জয়শ্রী দাস
বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগে জরুরি কাজে গিয়েছিলাম। সেখানকার ওয়াশরুমে প্রবেশ করতে যাব, হঠাৎ একজন অপরিচিত নারী, মনে হলো শিক্ষক, আমাকে বললেন, ‘শিক্ষকদের ওয়াশরুমে আপনি কেন প্রবেশ করছেন? আপনি কে?’ বললাম, ‘পিএইচডির ছাত্রী।’ বেশ রুক্ষ গলায় তিনি বললেন, ‘আপনি কেন এই ওয়াশরুম ব্যবহার করবেন? আপনি ছাত্র-ছাত্রীদের ওয়াশরুমে যান।’ ছাত্র-ছাত্রীদের ওয়াশরুমে গিয়ে মনটা খুবই খারাপ হয়ে গেল। কারণ সেটি ছিল অত্যন্ত দুর্গন্ধময়। যত্রতত্র টিস্যু পড়ে ছিল। মনে হচ্ছিল, দীর্ঘদিন ধরে এই শৌচাগার পরিষ্কার করা হয়নি।
গণশৌচাগার বা পাবলিক টয়লেটের মধ্যে রয়েছে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, বাসস্ট্যান্ড, অফিস-আদালত, হাসপাতালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এসব জায়গায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ শৌচাগার ব্যবহার করেন। শৌচাগার বা টয়লেট নোংরা থাকলে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু খুব সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে। কারণ, বদ্ধ ও আর্দ্র জায়গা জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
নোংরা শৌচাগার থেকে বিভিন্ন ধরনের রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। যেমন- ডায়রিয়া হতে পারে ই-কোলাই ও সালমোনেলার মতো ব্যাকটেরিয়ার কারণে। আমাশয় বা ডিসেন্ট্রি হতে পারে শিগেলা ও জিয়ার্ডিয়ার সংক্রমণে। কলেরার জন্য দায়ী ভিব্রিও কলেরি এবং টাইফয়েডের জন্য দায়ী সালমোনেলা টাইফি। এ ছাড়া স্ক্যাবিস বা খোস-পাঁচড়া, দাদ বা রিংওয়ার্ম, ফোঁড়া ও ত্বকের বিভিন্ন সংক্রমণ হতে পারে। গোলকৃমি, ফিতাকৃমি ও জিয়ার্ডিয়ার মতো পরজীবীর সংক্রমণও নোংরা শৌচাগারের মাধ্যমে ছড়াতে পারে।
ভাইরাসজনিত রোগের মধ্যে হেপাটাইটিস এ এবং নোরোভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। নোরোভাইরাসের কারণে বমি ও ডায়রিয়া হতে পারে। এ ছাড়া ইউরিন ইনফেকশন বা ইউটিআই, চোখের কনজাংটিভাইটিস এবং দুর্গন্ধ ও ছত্রাকের কারণে শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
নোংরা কমোড, ফ্লোর, দরজার হাতল, ট্যাপসহ বিভিন্ন জায়গায় জীবাণু লেগে থাকতে পারে। সেখান থেকে হাতে জীবাণু চলে আসে এবং পরে খাবার বা মুখের সংস্পর্শে গিয়ে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তাই শৌচাগার পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি ব্যবহারকারীকেও কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ব্লিচ বা উপযুক্ত জীবাণুনাশক দিয়ে নিয়মিত কমোড ও ফ্লোর পরিষ্কার করা প্রয়োজন। টয়লেট ব্যবহারের পর অন্তত ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধোয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দরজার হাতল, ট্যাপ ও ফ্লাশ নিয়মিত জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। পাশাপাশি ওয়াশরুম শুকনো রাখা এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা জরুরি। পাবলিক টয়লেট তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এখানে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ব্যবহার করেন এবং অনেক সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য পর্যাপ্ত সময় ও ব্যবস্থা থাকে না।
পাবলিক টয়লেটে প্রবেশের আগে সঙ্গে টিস্যু ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা ভালো। সিট কভার না থাকলে টিস্যু দিয়ে সিট ঢেকে নেওয়া যেতে পারে। সেটিও সম্ভব না হলে ফ্লাশ করার পর পানি দিয়ে পরিষ্কার করে টিস্যু দিয়ে মুছে নেওয়া যেতে পারে। ভেতরে কোনো কিছু সরাসরি হাত দিয়ে ধরার পরিবর্তে টিস্যু ব্যবহার করা ভালো। দরজা, ফ্লাশ বা ট্যাপ ধরার সময়ও টিস্যু ব্যবহার করা যেতে পারে। মেঝেতে পানি বা ময়লা থাকতে পারে, তাই পা দুটো যতটা সম্ভব দূরে রাখা উচিত।
টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড হাত ধুতে হবে। শুধু পানি দিয়ে হাত ধোয়া যথেষ্ট নয়। হাত ধোয়ার পর টিস্যু ব্যবহার করে ট্যাপ বন্ধ করা যেতে পারে। সঙ্গে একটি ছোট হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখাও উপকারী। গবেষণায় পাবলিক টয়লেটের যেসব জায়গায় তুলনামূলক বেশি জীবাণু থাকতে পারে, তার মধ্যে ফ্লাশের বোতাম, দরজার হাতল, ট্যাপ ও সিট অন্যতম। তাই এসব জায়গায় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
বাসস্ট্যান্ডের টয়লেট আরও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এসব টয়লেট ব্যবহার করলেও অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা পানির ব্যবস্থা থাকে না। ফলে ডায়রিয়া, আমাশয় ও কলেরার মতো পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এ ছাড়া অপরিষ্কার হাতের মাধ্যমে হেপাটাইটিস এ ও টাইফয়েডের মতো রোগ ছড়াতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে অপরিষ্কার সিট ও মেঝের কারণে ইউটিআই এবং ছত্রাকজনিত সংক্রমণের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। দেওয়াল বা বেঞ্চে বসার মাধ্যমেও স্ক্যাবিস ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে।
বছর কয়েক আগে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ওয়ার্ডের ওয়াশরুমে গিয়ে দেখি থইথই পানি, তার মধ্যে ময়লা-আবর্জনা ভেসে বেড়াচ্ছে। বেশ খানিকটা হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। হাসপাতালের টয়লেটের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের। কারণ এখানে সুস্থ, অসুস্থ এবং বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণে আক্রান্ত রোগীরা একই ধরনের ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। ফলে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অন্য অনেক জায়গার তুলনায় বেশি।
হাসপাতালের টয়লেট থেকে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী কিছু জীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে। যেমন- এমআরএসএ ত্বকের সংক্রমণ ঘটাতে পারে। সি. ডিফের কারণে তীব্র ডায়রিয়া ও পেটব্যথা হতে পারে। ক্লেবসিয়েলা ও সিউডোমোনাসের মতো জীবাণু নিউমোনিয়া ও ইউটিআইয়ের মতো সংক্রমণের কারণ হতে পারে। এ ছাড়া ডায়রিয়া, আমাশয়, কলেরা, নোরোভাইরাসজনিত বমি ও ডায়রিয়া, হেপাটাইটিস এ ও বি, ছত্রাকজনিত সংক্রমণ, স্ক্যাবিস এবং ইউটিআইয়ের মতো সমস্যার ঝুঁকিও থাকে। বিশেষ করে ক্যাথেটার ব্যবহারকারী রোগীদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
হাসপাতালের টয়লেট বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কয়েকটি কারণ রয়েছে। রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি কম থাকায় অল্প পরিমাণ জীবাণুতেও তারা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। আবার ফ্লাশ করার সময় জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি হাসপাতালের টয়লেট ২৪ ঘণ্টা ব্যবহৃত হয়। ফলে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা না থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।
হাসপাতালের টয়লেটে প্রবেশের আগে মাস্ক ও স্যান্ডেল ব্যবহার করা ভালো। সঙ্গে টিস্যু, স্যানিটাইজার ও প্রয়োজনীয় ওয়াইপস রাখা যেতে পারে। সম্ভব হলে কমোডের সিটে সরাসরি না বসে সতর্কভাবে ব্যবহার করা উচিত। বাধ্য হয়ে বসতে হলে কয়েক স্তর টিস্যু ব্যবহার করা যেতে পারে। ফ্লাশ করার সময় কমোডের ঢাকনা নামিয়ে দেওয়া ভালো। কারণ ফ্লাশের সময় জীবাণুযুক্ত কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

দরজা, ফ্লাশ ও ট্যাপ সরাসরি হাত দিয়ে না ধরে টিস্যু ব্যবহার করা ভালো। টয়লেট থেকে বের হওয়ার পর ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড সাবান ও পানি দিয়ে হাত ভালোভাবে ধুতে হবে। নখ, কনুই ও আঙুলের ফাঁকও পরিষ্কার করতে হবে। শুধু হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
রোগীদের জন্য বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। সম্ভব হলে রোগীর জন্য আলাদা টয়লেট ব্যবহার করা উচিত এবং কমন টয়লেট এড়িয়ে চলা ভালো। রোগী দুর্বল হলে সঙ্গে গিয়ে সহযোগিতা করতে হবে এবং পরে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে। হাসপাতালে যাওয়ার উদ্দেশ্য সুস্থ হওয়া, সঙ্গে সংক্রমণ নিয়ে বাড়ি ফেরা নয়। তাই হাসপাতালের ওয়ার্ডের টয়লেটকে সবচেয়ে সংবেদনশীল জায়গাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধির দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।
অনেকেই অপরিষ্কার পাবলিক টয়লেট ব্যবহারের ভয়ে প্রস্রাব চেপে রাখেন। এর পেছনে আরও কিছু কারণ রয়েছে—ক্লাস বা অফিসে পর্যাপ্ত বিরতি না পাওয়া, মাসিকের সময় টয়লেটে যেতে অস্বস্তি বোধ করা, পর্যাপ্ত পানি বা নিরাপদ টয়লেটের অভাব ইত্যাদি। তাই দীর্ঘসময় প্রস্রাব চেপে রাখলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা ইউটিআইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে। মূত্রথলিতে দীর্ঘসময় প্রস্রাব জমে থাকলে ব্যাকটেরিয়া বংশবিস্তারের সুযোগ পেতে পারে। বারবার এমন হলে ব্লাডার ও মূত্রনালির বিভিন্ন সমস্যাও দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
মূত্রথলি ও অন্ত্র পাশাপাশি থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্য বা মূত্রথলি অতিরিক্ত পূর্ণ থাকলেও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে মাসিকের সময় দীর্ঘক্ষণ প্যাড বা ট্যাম্পন পরিবর্তন না করাও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অত্যন্ত দীর্ঘসময় ট্যাম্পন রেখে দিলে টক্সিক শক সিনড্রোমের মতো বিরল কিন্তু গুরুতর জটিলতাও হতে পারে।
পাবলিক টয়লেট নোংরা ও অপরিষ্কার হওয়া, স্কুল-কলেজ বা অফিসে পর্যাপ্ত বিরতি না পাওয়া, মাসিকের সময় টয়লেট ব্যবহারে অস্বস্তি এবং পর্যাপ্ত পানি বা নিরাপদ টয়লেটের অভাব—এসব কারণে অনেক নারী ও কিশোরী প্রস্রাব চেপে রাখেন। কিন্তু প্রস্রাব শরীরের একটি স্বাভাবিক সংকেত। শরীর যখন প্রস্রাবের প্রয়োজনের কথা জানায়; তখন সম্ভব হলে তা আটকে না রেখে টয়লেট ব্যবহার করা উচিত।
সুস্থ থাকার জন্য তিনটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। প্রথমত, তিন থেকে চার ঘণ্টার বেশি প্রস্রাব চেপে রাখা উচিত নয়। শরীর যখন প্রস্রাবের সংকেত দেয়, তখন ‘পরে যাব’ বলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। দ্বিতীয়ত, মাসিকের সময় বাড়তি যত্ন নিতে হবে। প্রতি তিন থেকে চার ঘণ্টা পর প্যাড বা ট্যাম্পন পরিবর্তন করা, নিয়মিত পরিষ্কার হওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করলে প্রস্রাবের মাধ্যমে মূত্রনালি পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে এবং কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে পারে।

তৃতীয়ত, টয়লেট ব্যবহারের সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। সঙ্গে টিস্যু ও স্যানিটাইজার রাখা, প্রয়োজন হলে সিটে টিস্যু ব্যবহার করা এবং টয়লেট থেকে বের হওয়ার পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়া উচিত। প্রস্রাব আসা শরীরের একটি স্বাভাবিক সংকেত। এটি চেপে রাখা মানে শরীরের প্রয়োজনকে অগ্রাহ্য করা। নোংরা টয়লেটের ভয়ে স্কুল-কলেজের শিশু, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কিংবা কর্মজীবী মানুষের দিনের পর দিন প্রস্রাব চেপে রাখা উচিত নয়। নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পাবলিক টয়লেট নিশ্চিত করা তাই শুধু পরিচ্ছন্নতার বিষয় নয়, জনস্বাস্থ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
একবার হাসপাতালের যন্ত্রপাতি তৈরির একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজের প্রয়োজনে গিয়েছিলাম। সেখানে এক কর্মকর্তা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলেছিলেন, তার মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। মেয়ের অসুস্থতার অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি দীর্ঘসময় প্রস্রাব চেপে রাখার কথা উল্লেখ করেছিলেন। শিশুদের ক্ষেত্রেও এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। নোংরা বা অনিরাপদ টয়লেটের কারণে তারা প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও টয়লেট ব্যবহার করতে চায় না। দীর্ঘমেয়াদে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ওয়াশরুম বা শৌচাগার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা করায় অনেকেই হয়তো হাস্যরস করেছেন, নানা কথা বলেছেন। কিন্তু আমি মনে করি, এটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। আমরা ‘মনিটরিং’, ‘ব্যবস্থাপনা’ বা ‘পর্যবেক্ষণ’ ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত। একই ব্যবস্থাপনার আওতায় কয়েকটি ওয়াশরুম বা শৌচাগারের জন্য একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ করা যেতে পারে। তার দায়িত্ব হবে প্রতিবার একজন শিক্ষার্থী বা ব্যবহারকারী টয়লেট থেকে বের হওয়ার পর সেটি মুছে শুকনো রাখা। পাশাপাশি টয়লেটের কোনো অংশ ভেঙে গেলে দ্রুত মেরামত করাও তার দায়িত্বের মধ্যে থাকতে পারে।
এ জন্য পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারি পর্যায়ে এ ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করা প্রয়োজন। এর ফলে অনেক শিশু ও শিক্ষার্থীর জন্য নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। একজন শিক্ষার্থী যদি সামান্য অতিরিক্ত ফি দিয়েও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বেতন নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে সেই ব্যবস্থা করা অসম্ভব নয়। কারণ যে কোনো পাবলিক টয়লেটের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই।
পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ শৌচাগার কোনো বিলাসিতা নয়; এটি মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্য ও মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত একটি বিষয়। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, বাসস্ট্যান্ড, অফিস, আদালত কিংবা হাসপাতাল—সব জায়গাতেই স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীদেরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। একটি পরিচ্ছন্ন টয়লেট শুধু দুর্গন্ধমুক্ত পরিবেশ তৈরি করে না, বরং অসংখ্য মানুষকে বিভিন্ন সংক্রমণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে। তাই গণশৌচাগারের অব্যবস্থাপনা দূর করা এখন সময়ের দাবি।
লেখক: কথাসাহিত্যিক ও গবেষক।
এসইউ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘাড়ে বন্ধুক রেখে গুলি করা চলবে না বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, আমিও ট্রিগার টানতে জানি। সব সমস্যার সমাধান করবোই। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি করা শিক্ষকদের শাস্তির আওতায় আনা হবে বলেও জানিয়েছেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আরও পড়ুন এসএসসির খাতা দেখায় গাফিলতি করা শিক্ষকদের শাস্তি হবে: শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জ করে ৩০৭৯ শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ পেল। তাহলে তো প্রশ্ন ওঠে- এত কীভাবে বাড়লো? এখন কি এ পরীক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে না? যে শিক্ষক পরীক্ষকরা খাতা ঠিকমতো দেখেননি, তাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তাদের শাস্তির মুখে পড়তেই হবে। ল কলেজের বাড়তি ফি আদায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পত্রিকায় দেখলাম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রচুর আয় করছে। ল কোর্সের ফরম ফিলাপের ফি দ্বিগুণ-তিনগুণ করা হয়েছে। কেন? জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কী টাকা আয় করা এবং বাড়ানোর জন্য? টাকার এত প্রয়োজন কেন? শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘাড়ে বন্ধুক রেখে গুলি করা চলবে না। আমিও ট্রিগার টানতে জানি। সব সমস্যার সমাধান করবোই। আরও পড়ুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে আসছে নতুন নিয়ম অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমবারের মতো এবারই ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড চালু করেছে। ৫৭ জন শিক্ষার্থীকে এ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানের অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতে এ অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন। এএএইচ/ইএ
‘কইলজ্যাডা ফাইট্টা যাইতাছে পুতের লাইগ্যা। মাইনষে পাড়াইয়্যা আমার পুতটারে মাইরা হালাইছে।’ গতকাল সোমবার রাতে ছেলের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকে এ কথা বলে আহাজারি করছেন বৃদ্ধ মা হাওয়া খাতুন। তাঁর ছেলে শাহাজাহান মনির (৪৫) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।স্বজনদের দাবি, গতকাল সন্ধ্যায় হাসপাতালের লিফটে আগুন লাগার পর সিঁড়ি দিয়ে স্ত্রী ও স্ত্রীর বড় বোনের সঙ্গে নামতে গিয়ে পদদলিত হয়ে শাহাজাহান মনিরের মৃত্যু হয়। ওই দুর্ঘটনার পর চারজনের মৃত্যুর তথ্য সামনে এলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন তা নাকচ করেছে। তবে তিনটি পরিবারের সঙ্গে প্রথম আলো যোগাযোগ করলে তারা পদদলিত হয়ে স্বজনদের মৃত্যুর দাবি করেছে।ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডের সময় ৫টি সিঁড়ির ৪টিতেই তালা ছিলশাহাজাহান মনির ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের বিষ্ণুরামপুর গ্রামের নাজিমুল্লাহর ছেলে। পেশায় পল্লিচিকিৎসক শাহাজাহান ১০ থেকে ১২ দিন ধরে হাসপাতালের নতুন ভবনে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বাড়ির আঙিনায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে শাহাজাহানের মরদেহের দাফন হয়েছে। ছেলেকে হারিয়ে হাওয়া খাতুনের বিলাপ থামছেই না। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘কালকা বিকালেও পুতে মোবাইল কইরা খবর নিছে। কইলো, মা, আমার লাইগ্যা দোয়া কোরো, ভালা আছি—চিন্তা কইরো না। আমি বাড়িত আইয়্যা তোমগরে সবাইরো লইয়া রান্না কইরা খাওয়ামু। আমার কইলজ্যার টুকরা পুত বাড়িত ঠিকই আইলো, কিন্তু লাশ ওইয়াই আইলো।’হারিসা বেগম, শাহাজাহান মনিরের সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী রোগীরে নিয়া এক সিঁড়ির দুই-তিন ধাপ নামার পরেই পইড়া গেছি। পরে আমি অজ্ঞান হইয়া যাই। যহন হুঁশ হইছে, তহন দেহি মাইনষে কান্দাকাটি করতাছে। আমি জিগাইছি, “আল্লাহ! আমি যে রোগী নিয়া নিচে নামবার লইছিলাম, আমার সেই মানুষ কই? মানুষের পাড়ায় পিষ্ট হইয়া মারা গেছে।ঘটনার সময় শাহাজাহান মনিরের সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী হারিসা বেগম। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওষুধ কিনবার লাইগা আমরা দুই বইন বাইর হইছিলাম। তখন বইন কইল, আগুন লাগছে। রোগীরে নিয়া এক সিঁড়ির দুই-তিন ধাপ নামার পরেই পইড়া গেছি। পরে আমি অজ্ঞান হইয়া যাই। যহন হুঁশ হইছে, তহন দেহি মাইনষে কান্দাকাটি করতাছে। আমি জিগাইছি, “আল্লাহ! আমি যে রোগী নিয়া নিচে নামবার লইছিলাম, আমার সেই মানুষ কই? মানুষের পাড়ায় পিষ্ট হইয়া মারা গেছে।”’হারিসা বেগমের দাবি, ওই সময় তাঁর বোনও বুকে ব্যথা পেয়ে আহত হয়েছেন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড থেকে ধোঁয়া, রোগী–স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক‘ও মিম, আমারে ধরলি না?’শাহাজাহানের মতোই ওই আগুনের পর পদদলিত হয়ে মারা যাওয়ার দাবি করেছে কুলসুম আক্তারের (৩৫) পরিবার। তারাকান্দা উপজেলার বালিখা গ্রামের কুলসুম ১২ দিন ধরে হাসপাতালটিতে ছেলের সঙ্গে ছিলেন। ১২ বছর বয়সী ছেলে স্বাধীন জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালটির ৩১ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল। সঙ্গে ছিলেন ১৮ বছর বয়সী মেয়ে মিম আক্তার।আগুন লাগার কথা শুনে মা ও ভাইকে নিয়ে একসঙ্গে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিলেন মিম। এ সময় ভিড়ের মধ্যে তাঁরা পড়ে যান। মিম উঠে ভাইকে টেনে তোলেন। পরে মাকে তুলতে গেলে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়।মিম বলেন, ‘আমার আম্মু তখন মানুষের ভিড়ের মধ্যে পড়ে গেছিল। আম্মু আমাকে একবার ডাক দিয়ে কইছে, “ও মিম, আমারে ধরলি না?” আমি তখন মানুষের চিপার মধ্যে পইড়া গেছি। পরে আবার মাকে তুলতে গেলে আমাকে দুইবার ধাক্কা দেওয়া হয়। পরে অনেক কষ্টে মাকে নিচে নামিয়ে আনি।’ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বালিখা গ্রামের কুলসুম আক্তারের হাসপাতালের সিঁড়ি দিয়ে নামার সময়ের পরিস্থিতি বর্ণনা দিচ্ছিলেন তাঁর মেয়ে মিম আক্তার। আজ সকালে তোলামিমের অভিযোগ, ‘আমার আম্মুরে যদি সাথে সাথে নেওয়ার পর ভালোভাবে চেকআপ করত, তাহলে হয়তো মারে আমি ফিরা পাইতাম। ডাক্তার আসছে, হাতের মধ্যে কী একটা দেইখা একটা লেখা লিখছে। এর মধ্যে আমার কাছে টাকা চাইছে। আমি কইছি, আগে টাকা না আগে রোগী? আমার রোগীকে তো আগে বাঁচাইবো।’গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে কুলসুমকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আজ সকাল ১০টার দিকে বাড়ির পাশে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়। কুলসুম শ্রমিক শহিদুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের মা ছিলেন।কুলসুমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গতকাল রাত থেকেই বাড়িতে স্বজনেরা ভিড় করেন। আজ সকালেও তাঁকে শেষবারের মতো দেখতে অনেক স্বজন ও স্থানীয় লোকজন বাড়িতে আসেন।ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন: রোগী–স্বজনদের আতঙ্ক কাটেনি, তদন্ত কমিটি গঠনদুর্ঘটনায় পদদলিত হয়ে কেউ মারা যায়নি—প্রশাসনের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কুলসুমের ননদ নাজমা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের রোগী ১১ থেকে ১২ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিল। আমাদের বাচ্চাও সেখানে চিকিৎসাধীন ছিল। তাহলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কীভাবে বলছে, আমরা রোগীকে বাইরে থেকে মৃত অবস্থায় নিয়ে গেছি? এটা সত্য নয়।’নাজমার অভিযোগ, কুলসুম মানুষের ভিড়ের মধ্যে পড়েই মারা যান। পরে গতকাল রাত ১১টার দিকে তাঁরা হাসপাতাল থেকে লাশ বাড়িতে নিয়ে যান। এ সময় স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন এবং সইও করেছেন।নাজমা বলেন, ‘আমরা যদি বাইরে থেকে মৃত অবস্থায় রোগীকে নিয়ে গিয়ে থাকি, তাহলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেন মেম্বারের (ইউপি সদস্য) কাছ থেকে সই নিল? আসলে বিষয়টি দামাচাপা (ধামাচাপা) দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’‘মাঝখানে আটকা পড়ে গেছিলাম’ফুলবাড়িয়া উপজেলার কালাদহ ইউনিয়নের বিদ্যানন্দ গ্রামের রমজান আলী (৩৮) সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে মারা যান বলে হাসপাতালের নথিতে উল্লেখ আছে। রমজান আলী পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ছিলেন। বুকের ব্যথা নিয়ে গতকাল সকালে প্রথমে ফুলবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে সেখান থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।আগুনের সময় আতঙ্ক শুরু হলে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে রমজানের মৃত্যু হয় বলে দাবি করেছেন স্বজনেরা। তিনি দুই স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক ছিলেন। তাঁর দুই স্ত্রীই সন্তানসম্ভবা। আজ বেলা আড়াইটায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর মরদেহ দাফনের কথা আছে।ঘটনার সময় রমজানের সঙ্গে থাকা স্ত্রী খাদিজা আক্তার বলেন, ‘আমিও সিঁড়ির মাঝখানে পড়ে গেছিলাম। পরে বলা হইতেছিল, নিচে না গিয়ে যার যার সিটে যান, আগুন নিভাই দিছি। তখন নিচেও যেতে পারতেছিলাম না, ওপরেও যেতে পারতেছিলাম না। মাঝখানে আটকা পড়ে গেছিলাম। ওই অবস্থাতেই মারা যায় আমার স্বামী।’ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার কালাদহ ইউনিয়নের বিদ্যানন্দ গ্রামের রমজান আলীর মরদেহ নিয়ে জানাজার অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনেরারমজান আলীর ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম বলেন, তাঁর ভাই এমনিতেই হার্টের রোগী ছিলেন। চারতলা থেকে নামার সময় ধাক্কাধাক্কির মধ্যে পড়ে গিয়ে সেখানেই মারা গেছেন তিনি। পরে ভাইকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখান থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডেথ গেট পাস দেয়। রাত আটটা থেকে সাড়ে আটটার দিকে মরদেহ নিয়ে আসেন।সাইফুল ইসলামের দাবি, ‘হাসপাতালের পাঁচটা সিঁড়ির মধ্যে চারটাই বন্ধ ছিল। লিফটও কার্যকর ছিল না। সিঁড়িগুলো চালু থাকলে এমন অবস্থা হতো না। এ জন্য আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেই দায়ী মনে করি।’‘রমজান আলী হাসপাতালে আগুন বা পদদলিত হওয়ার ঘটনায় মারা যাননি; তাঁকে বাইরে থেকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল’—হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন বক্তব্যের বিষয়ে সাইফুল বলেন, ‘হাসপাতালের রেজিস্টার চেক করলেই তো দেখা যাবে। আমাদের হাতে ৭টা ২৫ মিনিটে দেওয়া ডেথ সার্টিফিকেট ও গেট পাস আছে। তাহলে কীভাবে বলে, তিনি হাসপাতালে মারা যাননি?’ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুনের পর চার মৃত্যু, পদদলিত হওয়ার তথ্য নাকচ প্রশাসনেরকী আছে হাসপাতালে রেজিস্টারেগতকাল বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে হাসপাতালটির ১১ নম্বর লিফটে আগুন লাগে। এতে লিফটের বাইরের আবরণ পুড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুন লাগার পর হাসপাতালের বিভিন্ন তলা থেকে রোগী ও স্বজনদের অনেকে হুড়োহুড়ি করে নিচে নামতে গিয়ে আহত হন। এ ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর দাবি ওঠে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন তা নাকচ করেছে।হাসপাতালে গতকালের অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের তথ্যসংবলিত একটি রেজিস্টারের পাতার ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পর পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া হতাহত ব্যক্তিদের তথ্যের সঙ্গে ওই রেজিস্টারের তথ্যের মিল আছে। এটি হাসপাতালের বলে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান।মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) একজন নার্স তাৎক্ষণিক এই তালিকাভুক্তি করেছিলেন। কিন্তু তাঁরা পদদলিত হয়ে মারা গেছেন—এমন কোনো তথ্য নেই। তাঁদের শরীরে এমন কোনো চিহ্নও ছিল না।হাসপাতালের জরুরি বিভাগের রেজিস্টারের তথ্য অনুযায়ী, আগুনের ঘটনার পর চারজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে দুজন ফুলবাড়িয়ার, একজন তারাকান্দার।ওই দুর্ঘটনার পর মৃত পূর্বধলা উপজেলার ১০ নম্বর নারান্দিয়া ইউনিয়নের ভূগী গ্রামের আইয়ুব আলীর স্ত্রী হাজেরা বেগমের (৫০) বিষয়টি এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।নথিতে থাকা চারজনের মৃত্যুর বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, একজন নার্স তাৎক্ষণিক এই তালিকাভুক্তি করেছিলেন। কিন্তু তাঁরা পদদলিত হয়ে মারা গেছেন—এমন কোনো তথ্য নেই। তাঁদের শরীরে এমন কোনো চিহ্নও ছিল না।
এক ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে না জানিয়ে ওষুধ প্রয়োগ করে অচেতন করার পর ২০ বছর ধরে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অপরাধ স্বীকার করেছেন। যুক্তরাজ্যে ম্যানচেস্টারের মিনশুল স্ট্রিট ক্রাউন কোর্টে ওই ব্যক্তি একাধিক ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন এবং ক্ষতির উদ্দেশ্যে স্ত্রীকে কোনো পদার্থ প্রয়োগ করার অভিযোগসহ মোট ৬০টি অপরাধে নিজেকে দোষী বলে স্বীকার করেন। আইনি কারণে ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি। একই কারণে তার স্ত্রীর পরিচয়ও গোপন রাখা হয়েছে। আদালতে শুনানির সময় ওই নারী পরিবারের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে দর্শক সারিতে বসে পুরো কার্যক্রম দেখেন। আদালতে বারবার ‘দোষী’ স্বীকার ষাটোর্ধ্ব ওই ব্যক্তি যখন একের পর এক অভিযোগের জবাবে নিজেকে দোষী বলে স্বীকার করছিলেন, তখন তাকে দৃশ্যত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়তে দেখা যায়। বিচারকের সামনে তিনি কয়েক ডজন অভিযোগে ‘দোষী’ শব্দটি উচ্চারণ করেন। এর মধ্যে ছিল একাধিক ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন এবং যৌন নিপীড়নের উদ্দেশ্যে কোনো পদার্থ প্রয়োগের অভিযোগ। একপর্যায়ে আদালতের বিচারক তাকে কাঠগড়ায় বসে পড়ার অনুমতি দেন। ওই ব্যক্তি গ্রেটার ম্যানচেস্টারের স্টকপোর্ট এলাকার বাসিন্দা। কয়েক দশক ধরে তিনি ওই নারীর সঙ্গে বিবাহিত ছিলেন। ২০০৪ সাল থেকে নির্যাতনের অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, স্ত্রীর ওপর তার স্বামীর নির্যাতন শুরু হয়েছিল ২০০৪ সাল থেকে এবং তা প্রায় দুই দশক ধরে চলেছে। অন্যদিকে একই নারীর ওপর যৌন অপরাধের অভিযোগে আরও ১২ জন পুরুষের বিরুদ্ধে বিচার চলছে। তারা প্রত্যেকেই গুরুতর একাধিক যৌন অপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এই ১২ জনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সময়কাল ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত। আরেকজন পুরুষ এর আগে ওই নারীর বিরুদ্ধে সংঘটিত যৌন অপরাধের অভিযোগ স্বীকার করেছিলেন। বিচার শেষে হবে সাজা স্বামী যেসব অভিযোগ স্বীকার করেছেন, সেসব অপরাধের জন্য তার সাজা বিচার চলমান মামলার শেষ পর্যায়ে ঘোষণা করা হবে। একই নারীর ওপর দীর্ঘ সময় ধরে সংঘটিত বলে অভিযোগ ওঠা এসব অপরাধের বিচার যুক্তরাজ্যে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। মামলায় মূল অভিযুক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগের সময়কাল প্রায় ২০ বছরজুড়ে বিস্তৃত হওয়ায় ঘটনাটির ভয়াবহতাও সামনে এসেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি এমএসএম