পিরোজপুরের কাউখালীতে ৬৯ রাউন্ড শর্টগানের কার্তুজ, দুটি ওয়াকিটকি, দেশীয় ছোরা, খেলনা পিস্তল, ভুয়া পুলিশ পরিচয়পত্র ও অস্ত্রের লাইসেন্সসহ শাওন ইসলাম অপু (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার শিয়ালকাঠী চৌরাস্তা সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার বাড়ির দোতলা ভবনের ছাদ থেকে এসব সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতার শাওন ইসলাম অপু শিয়ালকাঠী এলাকার মৃত শাখাওয়াত হোসেনের ছেলে।
কাউখালী থানা পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকীর নির্দেশনায় মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শিয়ালকাঠী চৌরাস্তা সংলগ্ন এলাকায় শাওনের বাড়ির ছাদে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

এ সময় ৬৯টি শর্টগানের কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। কার্তুজগুলোর গায়ে ‘Rubber Buckshot, 2023-BP-67mm, Made in Cyprus’ লেখা রয়েছে। এ ছাড়া দুটি ওয়াকিটকি, দুটি দেশীয় ছোরা, একটি খেলনা পিস্তল, দুটি ভুয়া অস্ত্রের লাইসেন্স, একটি ভুয়া পুলিশ আইডি কার্ড ও চামড়ার তৈরি একটি অস্ত্রের কভার উদ্ধার করা হয়েছে।
পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, উদ্ধার হওয়া কার্তুজের সঙ্গে কোনো আসল অস্ত্র লুকিয়ে রাখা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কাউখালী থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন জানান, গ্রেফতার যুবকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
মো. তরিকুল ইসলাম/কেজে/এএসএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের সাবেক পরিদর্শক মো. মোজাফফর হোসেন শাহের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলায় দেওয়া লঘুদণ্ড বাতিল করে তাকে অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি তার করা আপিল আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে ২০২০ সালে তার ওপর আরোপিত একটি বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) স্থায়ীভাবে স্থগিতের দণ্ড বাতিল হলো। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। গতকাল সোমবার এই প্রজ্ঞাপনে সই করেন সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। আরও পড়ুন কর্মস্থলে নেই ১৪ মাস, কর পরিদর্শক সোহেলাকে চাকরি থেকে অপসারণ বিভাগীয় মামলার নথি অনুযায়ী, মোজাফফর হোসেন শাহের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার আওতায় অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতার অভিযোগ আনা হয়েছিল। ওই মামলায় একই বিধিমালা অনুযায়ী ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তাকে একটি বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি স্থায়ীভাবে স্থগিতের লঘুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে দণ্ডাদেশ মওকুফের জন্য আপিল করেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা। আপিল আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগের গুরুত্ব ও প্রকৃতি, রাষ্ট্রপক্ষের দফাওয়ারি জবাব এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। পর্যালোচনায় তার আপিল আবেদন মঞ্জুর করে আরোপিত দণ্ড বাতিল এবং তাকে অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়াকে সমীচীন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আরও পড়ুন সহকর্মীদের বিরুদ্ধে বানোয়াট অভিযোগ, দুদকের সহকারী পরিচালক রাজু বরখাস্ত এর পরিপ্রেক্ষিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের স্মারকমূলে দেওয়া একটি বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) স্থায়ীভাবে স্থগিত লঘুদণ্ড বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে মো. মোজাফফর হোসেন শাহকে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মোজাফফর হোসেন শাহ বর্তমানে পিআরএল (অবসরোত্তর ছুটি) ভোগ করছেন। টিটি/ইএ
ব্যাটারিচালিত রিকশায় অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চার্জ দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, অবৈধ বিদ্যুৎসংযোগের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী অভিযান জোরদার করেছে সরকার। তিনি বলেন, গত ৩১ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই সপ্তাহে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর অধীনে ১১ হাজার ১৮৮টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময়ে ৬২৩টি অবৈধ বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং জরিমানা হিসেবে আদায় করা হয়েছে ১ কোটি ২৮ লাখ ৬৮ হাজার ৯১ টাকা। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশজুড়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৮০টি সমিতির মাধ্যমে অবৈধ বিদ্যুৎসংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। গত ১৪ দিনে এ কার্যক্রমে ১১ হাজার ১৮৮টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬০টি ছিল মোবাইল কোর্ট। অবৈধভাবে নেওয়া ৬২৩টি বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। জরিমানা বাবদ আদায় হয়েছে ১ কোটি ২৮ লাখ ৬৮ হাজার ৯১ টাকা। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান, একইভাবে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানিও (ডেসকো) অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে। ডেসকো ৩০টি অভিযান চালিয়ে ২১টি অবৈধ বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। এ ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ২৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। আরও পড়ুন মোহাম্মদপুরে ৬ গ্যারেজে অভিযান, ৪টিতেই চোরাই বিদ্যুৎ প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিসহ (নেসকো) বিদ্যুৎখাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও নিজ নিজ এলাকায় অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে। সামগ্রিকভাবে ৩৭৪টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, অবৈধ ১ হাজার ২৫৮টি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং ৫৭টি মামলা করা হয়েছে। হাসপাতাল পরিদর্শনে অনিয়ম পেলেই ব্যবস্থা স্বাস্থ্যসেবার মান যাচাইয়ে নিয়মিত বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করা হচ্ছে বলেও জানান ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, নিয়মিত বিরতিতে বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং সেখানকার সেবার মান পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্প্রতি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও এমন একটি আকস্মিক পরিদর্শন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এসব পরিদর্শন আকস্মিক বা ‘সাডেন ভিজিট’। বিভিন্ন সময়ে পরিদর্শনে নানা ধরনের অনিয়ম পাওয়া যাচ্ছে এবং সেগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ লক্ষ্যেই অভিযান চলছে। সম্প্রতি নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী ৮৪ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং ৪৭টি মামলা পরিচালনা বা দায়ের করা হয়েছে। ৫৫ লাখ দরিদ্র মানুষ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে বর্তমানে ৫৫ লাখ দরিদ্র মানুষকে এর আওতায় আনা হয়েছে বলে জানান ডা. জাহেদ উর রহমান। পুষ্টি চালের বিষয়ে তিনি বলেন, অপুষ্টি নিরসনে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদান দিয়ে সমৃদ্ধ বা ফর্টিফায়েড চাল বিতরণ করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশের ৩০০টি উপজেলায় এ পুষ্টি চাল বিতরণ করা হচ্ছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর একটি অংশ সুষম খাবারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদান পর্যাপ্ত পরিমাণে পায় না। পুষ্টি চালের মাধ্যমে এ ঘাটতি পূরণে সহায়তা করা হচ্ছে। এর আওতা ক্রমাগত বাড়ানো হচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সারাদেশে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। আরও পড়ুন সম্পর্ক সহজ করতে শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তদের ফেরতের আহ্বান তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। এর মাধ্যমে জনগণকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। জনগণ যথেষ্ট সচেতন না হলে এ সংকট মোকাবিলা করা সহজ হবে না। কৃষি মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করছেন উল্লেখ করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এর অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী কৃষি মন্ত্রণালয়ও পরিদর্শন করেছেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তার প্রত্যাশা ও নির্দেশনা তুলে ধরছেন। কৃষি মন্ত্রণালয় পরিদর্শনও এ কার্যক্রমেরই অংশ। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কার্যক্রমও চলমান বলে জানান তিনি। এমএএস/ইএ
কোথাও জমে থাকা পানিতে পাট জাগ দেওয়া হচ্ছে, কোথাও কোমরসমান পানিতে নেমে পাটের আঁশ ছাড়ানো হচ্ছে। আবার কোথাও গ্রামের পিচঢালা সড়কের ওপর সারি করে ভেজা পাটের সোনালি আঁশ শুকাতে দেওয়া হয়েছে। রোদের তাপে শুকিয়ে ওঠা আঁশগুলো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। সাতক্ষীরা সদর, তালা ও কলারোয়া উপজেলার গ্রামে গেলে এমন দৃশ্য চোখে পড়বে।পাট কাটার পর ১৫ থেকে ২০ দিন পানিতে জাগ দিয়ে রাখলে আঁশ ছাড়ানোর উপযোগী হয়। বেশির ভাগ কৃষক এখন পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোথাও পাটকাঠি বড় বড় আঁটি করে খাড়াভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। আবার কোথাও ভ্যানগাড়িতে পাটের বোঝা তুলে বাজারের দিকে যাচ্ছেন কৃষকেরা।সাতক্ষীরা-যশোর সড়কের পাশে তুজলপুর এলাকায় গতকাল সোমবার দুপুরে পাটের আঁটি বাঁধছিলেন কৃষক মোহাম্মদ আবদুল করিম। তিনি বলেন, ১৮ দিন পানিতে জাগ দিয়ে রেখেছিলেন পাট। তিন-চার দিন হলো পাট থেকে আঁশ ছাড়িয়েছেন। এখন আঁটি বেঁধে শুকাচ্ছেন। ধান কাটার পর জমিতে পাট লাগিয়েছিলেন। খরচ বাদ দিয়ে এবার ভালো লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি।মো. সাইফুল ইসলাম, উপপরিচালক, সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরএবার জেলায় পাটের আবাদ ও উৎপাদন সন্তোষজনক হয়েছে। এখনো কয়েকটি এলাকায় পাট কাটা চলছে।সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ১১ হাজার ৬৭৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। গত বছর ১১ হাজার ৬০৭ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছিল। এক বছরের ব্যবধানে আবাদ বেড়েছে ৬৮ হেক্টর। এসব জমি থেকে প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার বেল (গাঁট বা বান্ডিল) পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি বেলে প্রায় ১৮২ কেজি পাট থাকে।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম প্রথম আলো বলেন, এবার জেলায় পাটের আবাদ ও উৎপাদন সন্তোষজনক হয়েছে। এখনো কয়েকটি এলাকায় পাট কাটা চলছে। কৃষকেরা প্রতি বিঘায় ১২ থেকে ১৫ মণ ফলনের কথা জানিয়েছেন। পাটের পাতা মাটির উর্বরতা শক্তি বাড়ায় এবং আঁশ ও পাটকাঠি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায়। তবে জেলায় পাটভিত্তিক কোনো শিল্প না থাকায় উৎপাদিত পাট স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি জেলার বাইরেও বিক্রি হয়।গতকাল সকালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাধবকাঠি এলাকায় এক নারীকে পাটের আঁশ শুকানোর জন্য সড়কের ওপর মেলে দিতে দেখা যায়। ২০ দিন পানিতে জাগ দেওয়ার পর আঁশ ছাড়িয়ে এখন তা শুকাচ্ছেন তিনি।একই সড়কের পাশে বিলের পানিতে বসে পাটের আঁশ ছাড়াচ্ছিলেন তিনজন কৃষক। তাঁদের একজন আসাদুল সরদার। তিনি বলেন, ১১ শতক জমিতে পাট চাষ করতে বাজার থেকে ৩০০ গ্রাম বীজ কিনে বুনেছিলেন। প্রায় দুই মণ পাট হয়েছে। পাটকাঠিও পেয়েছেন। প্রতি আঁটি পাটকাঠি ৬০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন।সাতক্ষীরার সদর, তালা ও কলারোয়া উপজেলার সাতজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পাটখেতে রোগবালাইয়ের প্রকোপ কম ছিল। সাধারণত পাটে ছত্রাকজনিত গোড়া পচা, পাতা শুকিয়ে যাওয়া ও বিছা পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। এবার এসব রোগবালাই তুলনামূলক কম হয়েছে।আবুল হোসেন, কৃষক আমি প্রতিবছর দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করি। গত বছর ২৫ মণ পাট পেয়েছিলাম। এবার ফলন ভালো হয়েছে। প্রায় ৩০ মণ পাট হবে বলে আশা করছি।গত রোববার কলারোয়া উপজেলার ঝাপাঘাট গ্রামের সড়কের পাশে একটি ডোবার পাড়ে বসে পাটের আঁশ ছাড়াচ্ছিলেন কৃষক কিবরিয়া সরদার। তিনি বলেন, পাঁচ কাঠা জমিতে পাট চাষ করেন। ৩৪ আঁটি পাটকাঠি হয়েছে। আর পাট হবে আড়াই থেকে তিন মণ। সব মিলিয়ে চাষ ও পাট ধোয়া বাবদ প্রায় পাঁচ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। পাট ও পাটকাঠি বিক্রি করে এবার লাভ থাকবে।গত বছর রোগবালাই বেশি ছিল, বারবার পাটখেতে কীটনাশক দিতে হয়েছে বলে জানান তালা উপজেলার ইসলামকাটি এলাকার কৃষক আকবার আলী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে পাটের দামও ভালো।পাট ছাড়ানোর পর পাটের আঁশ শুকাতে দেওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য পাটকাঠিগুলো সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছেন কৃষকেরা। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাধবকাঠি এলাকায় একই কথা বলেছেন কলারোয়ার হেলাতলা এলাকার কৃষক আবুল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিবছর দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করি। গত বছর ২৫ মণ পাট পেয়েছিলাম। এবার ফলন ভালো হয়েছে। প্রায় ৩০ মণ পাট হবে বলে আশা করছি।’কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে মানভেদে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ দাম নিয়ে কৃষকেরা মোটামুটি সন্তুষ্ট। গত বছরও পাটের দাম কাছাকাছি ছিল। মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা বিক্রি হয়েছিল। আর মৌসুমের শেষের দিকে ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।সাতক্ষীরা জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা সালেহ্ মোহাম্মাদ আবদুল্লাহ বলেন, সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা এলাকায় পাটের বড় বাজার আছে। এ ছাড়া ব্যবসায়ীরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে পাট কিনছেন। এখন কৃষকেরা বিভিন্ন মাধ্যমে বাজারদর জানতে পারেন।