কল্পনা করুন, আপনি ক্লাসের শেষ বেঞ্চে বসে একটি বিরক্তিকর বক্তৃতা শুনছেন। হঠাৎ আপনার সবচেয়ে কাছের বন্ধুটি চিপসের একটি প্যাকেট বের করে আপনার দিকে বাড়িয়ে দিল। আপনি খুব সাবধানে, চুপচাপ প্যাকেটটা খোলার চেষ্টা করলেন। ঠিক তখনই মড়মড় করে উঠল সেটি! ব্যস, মুখ তুলে দেখলেন শিক্ষক ইতিমধ্যেই আপনার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছেন।
এই অভিজ্ঞতা আমাদের অনেকেরই আছে। আমরা অনেকেই হয়তো কোনো নিস্তব্ধ ক্লাসরুম বা লাইব্রেরিতে লজেন্স বা চিপসের প্যাকেট খোলার চেষ্টা করেছি এবং অনিবার্যভাবে নিজেদের বিব্রত করেছি। কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন, প্লাস্টিকের প্যাকেট কেন এত শব্দ করে?
বেশির ভাগ প্লাস্টিকের প্যাকেট তৈরি হয় পলিমার দিয়ে। যেমন পলিইথিলিন, মাইলার বা সেলোফেন। এগুলো দেখতে পাতলা হলেও বেশ শক্ত। রাবারের মতো সহজে টেনে লম্বা করা যায় না, আবার ভাঁজ করলেও সহজে ছিঁড়ে যায় না। তাই একটি সমতল প্লাস্টিকের পাত মচকালে তাতে একের পর এক ভাঁজ বা খাঁজ তৈরি হয়। এই ভাঁজগুলোই প্লাস্টিকের সেই পরিচিত মড়মড় শব্দের মূল কারণ।
বেশির ভাগ প্লাস্টিকের প্যাকেট তৈরি হয় পলিমার দিয়ে। যেমন পলিইথিলিন, মাইলার বা সেলোফেন। এগুলো দেখতে পাতলা হলেও বেশ শক্ত। রাবারের মতো সহজে টেনে লম্বা করা যায় না।
ব্যাপারটা বুঝতে হলে আগে একটু শক্তির বিষয়ে কথা বলা যাক। কোনো বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ করে সেটিকে বিকৃত করলে তার মধ্যে শক্তি জমা হতে পারে। বস্তুর আকৃতি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার প্রবণতার সঙ্গে সম্পর্কিত এই শক্তিকে বলা হয় স্থিতিস্থাপক বিভব শক্তি। ধনুকের কথাই ধরুন। ধনুক বাঁকিয়ে তাতে তির লাগালে ধনুকের মধ্যে শক্তি জমা হয়। তির ছোড়ার সময় সেই শক্তির একটি অংশ গতিশক্তিতে রূপান্তরিত হয়, যা তিরটি ছুড়তে সাহায্য করে এবং ধনুকটি তার আগের অবস্থায় ফিরে আসে।
প্লাস্টিকের পাতের ক্ষেত্রেও অনেকটা একই ঘটনা ঘটে। একটি সমতল প্লাস্টিকের পাতের স্বাভাবিক বা স্থিতিশীল অবস্থা হলো সমতল হয়ে থাকা। কিন্তু একবার সেটিকে মচকে দিলে তাতে অসংখ্য ভাঁজ তৈরি হয়।

তখন পাতটি আর শুধু সমতল অবস্থাতেই থাকতে চায় না। ভাঁজের ওপর নির্ভর করে এটি বিভিন্ন স্থিতিশীল অবস্থায় থাকতে পারে। অর্থাৎ, মচকানো প্লাস্টিকের পাতকে বিভিন্নভাবে বাঁকিয়ে বা ভাঁজ করে ছেড়ে দিলে সেটি সেই অবস্থাতেই থেকে যেতে পারে।
প্রতিটি অবস্থার সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিমাণ স্থিতিস্থাপক বিভব শক্তি যুক্ত থাকে। আপনি যখন প্যাকেটটি টানেন, মোচড়ান বা চাপ দেন, তখন তার ভেতরে আরও শক্তি জমা হয়। কিন্তু কোনো একটি অবস্থায় যত খুশি শক্তি জমা হতে পারে না। একটা পর্যায়ে গিয়ে সেই সীমা ছাড়িয়ে গেলে প্লাস্টিকের পাতটি হঠাৎ অন্য একটি স্থিতিশীল অবস্থায় চলে যায়। তখন জমা শক্তির কিছু অংশ মুক্তি পায়। এই আকস্মিক পরিবর্তনই ক্ষুদ্র একটি ক্লিক শব্দ তৈরি করে।
ভাঁজের ওপর নির্ভর করে পাতটি বিভিন্ন স্থিতিশীল অবস্থায় থাকতে পারে। অর্থাৎ, মচকানো প্লাস্টিকের পাতকে বিভিন্নভাবে বাঁকিয়ে বা ভাঁজ করে ছেড়ে দিলে সেটি সেই অবস্থাতেই থেকে যেতে পারে।
এভাবে একটি ভাঁজ থেকে আরেকটি ভাঁজে যাওয়ার সময় একবার করে শব্দ তৈরি হয়। তাই প্লাস্টিকের প্যাকেট মচকালেই আমরা একটানা কোনো শব্দ শুনি না; বরং খুব দ্রুত পরপর অনেকগুলো ছোট ছোট শব্দ শুনি। সবগুলো মিলেই তৈরি হয় সেই পরিচিত মচমচ বা কড়কড় আওয়াজ।
বিষয়টি আরও সহজে বোঝা যায় একটি পাহাড়ি রাস্তার উদাহরণ দিয়ে। ভাবুন, অনেক উঁচু-নিচু জায়গা এবং খাঁজযুক্ত একটি পথে একটি পাথর ঠেলে ওপরে তুলছেন। পাথরটিকে যত ওপরে তুলবেন, তত শক্তি জমা হবে। কোনো একসময় পাথরটি চূড়ায় পৌঁছে গড়িয়ে নিচে নেমে যাবে এবং নিচের কোনো একটি খাঁজে আটকে যাবে। আবার তাকে ওপরে তুললে অন্য কোনো খাঁজে গিয়ে আটকে থাকতে পারে।
মচকানো প্লাস্টিকের পাতের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা অনেকটা এমন। পাহাড়ের খাঁজগুলো হলো প্লাস্টিকের বিভিন্ন স্থিতিশীল অবস্থা। পাথরকে ওপরে তোলার মতো করে প্লাস্টিককে বাঁকানো বা মোচড়ানোর সময় তাতে শক্তি জমা হয়। সীমা ছাড়িয়ে গেলে পাতটি হঠাৎ অন্য একটি অবস্থায় চলে যায় এবং কিছু শক্তি মুক্তি পায়। তখনই শোনা যায় শব্দ।
প্লাস্টিকের প্যাকেট মচকালেই আমরা একটানা কোনো শব্দ শুনি না; বরং খুব দ্রুত পরপর অনেকগুলো ছোট ছোট শব্দ শুনি। সবগুলো মিলেই তৈরি হয় সেই পরিচিত মচমচ বা কড়কড় আওয়াজ।
এখন প্রশ্ন হলো, সব প্লাস্টিকের প্যাকেট কি সমান শব্দ করে? মোটেও নয়। একটি সাধারণ বাজারের প্লাস্টিকের ব্যাগ হাতে নিলে হয়তো খুব সামান্য শব্দ হবে। কিন্তু চিপসের প্যাকেট বা ক্যান্ডির মোড়ক মচকালেই যেন পুরো ঘর কেঁপে ওঠে! এর কারণ প্যাকেট তৈরির ধরন। চিপসের প্যাকেট সাধারণত শুধু একটি পাতলা প্লাস্টিকের স্তর দিয়ে তৈরি হয় না। এতে একাধিক পাতলা স্তর থাকে। অনেক ক্ষেত্রে পলিমারের পাতের ওপর অতিপাতলা অ্যালুমিনিয়ামের স্তরও থাকে। প্যাকেটের ভেতরের চকচকে রুপালি অংশটি আসলে সেই ধাতব স্তর। এর কাজ শুধু প্যাকেটকে চকচকে করা নয়; অক্সিজেন ও আর্দ্রতা ভেতরে ঢুকতে বাধা দিয়ে চিপসকে মচমচে রাখতে সাহায্য করে এটি। প্যাকেটের ভেতরে নাইট্রোজেন গ্যাস ভরা থাকার এটিও একটি কারণ।

প্যাকেটের স্তরগুলো যত শক্ত ও দৃঢ় হয়, বাঁকানোর সময় তাতে তত বেশি স্থিতিস্থাপক শক্তি জমা হতে পারে। ফলে ভাঁজ হঠাৎ বদলে যাওয়ার সময় তৈরি হওয়া শব্দও হয় বেশি তীক্ষ্ণ ও জোরালো। এর একটি মজার উদাহরণ পাওয়া যায় ২০১০ সালে। তখন ফ্রিটো-লে সম্পূর্ণ পচনশীল উপাদান দিয়ে সানচিপস-এর একটি নতুন প্যাকেট বাজারে আনে। প্যাকেটটি মূলত ভুট্টা থেকে তৈরি পলিল্যাকটিক অ্যাসিড বা পিএলএ দিয়ে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু নতুন প্যাকেটটি এত জোরে কড়কড় শব্দ করত যে ক্রেতাদের অনেকেই অভিযোগ করেন। পরীক্ষায় এর শব্দের মাত্রা প্রায় ৯৫ ডেসিবেল পর্যন্ত উঠেছিল, যা মোটরসাইকেলের শব্দের কাছাকাছি! সাধারণ প্লাস্টিকের ব্যাগের তুলনায় এর শব্দ ছিল প্রায় ৭৭ ডেসিবেল। পরে ফ্রিটো-লে প্যাকেটটির নকশা বদলে শব্দ কমিয়ে আনে।
প্যাকেটের স্তরগুলো যত শক্ত ও দৃঢ় হয়, বাঁকানোর সময় তাতে তত বেশি স্থিতিস্থাপক শক্তি জমা হতে পারে। ফলে ভাঁজ হঠাৎ বদলে যাওয়ার সময় তৈরি হওয়া শব্দও হয় বেশি তীক্ষ্ণ ও জোরালো।
তবে প্লাস্টিকের প্যাকেট নীরব জায়গায় এত জোরে শোনা যাওয়ার আরেকটি কারণ আছে। সেটা প্যাকেটের নয়, আমাদের কানের। একটি ব্যস্ত রান্নাঘরে একই প্যাকেট খুললে হয়তো শব্দটি তেমন কানে লাগবে না। কারণ আশপাশের নানা শব্দ প্যাকেটের ক্ষীণ শব্দকে ঢেকে দেয়। একে বলা হয় অডিওটরি মাস্কিং। কিন্তু নীরব ক্লাসরুম, লাইব্রেরি কিংবা গভীর রাতে ঘরে যখন চারপাশে প্রায় কোনো শব্দই নেই, তখন প্যাকেটের ছোট ছোট শব্দগুলোও স্পষ্ট শোনা যায়।
তার ওপর মানুষের কান সব ধরনের শব্দের প্রতি সমান সংবেদনশীল নয়। প্রায় ২ হাজার থেকে ৫ হাজার হার্জ কম্পাঙ্কের শব্দ আমরা তুলনামূলক ভালো শুনতে পাই। প্লাস্টিকের প্যাকেটের তীক্ষ্ণ কড়কড় শব্দের একটি বড় অংশ এই সংবেদনশীল কম্পাঙ্কের কাছাকাছি হওয়ায় তা আমাদের কানে আরও জোরালো বলে মনে হয়।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
শিশুশিল্পী হিসেবে শোবিজে পা রেখে দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছিলেন প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। সেই ছোট্ট দীঘিই এখন পুরোদস্তুর নায়িকা। অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিয়মিতই ভক্তদের নজর কাড়েন তিনি। এবার সমুদ্রতীরে শাড়িতে ধরা দিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন দীঘি। সমুদ্রের পাড়ে নরম আলো, চারপাশে সামুদ্রিক বাতাস। এমন আবহেই শাড়িতে ভিন্ন লুকে দেখা গেল এই অভিনেত্রীকে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন দীঘি। এরপরই ছবিগুলো নিয়ে ভক্তদের মধ্যে শুরু হয় আলোচনা। ছবিতে জলপাই, কালো ও হালকা নীলের মিশ্রণের শাড়ি পরেছেন দীঘি। সঙ্গে ছিল ফ্লোরাল প্রিন্টের ব্লাউজ। খোলা চুল আর সমুদ্রের বাতাসে উড়তে থাকা চুলে তাকে বেশ স্বচ্ছন্দ দেখাচ্ছিল। কখনো দুই হাত মেলে, কখনো কোমরে কিংবা বুকে হাত রেখে ক্যামেরার সামনে পোজ দিয়েছেন তিনি। পেছনে সমুদ্রের ঢেউ আর খোলা আকাশ। সব মিলিয়ে ছবিগুলোতে ভিন্ন এক আবহ তৈরি হয়েছে। ছবির সঙ্গে অবশ্য বড় কোনো ক্যাপশন দেননি দীঘি। লিখেছেন মাত্র দুটি শব্দ ‘ব্লেসড মেস’। তার এই ছোট্ট ক্যাপশন নিয়েও ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল দেখা গেছে। ছবি প্রকাশের পরপরই মন্তব্যের ঘরে ভক্তদের প্রশংসা শুরু হয়। কেউ দীঘির সৌন্দর্যের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ জানতে চেয়েছেন তার এত সুন্দর লাগার কারণ। একজন লিখেছেন, ‘দীঘি আপু এত সুন্দরী, জানা ছিল না’। আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘তুমি এত সুন্দর কেন?’ অবশ্য প্রশংসার পাশাপাশি কিছু নেতিবাচক মন্তব্যও এসেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এসব মন্তব্যে খুব একটা গুরুত্ব দিতে দেখা যায় না দীঘিকে। ধারণা করা হচ্ছে, ছবিগুলো কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে তোলা। কিছুদিন আগে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রচারণামূলক কাজেও কক্সবাজারে গিয়েছিলেন তিনি। অভিনয়ে অবশ্য বেশ কিছুদিন ধরে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে না দীঘিকে। বর্তমানে বিভিন্ন প্রচারণামূলক কাজ নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটছে তার। এর মধ্যেই সমুদ্রের পাড়ে শাড়িতে প্রকাশ করা নতুন ছবিতে আবারও ভক্তদের নজর কেড়েছেন এই অভিনেত্রী। শিশুশিল্পী হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর ধীরে ধীরে নায়িকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন দীঘি। সবশেষ ‘থার্টি সিক্স টুয়েন্টি ফোর থার্টি সিক্স’ সিনেমায় দেখা গেছে তাকে। রেজাউর রহমান, কারিনা কায়সার ও মোনতাসির মান্নানের রচনায় সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন রেজাউর রহমান। এতে দীঘির বিপরীতে অভিনয় করেছেন ছোট পর্দার অভিনেতা সৈয়দ জামান শাওন। এমআই/এলআইএ
বাংলাদেশের কাছে ইলিশ চেয়ে চিঠি দিলেন ভারতের মৎস্য ব্যবসায়ীরা। চিঠিতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা। গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের কাছে চিঠি দেন পশ্চিমবঙ্গের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ। চলতি বছরের দুর্গাপূজা উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ইলিশ পাঠানোর ব্যবস্থা করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। আরও পড়ুন পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি বলে বিক্রি হচ্ছে ‘স্বাদ-গন্ধহীন’ নকল ইলিশ চিঠিতে ভারতের মৎস্য আমদানিকারকেরা বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারা খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছেন। তার অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বৃহত্তর সহযোগিতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তারা। থমকে আছে ইলিশ রপ্তানি বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুরোধ জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, ১৯৯৬ সাল থেকে বেনাপোল এলসিএস (পশ্চিমবঙ্গ, ভারত) ও আখাউড়া এলসিএস (ত্রিপুরা, ভারত) হয়ে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানি করে আসছেন তারা। তবে ২০১২ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ সরকার ইলিশ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে তারা নিয়মিত আবেদন করে আসছেন। তবে তাতে কোনো ফল হয়নি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও পড়ুন এবারও দুর্গাপূজায় ইলিশ চায় ভারত চিঠিতে আরও বলা হয়, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ সরকার দুর্গাপূজা উপলক্ষে এক মাসের জন্য ইলিশ রপ্তানির বিশেষ অনুমতি দিতে শুরু করে। তবে পরবর্তী সময়ে সেই উদ্যোগ কার্যকর হয়নি বলে দাবি করেছেন আমদানিকারকেরা। ‘দুই বাংলার বিশেষ সম্পর্ক’ ভারতের মৎস্য আমদানিকারকেরা চিঠিতে দুই বাংলার মানুষের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেছেন। তাদের ভাষ্য, এপার বাংলা ও ওপার বাংলার মানুষের মধ্যে ভাষা, খাদ্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বিশেষ মিল রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরার মাছপ্রেমীরা তাদের প্রিয় খাবার ইলিশের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। আরও পড়ুন পদ্মার নাকি গুজরাটের ইলিশ, চিনবেন যেভাবে চিঠিতে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ইলিশ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে। আমদানিকারকেরা আশাপ্রকাশ করেছেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে এবারও বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হবে। এতে ভারতের বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ উপকৃত হবেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ‘ইলিশ পাওয়ার আশায় আছি’ চিঠির বিষয়ে হাওড়ার ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগোনিউজকে বলেন, প্রতিবছরের মতো চলতি বছরও দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ চেয়ে সরকারের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে চলতি বছরও যেন বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানি করা যায়, সে জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। তারা আশা করছেন, এবারও বাংলাদেশ সরকার দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে ইলিশ পাঠানোর অনুমতি দেবে। ডিডি/কেএএ/
রান্নাঘরে প্রতিদিন এমন অনেক কিছুই ব্যবহার করি, যার প্রয়োজন শেষ হলেই জায়গা হয় ময়লার ঝুড়িতে। পেঁয়াজের শুকনো খোসাও তেমনই একটি উপকরণ। কিন্তু ইদানীং ফেলে দেওয়া এই খোসা নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন এক ঘরোয়া হেয়ার কেয়ার ট্রেন্ড। পেঁয়াজের খোসা পানিতে ফুটিয়ে তৈরি করা তরল দিয়ে স্ক্যাল্প ও চুল ধোয়ার পরামর্শ ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কেউ দাবি করছে, এতে চুল ঝলমলে হয়, আবার কেউ বলছেন চুল পড়া কমাতেও নাকি এটি কার্যকর। কিন্তু প্রশ্ন হলো, পেঁয়াজের খোসার পানি কি সত্যিই নতুন চুল গজাতে পারে? এ ক্ষেত্রে প্রচলিত দাবি আর বৈজ্ঞানিক প্রমাণকে আলাদা করে দেখা জরুরি। পেঁয়াজের বাইরের শুকনো খোসা পানিতে ফুটিয়ে বা ভিজিয়ে যে তরল তৈরি করা হয়, সেটিই মূলত পেঁয়াজের খোসা পানি । পেঁয়াজের খোসায় বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এর মধ্যে কুয়েরসেটিনের মতো যৌগও পাওয়া যায়। এসব উপাদানের কারণে চুল ও স্ক্যাল্পের যত্নে পেঁয়াজের খোসা ব্যবহারের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার। পেঁয়াজের খোসার পানি চুল গজানোর প্রমাণিত চিকিৎসা নয়। পেঁয়াজের খোসায় সালফারযুক্ত যৌগ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকলেও এগুলো সরাসরি বংশগত বা হরমোনজনিত চুল পড়া বন্ধ করে নতুন চুল গজাবে-এমন শক্ত প্রমাণ বর্তমানে নেই। পেঁয়াজের রসের গবেষণা ২০০২ সালে জার্নাল অব ডার্মাটোলজি-তে প্রকাশিত একটি ছোট গবেষণায় পেঁয়াজের কাঁচা রসের ব্যবহার পরীক্ষা করা হয়েছিল। গবেষণাটি ছিল অ্যালোপেশিয়া অ্যারিয়াটা, অর্থাৎ মাথার নির্দিষ্ট জায়গায় গোলাকারভাবে চুল উঠে যাওয়ার সমস্যাকে কেন্দ্র করে। সেখানে পেঁয়াজের রস ব্যবহারকারীদের একটি অংশে চুল গজানোর ফল পাওয়া গিয়েছিল। তবে এই গবেষণাকে পেঁয়াজের খোসার পানির কার্যকারিতার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। কারণ কাঁচা পেঁয়াজের রস এবং পেঁয়াজের খোসা ফুটিয়ে তৈরি পানি এক জিনিস নয়। তাই ওই গবেষণার ফল দেখে খোসার পানি চুল গজায়-এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বৈজ্ঞানিকভাবে ঠিক হবে না। আরও পড়ুন কান-নাক ফোঁড়ানোর পর দ্রুত শুকাতে যত্ন নেবেন যেভাবে যেভাবে ব্যবহার করবেন ঘরোয়া হেয়ার রিন্স হিসেবে কেউ এটি ব্যবহার করতে চাইলে প্রথমে পরিষ্কার ১-২টি পেঁয়াজের শুকনো খোসা নিন। ভালোভাবে ধুয়ে ২ কাপ পানিতে প্রায় ১০-১৫ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এরপর তরলটি পুরোপুরি ঠান্ডা করে ছেঁকে পরিষ্কার বোতলে রাখুন।ব্যবহারের আগে অবশ্যই স্ক্যাল্পের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নিন। কোনো জ্বালা, চুলকানি বা লালচে ভাব হলে ব্যবহার বন্ধ করুন। সহনীয় হলে শ্যাম্পুর পর স্ক্যাল্পে অল্প পরিমাণে লাগিয়ে ১-২ মিনিট রেখে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে পারেন। সংরক্ষণ করলে পরিষ্কার পাত্রে অল্প সময়ের জন্য রাখাই ভালো। আরও পড়ুন লিপস্টিক লাগিয়েও ঠোঁট থাকবে ন্যাচারাল, জেনে নিন কীভাবে করবেন তবে এটিকে চুল পড়ার চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। অতিরিক্ত চুল পড়া, মাথায় নির্দিষ্ট অংশে টাকের মতো জায়গা তৈরি হওয়া কিংবা দীর্ঘদিন ধরে চুল পাতলা হতে থাকলে ঘরোয়া রিন্সের ওপর নির্ভর না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। কারণ চুল পড়ার পেছনে বংশগত কারণ, হরমোন, পুষ্টির ঘাটতি, স্ক্যাল্পের সমস্যা বা অন্য শারীরিক কারণ থাকতে পারে। সূত্র: টাইসম অব ইন্ডিয়া, মেডিকেল নিউজ টুডে এসএকেওয়াই