ঢাকা-রোম ফ্লাইট বাড়া‌নোর প্রস্তাব ইতালির

ঢাকা-রোম ফ্লাইট আরো বাড়া‌নোর প্রস্তাব দি‌য়ে‌ছে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও অ্যালেসান্ড্রো।

সারা দেশ

View more
রংপুরের পীরগঞ্জে পৌরভবনের ছাদ ধসে ২ শ্রমিক নিহত
রংপুরের পীরগঞ্জে পৌরভবনের ছাদ ধসে ২ শ্রমিক নিহত

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে পীরগঞ্জ পৌরভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করছিলেন ১৩ শ্রমিক। বিকেল ৫টার দিকে হঠাৎ ছাদ ঢালাইয়ের জন্য তৈরি অস্থায়ী কাঠামো (সাটারিং) ভেঙে পড়ে। এতে কয়েকজন শ্রমিক তার নিচে চাপা পড়েন। খবর পেয়ে পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় উদ্ধারকাজ শুরু করে

Video news
Readysell
Readysell

https://www.youtube.com/watch?v=8tpROnMtdbk

সারা বিশ্ব
ভারতে ৬৫০ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের অংশ কেন ভাঙতে চায় প্রশাসন?
ভারতে ৬৫০ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের অংশ কেন ভাঙতে চায় প্রশাসন?

হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।

ভারতে সাবান-শ্যাম্পুর প্যাকেটেও নিরামিষের চিহ্ন দেওয়ার নির্দেশ
ভারতে সাবান-শ্যাম্পুর প্যাকেটেও নিরামিষের চিহ্ন দেওয়ার নির্দেশ

সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।

তথ্যপ্রযুক্তি
বাংলাদেশ আমাদের পথ দেখিয়েছে
বাংলাদেশ আমাদের পথ দেখিয়েছে

ভারতের প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (আইসা) এর সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরার জানিয়েছেন, দেশটিতে ছড়িয়ে পড়া তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনে বাংলাদেশ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে অভিজ্ঞতা নিচ্ছে উত্তর কোরিয়া: মার্কিন জেনারেল
ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে অভিজ্ঞতা নিচ্ছে উত্তর কোরিয়া: মার্কিন জেনারেল

উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার পক্ষে ইউক্রেন যুদ্ধ অংশ নিয়ে সেনা মোতায়েনের দক্ষতা অর্জন করেছে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন ফোর্সেস কোরিয়ার কমান্ডার জেনারেল জেভিয়ার ব্রুনসন।

ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নারী পর্যটকের মৃত্যু
ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নারী পর্যটকের মৃত্যু

কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।

‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’
‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলট একাই হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত
ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলট একাই হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।

মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, ২ কিশোর গ্রেপ্তার
মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, ২ কিশোর গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

চকরিয়ায় মোটরসাইকেলের চাকায় ১৭ হাজার ইয়াবা, গ্রেপ্তার ১
চকরিয়ায় মোটরসাইকেলের চাকায় ১৭ হাজার ইয়াবা, গ্রেপ্তার ১

কক্সবাজারের চকরিয়ায় অস্থায়ী চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে মোটরসাইকেলের চাকার ভেতর থেকে ১৭ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

পাবনায় মাদকাসক্ত যুবককে কুপিয়ে হত্যা
পাবনায় মাদকাসক্ত যুবককে কুপিয়ে হত্যা

পাবনার সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নে সুমন হোসেন (৩২) নামে এক মাদকাসক্ত যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও খুঁচিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

চাকরির প্রলোভনে ধর্ষণ, যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
চাকরির প্রলোভনে ধর্ষণ, যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন আটকে রেখে এক নারীকে ধর্ষণের মামলায় এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল। 

গ্রেপ্তার এড়াতে নদীতে ঝাঁপ, ২৬ ঘণ্টা পর লাশ উদ্ধার
গ্রেপ্তার এড়াতে নদীতে ঝাঁপ, ২৬ ঘণ্টা পর লাশ উদ্ধার

শেরপুরে নিখোঁজের প্রায় ২৬ ঘণ্টা পর নদী থেকে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

সঙ্গীর প্রতি কৃতজ্ঞতা সম্পর্ক মজবুত করে যেভাবে
সঙ্গীর প্রতি কৃতজ্ঞতা সম্পর্ক মজবুত করে যেভাবে

একটি সম্পর্কে ঝগড়া কম হলেই কি দুজন মানুষ সুখী? সম্পর্ক ভালো রাখতে ভালোবাসার পাশাপাশি সঙ্গীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাও জরুরি।

স্বর্ণের দামে পতন, ভরিতে কমল ৩২৬৬ টাকা
স্বর্ণের দামে পতন, ভরিতে কমল ৩২৬৬ টাকা

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। একই সঙ্গে রূপার দামও কিছুটা কমানো হয়েছে।

তুষারঝড়ে ফিরে যায় দুই দল, থামেননি শাকিল
তুষারঝড়ে ফিরে যায় দুই দল, থামেননি শাকিল

চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।

নীল দহন
নীল দহন

টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা

কনসিলার, ব্লাশ আর নিউড লিপ: মাত্র ৩ প্রোডাক্টেই কীভাবে ন্যাচারাল গ্ল্যাম আনেন জাহ্নবী কাপুর
কনসিলার, ব্লাশ আর নিউড লিপ: মাত্র ৩ প্রোডাক্টেই কীভাবে ন্যাচারাল গ্ল্যাম আনেন জাহ্নবী কাপুর

মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।

ফরমাল পোশাকে গ্ল্যামারাস দেখালেন কিয়ারা
ফরমাল পোশাকে গ্ল্যামারাস দেখালেন কিয়ারা

ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা  এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই

ঘুম ঠিক না হলে কী হয়? জানুন সুস্থ থাকার সহজ উপায়
ঘুম ঠিক না হলে কী হয়? জানুন সুস্থ থাকার সহজ উপায়

ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ

বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।

বন্ধুতা, সম্পর্ক ও মানসিক সুস্থতা: কীভাবে সামলাবেন ব্যস্ত জীবনে
বন্ধুতা, সম্পর্ক ও মানসিক সুস্থতা: কীভাবে সামলাবেন ব্যস্ত জীবনে

প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবার দেশের স্কুল পর্যায়ে রোবটিক্স শিক্ষা চালু করতে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শতাধিক স্কুলে এ পাঠ্যক্রম চালু করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষায় “ভূমিকা ভিত্তিক রোবটিক্স” শীর্ষক একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করা হয়েছে। এতে থাকবে সহজ প্রোগ্রামিং, সেন্সর ব্যবহার, অটোমেশন ধারণা, এবং ছোটখাটো রোবট তৈরি ও পরিচালনার হাতে-কলমে শিক্ষা।   ভবিষ্যতের কর্মদক্ষতা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক হাফিজুর রহমান বলেন, “বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রযুক্তি-ভিত্তিক দক্ষতা সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন। আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্যই এই প্রস্তুতি।” তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে যাতে তারা ক্লাসে রোবটিক্স বিষয়টি সহজভাবে তুলে ধরতে পারেন।   শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে ইতোমধ্যে কিছু বেসরকারি স্কুল পরীক্ষামূলকভাবে রোবটিক্স ক্লাব পরিচালনা করছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর একটি স্কুলের শিক্ষার্থী সানজিদা রহমান জানায়, “আমরা নিজেরাই ছোট একটি রোবট বানিয়েছি, সেটি চলতে পারে এবং নির্দেশ মানতে পারে—এটা ভীষণ রোমাঞ্চকর।”   কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে দেশীয় স্টার্টআপ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে একাধিক দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। ‘টেকল্যাবস বাংলাদেশ’ নামের একটি স্টার্টআপ ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্কুলে লো-কোস্ট রোবটিক্স কিট সরবরাহ শুরু করেছে।   বিশেষজ্ঞদের মত প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রাথমিক স্তরে রোবটিক্স শিক্ষা ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেকাট্রনিক্স এবং অটোমেশন সেক্টরে দক্ষ কর্মশক্তি গড়ার ভিত্তি তৈরি করবে।

শহুরে জীবনে গ্রিন লাইফস্টাইল: চাইলেই কি সম্ভব?
শহুরে জীবনে গ্রিন লাইফস্টাইল: চাইলেই কি সম্ভব?

শহুরে জীবনে গ্রিন লাইফস্টাইল: চাইলেই কি সম্ভব? শহর মানেই ব্যস্ততা, কংক্রিটের জঙ্গল, দূষিত বাতাস, এবং অনিয়ন্ত্রিত শব্দ। এই যান্ত্রিক পরিবেশে বসবাস করা মানুষ প্রতিদিন একটু সবুজ, একটু প্রশান্তি খোঁজে। তাই ‘গ্রিন লাইফস্টাইল’ বা পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের ধারণা শহরের মানুষদের মাঝেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই শহুরে বাস্তবতায় আমরা কি সত্যিই গ্রিন লাইফস্টাইল মেনে চলতে পারি? গ্রিন লাইফস্টাইল মানে শুধু গাছ লাগানো নয়। এটি একটি সামগ্রিক জীবনধারা, যেখানে প্রকৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে সহাবস্থানের চেষ্টা থাকে। যেমন—প্লাস্টিক ব্যবহার না করা, পুনর্ব্যবহারযোগ্য জিনিস ব্যবহার করা, গাছ লাগানো, অর্গানিক খাবার খাওয়া, কম দূষণ হয় এমন বাহনে চলাচল করা, বিদ্যুৎ ও পানি সাশ্রয় করা, এমনকি নিজস্ব ছাদে সবজি চাষ করাও এর অংশ হতে পারে। কিন্তু শহরে এই সবকিছু কি সহজে করা যায়? উত্তরটা একদম সরল নয়। শহরের বাসিন্দাদের জন্য অনেক সময় জায়গার অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফ্ল্যাটে থাকলে ছাদে বাগান করা যায় না, রান্নার সময় প্লাস্টিক প্যাকেট এড়ানোও কঠিন হয়ে পড়ে কারণ বাজারে সহজলভ্য জিনিসপত্রের বেশিরভাগই প্লাস্টিক মোড়ানো। তাছাড়া, ব্যস্ত জীবনযাপনের কারণে সময় বের করাও কঠিন হয়ে পড়ে। তবে আশার কথা হলো, ইচ্ছা থাকলে উপায় বের করা যায়। শহুরে জীবনে কিছু ছোট ছোট অভ্যাস বদলেই শুরু করা যায় সবুজ যাত্রা। যেমন ধরুন, কেউ যদি বাজারের ব্যাগ হিসেবে কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করেন, বা পানির বোতল বারবার রিফিল করেন, তবুও তিনি পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখছেন। অফিসে যাওয়ার সময় যদি বাস বা সাইকেল ব্যবহার করা যায়, তাহলেও কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমে। অনেক শহরেই এখন কমিউনিটি গার্ডেন, ছাদ কৃষি, সোলার প্যানেল স্থাপন, কিংবা জিরো ওয়েস্ট মুভমেন্ট জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। মানুষ নিজেরাই উদ্যোগ নিচ্ছে। ঢাকার মতো ব্যস্ত শহরেও অনেকে নিজেদের ব্যালকনিতে টব বসিয়ে ছোট পরিসরে সবজি ফলাচ্ছেন, কেউ আবার সোলার লাইট ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করছেন। তবে এই চর্চা টেকসই করতে হলে প্রয়োজন নীতিনির্ধারকদের সহায়তা। শহরের পরিকল্পনায় আরও বেশি সবুজ এলাকা, হাঁটার রাস্তা, বাইসাইকেল লেন, এবং রিসাইক্লিং ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি জরুরি। সরকার যদি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে ভর্তুকি দেয় বা সচেতনতা বাড়ায়, তাহলে মানুষ আরও সহজে গ্রিন লাইফস্টাইল গ্রহণ করতে পারবে। শহুরে জীবন যতই ব্যস্ত হোক না কেন, যদি সচেতনতা থাকে এবং ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে ‘গ্রিন লাইফস্টাইল’ একেবারেই অসম্ভব নয়। বরং, এটি হতে পারে একটি শান্ত, স্বাস্থ্যকর এবং টেকসই জীবনের সূচনা। আমাদের সবারই উচিত নিজ নিজ জায়গা থেকে যতটুকু সম্ভব, পরিবেশবান্ধব পন্থায় জীবনযাপন করার চেষ্টা করা। কারণ প্রকৃতি বাঁচলেই আমরা বাঁচব—এই সত্যটা আজ আরও বাস্তব হয়ে উঠেছে।

Follow us

Top week

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’
জাতীয়

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

News অক্টোবর ১১, ২০২৬ 0

Rss feed news

রোডস: সমুদ্র, ইতিহাস আর কিছু জীবন্ত স্মৃতি
রোডস: সমুদ্র, ইতিহাস আর কিছু জীবন্ত স্মৃতি

<p>ভ্রমণেরও একটা নিজস্ব জীবন আছে। শুরুতে থাকে অজানাকে জানার কৌতূহল, মাঝপথে থাকে দেখা ও আবিষ্কারের আনন্দ, আর শেষবেলায় এসে মনে হয়, এতগুলো দিন কী দ্রুতই না কেটে গেল! গ্রিসের রোডস দ্বীপে এবারের সফরটিও ঠিক এভাবেই শেষের দিকে এসে দাঁড়িয়েছে। আগামীকাল সুইডেনে ফিরে যাব। সঙ্গে নিয়ে যাব কিছু দৃশ্য, কিছু অভিজ্ঞতা, কিছু পরিচিত মুখ আর এমন কিছু স্মৃতি, যেগুলো হয়তো অনেক দিন মনের মধ্যে ঘুরে বেড়াবে।</p><p> রোডসে আসার আগে দ্বীপটি সম্পর্কে যা জানতাম, তার বড় অংশই ছিল ইতিহাস ও পর্যটনকেন্দ্রিক। কিন্তু কোনো জায়গা সম্পর্কে পড়া আর সেখানে গিয়ে কয়েকটি দিন কাটানো এক কথা নয়। বইয়ে ইতিহাসের সাল-তারিখ পাওয়া যায়, ছবিতে দেখা যায় সমুদ্রের নীল জল, আর ভ্রমণবিষয়ক লেখায় পাওয়া যায় দর্শনীয় স্থানের পরিচয়। কিন্তু সেখানে দাঁড়িয়ে বাতাসের স্পর্শ অনুভব করা, নিজের চোখে চারপাশ দেখা কিংবা অচেনা মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার অভিজ্ঞতা অন্য রকম।</p><p> রোডসকে আমরা দেখেছি, তার সমুদ্রে সাঁতার কেটেছি, রোদে সময় কাটিয়েছি, দ্বীপের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছি এবং তার ইতিহাসকে আরও কাছ থেকে জানার চেষ্টা করেছি। প্রতিটি অভিজ্ঞতা আলাদা, অথচ সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে আমাদের এই কয়েক দিনের ভ্রমণকাহিনি।</p><p><strong>সমুদ্রের কাছে সময়ের হিসাব আলাদা</strong></p><p>রোডসের সমুদ্রের কথা আলাদা করে বলতেই হয়। সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে থাকা আর সমুদ্রে নেমে পড়ার মধ্যে যে পার্থক্য, তা সাঁতার না কাটলে পুরোপুরি বোঝা যায় না। তীরে দাঁড়িয়ে ঢেউ দেখা একধরনের আনন্দ, কিন্তু পানিতে নেমে যখন শরীরটাকে জলের ওপর ছেড়ে দেওয়া যায়, তখন সমুদ্রের সঙ্গে সম্পর্কটাই যেন বদলে যায়।</p><p>কখনো সাঁতার কেটেছি, কখনো রোদে শুয়ে থেকেছি, কখনো শুধু চারপাশের দৃশ্য উপভোগ করেছি। ছুটির দিনগুলোতে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন কোথাও পৌঁছানোর তাড়া থাকে না, কিছু অর্জন করারও প্রয়োজন পড়ে না। সময়কে শুধু নিজের মতো করে কাটাতে ইচ্ছা করে।</p><p>আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সময়ের সঙ্গে একধরনের প্রতিযোগিতা চলে। কাজ, দায়িত্ব, পরিকল্পনা, ভবিষ্যতের চিন্তা, কত কিছুই না সামলাতে হয়! অথচ সমুদ্রের সামনে বসে থাকলে মনে হয়, জীবনের সব সময়কে কাজে লাগাতেই হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। কিছু সময় শুধু বেঁচে থাকার আনন্দ অনুভব করার জন্যও রাখা দরকার।</p><p>সমুদ্র অবশ্য কাউকে কোনো উপদেশ দেয় না। তার ঢেউ আসে, তীরে আছড়ে পড়ে, আবার ফিরে যায়। মানুষই তার মধ্যে নিজের ভাবনার প্রতিধ্বনি খুঁজে নেয়।</p><blockquote>দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com</blockquote><p><strong>ইতিহাসের পথে হাঁটা</strong></p><p>রোডসের আরেকটি আকর্ষণ তার দীর্ঘ ইতিহাস। ভূমধ্যসাগরের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কারণে দ্বীপটি বহু শতাব্দী ধরে বাণিজ্য, সমুদ্রযাত্রা, সামরিক শক্তি ও বিভিন্ন সভ্যতার সংযোগস্থল হিসেবে পরিচিত। প্রাচীন গ্রিক ঐতিহ্য থেকে শুরু করে মধ্যযুগে নাইটদের শাসন, অটোমান আমল এবং পরবর্তী ইতালীয় শাসন, সব মিলিয়ে রোডসের অতীত বেশ জটিল ও বৈচিত্র্যময়।</p><p>বিশেষ করে পুরোনো রোডস শহরের পাথুরে রাস্তা, প্রাচীর, ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং মধ্যযুগীয় পরিবেশের মধ্যে হাঁটলে ইতিহাসকে শুধু অতীতের ঘটনা বলে মনে হয় না। মনে হয়, সময়ের বিভিন্ন স্তর যেন একই জায়গায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে।</p><p>একটি শহর কত মানুষের পদচিহ্ন ধারণ করে, কত শাসকের উত্থান-পতন দেখে, কত যুদ্ধ ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নিজের পরিচয় ধরে রাখে! আজ আমরা সেখানে পর্যটক হিসেবে ঘুরে বেড়াই, ছবি তুলি, স্থাপনা দেখি। অথচ এসব জায়গার প্রতিটি পাথরের পেছনে রয়েছে এমন সব মানুষের জীবন, যাদের অধিকাংশের নাম ইতিহাসে কোথাও লেখা নেই।</p><p>এই উপলব্ধি ইতিহাস দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়। ইতিহাস তখন শুধু রাজা, শাসক কিংবা যুদ্ধের বিবরণ থাকে না; তা হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষের জীবন, শ্রম, আশা, ভয় এবং টিকে থাকার গল্পও।</p><p><strong>গ্রামের পথে, ইতিহাসের ছায়ায়</strong></p><p>রোডসকে শুধু সমুদ্রসৈকত আর পুরোনো শহর দিয়ে চিনলে দ্বীপটির পুরো সৌন্দর্য বোঝা যায় না। এর আসল বৈচিত্র্য ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন গ্রাম, পাহাড়ি পথ, নিরিবিলি উপসাগর আর প্রাচীন জনপদের মধ্যে। কোথাও সাদা বাড়ির সারি পাহাড়ের গায়ে উঠে গেছে, কোথাও পাথরের দেয়ালঘেরা প্রাচীন নগরীর ধ্বংসাবশেষ দাঁড়িয়ে আছে, আবার কোথাও সবুজ গাছপালার মধ্যে ইতিহাস ও প্রকৃতি পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছে।</p><p>রোডসের এমনই একটি অনন্য জনপদ লিন্ডোস। দ্বীপের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত এই গ্রাম দূর থেকেই চোখে পড়ে। পাহাড়ের ঢালে ধাপে ধাপে উঠে যাওয়া সাদা বাড়িগুলোর ওপরে রয়েছে প্রাচীন অ্যাক্রোপলিস, যার অবস্থান যেন পুরো গ্রামটিকে আগলে রেখেছে। সরু আঁকাবাঁকা গলি, সাদা দেয়াল, ছোট ছোট উঠান, ঐতিহ্যবাহী বাড়ি আর দোকানপাটের মধ্য দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে মনে হয়, এখানে আধুনিক পর্যটন আর পুরোনো গ্রিক জীবনের কিছু পরিচিত চিহ্ন পাশাপাশি রয়ে গেছে।</p><p>লিন্ডোসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ তার পাহাড়চূড়ার প্রাচীন দুর্গনগরী। সেখানে রয়েছে দেবী অ্যাথেনা লিন্ডিয়ার মন্দিরের অবশেষসহ বিভিন্ন যুগের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। ওপর থেকে নিচের সাদা গ্রাম, আশপাশের উপকূল আর নীল এজিয়ান সাগরের দিকে তাকালে বোঝা যায়, প্রাচীনকালে এমন উঁচু জায়গা কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এখান থেকে সমুদ্র শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়; যোগাযোগ, বাণিজ্য ও নিরাপত্তারও অংশ। নিচে রয়েছে সেন্ট পলস বে, যার বাঁকানো উপকূল ও নীল জল লিন্ডোসের সৌন্দর্যকে আরও পূর্ণতা দিয়েছে। ইতিহাস আর প্রকৃতির এমন মিলন খুব সহজেই মানুষের মনে জায়গা করে নেয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/7sqnz2m3/11.jpeg"></figure><p>লিন্ডোসের বিশেষত্ব শুধু তার প্রাচীন স্থাপনায় নয়, তার গ্রামীণ পরিবেশেও। সরু গলিতে হাঁটলে কখনো মনে হয় সময় ধীর হয়ে এসেছে, আবার পর্যটকদের আনাগোনা মনে করিয়ে দেয়, এই পুরোনো জনপদ আজকের পৃথিবীর সঙ্গেও নিবিড়ভাবে যুক্ত। এখানে ইতিহাসকে কাচের বাক্সে বন্দী করে রাখা হয়নি; বরং মানুষ প্রতিদিন যে পথ দিয়ে চলাচল করে, সেই পথের পাশেই ইতিহাসের চিহ্ন রয়ে গেছে।</p><p>রোডসের আরেকটি উল্লেখযোগ্য স্থান ফিলেরিমোস পাহাড়। ইআলিসোসের কাছে অবস্থিত এই পাহাড়ে রয়েছে প্রাচীন জনপদের নিদর্শন, ধর্মীয় স্থাপনা, গাছঘেরা পথ এবং চারপাশের বিস্তৃত ভূদৃশ্য। এখানকার মঠ ও গির্জা বিভিন্ন ঐতিহাসিক সময়ের স্মৃতি বহন করে। পাহাড়ের ওপরের পথ ধরে এগোলে ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া ধর্মীয় পথের দেখা মেলে, যার শেষে রয়েছে বিশাল ক্রুশ এবং চারপাশের দৃশ্য দেখার উন্মুক্ত স্থান। ফিলেরিমোসে ইতিহাসের পাশাপাশি একধরনের নীরবতাও অনুভব করা যায়। শহরের ব্যস্ততা থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে সমুদ্র ও ভূমির বিস্তার দেখলে মনে হয়, প্রকৃতির কাছে এসে মানুষ কখনো কখনো নিজের ভাবনাগুলোকেও নতুন করে সাজিয়ে নিতে পারে।</p><p>প্রাচীন ইতিহাসের প্রতি আগ্রহ থাকলে কামিরোসও রোডসের একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। লিন্ডোস ও ইআলিসোসের সঙ্গে কামিরোস ছিল দ্বীপটির তিনটি প্রধান প্রাচীন নগরীর একটি। পাহাড়ের ঢালে সমুদ্রের দিকে মুখ করে গড়ে ওঠা এই জনপদ একসময় কৃষি ও বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিল। আজ সেখানে বাড়িঘর, জনসমাগমের স্থান, মন্দির, রাস্তা ও পানি সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখা যায়। ধ্বংসাবশেষের মধ্যে দাঁড়িয়ে ভাবলে বোঝা যায়, একটি শহর শুধু তার রাজনীতি বা স্থাপত্য দিয়ে তৈরি হয় না; তার পেছনে থাকে মানুষের দৈনন্দিন জীবন, খাবার উৎপাদন, পানি সংগ্রহ, চলাচল এবং একসঙ্গে বসবাসের দীর্ঘ ইতিহাস।</p><p>প্রকৃতির অন্য রূপ দেখতে রয়েছে পেতালুদেস বা প্রজাপতি উপত্যকা। দ্বীপের পশ্চিমাংশের এই সবুজ উপত্যকা গাছপালা, জলধারা ও ছায়াঘেরা হাঁটার পথের জন্য পরিচিত। নির্দিষ্ট মৌসুমে এখানে বিশেষ একধরনের প্রজাপতি ও মথের সমাগম ঘটে। তবে এদের উপস্থিতি বছরের সব সময় সমান থাকে না; তাই শুধু নাম শুনে নয়, প্রকৃতির নিজস্ব ছন্দ বুঝেই জায়গাটিকে দেখতে হয়। উপত্যকার পরিবেশে হাঁটলে সমুদ্রতীরের উন্মুক্ত রোদ আর ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্রের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা এক জগৎ পাওয়া যায়। এখানে শব্দ কমিয়ে প্রকৃতিকে বিরক্ত না করে চারপাশের সৌন্দর্য উপভোগ করাটাই সবচেয়ে সুন্দর অভিজ্ঞতা।</p><p>এই জায়গাগুলোর মধ্যে মিল যেমন রয়েছে, পার্থক্যও তেমন স্পষ্ট। লিন্ডোসে সমুদ্র, সাদা বাড়ি ও প্রাচীন স্থাপত্যের সম্মিলন; ফিলেরিমোসে পাহাড়, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও বিস্তৃত দৃশ্য; কামিরোসে প্রাচীন নগরজীবনের চিহ্ন; আর প্রজাপতি উপত্যকায় সবুজ প্রকৃতির নিজস্ব জগৎ। সব মিলিয়ে রোডস যেন একই দ্বীপের মধ্যে কয়েকটি আলাদা পৃথিবী সাজিয়ে রেখেছে।</p><p>ভ্রমণে এসে আমরা অনেক সময় বিখ্যাত জায়গার নাম মনে রাখি, ছবি তুলে রাখি। কিন্তু কোনো জায়গার প্রকৃত পরিচয় ধরা পড়ে তখনই, যখন তার ইতিহাস, প্রকৃতি ও মানুষের জীবনকে একসঙ্গে দেখার চেষ্টা করি। রোডসের গ্রামগুলো সেই সুযোগ দেয়। এখানে একটি সরু গলি শুধু গলি নয়, একটি পাহাড়চূড়া শুধু দৃশ্য দেখার জায়গা নয়, আর কয়েকটি ভাঙা পাথরও কেবল ধ্বংসাবশেষ নয়। সবকিছুর পেছনে রয়েছে সময়ের দীর্ঘ প্রবাহ, মানুষের জীবন এবং পৃথিবীকে নিজের মতো করে গড়ে তোলার চেষ্টা।</p><p>হয়তো এ কারণেই রোডস ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় শুধু নীল সমুদ্রের ছবিই মনে থাকে না। মনে থেকে যায় সাদা গ্রামের পথ, পাহাড়ের ওপরের বাতাস, প্রাচীন নগরীর নীরবতা এবং সবুজ উপত্যকার শান্ত পরিবেশও। দ্বীপটির সৌন্দর্য তখন একটি দৃশ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা হয়ে ওঠে নানা অভিজ্ঞতায় গড়ে ওঠা একটি পূর্ণাঙ্গ স্মৃতি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/u86m81tu/12.jpeg"></figure><p><strong>অচেনা মানুষের সঙ্গে পরিচয়</strong></p><p>ভ্রমণের আরেকটি আনন্দ হলো, নিজের পরিচিত জগতের বাইরে গিয়ে অন্য মানুষের জীবনকে কাছ থেকে দেখা। রোডসে স্থানীয় মানুষ এবং অন্য ভ্রমণকারীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয়েছে। ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনযাপনে পার্থক্য থাকলেও মানুষের দৈনন্দিন আনন্দ, আতিথেয়তা, কৌতূহল কিংবা পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগের ইচ্ছার মধ্যে অনেক মিল খুঁজে পাওয়া যায়।</p><p>কোনো জায়গাকে সত্যিকার অর্থে চিনতে হলে তার স্থাপনা দেখাই যথেষ্ট নয়। সেখানে যাঁরা বাস করেন, তাঁদের জীবনযাত্রা সম্পর্কেও কৌতূহলী হতে হয়। তাঁরা কীভাবে দিন কাটান, তাঁদের কাছে দ্বীপটির অর্থ কী, পর্যটনের ভিড়ের বাইরে তাঁদের নিজস্ব পৃথিবীটি কেমন, এসব প্রশ্ন ভ্রমণকে আরও অর্থবহ করে।</p><p>আমরা কয়েক দিনের অতিথি। স্থানীয় মানুষের কাছে রোডস প্রতিদিনের জীবন, কাজ ও দায়িত্বের জায়গা। আমাদের কাছে যে দৃশ্য নতুন, তাঁদের কাছে সেটিই হয়তো প্রতিদিনের পরিচিত বাস্তবতা। একই জায়গাকে মানুষ যে কত ভিন্নভাবে দেখতে পারে, ভ্রমণ সেই শিক্ষাও দেয়।</p><p>আর পরিচয়ের সবচেয়ে সুন্দর দিকটি হলো, সব সময় দীর্ঘ আলাপের প্রয়োজন হয় না। কখনো একটি হাসি, আন্তরিক ব্যবহার কিংবা সামান্য কথোপকথনও অচেনা জায়গাটিকে পরিচিত করে তুলতে পারে।</p><p><strong>বন্ধুত্বের উপহার</strong></p><p>ভ্রমণের আনন্দ শুধু নতুন জায়গা দেখা নয়, কখনো কখনো অচেনা মানুষের সঙ্গে এমন সম্পর্ক তৈরি হওয়া, যা ভ্রমণ শেষ হওয়ার পরও থেকে যায়। রোডসে আমাদের থাকার জায়গা Bayside Hotel Katsaras-এর মালিক নিকের সঙ্গে তেমনই একটি সুন্দর বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। মজার ব্যাপার হলো, তাঁর ছোট ভাই স্টিভের সঙ্গেও আমাদের পরিচয় ও যোগাযোগ হয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে দুই ভাই যেভাবে আন্তরিকতা ও যত্ন নিয়ে আমাদের সেবা করেছেন, তাতে তাঁদের কাছে আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ। এই ভালোবাসার ঋণ কীভাবে শোধ করব, তা অবশ্য এখনো জানি না! তবে একটা উপায় ভেবে রেখেছি। দুজনকেই সুইডেনে আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছি। দেখা যাক, রোডসে তৈরি হওয়া এই বন্ধুত্ব এবার সুইডেন পর্যন্ত গড়ায় কি না! ভ্রমণের শেষে এটাই তো সবচেয়ে সুন্দর প্রাপ্তিগুলোর একটি, অচেনা জায়গায় গিয়ে এমন কিছু মানুষকে পাওয়া, যাঁরা ফিরে আসার পরও হৃদয়ে থেকে যান।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/owk218lw/13.jpeg"></figure><p><strong>ভ্রমণ মানে শুধু নতুন জায়গা দেখা নয়</strong></p><p>আমি মনে করি, ভ্রমণের আনন্দ শুধু কতগুলো জায়গা দেখা হলো, কতগুলো ছবি তোলা হলো কিংবা কতগুলো ঐতিহাসিক তথ্য জানা হলো, তার ওপর নির্ভর করে না। ভ্রমণ আমাদের পরিচিত জীবনের বাইরে নিয়ে যায়। দৈনন্দিন অভ্যাস থেকে সাময়িক বিরতি দেয় এবং চারপাশকে নতুনভাবে দেখতে শেখায়।</p><p>এবারের রোডস সফরেও সমুদ্র, সাঁতার, রোদ, দ্বীপের বিভিন্ন স্থান, ইতিহাস ও মানুষের সঙ্গে পরিচয়ের অভিজ্ঞতা একসঙ্গে মিশে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মারিয়ার সঙ্গে এই সময়টুকু ভাগ করে নেওয়া। একসঙ্গে পথচলা, নতুন জায়গা দেখা, কোথাও থেমে যাওয়া কিংবা দিনের শেষে বিশ্রাম নেওয়া, দীর্ঘ দাম্পত্যের জীবনে এমন অভিজ্ঞতাগুলোও নিজস্ব মূল্য বহন করে।</p><p>জীবনে বড় বড় ঘটনার গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু ফিরে তাকালে দেখা যায়, ছোট ছোট মুহূর্তও স্মৃতির ভেতর স্থায়ী জায়গা করে নেয়। কোনো একটি বিকেলের আলো, সমুদ্রের পানিতে কাটানো সময়, পথে দেখা কোনো দৃশ্য কিংবা অচেনা কারও সঙ্গে পরিচয়, বহুদিন পরেও মনে পড়ে যেতে পারে।</p><p>সম্ভবত ভ্রমণের সবচেয়ে সুন্দর দিক এখানেই। আমরা শুধু জায়গা থেকে জায়গায় যাই না, নিজের জীবনেও কিছু নতুন অভিজ্ঞতা যোগ করি।</p><p><strong>আবার সুইডেনে ফেরা</strong></p><p>আগামীকাল আমাদের রোডস ছেড়ে সুইডেনে ফিরে যাওয়ার পালা। একটি ভ্রমণ শেষ হচ্ছে, আবার শুরু হবে পরিচিত জীবনের নিয়মিত ছন্দ। সুইডেনের পরিচিত পরিবেশ, ঘরবাড়ি, দৈনন্দিন দায়িত্ব ও অভ্যাস আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।</p><p>তবে ভ্রমণ শেষ হলেই তার অভিজ্ঞতা শেষ হয়ে যায় না। আমরা ফিরে যাই, কিন্তু দেখা জায়গাগুলো মনের মধ্যে থেকে যায়। কোনো দৃশ্য নতুন করে মনে পড়ে, কোনো ঘটনা নিয়ে আবার ভাবি, কখনো পরিচিত জীবনের মধ্যেও ভ্রমণের সময় পাওয়া কোনো উপলব্ধি কাজে লাগে।</p><p>রোডস আমাদের কাছে শুধু একটি গ্রিক দ্বীপ হয়ে থাকবে না। এটি হয়ে থাকবে সমুদ্রের নীল জল, রোদে কাটানো অবসর, ইতিহাসের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা, দ্বীপের সুন্দর গ্রামগুলো এবং অচেনা মানুষের সঙ্গে পরিচয়ের স্মৃতি নিয়ে।</p><p>পৃথিবীতে দেখার মতো জায়গার অভাব নেই। এক জীবনে সব জায়গা দেখা সম্ভবও নয়। কিন্তু সব জায়গা দেখাই তো শেষ কথা নয়। যে জায়গায় যাই, সেখান থেকে কিছু অনুভব করতে পারলাম কি না, নতুন কিছু জানতে পারলাম কি না, নিজের পরিচিত পৃথিবীটাকে একটু অন্যভাবে দেখতে শিখলাম কি না, সেটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।</p><p>আগামীকাল রোডস থেকে বিদায় নেব। সমুদ্র থাকবে, দ্বীপ থাকবে, তার ইতিহাস ও মানুষের জীবনও চলতে থাকবে। আমরা ফিরে যাব নিজেদের জীবনে, সঙ্গে নিয়ে যাব কয়েক দিনের অভিজ্ঞতা।</p><p>আর এভাবেই ভ্রমণ শেষ হয়েও শেষ হয় না। জায়গা ছেড়ে চলে যাই আমরা, কিন্তু জায়গাটি থেকে যায় আমাদের স্মৃতিতে, কখনো কোনো ছবিতে, কখনো কোনো গল্পে, কখনো নিঃশব্দে ফিরে আসা এক টুকরো নীল সমুদ্রের মধ্যে।</p><p>রোডস, বিদায়। কয়েক দিনের অতিথি হয়ে এসেছিলাম, ফিরছি কিছু স্মৃতি, কিছু নতুন বন্ধুত্ব আর নতুন করে অনুভব করা জীবনের আনন্দ নিয়ে।</p>

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে ক্যারিয়ার ফেয়ার, অংশ নিল ৮০টি প্রতিষ্ঠান
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে ক্যারিয়ার ফেয়ার, অংশ নিল ৮০টি প্রতিষ্ঠান

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে ন্যাশনাল ক্যারিয়ার ফেয়ারে ৮০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়, শিক্ষার্থীরা সরাসরি বিভিন্ন সুযোগ পান, ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
ওয়াইডব্লিউসিএ বালিকা বিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী বার্ষিক ক্লাব কার্যক্রম শেষ
ওয়াইডব্লিউসিএ বালিকা বিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী বার্ষিক ক্লাব কার্যক্রম শেষ

ওয়াইডব্লিউসিএ উচ্চমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ১৩-১৪ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী বার্ষিক ক্লাব কার্যক্রম-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়।

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন হামলায় ২০ বাংলাদেশির মৃত্যু
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন হামলায় ২০ বাংলাদেশির মৃত্যু

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন হামলায় ২০ বাংলাদেশির মৃত্যু

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে’ এবার নিবন্ধন বেড়েছে ১৫ লাখ
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে’ এবার নিবন্ধন বেড়েছে ১৫ লাখ

গতবারের তুলনায় এবার ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে’ সাড়া পড়েছে বেশি। তবে নতুন প্রতিভাদের বড় হয়ে ওঠার পথ কতটা মসৃণ, সে প্রশ্ন থাকছেই।

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
বৃহস্পতির চৌম্বকীয় বলয়ে নতুন রহস্যের সন্ধান পেল জুনো
বৃহস্পতির চৌম্বকীয় বলয়ে নতুন রহস্যের সন্ধান পেল জুনো

<p>রাতের আকাশে বৃহস্পতি গ্রহটিকে খালি চোখে দেখলে কেবল একটি উজ্জ্বল বিন্দুর মতোই মনে হয়। কিন্তু সৌরজগতের সবচেয়ে বড় এই গ্রহটির সবকিছু মানুষের কল্পনার চেয়েও বিশাল। সৌরজগতের অন্যান্য সব গ্রহকে একসঙ্গে মেলালেও তা বৃহস্পতির সমান হবে না। এই অবাক করা বিশালত্বের সঙ্গে পাল্লা দিতেই গ্রহটির চারপাশ ঘিরে রয়েছে এক অতিকায় ম্যাগনেটোস্ফিয়ার বা চৌম্বকীয় বলয়। ম্যাগনেটোস্ফিয়ার হলো কোনো গ্রহের চারপাশের অদৃশ্য চৌম্বকীয় ঢাল, যা গ্রহটিকে মহাকাশের ক্ষতিকর সৌরঝড় ও রেডিয়েশন থেকে রক্ষা করে।</p><p>কিন্তু বৃহস্পতি গ্রহের চারপাশের অদৃশ্য চৌম্বকীয় বলয়ে এমন কী ঘটছে, যা বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের স্থির ধারণাকে এক নিমিষে চুরমার করে দিল? মহাকাশযান জুনোর পাঠানো নতুন তথ্যে বেরিয়ে এসেছে, বৃহস্পতির ম্যাগনেটোডিস্ক কোনো মসৃণ থালার মতো নয়, বরং তা দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ঢেউখেলানো তরঙ্গের মতো। এর পেছনে বৃহস্পতির চাঁদ আইওর ভূমিকা থাকতে পারে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/space/xk4cfjki4w">বৃহস্পতি গ্রহের বজ্রপাত পৃথিবীর চেয়ে ১০০ গুণ শক্তিশালী</a></aside><blockquote>ম্যাগনেটোস্ফিয়ার হলো কোনো গ্রহের চারপাশের অদৃশ্য চৌম্বকীয় ঢাল, যা গ্রহটিকে মহাকাশের ক্ষতিকর সৌরঝড় ও রেডিয়েশন থেকে রক্ষা করে।</blockquote><p>২০১৬ সাল থেকে নাসার পাঠানো জুনো স্পেসক্রাফট এই গ্রহটিকে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করে আসছে। এর মূল বৈজ্ঞানিক উদ্দেশ্য বৃহস্পতির বিশাল চৌম্বকীয় বলয় এবং এর সবচেয়ে ভেতরের দিকের চাঁদ আইওর মধ্যকার জটিল সম্পর্কটি ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করা। আইও আমাদের চাঁদের মতো শান্তশিষ্ট কোনো উপগ্রহ নয়। সৌরজগতের সবচেয়ে বেশি আগ্নেয়গিরি আছে এই উপগ্রহে। ভূতাত্ত্বিকভাবে মারাত্মক সক্রিয় একটি উপগ্রহ আইও। সেখানে প্রতিনিয়তই বিশাল আকারের লাভার বিস্ফোরণ ঘটে চলেছে এবং সেই ফুটন্ত লাভা মহাকাশে ছিটকে পড়ছে।</p><p>দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বৃহস্পতির আংটির মতো দেখতে একটি নির্দিষ্ট অংশ, যাকে বলা হয় ম্যাগনেটোডিস্ক। গ্রহটির প্রচণ্ড দ্রুত ঘূর্ণন এবং আইওর রাক্ষুসে আগ্নেয়গিরি থেকে ছিটকে আসা পদার্থগুলো একসঙ্গে মিলে এই বিশেষ চাকতিটি তৈরি করে। বৃহস্পতি গ্রহটি এতই বিশাল হওয়া সত্ত্বেও এটি নিজের অক্ষে একটি লাটিমের মতো ভয়ানক জোরে ঘোরে। নিজের অক্ষে একবার সম্পূর্ণ ঘুরে আসতে এর সময় লাগে মাত্র ৯.৯ ঘণ্টা! কিছুদিন আগপর্যন্তও বিজ্ঞানীরা ভাবতেন, এই ম্যাগনেটোডিস্কটি বুঝি একটি নিখুঁত ও মসৃণ থালার মতো, যা বৃহস্পতির ঘূর্ণনের সঙ্গে সঙ্গে কেবল একবার ওপরে ওঠে আর একবার নিচে নামে। কিন্তু মহাকাশের সত্যিটা যে এত রোমাঞ্চকর হবে, তা কে জানত!</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/space/pb1ci3xg0x">বৃহস্পতি গ্রহ একসময় এখনকার চেয়ে দ্বিগুণ বড় ছিল</a></aside><blockquote>বৃহস্পতি গ্রহটি এতই বিশাল হওয়া সত্ত্বেও এটি নিজের অক্ষে একটি লাটিমের মতো ভয়ানক জোরে ঘোরে। নিজের অক্ষে একবার সম্পূর্ণ ঘুরে আসতে এর সময় লাগে মাত্র ৯.৯ ঘণ্টা!</blockquote><h2><strong>মসৃণ থালার বদলে এ কেমন মহাজাগতিক ঢেউ</strong></h2><p>চীনের শানডং ইউনিভার্সিটির একদল গবেষকের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক দল জুনো স্পেসক্রাফটের পাঠানো নতুন তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীদের পুরোনো সেই ধারণা পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছেন। <em>সায়েন্স চায়না আর্থ সায়েন্সেস</em> জার্নালে প্রকাশিত তাদের এই যুগান্তকারী গবেষণায় বৃহস্পতির ম্যাগনেটোডিস্কের চৌম্বকীয় ক্ষেত্র এবং সেখানে থাকা উচ্চশক্তিসম্পন্ন কণাগুলোর গতিবিধি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণার ফলাফল থেকে দেখা যায়, যখন বৃহস্পতির চৌম্বকীয় বলয়টি খুব বেশি সক্রিয় অবস্থায় থাকে, তখন এর ম্যাগনেটোডিস্কটি মোটেই কোনো মসৃণ থালার মতো থাকে না; বরং এটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে বিশাল এক ঢেউখেলানো তরঙ্গের আকার ধারণ করে।</p><p>স্বাভাবিক অবস্থায় জুনো স্পেসক্রাফটের বৃহস্পতির প্রতি ঘূর্ণনে, মানে প্রতি ৯.৯ ঘণ্টায় মাত্র দুবার এই ম্যাগনেটোডিস্কের বিদ্যুৎবাহী স্তরটি পার হওয়ার কথা। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো, ম্যাগনেটোডিস্কের রিকানেকশন বা পুনরায় জোড়া লাগার ঘটনাগুলোর সময় জুনো এই বিদ্যুৎবাহী স্তরটি বারবার পার হতে থাকে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/1t9ppxwx/pia21770large.jpg"><figcaption>শিল্পীর কল্পনায় জুনো স্পেসক্রাফটের কাল্পনিক ছবি </figcaption></figure><p>রিকানেকশন হলো মহাকাশের এমন একটি জটিল প্রক্রিয়া, যেখানে চৌম্বকীয় বলরেখাগুলো প্রচণ্ড চাপে ভেঙে গিয়ে আবার নতুন করে জোড়া লাগে এবং সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়। প্রতিবার এই স্তর পার হওয়ার সময়ই জুনো একই রকম স্পষ্ট কিছু চৌম্বকীয় সংকেত ধরতে পেরেছে। সেই সঙ্গে পেয়েছে চার্জিত ইলেকট্রন ও আয়নের বিশাল এক স্রোত।</p><p>গবেষক দলের বিশ্লেষণে ধরা পড়ে, এই বিদ্যুৎবাহী স্তরটি কেবল ওপরে ওঠে আর নিচে নামে না, বরং পুকুরের জলে ঢিল ছুড়লে যেমন ঢেউ তৈরি হয়, ঠিক সেভাবেই এটি ঢেউ খেলতে থাকে। মহাজাগতিক এই প্রতিটি ঢেউয়ের স্থায়িত্ব হয় কয়েক মিনিট থেকে শুরু করে একটানা এক ঘণ্টারও বেশি সময়!</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/space/hsdh743b3q">বৃহস্পতি: গ্রহদের রাজা</a></aside><blockquote>রিকানেকশন হলো মহাকাশের এমন একটি জটিল প্রক্রিয়া, যেখানে চৌম্বকীয় বলরেখাগুলো প্রচণ্ড চাপে ভেঙে গিয়ে আবার নতুন করে জোড়া লাগে এবং সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়।</blockquote><h2><strong>পৃথিবীর সঙ্গে বৃহস্পতির এই পার্থক্যে লুকিয়ে আছে কোন রহস্য</strong></h2><p>গবেষক দলটি তাদের গবেষণাপত্রে নিশ্চিত করেছেন, বৃহস্পতির এই ম্যাগনেটোডিস্কে ছোট ছোট অসংখ্য রিকানেকশন সাইট বা চৌম্বকীয় সংযোগস্থল রয়েছে, যা প্রায় ১০০ ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশ জুড়ে বিশাল এলাকা নিয়ে ছড়িয়ে আছে। তারা আরও দেখেছেন, এই সংযোগস্থলগুলো প্রতিনিয়ত ডিস্কের চৌম্বকীয় বলরেখাগুলোকে ভেঙে দেয় এবং কারেন্ট শিটটিকে তার স্বাভাবিক ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান থেকে অনেক দূরে ঠেলে সরিয়ে দেয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/ctgpwvic/Illustration_of_Jupiter_s_magnetodisk_current_sheet__blue_surface___deformed_into_a_rippling_structu.png"><figcaption>বৃহস্পতির চৌম্বকক্ষেত্রের ডিস্কের পাতলা তড়িৎপ্রবাহ স্তরটি নীল রঙে দেখানো হয়েছে। ছোট ছোট জায়গায় চৌম্বক পুনঃসংযোগের কারণে স্তরটি ঢেউখেলানো আকার ধারণ করেছে। হলুদ বিন্দুগুলো এসব পুনঃসংযোগের স্থান</figcaption></figure><p>যেহেতু বৃহস্পতির ম্যাগনেটোডিস্কটি প্রচণ্ড বেগে ঘোরে, তাই পুরো কারেন্ট শিটটি গ্রহের সঙ্গেই পাক খেতে থাকে। মজার ব্যাপার হলো, আমাদের পৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের সঙ্গে এর কোনো মিলই নেই! পৃথিবীতে চৌম্বকীয় তরঙ্গের ঢেউগুলো তৈরি হওয়ার পর তা রিকানেকশন সাইট থেকে অনেক দূরে সরে যায়। কিন্তু বৃহস্পতির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র দেখা যায়। এখানকার চৌম্বকীয় সংকেতগুলো স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে, কারেন্ট শিটটি নিজেই একটি ঢেউখেলানো অবস্থায় গ্রহের সঙ্গে তীব্র বেগে ঘুরছে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/space/49bwf2if66">বৃহস্পতি গ্রহে মানুষ গেলে কী হবে?</a></aside><blockquote>যেহেতু বৃহস্পতির ম্যাগনেটোডিস্কটি প্রচণ্ড বেগে ঘোরে, তাই পুরো কারেন্ট শিটটি গ্রহের সঙ্গেই পাক খেতে থাকে। মজার ব্যাপার হলো, আমাদের পৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের সঙ্গে এর কোনো মিলই নেই!</blockquote><p>এই নতুন আবিষ্কার গোটা বিশ্বের বিজ্ঞানীদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এই ঢেউখেলানো চৌম্বকীয় স্তরটি আইও থেকে আসা জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির কণাগুলোর গতি বাড়াতে এবং সেগুলো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যেতে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারে। নতুন এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, এই কণাগুলো বৃহস্পতির আয়নোস্ফিয়ার এবং ম্যাগনেটোডিস্কের মধ্যকার সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরও জটিল করে তুলতে পারে। মূলত এই বিশ্লেষণ এটাই প্রমাণ করে, বৃহস্পতির ম্যাগনেটোডিস্ক মোটেই কোনো সাধারণ বা মসৃণ ঘূর্ণায়মান থালা নয়; এটি অত্যন্ত জটিল ও চরম পরিবর্তনশীল একটি মহাজাগতিক পরিবেশ।</p><p>জুনো স্পেসক্রাফট বর্তমানে তার মূল মিশন শেষে বর্ধিত মিশনে কাজ করে যাচ্ছে, যা আগামী ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত পুরোদমে চলার কথা রয়েছে। এর আগে নাসার পাঠানো গ্যালিলিও প্রোবই ছিল একমাত্র মহাকাশযান, যা শুধু বৃহস্পতি গ্রহকে নিয়েই গবেষণা করেছিল। গ্যালিলিওর দশকের পর দশক আগের ফেলে আসা সেই অসমাপ্ত কাজগুলোকেই এখন আরও সূক্ষ্মভাবে পূর্ণতা দিচ্ছে জুনো।</p><h4>সূত্র: ইউনিভার্স টুডে</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/g7z5jhayqo">একাদশে বৃহস্পতি</a></aside>

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
আয়াসের জামিন শুনানিতে বিচারকের সামনেই আইনজীবীদের হাতাহাতি
আয়াসের জামিন শুনানিতে বিচারকের সামনেই আইনজীবীদের হাতাহাতি

শিল্পকলা একাডেমির দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার আল-নূর মোহাম্মদ আয়াসের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে সিএমএম আদালতে হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
৮০ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণে পাঠাল ড্যাফোডিল বন্ধুসভা
৮০ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণে পাঠাল ড্যাফোডিল বন্ধুসভা

প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘একটি ভালো কাজ’–এর অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম করেন বন্ধুরা। উদ্দেশ্য, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতাকে বাস্তব ও কার্যকর সামাজিক কর্মকাণ্ডে রূপ দেওয়া। আয়োজনে সহযোগিতা করে ডিআইইউ সাসটেইনেবিলিটি উইং।

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
সৌদি জোটের হামলার জবাবে হুথিদের পাল্টা হামলা, আরামকোর সদরদপ্তরে 'ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি'
সৌদি জোটের হামলার জবাবে হুথিদের পাল্টা হামলা, আরামকোর সদরদপ্তরে 'ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি'

ইয়েমেনের রাজধানী সানার কাছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের একটি জ্বালানি ডিপোতে বিমান হামলার পর, রাতেই হুথিদের ছোঁড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর মালিকাধীন একটি ভবনে আঘাত হেনেছে। এদিকে, বাংলাদেশে অতীতের অপারেশন ক্লিন হার্ট এর মতো অভিযান করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
বাংলাদেশে ৩৫ বছরের পরে আইনজীবী হতে বাধা কেন?
বাংলাদেশে ৩৫ বছরের পরে আইনজীবী হতে বাধা কেন?

বাংলাদেশে আইন পেশায় এমন অনেকেই আছেন, যারা ৩৮, ৪০ বা ৫০ বছর বয়সেও এই পেশায় এসেছেন। তবে, এবার এমন সুযোগ বন্ধ করার কথা ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি সরকার।

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
মৃত শাবক নিয়ে ঘুরছিল মাদি হাতি, প্রাণীদের শোকের বিরল আচরণ
মৃত শাবক নিয়ে ঘুরছিল মাদি হাতি, প্রাণীদের শোকের বিরল আচরণ

২০২৬ সালের 'ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার'-এর বিজয়ী হাতির এমন এক বিরল আচরণ ক্যামেরাবন্দী করেছেন, যা তাদের আবেগীয় জীবনের জটিলতাকে উন্মোচন করে।

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
পোপ লিও ক্যান্সারে আক্রান্ত, এ নিয়ে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর
পোপ লিও ক্যান্সারে আক্রান্ত, এ নিয়ে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর

ভ্যাটিকান জানিয়েছে, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ডান ফুসফুসের নিম্নাংশ অপসারণের পর পোপের ফুসফুসের ক্যান্সার শনাক্ত হয়েছে।

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার ২০২৬-এর বিজয়ী ছবিগুলো
ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার ২০২৬-এর বিজয়ী ছবিগুলো

এ বছরের বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছে মৃত শাবক বহনকারী হাতি, মোরে ঈলের সন্তান প্রসবের মুহূর্তের মতো চমকপ্রদ ছবি।

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
ইমরান খানের শক্ত ঘাঁটি অবরুদ্ধ করেছে পাকিস্তান, কিন্তু এর ফল উল্টো হতে পারে
ইমরান খানের শক্ত ঘাঁটি অবরুদ্ধ করেছে পাকিস্তান, কিন্তু এর ফল উল্টো হতে পারে

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দলের শক্ত ঘাঁটি খাইবার পাখতুনখোয়ায় এখন জরুরি অবস্থা জারি রয়েছে। একইসঙ্গে তার দলের প্রাদেশিক সরকার স্থগিত করা হয়েছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সমর্থকদের সঙ্গে সরকারের এই অচলাবস্থা পরিস্থিতি কমানোর পরিবর্তে আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে।

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
পত্রিকা: 'শাহজালালে আটকা ১৩ হাজার যাত্রী'
পত্রিকা: 'শাহজালালে আটকা ১৩ হাজার যাত্রী'

সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণায় ঢাকার হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন প্রায় ১৩ হাজারের বেশি যাত্রী; আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসসহ বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন আসছে; আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল– ঢাকা থেকে প্রকাশিত আজকের সংবাদপত্রে এসব খবর গুরুত্ব পেয়েছে।

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
কলম্বাসের ৫০০ বছর আগে আমেরিকা পৌঁছেছিল যে ভাইকিংরা
কলম্বাসের ৫০০ বছর আগে আমেরিকা পৌঁছেছিল যে ভাইকিংরা

ভাইকিংরা কোন রকম আড়ম্বর ছাড়াই পৌঁছেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে, যাদের প্রত্যাবর্তনে কোনো রাজকীয় ঘোষণা দেয়া হয়নি, কিংবা সড়কে ভিড় করে কেউ তাদের অভ্যর্থনাও জানায়নি। কিন্তু সময় হিসেব করলে ক্রিস্টোফার কলম্বাসের ৫০০ বছর আগেই তারা আমেরিকার মাটিতে পদার্পন করেছিলেন।

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ যুবককে পিটিয়ে হত্যা
‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ যুবককে পিটিয়ে হত্যা

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ করে ফেসবুক লাইভে লোক জড়ো করে দুই দফা গণপিটুনি দিয়ে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৩৮) নামে এক ব্যক্তি হত্যা করা হয়েছে।

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
প্রশ্নফাঁসের জেরে স্থগিত হওয়া যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরীক্ষা ১৬ অক্টোবর
প্রশ্নফাঁসের জেরে স্থগিত হওয়া যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরীক্ষা ১৬ অক্টোবর

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে স্থগিত হওয়া উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের প্রিলিমিনারি (বাছাই) পরীক্ষা আগামী ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন বেলা তিনটায় নির্ধারিত সব কেন্দ্রে এই পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। 

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
রপ্তানি বহুমুখীকরণে গবেষণা সেল গঠন
রপ্তানি বহুমুখীকরণে গবেষণা সেল গঠন

রপ্তানি বহুমুখীকরণ, নতুন বাজারের সম্ভাবনা চিহ্নিত করা এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি জোরদার করতে গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
স্কুল-কলেজে বিজ্ঞান মেলা আয়োজনের সুপারিশ
স্কুল-কলেজে বিজ্ঞান মেলা আয়োজনের সুপারিশ

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে উদ্ভাবনী শক্তি জাগ্রত করার লক্ষ্যে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিজ্ঞান মেলা আয়োজনের সুপারিশ করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। 

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
ঢাকা-রোম ফ্লাইট বাড়া‌নোর প্রস্তাব ইতালির
ঢাকা-রোম ফ্লাইট বাড়া‌নোর প্রস্তাব ইতালির

ঢাকা-রোম ফ্লাইট আরো বাড়া‌নোর প্রস্তাব দি‌য়ে‌ছে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও অ্যালেসান্ড্রো।

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
২৩ ও ২৪ অক্টোবর কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভাল 
২৩ ও ২৪ অক্টোবর কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভাল 

দীর্ঘ ৯ বছর পর আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে দেশের নামি-দামি শিল্পীরা অংশ নেবেন। 

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
বাংলা একাডেমিতে ‘ঐতিহ্য বুক কার্নিভাল’ শুরু বৃহস্পতিবার
বাংলা একাডেমিতে ‘ঐতিহ্য বুক কার্নিভাল’ শুরু বৃহস্পতিবার

সৃজনশীল প্রকাশনা সংস্থা ‘ঐতিহ্য’ প্রতি বছরের মতো এবারো আয়োজন করতে যাচ্ছে ‘ঐতিহ্য বুক কার্নিভাল ২০২৬’।

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে ৩.৭ শতাংশ
নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে ৩.৭ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে মুদ্রাস্ফীতি আরো বেড়ে গেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়া বছরে মুদ্রাস্ফীতির হার বেড়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে, যা আগের মাসে ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।

অক্টোবর ১৪, ২০২৬