জাতীয়

বিদ্যুৎ-গ্যাস নিয়ে ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
বিদ্যুৎ-গ্যাস নিয়ে ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
বিদ্যুৎ-গ্যাস নিয়ে ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ আগামীকাল সন্ধ্যার মধ্যে এক থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করে সরকারকে তাদের মেয়াদে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া উচিত।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে তিন ঘণ্টাব্যাপী মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যমকর্মীরা বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন

জ্বালানি সংকট সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বৈঠকে ব্যবসায়ীদের স্বস্তি

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মোস্তফা জুলফিকার হাসান এ তথ্য জানান।

সভায় ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

‘উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা’

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটকে ‘উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ সংকট ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার সমস্যা চিহ্নিত করে পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং এখন সেগুলো বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে কাজ করছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে।

বর্তমান গ্যাস সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে। তবে দুর্ঘটনাজনিত সমস্যাটি এরই মধ্যে সমাধান করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস / মঙ্গলবার রাত থেকেই সংকট দূর হয়ে গ্যাস-বিদ্যুৎ আগের অবস্থায় ফিরবে

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ইনশাল্লাহ, আগামীকাল সন্ধ্যা থেকে গ্যাসের সরবরাহ এক-দেড় মাস আগে যে অবস্থায় ছিল, সে রকম একটা অবস্থায় ফিরে আসবে।’

তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল

গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জিটুজি ভিত্তিতে গত এক মাসে আরেকটি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি মোটামুটি সম্পন্ন করা হয়েছে। দ্রুতই এর কাজ শুরু হবে।

সরকার ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনাল সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন সরকারপ্রধান।

বিদ্যুৎ খাতের সমস্যাও দীর্ঘদিনের বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সমস্যা পর্যালোচনা করেছে, সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসেছে এবং সেগুলো সমাধানে পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এখন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে কোনো কিছু পরিকল্পনা করা এবং সেটি বাস্তবায়ন করতে সময় লাগে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের এ সমস্যা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। চাইলেই ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এর সমাধান করা সম্ভব নয়।’

সভায় সরকার কোন কাজ কখন শেষ করতে চায়, তার একটি সম্ভাব্য সময়সীমাও ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়। বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সময় কিছুটা এদিক-সেদিক হতে পারে। তবে সরকারের সামনে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সীমা রয়েছে।

‘ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রভাব পড়ে পুরো দেশের ওপর’

ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা ও শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার সামগ্রিক প্রভাব দেশের অর্থনীতির ওপর পড়ে। ফলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান শুধু ব্যবসায়ীদের স্বার্থের বিষয় নয়, এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সম্পর্কিত।

তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানোর যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, তা অর্জন করতে হলে নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে।

‘হতাশ হওয়ার কারণ নেই’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সমস্যার ব্যাপ্তি ও জটিলতা সম্পর্কে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় আগে থেকেই অবগত। সরকার সমস্যাগুলো আড়াল না করে খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছে এবং কীভাবে সেগুলোর সমাধান করতে চায়, সেটিও জানিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এতটুকু আমরা আপনাদের জানাতে চেয়েছি যে আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। সে জন্য হতাশ হওয়ার মতো কারণ নেই।’

সরকারের পরিকল্পনা যৌক্তিক মনে হলে তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে শুধু ব্যবসায়ী সম্প্রদায় নয়, পুরো দেশ উপকৃত হবে।

দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণই সময়মতো ঠিক করবে কাকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেবে। তবে, যে সময় যে সরকার দায়িত্বে থাকে, তাকে তার পরিকল্পিত কাজগুলো সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া উচিত।

গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

আলোচনায় গণমাধ্যমকর্মী ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানোর কারণও ব্যাখ্যা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা গণমাধ্যমের কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। তা না হলে বিচ্ছিন্ন তথ্য থেকে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

গণমাধ্যম সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেলে তা দেশবাসীর কাছেও সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বড় কোনো কাজ সফলভাবে করতে হলে একটি কার্যকর দল প্রয়োজন। সরকারের সংশ্লিষ্ট সবাই একসঙ্গে কাজ করছেন, যাতে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়।

ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সহযোগিতা করবেন, যাতে আমরা আপনাদের জন্য আরও ভালো কিছু করতে পারি।’

যারা উপস্থিত ছিলেন

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ ও জ্বালানি সচিব মো. জিয়াউল হক।

ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কামাল, চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আমিরুল হক, বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব আনাম প্রমুখ।

এ ছাড়া দৈনিক মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ড. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ইংরেজি দৈনিক ওয়াদা’র সম্পাদক শফিকুল আলম, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, মোস্তাফা ফিরোজ, আব্দুন নূর তুষার, আকবর হোসেন, শাহেদ আলম, রেজাউল করিম রনি, আজিজুর রহমান রিপন, তরিকুল ইসলাম সৌরভ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহরিন ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

কেএইচ/এমএএইচ/

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
বিশ্বের শীর্ষ কূটনীতিক, অথচ বেতন যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রীদের চেয়েও কম!
বিশ্বের শীর্ষ কূটনীতিক, অথচ বেতন যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রীদের চেয়েও কম!

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পদ জাতিসংঘের মহাসচিব। যুদ্ধ, সংঘাত, মানবিক সংকট ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এই পদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ তার বেতন যুক্তরাষ্ট্রের একজন মন্ত্রীর চেয়েও কম! প্রচলিত হিসাবে, বিশ্বের শীর্ষ কূটনীতিক (World's Top Diplomat) জাতিসংঘ মহাসচিবের বার্ষিক বেতন প্রায় ২ লাখ ২৭ হাজার ২৫৩ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের নির্বাহী বেতন কাঠামোতে সর্বোচ্চ পর্যায়ের মন্ত্রিসভা পর্যায়ের পদগুলোর বেসিক বেতন ২ লাখ ৫৩ হাজার ১০০ ডলার। আরও পড়ুন জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন, এগিয়ে যিনি অর্থাৎ শুধু এই সংখ্যাগুলো তুলনা করলে জাতিসংঘ মহাসচিবের চেয়ে একজন মার্কিন মন্ত্রী বছরে প্রায় ২৫ হাজার ৮৪৭ ডলার বেশি পান। বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ ডলার ১২২ টাকা ধরলে এর পরিমাণ প্রায় ৩১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। উল্লেখ্য যে, এখানে দুই পক্ষের বেতন কাঠামো এক নয়। তাই একে সরাসরি ‘হাতে পাওয়া বেতন’ হিসেবে তুলনা করা ঠিক হবে না। জাতিসংঘ মহাসচিবের কাজ কী? জাতিসংঘ সনদের ৯৭ নম্বর অনুচ্ছেদে মহাসচিবকে জাতিসংঘের ‘chief administrative officer’ বা প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলা হয়েছে। তিনি জাতিসংঘ সচিবালয়ের নেতৃত্ব দেন। জাতিসংঘের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার প্রশাসনিক নেতৃত্ব তার হাতে। আরও পড়ুন ওসমান হাদি হত্যার দ্রুত-স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদসহ জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ সভায় তিনি ভূমিকা রাখেন। সনদের ৯৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মহাসচিবকে জাতিসংঘের কাজের ওপর সাধারণ পরিষদে প্রতিবছর প্রতিবেদন দিতে হয়। আর ৯৯ নম্বর অনুচ্ছেদে তাকে এমন কোনো বিষয় নিরাপত্তা পরিষদের নজরে আনার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে,যা তার বিবেচনায় আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে মহাসচিবের কাজ শুধু জাতিসংঘের অফিস পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক সংকটের সময়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও মধ্যস্থতাও তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আরও পড়ুন দারিদ্র্য ব্যক্তিগত নয়, এটি ব্যবস্থাগত ব্যর্থতা: জাতিসংঘ মহাসচিব যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রী কত বেতন পান? যুক্তরাষ্ট্রে ‘মন্ত্রী’ বলতে সাধারণত ফেডারেল সরকারের Cabinet Secretary-দের বোঝানো হয়। যেমন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও অন্যান্য দপ্তরের প্রধানরা। ২০২৬ সালের মার্কিন Office of Personnel Management-এর ঘোষণা অনুযায়ী, Level II-এর বার্ষিক বেসিক বেতন ২ লাখ ২৮ হাজার ডলার। আর Level I-এর বেতন ২ লাখ ৫৩ হাজার ১০০ ডলার। তবে সব Cabinet Secretary-কে একই Level-এ রাখা হয় কি না এবং কোন পদ কোন বেতনস্তরে পড়ে, তা পদভেদে বিবেচনা করতে হয়। তাহলে মহাসচিবের বেতন কম কেন? এর পেছনে রয়েছে জাতিসংঘের নিজস্ব বেতন কাঠামো। জাতিসংঘের বেতনব্যবস্থা জাতীয় সরকারের বেতন কাঠামোর মতো নয়। আন্তর্জাতিক বেসামরিক কর্মীদের জন্য আলাদা বেতন ও ভাতা কাঠামো রয়েছে। জাতিসংঘের পেশাদার ও উচ্চপর্যায়ের কর্মীদের বেতন নির্ধারণে আন্তর্জাতিক সিভিল সার্ভিস কমিশনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আরও পড়ুন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন খলিলুর রহমান এ ছাড়া বেতন বলতে শুধু মূল বেতন বোঝায় না। পদ, দায়িত্ব ও কর্মস্থল অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ভাতা ও সুবিধা থাকতে পারে। জাতিসংঘের নিয়মে আন্তর্জাতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া উচ্চপর্যায়ের কর্মীদের ক্ষেত্রে পোস্ট অ্যাডজাস্টমেন্টসহ বিভিন্ন সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে শুধু বার্ষিক মূল বেতন দেখে দুই পদের সম্পূর্ণ আর্থিক সুবিধা তুলনা করা বাস্তবে যথেষ্ট নয়। সূত্র: জাতিসংঘ, ওয়ানএইচআরকেএএ/

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
মেয়াদোত্তীর্ণ ইনসুলিন রাখায় ফার্মেসিকে জরিমানা

মেয়াদোত্তীর্ণ ইনসুলিন রাখায় ফার্মেসিকে জরিমানা

পল্লবীতে বস্তাবন্দির ভিডিও ‘অপহরণ নাটক’, চট্টগ্রাম থেকে নজরুল উদ্ধার

পল্লবীতে বস্তাবন্দির ভিডিও ‘অপহরণ নাটক’, চট্টগ্রাম থেকে নজরুল উদ্ধার

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪৫ জনের চাকরি

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪৫ জনের চাকরি

দুদকের তলবে হাজির হননি সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিন, চাইলেন ৩০ দিনের সময়
দুদকের তলবে হাজির হননি সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিন, চাইলেন ৩০ দিনের সময়

দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তলব করা হলেও তিনি আজ সোমবার হাজির হননি। তিনি কমিশনের কাছে ৩০ দিনের সময় চেয়ে আবেদন করেছেন। আজ দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আজ রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে শফিউদ্দিন আহমেদের হাজির হয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। তবে তিনি ৩০ দিনের সময় চেয়েছেন। এখন আইন অনুযায়ী এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে কমিশন।গত ৩০ আগস্ট সাবেক এই সেনাপ্রধানকে তলব করে দুদকের পরিচালক মো. আবুল হাসনাত চিঠি দেন। সেই চিঠিতে তাঁকে আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়। একই সঙ্গে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি সঙ্গে আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।তলবি নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য শোনা এবং তা রেকর্ড করা ‘অপরিহার্য’।দুদক সূত্রে জানা গেছে, সাবেক এই সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে পরিচালক মো. আবুল হাসনাতের নেতৃত্বে একটি দল কাজ করছে। গত বছর ১৪ ডিসেম্বর থেকে এই অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়।সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিন আহমেদকে দুদকে তলবজেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ২০২১ সালের ২৪ জুন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিন বছর সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০২৪ সালের ২৩ জুন অবসরে যান তিনি।

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
দুদকের মামলায় রিজেন্টের চেয়ারম্যান সাহেদকে গ্রেপ্তার দেখাল আদালত

দুদকের মামলায় রিজেন্টের চেয়ারম্যান সাহেদকে গ্রেপ্তার দেখাল আদালত

হাওরে দুইপক্ষের সংঘর্ষে প্রাণ গেল কৃষকের

হাওরে দুইপক্ষের সংঘর্ষে প্রাণ গেল কৃষকের

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টানা ১৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টানা ১৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না

নির্বাচনে হেরেও কথা রাখলেন আরিফ, রাবিতে দিলেন ৭২৫টি গাছ
নির্বাচনে হেরেও কথা রাখলেন আরিফ, রাবিতে দিলেন ৭২৫টি গাছ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচনের সময় প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যায় গাছ লাগানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আরিফ আলভী। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে তিনি শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকল্প শাখার কাছে ৭২৫টি গাছ হস্তান্তর করেছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে আয়োজিত এক কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি ১১ প্রজাতির গাছ বিতরণ ও রোপণের উদ্যোগ নেন। আরিফ রাকসু নির্বাচনে এক হাজার ৭২৫টি ভোট পেয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ৭২৫টি গাছ বিতরণ করলেও পরবর্তীতে ৬৪ জেলায় এক হাজার ৭২৫টি করে গাছ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। কিছু গাছ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করে অধিকাংশ গাছ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকল্প শাখার কাছে হস্তান্তর করেছেন তিনি। যাতে সেগুলো যথাযথভাবে পরিকল্পনার মাধ্যমে রোপণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে বেড়ে উঠতে পারে। ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‌‘রাকসু নির্বাচনের আগে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল হারুক বা জিতুক যতগুলো ভোট পাবেন ততগুলো গাছ ক্যাম্পাসে রোপণ করবেন। তার এমন পরিবেশবান্ধব ও শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগকে আমরা আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই।’ রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তাসনিম সুলতানা ঐশি বলেন, ‘প্রতিটি ভোটের বিনিময়ে তার একটি করে গাছ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এখানে একাধিক গাছ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও আমার একটি গাছ ভালো লেগেছে, তাই একটি নিয়েছি।’ এসময় আরিফ আলভী বলেন, ‘রাকসু নির্বাচনে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে ৫৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। আমি ১ হাজার ৭২৫ ভোট পেয়েছিলাম। নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, জিতি বা হারি যতগুলো ভোট পাব, ততগুলো গাছ দেব। সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় প্রথম ধাপে ১১ প্রজাতির ৭২৫টি গাছ দিয়েছি। এগুলো নিজের উপার্জনের টাকা দিয়ে দিয়েছি। ভবিষ্যতে ৬৪ জেলায় ১ হাজার ৭২৫টি করে গাছ দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।’ মিরাজ হোসেন/এসজেডএইচ/এএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
আসিফের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান কোনো রাজনৈতিক চাপে নয়: দুদক

আসিফের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান কোনো রাজনৈতিক চাপে নয়: দুদক

শেষ হলো বাংলাদেশ রোবট অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্ব

শেষ হলো বাংলাদেশ রোবট অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্ব

লেনোভোর নতুন দুটি মডেলের মনিটর বাজারে

লেনোভোর নতুন দুটি মডেলের মনিটর বাজারে

0 Comments