জাতীয়

খলিফা আবু বকরের মৃত্যু: কীভাবে নির্বাচিত হয় পরবর্তী শাসক

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
খলিফা আবু বকরের মৃত্যু: কীভাবে নির্বাচিত হয় পরবর্তী শাসক
খলিফা আবু বকরের মৃত্যু: কীভাবে নির্বাচিত হয় পরবর্তী শাসক

মাত্র দুই বছর তিন মাসের সংক্ষিপ্ত শাসনকাল। এই সামান্য সময়ের ভেতরেই আরবের বুকে ছড়িয়ে পড়া স্বধর্মত্যাগ ও গৃহযুদ্ধের উত্তাল আগুন নিভিয়ে এক অখণ্ড রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকর সিদ্দিক (রা.)।

অভ্যন্তরীণ সংহতি নিশ্চিত করার পর তিনি রোমান ও পারস্য পরাশক্তির সম্ভাব্য হুমকি রুখতে সিরিয়া ও ইরাকের দিকে বিজয়ের অগ্রযাত্রা শুরু করেছিলেন। কিন্তু রাষ্ট্র যখন স্থিতিশীলতার মুখ দেখতে শুরু করে, তখনই ঘনিয়ে আসে তাঁর জীবনের শেষ প্রহর।

প্রথম খলিফ আবু বকরের বিদায় ছিল ক্ষমতা, জনমত, পরামর্শ (শুরা) এবং জনগণের আমানতের ব্যাপারে এক অনন্য নৈতিক ও রাজনৈতিক পাঠ। ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট বোঝা যায়, পরবর্তী খলিফা হিসেবে ওমর (রা.)-এর মনোনয়ন ছিল খোলামেলা ও সর্বজনীন ‘শুরা’ প্রক্রিয়ার ফলাফল।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. আর-রায়িস বিষয়টি ব্যাখ্যা করে দেখিয়েছেন যে পরবর্তীকালের রাজতান্ত্রিক উত্তরাধিকার ব্যবস্থার সঙ্গে আবু বকরের এই পদক্ষেপের দূরতম সম্পর্কও ছিল না; বরং এটি ছিল জনমতের ভিত্তিতেই গৃহীত এক সুচিন্তিত পদক্ষেপ। (মুহাম্মদ জিয়াউদ্দিন আর-রায়িস, আন-নাজারিইয়াতুস সিয়াসিয়্যাতুল ইসলামিয়্যাহ, পৃষ্ঠা: ১১২, দারুত তুরাস, কায়রো, ১৯৭৬)

প্রত্যেকের কাছে তিনি জানতে চান ওমর সম্পর্কে তাঁদের নিরপেক্ষ মতামত কী। ছোটখাটো মেজাজের কঠোরতা ছাড়া নেতৃত্ব ও যোগ্যতার প্রশ্নে সবাই ওমরের ব্যাপারে পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন।

তিন ধাপে নির্ধারিত হয় পরবর্তী নেতৃত্ব

খলিফা আবু বকর (রা.) রোগশয্যায় উপলব্ধি করেছিলেন যে তাঁর সময় ফুরিয়ে আসছে। নেতৃত্ব নিয়ে যাতে মুসলিমদের মাঝে নতুন করে অনৈক্য তৈরি না হয়, সেজন্য তিনি তিনটি ধাপে ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তরের পথ তৈরি করেন:

১. ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া: অসুস্থতা গুরুতর রূপ নিলে আবু বকর (রা.) জনগণকে একত্র করেন। তিনি নিজের ওপর অর্পিত বায়াত থেকে সবাইকে মুক্ত ঘোষণা করে বলেন, “তোমরা দেখতে পাচ্ছ আমার কী অবস্থা হয়েছে। আমার মনে হয় বিদায়ের সময় সমাগত। আল্লাহ তোমাদের ওপর থেকে আমার বায়াতের অঙ্গীকার প্রত্যাহার করে নিয়েছেন এবং তোমাদের ক্ষমতা তোমাদের হাতেই ফিরিয়ে দিয়েছেন। অতএব, তোমরা নিজেদের মধ্য থেকে যাকে খুশি নেতা বানিয়ে নাও। আমার জীবদ্দশায় যদি তোমরা এ বিষয়ে একমত হতে পারো, তবে আমার পরে তোমাদের মধ্যে আর কোনো বিভেদ সৃষ্টি হবে না।” (ইবনে আসাকির, তারিখু দিমাশক, ৩০/৪১২, দারুল ফিকর, বৈরুত, ১৯৯৫)

২. খলিফাকে দায়িত্ব অর্পণ: খলিফার এই বক্তব্যের পর সাহাবিরা নিজেদের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা করেন। কিন্তু তাঁরা কোনো একক ব্যক্তির ব্যাপারে একমত হওয়ার চেয়ে গৃহবিবাদের আশঙ্কা করেন। ফলে তাঁরা পুনরায় খলিফার কাছে এসে অনুরোধ জানান, ‘আপনিই আমাদের জন্য সিদ্ধান্ত নিন।’

খলিফা তখন তাঁদের জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আমি যদি কারও নাম প্রস্তাব করি, তবে কি তোমরা তাতে মতবিরোধ করবে?’ সবাই সমস্বরে বললেন, ‘না।’ আবু বকর (রা.) তখন বললেন, ‘তবে আমাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি, তাঁর ধর্ম ও বান্দাদের কল্যাণের কথা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একটু অবকাশ দাও।’

৩. শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ: তিনি তৎকালীন শীর্ষ সাহাবি ও নীতিনির্ধারক (আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ)—যেমন আব্দুর রহমান ইবনে আওফ, ওসমান ইবনে আফফান, উসাইদ ইবনে হুদাইর এবং সাইদ ইবনে জায়েদ (রা.)-সহ আনসার ও মুহাজির নেতাদের সঙ্গে একান্তে কথা বলেন।

প্রত্যেকের কাছে তিনি জানতে চান ওমর সম্পর্কে তাঁদের নিরপেক্ষ মতামত কী। ছোটখাটো মেজাজের কঠোরতা ছাড়া নেতৃত্ব ও যোগ্যতার প্রশ্নে সবাই ওমরের ব্যাপারে পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন। এরপরই শুধু আবু বকর (রা.) একটি দলিলে ওমরের নাম চূড়ান্ত করেন এবং সমবেত জনতা স্বেচ্ছায় সেই সিদ্ধান্তকে বায়াতের মাধ্যমে গ্রহণ করে।

ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার সময় আবু বকর (রা.) নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন, আল্লাহর দরবারে দাঁড়ানোর আগে যেন তাঁর কাঁধে মুসলিমদের কোনো অন্যায্য সম্পদ অবশিষ্ট না থাকে।

গবেষক ও চিন্তাবিদ আলি আত-তানতাবি এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের তাৎপর্য তুলে ধরে লিখেছেন, “ওমর (রা.)-এর এই মনোনয়ন স্বৈরতান্ত্রিক কোনো ফরমান ছিল না; বরং তা পরিচালিত হয়েছিল শুরার সবচেয়ে বিশুদ্ধ, ইনসাফপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে।” (আলি আত-তানতাবি, আবু বকর আস-সিদ্দিক, পৃষ্ঠা: ২৫০, দারুল মানারা, জেদ্দা, ১৯৮৬)

ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের হিসাব

ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার সময় আবু বকর (রা.) নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন, আল্লাহর দরবারে দাঁড়ানোর আগে যেন তাঁর কাঁধে মুসলিমদের কোনো অন্যায্য সম্পদ অবশিষ্ট না থাকে।

সুস্থ থাকা অবস্থায় তিনি কন্যা আয়েশাকে নিজের ব্যক্তিগত একটি খেজুরবাগান দান করেছিলেন। কিন্তু মৃত্যুশয্যায় এসে কন্যার হাত ধরে বললেন, “মা, আমি তোমাকে যে জমিটুকু দিয়েছিলাম, তা নিয়ে আমার মনে দ্বিধা তৈরি হয়েছে। তুমি যদি তা পরিবারের সকল ওয়ারিশের সাধারণ উত্তরাধিকারের মাঝে ফিরিয়ে দাও, তবে আমি নিশ্চিন্ত হতে পারি।”

আয়েশা (রা.) পরম শ্রদ্ধায় পিতার সেই জমি ফিরিয়ে দেন, যাতে তাঁর মৃত্যুর পর অন্য কোনো সন্তান বা ওয়ারিশ ন্যায্য অংশ থেকে বঞ্চিত না হয়।

আর রাষ্ট্রীয় সম্পদ বা বায়তুল মালের ব্যাপারে তাঁর সতর্কতা ছিল অবিশ্বাস্য। খলিফা হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি ব্যক্তিগত কোনো বেতন নিতেন না; শুধু রাষ্ট্রীয় কাজ পরিচালনার স্বার্থে বায়তুল মাল থেকে তাঁকে একজন খাদেম, বাগানে সেচ দেওয়ার একটি উট এবং যৎসামান্য খাবারের ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছিল।

মৃত্যুর সময় তিনি নির্দেশ দিলেন, এই উট, খাদেম এবং কোষাগারের অবশিষ্ট কয়েক দিরহাম (রৌপ্যমুদ্রা) যেন তাঁর মৃত্যুর পর নতুন খলিফা ওমরের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আয়েশা (রা.) পিতার অন্তিম নির্দেশের কথা স্মরণ করে বলেন, “আবু বকর যখন মৃত্যুর মুখোমুখি হন, তখন বললেন, ‘আমি বায়তুল মালের এক পয়সাও নিজের জন্য অবশিষ্ট রাখিনি; শুধু দুধ পান করার এই উটটি এবং এই তরবারি শান দেওয়ার খাদেমটি ছাড়া, যে মুসলিমদের যুদ্ধাস্ত্র ঠিক করত এবং আমাদের সামান্য সাহায্য করত। আমি মারা গেলে এগুলো ওমরের হাতে তুলে দিয়ো।’

আয়েশা (রা.) যখন এগুলো ওমরের কাছে পৌঁছে দিলেন, তখন ওমর (রা.) অঝোর ধারায় কেঁদে ফেলে বললেন, ‘আল্লাহ আবু বকরের ওপর রহম করুন, তিনি তাঁর পরবর্তী উত্তরসূরিদের অত্যন্ত কঠিন এক পরীক্ষার মুখে ফেলে গেছেন’।” (মুহাম্মদ ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, ৩/১৯২, দারু সাদির, বৈরুত, ১৯৬৮)

ওমর (রা.) তাঁর জানাজার নামাজের ইমামতি করেন। রাতের নিস্তব্ধতায় মদিনার মানুষের চোখের জলে তিনি শায়িত হন নবীজির কবরের পাশে। তাঁর মাথা রাখা হয় নবীজির কাঁধ বরাবর।

চিরন্তন বিশ্রাম

আবু বকর (রা.)-এর অসুস্থতার কারণ নিয়ে ইতিহাসে দুটি বর্ণনা পাওয়া যায়। প্রথমটি হলো, হাড়কাঁপানো শীতের এক রাতে তিনি গোসল করার পর তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হন। এই জ্বর টানা পনেরো দিন স্থায়ী হয় এবং তিনি বিছানা থেকে ওঠার শক্তি হারিয়ে ফেলেন; এ সময় তিনি ওমরকে নামাজের ইমামতি করার দায়িত্ব দেন।

দ্বিতীয় বর্ণনাটি হলো বিষক্রিয়ার প্রভাব। তাবেয়ি ইমাম ইবনে শিহাব আজ-জুহরি থেকে বর্ণিত আছে যে এক বছর পূর্বে আবু বকর (রা.) এবং চিকিৎসক আল-হারিস ইবনে কালাদাহকে উপহার হিসেবে পাঠানো একটি বিষাক্ত খাবার খেয়েছিলেন।

হারিস তখন বুঝতে পেরে সতর্ক করেছিলেন যে এটি একটি ধীরগতির বিষ, যার প্রভাব এক বছর পর প্রকাশিত হবে। বাস্তবেও সেই ঘটনার প্রায় এক বছর পর উভয়ে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। (শামসুদ্দিন আজ-জাহাবি, সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা, ২/৩০০, মুআসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত, ১৯৮২)

অবশেষে হিজরি ১৩ সনের ২২ জমাদিউস সানি, সোমবারের সন্ধ্যায় নবীজির মতোই ঠিক ৬৩ বছর বয়সে তিনি আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যান। তাঁর জীবনের শেষ উচ্চারিত বাণী ছিল কোরআনের আয়াত, “আমাকে মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দাও এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত করো।” (সুরা ইউসুফ, আয়াত: ১০১)

মৃত্যুর পূর্বে তিনি অসিয়ত করেছিলেন, যেন তাঁর স্ত্রী আসমা বিনতে উমাইস তাঁকে গোসল করান। ওমর (রা.) তাঁর জানাজার নামাজের ইমামতি করেন। রাতের নিস্তব্ধতায় মদিনার মানুষের চোখের জলে তিনি শায়িত হন নবীজির কবরের পাশে। তাঁর মাথা রাখা হয় নবীজির কাঁধ বরাবর।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
কোন অপরাধে কী সাজা পেলেন ওবায়দুল কাদের
কোন অপরাধে কী সাজা পেলেন ওবায়দুল কাদের

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। আসামিদের সবাই পলাতক। আরও পড়ুন মানবতাবিরোধী অপরাধ / ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাত আসামির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিচার শেষে এ রায় ঘোষণা করেন। ওবায়দুল কাদেরকে যে অপরাধে যে সাজা আসামি ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগের মধ্যে— ১ নম্বর অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।২ নম্বর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।৩ নম্বর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।৪ নম্বর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, চারটি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে মৃত্যুদণ্ড এবং একটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে অভিযোগ কী অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন চলাকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব হামলায় ছাত্র-জনতাকে হত্যা ও নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এসব অপরাধ ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা, সম্পৃক্ততা ও জ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ট্রাইব্যুনাল এসব অভিযোগের বিচার শেষে ওবায়দুল কাদেরকে চারটি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে মৃত্যুদণ্ড এবং একটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। এফএইচ/এমএমকে

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
শাড়িতে আলিয়া, রাজকীয় নীল সাজে রণবীর

শাড়িতে আলিয়া, রাজকীয় নীল সাজে রণবীর

নিরাপদ খাদ্য গড়ে তুলতে পারে সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম

নিরাপদ খাদ্য গড়ে তুলতে পারে সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম

যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ও অত্যাধুনিক অস্ত্রের মজুতে টান, তীব্র সংকটে মার্কিন বাহিনী

যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ও অত্যাধুনিক অস্ত্রের মজুতে টান, তীব্র সংকটে মার্কিন বাহিনী

ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা শিশু, আসামির যাবজ্জীবন
ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা শিশু, আসামির যাবজ্জীবন

টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় রশিদ মিয়া (৫৫) নামের এক আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক। একই সঙ্গে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. আব্দুল মজিদ এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রশিদ মিয়া মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের আগছাওয়ালী গ্রামের গোলামের ছেলে। আরও পড়ুন নিজের ১২ বছরের মেয়েকে ছয়মাস ধরে ধর্ষণ, বাবা আটক টাঙ্গাইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পিপি খন্দকার রোকুনুজ্জামান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালে ১৪ এপ্রিল ১৪ বছরের এক শিশু তার দাদিকে ডাকার জন্য পুকুর পাড়ে যায়। এসময় রশিদ মিয়া কৌশলে তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান এবং ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের ঘটনায় শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর ভিকটিম তার বাবার বাড়িতে কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে রশিদ মিয়া ভিকটিমের কন্যাসন্তানের জৈবিক বাবা বলে তথ্য আসে। আব্দুল্লাহ আল নোমান/এসআর/জেআইএম

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
রাতের আড্ডায় ২৫ কিশোর আটক, ছাড়া পেলেন অভিভাবকদের মুচলেকায়

রাতের আড্ডায় ২৫ কিশোর আটক, ছাড়া পেলেন অভিভাবকদের মুচলেকায়

ইসিকে কমেডি সেন্টার নয়, আস্থার কেন্দ্র হিসেবেই জনগণ দেখতে চায়

ইসিকে কমেডি সেন্টার নয়, আস্থার কেন্দ্র হিসেবেই জনগণ দেখতে চায়

‘শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়েরই ভূমিকা রাখতে হবে’

‘শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়েরই ভূমিকা রাখতে হবে’

ম্যানচেস্টার ডার্বিতে সেই ভুলের শাস্তি পেলেন ভিএআর রেফারি
ম্যানচেস্টার ডার্বিতে সেই ভুলের শাস্তি পেলেন ভিএআর রেফারি

ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে গত রোববার ‘ম্যানচেস্টার ডার্বি’তে ম্যানচেস্টার সিটির জয়সূচক গোলটি ছিল ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তির ‘ভুল সিদ্ধান্তে’র ফসল। সিটি স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ডের গোলটি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত যেভাবে নেওয়া হয়, সেটা রেফারিদের সংস্থা প্রফেশনাল গেম অফিশিয়ালস লিমিটেডের (প্রো রেফ) বিচারে ভুল। সে জন্য এ সপ্তাহে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে সেই ম্যাচের ভিএআর রেফারিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।হল্যান্ডের গোলের বিল্ডআপের সময় সিটি মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজের অফসাইড পজিশন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। আর্জেন্টাইন তারকার ‘অবস্থানের কারণে খেলায় কী প্রভাব পড়তে পারে’, ভিএআর তা ‘অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে’ বলে মনে প্রিমিয়ার লিগে রেফারিদের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ‘প্রো রেফ’। তাদের মতে, মাঠের রেফারিকে সিদ্ধান্ত পুনর্নিরীক্ষার (অনফিল্ড রিভিউ) পরামর্শ দেওয়া উচিত ছিল ভিএআর রেফারির।হালান্ডের গোলে ম্যাচটি জেতে সিটি। এই গোল নিয়েই বিতর্ক শুরু হয়কিন্তু ভিডিওতে মুহূর্তটি পর্যালোচনার পর সহকারী রেফারি ব্লেক অ্যানট্রোবাসকে সঙ্গে নিয়ে সিটির গোল বহাল রাখেন ভিএআর রেফারি ম্যাট ডোনহিউ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস জানিয়েছে, এ ভুলের কারণে আন্তর্জাতিক বিরতির আগপর্যন্ত ভিএআর রেফারি ম্যাট ডোনহিউকে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রো রেফের প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা হাওয়ার্ড ওয়েব। সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বাজে সপ্তাহ পার করার পর পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিদের (ভিএআর) ভুলের কারণে আরও বেশি চাপের মুখে পড়েছে ‘প্রো রেফ’।হলান্ডের গোল নিয়ে ভুল স্বীকার করল রেফারিদের সংস্থা২০১৪ সালে ইএফএলে সহকারী রেফারিদের তালিকায় উন্নীত হওয়ার পর ২০২৪ সালের মে মাসে প্রিমিয়ার লিগে রেফারি হিসেবে অভিষেক হয় ডোনহিউর। দুই বছর ধরে তাঁকে নিয়মিতভাবেই ভিএআর রেফারির দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছিল। অ্যানট্রোবাসকেও এ সপ্তাহে কোনো ম্যাচে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। প্রেস অ্যাসোসিয়েশন জানতে পেরেছে, এ সিদ্ধান্তের ফলে আগামী ১০ অক্টোবরের আগে প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না ডোনহিউ ও অ্যানট্রোবাস।Wayne Rooney doesn't hold back in his analysis of Man City's goal at Old Trafford. pic.twitter.com/xFz5UZ5DmE— Match of the Day (@BBCMOTD) September 13, 2026 ২০২৩ সালে টটেনহাম হটস্পারের বিপক্ষে লিভারপুলের একটি গোল ভুলভাবে বাতিল করেন রেফারি ড্যারেন ইংল্যান্ড। তারপর ম্যানচেস্টার ডার্বির এ ভুলকে ‘প্রো রেফ’ সংস্থার জন্য সবচেয়ে বাজে সপ্তাহ বলে মনে করছেন রেফারি–মহলে ভেতরকার কিছু সূত্র। দ্য টাইমস আরও জানায়, ডোনহিউকে হয়তো কিছুদিন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ম্যাচে দায়িত্ব দেওয়া হবে না। এর আগে ড্যারেন ইংল্যান্ডের ভুলের পর তাঁর ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।প্রেস অ্যাসোসিয়েশন জানতে পেরেছে, এ সিদ্ধান্তের ফলে চলতি সপ্তাহের খেলার পর আন্তর্জাতিক বিরতি থাকায় এই দুজন আগামী ১০ অক্টোবরের আগে প্রিমিয়ার লিগের কোনো ম্যাচে রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ট্রেনের বাড়ি কই?

ট্রেনের বাড়ি কই?

মুগ ডাল হতে পারে ভবিষ্যতের মানুষের প্রধান খাদ্য, কেন...

মুগ ডাল হতে পারে ভবিষ্যতের মানুষের প্রধান খাদ্য, কেন...

ইমরান খানের সঙ্গে বিচ্ছেদের ২২ বছর পর জেমিমার দ্বিতীয় বিয়ে

ইমরান খানের সঙ্গে বিচ্ছেদের ২২ বছর পর জেমিমার দ্বিতীয় বিয়ে

0 Comments