বাড়ি থেকে অভিমান করে বের হওয়ার পর সাত মাস নিখোঁজ ছিল ১২ বছরের কিশোর মোহাম্মদ রায়হান। অনেক খোঁজাখুঁজির পর স্বজনরা যখন তাকে ফিরে পেলেন, তখন তার ডান পা নেই। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত। পেটে-মাথায় কাটা দাগ।
গত কয়েকদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় রায়হান নামে এক কিশোরের সাত মাস পর পরিবারের কাছে ফেরার ঘটনা। চারিদিকে শিশু নিখোঁজ-অপহরণের ঘটনার মধ্যে এ ঘটনাটি বেশ সাড়া ফেলে। কয়েকটি ভিডিওতে ভিন্ন তথ্যও পাওয়া যায়। রায়হান একেক সময় একেক কথা বলেছে।
পা হারিয়ে ঘরে ফেরা রায়হান/ছবি: জাগো নিউজ
আসলে কী ঘটেছিল রায়হানের সঙ্গে, তা জানতে সরেজমিনে নোয়াপাড়া গিয়ে জানা যায় প্রকৃত ঘটনা। রায়হানের পরিবারের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাকে ঢাকার কমলাপুরে আটকে রেখে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামায়। পানি বিক্রি করে আয় কম হওয়ায় একপর্যায়ে ভিক্ষা করানোর জন্য তার ডান পা কেটে ফেলা হয়।

দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি এলাকায় ঐতিহ্যবাহী সিরাত মাহফিলের পাশে এক পায়ে ভর দিয়ে ভিক্ষা করার সময় স্থানীয়রা রায়হানকে দেখতে পান। পরে খবর দেওয়া হয় তার পরিবারকে। খবর পেয়ে বাবা নাজিম উদ্দীন সেখানে গিয়ে ছেলেকে শনাক্ত করেন।
রায়হান চুনতি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাতগড় নোয়াপাড়া এলাকার দিনমজুর নাজিম উদ্দীনের ছেলে। সে স্থানীয় একটি তাহফিজুর কোরআন হিফজখানার ছাত্র ছিল।
পরিবারের সদস্যরা জাগো নিউজকে জানান, চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি চুল কাটার জন্য বাবা ১০০ টাকা দেন রায়হানকে। পরে অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় সে। একপর্যায়ে একটি নির্বাচনি প্রচারণার ট্রাকে করে কক্সবাজারে যায়। সেখানে প্রায় দুই মাস সৈকত এলাকায় থেকে পর্যটকদের কাছে টাকা চাইতো এবং তা দিয়ে খাবার কিনে খেতো। রাতে সৈকত এলাকাতেই ঘুমাতো।

তার পরিবারের সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল তখন রায়হান পাশেই ছিল। সে আলোচনায় যোগ দিয়ে এর পরের ঘটনা সে নিয়েই বর্ণনা করে। জানায়, পরে এক ব্যক্তি তাকে বেশি টাকা উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে বাসে করে ঢাকায় নিয়ে যায়। এরপর কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় পানি ও শরবত বিক্রি করানো হতো তাকে দিয়ে।
রায়হানের দাবি, কমলাপুর রেলস্টেশনের কাছাকাছি গাছপালা ঘেরা একটি টিনের ঘরে তাকে রাখা হতো। সেখানে তার মতো আরও বেশ কয়েকজন শিশু ছিল। তাদের মধ্যে কারও হাত, কারও পা কাটা ছিল।
তার মতে, সালমা নামে এক নারীসহ আরও কয়েকজন ওই শিশুদের দেখভাল করতেন। সকালে শিশুদের বিভিন্ন কাজে পাঠানো হতো। রায়হানসহ কয়েকজনকে রাখা হতো কমলাপুর এলাকায় পানি ও শরবত বিক্রির জন্য। তবে পানি বিক্রি করে আয় কম হওয়ায় একপর্যায়ে তাকে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামানোর সিদ্ধান্ত নেয় বলে অভিযোগ রায়হানের।
রায়হানের দাবি, একদিন রাতে তাকে পানি বা শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ জাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়। এরপর প্রচণ্ড ঘুমে অচেতন হয়ে পড়ে সে। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে তার ডান পা কাটা।
রায়হান জানায়, প্রচণ্ড ব্যথায় কাতরানোর পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে ট্রেন দুর্ঘটনায় পা কাটা গেছে এমন কথা বলতে শেখানো হয়েছিল।

চিকিৎসার পর তাকে একটি হুইলচেয়ার দেওয়া হয়। এরপর ওই হুইলচেয়ারে বসিয়ে কমলাপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভিক্ষা করানো হতো বলে অভিযোগ তার। ভিক্ষা করে পাওয়া টাকা চক্রের সদস্যরা নিয়ে যেত।
রায়হান জানায়, পা ভালো থাকা অবস্থায় পানি ও শরবত বিক্রি করে দিনে ৬শ থেকে এক হাজার টাকা আয় হতো। আর পা কাটার পরে হুইলচেয়ারে করে দিনে আয় হতো দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। যার পুরোটাই নিয়ে নিতো ওই চক্র।
রায়হান জানায়, গত শনিবার রাতে চক্রের এক সদস্য তাকে ৩৫০ টাকা দিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে বলে। পরে ঢাকায় একটি বাসে তুলে দেওয়া হয় তাকে। সেখান থেকে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি এলাকায় আসে সে।
স্থানীয়রা তাকে মাহফিল এলাকায় দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে বাবা গিয়ে ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
সুস্থ-সবল অবস্থায় বাড়ি থেকে বের হওয়া ছেলেকে এক পা হারানো অবস্থায় ফিরে পেয়ে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
রায়হানের বাবা নাজিম উদ্দীন জাগো নিউজকে বলেন, আমার সুস্থ-সবল ছেলেকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। তার ডান পা কেটে ফেলেছে। পেটের ডান পাশে ও পেছনেও ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে সত্য উদঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
বাবার সঙ্গে রায়হান/ছবি: জাগো নিউজ
পেটে কাটা দাগ দেখে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) লোহাগাড়া হাসপাতালে নেওয়া হয় রায়হানকে। কিডনি আছে কি না সেটা পরীক্ষা করা ছিল উদ্দেশ্য।
রায়হানের বাবা বলেন, ডাক্তার পরীক্ষা করে বললো কিডনি ঠিক আছে। কিডনির কোনো সমস্যা নেই।
রায়হানের বাবার আর্থিক অবস্থা মোটেই ভালো না। থাকে জরাজীর্ণ একটি টিনশেড বাড়িতে। রায়হানের মায়ের সঙ্গে তার বাবার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে বেশ আগে। তখন সে ছোট। তার নিজের আছে আরও দুই ভাই-বোন। মায়ের সঙ্গে থাকে একজন। তারা দুজন ছিল তার বাবার সঙ্গে। সৎ মায়ের ঘরে আছে আরও দুই ভাই-বোন। এর মধ্যে রায়হানের এই অবস্থা নিয়ে বিপাকে তার পরিবার।
রায়হানের সৎ মা ফয়জুন্নেসা বলেন, ‘চুল কাটতে গিয়ে সাত মাস আর বাড়ি ফিরলো না ছেলেটা। এখন ফিরে পেয়েছি, কিন্তু তার একটি পা নেই। পেটেও বড় কাটার দাগ। আমরা গরিব মানুষ, অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চলে। এখন ছেলেটার জীবন কে ফিরিয়ে দেবে।’
রায়হানের চাচা মো. নুরুচ্ছফা বলেন, নিখোঁজ হওয়ার পর আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি। একদিন তাকে ফিরে পাবো, সেটা আশা ছিল। কিন্তু এভাবে ফিরে পাবো, কখনো ভাবিনি। কারা তাকে নিয়ে গিয়েছিল, কীভাবে তার পা কেটে দেওয়া হলো সবকিছু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
পা হারিয়ে ৭ মাস পর ঘরে ফেরা রায়হান/ছবি: জাগো নিউজ
তিনি আরও বলেন, ‘এটা শুধু আমার ভাতিজার বিষয় নয়। এ ধরনের ঘটনা যেন আর কোনো শিশুর সঙ্গে না ঘটে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। আমরা পুরো চক্রের বিচার চাই। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এটার বিচার চাই।’
এসময় পরিবারের পক্ষ থেকে রায়হানের চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ পুনর্বাসনে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতাও কামনা করা হয়।
এ বিষয়ে চুনতি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. ইনতেজার জাগো নিউজকে বলেন, ‘সাত মাস নিখোঁজের পর রায়হানকে ফিরে পেয়ে তার শারীরিক অবস্থা দেখে আমরা অবাক হয়ে গেছি। একটি শিশু কীভাবে সাত মাস নিখোঁজ থাকার পর এক পা হারিয়ে বাড়ি ফিরল, বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঘটনাটি সঠিকভাবে তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।’

জাতীয় লিগ্যাল এইড অধিদপ্তরের প্যানেল আইনজীবী মো. নওশাদ আলী জাগো নিউজকে বলেন, ‘অভিযোগটি সত্য হলে মানবপাচার, অপহরণ, অঙ্গহানি ও শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধের বিষয় জড়িত থাকতে পারে। দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করা প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘শিশুটির শারীরিক অবস্থার বিষয়ে যথাযথ মেডিকেল ও ফরেনসিক পরীক্ষা করা জরুরি। পাশাপাশি শিশুটির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত করলে চক্রটির অন্য সদস্যদেরও শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।’
লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভুক্তভোগীর বাবা থানায় এসেছিলেন। যেহেতু ঘটনাটি লোহাগাড়ায় ঘটেছে কি না জানা যায়নি, তাই তাকে ঘটনাস্থল মতিঝিল থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘শিশুটির অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করলে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
রায়হানের পরিবারের দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে তাকে কোথায় আটকে রাখা হয়েছিল, কারা তার ওপর নির্যাতন চালিয়েছে এবং কীভাবে তাকে ভিক্ষাবৃত্তিতে ব্যবহার করা হয়েছে- এসবের রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক। আমাদের বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেহেতু আমাদের এলাকার, তিনি একটু সুদৃষ্টি দিলে এ ঘটনা উদঘাটন করা সম্ভব বলে দাবি পরিবারের।
এমআরএএইচ/এএসএ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সাংবাদিকরা আছেন বলেই গণতন্ত্র আছে, এমন মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ হচ্ছে সাংবাদিকতা। বিশেষ করে ক্রাইম বিটের সাংবাদিকদের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয় এবং অনেক সময় তাদের চড়া মূল্যও দিতে হয়। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন খাতে কাজ করা মানুষের জন্য এখনো পর্যাপ্ত সুরক্ষা দেওয়ার মতো কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। দায়িত্ব নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, আমি মাত্র ২০ দিন হলো দায়িত্বে এসেছি। কতখানি করতে পারবো, না পারবো যেটা অবশ্যই একটা সিস্টেমের মধ্যে থেকে এখন আমাদের কাজ করতে হয়। আরও পড়ুন ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা ক্রাইম রিপোর্টারদের পাশে থাকার আশ্বাস তিনি বলেন, আই অ্যাম ভেরি ইজিলি অ্যাক্সেসেবল। আপনারা আমাকে সবসময়ই পাবেন এবং আপনারা আমার কাছে আসতে পারবেন, আমাকে বলতে পারবেন। নিজের রাজনৈতিক পটভূমির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, সাংবাদিকদের সমস্যাগুলো তিনি উপলব্ধি করেন। মন্ত্রণালয়ের অধীন ১৫টি বিভাগকে নিজের পরিবারের মতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রত্যেকটির প্রতি তার দায়িত্ব রয়েছে। গত ১৭ বছরে একটি ব্যবস্থা করাপ্টেড হয়ে পড়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সেখান থেকে দায়িত্ব নেওয়ার পর সেটিকে ঠিক করা বড় চ্যালেঞ্জ। একটা খালি জায়গাতে একটা দালান বানানো অনেক সহজ, কিন্তু একটা পুরোনো, ভাঙাচোরা দালানকে আবার সেখান থেকে বানানো অনেক বড় কঠিন একটা কাজ। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে যে কোনো সময় তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে। তিনি বলেন, যখন যেটা আপনাদের দরকার, যখন যেটা আপনারা প্রয়োজন মনে করবেন, আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। ইনশা আল্লাহ আমরা সবাই মিলে সেই সমস্যার সমাধান করব এবং আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। টিটি/এমআইএইচএস
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ষষ্ঠ সমাবর্তনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রাথমিক সম্মতি পাওয়া গেছে। ২০২৭ সালের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হতে পারে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে সমাবর্তন আয়োজন নিয়ে আলোচনা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির অনুমতিক্রমে আগামী বছরের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে সমাবর্তন আয়োজনের প্রাথমিক সম্মতি পাওয়া গেলেও অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত তারিখ রাষ্ট্রপতির সময়সূচি অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। সমাবর্তনের বিস্তারিত কর্মসূচি পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। সৌজন্য সাক্ষাতে রুয়েটের শিক্ষা কার্যক্রম, গবেষণা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সামগ্রিক একাডেমিক অগ্রগতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন আয়োজন নিয়েও আলোচনা হয়। সাক্ষাতে রুয়েটের পক্ষ থেকে উপাচার্য অধ্যাপক এস এম আব্দুর রাজ্জাক, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসাইন, সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার, অধ্যাপক এইচ এম রাসেল, বিভিন্ন অনুষদের ডিন এবং সাবেক রুয়েট শিক্ষার্থী ও নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রপতি আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ, উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ গড়ে তুলতে দেশের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দেশের প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে এসব প্রতিষ্ঠানের অবদানের কথা উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি রুয়েটের শিক্ষা ও গবেষণার মান আরও উন্নত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। দেশের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। মনির হোসেন মাহিন/এসআর
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনে সাড়া দিয়ে অধ্যাপক আবুল বারকাতের নামে থাকা দুটি ফ্ল্যাটসহ ৪৯ লাখ ৬১ হাজার ৩৮৪ টাকার স্থাবর সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ২৯ লাখ টাকা মূল্যের তাঁর একটি প্রাইভেট কার এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত।ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির আজ বুধবার এ আদেশ দেন। দুদকের আইনজীবী দেলোয়ার জাহান প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, দুদকের পক্ষ থেকে তাঁর সম্পদ জব্দের আবেদন করা হলে আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ অধ্যাপক আবুল বারকাতের সম্পদ জব্দের আবেদন করেন। আবেদনে তিনি লেখেন, ‘ড. আবুল বারকাতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কোম্পানিকে অবৈধভাবে ঋণ প্রদানপূর্বক জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান। অনুসন্ধানকালে ড. আবুল বারকাতের নামে ৪৯ লাখ ৬১ হাজার ৩৮৪ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৫০ লাখ ৩১ হাজার টাকা ও ১০ হাজার ২৫০ মার্কিন ডলারের অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। আবুল বারকাত তাঁর নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ স্থানান্তর করার চেষ্টা করছেন। অভিযোগ নিষ্পত্তির পূর্বে অর্জিত এসব অবৈধ সম্পত্তি হস্তান্তর, স্থানান্তর, রূপান্তর/বিক্রি হয়ে গেলে রাষ্ট্রের ক্ষতির কারণ হবে। তার এসব সম্পত্তি অবিলম্বে জব্দ ও অবরুদ্ধ করা আবশ্যক।’ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবুল বারকাত একটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন।বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি আবুল বারকাত বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকাকালে এননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি অধ্যাপক আবুল বারকাতসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে দুদক।গত বছরের ১০ জুলাই ধানমন্ডি এলাকা থেকে অধ্যাপক আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে দুদকের মামলায় জামিন পেলে তাঁকে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ব্যবসায়ী ওয়াদুদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে এই মামলায় জামিন পেয়ে জুনের শেষ দিকে তিনি কারামুক্ত হন।