খেলাধুলা

প্রথম ম্যাচেই উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলে হারলো বাংলাদেশ

হোসেন মাঝি সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
প্রথম ম্যাচেই উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলে হারলো বাংলাদেশ
প্রথম ম্যাচেই উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলে হারলো বাংলাদেশ

এশিয়ান গেমসের নারী ফুটবলে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে প্রথম ম্যাচেই ১০-০ গোলে হারলো বাংলাদেশ। প্রথমার্ধেই ৭ গোল হজম করেছিল মারিয়া মান্দারা। কোনোভাবেই উত্তর কোরিয়ার সামনে কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি বাংলাদেশের ফুটবলাররা। আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশ নারী দল এর আগে কখনো এতগুলো গোল হজম করে হারেনি।

জাপানের ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে একের পর এক আক্রমণে বাংলাদেশকে দিশেহারা করে তোলে উত্তর কোরিয়া। প্রথমার্ধেই একে-একে বাংলাদেশের জালে ৭ বার বল জড়ায়। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার কিছুটা কমে আসলেও আরও ৩ গোল যোগ করে ব্যবধানকে উন্নীত করে ১০-০ ব্যবধানে।

প্রতিপক্ষের জন রং, চাই উন ও কিম কিয়ং করেছেন জোড়া গোল। বাংলাদেশের জালে উত্তর কোরিয়ার গোল উৎসবের শুরুটা হয় ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই। শুরু করেন জন রিয়ং জং। এরপর ১০ম মিনিটেও তিনি নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোল করেন।

তবে ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই গোল করেছিলেন রি সং। তার গোলটি বাতিল করে দেন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)।

১২ মিনিটে ব্যবধান ৩-০ করেন হোয়াং ইউ। ৬ মিনিট পর ১৮ মিনিটে চতুর্থ গোলটি করেন চায়ে উন ইয়ং। ৩৫ মিনিটে তিনিও সম্পন্ন করেন নিজের জোড়া গোল। দলের স্কোরলাইন হয় ৫-০।

৪০ ও ৪৩ মিনিটে জোড়া গোল করে প্রথমার্ধেই ৭-০ ব্যবধান করেন কিম কিয়ং ইয়ং। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও গোল উৎসব শুরু করে উত্তর কোরিয়া। ৫১তম মিনিটে দলের ৮ম গোল করেন রি সং আ। ৬০ মিনিটে ৯ম গোল করেন জং কুম।

৬০-৯০, এই ৩০ মিনিটে উত্তর কোরিয়াকে বেশ ভালোভাবেই ঠেকিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। এই আধাঘন্টায় কোনো গোল হতে দেননি তারা। তবে, ৯০তম মিনিটে উত্তর কোরিয়ার হয়ে ১০ম গোল করেন হান জিন হং।

আরআই/আইএন/আইএইচএস

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

খেলাধুলা

View more
ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগের অপেক্ষায় হকির মেয়েরা
ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগের অপেক্ষায় হকির মেয়েরা

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পথচলা শুরুর পর এবার আরও বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর অপেক্ষায় বাংলাদেশ নারী হকি দল। প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে জাপানে পৌঁছেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসে মাঠে নামার মধ্য দিয়ে দেশের নারী হকিতে যোগ হতে যাচ্ছে নতুন এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। চলতি বছরের এপ্রিলে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমস হকির বাছাইপর্বে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অভিষেক হয় বাংলাদেশ নারী দলের। অভিষেকেই দারুণ সাফল্য পায় তারা। বাছাইপর্বের বাধা পেরিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ইতিহাস গড়ে হকির মেয়েরা। সেই ঐতিহাসিক অর্জনের ধারাবাহিকতায় এখন জাপানে বাংলাদেশের নারী হকি দল। এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরে প্রথমবারের অংশগ্রহণই দলটির জন্য বিশেষ এক মাইলফলক। প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই দেশের নারী হকির ইতিহাসে যুক্ত হবে নতুন একটি অধ্যায়। দলের একটি বড় অংশ অবশ্য আগেই জাপানে পৌঁছেছে। চীনে অনুষ্ঠিত জুনিয়র এশিয়া কাপে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ দলের ১৩ জন খেলোয়াড় ছিলেন জাতীয় দলের সদস্য। চীন থেকে তারা সরাসরি জাপানে গেছেন। বাকি খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্টরা ঢাকা থেকে জাপানে গিয়ে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। এশিয়ান গেমসের মঞ্চে প্রথমবারের মতো খেলার সুযোগ পাওয়ায় প্রত্যাশার পাশাপাশি রয়েছে চ্যালেঞ্জও। এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করতে হবে বাংলাদেশের মেয়েদের। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন হলেও গত কয়েক মাসে পাওয়া অভিজ্ঞতা তাদের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। নারী হকির বিকাশে বাংলাদেশের জন্য এই অংশগ্রহণ তাই কেবল একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নয়, বরং নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেওয়ার উপলক্ষ। ইতিহাস গড়ার পর এবার ইতিহাসের মঞ্চে নিজেদের গল্প লেখার অপেক্ষায় লাল-সবুজের হকির মেয়েরা। এশিয়ান গেমস হকির নারী বিভাগে ১২ দেশ দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে। বাংলাদেশ পড়েছে ‘এ’ গ্রুপে। অন্য ৫ দেশ হচ্ছে-চীন, চাইনিজ তাইপে, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও কাজাখস্তান। আরআই/আইএন

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
শেলটনকে হারিয়ে ইউএস ওপেনের মুকুট জভেরেভের

শেলটনকে হারিয়ে ইউএস ওপেনের মুকুট জভেরেভের

প্রথম ম্যাচেই উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলে হারলো বাংলাদেশ

প্রথম ম্যাচেই উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলে হারলো বাংলাদেশ

একাদশে নেই ঋতুপর্ণা, ১২ মিনিটে ৩ গোল হজম বাংলাদেশের

একাদশে নেই ঋতুপর্ণা, ১২ মিনিটে ৩ গোল হজম বাংলাদেশের

পদকের জন্য লড়াই করতে ক্রীড়াবিদ তৈরি করছি: আমিনুল হক
পদকের জন্য লড়াই করতে ক্রীড়াবিদ তৈরি করছি: আমিনুল হক

খেলাধুলাকে শুধু অংশগ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আন্তর্জাতিক আসরে পদকের জন্য লড়াই করতে ক্রীড়াবিদ তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেন, আমরা শুধু এশিয়ান গেমস কিংবা অলিম্পিকের মতো সর্বোচ্চ আসরে অংশগ্রহণ করতে চাই না। আমরা চাই, পদক জেতার জন্য অংশগ্রহণ করতে। পদকের জন্য লড়াই করতে পারি সেই চিন্তা নিয়ে আমরা কাজ করতে চাই। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ক্রীড়া উৎসব-২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আমিনুল হক বলেন, খেলাধুলার কোনো বয়স নেই। নিজেকে সুস্থ রাখা ও সুস্থ জীবনযাপনের জন্য হাঁটাচলা, দৌড়ানো কিংবা খেলাধুলার চর্চা করা প্রয়োজন। খেলাধুলার এই চর্চার প্রভাব ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনেও পড়ে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের একটি গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল মুক্তিযুদ্ধের সময় খেলাধুলার মাধ্যমে স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠনে ভূমিকা রেখেছিল। ১৯৭৭ সালের ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশে প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পরিবর্তন আনা সম্ভব এই চিন্তা থেকেই বর্তমান সরকার ক্রীড়াঙ্গনকে গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ‘শূন্য থেকে’ কাজ শুরু করেছে এবং ধীরে ধীরে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। ৫০০ ক্রীড়াবিদ পাবেন ক্রীড়া ভাতা খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে ক্রীড়া ভাতা চালু করা হয়েছে জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, বর্তমানে প্রায় ৩০০ ক্রীড়াবিদ এই ভাতা পাচ্ছেন। চলতি মাসের শেষ নাগাদ আরও প্রায় ২০০ জনকে এর আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। তিনি বলেন, শুধু খেলোয়াড় নয়, যোগ্য রেফারি ও কোচদেরও যাচাই-বাছাই করে ক্রীড়া ভাতার আওতায় আনা হচ্ছে। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন যেভাবে দেওয়া হয়, একইভাবে ক্রীড়া ভাতাও দেওয়া হচ্ছে। এক মাস ক্রীড়া ভাতা বন্ধ থাকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি নতুন কর্মসূচি হওয়ায় সাময়িক সমস্যা হয়েছিল। ভাতা চালু করার জন্য এরইমধ্যে অর্থ বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তা আবার চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। বকেয়া ভাতাসহ পরবর্তী সব ভাতা একসঙ্গে ক্রীড়াবিদদের ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, ক্রীড়া ভাতা দিতে সরকার প্রতি বছর ৬০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ করেছে। এই অর্থ দিয়ে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে ভাতার আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এর ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহিত হবে। বাবা-মায়েরাও সন্তানকে শুধু ডাক্তার বা প্রকৌশলী বানানোর চিন্তা না করে ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে আগ্রহী হবেন। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে’ ১৫ লাখ নিবন্ধন তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়াবিদ তুলে আনতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির কথা তুলে ধরে আমিনুল হক বলেন, এর ধারণাটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে এসেছে। তিনি বলেন, প্রথম আসরে অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিলেন। উপজেলা থেকে জেলা, বিভাগ হয়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়। গত ২৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে প্রথম আসর শেষ করেন। দ্বিতীয় আসরের অনলাইন নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, এবার দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে দল গঠন করে ১০টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১৫ লাখ অনলাইন নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। লক্ষ্য ছিল ১৪ লাখ ক্রীড়াবিদ। সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে নিবন্ধনের সময় বাড়ানো হলে এই সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আমিনুল হক বলেন, ছেলে-মেয়ে ও কিশোর-কিশোরীদের এই ব্যাপক অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে পরিবার, স্কুল ও সমাজে একটি বার্তা যাচ্ছে খেলাধুলাই দল-মত নির্বিশেষে একটি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে। ৫০৩ উপজেলায় ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগ তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার অবকাঠামো শক্তিশালী করতে উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের উদ্যোগের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এরইমধ্যে ২০১টি উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের কার্যক্রম অনুমোদন হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় উপজেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। তার ভাষ্য, জেলা পর্যায়ের ক্রীড়া কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করলে তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ তুলে আনা সহজ হবে। বিকেএসপিতে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ ও পড়াশোনা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর প্রথম আসরে জাতীয় পর্যায়ে ভালো করা ৩০৬ জন ক্রীড়াবিদকে নিয়ে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) দুই মাসের প্রশিক্ষণ শুরু হবে বলে জানান আমিনুল হক। তিনি বলেন, এই প্রশিক্ষণ থেকে অসাধারণ প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের বাছাই করা হবে। তাদের বিনামূল্যে সরকারি খরচে বিকেএসপিতে ভর্তি করানো হবে। খেলাধুলার পাশাপাশি তাদের পড়াশোনার দায়িত্বও সরকার বহন করবে। চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা’ নামে পাঠ্যবই স্কুল পর্যায়ে খেলাধুলার চর্চা বাড়াতে ২০২৭ সালের শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে ‘খেলাধুলা’ নামে একটি পাঠ্যপুস্তক সংযোজন করা হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বইটি লেখার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। বর্তমানে এটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পরে চতুর্থ শ্রেণিতে বইটি বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আমিনুল হক বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর ১০টি ইভেন্টকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার বিষয়ে ধারণা দেওয়া হবে। রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই, তিন কিংবা পাঁচ বছর পর এসব উদ্যোগের সুফল পাওয়া শুরু হবে। বছরব্যাপী প্রশিক্ষণে গুরুত্ব এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশি ক্রীড়াবিদদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে তারা জাপানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হচ্ছেন। তিনি বলেন, এশিয়ান গেমসের পর ১৩ থেকে ১৪টি ইভেন্টকে লক্ষ্য করে বছরব্যাপী ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণের মধ্যে রাখা হবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই তাদের প্রস্তুত করা হবে। একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আমিনুল হক বলেন, কোনো বিদেশি কোচকে এনে এক মাসের মধ্যে একটি টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। একজন কোচ বা ক্রীড়াবিদকে সময় দিতে হবে। তিনি বলেন, আমরা শুরু করেছি জিরো থেকে। বছরব্যাপী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এখান থেকে জাতীয় পর্যায়ে খেলবে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশ নেবে। ফলাফল যা-ই হোক, আমরা থেমে থাকতে চাই না। আমরা এগিয়ে যেতে চাই। আগামী পাঁচ বা ১০ বছর পর অলিম্পিক, এশিয়ান গেমস কিংবা কমনওয়েলথ গেমসে শুধু অংশগ্রহণ নয়, পদকের জন্য লড়াই করতে পারে এমন ক্রীড়াবিদ তৈরিই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। এমএএস/এসএনআর

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
সালাহ, লুকাকু, ভ্লাহোভিচ—সবাই তুর্কি লিগে ছুটছেন কেন

সালাহ, লুকাকু, ভ্লাহোভিচ—সবাই তুর্কি লিগে ছুটছেন কেন

এশিয়ান গেমস ফুটবলে শুরুতেই উত্তর কোরিয়া–পরীক্ষা

এশিয়ান গেমস ফুটবলে শুরুতেই উত্তর কোরিয়া–পরীক্ষা

‘এবারের ব্যালন ডি’অর আমার প্রাপ্য’- দাবি ইয়ামালের

‘এবারের ব্যালন ডি’অর আমার প্রাপ্য’- দাবি ইয়ামালের

নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে আপত্তি কেন, জানাল বিসিসিআই
নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে আপত্তি কেন, জানাল বিসিসিআই

টানা দুই বছর এশিয়া কাপ জিতে ট্রফি নেয়নি ভারত। গত সেপ্টেম্বরে পুরুষ দল আর এই সেপ্টেম্বরে নারী দল চ্যাম্পিয়ন ট্রফি না নেওয়ার একটাই দৃশ্যমান কারণ—মহসিন নাকভিকে প্রত্যাখ্যান। এশিয়া কাপের মঞ্চে নাকভির পরিচয় তিনি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) প্রেসিডেন্ট। তাঁর কাছ থেকে ট্রফি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন, সেটির ব্যাখ্যা দিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া।ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আগে থেকেই উত্তেজনাময়, যা আরও অবনতির দিকে যায় ২০২৫ সালের এপ্রিলে পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর। এরপর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করলে দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ে, যার প্রভাবে ক্রিকেটে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলানো এড়িয়ে যেতে শুরু করে ভারত। গত বছর ছেলেদের এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর নাকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে রাজি হয়নি সূর্যকুমার যাদবদের দল। এবার যার পুনরাবৃত্তি করেছেন হারমানপ্রীত কৌররা।বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়াফাইনালের পর বার্তা সংস্থা আইএএনএসকে বিসিসিআই সচিব বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতি এবং নাকভির ভূমিকার কারণে তাঁর কাছ থেকে ট্রফি নিতে চায়নি ভারত, ‘পেহেলগামের ঘটনার পর আমাদের পুরো পরিস্থিতি বদলে যায়। এরপর আমাদের নাগরিকদের কাছ থেকে চাপ ছিল প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক রাখা উচিত নয়, তাদের সঙ্গে ক্রিকেটও খেলা উচিত নয়। কিন্তু আমাদের সরকারের নীতি হলো, বহুজাতিক টুর্নামেন্টে আমাদের প্রতিটি দেশের বিপক্ষেই খেলতে হবে। আমরা সেই নীতি অনুসরণ করছি। সে কারণেই বিসিসিআই প্রতিটি দলের বিপক্ষে খেলার জন্য দল পাঠায়।’এশিয়া কাপ ফাইনালে আবারও নাটক, নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নেয়নি চ্যাম্পিয়ন ভারততবে বহুজাতিক টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা মানেই সবকিছু মেনে নেওয়া নয় মনে করেন সাইকিয়া। তাঁর ভাষায়, ‘এর মানে এই নয় যে আমরা খেলব এবং আমাদের সামনে রাখা প্রতিটি শর্ত মেনে নেব। যে দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আগে থেকেই খারাপ ছিল এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর তা আরও খারাপ হয়েছে, আমাদের অভিযান এখনো চলছে। তাদের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা (নাকভি) আমাদের দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। আমরা তাঁর কাছ থেকে ট্রফি নিতে পারি না।’নাকভির হাত থেকে নিতে হবে বলে ভারতীয় দল চ্যাম্পিয়ন ট্রফি নেয়নিদুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে নারী এশিয়া কাপ ফাইনালের সময় রয়্যাল বক্সে ছিলেন সাইকিয়া। এ সময় তাঁকে বিসিসিআই সহসভাপতি রাজীব শুক্লার সঙ্গে নাকভির পাশাপাশি বসতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে সাইকিয়া বলেন, ‘এমন নয় যে আমরা কারও সঙ্গে দেখা করব না। টস থেকে ম্যাচ শেষ হওয়া পর্যন্ত আমি রয়্যাল বক্সে বসেছিলাম। ম্যাচের সময় যাঁরাই এসেছেন, সবার সঙ্গেই আমার দেখা হয়েছে। শুক্লাজিও এসে আমার সঙ্গে বসেছিলেন। আপনি যাঁর কথা বলছেন (নাকভি), তিনিও এসে ডেপুটি চেয়ারম্যান খালিদের পাশে বসেছিলেন। এটা স্বাভাবিক রীতি, যখন কেউ আসেন, আমরা সবার সঙ্গে দেখা করি এবং কথা বলি।’বিসিসিআই চেয়েছিল চ্যাম্পিয়ন দলের ট্রফি এসিসি সহসভাপতির হাত থেকে দেওয়া হোক। কিন্তু নাকভি তাতে রাজি হননি। তবে এ নিয়ে আক্ষেপ নেই বলে দাবি ভারতীয় বোর্ড সচিবের, ‘আজকের পরিস্থিতিও আমরা সমাধান করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সফল হইনি। তবে এ নিয়ে আমাদের কোনো আক্ষেপ নেই। আমাদের উদ্দেশ্য কে ট্রফি তুলে দেবে, সেটিকে কেন্দ্র করে ছিল না। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল ভারতীয় দল যেন স্বাচ্ছন্দ্যে ম্যাচ জেতে। আমরা সেটিতে সফল হয়েছি।’দুবাইয়ের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে অষ্টম নারী এশিয়া কাপ জেতে ভারত।

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
বিসিসিআইয়ের নির্দেশেই নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নেয়নি ভারত

বিসিসিআইয়ের নির্দেশেই নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নেয়নি ভারত

মেয়েদের ফুটবলের কারণে পালিচড়া গ্রাম এখন দেশজুড়ে পরিচিত

মেয়েদের ফুটবলের কারণে পালিচড়া গ্রাম এখন দেশজুড়ে পরিচিত

এক হাজার গোলের মাইফলক: কোথায় দাঁড়িয়ে মেসি এবং রোনালদো

এক হাজার গোলের মাইফলক: কোথায় দাঁড়িয়ে মেসি এবং রোনালদো

0 Comments