ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ধরে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে হুতিরা। দেশটির উপকূলীয় অঞ্চলের বেশ কিছু এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তারা। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, নতুন দখল করা অঞ্চল থেকে হুতিরা কতটা অর্থনৈতিক সুবিধা নিতে পারবে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভূখণ্ড দখলের ফলে তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়বে ঠিক, কিন্তু সেখান থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অর্থের বড় উৎস তৈরি হবে, তেমন সম্ভাবনা কম। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে তা কঠিন।
দীর্ঘদিন ধরেই ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে। এর মধ্যে বন্দরনগরী হোদেইদাও আছে। ফলে সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রার আগেই শুল্ক, কর ও বিভিন্ন ধরনের শুল্ক আদায়ের মাধ্যমে তাদের বড় ধরনের রাজস্বভিত্তি গড়ে উঠেছে।
আল-জাজিরার ইয়েমেনবিষয়ক সম্পাদক আহমেদ আল-শালাফি বলেন, সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা মূলত ‘ভৌগোলিক ও সামরিক অর্জন’, অর্থনৈতিক নয়। কেননা হুতিরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার নয়, তার সঙ্গে আছে নিষেধাজ্ঞা। ফলে সম্প্রতি তারা যেসব এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, সেখান থেকে তারা যে বাণিজ্যিক সুবিধা নিতে পারবে, তেমন সম্ভাবনা কম।
২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখলের পর হুতিরা কর, শুল্ক, জাকাতসহ বিভিন্ন ধরনের রাজস্ব আদায়ের কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলে। মোকা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের জুলাইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ব্যবস্থা এক ধরনের ‘সমান্তরাল অর্থনীতি’।
প্রতিবেদনটির হিসাবে, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে বছরে প্রায় ২৫০ কোটি ডলারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আর্থিক সম্পদ তৈরি হয়। এর মধ্যে কর ও শুল্ক থেকে প্রায় ৮০ কোটি ডলার এবং বিভিন্ন অতিরিক্ত ফি ও আদায় থেকে আরও ৬০ কোটি ডলার আসে। যুদ্ধের জন্য নগদ ও পণ্যসহায়তা হিসেবে পাওয়া যায় প্রায় ৩০ কোটি ডলার। এ ছাড়া ব্যবসা, পরিবহন, সেবা ও বিভিন্ন মাশুল বাবদ অতিরিক্ত খরচও এ হিসাবের অন্তর্ভুক্ত।
হুতিদের অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ শুধু রাজস্ব আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সানা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের জুলাইয়ের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি কোম্পানির স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা ৪ হাজার ২২৫টি বাণিজ্যিক এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করেছে হুতি কর্তৃপক্ষ। এসব প্রতিষ্ঠানের জায়গায় হুতিদের ঘনিষ্ঠ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে হুতিরা বলেছে, তিন বছর ধরে নিবন্ধন নবায়ন না করায় এসব এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ইয়েমেন অ্যান্ড গালফ সেন্টার ফর স্টাডিজের অর্থনীতি গবেষক হুসাম আল-সাইদি অবশ্য মনে করেন, বেসরকারি খাতের এই পুনর্গঠন পরিকল্পিত। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে বিদ্যমান ব্যবসায়ীদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মালিকানা পরিবর্তন করা হচ্ছে। বলা বাহুল্য, এই পরিবর্তন হচ্ছে হুতিদের অনুকূলে। ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সমঝোতা বা সামরিক বিজয়—যে পরিস্থিতিই আসুক, হুতিদের হাতে যাতে নিজস্ব অর্থের প্রবাহ থাকে, তা নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য।
হুতিরা অবশ্য বেসরকারি খাত নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পদক্ষেপের লক্ষ্য দেশীয় উৎপাদন, বিনিয়োগ ও ক্ষুদ্র ব্যবসার প্রসার। তার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজতর করা।
মোকা সেন্টারের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৬৮ হাজার বাণিজ্যিক নথির মধ্যে ২৬ শতাংশ সাধারণ বাণিজ্য ও আমদানিসংক্রান্ত ব্যবসার, ১৮ শতাংশ খাদ্যপণ্যের ব্যবসার।
অভ্যন্তরীণ রাজস্বের পাশাপাশি তেলবাণিজ্য ও চোরাচালানও হুতিদের অর্থের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানুয়ারিতে অভিযোগ করে, অবৈধ তেল বিক্রির মাধ্যমে হুতিরা বছরে ২০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান হুতিদের তেল সরবরাহ করে। এসব লেনদেন পরিচালিত হয় দুবাইভিত্তিক ইরানি মালিকানাধীন বা ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মাধ্যমে।
আল-সাইদির মতে, হুতিরা দীর্ঘদিন ধরেই জ্বালানি খাতে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। চোরাচালানের মাধ্যমে আনা তেল দেশের বাজারে বিক্রি ও একচেটিয়া দামের সুবিধা নেওয়া—এসবের মাধ্যমেও তারা আয় করে।
অস্ত্র, তেল ও অর্থ পাচারে চোরাচালান নেটওয়ার্ক ব্যবহারের অভিযোগ আছে হুতিদের বিরুদ্ধে। আল-সাইদির দাবি, ইরানের তেল তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করা হয়। পরবর্তীকালে জটিল আর্থিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সেই অর্থ হুতিদের কাছে পৌঁছায়। এসব লেনদেনে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও স্থানীয় মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানও ব্যবহার করা হয় বলে জানান তিনি।
হুতিদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আছে। যুক্তরাষ্ট্র হুতিদের ‘ফরেন টেররিস্ট অর্গানাইজেশন’ ও ‘স্পেশালি ডেজিগনেটেড গ্লোবাল টেররিস্ট’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ইয়েমেন–সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞাব্যবস্থার আওতায়ও হুতিদের ওপর অস্ত্রসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা আছে। তবে ইরানি জ্বালানি ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ করা হয়—হুতিরা এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
হুতিদের এই রাজস্বব্যবস্থা এমন সময়ে চলমান, যখন ইয়েমেনে চলছে গভীর অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকট। জাতিসংঘের হিসাবে, গত মার্চে দেশটির ২ কোটি ২৩ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষা প্রয়োজন ছিল।
হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সরকারি কর্মচারীদের বড় অংশ বছরের পর বছর বেতন পাচ্ছেন না। এ সময় নিত্যপণ্যের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। ফলাফল, হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বাড়ছে গণ–অসন্তোষ।
আল-শালাফির মতে, দেশের অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে যুদ্ধ ও সামরিক সংঘাতের যোগসূত্র স্থাপন করেছে হুতিরা। যুদ্ধের দোহাই দিয়ে তারা বিভিন্ন ধরনের কর ও চাঁদা আদায় করছে। সামরিক ব্যয় নির্বাহের যুক্তি দিয়ে এসব করছে তারা। সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে বিলম্বের যুক্তিও দেখাচ্ছে।
হুতিদের দাবি, ইয়েমেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদর দপ্তর সরকার নিয়ন্ত্রিত এডেনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তেল ও গ্যাস থেকে যে রাজস্ব আদায়ের প্রক্রিয়া, তার নিয়ন্ত্রণও হাতছাড়া হয়েছে। তাদের দাবি, এসব কারণে সরকারি কর্মচারীদের বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সে জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করেছে হুতিরা।
হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, লোহিত সাগরের উপকূল, বন্দর ও বাব আল-মানদেব প্রণালির আশপাশের এলাকার নিয়ন্ত্রণ থেকে হুতিদের কতটা অর্থনৈতিক লাভ হবে।
আল-শালাফির মতে, বাব আল-মানদেব ও মোকা উপকূলের নিয়ন্ত্রণ থেকে হুতিদের যে খুব একটা অর্থনৈতিক সুবিধা হবে, তেমন নয়; বরং এ নিয়ে নতুন সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ইতিমধ্যে ইয়েমেনে হুতি ও সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকায় পৃথক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। অর্থাৎ এক দেশে দুটি সমান্তরাল অর্থনীতি। আল-সাইদির মতে, এই বিভক্ত অর্থনীতি থেকে বের হতে হলে হয় সামরিকভাবে এক পক্ষকে পুরো ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে অথবা পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
‘ক্যান্সার নিয়ে নীরব নয়, সচেতন হই। লজ্জা নয়, সময়মতো চিকিৎসাই হোক আমাদের শক্তি’ এই স্লোগান নিয়ে ইন্টারন্যাশাল গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সার সচেতনতা মাস শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) শহীদ ডা. মিলন হলে গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগ ও ভারতের মেডিস্থান হেলথকেয়ার-অলকিউর উদ্যোগে এবং এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সাইন্সেসের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সহায়তায় ‘ওভারিয়ান ক্যান্সার: বিয়ন্ড সার্জারি’ শীর্ষক একটি বৈজ্ঞানিক অধিবেশন ও সিএমই এবং স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। বিশ্ববিদ্যালয়ের বি ব্লকের সামনে থেকে বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন তিনি। এসময় অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, আন্তর্জাতিক গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সার সচেতনতা মাস এবং ‘ওভারিয়ান ক্যান্সার: বিয়ন্ড সার্জারি’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক অধিবেশন ও সিএমই প্রোগ্রাম এই কারণে গুরুত্বপূর্ণ যে, এর মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নাই। গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সার হতে পারে এরকম ছোট ছোট উপসর্গকেও অবহেলা নয়। যদি একটু আগেই গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সারের উপসর্গগুলো চিহ্নিত করা যায় তবে এই ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। নারীদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব। বিএমইউ উপাচার্য বলেন, প্রতি বছর বিশ্বে গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সারে ১৪ লাখ নারী আক্রান্ত হয় এবং বাংলাদেশে আক্রান্ত হয় ৮০ হাজার। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে লজ্জা ভয়কে জয় করে গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সারের উপসর্গগুলোকে অবহেলা না করে সময় মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অবশ্যই চিকিৎসাসেবা নিতে হবে। শোভাযাত্রায় বিএমইউর উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল, সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. ইব্রাহীম সিদ্দিক, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. শেখ ফরহাদ, গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস, অধ্যাপক ডা. ফওজিয়া হোসেন, অধ্যাপক ডা. আশরাফুন্নেসা, অধ্যাপক ডা. শিরিন আক্তার বেগম, উপাচার্যের একান্ত সচিব-১ অধ্যাপকা ডা. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, উপ-রেজিস্ট্রার মো. আলমগীর হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরে শহীদ ডা. মিল্টন হলে গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌসের সভাপতিত্বে ‘ওভারিয়ান ক্যান্সার: বিয়ন্ড সার্জারি’ শীর্ষক একটি বৈজ্ঞানিক অধিবেশন ও সিএমই প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরিচয় করিয়ে দেন অধ্যাপক ডা. লতিফা আক্তার। বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএমইউর সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারজানা শারমিন বিথি, ভারতের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সাইন্সেসের ডিরেক্টর ও হেড (গাইনোকোলজি) ডা. প্রীতিলতা চৌধুরী, এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সাইন্সেসের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও চেয়ারম্যান (অনকোলজি সার্ভিসেস) ডা. পুনীত গুপ্ত। অধিবেশনে ধন্যবাদ জানান গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মনোয়ারা বেগম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারহানা খাতুন ও ডা. মেহের নিগার মুনমুন। অনুষ্ঠানে মেডিস্থান হেলথকেয়ার-অলকিউরের পরিচালক ডা. মাসকুর আহমেদ উসমানী উন্নত ক্যানসার চিকিৎসা ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে তাদের চলমান উদ্যোগ তুলে ধরেন। বিএমইউর গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, সেপ্টেম্বর মাস বিশ্বব্যাপী গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সার সচেতনতা মাস হিসেবে পালিত হয়। এই মাসের মূল উদ্দেশ্য হলো নারীদের বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতন করা এবং রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে উৎসাহিত করা। জরায়ুমুখ, জরায়ু, ডিম্বাশয়, যোনি ও ভালভার ক্যান্সার নারীদের গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম। অনেক সময় নারীরা শরীরে পরিবর্তন লক্ষ্য করলেও লজ্জা, ভয় বা অবহেলার কারণে চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন। ফলে রোগটি পরে ধরা পড়ে এবং চিকিৎসা আরও কঠিন হয়ে যায়। ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, অস্বাভাবিক রক্তপাত, মাসিকের ধরনে পরিবর্তন, মেনোপজের পর রক্তপাত, অস্বাভাবিক স্রাব, দীর্ঘদিনের তলপেট ব্যথা, পেট ফুলে থাকা বা অল্প খাবারেই পেট ভরে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে মেনোপজের পর যেকোনো রক্তপাত হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। অন্য বক্তারা বলেন, জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। জরায়ুমুখের ক্যান্সারের প্রধান কারণ হলো এইচপিভি ভাইরাস। এইচপিভি টিকা এবং নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে এই ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়। তাই নারীদের নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং বয়স ও ঝুঁকি অনুযায়ী নিয়মিত স্ক্রিনিং করা গুরুত্বপূর্ণ। লজ্জা নয়, সচেতনতা প্রয়োজন। নারীর শরীর নিয়ে কথা বলতে আমাদের সমাজে এখনও অনেক সংকোচ রয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, শরীরের কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন নিয়ে কথা বলা লজ্জার বিষয় নয়। বক্তারা বলেন, সময়মতো চিকিৎসা নিলে অনেক ক্যান্সার সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব। তাই নিজের বা কাছের কোনো নারীর শরীরে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এই সচেতনতা মাসে আমাদের সবার কাছে আহ্বান, নিজের শরীরকে জানুন। লক্ষণকে অবহেলা করবেন না। নিয়মিত স্ক্রিনিং করুন। এইচপিভি টিকা সম্পর্কে জানুন। প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসা নিন। একটি সচেতন পরিবার একজন নারীর জীবন বাঁচাতে পারে। এসইউজে/এমএমএআর
জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির গেটের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টা ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও অন্য বিচারপতিদের প্রবেশ পথে এই ককটেল বিস্ফোরণ করা হয়। তবে কে বা কারা ককটেল ছুড়ে পালিয়েছে তা বলতে পারেননি দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। আরও পড়ুন মানবতাবিরোধী অপরাধ / ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনারসত্যতা নিশ্চিত করে খানের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, দুপুর ১টা ১৫ থেকে ২০মিনিটের মধ্যে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপরাধীকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ৭ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। টিটি/এফএইচ/এমআইএইচএস
নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতার পরিচালিত ভুঁইফোড় অনলাইন পোর্টালের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদের ভিত্তিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তথাকথিত অনুসন্ধান শুরু করেছে। এমন অভিযোগ তুলে এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান। এনসিপির নেতারা বলেন, পরাজিত ও নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতার পরিচালিত অনলাইন পোর্টাল ‘আজকের কণ্ঠ’-এর মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদের জেরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির অন্যতম ছাত্রনেতা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে। এ ধরনের অনুসন্ধানের তীব্র প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানায় এনসিপি। তারা বলেন, পতিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসরদের ছড়ানো গুজব ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রচিত প্রোপাগান্ডাকে ভিত্তি করে দুদকের মতো একটি রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার দুদককে দলীয়করণ করেছে বলে তারা অভিযোগ করেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গণঅভ্যুত্থানের শীর্ষ নেতাদের চরিত্রহনন এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে দমিয়ে রাখার জন্য দুদককে আবারও পুরোনো ফ্যাসিবাদী আমলের মতো রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আরও পড়ুন পুরো সিস্টেম কিনে ফেলার জন্য কয়েক কোটি টাকাই যথেষ্ট: আসিফ মাহমুদ এনসিপির নেতারা বলেন, নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠনের ক্যাডারদের তথ্যসূত্রহীন কাল্পনিক সংবাদের ওপর নির্ভর করে যে কমিশন তদন্তের নাটক সাজায়, সেই কমিশনের ন্যূনতম নিরপেক্ষতা বা নৈতিক ভিত্তি থাকতে পারে না। গণঅভ্যুত্থানের রূপকারদের রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করা এবং ফ্যাসিবাদের পেছনের পথ প্রস্তুত করতেই এ ধরনের অপতৎপরতা শুরু করা হয়েছে। সত্যিকারের স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং জুলাই সনদে ঘোষিত প্রক্রিয়ায় পুনর্গঠিত দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করা হলে যে কোনো অভিযোগের মুখোমুখি হতে এবং সুষ্ঠু তদন্তে এনসিপি পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলে বিবৃতিতে জানানো হয়। সরকারকে হুঁশিয়ার করে এনসিপি নেতারা বলেন, নিরপেক্ষ তদন্তের নামে অসাংবিধানিক ও দলীয়করণের শিকার কমিশনকে বিরোধীদল ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সংগ্রামীদের দমনের হাতিয়ার বানানো হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এনসিপির নেতারা সরকারকে পতিত ফ্যাসিবাদীদের পদচিহ্ন অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জুলাই সনদের স্পিরিট অনুযায়ী স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত দুদক পুনর্গঠনের দাবি জানান তারা। অন্যথায় ক্ষমতার রাজনৈতিক অপব্যবহার ও সরকারি নীলনকশার বিরুদ্ধে দেশের আপামর ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে তীব্র প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন এনসিপির নেতারা। এনএস/একিউএফ