গোপাল ভাঁড়ের গল্পে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রকে প্রায়ই এমন এক সরল, হাস্যকর এবং বুদ্ধিতে দুর্বল রাজা হিসেবে দেখা যায়, যাকে তার মন্ত্রী নানা কৌশলে বোকা বানিয়ে দেন। কিন্তু এই চরিত্রের সঙ্গে ঐতিহাসিক কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের মিল কতটা? বাস্তবের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র কি সত্যিই এতটাই বোকা ছিলেন?
ইতিহাসের নথি ও আধুনিক গবেষণা বলছে, মোটেই নয়। বরং অষ্টাদশ শতকের বাংলার অন্যতম প্রভাবশালী জমিদার কৃষ্ণচন্দ্র রায় ছিলেন যথেষ্ট বিচক্ষণ, রাজনৈতিকভাবে কৌশলী এবং পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারা একজন শাসক। তবে তার চরিত্রও একেবারে নির্ভুল বা আদর্শ রাজা ছিল না। ধর্ম, জাতিভেদ, জমিদারি রাজনীতি এবং ব্রিটিশদের সঙ্গে তার সম্পর্ক সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন অত্যন্ত জটিল এক ঐতিহাসিক চরিত্র।
কৃষ্ণচন্দ্র রায় জন্মেছিলেন ১৭১০ সালে। তিনি নদিয়ার রাজপরিবারের উত্তরাধিকারী এবং রঘুরাম রায়ের পুত্র। ১৭২৮ সাল থেকে নদিয়ার জমিদার হিসেবে তার উত্থান ঘটে। তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। অর্থাৎ কার্টুন বা লোককথার হাস্যরসাত্মক চরিত্রের বিপরীতে বাস্তব কৃষ্ণচন্দ্র ছিলেন শিক্ষিত ও রাজনৈতিক বোধসম্পন্ন এক জমিদার।
তবে তাকে আধুনিক অর্থে ‘স্বাধীন রাজা’ ভাবলে ভুল হবে। অষ্টাদশ শতকের নদিয়ার রাজার অবস্থান ছিল মূলত জমিদার বা আঞ্চলিক ক্ষমতাধর ভূস্বামীর। তাকে বাংলার নবাব এবং বৃহত্তর মোগল রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেই চলতে হতো। গবেষক জোশুয়া এর্লিখও কৃষ্ণচন্দ্রকে ‘লিটল কিং’ বা স্থানীয় ক্ষমতাধর শাসক হিসেবে দেখিয়েছেন, যার রাজকীয় মর্যাদা ও বাস্তব রাজনৈতিক ক্ষমতার মধ্যে একটা পার্থক্য ছিল।
এখানেই সবচেয়ে বড় চমক। গোপাল ভাঁড়ের অস্তিত্বই ইতিহাসে পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, গোপাল ভাঁড় মূলত বাংলার লোকসংস্কৃতির একটি কিংবদন্তি চরিত্র। উনিশ শতকের গোড়ার দিকের বটতলার সাহিত্যে তার উপস্থিতি পাওয়া যায়। তাকে কৃষ্ণচন্দ্রের সভার ভাঁড় হিসেবে জনপ্রিয়ভাবে মনে করা হলেও কৃষ্ণচন্দ্রের সমসাময়িক নথিতে তার উল্লেখ পাওয়া যায় না। ফলে ঐতিহাসিক গোপাল ভাঁড় এবং লোককথার গোপাল ভাঁড়কে এক করে দেখা ঠিক নয়।
এমনকি গবেষণায় কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে ‘শঙ্কর তরঙ্গ’ নামে এক ব্যক্তির সম্পর্কের উল্লেখ পাওয়া যায়, যিনি তার দেহরক্ষী ছিলেন এবং সাহস, বুদ্ধি ও বিচক্ষণতার জন্য রাজার কাছে প্রিয় ছিলেন। সময়ের সঙ্গে তার মতো বাস্তব চরিত্রের গুণাবলি হয়তো লোককথার গোপালের চরিত্রে এসে মিশে থাকতে পারে যদিও এটিও নিশ্চিত ইতিহাস নয়। সুতরাং কার্টুনে গোপাল ভাঁড় বা মন্ত্রী রাজাকে বারবার বোকা বানান বলে কৃষ্ণচন্দ্র বাস্তবেও বোকা ছিলেন এমন সিদ্ধান্তের কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই।
এই প্রশ্নের উত্তর অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে কৃষ্ণচন্দ্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায়টি রয়েছে।১৭৫৬ সালে সিরাজউদ্দৌলা বাংলার নবাব হওয়ার পর তার সঙ্গে বাংলার প্রভাবশালী অভিজাতদের একটি অংশের বিরোধ তৈরি হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন মীর জাফর, জগৎশেঠদের মতো শক্তিশালী ব্যক্তিরা। ঐতিহাসিক সূত্রে কৃষ্ণচন্দ্রও সিরাজের বিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে।
বাংলাপিডিয়ার সংক্ষিপ্ত জীবনীতে আরও সরাসরি বলা হয়েছে, কৃষ্ণচন্দ্র ব্রিটিশদের সঙ্গে সহযোগিতা করেছিলেন এবং রবার্ট ক্লাইভের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ সিরাজউদ্দৌলার পতনকে ত্বরান্বিত করেছিল।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা প্রয়োজন। পলাশীর ষড়যন্ত্রকে শুধু ‘কৃষ্ণচন্দ্রের ষড়যন্ত্র’ বলা ইতিহাসকেই পরিবর্তন করে ফেলা হবে। আধুনিক গবেষণায় দেখা যায়, সিরাজের বিরুদ্ধে একাধিক গোষ্ঠীর স্বার্থ জড়িয়ে ছিল। মীর জাফর, জগৎশেঠ, ঘসেটি বেগম, রায় দুর্লভ, উমিচাঁদসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী বিভিন্ন মাত্রায় ঘটনাটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একই সঙ্গে কিছু ইতিহাসবিদের মতে, ব্রিটিশরাই সিরাজকে সরানোর উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে এসেছিল এবং স্থানীয় অসন্তোষকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছিল। অর্থাৎ কৃষ্ণচন্দ্র সিরাজের পক্ষের মানুষ ছিলেন না এ কথা বলা যায়। কিন্তু ‘তিনিই পলাশীর প্রধান ষড়যন্ত্রকারী’ এমন দাবি করার মতো শক্ত প্রমাণ নেই।
কৃষ্ণচন্দ্রের ব্রিটিশ-সম্পর্ক ছিল নিছক বন্ধুত্বের নয়, বরং রাজনৈতিক স্বার্থের সম্পর্ক। তিনি বুঝেছিলেন যে বাংলার পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামো দুর্বল হচ্ছে এবং ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে। সেই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তিনি ব্রিটিশদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন। গবেষণাতেও তার রাজনৈতিক কৌশল ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি উঠে এসেছে।
পলাশীর যুদ্ধের পর এই সম্পর্ক তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পরে মীর কাশিমের সঙ্গে বিরোধের সময় কৃষ্ণচন্দ্র বন্দি হন এবং মৃত্যুদণ্ডের মুখে পড়েন। বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশরা তার মুক্তির ব্যবস্থা করে। এরপর ব্রিটিশদের আনুগত্যের পুরস্কার হিসেবে তিনি ‘মহারাজা’ উপাধি পান এবং রবার্ট ক্লাইভ তাকে পাঁচটি কামানও দেন। অর্থাৎ ব্রিটিশদের সঙ্গে তার সম্পর্ক যে ঘনিষ্ঠ ও স্বার্থনির্ভর ছিল, তা নিয়ে সন্দেহের খুব বেশি অবকাশ নেই।
এখানে কৃষ্ণচন্দ্রকে এককথায় ‘ভালো’ বা ‘খারাপ’ বলা কঠিন। কারণ তার শাসনের যে তথ্য পাওয়া যায়, তার বড় অংশই জমিদারি, ধর্ম ও অভিজাত সমাজকে কেন্দ্র করে। ইতিহাসবিদ রতন দাশগুপ্তের গবেষণা অনুযায়ী, কৃষ্ণচন্দ্র ছিলেন ব্রাহ্মণদের উদার পৃষ্ঠপোষক, কিন্তু একই সঙ্গে নিজের এলাকায় জাতিভেদ কঠোরভাবে প্রয়োগ করতেন।
তিনি মন্দির নির্মাণ এবং ব্যয়বহুল ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছিলেন। এই বিপুল ব্যয়ের সঙ্গে তার জমিদারির আর্থিক সংকটও চলছিল। গবেষকের ব্যাখ্যায়, এসব কাজ কেবল ধর্মীয় আবেগের বিষয় ছিল না; সামাজিক নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বী জমিদারদের মধ্যে নিজের ক্ষমতা ধরে রাখার সঙ্গেও তা যুক্ত ছিল।
তাই তাকে আধুনিক অর্থে ‘জনদরদি রাজা’ বলা যেমন ঠিক হবে না, তেমনই অত্যাচারী শাসক হিসেবে চিহ্নিত করার মতোও যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। প্রজাদের দৈনন্দিন জীবন, রাজস্ব আদায় বা তাদের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত আচরণ সম্পর্কে যে পরিমাণ নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়, তা দিয়ে এমন চূড়ান্ত রায় দেওয়া সম্ভব নয়।
কৃষ্ণচন্দ্রের ঐতিহাসিক গুরুত্ব শুধু রাজনীতি বা ব্রিটিশদের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে নয়। তিনি ছিলেন শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বড় পৃষ্ঠপোষক। তার সভায় কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর, রামপ্রসাদ সেন, বাণেশ্বর বিদ্যালঙ্কার, কৃষ্ণানন্দ বাচস্পতি ও জগন্নাথ তর্কপঞ্চাননের মতো বিদ্বানদের উপস্থিতি ছিল। ভারতচন্দ্র তার পৃষ্ঠপোষকতায় ‘অন্নদামঙ্গল’ রচনা করেন। নবদ্বীপসহ নদিয়ার বিভিন্ন জায়গায় সংস্কৃত শিক্ষার প্রসারে তিনি অর্থ ব্যয় করেন, সংস্কৃত বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য জমি ও আর্থিক সহায়তাও দেন।
সব তথ্য একসঙ্গে রাখলে দেখা যায়, গোপাল ভাঁড়ের গল্পের সরল-বোকা রাজা আর ইতিহাসের কৃষ্ণচন্দ্র এক মানুষ নন। বাস্তব কৃষ্ণচন্দ্র ছিলেন শিক্ষিত, রাজনৈতিকভাবে দূরদর্শী এবং ক্ষমতার ভারসাম্য বুঝতে সক্ষম এক জমিদার। কিন্তু তার সেই বিচক্ষণতা সবসময় নৈতিকতার সমার্থক ছিল না।
সিরাজউদ্দৌলার বিরোধিতা এবং পলাশীর সময় ব্রিটিশপন্থী অবস্থান তাকে ইতিহাসে বিতর্কিত করে রেখেছে। আবার সাহিত্য, সংস্কৃত শিক্ষা ও ধর্মীয় সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা তার অন্য একটি পরিচয় তৈরি করেছে। ব্রিটিশদের সঙ্গে সম্পর্কও ছিল স্পষ্ট রাজনৈতিক হিসাবের অংশ।
আর গোপাল ভাঁড়? তার গল্প বাংলার সংস্কৃতির অমূল্য সম্পদ হলেও সেই গল্পের রাজাকে ইতিহাসের দলিল ধরে বিচার করা ঠিক নয়। বরং ইতিহাসের কৃষ্ণচন্দ্রকে বুঝতে হলে লোককথার হাস্যরস সরিয়ে অষ্টাদশ শতকের বাংলার জমিদারি রাজনীতি, নবাবি দরবার এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উত্থানের জটিল বাস্তবতার দিকে তাকাতে হয়। সেখানেই দেখা যায় তিনি বোকা রাজা নন; বরং নিজের সময়ের রাজনৈতিক খেলায় অত্যন্ত হিসাবি, কিন্তু একই সঙ্গে গভীরভাবে বিতর্কিত এক চরিত্র।
কেএসকে
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পদ জাতিসংঘের মহাসচিব। যুদ্ধ, সংঘাত, মানবিক সংকট ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এই পদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ তার বেতন যুক্তরাষ্ট্রের একজন মন্ত্রীর চেয়েও কম! প্রচলিত হিসাবে, বিশ্বের শীর্ষ কূটনীতিক (World's Top Diplomat) জাতিসংঘ মহাসচিবের বার্ষিক বেতন প্রায় ২ লাখ ২৭ হাজার ২৫৩ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের নির্বাহী বেতন কাঠামোতে সর্বোচ্চ পর্যায়ের মন্ত্রিসভা পর্যায়ের পদগুলোর বেসিক বেতন ২ লাখ ৫৩ হাজার ১০০ ডলার। আরও পড়ুন জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন, এগিয়ে যিনি অর্থাৎ শুধু এই সংখ্যাগুলো তুলনা করলে জাতিসংঘ মহাসচিবের চেয়ে একজন মার্কিন মন্ত্রী বছরে প্রায় ২৫ হাজার ৮৪৭ ডলার বেশি পান। বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ ডলার ১২২ টাকা ধরলে এর পরিমাণ প্রায় ৩১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। উল্লেখ্য যে, এখানে দুই পক্ষের বেতন কাঠামো এক নয়। তাই একে সরাসরি ‘হাতে পাওয়া বেতন’ হিসেবে তুলনা করা ঠিক হবে না। জাতিসংঘ মহাসচিবের কাজ কী? জাতিসংঘ সনদের ৯৭ নম্বর অনুচ্ছেদে মহাসচিবকে জাতিসংঘের ‘chief administrative officer’ বা প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলা হয়েছে। তিনি জাতিসংঘ সচিবালয়ের নেতৃত্ব দেন। জাতিসংঘের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার প্রশাসনিক নেতৃত্ব তার হাতে। আরও পড়ুন ওসমান হাদি হত্যার দ্রুত-স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদসহ জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ সভায় তিনি ভূমিকা রাখেন। সনদের ৯৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মহাসচিবকে জাতিসংঘের কাজের ওপর সাধারণ পরিষদে প্রতিবছর প্রতিবেদন দিতে হয়। আর ৯৯ নম্বর অনুচ্ছেদে তাকে এমন কোনো বিষয় নিরাপত্তা পরিষদের নজরে আনার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে,যা তার বিবেচনায় আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে মহাসচিবের কাজ শুধু জাতিসংঘের অফিস পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক সংকটের সময়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও মধ্যস্থতাও তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আরও পড়ুন দারিদ্র্য ব্যক্তিগত নয়, এটি ব্যবস্থাগত ব্যর্থতা: জাতিসংঘ মহাসচিব যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রী কত বেতন পান? যুক্তরাষ্ট্রে ‘মন্ত্রী’ বলতে সাধারণত ফেডারেল সরকারের Cabinet Secretary-দের বোঝানো হয়। যেমন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও অন্যান্য দপ্তরের প্রধানরা। ২০২৬ সালের মার্কিন Office of Personnel Management-এর ঘোষণা অনুযায়ী, Level II-এর বার্ষিক বেসিক বেতন ২ লাখ ২৮ হাজার ডলার। আর Level I-এর বেতন ২ লাখ ৫৩ হাজার ১০০ ডলার। তবে সব Cabinet Secretary-কে একই Level-এ রাখা হয় কি না এবং কোন পদ কোন বেতনস্তরে পড়ে, তা পদভেদে বিবেচনা করতে হয়। তাহলে মহাসচিবের বেতন কম কেন? এর পেছনে রয়েছে জাতিসংঘের নিজস্ব বেতন কাঠামো। জাতিসংঘের বেতনব্যবস্থা জাতীয় সরকারের বেতন কাঠামোর মতো নয়। আন্তর্জাতিক বেসামরিক কর্মীদের জন্য আলাদা বেতন ও ভাতা কাঠামো রয়েছে। জাতিসংঘের পেশাদার ও উচ্চপর্যায়ের কর্মীদের বেতন নির্ধারণে আন্তর্জাতিক সিভিল সার্ভিস কমিশনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আরও পড়ুন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন খলিলুর রহমান এ ছাড়া বেতন বলতে শুধু মূল বেতন বোঝায় না। পদ, দায়িত্ব ও কর্মস্থল অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ভাতা ও সুবিধা থাকতে পারে। জাতিসংঘের নিয়মে আন্তর্জাতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া উচ্চপর্যায়ের কর্মীদের ক্ষেত্রে পোস্ট অ্যাডজাস্টমেন্টসহ বিভিন্ন সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে শুধু বার্ষিক মূল বেতন দেখে দুই পদের সম্পূর্ণ আর্থিক সুবিধা তুলনা করা বাস্তবে যথেষ্ট নয়। সূত্র: জাতিসংঘ, ওয়ানএইচআরকেএএ/
দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তলব করা হলেও তিনি আজ সোমবার হাজির হননি। তিনি কমিশনের কাছে ৩০ দিনের সময় চেয়ে আবেদন করেছেন। আজ দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আজ রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে শফিউদ্দিন আহমেদের হাজির হয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। তবে তিনি ৩০ দিনের সময় চেয়েছেন। এখন আইন অনুযায়ী এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে কমিশন।গত ৩০ আগস্ট সাবেক এই সেনাপ্রধানকে তলব করে দুদকের পরিচালক মো. আবুল হাসনাত চিঠি দেন। সেই চিঠিতে তাঁকে আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়। একই সঙ্গে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি সঙ্গে আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।তলবি নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য শোনা এবং তা রেকর্ড করা ‘অপরিহার্য’।দুদক সূত্রে জানা গেছে, সাবেক এই সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে পরিচালক মো. আবুল হাসনাতের নেতৃত্বে একটি দল কাজ করছে। গত বছর ১৪ ডিসেম্বর থেকে এই অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়।সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিন আহমেদকে দুদকে তলবজেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ২০২১ সালের ২৪ জুন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিন বছর সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০২৪ সালের ২৩ জুন অবসরে যান তিনি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচনের সময় প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যায় গাছ লাগানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আরিফ আলভী। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে তিনি শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকল্প শাখার কাছে ৭২৫টি গাছ হস্তান্তর করেছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে আয়োজিত এক কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি ১১ প্রজাতির গাছ বিতরণ ও রোপণের উদ্যোগ নেন। আরিফ রাকসু নির্বাচনে এক হাজার ৭২৫টি ভোট পেয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ৭২৫টি গাছ বিতরণ করলেও পরবর্তীতে ৬৪ জেলায় এক হাজার ৭২৫টি করে গাছ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। কিছু গাছ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করে অধিকাংশ গাছ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকল্প শাখার কাছে হস্তান্তর করেছেন তিনি। যাতে সেগুলো যথাযথভাবে পরিকল্পনার মাধ্যমে রোপণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে বেড়ে উঠতে পারে। ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘রাকসু নির্বাচনের আগে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল হারুক বা জিতুক যতগুলো ভোট পাবেন ততগুলো গাছ ক্যাম্পাসে রোপণ করবেন। তার এমন পরিবেশবান্ধব ও শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগকে আমরা আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই।’ রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তাসনিম সুলতানা ঐশি বলেন, ‘প্রতিটি ভোটের বিনিময়ে তার একটি করে গাছ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এখানে একাধিক গাছ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও আমার একটি গাছ ভালো লেগেছে, তাই একটি নিয়েছি।’ এসময় আরিফ আলভী বলেন, ‘রাকসু নির্বাচনে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে ৫৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। আমি ১ হাজার ৭২৫ ভোট পেয়েছিলাম। নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, জিতি বা হারি যতগুলো ভোট পাব, ততগুলো গাছ দেব। সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় প্রথম ধাপে ১১ প্রজাতির ৭২৫টি গাছ দিয়েছি। এগুলো নিজের উপার্জনের টাকা দিয়ে দিয়েছি। ভবিষ্যতে ৬৪ জেলায় ১ হাজার ৭২৫টি করে গাছ দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।’ মিরাজ হোসেন/এসজেডএইচ/এএসএম