জাতীয়

নামী ব্র্যান্ডের পণ্যে পোকা পেলেন অভিনেত্রী

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
নামী ব্র্যান্ডের পণ্যে পোকা পেলেন অভিনেত্রী
নামী ব্র্যান্ডের পণ্যে পোকা পেলেন অভিনেত্রী

খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে ভারতে যখন নানা প্রশ্ন উঠছে, তখন নামী একটি ব্র্যান্ডের পুষ্টিজাত পণ্যে পোকা পাওয়ার অভিযোগ করেছেন বলিউড অভিনেত্রী বিপাশা বসু। নতুন একটি কন্টেনার খোলার পর সেটির ভেতরে ছোট ছোট কৃমির মতো পোকা দেখতে পান বলে জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ওই পণ্যের একটি ভিডিও শেয়ার করেন বিপাশা। ভিডিওতে কন্টেনারের ভেতরের অংশের ক্লোজ-আপ দেখান অভিনেত্রী। তার দাবি, সদ্য খোলা প্যাকেটের ভেতরেই অসংখ্য ছোট পোকা দেখতে পেয়েছেন তিনি।

ভিডিওতে পণ্যটি আঙুলে তুলে দেখান বিপাশা। উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, ‘এই পণ্যটি কৃমিতে ভরে গিয়েছে। একেবারে ছোট ছোট কৃমি। নতুন ডাব্বাটা খুলেছি, সেটার ভিতর প্রচুর কৃমি রয়েছে।’

আরও পড়ুন

ভূপেন হাজারিকার গান কেন আজও মানুষের হৃদয়ে

বিষয়টি তদন্তের জন্য মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কমিশনার তুখারাম মুন্ধেকে ট্যাগ করেছেন বিপাশা। একই সঙ্গে ভোক্তাদের নষ্ট বা ভেজাল পণ্য থেকে সুরক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিপাশা লিখেছেন, ‘আপনিই আমাদের একমাত্র ভরসা, আমরা যাতে নষ্ট বা ভেজাল পণ্য না পাই।’ এ সময় পোস্টের সঙ্গে করজোড়ের ইমোজিও দেন অভিনেত্রী।

তবে বিপাশার অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পণ্য সংস্থার পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন

রণবীরের রাম হওয়া নিয়ে আপত্তি, যা বললেন রামানন্দ সাগরের নাতি

এর আগে অনলাইনে অর্ডার করা খাবারে আরশোলা পাওয়ার অভিযোগ করেছিলেন টেলিভিশন অভিনেত্রী শ্বেতা তিওয়ারি। বিষয়টি মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কমিশনারের নজরেও এনেছিলেন তিনি।

এদিকে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় খাদ্যপণ্যের মান যাচাইয়ে স্বাস্থ্যদপ্তরের অভিযান চলছে। বিভিন্ন হোটেল, রেস্তরাঁ ও দোকানে এসব অভিযানে বাসি, পচা ও অনিরাপদ খাবার পাওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। পুজোর আগে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই নামী ব্র্যান্ডের পুষ্টিজাত পণ্যে পোকা পাওয়ার অভিযোগ সামনে আনলেন বিপাশা বসু।

এমএমএফ/জেআইএম

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
হৃদরোগীদের কোন ভঙ্গিতে ঘুমানো ভালো?
হৃদরোগীদের কোন ভঙ্গিতে ঘুমানো ভালো?

সারাদিনের ক্লান্তি কাটিয়ে শরীর ও মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেওয়ার অন্যতম প্রধান উপায় ঘুম। পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম শুধু পরদিনের কর্মক্ষমতা বাড়ায় না, হৃদযন্ত্র ও স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তবে হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঘুমের সময় শরীরের অবস্থানও কখনো কখনো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে শোয়ার পর শ্বাসকষ্ট, বুকের অস্বস্তি বা শরীরে তরল জমার মতো সমস্যা থাকলে ঘুমের ভঙ্গির কারণে উপসর্গ কম-বেশি হতে পারে। তবে হৃদরোগীদের জন্য সবার ক্ষেত্রে একই ঘুমের ভঙ্গি সবচেয়ে ভালো-এমন কোনো নিয়ম নেই। কারো কোন ভঙ্গিতে আরাম হচ্ছে এবং শ্বাস নিতে সুবিধা হচ্ছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পাশ ফিরে ঘুমানো কি ভালো? অনেক হৃদরোগীর কাছে পাশ ফিরে ঘুমানো আরামদায়ক হতে পারে। বিশেষ করে চিৎ হয়ে শুলে যদি শ্বাসকষ্ট বাড়ে, তাহলে পাশ ফিরে শোয়া কিছু মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক হতে পারে। বাঁ দিকে ফিরে ঘুমানো নিয়ে অনেক ধরনের কথা প্রচলিত আছে। তবে প্রত্যেক হৃদরোগীর জন্য বাঁ দিকে ফিরে ঘুমানোই সবচেয়ে ভালো-এমন প্রমাণ নেই। তাই শুধু ‘হার্টের জন্য বাঁ দিকে ঘুমাতেই হবে’ এমন ধারণা অনুসরণ করার প্রয়োজন নেই। হার্ট ফেইলিওরের মতো সমস্যায় শুয়ে পড়ার পর শ্বাসকষ্ট বাড়তে পারে। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শরীরের ওপরের অংশ কিছুটা উঁচু করে ঘুমানো আরাম দিতে পারে। প্রয়োজন হলে বালিশ দিয়ে মাথা, ঘাড় ও বুকের অংশ সামান্য উঁচু করে রাখা যায়। চিৎ হয়ে ঘুমানো কি ক্ষতিকর? চিৎ হয়ে ঘুমানো মানেই হৃদরোগীদের জন্য ক্ষতিকর-এমন নয়। অনেক মানুষ এই ভঙ্গিতেই স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুমান। তবে কিছু হৃদরোগীর ক্ষেত্রে, বিশেষ করে হার্ট ফেইলিওর বা শরীরে অতিরিক্ত তরল জমার সমস্যা থাকলে, সম্পূর্ণ চিৎ হয়ে শোয়ার পর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যেতে পারে। যদি শুয়ে পড়ার কিছুক্ষণ পরই হাঁপ ধরতে শুরু করে, বারবার উঠে বসতে হয় কিংবা ঘুমানোর জন্য আগের তুলনায় বেশি বালিশ প্রয়োজন হয়, তাহলে বিষয়টি শুধু ঘুমের ভঙ্গির সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। কোন লক্ষণগুলো সতর্কবার্তা? রাতে শোয়ার পর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া, ঘুমের মধ্যে হঠাৎ দম বন্ধ হয়ে আসার অনুভূতিতে জেগে ওঠা, নতুন করে পা বা গোড়ালি ফুলে যাওয়া কিংবা অল্প সময়ে অস্বাভাবিক ওজন বেড়ে যাওয়া-এসব লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি। বিশেষ করে হৃদরোগের থাকলে এসব উপসর্গকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। পেটের ওপর ভর দিয়ে ঘুমানো যাবে? হৃদরোগীদের জন্য পেটের ওপর ভর দিয়ে ঘুমানো একেবারেই নিষেধ কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। তবে কারা ক্ষেত্রে এই ভঙ্গিতে বুকে চাপ লাগতে পারে বা শ্বাস নিতে অস্বস্তি হতে পারে। তাই যে ভঙ্গিতে বুকব্যথা, তীব্র শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক অস্বস্তি তৈরি হয়, সেই অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ থাকা উচিত নয়। আরও পড়ুন মুরগির পা খেতে পছন্দ করেন না, এতে রয়েছে নানা পুষ্টিগুণ হৃদরোগীর ঘুমের ক্ষেত্রে মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত আরামদায়কভাবে ঘুমানো এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারা। ঘাড়, পিঠ বা পায়ের নিচে প্রয়োজন অনুযায়ী বালিশ ব্যবহার করা যেতে পারে। আরও পড়ুন দ্রুত খাবার খাওয়ার পেছনে যেসব মনস্তাত্ত্বিক কারণ রয়েছে তবে ঘুমের সময় বারবার শ্বাসকষ্ট বা অন্য উপসর্গ দেখা দিলে শুধু বালিশ বা ঘুমের ভঙ্গি বদলে নয়, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই জরুরি। সূত্র: হেলথ লাইন, স্লিপ ফাউন্ডেশন এসএকেওয়াই

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
বিগ বাজেটে সাত পর্বের সিনেমা, পোস্টারে শ্রীকৃষ্ণের হাত

বিগ বাজেটে সাত পর্বের সিনেমা, পোস্টারে শ্রীকৃষ্ণের হাত

নারায়ণগঞ্জে ধর্মান্তরিত বিল্লালকে ইসলামি রীতিতে দাফনের নির্দেশ

নারায়ণগঞ্জে ধর্মান্তরিত বিল্লালকে ইসলামি রীতিতে দাফনের নির্দেশ

ঢাকায় পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৫৪২

ঢাকায় পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৫৪২

সবার আগে জাপানের পথে নারী ফুটবল দল
সবার আগে জাপানের পথে নারী ফুটবল দল

এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে সবার আগে জাপানের পথে রওনা হয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। চীনের গুয়াংজুতে কন্ডিশনিং ক্যাম্প ও দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ শেষে শুক্রবার জাপানের উদ্দেশে যাত্রা করেছে আফঈদা খন্দকার, মনিকা চাকমারা। এশিয়ান গেমস সামনে রেখে চীনে বেশ কয়েকদিনের ক্যাম্প করেছে বাংলাদেশ দল। সেখানে কন্ডিশনিংয়ের পাশাপাশি দুটি অনুশীলন ম্যাচ খেলে নিজেদের প্রস্তুতিও ঝালিয়ে নিয়েছেন ফুটবলাররা। গুয়াংজুর ক্যাম্প শেষে এবার জাপানে গিয়ে গেমসের জন্য নিজেদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নেবেন কোচ পিটার বাটলারের শিষ্যরা। এশিয়ান গেমসে এবার দ্বিতীয়বারের মতো অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এর আগে ২০২৩ সালের হাংজু এশিয়ান গেমসে প্রথমবার অংশ নিয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এবার অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ের সাফল্য ও অভিজ্ঞতা নিয়ে আরও ভালো করার প্রত্যাশা রয়েছে দলের। বাংলাদেশের গ্রুপটাও বেশ কঠিন। ‘এফ’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ এশিয়ার দুই পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়া ও উত্তর কোরিয়া এবং মিয়ানমার। ফলে গ্রুপ পর্বেই বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে ঋতুপর্ণা-তহুরাদের। ১৪ সেপ্টেম্বর উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এশিয়ান গেমসের অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে জাপান সময় বিকেল ৪টায়, বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায়। ১৭ সেপ্টেম্বর একই ভেন্যুতে দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। জাপান সময় বিকেল ৪টায় শুরু হবে ম্যাচটি, যা বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ ২১ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের বিপক্ষে। নাগাই স্টেডিয়ামে এই ম্যাচও শুরু হবে জাপান সময় বিকেল ৪টায়, বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায়। বাংলাদেশের জন্য প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। গ্রুপের সেরা দলগুলো নকআউট পর্বে যাবে। তাই শক্তিশালী দুই কোরিয়ার বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের পাশাপাশি মিয়ানমারের বিপক্ষে পয়েন্ট পাওয়াও হবে বাংলাদেশের অন্যতম লক্ষ্য। জাপানের নাগোয়া ও আইচি শহরে অনুষ্ঠিতব্য এবারের এশিয়ান গেমসে ২২ ডিসিপ্লিনে অংশ নেবে বাংলাদেশ। ডিসিপ্লিনগুলো হচ্ছে-আরচারি, অ্যাথলেটিকস, বক্সিং, ব্যাডমিন্টন, ক্রিকেট, সাইক্লিং, ফুটবল (নারী), ফেন্সিং, জিমন্যাস্টিকস, গলফ, হকি (পুরুষ ও নারী), জুডো, কাবাডি (পুরুষ ও নারী), কারাতে, শ্যুটিং, সার্ফিং, সুইমিং, টেবিল টেনিস, বিচ ভলিবল, ভারোত্তোলন, কুস্তি ও উশু। আরআই/আইএন

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
সম্প্রীতির শিক্ষা ভুলে কেন বিভেদের পথে?

সম্প্রীতির শিক্ষা ভুলে কেন বিভেদের পথে?

আত্মহত্যার প্রবণতাকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার আহ্বান

আত্মহত্যার প্রবণতাকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার আহ্বান

এই দিনে ছিনতাই হয় চার যাত্রীবাহী বিমান, হামলায় কেঁপে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র

এই দিনে ছিনতাই হয় চার যাত্রীবাহী বিমান, হামলায় কেঁপে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র

তিন দশক ধরে অচল ট্রাফিক সিগন্যাল, ইশারায় চলছে যানবাহন
তিন দশক ধরে অচল ট্রাফিক সিগন্যাল, ইশারায় চলছে যানবাহন

প্রায় তিন দশক ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে রাজশাহী নগরীর আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোয় স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল বাতি থাকলেও সেগুলোর অধিকাংশই এখন অকার্যকর। ফলে ব্যস্ত সময়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার বদলে এখনো ট্রাফিক পুলিশের হাতের ইশারার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে একদিকে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের, অন্যদিকে যানজট ও জনভোগান্তিও বাড়ছে। নগরীর সাহেববাজার, কাদিরগঞ্জসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মোড়ে দিনের ব্যস্ত সময়ে যানবাহনের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশকে। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে একজন সদস্যকে একদিকে যানবাহন থামাতে, অন্যদিকে চলাচলের সংকেত দিতে হচ্ছে। পুলিশের হাতের সংকেতেই কখনো থামছে গাড়ির সারি, আবার সংকেত পরিবর্তন করতেই শুরু হচ্ছে যান চলাচল। ফলে যানবাহনের চাপ বাড়লে কোনো কোনো মোড়ে দ্রুত যানজট তৈরি হচ্ছে। নগরীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সরেজমিনে দেখা যায়, মোড়গুলোতে ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি থাকলেও সেগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। যানবাহনের চাপ অনুযায়ী ট্রাফিক সদস্যরা কখনো একদিকে গাড়ি থামিয়ে অন্যদিকে চলাচলের সুযোগ দিচ্ছেন। ব্যস্ত সময়ে একই মোড়ে একাধিক দিক থেকে যানবাহন আসায় পরিস্থিতি সামাল দিতে তাদের বারবার অবস্থান পরিবর্তন করতে হচ্ছে। ‘যানজট নিরসনে আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। অচল সিগন্যাল পুনরায় চালু, প্রয়োজনীয় স্থানে নতুন সিগন্যাল স্থাপন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’ বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে এই ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। স্কুল-কলেজ, কোচিং সেন্টার ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক যানবাহনের চাপের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি, অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও মোটরসাইকেলের সংখ্যা বাড়ায় গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে চাপ তৈরি হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটির সময় শিক্ষার্থী বহনকারী যানবাহন ও অভিভাবকদের রাস্তার পাশে অবস্থানের কারণে কোথাও কোথাও যান চলাচল আরও ধীর হয়ে পড়ে। এতে স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। রাজশাহী সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নগরীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ১৯৯৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ২১টি পয়েন্টে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি স্থাপন করা হয়। কিন্তু স্থাপনের দুই বছরের মধ্যেই অধিকাংশ সিগন্যাল অকেজো হয়ে পড়ে। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেগুলো আর কার্যকরভাবে সচল করা হয়নি। ১৯৯৬ সালে প্রথম ধাপে সিঅ্যান্ডবি মোড়, লক্ষ্মীপুর, বিন্দু, সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট, মনি চত্বর ও তালাইমারী মোড়ে ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন করা হয়। এ ধাপে ব্যয় হয় ৩৬ লাখ টাকা। ‘নগরীতে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু হলে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং যানজট নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ট্রাফিক সদস্যদের হাতের ইশারায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে। এতে পুলিশ সদস্যদের অতিরিক্ত পরিশ্রমের পাশাপাশি ব্যস্ত সময়ে যানজটও দীর্ঘায়িত হচ্ছে।’ পরবর্তীতে ২০০২ সালে দ্বিতীয় ধাপে মেডিকেল কলেজ গেট, বহরমপুর বাইপাস, কোর্ট স্টেশন, কাশিয়াডাঙ্গা বাইপাসসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ট্রাফিক সিগন্যাল বসানো হয়। এ ধাপে ব্যয় হয় ৪৯ লাখ টাকা। শেষ ধাপে উৎসব সিনেমা হল মোড়, সাগরপাড়া, শিরোইল স্টেশন, জিয়া শিশু পার্ক, নওদাপাড়ার আমচত্বরসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সিগন্যাল স্থাপন করা হয়। তিন ধাপে নগরীর মোট ২১টি মোড়ে ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপনে ব্যয় হয় প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের এক যুগ না পেরোতেই অধিকাংশ ট্রাফিক সিগন্যাল অকার্যকর হয়ে পড়ে। ২০১৩ সালের মধ্যেই সিংহভাগ সিগন্যাল অকেজো হয়ে যায়। ২০১৪ ও ২০১৫ সালে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে সিগন্যাল বিকল থাকায় ট্রাফিক পুলিশ হাতের ইশারায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করছেন। এতে নগরীর বিভিন্ন মোড়ে যানজট, সময় অপচয় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। পথচারী রেদোয়ান বলেন, আগে কাদিরগঞ্জ থেকে সাহেববাজার যেতে কয়েক মিনিট সময় লাগত। এখন যানজটের কারণে একই পথ পাড়ি দিতে অনেক বেশি সময় লাগে। বিশেষ করে কোচিং সেন্টার ছুটির সময় অভিভাবকদের রাস্তার দুই পাশে অবস্থানের কারণে যানজট আরও তীব্র হয়। কখনো কখনো সেই যানজট স্বাভাবিক হতে আধা ঘণ্টার মতো সময় লাগে। ‘আগে কাদিরগঞ্জ থেকে সাহেববাজার যেতে কয়েক মিনিট সময় লাগত। এখন যানজটের কারণে একই পথ পাড়ি দিতে অনেক বেশি সময় লাগে। বিশেষ করে কোচিং সেন্টার ছুটির সময় অভিভাবকদের রাস্তার দুই পাশে অবস্থানের কারণে যানজট আরও তীব্র হয়। কখনো কখনো সেই যানজট স্বাভাবিক হতে আধা ঘণ্টার মতো সময় লাগে।’ আরেক পথযাত্রী দিলরুবা আক্তার বলেন, এক মিনিট পর পর যানবাহন থামানো ও ছাড়ার কারণে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে চলাচলে বিড়ম্বনা হয়। পথচারীদের রাস্তা পারাপারেও ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে সড়ক পার হতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। নগরীর রেলগেট এলাকার অটোরিকশাচালক বাদল মোল্যা বলেন, সড়কে যানবাহনের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় রাস্তার ব্যবস্থাপনা ও সিগন্যাল ব্যবস্থা আধুনিক হয়নি। ফলে যানজটের মধ্যে গাড়ি চালাতে সময় বেশি লাগে এবং যাত্রীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রাজশাহীর সচেতন নাগরিক হিসেবে আশিক হায়দার বলেন, তিন দশক ধরে অচল হয়ে থাকা সিগন্যাল ব্যবস্থা সচল করা, যানবাহনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক যানজট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি। শুধু সিগন্যাল বাতি স্থাপন নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর একটি সমন্বিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু করে রাজশাহীর দীর্ঘদিনের যানজট ও সড়ক বিশৃঙ্খলা কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নগরীর জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সেই তুলনায় আধুনিকায়ন হয়নি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে এখনো পুরোনো পদ্ধতিতে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে। আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থা কার্যকর থাকলে নির্দিষ্ট সময় ও যানবাহনের চাপ অনুযায়ী চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো। একই সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের ওপর চাপও কমত। অচল সিগন্যালের পাশাপাশি নগরীর যানজটের আরেকটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন চলাচল। নগরবাসীর অভিযোগ, লাইসেন্স ও নম্বরপ্লেটবিহীন অনেক অটোরিকশা নগরীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত চলাচল করছে। ফলে বৈধ ও অবৈধ যানবাহন শনাক্তকরণ এবং নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, নগরীতে নিবন্ধিত ব্যাটারিচালিত রিকশা রয়েছে ৫ হাজার ৮১৯টি এবং অটোরিকশা রয়েছে ৮ হাজার ৯৭০টি। দুই শ্রেণির নিবন্ধিত যানবাহন মিলিয়ে সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৭৮৯টি। তবে নগরীর বিভিন্ন সড়কে অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের প্রকৃত সংখ্যা অনুমোদিত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি বলে অভিযোগ রয়েছে। আরও পড়ুন পর্যটকের চোখে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’, চরবাসীর কাছে যুদ্ধক্ষেত্র সিটি করপোরেশনের নতুন লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ থাকার পরও প্রতিনিয়ত নতুন নতুন যানবাহন সড়কে যুক্ত হওয়ায় নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের নির্দিষ্ট রুট, পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামার ব্যবস্থা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে যানজট আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যত্রতত্র যানবাহন বেড়ে যাওয়ায় শুধু যানজটই নয়, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও। দ্রুতগতিতে চলাচল, রাস্তার মাঝখানে হঠাৎ থেমে যাওয়া, যাত্রী ওঠানো-নামানোর সময় পেছনের যানবাহনকে চলাচলের সুযোগ না দেওয়া এবং উল্টো পথে চলাচলের কারণে প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এসব কারণে ছোটখাটো সংঘর্ষের পাশাপাশি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনাও ঘটছে। রাজশাহী জেলা পুলিশ ও মহানগর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে জেলায় ১৩৫টি এবং মহানগরে ৩৪টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় মোট ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ১৬৯টি মামলা হয়েছে। পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট দুর্ঘটনার প্রায় অর্ধেকই মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা সংশ্লিষ্ট। এছাড়া প্রায় ৪০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে ট্রাক বা ডাম্প ট্রাকের কারণে। আরও পড়ুন রাজবাড়ীতে ১০৩ লেভেলক্রসিং ঝুঁকিতে, ৮ মাসে ৬৮ মৃত্যু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থা না থাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যদের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ফলে একই সময়ে একাধিক দিক থেকে যানবাহনের চাপ এলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিগন্যাল ব্যবস্থার সঙ্গে যানবাহনের সংখ্যা, সড়কের ধারণক্ষমতা, পথচারী পারাপার এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা প্রয়োজন। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) ট্রাফিক বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. নূর আলম সিদ্দিকী বলেন, নগরীতে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু হলে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং যানজট নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ট্রাফিক সদস্যদের হাতের ইশারায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে। এতে পুলিশ সদস্যদের অতিরিক্ত পরিশ্রমের পাশাপাশি ব্যস্ত সময়ে যানজটও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। আরও পড়ুন লোডশেডিংয়ে বাড়ছে জেনারেটর ব্যবহার, বাড়ছে খরচের বোঝাও তিনি বলেন, নগরীর ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত আধুনিক ও কার্যকর ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনকে অবহিত করা হয়েছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন জাগো নিউজকে বলেন, যানজট নিরসনে আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। অচল সিগন্যাল পুনরায় চালু, প্রয়োজনীয় স্থানে নতুন সিগন্যাল স্থাপন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, নগরবাসীর চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এনএইচআর/জেআইএম

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
নওগাঁয় আরও কমেছে চাল ও ধানের দাম, তবে ধানের দামে হতাশ কৃষক

নওগাঁয় আরও কমেছে চাল ও ধানের দাম, তবে ধানের দামে হতাশ কৃষক

খর্প, কচুয়া, শালমারা, সংলি নদীগুলো বাস্তবে আছে, তালিকায় নেই

খর্প, কচুয়া, শালমারা, সংলি নদীগুলো বাস্তবে আছে, তালিকায় নেই

টেলিভিশনে খবর পড়তে আসলে কী লাগে

টেলিভিশনে খবর পড়তে আসলে কী লাগে

0 Comments