা আসলে মানুষের অবিনশ্বর মনস্তাত্ত্বিক সংকটেরই এক চিরন্তন রূপক। নিউইয়র্ক টাইমসের সমালোচকেরা একে বিশ শতকের অন্যতম প্রভাবশালী সাহিত্যিক পরীক্ষা বলে উল্লেখ করেছেন, যা কবিতার গভীরতা এবং উপন্যাসের বিস্তারকে এক সুতোয় বেঁধেছে।</p><p>একইভাবে তাঁর সৃষ্টি ‘নক্স’ বইটির অবয়ব ও তার ভেতরের শোকগাথার গভীরতা বিশ্বজুড়ে পাঠকদের স্তব্ধ করে দিয়েছিল। নিজের একমাত্র ভাই মাইকেলের আকস্মিক মৃত্যু এবং তাঁর দীর্ঘদিনের নিখোঁজ জীবনের বেদনাকে কারসন যেভাবে এই বইটিতে রূপ দিয়েছেন, তা আক্ষরিক অর্থেই এক দৃশ্যমান কোলাজ। অ্যাকর্ডিয়নের মতো ভাঁজ করা এই দীর্ঘ কাগজের পাতায় তিনি ক্যাটুলাসের একটি বিশেষ কবিতার প্রতিটি শব্দের লাতিন থেকে ইংরেজি ব্যুৎপত্তিগত অর্থ বিশ্লেষণ করেছেন। এর পাশাপাশি নিজের ভাইয়ের পুরোনো ঝাপসা ছবি, ডায়েরির ছেঁড়া পাতা এবং হাতের লেখার টুকরা যুক্ত করে তিনি শোকের এক মূর্ত স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করেছেন। ল্য মঁদ পত্রিকার সাহিত্য সমালোচকেরা এই বইকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে লিখেছিলেন যে কারসন এখানে দেখিয়েছেন কীভাবে ব্যক্তিগত শোক এক পরম বৈশ্বিক বেদনায় রূপান্তরিত হতে পারে। বইটির এই অভিনব ভৌত কাঠামো আসলে মানুষের স্মৃতির ভঙ্গুরতা এবং তাকে ধরে রাখার অক্ষমতারই এক বস্তুগত প্রকাশ, যা পাঠককে কেবল পড়তে বাধ্য করে না; বরং সেই বেদনাকে স্পর্শ করার এক অলৌকিক অনুভূতি দেয়।</p><blockquote>কারসনের এই আজীবন সাহিত্যিক নিরীক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক পাণ্ডিত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নোবেল পুরস্কারের অনেক আগেই ম্যাকআর্থার জিনিয়াস গ্রান্ট, গুগেনহাইম ফেলোশিপ এবং টি এস এলিয়ট প্রাইজের মতো মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন। তবে এই নোবেল জয় তাঁর সাহিত্যিক দর্শনকে এক বৈশ্বিক প্রাতিষ্ঠানিকতা দিল, যা সমকালীন সাহিত্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল।</blockquote><p>কারসনের এই আজীবন সাহিত্যিক নিরীক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক পাণ্ডিত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নোবেল পুরস্কারের অনেক আগেই ম্যাকআর্থার জিনিয়াস গ্রান্ট, গুগেনহাইম ফেলোশিপ এবং টি এস এলিয়ট প্রাইজের মতো মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন। তবে এই নোবেল জয় তাঁর সাহিত্যিক দর্শনকে এক বৈশ্বিক প্রাতিষ্ঠানিকতা দিল, যা সমকালীন সাহিত্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। সুইডিশ একাডেমির বিচারকেরা যখন তাঁর খেলাচ্ছলে সংলাপের প্রশংসা করেন, তখন তাঁরা আসলে কারসনের সেই ক্ষমতাকে কুর্নিশ জানান, যার মাধ্যমে তিনি গম্ভীর একাডেমিক বিষয়কে অত্যন্ত সহজ ও কৌতুকপূর্ণ করে তুলতে পারেন। কারসন তাঁর লেখায় প্রায়ই নিজেকে এবং নিজের পাণ্ডিত্যকে নিয়ে কৌতুক করেন, যা তাঁর সাহিত্যকে একধরনের অকৃত্রিম মুক্তি দেয়। তিনি কখনো কোনো নির্দিষ্ট তত্ত্বের ফ্রেমে নিজেকে বন্দী রাখেননি; বরং প্রতিনিয়ত ভাষার সীমানাকে প্রসারিত করেছেন। এই কারণেই তাঁর নোবেলপ্রাপ্তি বিশ্বজুড়ে তরুণ ও নিরীক্ষাধর্মী লেখকদের জন্য এক অফুরন্ত সাহসের উৎস হিসেবে কাজ করবে, যা প্রথাগত সাহিত্যের দেয়ালগুলোকে ভেঙে নতুন রূপ সৃষ্টির পথ দেখাবে।</p><p>তাঁর সর্বশেষ কাজ ‘রং নর্মা’ (Wrong Norma) সংকলনটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে বয়স বা শারীরিক অসুস্থতা তাঁর সৃজনশীলতার ধারকে বিন্দুমাত্র ম্লান করতে পারেনি। পারকিনসন্স রোগের কারণে তাঁর হাতের লেখা যখন কাঁপছিল, তিনি সেই কাঁপুনি এবং শারীরিক সীমাবদ্ধতাকেই তাঁর কবিতার এক নতুন উপাদান হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে মানুষের শরীর যখন অবক্ষয়ের দিকে যায়, তখনো ভাষা কীভাবে তার ভেতরের চেতনাকে সজীব ও অপরাজেয় রাখতে পারে। এই বইয়ে তিনি একই সঙ্গে বিশ্বের রাজনৈতিক অস্থিরতা, পুঁজিবাদের আগ্রাসন এবং নিজের প্রাত্যহিক জীবনের অতি ক্ষুদ্র অনুভূতির মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন। বিশ্বখ্যাত সমালোচকদের মতে, কারসনের লেখার এই বহুমাত্রিকতা এবং আন্তপাঠযোগ্যতা তাঁকে সমকালের অন্য সমস্ত লেখক থেকে আলাদা করে। হোমার থেকে শুরু করে ভার্জিনিয়া উলফ কিংবা কাফকা—সবার ভাবনার নির্যাস তাঁর লেখনীতে এসে এমনভাবে একাকার হয়ে যায় যে তা বিশ্বসাহিত্যের এক অন্তহীন মহাকাব্যে রূপ নেয়।</p><p>প্রাচীন গ্রিসের নাট্যকারেরা মানুষের ভেতরের যে ট্র্যাজেডিকে ফুটিয়ে তুলেছিলেন, কারসন আজ একবিংশ শতাব্দীর নাগরিক কোলাহলের মাঝে দাঁড়িয়ে সেই একই ট্র্যাজেডির সুর নতুন করে বাঁধলেন। কবিতা, প্রবন্ধ ও অনুবাদের কৃত্রিম প্রাচীরগুলোকে ভেঙে তিনি যে নতুন এক সমকালীন সাহিত্যিক ভাষা তৈরি করেছেন, তা মানবসভ্যতার ইতিহাসের পাতায় এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে চিরকাল অক্ষুণ্ণ থাকবে। তাঁর এই নোবেলপ্রাপ্তির ক্ষণটি বিশ্বসাহিত্যের মানচিত্রে এক যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে, যা আমাদের শেখায় যে অতীতকে ভুলে গিয়ে নয়, বরং অতীতের হাত ধরেই সমকালের সবচেয়ে সাহসী ও আধুনিক সাহিত্য সৃষ্টি করা সম্ভব। এই পরিবর্তনের ধারা আগামী দিনের লেখকদের জন্য সাহিত্যের এক নতুন মুক্ত আকাশ উন্মোচন করবে, যেখানে বাঁধনহীন চিন্তার বিকাশ ঘটবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/3ycrlmxb/carson.webp"><figcaption>অ্যান কারসন</figcaption></figure><p>কানাডার সাহিত্যিক পরিমণ্ডলে অ্যান কারসনের প্রভাব সুদূরপ্রসারী এবং তিনি সেখানে এক প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর সমসাময়িক অন্যান্য কানাডীয় লেখকের চেয়ে তাঁর কাজের ধরন সম্পূর্ণ আলাদা, কারণ তিনি উত্তর আমেরিকান আধুনিক জীবনযাত্রার সঙ্গে প্রাচীন ইউরোপীয় দর্শনের এক মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন। টরন্টোর সাহিত্য বৃত্ত থেকে শুরু করে মন্ট্রিয়লের একাডেমিক অঙ্গন—সবখানেই তাঁর লেখা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়। নোবেল কমিটি যখন তাঁর নাম ঘোষণা করে, তখন কানাডার প্রতিটি সাহিত্য পত্রিকা বিশেষ সংখ্যা প্রকাশের আয়োজন শুরু করে। তাঁর এই বিজয় আসলে প্রমাণ করে যে মেধা ও প্রাতিষ্ঠানিক পাণ্ডিত্য কীভাবে সৃজনশীলতার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাতে পারে। তিনি বিশ্বমঞ্চে কানাডার নাম উজ্জ্বল করার পাশাপাশি পুরো উত্তর আমেরিকার সমকালীন কবিতার ধারাকে নতুন এক মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন।</p><p>কারসনের রচনার গূঢ় নন্দনতত্ত্ব সাধারণ পাঠকদের মনে এক অপার্থিব অনুভূতির জন্ম দেয়, যা অন্য কোনো সমসাময়িক লেখকের লেখায় সহজে মেলা ভার। তিনি যখন একটি সাধারণ বাক্য লেখেন, তার ভেতরেও লুকিয়ে থাকে সহস্র বছরের ইতিহাসের প্রতিধ্বনি। এই গভীরতা পাঠকদের কেবল চিন্তিত করে না, বরং তাদের নিজেদের অস্তিত্বের মূল শিকড়কে খুঁজতে বাধ্য করে। তাঁর কবিতা পড়ার অভিজ্ঞতা কোনো সাধারণ বই পড়ার মতো নয়, তা যেন এক গোলকধাঁধায় প্রবেশ করার মতো, যেখানে প্রতিটি বাঁকে নতুন নতুন সত্য উন্মোচিত হয়। সমালোচকেরা মনে করেন যে কারসনের এই অনন্য জাদুকরি ক্ষমতা আগামী শতাব্দীতেও তাঁর লেখাকে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও জীবন্ত করে রাখবে, কারণ মানুষের মনের মৌলিক আবেগগুলো কখনোই স্থান বা কালের সীমানায় আটকে থাকে না।</p><p>আরও গভীরে গেলে দেখা যায়, কারসনের এই আজীবন সাহিত্যিক নিরীক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক পাণ্ডিত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নোবেল পুরস্কারের অনেক আগেই ম্যাকআর্থার জিনিয়াস গ্রান্ট, গুগেনহাইম ফেলোশিপ এবং টি এস এলিয়ট প্রাইজের মতো মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন। তবে এই নোবেল জয় তাঁর সাহিত্যিক দর্শনকে এক বৈশ্বিক প্রাতিষ্ঠানিকতা দিল, যা সমকালীন সাহিত্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। সুইডিশ একাডেমির বিচারকেরা যখন তাঁর খেলাচ্ছলে সংলাপের প্রশংসা করেন, তখন তাঁরা আসলে কারসনের সেই ক্ষমতাকে কুর্নিশ জানান, যার মাধ্যমে তিনি গম্ভীর একাডেমিক বিষয়কে অত্যন্ত সহজ ও কৌতুকপূর্ণ করে তুলতে পারেন।</p><p>পরিশেষে বলা যায় যে অ্যান কারসন কেবল একজন নোবেলজয়ী লেখক নন, তিনি হলেন একটি জীবন্ত প্রতিষ্ঠান এবং সমকালীন বিশ্বসাহিত্যের এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। তাঁর চার দশকের সাহিত্য সাধনা এবং প্রতিনিয়ত নতুন কিছু করার অদম্য ইচ্ছা আজ বিশ্বমঞ্চে তাঁর এই সর্বোচ্চ স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে অতীতকে বুকে ধারণ করে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হয় এবং কীভাবে ভাষার সামান্যতম ব্যবহার করেও এক বিশাল অনুভূতির জগৎ তৈরি করা সম্ভব। ধ্রুপদি ঐতিহ্যের এই আধুনিক রূপকারের নোবেল বিজয় বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে এক পরম গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে এবং পৃথিবীর সমস্ত সাহিত্যপ্রেমী মানুষের মনে এক অনির্বাণ আলো জ্বেলে রাখবে।</p>
ফ্লাইট বাতিল হওয়া সৌদি আরবগামী যাত্রীদের অধিকাংশই বিমানবন্দরে এসেছেন তাঁদের ফ্লাইটের তথ্য জানতে। আবার কেউ কেউ অপেক্ষা করছেন বিকল্প কোনো ফ্লাইটে গন্তব্যে যেতে।
ম্যানচেস্টার সিটির সামনে এখন বড় বিপদের আশঙ্কা। শাস্তি হিসেবে বড় অঙ্কের পয়েন্ট কাটা যেতে পারে তাদের। এমনকি নেমে যেতে হতে পারে দ্বিতীয় বিভাগেও।
রণধীর জয়সোয়াল বাংলাদেশে অতীতে কী হয়েছে বা বর্তমানে কী ঘটছে, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। বাংলাদেশ সরকারকে দোষারোপও করেননি।
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারির একটি প্রস্তাব পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বিপুল ভোটে পাস হয়েছে । এদিকে, বাংলাদেশের গাজীপুরের টঙ্গী চেরাগ আলী এলাকায় ‘ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামের ওষুধ কারখানার আগুন চার ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার লাইভ পতায়...
বাংলাদেশে আইন পেশায় এমন অনেকেই আছেন, যারা ৩৮, ৪০ বা ৫০ বছর বয়সেও এই পেশায় এসেছেন। তবে, এবার এমন সুযোগ বন্ধ করার কথা ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি সরকার।
২০২৬ সালের 'ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার'-এর বিজয়ী হাতির এমন এক বিরল আচরণ ক্যামেরাবন্দী করেছেন, যা তাদের আবেগীয় জীবনের জটিলতাকে উন্মোচন করে।
ভ্যাটিকান জানিয়েছে, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ডান ফুসফুসের নিম্নাংশ অপসারণের পর পোপের ফুসফুসের ক্যান্সার শনাক্ত হয়েছে।
এ বছরের বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছে মৃত শাবক বহনকারী হাতি, মোরে ঈলের সন্তান প্রসবের মুহূর্তের মতো চমকপ্রদ ছবি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দলের শক্ত ঘাঁটি খাইবার পাখতুনখোয়ায় এখন জরুরি অবস্থা জারি রয়েছে। একইসঙ্গে তার দলের প্রাদেশিক সরকার স্থগিত করা হয়েছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সমর্থকদের সঙ্গে সরকারের এই অচলাবস্থা পরিস্থিতি কমানোর পরিবর্তে আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে।
সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণায় ঢাকার হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন প্রায় ১৩ হাজারের বেশি যাত্রী; আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসসহ বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন আসছে; আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল– ঢাকা থেকে প্রকাশিত আজকের সংবাদপত্রে এসব খবর গুরুত্ব পেয়েছে।
ভাইকিংরা কোন রকম আড়ম্বর ছাড়াই পৌঁছেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে, যাদের প্রত্যাবর্তনে কোনো রাজকীয় ঘোষণা দেয়া হয়নি, কিংবা সড়কে ভিড় করে কেউ তাদের অভ্যর্থনাও জানায়নি। কিন্তু সময় হিসেব করলে ক্রিস্টোফার কলম্বাসের ৫০০ বছর আগেই তারা আমেরিকার মাটিতে পদার্পন করেছিলেন।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে স্থগিত হওয়া উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের প্রিলিমিনারি (বাছাই) পরীক্ষা আগামী ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন বেলা তিনটায় নির্ধারিত সব কেন্দ্রে এই পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।
রপ্তানি বহুমুখীকরণ, নতুন বাজারের সম্ভাবনা চিহ্নিত করা এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি জোরদার করতে গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে উদ্ভাবনী শক্তি জাগ্রত করার লক্ষ্যে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিজ্ঞান মেলা আয়োজনের সুপারিশ করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
ঢাকা-রোম ফ্লাইট আরো বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও অ্যালেসান্ড্রো।
দীর্ঘ ৯ বছর পর আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে দেশের নামি-দামি শিল্পীরা অংশ নেবেন।
সৃজনশীল প্রকাশনা সংস্থা ‘ঐতিহ্য’ প্রতি বছরের মতো এবারো আয়োজন করতে যাচ্ছে ‘ঐতিহ্য বুক কার্নিভাল ২০২৬’।
যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে মুদ্রাস্ফীতি আরো বেড়ে গেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়া বছরে মুদ্রাস্ফীতির হার বেড়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে, যা আগের মাসে ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।
চিত্রনায়িকা মৌসুমী ও ছেলে ফারদিনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চিত্রনায়ক ওমর সানী।