জাতীয়

নির্বাচনই গণতন্ত্রের শেষ কথা নয়

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
নির্বাচনই গণতন্ত্রের শেষ কথা নয়
নির্বাচনই গণতন্ত্রের শেষ কথা নয়

গণতন্ত্র শুধু নির্বাচন নয়—গণতন্ত্র হলো প্রতিনিয়ত মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক জীবনের সব ক্ষেত্রে মানুষের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চর্চা। সংলাপ, সহযোগিতা এবং ভিন্নমত—এমনকি নাগরিক সমাজের মতামত বোঝার চেষ্টা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে।

এ কথাগুলো জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের। তিনি এবারের আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের বাণীতে এসব বলেছেন।

পৃথিবীর অনেক দেশে গণতন্ত্রের ন্যূনতম চাওয়া নির্বাচনও ঠিকঠাক পাচ্ছে না মানুষ। বাকি চাওয়া তো দূরের কথা। বাংলাদেশে ২০১৪ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত তিনটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হয়েছে, যা মানুষকে বিক্ষুব্ধ করে তোলে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে একটা পরিণতি পেয়েছে। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছর শাসনের পর একটি ভালো নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকারের দায়িত্ব নিয়েছে।

সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। বাংলাদেশের মানুষের নির্বাচনকেন্দ্রিক চাওয়া কিছুটা হলেও পূরণ হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতসহ অন্য বিরোধী দলগুলো মিলে দেশের মানুষের বাকি চাওয়াগুলোর কতটা পূরণ করতে পারে—এটাই এখন দেখার বিষয়। অবশ্য ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা প্রবল হয়। এর ফলে সব দল মিলে জুলাই সনদ সই করে। তবে জুলাই সনদ ধরে রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে এখন ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে মতের বিরাট ফারাক রয়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস

এ ছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কী হবে—এই প্রশ্নটিও অমীমাংসিত। আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাসহ অধিকাংশ নেতা পলাতক কিংবা কারাগারে। কিন্তু দেশে দলটির সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে। তাদের ভুল স্বীকার এবং বিরোধ নিষ্পত্তির (রিকনসিলিয়েশন) আলোচনা আছে। তবে এসবের সমাধান এখনো অজানাই রয়ে গেছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল ১৯৪৭ সালের ১১ নভেম্বর ব্রিটিশ হাউস অব কমন্সে বলেছিলেন, ‘গণতন্ত্র হলো সবচেয়ে খারাপ সরকারব্যবস্থা। তবে অন্য সব ব্যবস্থার চেয়ে ভালো।’ বর্তমান সময়ে গণতন্ত্র অন্য সব ব্যবস্থার চেয়ে কতটা ভালো—বিশ্বব্যাপী এই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিদিনই খারাপ থেকে আরও খারাপে দিকে এগোচ্ছে।

প্রতিবছর ১৫ সেপ্টেম্বর পালিত হয় আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস। গণতন্ত্রের চর্চা, মানবাধিকার, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও জবাবদিহির গুরুত্ব সামনে আনার জন্য জাতিসংঘ ২০০৭ সালে দিনটি ঘোষণা করে। কিন্তু গণতন্ত্র দিবসের আলোচনায় এখন শুধু নির্বাচন হচ্ছে কি না—এই প্রশ্ন যথেষ্ট নয়। নির্বাচন কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, বিরোধী দলের সুযোগ কতটা, নাগরিক স্বাধীনতা কতটা সুরক্ষিত, সরকার কতটা জবাবদিহির মধ্যে এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা স্বাধীন—এসব প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বের গণতন্ত্রের সূচকগুলো বাংলাদেশের জন্য একটি আয়না হিসেবে কাজ করতে পারে। কোনো সূচকের র‍্যাঙ্কিং হয়তো আগামী বছর বদলে যাবে। কিন্তু একটি দেশের গণতন্ত্রের শক্তি নির্ধারিত হয় তার প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা স্বাধীন, নাগরিকেরা কতটা নিরাপদে কথা বলতে পারেন এবং ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতার সীমা কতটা কার্যকরভাবে নির্ধারিত—তার ওপর।

গণতন্ত্র কোন পথে

গণতন্ত্র পরিমাপের ক্ষেত্রে সুইডেনের গোথেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যারাইটিস অব ডেমোক্রেসি (ভি-ডেম) ইনস্টিটিউট গত মার্চে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালে বিশ্বের ৮৭টি দেশ গণতান্ত্রিক ও ৯২টি দেশ স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের আওতায় ছিল। প্রায় ৪৬ শতাংশ মানুষ এমন দেশে বাস করছে, যেগুলোকে ‘ইলেকটোরাল অটোক্র্যাসি’ বা নির্বাচনী স্বৈরতন্ত্রের শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। আরও উদ্বেগজনক হলো, ২০২৫ সালে বন্ধ স্বৈরতান্ত্রিক (প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হয় না) রাষ্ট্রের সংখ্যা বেড়ে ৩৫ হয়েছে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশকে নির্বাচনী স্বৈরতন্ত্র হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। তবে ২০২৪ সালের পর গণতান্ত্রিক সূচকে উন্নতির প্রবণতা দেখা গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অবশ্য, ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুসারে, টানা আট বছর অবনতির পর ২০২৫ সালে বিশ্বে গণতন্ত্রের অবনমন কিছুটা থেমেছে। ১৬৭টি দেশ ও অঞ্চলের ওপর তৈরি এই সূচকে নির্বাচন ও বহুত্ববাদ, সরকারের কার্যকারিতা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নাগরিক স্বাধীনতা—এই পাঁচটি বিষয় বিবেচনা করা হয়। গত এপ্রিলে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, প্রায় ৭৫ শতাংশ দেশ ২০২৪ সালের তুলনায় তাদের স্কোর বাড়িয়েছে কিংবা একই অবস্থানে থেকেছে। অর্থাৎ, গত কয়েক বছরের ধারাবাহিক অবনতির পর বিশ্ব গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে অন্তত একটি সাময়িক স্থিতিশীলতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে এটিকে গণতন্ত্রের সংকট কেটে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখছে না ইআইইউ। বরং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়লেও অনেক দেশে সরকারের জবাবদিহি ও নাগরিক স্বাধীনতা দুর্বল হয়েছে। তারা পর্যবেক্ষণে বলেছে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিশেষভাবে উদ্বেগের জায়গা। এ অঞ্চলে তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও আন্দোলন বেড়েছে, কিন্তু অনেক দেশে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সেই চাপকে কার্যকর সংস্কারে রূপ দিতে পারছে না। ফলে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ বাড়লেও মানুষের হতাশা কমছে না।

চব্বিশের অভ্যুত্থান বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক পথে ফেরানোর সুযোগ করে দিয়েছে

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সংসদীয় গণতন্ত্রের পথেই যাত্রা শুরু করে। ১৯৭২ সালের সংবিধানে গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রের মূলনীতি করা হয়। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের অদক্ষতা দেশকে চরম বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেয়। তিন বছরের মাথায় সেই সংবিধান বাতিল করে সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থা বা বাকশাল কায়েম করে। সেই বছরই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবার হত্যার শিকার হন। এরপর সামরিক অভ্যুত্থান, পাল্টা অভ্যুত্থান, সেনাশাসনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে দেশ।

১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ পর্যন্ত জিয়াউর রহমান ও ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে নির্বাচন হলেও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্ণ স্বাধীনতা পায়নি এমন সমালোচনা আছে। ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনে এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৯১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি ও আওয়ামী লীগ পালাক্রমে সরকার গঠন করে। তবে নির্বাচনকালীন সরকার, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, রাজনৈতিক সহিংসতা ও বিরোধী দলের আন্দোলন নিয়ে বিরোধ অব্যাহত ছিল। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসে; ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে দীর্ঘ সময় দেশ শাসন করে।

২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে তিনটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন বাংলাদেশের নির্বাচনব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাকে তলানিতে নিয়ে আসে। এই তিনটি নির্বাচনের মধ্যে ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন আয়োজনে যুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনারদের (সিইসি) পরে কারাগারে যেতে হয়। তিনটি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে পলাতক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। সংস্কার ও রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের পর ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করে। এখন বাংলাদেশের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো নির্বাচন, সংসদ, বিচারব্যবস্থা, গণমাধ্যম ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে টেকসই গণতান্ত্রিক কাঠামোয় প্রতিষ্ঠিত করা।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথগ্রহণ। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা।

গণতন্ত্রের আসল পরীক্ষা প্রতিষ্ঠান

গণতন্ত্রের সবচেয়ে প্রচলিত চিহ্ন নির্বাচন। কিন্তু নির্বাচন হলো গণতন্ত্রের শুরু, শেষ নয়। একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তনের সুযোগ যেমন থাকতে হয়, তেমনি ক্ষমতায় থাকা সরকারের ওপরও নিয়ন্ত্রণ থাকতে হয়। সংসদকে কার্যকর হতে হয়, বিরোধী দলকে কথা বলার সুযোগ দিতে হয়, আদালতকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিতে হয় এবং সংবাদমাধ্যমকে সরকারের সমালোচনা করার স্বাধীনতা দিতে হয়। নাগরিকদের শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ করার অধিকারও থাকতে হয়। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো যদি ব্যক্তি বা দলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে নির্বাচন থাকলেও গণতন্ত্র দুর্বল হয়।

বাংলাদেশের অভিজ্ঞতায় এই জায়গাটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গত দেড় দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, শুধু নির্বাচনের আয়োজন করে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা যায় না। আবার ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান দেখিয়েছে, দীর্ঘদিন রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ সংকুচিত থাকলে সমাজে অসন্তোষ অন্য পথে বিস্ফোরিত হতে পারে।

সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনগুলোর একটি সাধারণ পর্যবেক্ষণ হলো—বিশ্বের অনেক দেশে তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ছে। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বলছে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তরুণদের আন্দোলন রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। কিন্তু এই অংশগ্রহণ যদি কার্যকর প্রতিষ্ঠান ও জবাবদিহিতে রূপ না নেয়, তাহলে নতুন হতাশা তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশেও ২০২৪ সালের আন্দোলনে তরুণদের ভূমিকা ছিল কেন্দ্রীয়। ২০২৬ সালের নির্বাচনে নতুন ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থানও রাজনীতির পুরোনো কাঠামোয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। এই পরিবর্তনকে স্থায়ী গণতান্ত্রিক শক্তিতে রূপ দিতে হলে তরুণদের শুধু ভোটার হিসেবে নয়, নীতিনির্ধারণ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের অংশ হিসেবেও জায়গা দিতে হবে।

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এমন বেহাল হয়ে পড়ে আছে

বাংলাদেশের সামনে মূল প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসে বাংলাদেশের জন্য তাই শুধু ‘দেশটি গণতান্ত্রিক কি না’—এমন সরল প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকার সুযোগ নেই। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা শক্তিশালী হচ্ছে?

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি নতুন সুযোগ পেয়েছে। এখন সেই সুযোগ কতটা কাজে লাগানো যায়, তা নির্ভর করবে কয়েকটি বিষয়ের ওপর—নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখা, বিরোধী দলের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা, মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা, বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক সহিংসতা কমানো এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবের বাইরে রাখা।

বিশ্বের গণতন্ত্রের সূচকগুলো বাংলাদেশের জন্য একটি আয়না হিসেবে কাজ করতে পারে। কোনো সূচকের র‍্যাঙ্কিং হয়তো আগামী বছর বদলে যাবে। কিন্তু একটি দেশের গণতন্ত্রের শক্তি নির্ধারিত হয় তার প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা স্বাধীন, নাগরিকেরা কতটা নিরাপদে কথা বলতে পারেন এবং ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতার সীমা কতটা কার্যকরভাবে নির্ধারিত—তার ওপর।

আরও নির্দিষ্ট করে বললে, জুলাই সনদের সংস্কার বাস্তবায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এখন সংবিধান সংশোধন। ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদ ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করেছে; এই কমিটি সনদের সাংবিধানিক প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে সংশোধনী বিলের ভিত্তি তৈরি করবে। তবে বিরোধী দল এই কমিটিতে নাম দেয়নি। ফলে বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক মতভেদ এখনো কাটেনি। সরকার সংসদের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের পথে এগোচ্ছে, আর বিরোধী দলগুলো সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও গণভোটের রায় অনুযায়ী সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বিশেষ কমিটি প্রত্যাখ্যান করেছে। এই পরিস্থিতিতে সংস্কার কোন পথে যায়, এর ওপর অনেকটাই দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মুখ্য হয়ে উঠতে পারে।

  • আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোর ডেপুটি চিফ রিপোর্টার

    *মতামত লেখকের নিজস্ব

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা থেকে সংক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংবাদ থাকছে জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য- জাপানে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা প্রথমবার এক লাখ ছাড়ালো জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো এক লাখ ছাড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি সৌদি জোটের ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাব ‘দৃঢ়ভাবে’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট। সাম্প্রতিক এসব হামলায় সৌদি আরবের তিনটি শহরে ১৩ জন বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন। তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে যা বললো ভারত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত দুটি পৃথক আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বলে দাবি করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ)। একটি ছিল দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য, আর অন্যটি বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য। রাশিয়ার হুমকিতে ফ্রান্সের পারমাণবিক ছাতায় ফিনল্যান্ড ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে যখন নতুন করে ভাবতে হচ্ছে, তখন ফ্রান্সের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ফিনল্যান্ড। রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি এবং ইউরোপের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই ফ্রান্সের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। বাংলাদেশে ইলিশ রপ্তানি করে ভারতের চমক, আসবে আরও ইলিশ নিয়ে ঘটেছে কিছুটা উল্টো ঘটনা। যে বাংলাদেশ থেকে সাধারণত ভারতে ইলিশ যায়, এবার সেই বাংলাদেশেই ইলিশ রপ্তানি করছে ভারত। পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গত দুই মাসে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে এসেছে। মক্কা ও জেদ্দায় হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা এবং জেদ্দা ও তাইফ গভর্নরেটে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সতর্কতা জারি করেছে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। সৌদির তেল ফুরিয়ে যেতে পারে কয়েক দিনের মধ্যেই মরুভূমির বুক চিরে তেল পৌঁছে দিত যে পাইপলাইন, ড্রোন হামলার কারণে সেটিই এখন বন্ধ। এত দিন এ পাইপলাইন দিয়ে সৌদি আরবের তেল পৌঁছেছে লোহিত সাগরের বন্দরে। এখন দ্রুত পাইপলাইনটি চালু করা না গেলে কয়েক দিনের মধ্যেই রপ্তানির জন্য সৌদি আরবের তেলের মজুত ফুরিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তেল ব্যবসায়ীরা। ভ্রমণনীতিতে আরও কড়াকড়ি আরোপ করেছে চীন জাতীয় প্রযুক্তি নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারেন—এমন নাগরিকদের বিদেশে যেতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে চীন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) থেকে দেশটির নতুন প্রবেশ ও বহির্গমন বিধি কার্যকর হয়েছে। এর ফলে প্রযুক্তি ও শিল্প খাতের সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তির বিদেশযাত্রা আরও কঠোর নজরদারির মধ্যে পড়তে পারে। মদিনায় বিপুল ইউরেনিয়ামের সন্ধান, জানাল সৌদি আরব জ্বালানি ও খনিজ সম্পদে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইছে সৌদি আরব। এর মধ্যেই দেশটির মদিনা অঞ্চলে ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ ১১ কোটি টন কাঁচামালের সন্ধান পাওয়া গেছে। গত সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ৭০তম সাধারণ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রথমবার মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবার মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এমএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
হাজিদের কোনো কষ্ট-অবহেলা সহ্য করা হবে না: ধর্মমন্ত্রী

হাজিদের কোনো কষ্ট-অবহেলা সহ্য করা হবে না: ধর্মমন্ত্রী

দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় জলাধার পুনরুদ্ধার জরুরি: এরশাদ উল্লাহ

দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় জলাধার পুনরুদ্ধার জরুরি: এরশাদ উল্লাহ

সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী নিয়ে কী ভাবছেন তাঁরা

সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী নিয়ে কী ভাবছেন তাঁরা

কাকে ছেড়ে কাকে দেখবেন? আম্বানিদের গণেশ পূজার অনুষ্ঠানে যেন ভেঙে পড়েছে বলিউড
কাকে ছেড়ে কাকে দেখবেন? আম্বানিদের গণেশ পূজার অনুষ্ঠানে যেন ভেঙে পড়েছে বলিউড

ভারতের বিখ্যাত শীর্ষ ধনী পরিবার আম্বানিদের সঙ্গে বলিউডের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ। বিয়ে থেকে শুরু করে যেকোন সেলিব্রেশনে তাঁরা নিমন্ত্রণ করেন বলিউডের তারকাদেরকে। তাঁদের বাড়িতে সবসময়ের মতোই আয়োজিত হয়েছে গণেশ পূজার অনুষ্ঠান। আর সেখানেই যেন ভেঙে পড়েছেন গোটা বলিউড। কাকে ছেড়ে কাকে দেখবেন, বলুন তো!বহুদিন পর ট্র্যাডিশনাল মিন্ট লেহেঙ্গায় নতুন মা ক্যাটরিনা কাইফ এসেছেন বলিউড মিলনমেলায়। নজর কাড়ছে তাঁর আলোচিত ঝলমলে চুল আর লাল টিপ সঙ্গে সাদা কুর্তা-পাজামায় এসেছেন স্বামী ভিকি কৌশল রংচঙে লেহেঙ্গা আর টিকলির সাজে জাহ্নবী কাপুরমনীশ মালহোত্রার লাল লেহেঙ্গায় সেজে নেচেগেয়ে মন মাতিয়েছেন আম্বানিদের ছোট বউ রাধিকা নীতা আম্বানি চোখ ধাঁধিয়েছেন কমলা শাড়ি আর বিশাল অ্যান্টিক হার পরেহলুদ সালওয়ার কামিজ আর লাল পাঞ্জাবিতে এসেছেন কারিনা কাপুর আর সাঈফ আলী খান স্ট্র্যাপলেস করসেট শাড়িতে আলিয়া ভাট কারুকাজ করা ম্যাচিং কোটীসহ নেভি ব্লু কুর্তা ও সাদা পাজামায় সঙ্গে আছেন স্বামী রণবীর কাপুর মাইক্রো চোলির লাল লেহেঙ্গায় দিশা পাটানি ফিরোজা পাথরের বিশাল দিল আর হলুদ শাড়ির লুকে অনন্যা পাণ্ডে রাশা থাডানি পরেছেন লাল লেহেঙ্গা কৃতি শ্যাননের বেগুনি শাড়ি আর স্লিভলেস ম্যাচিং ব্লাউজের পরিপাটি লুক সিদ্ধার্থ ও কিয়ারা এসেছেন কারুকাজ করা অফ হোয়াইট শেরওয়ানি ও প্যাস্টেল বেবি পিংক শাড়িতে।

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
বাল্যবিয়ে বন্ধ, কাজিসহ বর ও কনের বাবাকে জরিমানা

বাল্যবিয়ে বন্ধ, কাজিসহ বর ও কনের বাবাকে জরিমানা

জাপানে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা প্রথমবার এক লাখ ছাড়ালো

জাপানে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা প্রথমবার এক লাখ ছাড়ালো

নিশ্চিত হলো মেসিহীন আর্জেন্টিনার পরবর্তী সূচি! কবে খেলা জেনে নিন

নিশ্চিত হলো মেসিহীন আর্জেন্টিনার পরবর্তী সূচি! কবে খেলা জেনে নিন

পদদলিত করতে ডাকসুর প্রবেশপথে জিন্নাহর ছবি
পদদলিত করতে ডাকসুর প্রবেশপথে জিন্নাহর ছবি

পদদলিত করতে এবার ডাকসুর প্রবেশপথ ও সংগ্রহশালার মেঝেতে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও গোলাম আযমের ছবি লাগিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। তাঁরা বলেছেন, ডাকসুর সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবি লাগানোর প্রতিবাদে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন তাঁরা।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থীরা আজ মঙ্গলবার দুপুরে জিন্নাহ ও গোলাম আযমের ছবি লাগানোর পর তা পদদলিত করেন।

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
জামালপুরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যা যেন জনমনোযোগ থেকে হারিয়ে না যায়: এমজেএফ

জামালপুরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যা যেন জনমনোযোগ থেকে হারিয়ে না যায়: এমজেএফ

ছোট বোনকে ছুরিকাঘাত করে বড় বোনকে তুলে নিয়ে গেল দুই যুবক

ছোট বোনকে ছুরিকাঘাত করে বড় বোনকে তুলে নিয়ে গেল দুই যুবক

বাঁচামরার ম্যাচে ভারতকে ১৬০ রানের লক্ষ্য দিলো আফগানিস্তান

বাঁচামরার ম্যাচে ভারতকে ১৬০ রানের লক্ষ্য দিলো আফগানিস্তান

0 Comments