আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দামের ওঠানামার ঝুঁকি কমাতে আমদানিকারকদের জন্য কমোডিটি প্রাইস রিস্ক হেজিং সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে আজ নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো যোগ্য আমদানিকারকদের পণ্যের মূল্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সুবিধা দিতে পারবে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বাড়লে আমদানিকারকেরা এর মাধ্যমে আর্থিক ঝুঁকি কমাতে পারবেন। এতে ব্যবসার ব্যয় পরিকল্পনাও সহজ হবে।
পণ্যের দামের পরিবর্তনের কারণে ক্রেতা ও উৎপাদক উভয়েই আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিতে থাকেন। তবে দাম বৃদ্ধি বা হ্রাসের প্রভাব উভয় পক্ষের জন্য একই রকম নয়। পণ্যের দাম বেড়ে গেলে ক্রয়মূল্য বেড়ে যায়। এতে ব্যবসার মুনাফা কমে যেতে পারে। আবার পণ্যের দাম কমে গেলে উৎপাদকেরা লোকসানের ঝুঁকিতে পড়েন।
এই বাস্তবতায় বিভিন্ন ধরনের হেজিং কৌশল ব্যবহার করে পণ্যের দামের ঝুঁকি কমানো যায়। এসব চুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতের দামের বিষয়ে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। ফলে ব্যবসার অনিশ্চয়তা কমে। ব্যবসার মুনাফায় যেসব পণ্যের দামের বড় ধরনের প্রভাব পড়ে তার মধ্যে আছে তেল, ইস্পাত কৃষিপণ্য ইত্যাদি। এসব পণ্যের দাম হ্রাস–বৃদ্ধির সঙ্গে উৎপাদন খরচ, পরিবহন ব্যয় ও ব্যবসার লাভ-ক্ষতির হিসাব বদলে যায়।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রকৃত আমদানি দায়ের বিপরীতে যোগ্য আমদানিকারকেরা কমোডিটি ফিউচার, সোয়াপ, কমোডিটি সূচকভিত্তিক ফরোয়ার্ড চুক্তি, অপশনসহ আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত বিভিন্ন হেজিং পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারবেন।
কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য, জ্বালানি, ভোজ্যতেল, ধাতু, শস্য, সারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্য আমদানিকারকেরা এ সুবিধার আওতায় আসবেন। আমদানিকারকেরা প্রকৃত আমদানি ঝুঁকির সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত হেজ করতে পারবেন। তবে এ জন্য প্রয়োজনীয় দলিলপত্র সংরক্ষণ ও নির্ধারিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, হেজিং জল্পনামূলক ব্যবসার সুযোগ নয়; বরং এর উদ্দেশ্য হলো, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দামের ওঠানামাজনিত ঝুঁকি কমানো। এডি ব্যাংকগুলোকে যথাযথ যাচাই, নথি সংরক্ষণ, ঝুঁকি প্রকাশ ও বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবেদন দেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
ব্যবসায়ী মহল বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তাঁদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে পণ্যের দামের বড় ধরনের ওঠানামার ঝুঁকি মোকাবিলায় এ ব্যবস্থা কার্যকর সুরক্ষা দেবে। এতে আমদানিকারকদের ব্যয় পূর্বাভাস ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা করা সহজ হবে। প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
গোপাল ভাঁড়ের গল্পে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রকে প্রায়ই এমন এক সরল, হাস্যকর এবং বুদ্ধিতে দুর্বল রাজা হিসেবে দেখা যায়, যাকে তার মন্ত্রী নানা কৌশলে বোকা বানিয়ে দেন। কিন্তু এই চরিত্রের সঙ্গে ঐতিহাসিক কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের মিল কতটা? বাস্তবের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র কি সত্যিই এতটাই বোকা ছিলেন? ইতিহাসের নথি ও আধুনিক গবেষণা বলছে, মোটেই নয়। বরং অষ্টাদশ শতকের বাংলার অন্যতম প্রভাবশালী জমিদার কৃষ্ণচন্দ্র রায় ছিলেন যথেষ্ট বিচক্ষণ, রাজনৈতিকভাবে কৌশলী এবং পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারা একজন শাসক। তবে তার চরিত্রও একেবারে নির্ভুল বা আদর্শ রাজা ছিল না। ধর্ম, জাতিভেদ, জমিদারি রাজনীতি এবং ব্রিটিশদের সঙ্গে তার সম্পর্ক সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন অত্যন্ত জটিল এক ঐতিহাসিক চরিত্র। কে ছিলেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্র? কৃষ্ণচন্দ্র রায় জন্মেছিলেন ১৭১০ সালে। তিনি নদিয়ার রাজপরিবারের উত্তরাধিকারী এবং রঘুরাম রায়ের পুত্র। ১৭২৮ সাল থেকে নদিয়ার জমিদার হিসেবে তার উত্থান ঘটে। তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। অর্থাৎ কার্টুন বা লোককথার হাস্যরসাত্মক চরিত্রের বিপরীতে বাস্তব কৃষ্ণচন্দ্র ছিলেন শিক্ষিত ও রাজনৈতিক বোধসম্পন্ন এক জমিদার। আরও পড়ুন যত হাসি তত কান্না বলেছেন রামসন্না, কে ছিলেন এই ‘রামসন্না’? তবে তাকে আধুনিক অর্থে ‘স্বাধীন রাজা’ ভাবলে ভুল হবে। অষ্টাদশ শতকের নদিয়ার রাজার অবস্থান ছিল মূলত জমিদার বা আঞ্চলিক ক্ষমতাধর ভূস্বামীর। তাকে বাংলার নবাব এবং বৃহত্তর মোগল রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেই চলতে হতো। গবেষক জোশুয়া এর্লিখও কৃষ্ণচন্দ্রকে ‘লিটল কিং’ বা স্থানীয় ক্ষমতাধর শাসক হিসেবে দেখিয়েছেন, যার রাজকীয় মর্যাদা ও বাস্তব রাজনৈতিক ক্ষমতার মধ্যে একটা পার্থক্য ছিল। গোপাল ভাঁড় কি সত্যিই তার সভার ভাঁড় ছিলেন? এখানেই সবচেয়ে বড় চমক। গোপাল ভাঁড়ের অস্তিত্বই ইতিহাসে পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, গোপাল ভাঁড় মূলত বাংলার লোকসংস্কৃতির একটি কিংবদন্তি চরিত্র। উনিশ শতকের গোড়ার দিকের বটতলার সাহিত্যে তার উপস্থিতি পাওয়া যায়। তাকে কৃষ্ণচন্দ্রের সভার ভাঁড় হিসেবে জনপ্রিয়ভাবে মনে করা হলেও কৃষ্ণচন্দ্রের সমসাময়িক নথিতে তার উল্লেখ পাওয়া যায় না। ফলে ঐতিহাসিক গোপাল ভাঁড় এবং লোককথার গোপাল ভাঁড়কে এক করে দেখা ঠিক নয়। এমনকি গবেষণায় কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে ‘শঙ্কর তরঙ্গ’ নামে এক ব্যক্তির সম্পর্কের উল্লেখ পাওয়া যায়, যিনি তার দেহরক্ষী ছিলেন এবং সাহস, বুদ্ধি ও বিচক্ষণতার জন্য রাজার কাছে প্রিয় ছিলেন। সময়ের সঙ্গে তার মতো বাস্তব চরিত্রের গুণাবলি হয়তো লোককথার গোপালের চরিত্রে এসে মিশে থাকতে পারে যদিও এটিও নিশ্চিত ইতিহাস নয়। সুতরাং কার্টুনে গোপাল ভাঁড় বা মন্ত্রী রাজাকে বারবার বোকা বানান বলে কৃষ্ণচন্দ্র বাস্তবেও বোকা ছিলেন এমন সিদ্ধান্তের কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। আরও পড়ুন ৯০০ টাকা দিলেই পেশিবহুল সুদর্শন পুরুষকে জড়িয়ে ধরা যাবে সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে কৃষ্ণচন্দ্র ষড়যন্ত্র করেছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তর অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে কৃষ্ণচন্দ্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায়টি রয়েছে।১৭৫৬ সালে সিরাজউদ্দৌলা বাংলার নবাব হওয়ার পর তার সঙ্গে বাংলার প্রভাবশালী অভিজাতদের একটি অংশের বিরোধ তৈরি হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন মীর জাফর, জগৎশেঠদের মতো শক্তিশালী ব্যক্তিরা। ঐতিহাসিক সূত্রে কৃষ্ণচন্দ্রও সিরাজের বিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে। বাংলাপিডিয়ার সংক্ষিপ্ত জীবনীতে আরও সরাসরি বলা হয়েছে, কৃষ্ণচন্দ্র ব্রিটিশদের সঙ্গে সহযোগিতা করেছিলেন এবং রবার্ট ক্লাইভের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ সিরাজউদ্দৌলার পতনকে ত্বরান্বিত করেছিল। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা প্রয়োজন। পলাশীর ষড়যন্ত্রকে শুধু ‘কৃষ্ণচন্দ্রের ষড়যন্ত্র’ বলা ইতিহাসকেই পরিবর্তন করে ফেলা হবে। আধুনিক গবেষণায় দেখা যায়, সিরাজের বিরুদ্ধে একাধিক গোষ্ঠীর স্বার্থ জড়িয়ে ছিল। মীর জাফর, জগৎশেঠ, ঘসেটি বেগম, রায় দুর্লভ, উমিচাঁদসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী বিভিন্ন মাত্রায় ঘটনাটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একই সঙ্গে কিছু ইতিহাসবিদের মতে, ব্রিটিশরাই সিরাজকে সরানোর উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে এসেছিল এবং স্থানীয় অসন্তোষকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছিল। অর্থাৎ কৃষ্ণচন্দ্র সিরাজের পক্ষের মানুষ ছিলেন না এ কথা বলা যায়। কিন্তু ‘তিনিই পলাশীর প্রধান ষড়যন্ত্রকারী’ এমন দাবি করার মতো শক্ত প্রমাণ নেই। ব্রিটিশদের সঙ্গে কৃষ্ণচন্দ্রের সম্পর্ক কেমন ছিল? কৃষ্ণচন্দ্রের ব্রিটিশ-সম্পর্ক ছিল নিছক বন্ধুত্বের নয়, বরং রাজনৈতিক স্বার্থের সম্পর্ক। তিনি বুঝেছিলেন যে বাংলার পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামো দুর্বল হচ্ছে এবং ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে। সেই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তিনি ব্রিটিশদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন। গবেষণাতেও তার রাজনৈতিক কৌশল ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি উঠে এসেছে। পলাশীর যুদ্ধের পর এই সম্পর্ক তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পরে মীর কাশিমের সঙ্গে বিরোধের সময় কৃষ্ণচন্দ্র বন্দি হন এবং মৃত্যুদণ্ডের মুখে পড়েন। বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশরা তার মুক্তির ব্যবস্থা করে। এরপর ব্রিটিশদের আনুগত্যের পুরস্কার হিসেবে তিনি ‘মহারাজা’ উপাধি পান এবং রবার্ট ক্লাইভ তাকে পাঁচটি কামানও দেন। অর্থাৎ ব্রিটিশদের সঙ্গে তার সম্পর্ক যে ঘনিষ্ঠ ও স্বার্থনির্ভর ছিল, তা নিয়ে সন্দেহের খুব বেশি অবকাশ নেই। আরও পড়ুন ব্লু-জুয়েলের পর্দার দুঃসাহসিক অভিযান যেন বাস্তবে তাদের ফেরার গল্প প্রজাদের কাছে কৃষ্ণচন্দ্র কেমন রাজা ছিলেন? এখানে কৃষ্ণচন্দ্রকে এককথায় ‘ভালো’ বা ‘খারাপ’ বলা কঠিন। কারণ তার শাসনের যে তথ্য পাওয়া যায়, তার বড় অংশই জমিদারি, ধর্ম ও অভিজাত সমাজকে কেন্দ্র করে। ইতিহাসবিদ রতন দাশগুপ্তের গবেষণা অনুযায়ী, কৃষ্ণচন্দ্র ছিলেন ব্রাহ্মণদের উদার পৃষ্ঠপোষক, কিন্তু একই সঙ্গে নিজের এলাকায় জাতিভেদ কঠোরভাবে প্রয়োগ করতেন। তিনি মন্দির নির্মাণ এবং ব্যয়বহুল ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছিলেন। এই বিপুল ব্যয়ের সঙ্গে তার জমিদারির আর্থিক সংকটও চলছিল। গবেষকের ব্যাখ্যায়, এসব কাজ কেবল ধর্মীয় আবেগের বিষয় ছিল না; সামাজিক নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বী জমিদারদের মধ্যে নিজের ক্ষমতা ধরে রাখার সঙ্গেও তা যুক্ত ছিল। তাই তাকে আধুনিক অর্থে ‘জনদরদি রাজা’ বলা যেমন ঠিক হবে না, তেমনই অত্যাচারী শাসক হিসেবে চিহ্নিত করার মতোও যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। প্রজাদের দৈনন্দিন জীবন, রাজস্ব আদায় বা তাদের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত আচরণ সম্পর্কে যে পরিমাণ নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়, তা দিয়ে এমন চূড়ান্ত রায় দেওয়া সম্ভব নয়। তার সবচেয়ে বড় অবদান কৃষ্ণচন্দ্রের ঐতিহাসিক গুরুত্ব শুধু রাজনীতি বা ব্রিটিশদের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে নয়। তিনি ছিলেন শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বড় পৃষ্ঠপোষক। তার সভায় কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর, রামপ্রসাদ সেন, বাণেশ্বর বিদ্যালঙ্কার, কৃষ্ণানন্দ বাচস্পতি ও জগন্নাথ তর্কপঞ্চাননের মতো বিদ্বানদের উপস্থিতি ছিল। ভারতচন্দ্র তার পৃষ্ঠপোষকতায় ‘অন্নদামঙ্গল’ রচনা করেন। নবদ্বীপসহ নদিয়ার বিভিন্ন জায়গায় সংস্কৃত শিক্ষার প্রসারে তিনি অর্থ ব্যয় করেন, সংস্কৃত বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য জমি ও আর্থিক সহায়তাও দেন। ইতিহাসের কৃষ্ণচন্দ্র আসলে কেমন ছিলেন? সব তথ্য একসঙ্গে রাখলে দেখা যায়, গোপাল ভাঁড়ের গল্পের সরল-বোকা রাজা আর ইতিহাসের কৃষ্ণচন্দ্র এক মানুষ নন। বাস্তব কৃষ্ণচন্দ্র ছিলেন শিক্ষিত, রাজনৈতিকভাবে দূরদর্শী এবং ক্ষমতার ভারসাম্য বুঝতে সক্ষম এক জমিদার। কিন্তু তার সেই বিচক্ষণতা সবসময় নৈতিকতার সমার্থক ছিল না। আরও পড়ুন গোপাল ভাঁড় দেখতে দেখতে ভাত খাওয়ার ট্রেন্ড কীভাবে এলো? সিরাজউদ্দৌলার বিরোধিতা এবং পলাশীর সময় ব্রিটিশপন্থী অবস্থান তাকে ইতিহাসে বিতর্কিত করে রেখেছে। আবার সাহিত্য, সংস্কৃত শিক্ষা ও ধর্মীয় সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা তার অন্য একটি পরিচয় তৈরি করেছে। ব্রিটিশদের সঙ্গে সম্পর্কও ছিল স্পষ্ট রাজনৈতিক হিসাবের অংশ। আর গোপাল ভাঁড়? তার গল্প বাংলার সংস্কৃতির অমূল্য সম্পদ হলেও সেই গল্পের রাজাকে ইতিহাসের দলিল ধরে বিচার করা ঠিক নয়। বরং ইতিহাসের কৃষ্ণচন্দ্রকে বুঝতে হলে লোককথার হাস্যরস সরিয়ে অষ্টাদশ শতকের বাংলার জমিদারি রাজনীতি, নবাবি দরবার এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উত্থানের জটিল বাস্তবতার দিকে তাকাতে হয়। সেখানেই দেখা যায় তিনি বোকা রাজা নন; বরং নিজের সময়ের রাজনৈতিক খেলায় অত্যন্ত হিসাবি, কিন্তু একই সঙ্গে গভীরভাবে বিতর্কিত এক চরিত্র। কেএসকে
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সীমানা সম্প্রসারণে সদর উপজেলার ফতুল্লা, কুতুবপুর ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের সম্পূর্ণ অংশ অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে মত দিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে স্থানীয় সরকার বিভাগকে এ মতামত জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) সীমানা পরিবর্তন (সম্প্রসারণ এবং সংকোচন) বিধিমালা, ২০১৩ অনুযায়ী নাসিকের সীমানা বর্ধিতকরণের বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এর আলোকে গত ২৭ জুলাই ও ১১ আগস্ট গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গণশুনানির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিদর্শন কমিটি গঠন করা হয়। পরিদর্শন কমিটি সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করে ড্রোন ফুটেজসহ প্রতিবেদন দাখিল করে। গণশুনানি ও পরিদর্শন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিধিমালার ৩ নম্বর বিধি অনুযায়ী ফতুল্লা, কুতুবপুর ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের সম্পূর্ণ অংশ নাসিকে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে বলে মত দিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনসংখ্যা, পেশা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো এবং জনমত বিবেচনায় এসব এলাকা সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্তির উপযোগী। আরও পড়ুন চাকরির লোভে দুই বোনকে ভারতে পাচার, আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, জেলা প্রশাসনের এই প্রতিবেদনকে আমি স্বাগত জানাচ্ছি। এই তিনটি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া। সেই সঙ্গে তারা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার উপযোগী। এ নিয়ে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শুনানীও হয়েছে। সেই শুনানীর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। আশা করি এই তিনটি ইউনিয়ন সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যুক্ত হলে অনেক উন্নয়ন হবে। মোবাশ্বির শ্রাবণ/এনএইচআর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ঐতিহাসিক সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন করার প্রতিবাদে এবার গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবি সংগ্রহশালায় টানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফেডারেশনের নেতা–কর্মীরা।আজ সোমবার বেলা ৩টায় ছাত্র ফেডারেশনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অর্ক বড়ুয়ার নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী এ ছবি টানান।সংগ্রহশালায় গিয়ে দেখা যায়, যে স্থানে জিন্নাহর ছবি লাগানো হয়েছিল তার ওপরে ১৯৮১ সালে বায়তুল মোকাররমে গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার একটি ছবি লাগানো হয়েছে। বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অর্ক বড়ূয়া বলেন, ‘ডাকসু কারও বাপের না। ইতিহাসকে একপক্ষীয়ভাবে উপস্থাপন কেউ মেনে নেবে না। আর গোলাম আযমেরা ৭১–এ যা করেছেন, তার ফলে ৮০ তে তাঁকে মানুষ জুতাপেটা করেছে। আমরা এ দেশের আপামর মানুষের সেই ইতিহাস সংরক্ষণ করেছি।’তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল জুমা (ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বিষয়ক আন্দোলন) বলেছিল, তার ইচ্ছা করেছে তাই জিন্নাহর ছবি লাগিয়েছে। ঠিক তেমনই আমাদের ইচ্ছা করেছে গোলাম আযমের ছবি লাগাতে তাই লাগিয়েছি।’ সংস্কার শেষে গতকাল রোববার সংগ্রহশালা চালু করে ডাকসু। যেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একক বা গৌরবোজ্জ্বল ছবি রাখা হয়নি। নতুন করে যুক্ত করা হয় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি। এর মধ্যে একটি ছবি ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক অনুষ্ঠানের, যেখানে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’।স্থান পায় ১৯৪০ সালের মার্চ মাসে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি দলগত ছবি, যেখানে জিন্নাহ রয়েছেন। অপর ছবিটি ১৯৭০ সালের নির্বাচন নিয়ে জিন্নাহর ছবি–সংবলিত পাকিস্তানের ডন পত্রিকার প্রতিবেদনের পেপার কাটিং।শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ডাকসু সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি রাখায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী শাহরিয়ার মুসতাক ফেসবুকে লিখেন, ‘আর কত সময় হলে বাংলা ভাষা এবং বাংলাদেশ এর প্রতি ভালোবাসা জন্মাবে এই ডাকসুর? রাষ্ট্রভাষা বাংলার বিরোধিতাকারীর ছবি স্থান পায় ডাকসুর সংগ্রহশালায়!’সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের শিক্ষার্থী ইমদাদুল হক লিখেন, ‘এক সময়ের ডাকসু স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য সংগ্রাম করেছিল, আর এখন দেশ বিরোধী অপশক্তিকে রক্ষার সংগ্রাম করে!!’ ছাত্রদলের প্রতিবাদডাকসু সংগ্রহশালায় ১৯৪৮ সালের মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বিতর্কিত ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ছাত্রদলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।সংগঠনটি অভিযোগ করে, ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিকভাবে ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে। ছবিটি অপসারণ এবং ডাকসুকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শ প্রচারের স্থান হিসেবে ব্যবহার বন্ধের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।মুজিবের ছবি পুনর্বহালের দাবি ছাত্র ইউনিয়নেরএকইদিনে ডাকসু সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি সংযোজন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি অপসারণের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। সংগঠনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সংগ্রহশালা থেকে সরিয়ে দেওয়া ইতিহাস বিকৃতির শামিল। দ্রুত জিন্নাহর ছবি অপসারণ ও শেখ মুজিবের ছবি পুনর্বহাল না হলে শিক্ষার্থীরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।