প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘একটি ভালো কাজ’–এর অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম করেন বন্ধুরা। উদ্দেশ্য, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতাকে বাস্তব ও কার্যকর সামাজিক কর্মকাণ্ডে রূপ দেওয়া। আয়োজনে সহযোগিতা করে ডিআইইউ সাসটেইনেবিলিটি উইং।
রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ এবং সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এ আয়োজনে কথা বলেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকেরা
<p>রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক এবং বেসরকারি স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংকের লেনদেন দুই দিন করে বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের লেনদেন ১৫ অক্টোবর রাত ১২টা থেকে ১৭ অক্টোবর শনিবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। আর স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংকের লেনদেন বন্ধ থাকবে ২০ অক্টোবর রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত ১০টা পর্যন্ত। আজ বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের আলাদা দুটি প্রজ্ঞাপন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।</p><p>বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক দুটি তাদের কোর ব্যাংকিং সিস্টেমের (সিবিএস) সফটওয়্যার ও ডেটাবেজ হালনাগাদ করতে যাচ্ছে। এই উদ্দেশ্যে নির্ধারিত সময়ে এই ব্যাংকগুলোকে সার্ভার আপগ্রেডের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারের ডেটাবেজ সংস্করণ এবং স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংকের ডেটাবেজ সার্ভার, অ্যাপ্লিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক ও ডেটাবেজ ব্যবস্থাপনা সিস্টেম হালনাগাদ করা হবে।</p><p>সোনালী ব্যাংকের ক্ষেত্রে ইন্টেলেক্ট সিবিএস ১০. ০০ সফটওয়্যারের ডেটাবেজ সংস্করণ ওরাকল ১১জি থেকে ওরাকল ১৯সি–তে উন্নীত করা হবে। এই কার্যক্রমের জন্য ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে ১৭ অক্টোবর শনিবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, আপগ্রেড কার্যক্রমের জন্য উল্লেখিত সময় সংরক্ষণ করা হয়েছে।</p><p>অন্যদিকে, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংকের সিবিএস ডেটাবেজ সার্ভার ও অ্যাপ্লিকেশন ফ্রেমওয়ার্কের সংস্করণ ১১জি থেকে ১২সি–তে এবং ডেটাবেজ ব্যবস্থাপনা সিস্টেম ওরাকল ১১জি থেকে ১৯সি–তে উন্নীত করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকটির প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত ১০টা পর্যন্ত আপগ্রেড কার্যক্রম চলবে।</p><p>কোর ব্যাংকিং সিস্টেম আপডেটের জন্য নির্ধারিত সময়ে ব্যাংক দুটির গ্রাহকেরা লেনদেন করতে পারবেন না। এরই মধ্যে ব্যাংক দুটি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে গ্রাহকদের এই তথ্য জানিয়েছে।</p>
২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের অধীনে ইউনাইটেডে একসঙ্গে খেলেছেন ওয়েন রুনি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
<p>শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেন বিজ্ঞানী জেবা ইসলাম সেরাজ।<strong> </strong>১৪ অক্টোবর, বুধবার ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ‘মিট বাংলাদেশি সায়েন্টিস্টস’ শিরোনামে এটি আয়োজিত হয়। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশন।</p><p>অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও অনুসন্ধিৎসা বাড়ানো এবং গবেষণার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ তৈরি করা। পাশাপাশি দেশের বিশিষ্ট বিজ্ঞানীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা ও তাঁদের কাছ থেকে গবেষণার বাস্তব অভিজ্ঞতা জানার সুযোগ তৈরি করাও ছিল এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/t5p7sowu/s2.jpg"></figure><p>অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব লাইফ সায়েন্সেসের অধ্যাপক জেবা ইসলাম সেরাজ। তিনি শিক্ষার্থীদের সামনে নিজের বিজ্ঞানী হয়ে ওঠার গল্প এবং গবেষণার নানা দিক তুলে ধরেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কৌতূহলোদ্দীপক প্রশ্নের উত্তর দেন।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/events/jogyw9sz31">আন্তর্জাতিক গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রথম স্বর্ণ জয়, মোট পদক ১৫টি</a></aside><p>আলোচনায় জেবা ইসলাম সেরাজ শিক্ষার্থীদের চারপাশের নানা বিষয় নিয়ে কৌতূহলী হতে এবং প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করেন। তাঁর পরামর্শ, বাস্তব জীবনের সমস্যাগুলোকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে হবে এবং সেগুলোর সমাধান খুঁজতে হবে। একজন সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে বিজ্ঞানী হয়ে ওঠার পথে দৃঢ় সংকল্প, নিয়মিত চেষ্টা ও ধৈর্যের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তাঁর বিশেষ বার্তা ছিল, কোনো বাধার মুখেই হাল ছেড়ে দেওয়া যাবে না।</p><p>অনুষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আলমগীর কবির এবং বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল মো. তাজউদ্দিন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/a7557hua/s4.png"></figure><p>বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশন আশা প্রকাশ করেছে, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের প্রতি আগ্রহী করে তুলবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বিজ্ঞানী ও গবেষক হয়ে ওঠার পথেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/events/yg4id74of8">রোবট প্রদর্শনীতে উদ্ভাবনের চমক, দক্ষিণ কোরিয়া যাচ্ছে টিম বাংলাদেশ</a></aside>
<p>গত ২৮ বছরে দেশে প্লাস্টিকের ব্যবহার ৮০ গুণ বেড়েছে জানিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমরা অন্যান্য দেশের তুলনায় খারাপ অবস্থায় আছি। আজকে যে ডেঙ্গুর বিস্তার, সেটাও পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্লাস্টিকের এ দূষণ থেকে জাতিকে মুক্ত করতে যা যা করা দরকার, সব করব। এ নিশ্চয়তা আপনাদের দিতে পারি।’</p><p> আজ বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে পরিবেশমন্ত্রী এ কথা বলেন। ‘প্লাস্টিক বর্জ্যের ব্যবস্থাপনা: উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্ব (ইপিআর–২০২৬)’ শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠক যৌথভাবে আয়োজন করে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও প্রথম আলো।</p><p> প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘প্লাস্টিক একটা ভয়াবহ দুর্যোগ তৈরি করছে আমাদের জন্য। স্বাস্থ্যহানির পাশাপাশি এটি জলাবদ্ধতা তৈরি করছে। বুড়িগঙ্গার তলদেশে ৬ থেকে ৮ ফুট প্লাস্টিকের স্তর জমে আছে।’</p><p>প্লাস্টিক দূষণ কমিয়ে এর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ইপিআরের প্রশংসা সবাই করলেও এর মূল চ্যালেঞ্জ হলো বাস্তবায়ন। ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সাল—এই ২৮ বছরে দেশে প্লাস্টিকের ব্যবহার ১৫ হাজার টন থেকে বেড়ে ১৮ লাখ টনে পৌঁছেছে। ফলে ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ৮০ গুণ। জাতিকে এ দূষণের হাত থেকে বাঁচাতে যা যা করা দরকার, তার সবই সরকার করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।</p><p>গত আগস্টে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ‘উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্ব (ইপিআর–২০২৬)’ শীর্ষক নির্দেশিকা তৈরি করে পরিবেশ অধিদপ্তর। এই নির্দেশিকার আওতায় ব্যবহৃত বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্চক্রায়নে প্লাস্টিক উৎপাদনকারী ও আমদানিকারকদের কার্যকর দায়িত্ব নিশ্চিত করতে চায় সরকার।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/cltbz6u2/Roundtable-Abdul-Awal-Mintoo-2.JPG"><figcaption>গোলটেবিল বৈঠকে (বাঁ থেকে) সুমাইয়া টি আহমেদ, মালিক মোহাম্মদ সাঈদ, আজমান আহমেদ চৌধুরী, মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, শিরিন লিরা, আবদুল্লাহ আল মামুন ও সামিম আহমেদ। কারওয়ান বাজার, ঢাকা। ১৪ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p>গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্লাস্টিক দূষণ ক্রমান্বয়ে কমিয়ে এনে এ বর্জ্যের টেকসই ব্যবস্থাপনা এককভাবে কারও পক্ষে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ জন্য উৎপাদক, ভোক্তা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বেসরকারি খাতের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে উৎসেই বর্জ্য পৃথক্করণ এবং বর্জ্য সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত অনানুষ্ঠানিক খাতকে মূলধারায় নিয়ে আসার ওপর জোর দেন তাঁরা। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্লাস্টিকের উৎপাদন, ভোগ ও আমদানির বিষয়ে সরকারের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত থাকার তাগিদ দেওয়া হয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/dk2x0emn/Roundtable-Abdul-Awal-Mintoo-3.JPG"><figcaption>ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও প্রথম আলোর যৌথ আয়োজনে ‘প্লাস্টিক বর্জ্যের ব্যবস্থাপনা: উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্ব (ইপিআর–২০২৬)’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা। কারওয়ান বাজার, ঢাকা। ১৪ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p>ওয়াটারএইড বাংলাদেশ মূলত সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা—এ দুটি বিষয় নিয়ে কাজ করছে জানিয়ে সংস্থাটির কান্ট্রি ডিরেক্টর আজমান আহমেদ চৌধুরী বলেন, ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের সঙ্গে সঙ্গে প্লাস্টিকের জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি বর্তমানে বড় সংকটে রূপ নিয়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় ইপিআর একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।</p><p>প্লাস্টিক দূষণের কারণে পানির উৎসগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে সামগ্রিক পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে উল্লেখ করে আজমান আহমেদ চৌধুরী তৃণমূল পর্যায়ে ইপিআর বাস্তবায়ন, উৎসে বর্জ্য পৃথক্করণ এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।</p>
<p>বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন থেকে নিখোঁজ হওয়া তিন কিশোরীর তিন দিনেও সন্ধান মেলেনি। গত রোববার বিদ্যালয় থেকে নিবন্ধন কার্ড নিয়ে আসার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তারা। এর পর থেকে তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। আজ বুধবার পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা এ তথ্য জানিয়েছেন।</p><p> নিখোঁজ তিন কিশোরীর বয়স ১৪ থেকে ১৫ বছর। তারা ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের একই পাড়ার বাসিন্দা এবং পরস্পরের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। তাদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী চকরিয়ার মানিকপুর এলাকার একটি বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে। অন্য দুজন স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।</p><p>পরিবারের সদস্যরা জানান, রোববার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে তিন কিশোরী চকরিয়ার মানিকপুরে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। ১৫ বছর বয়সী কিশোরী বিদ্যালয় থেকে নিবন্ধন কার্ড আনতে যাচ্ছিল। তবে তারা বিদ্যালয়ে পৌঁছেছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা।</p><p>এক কিশোরীর মা জানান, তিনজনের কারও কাছে মুঠোফোন থাকার কথা নয়। তবে যে অটোরিকশায় তারা চকরিয়ায় গিয়েছিল, সেই চালক পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছেন, কিশোরীদের হাতে একটি অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন দেখেছেন। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে মঙ্গলবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন পরিবারের সদস্যরা।</p><p>লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ জানান, চকরিয়া বাসস্ট্যান্ডে একটি মুঠোফোনসহ তিন কিশোরীকে স্থানীয় কয়েকজন দেখেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সেখান থেকে তারা কোন দিকে গেছে, তা জানা যায়নি। নিখোঁজ কিশোরীরা চকরিয়া অথবা কক্সবাজারের কোথাও থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।</p><p>ওসি কাইছার হামিদ আরও জানান, কিশোরীদের সন্ধানে চকরিয়া থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে।</p>
<p>রাজধানীর ভাটারায় একটি বাসার চালের ড্রাম থেকে ৩৪ হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ ঘটনায় মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই বাসার ভাড়াটে মালা বেগম (৬২) ও তাঁর ছেলে মামুন চোকদারকে (৩৬) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য এক কোটি দুই লাখ টাকা।</p><p> গতকাল মঙ্গলবার রাতে ভাটারা থানার ছোলমাইদ ঢালিবাড়ী কাঁচাবাজারসংলগ্ন একটি পাঁচতলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বুধবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।</p><p>মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রাত নয়টার দিকে ডিএনসির একটি দল ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়। রাত ৯টা ২০ মিনিটে ফ্ল্যাটের ভেতরে থাকা একটি চালের ড্রাম তল্লাশি করা হয়। ড্রামটির ভেতরে কফি রঙের একটি সাইড ব্যাগে কাগজ ও স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো ১৭টি প্যাকেটে মোট ৩৪ হাজার ইয়াবা পাওয়া যায়। পরে ইয়াবাগুলো জব্দ করা হয়।</p><h3>ইয়াবার প্রকৃত মালিক আরেক নারী </h3><p>মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার মা ও ছেলে জানিয়েছেন, উদ্ধার করা ইয়াবার প্রকৃত মালিক ভাটারা থানার জোয়ার সাহারা এলাকার বাসিন্দা সাহিদা বেগম ওরফে ইতি (৪৮)। তিনি কক্সবাজার থেকে ইয়াবার চালান এনে মালা বেগমের ভাড়াবাসায় মজুত রাখতেন। পরে সেখান থেকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী ও সাইনবোর্ড এবং টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরসহ বিভিন্ন স্থানে তা সরবরাহ করা হতো।</p><p>অভিযানের সময় উপস্থিত না থাকায় সাহিদা বেগমকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে ডিএনসি। এ ঘটনায় মালা বেগম, মামুন চোকদার ও সাহিদা বেগমের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ভাটারা থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।</p>
<p>রাজধানীর পল্লবী ও রূপনগর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্রের মহড়া ও শোডাউনের ভিডিও ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিলেন ‘ফোর স্টার’ গ্রুপের সদস্যরা। তাঁদের মধ্যে মশিউর–মামুন গ্রুপের সাতজন এবং মোক্তার গ্রুপের একজনসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি গুলি, দেশীয় অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।</p><p>আজ বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে এসআরবি-৪। গত সোমবার দিবাগত রাতে এসআরবি–৪–এর একটি দল পল্লবী থানার সিরামিক এলাকা ও ১২ নম্বর ঝিলপাড়ায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।</p><p>গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জুয়েল রানা (২৬), সায়মন (২০), রমজান (২২), বিজয় (২৩), ফজলে রাব্বি চিকু (২৩), আফসার হোসেন জিম (১৯), জাহাঙ্গীর হোসেন ও মিশন ইসলাম ওরফে মিনহাজুল ইসলাম। তাঁদের মধ্যে রমজানের নামে দুটি, ফজলে রাব্বির বিরুদ্ধে একটি, মিশনের বিরুদ্ধে দুটি ও বিজয়ের বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/nucz70d8/WhatsApp_Image_2026_10_14_at_8_33_13_PM.jpeg"><figcaption>উদ্ধার করা পিস্তুল, গুলি ও মুঠোফোন</figcaption></figure><p>এসআরবি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আফসার ‘ফোর স্টার’ গ্রুপের মশিউর-মামুন অংশের শুটার হিসেবে পরিচিত। আফসার ও তাঁর সহযোগী সায়মনের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি গুলি উদ্ধার করা হয়। সায়মন অস্ত্র বহন ও গুলিবর্ষণের সময় আফসারের সঙ্গে সামনের সারিতে থাকতেন।</p><p>গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীর পল্লবী এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণ করতেন উল্লেখ করে এসআরবি জানিয়েছে, তাঁকে গ্রেপ্তারের সময় ২৫টি ইয়াবা বড়ি ও ১৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মাদক মামলা রয়েছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/crime/xhhfh18qc4">মিরপুরে তিন ভাইয়ের বাহিনী, দখলে রাখেন তিন এলাকা </a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/4bowrmvv/prothomalo_bangla_2026_09_29_tx1raza5_Mamun.avif"></figure><p>এসআরবি জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মশিউর-মামুন ও মোক্তার গ্রুপের হয়ে পল্লবী এলাকায় জমি ও স্থাপনা দখল, চাঁদাবাজি, অস্ত্রের মহড়া এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে বিজয় ও ফজলে রাব্বি চিকু অস্ত্রধারী সদস্য হিসেবে পরিচিত। রমজানও গ্রুপটির সক্রিয় সদস্য। মিশন ওরফে চোর মিশন চোরাই মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত। আর জুয়েল রানা মোক্তার গ্রুপের সক্রিয় অস্ত্রধারী সদস্য। বর্তমান তিনি মোক্তার গ্রুপের অন্যতম সদস্য সাবু ও পাগলা মামুনের হয়ে কাজ করেন।</p><p>সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসআরবি জানায়, মিরপুর, পল্লবী ও রূপনগর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। এসব অপরাধের সংবাদ প্রকাশ করায় এক সাংবাদিকের বাসায় হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।</p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন