চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের রাজস্ব খাতভুক্ত ৬ থেকে ১১ গ্রেডের শূন্য পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। মোট পদসংখ্যা ১৯। আবেদনের শেষ তারিখ ১৯ অক্টোবর ২০২৬।
১. পদের নাম: সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসার (গাইনি)
পদসংখ্যা: ১
গ্রেড ও বেতন স্কেল: (গ্রেড-৬) ৩৫,৫০০-৬৭,০১০ টাকা।
২. পদের নাম: সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসার (ব্লাড ট্রান্সফিউশন)
পদসংখ্যা: ১
গ্রেড ও বেতন স্কেল: (গ্রেড-৬) ৩৫,৫০০-৬৭,০১০ টাকা।
৩. পদের নাম: ফাইন্যান্স অফিসার/অ্যাকাউন্টস অফিসার/অডিট অফিসার
পদসংখ্যা: ৫
গ্রেড ও বেতন স্কেল: (গ্রেড-৯) ২২,০০০-৫৩,০৬০ টাকা।
৪. পদের নাম: প্রভাষক (বাংলা)
পদসংখ্যা: ১
গ্রেড ও বেতন স্কেল: (গ্রেড-৯) ২২,০০০-৫৩,০৬০ টাকা।
৫. পদের নাম: প্রভাষক (ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি)
পদসংখ্যা: ১
গ্রেড ও বেতন স্কেল: (গ্রেড-৯) ২২,০০০-৫৩,০৬০ টাকা।
৬. পদের নাম: প্রভাষক (পরিসংখ্যান)
পদসংখ্যা: ১
গ্রেড ও বেতন স্কেল: (গ্রেড-৯) ২২,০০০-৫৩,০৬০ টাকা।
৭. পদের নাম: উপসহকারী প্রকৌশলী (ইলেকট্রিক্যাল)/উপসহকারী প্রকৌশলী (ইলেকট্রিক্যাল সহকারী)/উপসহকারী প্রকৌশলী (ইলেকট্রিক্যাল এস্টিমেটর)
পদসংখ্যা: ২
গ্রেড ও বেতন স্কেল:(গ্রেড-১০) ১৬,০০০-৩৮,৬৪০ টাকা।
৮. পদের নাম: সিনিয়র স্টাফ নার্স
পদসংখ্যা: ৫
গ্রেড ও বেতন স্কেল: (গ্রেড-১১) ১২,৫০০-৩০,২৩০ টাকা।
৯. পদের নাম: ফার্মাসিস্ট
পদসংখ্যা: ২
গ্রেড ও বেতন স্কেল: (গ্রেড-১১) ১২,৫০০-৩০,২৩০ টাকা।
বয়সসীমা
১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে অনূর্ধ্ব ৩২ বছর।
আবেদনের নিয়ম
ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। প্রার্থীদের অনলাইন আবেদনের কপি প্রিন্ট করে সংরক্ষণ করতে হবে।
আবেদন ফি
১৫০ টাকা।
আবেদনের সময়সীমা
আবেদন গ্রহণ শুরু: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০টা।
আবেদনের শেষ তারিখ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১২টা।
বিস্তারিত দেখুন ঠিকানায়।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, অধিকাংশ মানুষই অর্থবহ কথোপকথন চান। শুধু কোনো একজনকে প্রথম পদক্ষেপটি নিতে হয়। কিন্তু একজন এগিয়ে এসে সেই পদক্ষেপ নেন না বলে গভীর কথোপকথন আর হয়ে ওঠে না।কাউকে না কাউকে সাহস করে প্রথমে একটু ব্যক্তিগত বা আন্তরিক কিছু বলতে হয়অনেকেই কারও সঙ্গে কথা বলার আগে মানসিক চাপে থাকেন। সেই সঙ্গে ভাবেন, গভীর আলাপ শুরু করলে পরিস্থিতি বিব্রতকর হয়ে যাবে। তাই বেশির ভাগ কথোপকথন আবহাওয়া, কাজ বা দৈনন্দিন ছোটখাটো বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। ১. আপনিই নিন প্রথম পদক্ষেপগভীর আলাপের সবচেয়ে কঠিন অংশ হলো শুরু করা। কাউকে না কাউকে সাহস করে প্রথমে একটু ব্যক্তিগত বা আন্তরিক কিছু বলতে হয়। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক অ্যালিসন উড ব্রুকসের মতে, একজন যখন নিজের সম্পর্কে সামান্য খোলামেলা কিছু বলেন, তখন অন্যজনও সাধারণত একইভাবে সাড়া দেন। একে মনোবিজ্ঞানে রিসিপ্রোক্যাল সেলফ-ডিসক্লোজার বা পারস্পরিক আত্মপ্রকাশ বলা হয়।২. ছোট আলাপ থেকেই গভীরতায় যানগভীর আলাপ মানে শুরুতেই জীবনদর্শন বা ব্যক্তিগত কষ্ট নিয়ে প্রশ্ন করা নয়।বরং–প্রথমে সাধারণ বিষয় নিয়ে কথা বলুন।তারপর ধীরে ধীরে আগ্রহ দেখিয়ে প্রশ্ন করুন।অপর ব্যক্তি যে বিষয়ে কথা বলছেন, সেটি নিয়েই আরও জানতে চান।এভাবে আলাপ স্বাভাবিকভাবেই গভীর হতে পারে।মানুষ কেন আত্মহত্যার চিন্তা করে, কাদের ঝুঁকি বেশি প্রথম দেখায় সাধারণ বিষয় নিয়ে কথা বলুন৩. মানুষকে সত্যিকারভাবে লক্ষ্য করুনযাঁর সঙ্গে প্রথম পরিচয় হলো, তাঁরও ছোটখাটো বিষয় লক্ষ্য করে আলাপ শুরু করতে পারেন। যেমন ‘আপনার টি-শার্টটা দারুণ!’ কিংবা ‘গতকালের ম্যাচটা দেখেছেন, নাহিদ রানা কিন্তু ভালোই খেলল।’ এ ধরনের আন্তরিক পর্যবেক্ষণ আলাপকে স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে।৪. কৌতূহলী হন, জিজ্ঞাসাবাদ করবেন নাভালো কথোপকথনের উদ্দেশ্য তথ্য সংগ্রহ নয়; বরং অন্য মানুষটিকে বোঝা। তাই প্রশ্ন এমন হওয়া উচিত, যা মানুষকে নিজের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি ভাগ করে নিতে উৎসাহিত করে। যেমন ‘সিদ্ধান্তটা আপনার জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল?’ বা ‘এই অভিজ্ঞতা থেকে কী শিখেছেন?’, ‘সম্প্রতি কোন বিষয়টি আপনাকে সবচেয়ে বেশি ভাবিয়েছে?’৫.মন দিয়ে শুনুনগভীর আলাপ শুধু ভালো প্রশ্ন করার ওপর নির্ভর করে না; বরং মনোযোগ দিয়ে শোনার ওপরও নির্ভর করে। কথা বলার সময়–মাঝপথে বাধা দেবেন না।দ্রুত পরামর্শ দিতে যাবেন না।অন্যজনের কথার ওপর ভিত্তি করে অনুসরণমূলক প্রশ্ন করুন।এতে মানুষ অনুভব করেন যে তাঁর কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা হচ্ছে।ভালো কথোপকথনের উদ্দেশ্য তথ্য সংগ্রহ নয়; বরং অন্য মানুষটিকে বোঝা৬. অস্বস্তিকে ভয় পাবেন নাকখনো কখনো গভীর আলাপের আগে বা মাঝে কিছুটা নীরবতা আসে। অনেকেই সেই নীরবতা ভাঙতে তাড়াহুড়া করেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অস্বস্তি স্বাভাবিক। সেটি মেনে নিতে পারলে সম্পর্ক আরও আন্তরিক হয়ে ওঠে।৭. মানুষ আদতে আপনার ধারণার চেয়ে বেশি আগ্রহীগবেষণায় দেখা গেছে, আমরা প্রায়ই ধরে নিই যে অপর ব্যক্তি গভীর কথা বলতে চাইবেন না বা আমার সঙ্গে কথা বলে আনন্দ পাবেন না। বাস্তবে এই ধারণা অনেক ক্ষেত্রেই ভুল। মানুষ সাধারণত অর্থবহ আলাপের পর নিজেদের আরও সুখী, বোঝা হয়েছে (আন্ডারস্টুড) এবং সংযুক্ত (কানেকটেড) অনুভব করেন।কিছু প্রশ্ন, যা আলাপ গভীরে নিতে পারেসম্প্রতি কোন বিষয়টি আপনাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দিয়েছে?গত এক বছরে আপনার সবচেয়ে বড় শিক্ষা কী?এমন কোনো সিদ্ধান্ত আছে, যা আপনার জীবন বদলে দিয়েছে?এখন আপনার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য কী?কোন মানুষটি আপনার জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছেন এবং কেন?এমন কোনো স্বপ্ন আছে, যা এখনো পূরণ করেননি? বাকেট লিস্টে কী কী আছে?সূত্র: টাইম‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’ কী? কেন এটি বাড়ছে?
অতি বুদ্ধিসম্পন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অচিরেই মানুষের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। এই প্রযুক্তির অপব্যবহার কীভাবে মানবজাতিকে সর্বনাশের মুখে ঠেলে দিতে পারে, তা নিয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি অ্যানথ্রপিকের এক শীর্ষ এআই গবেষকের পদত্যাগের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে প্রযুক্তিবিশ্বে।অ্যানথ্রপিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করতেন গবেষক জ্যাকব কক্সন। চাকরি ছাড়ার পর তিনি সবাইকে সতর্ক করে জানান, এই দশকের শেষ নাগাদ এআই মানবজাতিকে ধ্বংস করতে পারে। মানুষের তৈরি সিস্টেম যদি সুপারইন্টেলিজেন্ট বা অতি বুদ্ধিসম্পন্ন হয়ে ওঠে তবে তা ভয়ংকর রূপ নিতে পারে। অ্যানথ্রপিক এবং ওপেনএআইয়ের মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো এ বিষয়ে যথেষ্ট দায়িত্বশীল আচরণ করছে না।অতি বুদ্ধিমান এআইয়ের কারণে পৃথিবী থেকে মানুষ বিলুপ্ত হওয়ার পেছনে একাধিক সম্ভাব্য ঘটনা ঘটতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা তৈরি থেকে শুরু করে গ্রহের পরিবেশ আমূল বদলে দেওয়া পর্যন্ত এর পরিধি বিস্তৃত। গণ ধ্বংসের অস্ত্র তৈরির ক্ষমতা এআই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় বিপদগুলোর একটি। বিশ্বের পরাশক্তিগুলো আরও শক্তিশালী এআই বট তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ফলে কোনো অনিয়ন্ত্রিত এআই এজেন্ট পারমাণবিক বা জৈবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে। টার্মিনেটর সিনেমার মতো দৃশ্যপট না হলেও এই ঝুঁকির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।এআই মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে ওঠার আগেই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানগবেষকেরা একে অ্যালাইনমেন্ট প্রবলেম বা সামঞ্জস্যের সমস্যা বলে অভিহিত করেন। মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান এআই তৈরি হলে এর লক্ষ্য মানুষের অনুকূলে রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ওপেনএআইয়ের তৈরি এক হাজারেরও বেশি এআই এজেন্ট সম্প্রতি নিজেদের সুরক্ষাবেষ্টনী ভেঙে হাগিং ফেস নামের একটি পাবলিক ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে। আরও শক্তিশালী এআই মডেলে এই ত্রুটি বড় পরিসরে দেখা দিতে পারে।বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মার্ক লি জানান, সশস্ত্র রোবটের চেয়েও এই ঝুঁকি অনেক বেশি গুরুতর। বড় এআই প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষ বা তার চেয়েও বুদ্ধিমান সিস্টেম তৈরির দৌড়ে নেমেছে। তবে এই আচরণ নিয়ন্ত্রণের নির্ভরযোগ্য কোনো উপায় মানুষের হাতে নেই। ইন্টারনেট সংযুক্ত যেকোনো সফটওয়্যারভিত্তিক সিস্টেম ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। জাতীয় পরিবহন ব্যবস্থা বা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আক্রান্ত হলে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।অধ্যাপক মার্ক লি সবাইকে সতর্ক করে জানান, সন্ত্রাসী বা কোনো বিপথগামী রাষ্ট্র এআই ব্যবহার করে নতুন ভাইরাস তৈরি করতে পারে। এর ফলে আরেকটি মারাত্মক বৈশ্বিক মহামারি ছড়িয়ে পড়তে পারে। অ্যানথ্রপিক সম্প্রতি জানিয়েছে তারা জৈবিক অস্ত্র তৈরিতে সহায়তার ৫টি ক্ষতিকর প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মানব সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।কন্ট্রোলএআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আন্দ্রে মিওত্তি জানান, কেউ জানে না কীভাবে এই সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। কোটি কোটি নিয়ন্ত্রণহীন এআই এজেন্ট নিজেদের মধ্যে লড়াই শুরু করতে পারে। মানুষ তখন এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার শিকার হবে। এর ফলে মানবজাতি ধীরে ধীরে ক্ষমতাহীন হয়ে পড়তে পারে। আন্দ্রে মিওত্তির মতে, বর্তমানে বিশ্বের ৯টি দেশের কাছে প্রায় ১২ হাজারেরও বেশি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। কোনো অনিয়ন্ত্রিত এআইয়ের কবলে এই দেশগুলো পড়লে অস্ত্রগুলো মানুষের বিপক্ষেই ব্যবহার হতে পারে। স্টক মার্কেটে মুনাফা বাড়াতে গিয়ে কিংবা পারমাণবিক শীত এনে বৈশ্বিক তাপমাত্রা কমাতে গিয়ে এআই ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারে। যুদ্ধের মাঠে স্বয়ংক্রিয় ড্রোনের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় সংঘাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।জৈব অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে এআইয়ের অপব্যবহার পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে। গবেষকদের মতে, নিরাপত্তাব্যবস্থা সরিয়ে ফেললে জৈবিক হামলার বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করতে পারে এআই। এর ফলে ভবিষ্যতে সন্ত্রাসীরা বিস্ফোরক বা রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা পেয়ে যেতে পারে।সূত্র: ডেইলি মেইল
লোহিত সাগর দিয়ে সৌদি আরব থেকে জ্বালানি তেল পরিবহনে বিশাল একটি পাইপলাইন রয়েছে। নাম ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন। গত বৃহস্পতিবার পাইপলাইনটিতে ড্রোন হামলা হয়। পরে সৌদি সরকার পাইপলাইনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, হামলার জেরে পাইপলাইনটি বন্ধের ঘটনা জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক বাজারের জন্য আরেকটি ধাক্কা।ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার বা ৭৪৬ মাইল। প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল এ পাইপলাইন দিয়ে পরিবহন করা হয়। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্রগুলো থেকে উত্তোলন করা তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে নেওয়া হয় পাইপলাইনটি দিয়ে। পরে তেল ট্যাংকারে ভরে সমুদ্রপথে বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠানো হয়।ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার বা ৭৪৬ মাইল। প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল এ পাইপলাইন দিয়ে পরিবহন করা হয়। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্রগুলো থেকে উত্তোলন করা জ্বালানি তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে নেওয়া হয় এ পাইপলাইন দিয়ে। পরে তেল ট্যাংকারে ভরে সমুদ্রপথে বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠানো হয়।পাইপলাইনটি কেন গুরুত্বপূর্ণ এ পথে জ্বালানি তেল রপ্তানিতে সৌদি আরবের একটি বড় লাভ হয়। সেটা হলো, হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে চলা। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানও প্রতিবেশী দেশগুলোয় মার্কিন সামরিক-বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। পুরো উপসাগরীয় এলাকায় যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। তখন থেকেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের জ্বালানি তেল পরিবহনে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে হামলার ফলে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনার পর ‘সতর্কতামূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে পাইপলাইনটি বন্ধ রাখা হয়েছে।ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতিরা লোহিত সাগর এলাকায় হামলা জোরদার করেছে। সেখানেও বাব আল-মানদেব প্রণালিতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে হুতিরা। অতিগুরুত্বপূর্ণ এ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তারা।হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের ওপর সৌদি আরবের নির্ভরশীলতা বেড়েছে। যুদ্ধের জেরে জ্বালানি তেলের বাজারে যখন টালমাটাল অবস্থা, সে পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনটির কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়া কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।সৌদি আরামকোর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি জ্বালানি তেলক্ষেত্রক্ষয়ক্ষতি কতটা, কবে চালু হবে হামলায় ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের কতটা ক্ষতি হয়েছে, এখনো জানা যায়নি। পাইপলাইনটির কার্যক্রম কবে নাগাদ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সেটা নিয়েও ভিন্ন ভিন্ন কথা শোনা যাচ্ছে।ঘটনাটি সম্পর্কে জানেন এমন কয়েকজন রয়টার্সকে জানান, মেরামতে পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ লাগতে পারে। তবে আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, এর আগেই পাইপলাইনের কার্যক্রম শুরু হতে পারে।সৌদি আরবের কর্মকর্তারা জানান, রিয়াদ ও পবিত্র মদিনার কাছে দুটি এলাকায় ড্রোন দিয়ে পাইপলাইনে হামলা চালানো হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। অবকাঠামোরও ক্ষতি হয়েছে।এর আগে গত মার্চে ইয়ানবুতে সৌদি আরামকো-এক্সন মোবিলের তেল শোধনাগারের কাছে হামলা হয়েছিল। এতে লোহিত সাগরের বন্দরটি থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ট্যাংকারে তোলার কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়।ওই হামলার প্রভাব দীর্ঘ মেয়াদে পড়েনি। কয়েক দিনের মধ্যেই তেল পরিবহন স্বাভাবিক হয়। তবে ওই হামলা দেখিয়ে দিয়েছিল, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের তেল অবকাঠামোগুলো হামলার ঝুঁকির বাইরে নয়।হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের ওপর সৌদি আরবের নির্ভরশীলতা বেড়েছে। ইরান যুদ্ধের জেরে জ্বালানি তেলের বাজারে যখন টালমাটাল অবস্থা, সেই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনটির কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়া কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।কত তেল পরিবহন হচ্ছিল ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন ‘পেট্রোলাইন’ নামেও পরিচিত। এটি ১৯৮১ সালে নির্মাণ করা হয়। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের ক্ষেত্রগুলো থেকে উত্তোলন হওয়া জ্বালানি তেল পুরো আরব উপদ্বীপ পেরিয়ে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে নেওয়ার জন্য এটি চালু করা হয়। হরমুজ প্রণালিকে পাশ কাটিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহন করা ছিল এটি চালুর উদ্দেশ্য।পাইপলাইনটি দিয়ে দিনে সর্বোচ্চ ৭০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল পরিবহন করা যায়। যদিও সাম্প্রতিক মাসগুলোয় এ পাইপলাইন ব্যবহার করে জ্বালানি তেল পরিবহনের পরিমাণ অনেকটা কমেছে।বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে এ পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়েছে। জানুয়ারির পর এটিই জ্বালানি তেল পরিবহনের সর্বনিম্ন মাসভিত্তিক হিসাব। হুতিদের একের পর এক হামলার কারণে লোহিত সাগরের এ পথে জ্বালানি তেল পরিবহন ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে।মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর প্রথম পাঁচ মাসে সৌদি আরব পশ্চিমমুখী পাইপলাইনে জ্বালানি তেল পাঠানোর পরিমাণ বাড়িয়েছিল। তখন প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল এ পথে পরিবহন করা হতো। এটি বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের চার থেকে পাঁচ শতাংশ।হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ার পরও বিশ্বের দ্বিতীয় সবচেয়ে বড় জ্বালানি তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব এ পাইপলাইনের কল্যাণে পণ্যটির রপ্তানি অব্যাহত রাখার সুযোগ পেয়েছিল।লোহিত সাগরে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার: ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধের ঘোষণা সৌদি আরবেরবাজারে প্রভাব কতটা ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক বাজারে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়ে ঘটেছে।ইরানে যুদ্ধ শুরুর আগে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের এক-পঞ্চমাংশের বেশি জ্বালানি তেল সরবরাহ হচ্ছিল। এর পরিমাণ ছিল দিনে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল। রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, এখন এ প্রণালি দিয়ে দিনে প্রায় ৬০ থেকে ৯০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল পরিবহন হচ্ছে। অর্থাৎ জ্বালানি তেল পরিবহনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।কাজেই এ পথের বিকল্প হিসেবে সৌদি আরব বেছে নিয়েছিল লোহিত সাগরকে। ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন দিয়ে লোহিত সাগরের দিকে বেশি পরিমাণে জ্বালানি তেল পাঠাচ্ছিল তারা। যদিও পুরো রপ্তানি প্রক্রিয়া নির্ভর করছে পাইপলাইন, মজুতাগার ও তেলবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচলের ওপর। ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর এসব অবকাঠামো ও পরিবহনব্যবস্থা ঝুঁকিতে পড়েছে।সৌদির ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ইয়ানবুতে এরই মধ্যে যে পরিমাণ জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে, তা দিয়ে পণ্যটির রপ্তানি পাঁচ থেকে সাত দিন অব্যাহত রাখতে পারবে সৌদি আরব।এ ছাড়া মিসরের আইন সোখনা ও সিদি কেরিরে সৌদি আরবের জ্বালানি তেল মজুত রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখান থেকে জ্বালানি তেল নিয়ে আরও কয়েক দিন রপ্তানি কার্যক্রম চালিয়ে নিতে পারবে সৌদি আরব। তাই বলা যায়, পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশটির সরকার কিছুটা সময় হাতে পাচ্ছে।হরমুজ বন্ধ, তেলের দাম বেড়ে প্রায় ১০৮ ডলার, বাংলাদেশে প্রভাব কতটাসরবরাহ ও দাম নিয়ে শঙ্কা বিশ্বে জ্বালানি তেলের মজুত এরই মধ্যে অনেকটা কমে এসেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার জের ধরে গত মাসে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ ৩০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।আইইএ জানিয়েছে, এ বছর বিশ্বে জ্বালানি তেলের সরবরাহ দৈনিক প্রায় ৫৭ লাখ ব্যারেল কমতে পারে। এ পরিমাণ বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রায় ৬ শতাংশ।সংকটময় পরিস্থিতি সামাল দিতে কৌশলগত মজুত থেকে বেশি পরিমাণে জ্বালানি তেল সরবরাহ করেছে বিভিন্ন দেশ। এ কারণে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি পণ্যটির দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়েনি। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ৭০ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে ছিল।বিশ্লেষকেরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি তেলের সরবরাহ যত কমে আসবে, মজুতও তত কমবে। এটি শঙ্কার কারণ। কেননা, মজুত কমতে থাকলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করবে।হরমুজ এড়িয়ে যাওয়া সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেলের পাইপলাইনে ইরানের হামলাগত জুনে আইইএ সতর্ক করে বলেছিল, কৌশলগত মজুত থেকে এভাবে জ্বালানি তেল সরবরাহ চালু রাখা হলে তা সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, মজুত অস্বাভাবিক কমে গেলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। সেই সঙ্গে ইয়ানবু বন্দর ও সেখানকার তেল পরিবহন পথে হামলার হুমকি দীর্ঘ মেয়াদে অব্যাহত থাকলে, সৌদি আরবের জন্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে কমে যাওয়া জ্বালানি তেল রপ্তানির ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়াটাও কঠিন হতে পারে।হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গাভেকাল রিসার্চ সতর্ক করে বলেছে, হুতিদের ড্রোন হামলার হুমকির কারণে যদি দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি জ্বালানি তেল প্রক্রিয়াজাতকারী ইয়ানবু কেন্দ্রটি অচল হয়ে পড়ে, তবে তা বিশ্বের জন্য ‘ভয়াবহ বিপর্যয়’ হবে।সৌদি পাইপলাইনে হামলায় ‘সম্ভবত’ ইরান দায়ী: ট্রাম্প