মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
অফিসের ডেস্ক। প্রতিদিন যেখানে বসে কম করে হলেও আট ঘণ্টা কাজ করি। দিনের একটা বড় সময় কেটে যায় এই ছোট্ট জায়গাটিতে। কাজের ব্যস্ততায় অনেক সময় ডেস্কটি কেমন আছে, গোছানো নাকি অগোছালো সেদিকে আলাদা করে নজর দেওয়ার সুযোগ হয় না। অথচ একটু সচেতন হলেই এই ডেস্কটিই হয়ে উঠতে পারে সুন্দর, পরিপাটি ও স্বস্তিদায়ক।
একটি পরিচ্ছন্ন ডেস্ক শুধু দেখতে ভালো লাগে না, কাজের পরিবেশকেও আনন্দদায়ক করে তোলে। নিজের কাজের জায়গাটিকে একটু সুন্দর করে সাজিয়ে রাখলে সেখানে বসে কাজ করতেও ভালো লাগে। একই সঙ্গে সহকর্মী কিংবা অফিসে আসা অতিথির কাছেও আপনার রুচি ও ব্যক্তিত্বের একটি ধারণা তৈরি হয়।
তাই খুব বেশি খরচ না করেও কীভাবে অফিসের ডেস্কটিকে সুন্দর ও গোছানো রাখা যায়, সেটি নিয়ে ভাবা যেতে পারে।

১. ডেস্ককে যতটা সম্ভব পেপারলেস রাখার চেষ্টা করুন। প্রয়োজন ছাড়া ডেস্কে কাগজের স্তূপ জমিয়ে রাখার কোনো অর্থ নেই। বিশেষ করে যেসব কাজ অনলাইনে করা সম্ভব, সেগুলো ই-অ্যাপ্রুভালের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যেতে পারে। আমাদের অফিসে এ ধরনের ব্যবস্থা আরও সহজ করতে ক্লডের সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে। তাকে বললে প্রয়োজন অনুযায়ী একটি পোর্টাল তৈরি করে দেওয়া সম্ভব। এতে কাগজের ব্যবহার কমার পাশাপাশি ডেস্কটিও থাকবে পরিচ্ছন্ন।
২. পানির জন্য একটি কাচের বোতল রাখতে পারেন। প্লাস্টিকের বোতলের পরিবর্তে সুন্দর একটি কাচের বোতল ডেস্কের সৌন্দর্যও বাড়ায়। একই সঙ্গে কফি বা চায়ের মগটিও হতে পারে একটু ফ্যাশনেবল। খুব দামি কিছু হওয়ার প্রয়োজন নেই; নিজের পছন্দের একটি সুন্দর মগই যথেষ্ট।
৩. ডেস্কে একটি ছোট গাছ রাখতে পারেন। যেমন মানিপ্ল্যান্ট। ছোট একটি টবে রাখা এই গাছ ডেস্কের পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে তুলতে পারে। এর জন্য বড় জায়গারও প্রয়োজন নেই। এমন গাছ বেছে নেওয়া ভালো, যার যত্ন নেওয়া সহজ এবং অফিসের পরিবেশে টিকে থাকতে পারে।
৪. ডেস্কের দেয়ালকে অপ্রয়োজনীয় স্টিকি নোটে ভরিয়ে না ফেলাই ভালো। অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য মনে রাখার জন্য স্টিকি নোটের প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু একান্ত প্রয়োজন না হলে দেয়ালে একের পর এক নোট ঝুলিয়ে রাখলে পুরো জায়গাটিই অগোছালো দেখায়। প্রয়োজনীয় নোটগুলো একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখার অভ্যাস করা যেতে পারে।
৫. কলম রাখার জন্য একটি সুন্দর কলমদানি ব্যবহার করুন। যাদের প্রতিদিন অনেক সই-স্বাক্ষর করতে হয়, তাদের ডেস্কে কয়েকটি কলম থাকা স্বাভাবিক। বিভিন্ন রঙের কলমও রাখা যেতে পারে। তবে আমার মতো যারা কাজের তালিকা, ছোটখাটো হিসাব কিংবা টুকিটাকি বিষয় কাগজে লিখে রাখেন, তাদের ডেস্কে কলম ও কাগজের ব্যবহার একটু বেশি হওয়াই স্বাভাবিক!
তবে সেখানেও একটি নিয়ম মানা যায় কাজ শেষ হয়ে গেলে অপ্রয়োজনীয় কাগজগুলো সরিয়ে ফেলুন। ডেস্কে পুরোনো নোট, ব্যবহৃত কাগজ কিংবা প্রয়োজন শেষ হয়ে যাওয়া ফাইল জমিয়ে রাখার কোনো দরকার নেই।
৬. একটি সুন্দর ডেস্ক ম্যাট বা ডেস্ক প্যাড রাখতে পারেন। বিশেষ করে সেটি যদি একটু রঙিন ও রুচিশীল হয়, তাহলে পুরো ডেস্কের চেহারাই বদলে যেতে পারে। ডেস্ক ম্যাট কাজের জায়গাকে যেমন গোছানো রাখে, তেমনি ডেস্কের সৌন্দর্যও বাড়ায়।
তবে ডেস্ক সাজানোর সময় একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি সুন্দর মানেই অনেক কিছু দিয়ে ডেস্ক ভরে ফেলা নয়। বরং কম জিনিস, কিন্তু প্রয়োজনীয় ও রুচিশীল জিনিস এই নীতিটিই হতে পারে ভালো ডেস্ক সাজানোর মূলমন্ত্র।
একটি ডেস্কে অনেক ধরনের জিনিস থাকতে পারে। ল্যাপটপ বা কম্পিউটার, কিবোর্ড, মাউস, নোটবুক, কলম, পানির বোতল, মগ কিংবা ছোট একটি গাছ। কিন্তু প্রতিটি জিনিসের জন্য যদি নির্দিষ্ট জায়গা থাকে, তাহলে ছোট ডেস্কও অনেক বেশি সুন্দর ও পরিপাটি দেখায়।
আরেকটি বিষয় হলো, দিনের শেষে ডেস্কটি একবার গুছিয়ে নেওয়া। এতে পরদিন সকালে কাজে বসার সময় অগোছালো পরিবেশ দেখতে হয় না। মাত্র কয়েক মিনিট সময় নিয়ে কাগজপত্র সরিয়ে রাখা, কলম নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা এবং প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো গুছিয়ে রাখলেই পরদিনের কাজের শুরুটা হতে পারে অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক।
মনে রাখবেন, আপনার ডেস্ক আপনার ব্যক্তিত্বেরও একটি ছোট্ট প্রতিচ্ছবি। আপনার ডেস্ক দেখেই আপনার সম্পর্কে সবকিছু জানা সম্ভব নয়, কিন্তু আপনার রুচি, পরিচ্ছন্নতা ও গোছানো স্বভাব সম্পর্কে একটি ধারণা পেতে পারেন অনেকে।

সুন্দর ও পরিপাটি ডেস্ক শুধু অন্যের কাছে আপনার সুরুচির পরিচয় দেয় না, নিজের কাছেও নিজের কাজের জায়গাটিকে আরও আপন করে তোলে। দিনের বড় একটি সময় যে জায়গায় কাটছে, সেই জায়গাটিকে একটু সুন্দর রাখার দায়িত্ব তাই আমাদের নিজেদেরই।
খুব বেশি অর্থ খরচ করারও প্রয়োজন নেই। একটু পরিচ্ছন্নতা, কিছুটা পরিকল্পনা এবং নিজের রুচির সামান্য ছোঁয়াই যথেষ্ট। আপনার ডেস্ক সুন্দর হোক, গোছানো হোক। আপনার কর্মদিবসও হোক আরও আনন্দময়।
কেএসকে
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
টাঙ্গাইলের সখীপুরে পারিবারিক কলহের জেরে দুই সন্তানকে ছুরি দিয়ে আঘাতের অভিযোগ উঠেছে এক মায়ের বিরুদ্ধে। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে...
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর হতাহত ব্যক্তিদের নিয়ে প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের সমালোচনা করেছে নাগরিক সংগঠন ‘ময়মনসিংহ মঞ্চ’। এ অভিযোগ তুলে বিভাগীয় কমিশনার, হাসপাতালের পরিচালক, উপপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অপসারণের দাবিও জানানো হয়েছে।একই সঙ্গে প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি বাতিল করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন এবং নিহত ব্যক্তিদের প্রত্যেকের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড: বৈঠক করেছেন প্রতিমন্ত্রী, তদন্তের নতুন কমিটিআজ বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও অগ্নিকাণ্ডে হতাহত নিয়ে কর্তৃপক্ষের ‘মিথ্যাচারের’ প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি কয়েকজন সাধারণ মানুষও অংশ নেন।সমাবেশে ময়মনসিংহ মঞ্চের মুখ্য সমন্বয়ক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পর বিভাগীয় কমিশনারসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা কেউ নিহত বা আহত হননি বলে বক্তব্য দিয়েছিলেন। পরে সাংবাদিকদের প্রতিবেদনে হতাহত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রশাসনের ওই বক্তব্যে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।ইমতিয়াজ আহমেদ, ময়মনসিংহ মঞ্চের মুখ্য সমন্বয়ক সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ার নৈতিক দায় নিয়ে বিভাগীয় কমিশনার, হাসপাতালের পরিচালক, উপপরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ময়মনসিংহ থেকে অপসারণ করতে হবে।ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ার নৈতিক দায় নিয়ে বিভাগীয় কমিশনার, হাসপাতালের পরিচালক, উপপরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ময়মনসিংহ থেকে অপসারণ করতে হবে।’নিহত ব্যক্তিদের প্রত্যেক পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা করে অনুদান এবং আহত ব্যক্তিদের বিনা মূল্যে বিশেষায়িত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবিও জানানো হয়। একই সঙ্গে হাসপাতালের সব ধরনের অব্যবস্থাপনা দ্রুত দূর করার দাবি জানান বক্তারা।হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার ধারাবাহিকতায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন ময়মনসিংহ মঞ্চের সংগঠক আবু বকর সিদ্দিক। তিনি বলেন, এর আগে হাসপাতালটিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও এবার পরিস্থিতি গুরুতর হয়েছে। দুর্ঘটনার পর হতাহতের তথ্য নিয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্যেরও জবাবদিহি করতে হবে। দাবি মানা না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে হাসপাতাল প্রশাসন গত মঙ্গলবার একটি কমিটি গঠন করেছিল। পরে সেটি বাতিল করে গতকাল ছয় সদস্যের নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও মঙ্গলবার পাঁচ সদস্যের পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।গত সোমবার বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আটতলা ভবনের ১১ নম্বর লিফটের বাইরের আবরণে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুন লাগার পর আতঙ্কে বিভিন্ন তলা থেকে রোগী ও স্বজনেরা হুড়োহুড়ি করে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে গিয়ে আহত হন।এ ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর তথ্য সামনে এলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন তা নাকচ করে আসছে। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি ও ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ গতকাল বুধবার হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে বলেন, চারজনের মধ্যে দুজন স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন এবং দুজন আগুনের আতঙ্কে মারা গেছেন।অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে হাসপাতাল প্রশাসন গত মঙ্গলবার একটি কমিটি গঠন করেছিল। পরে সেটি বাতিল করে গতকাল ছয় সদস্যের নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও মঙ্গলবার পাঁচ সদস্যের পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড: ‘মাইনষে পাড়াইয়্যা আমার পুতটারে মাইরা হালাইছে’ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডের সময় ৫টি সিঁড়ির ৪টিতেই তালা ছিলময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুনের পর চার মৃত্যু, পদদলিত হওয়ার তথ্য নাকচ প্রশাসনের
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আজ বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে আটটার দিকে এক ব্যক্তিকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মোটরসাইকেল ও টাকা ছিনতাই করা হয়েছে। সাদেক খান রোডে এ ঘটনা ঘটে। ছিনতাইয়ের শিকার ওই ব্যক্তির নাম মো. হৃদয় মিয়া (২৫)। তিনি মুদি ব্যবসায়ী।হৃদয়ের বন্ধু মোহাম্মদ বিপ্লব প্রথম আলোকে বলেন, হৃদয় মোটরসাইকেল চালিয়ে মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটে মালামাল আনতে যাচ্ছিলেন। এ সময় সাদেক খান রোড এলাকায় পৌঁছালে অন্তত পাঁচজন ছিনতাইকারী তাঁর মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এরপর হৃদয়কে চাপাতি দিয়ে পিঠ ও কোমরে কুপিয়ে তাঁর কাছ থেকে মোটরসাইকেল ও ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে গুরুতর অবস্থায় হৃদয়কে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আহত ব্যবসায়ী ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি রাজধানীর ধানমন্ডির শংকর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।