২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব নিয়েছেন ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস থেকে শুরু করে ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতেও শিক্ষকতা করেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মো. সাইফুল্লাহ
প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর আপনি উপাচার্য, অনেক বড় দায়িত্ব। গত ২ বছর এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল?
ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: দেখুন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু একটা ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ বললে কম বলা হয়। এটা একটা উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্র বা হাব। দেশে যত ছেলেমেয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে, তার ৭০ শতাংশই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এই বিপুল তরুণ জনশক্তিকে বাদ দিয়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন যেমন সম্ভব নয়, তেমনি এদের বিশ্ববাজার উপযোগী করে গড়ে তোলাও অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। অনেক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও আমরা সেই কাজে হাত দিয়েছি। আশা করছি, খুব শিগগির দৃশ্যমান উন্নয়ন চোখে পড়বে। ২০২৪ সালের আগস্টের পর অন্যতম মূল চ্যালেঞ্জ ছিল শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী করা, পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনা। কারণ, গণ-অভ্যুত্থানের পর নানা কারণে সবাই ট্রমাটাইজ ছিল। সেই চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে এখন আমরা স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছি।
প্রতিবছর প্রায় ৫ লাখ শিক্ষার্থী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বের হন। তাঁদের কত শতাংশ চাকরি পান বা পান না, সে রকম কোনো উপাত্ত কি আপনাদের কাছে আছে?
ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। বর্তমানে উচ্চশিক্ষার সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে ইউনিসেফের সহযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে একটি গবেষণা কার্যক্রম চলছে। সেটি শেষ হলে হয়তো বলা যাবে। তবে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার হিসেবে দেখা যায়, প্রায় ৭০ শতাংশ চাকরি পায়।
স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঠক্রম আধুনিকীকরণ, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের যোগ্যতা বাড়ানো—এমন বেশ কিছু লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আপনার কি মনে হয়, লক্ষ্য কি অর্জিত হয়েছে?
ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: হয়নি। কারণ, আমাদের সিলেবাস এখনো মান্ধাতা আমলের। আমরা বলি ৪০ লাখ শিক্ষার্থী। আসলে শিক্ষার্থী নয়, পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা দিচ্ছে, ডিগ্রি নিচ্ছে। বিশ্ব যখন চতুর্থ ও পঞ্চম শিল্পবিপ্লব কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করেছে, তখনো আমাদের সেই পুরোনো আমলের কারিকুলামে আটকে থাকতে হয়েছে। উচ্চশিক্ষাকে প্রকৃত অর্থে কর্মমুখী, দক্ষতাভিত্তিক ও জীবনঘনিষ্ঠ করা হয়নি। অনেক কলেজ ও প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন অনার্স ও প্রফেশনাল কোর্স চালু করা হয়েছে, কিন্তু পর্যাপ্ত ল্যাবরেটরি বা প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই। তাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা ঢেলে সাজাচ্ছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাসহ দেশের খ্যাতনামা পণ্ডিতদের সম্পৃক্ত করে সিলেবাস ও কারিকুলাম উন্নয়নের কাজ চলছে। কলেজগুলোর ল্যাবের আধুনিকীকরণে আমরা হাত দিয়েছি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার ভর্তি পরীক্ষা চালু করেছি। বলা যায় বিরাট কর্মযজ্ঞ চলছে।

শিক্ষার্থীদের বিশ্ববাজার উপযোগী করে গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জের কথা বলছিলেন। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কী কী উদ্যোগ নিয়েছেন?
ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: আমূল সংস্কারের পরিকল্পনা আমাদের আছে। প্রথমত, আউটকাম-বেজড এডুকেশনের ওপর জোর দিচ্ছি। অর্থাৎ কোর্সগুলো যেন শুধু তাত্ত্বিক না হয়ে নির্দিষ্ট দক্ষতাভিত্তিক হয়। মৌলিক ডিজিটাল দক্ষতা, যেমন ডেটা অ্যানালাইসিস, কোডিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, বেসিক ও অ্যাডভান্সড এআই কোর্স বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে। একাডেমি-ইন্ডাস্ট্রির সংযোগের জন্য আমরা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি, যেন শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ বা অন দ্য জব ট্রেনিংয়ের সুযোগ তৈরি হয়। সব মিলিয়ে কারিকুলাম ঢেলে সাজানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে ইংরেজি ও আইসিটি আমরা বাধ্যতামূলক করেছি। কেউ যদি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি চায়, তাকে এই দুটি কোর্স পাস করতেই হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং, সেমিকন্ডাক্টর, ডিজিটাল কমিউনিকেশন, লিডারশিপ, কগনিটিভ এমপাওয়ারমেন্ট, ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি—এসব আধুনিক বিষয়ও পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করছি। ধাপে ধাপে ৪০ লাখ শিক্ষার্থী এসব কোর্স করবে, বছরে অন্তত ২ লাখ দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে অবদান রাখবে। এ ছাড়া চালু হতে যাচ্ছে বিভিন্ন মাইক্রো-ক্রেডেনশিয়াল প্রোগ্রাম। দক্ষ শিক্ষক তৈরির মাস্টারপ্ল্যানও চলমান আছে।
শিক্ষকদের কীভাবে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন?
ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: সারা দেশে ১২ হাজার শিক্ষকের প্রশিক্ষণ চলমান আছে। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, এটুআই, আইসিটি ডিভিশন ও ইউনিসেফ বাংলাদেশ আমাদের কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছে। আইসিটির জন্য ৪৯ জন কোর ট্রেইনার, ৮৪০ জন মাস্টার ট্রেইনারসহ মোট ৯৩০ জনকে তৈরি করা হয়েছে। দেশব্যাপী ১২ হাজার শিক্ষককে পর্যায়ক্রমে আইসিটি প্রশিক্ষণ দেবেন তাঁরা।

তৃতীয় ভাষাশিক্ষার ব্যাপারেও তো নানা উদ্যোগ নিয়েছেন আপনারা।
ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: বর্তমান সরকার, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তৃতীয় ভাষাশিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। দেশের শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ তৃতীয় ভাষা না জানায় বৈশ্বিক কর্মবাজারের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। তৃতীয় কোনো ভাষা যদি আমরা শেখাতে পারি, প্রবাসী আয় দ্বিগুণ হতে পারে। সে জন্যই মাল্টি ল্যাঙ্গুয়েজ লার্নিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই ইনস্টিটিউটের তত্ত্বাবধানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে আমরা ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেছি। ঢাকার বেশ কয়েকটা কলেজে চালুও হয়ে গেছে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে হবে। প্রাথমিকভাবে আমরা দেখেছি, চায়নিজ, জাপানিজ, আরবি ও ফরাসি ভাষা শিখতে শিক্ষার্থীরা আগ্রহী। এ কারণেই আমরা ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমির সংযোগের উদ্যোগ নিচ্ছি। আইডিপি বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা ভাষাদক্ষতা উন্নয়ন করতে পারবে। এ ছাড়া আমরা সাইবার সিকিউরিটি ক্লাব, ক্যারিয়ার ক্লাব গঠন করছি।
ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমির যোগাযোগের কথা বলছিলেন। এই ক্ষেত্রে কী কী করেছেন বা করছেন?
ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: অনেকে বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে ছেলেমেয়েরা চাকরি পাচ্ছে না। প্রথমে জানতে হবে, বেকারত্বের মূল কারণটা কী। এককথায় বলতে গেলে কারণ হলো ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগের অভাব। কেন এই সংযোগ হচ্ছে না? ওই যে বললাম, মান্ধাতা আমলের কারিকুলাম। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই জরাজীর্ণ কারিকুলামকেই ঢেলে সাজিয়ে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমির যোগাযোগ গড়ে তোলার উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। শিল্পোদ্যোক্তা ও গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে মেলবন্ধনের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। বেশ কয়েকটা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমরা সমঝোতা স্মারক সই করেছি। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাজ্যের স্যালফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাভেন, চীনের হোপ এডুকেশন, অক্সফোর্ড একিউএ, ইউনিসেফ বাংলাদেশ, এটুআই, এসিসিএ, এনএসডিএ, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডের সিনাওয়াত্রা ইউনিভার্সিটি, ইএটিএল ইনোভেশন হাবসহ প্রায় ১৫০টিরও বেশি দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা সংস্থা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমরা এমওইউ স্বাক্ষর করেছি। এর মাধ্যমে ইন্টার্নশিপ, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সম্প্রসারণ হচ্ছে। ঢাকা শেরাটন ও হোটেল ওয়েস্টিনের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। আমাদের গ্র্যাজুয়েটরা এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইন্টার্নশিপের সুযোগ পাবে। এ ছাড়া ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এর মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীরা গবেষণা ও দক্ষতা বিনিময় করবে। খুব শিগগির বিদেশি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় আমরা মাস্টার্স অব পাবলিক হেলথ (এমপিএইচ) প্রোগ্রাম চালু করতে যাচ্ছি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যেই নানা কারণে হতাশা আছে। ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন। মানসিকভাবে ছেলেমেয়েদের চাঙা করার ব্যাপারে কিছু কি ভাবছেন?
ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: আমাদের শিক্ষার্থী আছে সারা দেশে। এই শক্তি কাজে লাগিয়ে আমরা একটা সাংস্কৃতিক বিপ্লব ঘটাতে চাই। দেশ স্বাধীনের পর ৭১ সালে এই সুযোগ এসেছিল। সেটা আমরা কাজে লাগাতে পারিনি। ৯০-এ একবার এসেছিল। সেবারও পারিনি। ২০২৪ সালের পর এবার সুযোগটি আমরা কাজে লাগাতে চাই। আমরা রেনেসাঁ (পুনর্জাগরণ) তৈরি করতে চাই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বছরে ৪০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে নৈতিক ও মানসিক শিক্ষা প্রদানের কার্যক্রম শুরু করেছে। এ ছাড়া সরকারের লার্নিং উইথ হ্যাপিনেসের আলোকে দেশব্যাপী খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। প্রান্তিক ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নের জন্য একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য, দেশের আটটি বিভাগের প্রতিটিতে প্রতিবন্ধীদের জন্য অন্তত একটি করে বিশেষায়িত কলেজ প্রতিষ্ঠা করা। সংগীত কলেজের সংখ্যা দুই-তিনটি থেকে বাড়িয়ে ৬৪টি জেলার সব কটিতে পারফরমিং আর্টস কলেজ করা। এই প্রচেষ্টাগুলো সবই ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কাঠামোর অংশ। এর আওতায় ইতিমধ্যে প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ লাখ শিক্ষার্থীকে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে যুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেন ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ট্রমা কাটিয়ে উঠতে পারে, সে জন্য আমরা বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নের নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।
নানা পরীক্ষার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজগুলোর ক্লাস প্রায়ই বন্ধ থাকে। এই সমস্যা সমাধানের কোনো উদ্যোগ আছে?
ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোতে সারা বছর ধরে এসএসসি, এইচএসসি, বিসিএসসহ নানা ধরনের পরীক্ষা হয়। ফলে নিয়মিত ক্লাস ও পড়াশোনা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ৩০০টি ও পর্যায়ক্রমে দেশের ৫০০টি উপজেলায় স্বতন্ত্র ‘ন্যাশনাল এক্সাম সেন্টার’ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সেন্টারগুলোতে শুধু পাবলিক পরীক্ষা হবে। পরীক্ষা পরিচালনার জন্য ডেডিকেটেড ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল থাকবে। হলগুলোতে সিসিটিভি থাকবে। ফলে নকল কমবে। পড়ালেখার মানও বাড়বে।
উচ্চশিক্ষা নিয়ে বারবার বিভিন্ন পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্থির একটা জায়গায় আমরা পৌঁছাতে পারছি না কেন?
ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: ৫৪ বছর পেরিয়ে গেছে, দেশ স্বাধীন হয়েছে। এখনো আমরা সুনির্দিষ্টভাবে আমাদের শিক্ষার পলিসি ঠিক করতে পারিনি। এ পর্যন্ত ৬টির বেশি শিক্ষা কমিশন হয়েছে; ড. মুহাম্মদ কুদরাত-এ–খুদা শিক্ষা কমিশন, মজিদ খান কমিশন, মফিজউদ্দীন কমিশন, শামসুল হক কমিশন, এম এ বারী কমিশন, মনিরুজ্জামান মিয়া কমিশন, কবীর চৌধুরী কমিশন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলেও বেশ কিছু শিক্ষা কমিশন হয়েছিল, যার মধ্যে ব্রিটিশ আমলে হান্টার কমিশন, স্যাডলার কমিশন এবং পাকিস্তান আমলে শরীফ কমিশন ও আতাউর রহমান খান শিক্ষা কমিশন। এতগুলো কমিশন হওয়ার পরও বাংলাদেশের শিক্ষানীতি ও সংস্কারের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি, যাতে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার মতো একটি আধুনিক উচ্চশিক্ষাব্যবস্থা আমরা পাই।
এ জন্য কারা দায়ী?
ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: দায়ী আমাদের নীতিনির্ধারকেরা। আমাদের শিক্ষার্থীরা খুবই সচেতন। তারা শিখতে চায়। দক্ষতা অর্জন করতে চায়। কিন্তু আমরা তাদের উপযুক্ত কারিকুলাম দিতে পারিনি। বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করতে পারে, এমন পলিসি আমরা নিতে পারিনি। এ জন্যই আমরা পিছিয়ে আছি।
গবেষণার ক্ষেত্রেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অনেক পিছিয়ে। এ ব্যাপারে কি কিছু করছেন?
ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠনকাঠামো অন্য সাধারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে আলাদা; কারণ, আমাদের দুই হাজারেরও বেশি অধিভুক্ত কলেজ আছে। তাই গবেষণা কৌশলটি দুটি ধারায় বিভক্ত। প্রথমত, কলেজশিক্ষকদের গবেষণায় উৎসাহিত করতে আমরা বিশেষ গবেষণা অনুদান বাড়িয়েছি। গবেষণাপত্র প্রকাশের ওপর ভিত্তি করে পদোন্নতি ও সম্মাননার ব্যবস্থা করছি। দ্বিতীয়ত, আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন স্থানীয় কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তন, ক্ষুদ্র শিল্প ও আঞ্চলিক অর্থনীতি নিয়ে গবেষণা করতে পারে, সেই পথ সুগম করা হচ্ছে। এ জন্য এরই মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে ইনোভেশন অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। এই ল্যাব স্থাপনের উদ্দেশ্য হলো শিক্ষা ও উন্নয়নে নতুন ক্ষেত্র তৈরি, গবেষণার মান বাড়ানো, টেকসই উন্নয়নকে উৎসাহিত করা।
একসময় সেশনজট ছিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা। এখন পরিস্থিতি কেমন?
ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: সেশনজট আমরা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি। আশা করি ২০২৭ সালের মধ্যে সেশনজট পুরোপুরি শেষ হবে। আমরা এখন একটি সুনির্দিষ্ট একাডেমিক ক্যালেন্ডার মেনে চলছি। কিছুদিন আগে ডিগ্রি পাস ও সার্টিফিকেট কোর্স দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষার ফলাফল ৪২ কর্মদিবসে প্রকাশ করেছি, যেটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটা রেকর্ড। মাত্র ৫০ কর্মদিবসে মাস্টার্স শেষ বর্ষের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড একিউএ, এডেক্সেলের সঙ্গে কাজ শুরু করছি। এটা করতে পারলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরীক্ষার ফলাফল দেওয়া সম্ভব হবে।
আমূল পরিবর্তনের যে প্রয়োজনীয়তা আপনি অনুভব করছেন, আপনার কি মনে হয়, সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা কলেজগুলোর শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এই তাগিদটা উপলব্ধি করছেন? সবাই যদি সহযোগিতা না করেন, এত পরিকল্পনা কি আলোর মুখ দেখবে?
ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আমাদের শিক্ষকের সংখ্যা এক লাখের বেশি। কর্মকর্তা–কর্মচারী সব মিলিয়ে প্রায় পৌনে দুই লাখ হবে। আমি মোটামুটি নিশ্চিত যে অধিভুক্ত প্রতিটি কলেজের প্রতিটি বিভাগের শিক্ষকেরা উদ্যোগগুলো মনেপ্রাণে গ্রহণ করেছেন। তাঁরা বিষয়গুলো জানেন। প্রতিনিয়ত তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে। প্রতিটি কলেজ আমাদের সঙ্গে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সর্বক্ষণ কানেক্টেড। এই যে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছে, ১৫ মিনিটের মধ্যে আমাদের কাছে তথ্য চলে আসছে, কতজন উপস্থিত, কতজন অনুপস্থিত। কেউ একটু আগ বাড়িয়ে কাজ বেশি করছেন, কেউ একটু কম করছেন, কিন্তু জানেন সবাই। সবাই জেনে গেছে যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই আগের দিন আর নাই যে একজন শিক্ষক পরীক্ষার হলে বসে থাকবেন আর শিক্ষার্থীরা নকল করবে। সবাই এখন দেখছে যে প্রশ্নপত্র বদলে গেছে। সবাই দেখছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা কলেজে হাজির হচ্ছেন, ল্যাবে গিয়ে হাজির হচ্ছেন, যেটা আগে দেখা যায়নি। তবে হ্যাঁ, শুধু আমার শিক্ষকদের দোষ দিলে হবে না। অনেক রিসোর্সের অভাব আছে। আমরা এসব অভাব মেটানোর চেষ্টা করছি। ইউনিসেফ যেমন জাতীয় পর্যায়ের একটা গবেষণা করছে, পুরো টাকাটাই ওরা দিচ্ছে। ট্রেইনিংগুলোয় সহায়তা করছে। এটুআই সহযোগিতা করছে। পার্টনারদের ইনভলভ করে আমরা সমস্যাগুলোর সমাধান করার চেষ্টা করছি।
ধরা যাক, এই যে এত পরিবর্তনের কথা বলছেন, শেষ পর্যন্ত সব কটি করা সম্ভব হলো না। কিন্তু যেকোনো একটা সংস্কার যদি যেকোনো মূল্যে করতে চান, তাহলে কোনটা করবেন?
ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: কারিকুলাম ও সিলেবাসের সংস্কারটা আমি করেই যাব। এটা আমার নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই আছে। আমি স্পষ্টই বুঝতে পারছি, পুরোনো কারিকুলাম এবং এই কারিকুলামের গ্র্যাজুয়েট দিয়ে দেশের কোনো উপকার হবে না। অতএব এটা পরিবর্তন করতেই হবে। আরেকটা বিষয় হলো পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন। ৬০ শতাংশ প্রায় করে ফেলেছি। বাকি ৪০ শতাংশও করেই যাব। কিছু সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা আছে। সব যদি করতে না-ও পারি, মাস্টারপ্ল্যানটা পরবর্তী প্রশাসনের জন্য রেখে যাব।
আপনাকে ধন্যবাদ।
ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: আপনাকেও ধন্যবাদ।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
জার্মান ক্লাব ভিএফবি স্টুটগার্টের তরুণ ডিফেন্ডার ফিন ইয়েলৎসকে দলে ভেড়াতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে ইংলিশ ফুটবলের তিন বড় ক্লাব-ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, আর্সেনাল ও লিভারপুল। ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘তুত্তো জুভে’-এর বরাত দিয়ে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে। ২০ বছর বয়সী ইয়েলৎস তার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেন এসভি রাইটার্সাইখের যুব দলে। মাত্র নয় বছর বয়সে তিনি যোগ দেন এফসি নুরেমবার্গের একাডেমিতে। সেখানকার যুব কাঠামো পেরিয়ে কয়েক বছর আগে নুরেমবার্গের মূল দলে অভিষেক হয় তার। বুন্দেসলিগা টু-তে তার পারফরম্যান্স নজর কাড়ে স্টুটগার্টের। গত বছরের শীতকালীন দলবদলে জার্মান ক্লাবটি তাকে দলে নিয়ে আসে। স্টুটগার্টে এখনো মূল একাদশের নিয়মিত সদস্য হয়ে উঠতে না পারলেও চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে প্রথম পাঁচ ম্যাচেই শুরু থেকে খেলেছেন ইয়েলৎস। তার সাম্প্রতিক উন্নতি নজর এড়ায়নি ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর। ‘তুত্তো জুভে’-এর দাবি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, আর্সেনাল ও লিভারপুলের পাশাপাশি বায়ার্ন মিউনিখ ও জুভেন্টাসও এই ডিফেন্ডারের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে ইয়েলৎসকে পেতে হলে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হতে পারে আগ্রহী ক্লাবকে। স্টুটগার্টের সঙ্গে তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত। ফলে তাকে বিক্রি করার কোনো তাড়া নেই জার্মান ক্লাবটির। তবে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ইউরো বা ৪৩ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রস্তাব এলে তারা নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে বলে জানা গেছে। ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার ডান পায়ের এই সেন্টার-ব্যাক প্রয়োজনে রাইট-ব্যাক হিসেবেও খেলতে পারেন। দুই পায়েই স্বচ্ছন্দ হওয়ায় বল পায়ে তার সক্ষমতাও বেশ ভালো। দ্রুতগতি, শারীরিক শক্তি, পেছন থেকে আক্রমণ শুরু করার দক্ষতা এবং ডিফেন্স থেকে বল নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা ইয়েলৎসকে আলাদা করে তুলেছে। বিশেষ করে তিনি প্রতিপক্ষকে গভীর থেকে সামলানোর বদলে সামনে উঠে ‘ফ্রন্ট-ফুট’ ডিফেন্ডিং করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কেন প্রয়োজন?সেন্টার-ব্যাক পজিশন শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। হ্যারি ম্যাগুয়ার ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজের চুক্তির মেয়াদ মৌসুম শেষে শেষ হওয়ার কথা। অন্যদিকে ম্যাথিয়াস ডি লিটের ফিটনেস সমস্যাও ক্লাবের জন্য উদ্বেগের কারণ। এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতের জন্য একজন তরুণ ও বহুমুখী ডিফেন্ডার দলে আনার ক্ষেত্রে ইয়েলৎস ইউনাইটেডের জন্য আকর্ষণীয় বিকল্প হতে পারেন। লিভারপুলও নজর রাখছেলিভারপুলের কাছেও নতুন সেন্টার-ব্যাকের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। দলে জেরেমি জ্যাকেতে, জিওভানি লিওনি, জো গোমেজ, ভার্জিল ফন ডাইক ও রোনাল্ড আরাউহোর মতো খেলোয়াড় থাকলেও বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। লিওনি ও গোমেজ সাম্প্রতিক সময়ে ফিটনেস সমস্যায় ভুগছেন। অন্যদিকে বার্সেলোনা থেকে ধারে আসা আরাউহোর ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফন ডাইকও ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন। ফলে লিভারপুল নতুন সেন্টার-ব্যাকের বাজারে সক্রিয় হতে পারে। আর্সেনালের অবস্থান কিছুটা ভিন্নআর্সেনালও ইয়েলৎসের প্রতি আগ্রহী হলেও এই মুহূর্তে তাদের জরুরি ভিত্তিতে নতুন ডিফেন্ডার কেনার প্রয়োজন তুলনামূলক কম। গ্রীষ্মকালীন দলবদলে এজরি কনসাকে দলে নেওয়ার পর রক্ষণভাগে তাদের বিকল্প বেড়েছে। তবে কোনো ডিফেন্ডার দল ছাড়লে ইয়েলৎসের মতো তরুণ খেলোয়াড়কে ভবিষ্যতের বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে গানাররা। সব মিলিয়ে, ২০ বছর বয়সী ইয়েলৎসকে ঘিরে ইউরোপের বেশ কয়েকটি বড় ক্লাবের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রায় ৫০ মিলিয়ন ইউরোর সম্ভাব্য মূল্য ট্যাগের কারণে তাকে দলে পেতে হলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, লিভারপুল কিংবা আর্সেনাল-যে কোনো ক্লাবকেই বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হতে পারে। এমএমআর
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বাল্কহেডের ধাক্কায় পদ্মা নদীতে পড়ে নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা রাকিবুজ্জামান রকির (৩২) মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার ৩৬ ঘণ্টা পর আজ রোববার সকাল নয়টার দিকে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার কুরলিয়া এলাকায় পদ্মা নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত শুক্রবার রাত নয়টার দিকে ভেড়ামারায় হার্ডিঞ্জ সেতুর একটি পিলারে বাল্কহেডের ধাক্কায় পদ্মা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন রাকিবুজ্জামান। তিনি ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব।ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আজ সকাল নয়টার দিকে ঈশ্বরদীর কুরলিয়া এলাকায় পদ্মা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় এক ব্যক্তি পুলিশকে খবর দেন। নৌ পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন। রাকিবুজ্জামানের পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি তাঁর বলে শনাক্ত করেছেন। মরদেহ ভেড়ামারা প্রান্তে নেওয়া হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে লাশটি পাওয়া যায়।ছাত্রদল নেতা রাকিবুজ্জামান রকিভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিরুল আরাফাত ও ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন।কুষ্টিয়ায় হার্ডিঞ্জ সেতুর পিলারে বাল্কহেডের ধাক্কা, ছিটকে পড়ে ছাত্রদল নেতা নিখোঁজভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসন ও নৌভ্রমণে যাওয়া যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কাতলাগাড়ি এলাকা থেকে ১২৩ জনের একটি দল বাল্কহেডে করে নৌভ্রমণে বের হন। ভেড়ামারার গোলাপনগর এলাকা ঘুরে ফেরার পথে রাত নয়টার দিকে তাঁরা হার্ডিঞ্জ সেতু এলাকায় পৌঁছান। একপর্যায়ে তীব্র স্রোতে বাল্কহেডটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর ৪ নম্বর পিলারে ধাক্কা দেয়। এতে তিনজন নদীতে পড়ে যান। পরে অন্য যাত্রীরা লিটন ও ওহাব নামের দুজনকে জীবিত উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসেন। ওই ঘটনায় রাকিবুজ্জামান নিখোঁজ ছিলেন। ঘটনার পর ঈশ্বরদী ও ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস এবং নৌ পুলিশের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় ১০ জন বাংলাদেশি স্রোতে ভেসে ভারতীয় জলসীমায় চলে যান। তাঁদের জীবিত উদ্ধার করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পরে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাঁদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজন এখনো নিখোঁজ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।গতকাল শনিবার রাতে বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিকেল পাঁচটার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলীমনগর ঘাট থেকে মাঝিসহ ১২ জনকে নিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকা জহুরপুরটেক গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। পথে পদ্মার ঢেউয়ে নৌকাটি ডুবে যায়। এ সময় মো. ওয়াসিম (২৩) নামের একজন সাঁতরে একটি চরে ওঠেন। একজন নিখোঁজ। বাকি ১০ জন স্রোতে ভেসে ভারতীয় জলসীমায় চলে যান। সেখানে বিএসএফের টহল দলের একটি স্পিডবোট তাঁদের জীবিত উদ্ধার করে।বিকেলে বিএসএফ বিষয়টি চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাখেরআলী ও ফরিদপুর বিজিবি বিওপি কমান্ডারকে জানান। পরে রাতে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়। উদ্ধার হওয়া ১০ জনকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ।চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা পরস্পরের আত্মীয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মো. ইসমাইল হোসেন নামের এক আত্মীয়ের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁরা সবাই সুস্থ আছেন।উদ্ধার ব্যক্তিরা হলেন মো. রাসেল, মো. ইব্রাহিম, সওদাগর, মো. ইব্রাহিম, সখিনা, নিলুফা, তানিয়া ও তাঁর ২০ দিন বয়সী শিশু তানিশা খাতুন, সানাউল্লাহ ও আল আমিন। তাঁরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার জহুরপুর গ্রামের বকরীপাড়ার বাসিন্দা। নৌকায় থাকা একই গ্রামের মো. মোস্তফা এখনো নিখোঁজ।