জাতীয়

মুমিন চরিত্রের জন্য ক্ষতিকর ৭ স্বভাব

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
মুমিন চরিত্রের জন্য ক্ষতিকর ৭ স্বভাব
মুমিন চরিত্রের জন্য ক্ষতিকর ৭ স্বভাব

ভালো মানুষ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমাদের সবারই আছে। তবে শুধু ভালো গুণ অর্জন করলেই একজন মানুষ সত্যিকার অর্থে উত্তম চরিত্রের অধিকারী হয়ে যায় না। কিছু মন্দ স্বভাব আছে, যা ধীরে ধীরে মানুষের অন্তর ও চরিত্রকে কলুষিত করে এবং তাকে আল্লাহর কাছে অপছন্দনীয় করে তুলতে পারে।

তাই একজন মুমিনের জন্য ভালো গুণ অর্জনের পাশাপাশি ক্ষতিকর ও নিন্দনীয় স্বভাবগুলো থেকেও নিজেকে দূরে রাখা জরুরি।

১. অধিক ঝগড়ায় অভ্যস্ত হওয়া

সত্য উদ্‌ঘাটনের জন্য যুক্তি, প্রজ্ঞা ও উত্তম পদ্ধতিতে আলোচনা করা প্রশংসনীয়। কিন্তু আলোচনা যখন সত্য জানার উদ্দেশ্য হারিয়ে নিজের মত প্রতিষ্ঠা, জেতার চেষ্টা কিংবা প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়, তখন তা আর কল্যাণকর থাকে না।

নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে অপছন্দনীয় ব্যক্তি হলো সে, যে অধিক ঝগড়াটে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৫২৩)

প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি সত্যকে গ্রহণ করেন, ভুল হলে তা স্বীকার করেন এবং মতভেদের ক্ষেত্রেও শালীনতা, ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখেন। সব আলোচনায় জয়ী হওয়া নয়, বরং সত্যের কাছে নত হওয়াই তার লক্ষ্য।

২. আত্মগর্ব ও অহংকার করা

মানুষের যেমন শরীর অসুস্থ হতে পারে, তেমনি তার অন্তরও নানা রোগে আক্রান্ত হতে পারে। অন্তরের ভয়ংকর রোগগুলোর একটি হলো অহংকার।

পদমর্যাদা, জ্ঞান, বৈভব, সৌন্দর্য কিংবা ইবাদত—কোনো কিছুই মানুষকে অন্যের চেয়ে নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করার অধিকার দেয় না।

রাসুল (সা.) বলেছেন, কেয়ামতের দিন আমার নিকট থেকে সবচেয়ে দূরে অবস্থানকারীদের মধ্যে থাকবে ‘মুতাফাইহিকুন’। সাহাবিরা এর ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি অহংকারীদের কথা উল্লেখ করেন। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২০১৮)

একজন মানুষের চরিত্র বোঝার অন্যতম বাস্তব ক্ষেত্র হলো তার প্রতিবেশীর সঙ্গে আচরণ। কারণ, প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চরিত্রের এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

৩. অনর্থক ও অর্থহীন কথা বলা

মানুষের অনেক ভুল ও পাপের সূচনা হয় জিব থেকে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত কথা, অর্থহীন আলোচনা, অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য এবং এমন বিষয়ে কথা বলা, যার কোনো কল্যাণ নেই—এসব ধীরে ধীরে মানুষকে অনর্থক কাজে জড়িয়ে ফেলতে পারে।

নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে তারা নিন্দিত, যারা অনর্থক কথা বলে...’ (আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদিস: ১৩০৮)

তাই কোনো কথা বলার আগে নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত, এটি কি সত্য? এটি কি প্রয়োজনীয়? এটি কি কল্যাণকর?

যদি উত্তর নেতিবাচক হয়, তবে নীরব থাকাই শ্রেয়। কারণ, সংযত নীরবতা অনেক সময় অনর্থক কথার চেয়ে বেশি কল্যাণকর।

৪. প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া

একজন মানুষের চরিত্র বোঝার অন্যতম বাস্তব ক্ষেত্র হলো তার প্রতিবেশীর সঙ্গে আচরণ। কারণ, প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চরিত্রের এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

হাদিসে এসেছে, ‘সে মুমিন নয়, যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়।’ (আল-মুজামুল কাবির, হাদিস: ৮২৫০)

প্রতিবেশীকে অকারণে বিরক্ত করা, তার গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ করা, অধিকার নষ্ট করা কিংবা সামান্য বিষয় নিয়ে তাকে কষ্ট দেওয়া ইসলামের সৌন্দর্যের পরিপন্থী।

প্রকৃত মুমিন এমন, যার প্রতিবেশী তার কাছ থেকে ভয় নয়; বরং নিরাপত্তা, শান্তি ও কল্যাণ অনুভব করে।

৫. দ্বিমুখী আচরণ করা

একজনের সামনে এক কথা বলা, আর অন্যজনের সামনে সম্পূর্ণ বিপরীত বলা—এটি চরিত্রের ভয়ংকর দুর্বলতা। এমন আচরণ মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস, সন্দেহ ও বিভেদ সৃষ্টি করে এবং সম্পর্কের ভিত দুর্বল করে দেয়।

কাউকে ছোট করে নিজেকে বড় মনে করা মানুষের এক গভীর আত্মপ্রবঞ্চনা। কারণ, আমরা জানি না, যাকে আজ তুচ্ছ মনে করছি, আল্লাহর কাছে তার মর্যাদা হয়তো আমাদের চেয়েও অনেক বেশি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষ হিসেবে দ্বিমুখী (দুই মুখো) ব্যক্তিকে দেখতে পাবে। যে এক দলের কাছে এক রূপ নিয়ে আসে এবং অন্য দলের কাছে অন্য রূপ নিয়ে যায়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০৫৮)

মুমিনের সৌন্দর্য তার স্বচ্ছতা ও সত্যনিষ্ঠায়। তিনি সবার সামনে একই সত্য ও ন্যায়ের ওপর থাকার চেষ্টা করেন। মানুষের মন পাওয়ার জন্য একেক জনের কাছে একেক রূপ ধারণ করা মুমিনের চরিত্র হতে পারে না।

৬. অন্যকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা

অন্যকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি শুধু অন্যের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে না; বরং মানুষের অন্তরে অহংকার, আত্মগর্ব ও বিদ্বেষের জন্ম দেয়।

কেউ দরিদ্র হতে পারেন, অল্প শিক্ষিত হতে পারেন, সামাজিকভাবে দুর্বল হতে পারেন কিংবা আমাদের চেয়ে ভিন্ন অবস্থানে থাকতে পারেন। এসব কারণে তাঁকে হেয় বা অপমান করার অধিকার কারও নেই।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলিম ভাইকে তুচ্ছ মনে করা একজন মানুষের মন্দ হওয়ার জন্য যথেষ্ট।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৬৪)

কাউকে ছোট করে নিজেকে বড় মনে করা মানুষের এক গভীর আত্মপ্রবঞ্চনা। কারণ, আমরা জানি না, যাকে আজ তুচ্ছ মনে করছি, আল্লাহর কাছে তার মর্যাদা হয়তো আমাদের চেয়েও অনেক বেশি।

৭. অশ্লীল ও কটু ভাষায় কথা বলা

জিব ছোট, কিন্তু এর ক্ষত অনেক গভীর। একটি কঠিন বা তির্যক বাক্য কখনো কখনো এমন দাগ রেখে যায়, যা বহু বছরেও মুছে যায় না।

নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই পরকালে আল্লাহর নিকট সেই ব্যক্তি নিন্দনীয়, যার মন্দ কথা ও আচরণের ভয়ে মানুষ তাকে পরিত্যাগ করেছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০৬৪)

অশ্লীল ভাষা, গালাগাল, কটু কথা ও অপমানজনক মন্তব্য মানুষের হৃদয়ে আঘাত করে এবং নিজের চরিত্রকেও কলুষিত করে। তাই একজন মুমিনের জিব হওয়া উচিত সত্য, সৌজন্য ও কল্যাণের মাধ্যম।

  • রায়হান আল ইমরান: আলেম, লেখক ও গবেষক

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা
জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা

শহীদুল জহির’র লেখা ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ উপন্যাসটা পড়েছিলাম বেশ আগে। উপন্যাসের কাহিনি অতটা মনে নেই। তবে আমার অভিজ্ঞতা হলো রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সাথে সাথে জীবনের বাস্তবতা বদলে যায়। বদলে যায় বিশ্বাস, বদলে যায় সামাজিকতা, বদলে যায় আচার। যারা অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টি নিয়ে পৃথিবীর দিকে তাকান তারা অবশ্য এটাকে সহজভাবেই নেন। আর যারা অন্ধভাবে সবকিছুই বিশ্বাস করেন তাদের আশাভঙ্গ হয়। হৃদয় এবং মন ভেঙে যায়। বাকি জীবন কাটাতে হয় এক অব্যক্ত হাহাকার নিয়ে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে যাওয়াটা একেবারেই অবশ্যম্ভাবি ছিল। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে স্থানিক এবং বৈশ্বিক কার কি স্বার্থ জড়িত ছিল। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ফলে কার লাভ হলো আর কার ক্ষতি হলো। সেটা গবেষণার বিষয়। কিন্তু স্থানীয়ভাবে যে জনজোয়ার তৈরি হয়েছিল সেটা সত্যি। অনেক মানুষই মনে মনে এমন একটা ঘটনার প্রত্যাশায় ছিলেন। যদিও সেটা সাহস করে প্রকাশ করেননি। তাহলে নিজের ভাগ্যের আকাশে শনির চাঁদ দেখার পাশাপাশি জীবনও হুমকির মুখে যেতে পারতো। আর স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা এগুলোর কোন কিছুকেই তোয়াক্কা করেনি। গোড়ামি দিয়ে সবকিছু মোকাবিলা করেছে। যার ফলে হয়েছে মচকানোর আগেই ভেঙে পড়া। একটা পুরো প্রজন্ম বেড়ে উঠেছিল কোনো প্রকার ভোটাধিকার প্রয়োগ ছাড়াই। কোন দ্বিরুক্তি করলেই তাদের টুটি চেপে ধরা হতো। তাদের রাস্তার বাস ট্রাক দিয়ে পিষে মেরে ফেলার বিচার চাইলে উল্টো তাদেরকেই রাস্তায় ফেলে আবার উত্তম মধ্যম দেয়া হতো। এভাবে বড় হতে হতে তাদের ভিতরে যেন এক সুপ্ত আগ্নেয়গিরির লাভা জমা হয়ে ফুঁসে উঠছিল। সেগুলোকে একটা রাজনৈতিক দল খুবই সুচারুভাবে ব্যবহার করেছিল। যদিও খাতা কলমে তারা ছিল নিষিদ্ধ এবং তাদের কোন বাস্তব কর্মকাণ্ড ছিল না। কিন্তু বাস্তবতা হলো দলের মধ্যে যখন গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত থাকে তখন আসলে দমন পীড়ন করে তাদের থামিয়ে রাখা যায় না। কারণ একজনের পর একজন এসে দলের হাল ধরে। তারা অবশ্য অনেক আগে থেকেই মেধাবী ছাত্রদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখছিল। যেখানে বড় বড় দলগুলো শুধুমাত্র শহর কেন্দ্রীক রাজনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। আর ব্যস্ত ছিল নিজের, পরিবারের এবং আত্মীয়স্বজনের আখের গুছাতে। সেখানে এই দলটা একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত তাদের কর্মকান্ড চালিয়ে নিয়ে গেছে বছরের পর বছর। কারণ তারা জানতো ফলাফল একদিনে আসবে না। তারা যে চারাগাছ রোপণ করছে সেটা একদিন মহীরুহ হবেই হবে। আর বাংলাদেশের প্রকৃত মেধাবীরা তো আসলেই গ্রাম থেকে আসে। তাদের যদি স্কুল পর্যায় থেকে দলে টানা যায় তাহলে তারাই একদিন বড় হয়ে দলের নেতৃত্ব দিবেন। তাই তারা বেছে বেছে গ্রামের স্কুলের মেধাবীদের পেছনে সময় ব্যয় করেছেন। তাদের আরেকটা বড় হাতিয়ার ছিল ধর্ম। যারফলে তাদের দল করলে ইহকালে যেমন সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের নিঃশ্চয়তা আছে তেমনি আছে আখেরাতের অনন্ত শান্তি। তাই বাবা মায়েরাও তাদের সন্তানদের উৎসাহ দেন। সে সন্তান ছেলেই হোক বা মেয়ে। যার ফলে তৈরি হয়েছে বিশাল এক ভারসাম্যের কর্মীবাহিনী। সেই বাহিনী অন্যদের তুলনায় এগিয়ে ছিল সবসময়। কারণ অন্যান্য দলের ছাত্র সংগঠন যখন চাঁদাবাজি আর ক্যাম্পাস দখলে ব্যস্ত তখন তারা ব্যস্ত ছিল জনসংযোগে আর পঠনে। পঠনের ফলে তাদের মগজ এমনভাবে ধোলায় হয়েছে যে সেটার বাইরে তাদের আর যাওয়ার সাহস বা বিশ্বাস কোনটাই ছিল না। এই ছাত্র শক্তি তারা এমনভাবে তৈরি করেছে যে তাদের নিজেদের বিকল্প যেমন নিজেরাই। আবার তারা অন্যদেরও বিকল্প। যার ফলে পুরো মাঠই ছিল তাদের দখলে। যদিও অন্যরা ভাবতো উল্টোটা। এরপর যখন ফুঁসে উঠার সুযোগ এলো তখন আর তারা সেটা হাতছাড়া করেনি। সবাইকে নিজেদের পক্ষে টানতে সক্ষম হয়েছিল। আরও পড়ুন মালদ্বীপে প্রবাসীদের ব্যাংক হিসাব নিয়ে নতুন নির্দেশনা ক্ষমতার পট পরিবর্তন করতে পেরেছিল। যদিও এখন তারা খাতা কলমে ক্ষমতায় নেই কিন্তু যারা বাস্তবতাটা জানেন তারা বুঝেন যে তাদের মেধাবী ছাত্র শক্তি দেশের সব জায়গায়, সব স্তরে, সব সেক্টরে আছে। এটাকে নিয়ে আমার ব্যক্তিগত কোন মতামত নেই। কারণ তারা যদি আসলেই বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে তাহলে পুরো দেশেরই ভাগ্য বদলে দেবে। বঙ্গীয় বদ্বীপে শাসনভার বদলেছে সময়ের সাথে কিন্তু আপামর জনগণের ভাগ্য একটুও বদলায়নি। তারা বেঁচে থাকে অদৃষ্টের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে। তারা বিশ্বাস করেন যে একজন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী একজন আছেন। যিনি তাদের প্রতি বছরের পর বছর হয়ে যাওয়া অন্যায় অবিচার দেখছেন। তিনিই এর বিধান করবেন। সেটা যদি ইহকালে নাও পাওয়া যায় পরকালে তাদের জন্য অপার শান্তি অপেক্ষা করছে। এই বিশ্বাসের জায়গাটা সেই বিশেষ দল এবং তাদের ছাত্র সংগঠন খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছিল। যার ফলে তাদেরও দলে টানতে তেমন বেগ পেতে হয়নি। এছাড়াও শহরের যে সামান্য শিক্ষিত জনগোষ্ঠি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিভক্ত তাদের সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় বোধ অন্যদের চাপিয়ে দেওয়া। কিন্তু গ্রামীণ জনগোষ্ঠির সংস্কৃতি এবং বিশ্বাস তাদের জীবনাচারেরই অংশ। তাই যখনই এই দুটো মুখোমুখি হয়েছে তখন গ্রামীণ বিশ্বাসই জয়যুক্ত হয়েছে। যাইহোক একটা দেশ তো আসলে অনেক রকমের মানুষের মিলিত জনগোষ্ঠি। শুধু একটা গোষ্ঠির স্বার্থ দেখলে সেখানে সুশাসন নিশ্চিৎ করা যায় না। এই দলের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা এখানেই। আরো একটা বিষয় এখানে উল্লেখ্য। সেটা হলো তারা তাদের দলীয় ধ্যান ধারণার কারণেই দেশের স্থানিক এবং বৈশ্বিক পরিবর্তনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে সবসময়ই। সেটা যে ভুল ছিল সেটা স্বীকার করার মতো সাহস তারা এখনও সঞ্চয় করতে পারেনি। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে পরিবর্তনের ফসলগুলো কিন্তু তারা ঠিকই নিজেদের ঘরে তুলেছে। ভুল স্বীকার করতে না পারুক যখনই সুযোগ পেয়েছে সেই পরিবর্তনকে তারা অস্বীকার করেছে। এটাই তাদের ব্যক্তি এবং দলের চরিত্রের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। এটা ভীষণ রকমের ভন্ডামি এবং হঠকারিতা ছাড়া আর কিছুই নয়। অনেকটা নিজের পিতৃপরিচয় অস্বীকার করার মতো। এই দলটা এখন শুধু দেশেই না আন্তর্জাতিকভাবেও প্রচণ্ড রকমের শক্তিশালী। দেশে দেশে তাদের শাখাগুলো নিভৃতে কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠনগুলো যেখানে নিজেদের মধ্যে মারামারিতে শতবিভক্ত সেখানে তারা দলের গণতন্ত্র মেনে সব কাজ পরিচালনা করে যাচ্ছে। এমনকি তারা বিভিন্ন দেশের স্থানীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করছে এবং নির্বাচিত হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার সিডনির স্থানীয় রাজনীতিতে এদের অংশগ্রহণ খুবই বেশি। এমনকি বিভিন্ন স্থানীয় কাউন্সিলে তাদের নির্বচিত প্রতিনিধিও আছে। আছে নিজেদের জন্য আলাদা উপাসনালয়। যেভাবে তারা এগিয়ে যাচ্ছে তারা খুব শীঘ্রই বাংলাদেশের ক্ষমতাও জয় করবে। অবশ্য এখনও তারায় ক্ষমতায় আছে যদিও খাতা কলমে অন্য একটি দল দেশ পরিচালনা করছে। সময়ের সাথে সবকিছুই বদলায়। আর এটাই জীবনের স্বাভাবিক ধর্ম। মানুষ বদলাবে। তার বিশ্বাস বদলাবে। রাজনীতিও বদলাবে। সমাজনীতি বদলাবে। তার সাথে সাথে বদলে যাবে দেশ। যে যত সহজভাবে এটাকে নেবে তার জীবন তত সহজ হবে। আর এখনকার বাস্তবতায় আমি যাদের কথা বললাম তাদের ক্ষমতায় আসা সময়ের ব্যাপার মাত্র। অন্যভাবে বললে তারা আসলে এখনও ক্ষমতায় আছে। তাদের এর ক্ষমতায় আসা বা থাকা নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যাথা নেই। কিন্তু তারা যেন অন্যান রাজনৈতিক দলের মতো শুধুমাত্র নিজেদের দলের লোকেদের ভালোর কথা না ভেবে দেশের সামগ্রিক ভালোর কথা ভাবেন। এটাই আমার চাওয়া। কিন্তু তারা যেভাবে ইতিহাসকে পেছনের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে তাতে আমি তাদের ওপর পুরোপুরি ভরসা করতে পারি না। লেখক: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমআরএম

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
‘ইশ, যদি মাঠের কিছু ঘাস খেয়ে নিতাম!’ অদ্ভুত আক্ষেপ ইংল্যান্ড কোচের

‘ইশ, যদি মাঠের কিছু ঘাস খেয়ে নিতাম!’ অদ্ভুত আক্ষেপ ইংল্যান্ড কোচের

র‌্যাবের লোগোর নকশা অপরিবর্তিত রেখে ‘এসআরবি’র যাত্রা

র‌্যাবের লোগোর নকশা অপরিবর্তিত রেখে ‘এসআরবি’র যাত্রা

পাবনায় ইউপি চেয়ারম্যানকে ছুরিকাঘাত, গুলির চেষ্টা

পাবনায় ইউপি চেয়ারম্যানকে ছুরিকাঘাত, গুলির চেষ্টা

স্নাতক পাসে নিয়োগ দেবে ভিভো বাংলাদেশ, কর্মস্থল ঢাকা
স্নাতক পাসে নিয়োগ দেবে ভিভো বাংলাদেশ, কর্মস্থল ঢাকা

ভিভো বাংলাদেশ ‘টেরিটরি রিটেইল এক্সিকিউটিভ’ পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রার্থীকে অবশ্যই স্নাতক অথবা সমমান ডিগ্রিধারী হতে হবে। এক নজরে ভিভো বাংলাদেশের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ তথ্যের ধরন বিবরণ প্রতিষ্ঠানের নাম ভিভো বাংলাদেশ পদের নাম টেরিটরি রিটেইল এক্সিকিউটিভ পদসংখ্যা ১ জন চাকরির ধরন বেসরকারি, ফুল টাইম প্রার্থীর ধরন পুরুষ শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক অথবা সমমান অভিজ্ঞতা ১ বছর বেতন ও অন্যান্য সুবিধা ৩০,০০০-৪০,০০০ টাকা বয়সসীমা ২২-৩৫ বছর সূত্র বিডিজবস ডটকম আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবেদন শুরু: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে কর্মস্থল: ঢাকা জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক। আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন ভিভো বাংলাদেশ। আরও পড়ুন৫৩৮ জনকে নিয়োগ দেবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, আবেদন ফি ৫৬ টাকাএইচএসসি পাসে বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফি ৫৬ টাকাবর্ডার গার্ড বাংলাদেশে চাকরি পাওয়ার সহজ উপায়সেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪০ বছর বয়সেও আবেদনের সুযোগনৌবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই অফিসার ক্যাডেট হওয়ার সুযোগসেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে১১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনসেনাবাহিনী নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এসএসসি পাসেই আবেদন১৪২ জনকে নিয়োগ দেবে সমরাস্ত্র কারখানা, এসএসসি পাসেও আবেদনসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ এমআইএইচ

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রীর কাজে জনগণ বুঝতে পারছে, রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক তারাই

প্রধানমন্ত্রীর কাজে জনগণ বুঝতে পারছে, রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক তারাই

নোয়াখালী ক্লাব ফ্যাসিবাদমুক্ত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

নোয়াখালী ক্লাব ফ্যাসিবাদমুক্ত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

ট্যাক্সিক্যাবের সংখ্যা: গণিতের এক অদ্ভুত সুন্দর গল্প

ট্যাক্সিক্যাবের সংখ্যা: গণিতের এক অদ্ভুত সুন্দর গল্প

পবিত্র মক্কা নগরী লক্ষ্য করে ড্রোন ছোড়ার অভিযোগ হুতিদের বিরুদ্ধে
পবিত্র মক্কা নগরী লক্ষ্য করে ড্রোন ছোড়ার অভিযোগ হুতিদের বিরুদ্ধে

সৌদি আরব অভিযোগ করেছে, পবিত্র মক্কা নগরীর দিকে ড্রোন ছুড়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুতিরা। দেখুন ভিডিও প্রতিবেদনে...

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ঢাকায় তিন কনসার্ট

সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ঢাকায় তিন কনসার্ট

গুগলের চাকরি-মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়ার মঞ্চ, উমাঙ্গা নারীদের অনুপ্রেরণা

গুগলের চাকরি-মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়ার মঞ্চ, উমাঙ্গা নারীদের অনুপ্রেরণা

সন্তানরা খোঁজ নেয় না, অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে অবলার জীবনযুদ্ধ

সন্তানরা খোঁজ নেয় না, অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে অবলার জীবনযুদ্ধ

0 Comments