ঢাকার চাঁনখারপুলের একটি মেস থেকে অনিক চন্দ্র পাল (২১) নামের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পি কে গাঙ্গুলী লেনের একটি চারতলা ভবনের মেস থেকে অনিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অনিক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে।
বংশাল থানার পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারের পর অনিকের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অনিকের মরদেহের সঙ্গে হাসপাতালে যাওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জয় রেবু প্রথম আলোকে বলেন, রাতে অনিক মেসের কক্ষে একাই ছিলেন। দীর্ঘ সময় কক্ষের ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে মেসের অন্য সদস্যরা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। তখন তাঁকে ঘরের ফ্যান ঝোলানোর রডের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। পরে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনিকের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অনিকের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরও শহীদ শামসুজ্জোহা হলে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন হল শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সবুজ শাহরিয়ার। তাকে হল থেকে নামাতে চারবার চেষ্টা করেও সফল হননি বলে জানিয়েছেন হলের প্রভোস্ট। সবুজ শাহরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শামসুজ্জোহা হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। অভিযোগ রয়েছে, নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম শেষ হওয়ায় প্রায় দেড় বছর আগে তার সিট বাতিল করা হয়। তবুও রাজনৈতিক পরিচয়ে তিনি এখনও শহীদ শামসুজ্জোহা হলে অবস্থান করছেন। হল প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দেড় বছর আগেই তার সিট বাতিল করা হয়েছে এবং সে হল ছেড়ে চলে গিয়েছিল। কিন্তু গত চার-পাঁচ মাস ধরে আবার হলে অবস্থান করছে। নিয়মিত শিক্ষার্থী না হওয়ায় তাকে হল ছাড়ার জন্য একাধিকবার বলা হয়েছে। তবে কয়েক দফা চেষ্টা করেও তাকে হল থেকে সরাতে পারেনি হল প্রশাসন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অবৈধভাবে হলে অবস্থানকারী সবুজ শাহরিয়ার বলেন, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী নই। তবে যে বিভাগে পড়াশোনা করেছি, সেখানে ল্যাবে গবেষণার কাজ করতে অনেক সময় লাগে এবং প্রায়ই দেরি হয়। এ কারণে শহীদ শামসুজ্জোহা হলে আমার এক বন্ধুর রুমে বেড শেয়ার করে থাকি। ভালো মানের বাসা ও সুযোগ-সুবিধা পেলে আমি হল ছেড়ে চলে যাব।’ হলে অবস্থানের বৈধতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি হল প্রভোস্টকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং প্রভোস্টের অনুমতি নিয়েই হলে অবস্থান করছি।’ এ বিষয়ে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের সহসভাপতি (ভিপি) আশিকুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘রাকসু নির্বাচনের তিন-চার মাস পর থেকে হল শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সবুজ শাহরিয়ার নিয়মিত হলে থাকা শুরু করেন। তখন কয়েকজন শিক্ষার্থী আমাদের কাছে অভিযোগ করেন, তার ফলাফল হয়ে গেছে এবং শিক্ষাজীবনও শেষ হয়েছে, তাহলে তিনি কীভাবে হলে অবস্থান করছেন। বিষয়টি নিয়ে আমরা কয়েকবার হল প্রশাসনকে জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আমাদের জানানো হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘হল প্রভোস্ট এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন, সে বিষয়ে আমরা এখনো কিছু জানি না।’ অবৈধভাবে হলে অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আল-আমিন সরকার বলেন, ‘দেড় বছর আগেই তার সিট বাতিল করা হয়েছে এবং সে হল ছেড়ে চলে গিয়েছিল। কিন্তু গত চার-পাঁচ মাস ধরে আবার হলে অবস্থান করছে। সে জানিয়েছিল, বিসিএস পরীক্ষা সামনে থাকায় তাকে হলে থাকতে হবে। আমি এ পর্যন্ত তিন-চারবার তাকে হল ছেড়ে যেতে বলেছি। কিন্তু সে হলেই অবস্থান করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আগামীকাল তাকে আবারও অফিসিয়াল চিঠি দেব। এরপরও সে হল না ছাড়লে প্রক্টর দপ্তরের সহযোগিতা নেব। একটা বিষয়েরও তো শেষ আছে, এরপর আর সম্ভব নয়।’ মিরাজ হোসেন/কেজে/এএসএম
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে একটি ঘরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। অস্ত্র তাক করে ‘গুলি কর’ বলার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে...
দুই মেয়ে যখন সকালে বিদ্যালয়ের উদ্দেশে রওনা দিত, তখন বাড়ির বারান্দায় বসে দুজনকে হাত নেড়ে বিদায় জানাতেন বাবা সুনীল কান্তি দাশ (৫২)। সেখানে বসেই অপেক্ষায় থাকতেন মেয়েরা কখন ফিরবে। পক্ষাঘাতে পা অসাড় হয়ে পড়া সুনীলের গত রোববারের সকালটাও এভাবেই শুরু হয়েছিল। তবে বিকেলটা অন্য দিনের মতো হয়নি। বিদ্যালয় থেকে আর জীবিত অবস্থায় ফিরতে পারেনি তাঁর ষষ্ঠ শ্রেণিপড়ুয়া ছোট মেয়ে। বাসের ধাক্কায় আহত হওয়ার পর রাতে একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয় মেয়ের।দুর্ঘটনায় মেয়ের মৃত্যুর পর থেকেই শোকে অনেকটা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন সুনীল কান্তি দাশ। দীর্ঘদিন ওমানে প্রবাসজীবন কেটেছে তাঁর। সেখানে স্ট্রোক করার পর গত বছর দেশে ফেরেন। স্ট্রোকের পর তাঁর একটি পা পুরোপুরি অসাড় হয়ে পড়েছে। অন্য পায়েও তেমন শক্তি পান না। ফলে চলাচল করতে না পারায় সারা দিন বাড়ি বসে কিংবা শুয়েই সময় কাটাতে হয় তাঁকে।উষা রানী দাশ, নিহত ঈশার মা।দুপুরে এলাকার একজন ফেসবুকে ঈশার রক্তাক্ত ছবি দিয়ে দুর্ঘটনার কথা লেখেন। খবর পেয়ে আমি ছুটে গেছি। অ্যাম্বুলেন্সে মেয়েকে নিয়ে নগরের হাসপাতালে ছুটে যাই। আশা ছিল, মেয়েটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবে। আমার মেয়েটি আর ফিরল না।সুনীল কান্তি দাশের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের মিঠার দোকান এলাকার নাথপাড়ায়। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়া তাঁর মেয়ের নাম ঈশা রানী দাশ (১২)। বিদ্যালয়ে টিফিনের বিরতিতে মহাসড়ক পেরিয়ে শিঙাড়া কিনতে দোকানে যাচ্ছিল ঈশা। এ সময় চট্টগ্রামমুখী একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঈশাকে নেওয়া হয় নগরের একটি হাসপাতালে। পরে রাতে সেখানে তার মৃত্যু হয়।ঈশা পড়াশোনা করত ছদাহার কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমদ উচ্চবিদ্যালয়ে। তার বড় বোন আদিত্যা রানী দাশও (১৬) একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। একসঙ্গে বিদ্যালয়ে যেত দুই বোন, ফিরতও একসঙ্গে।সাতকানিয়ার কেরানীহাট স্টেশন থেকে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক ধরে পাঁচ কিলোমিটার দক্ষিণে ছদাহা ইউনিয়নের মিঠার দোকান এলাকা। সেখান থেকে পিচঢালা ফকিরহাট সড়ক ধরে এক কিলোমিটার পূর্বে যাওয়ার পর নুনু চৌধুরী বাজার সড়ক নামে আরেকটি গ্রামীণ রাস্তা। সেই রাস্তা ধরে আরও ৫০০ মিটার যাওয়ার পর নাথপাড়া।গত সোমবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, একতলা পাকা ঘর সুনীল কান্তি দাশের। ঘরের সামনে একটি চেয়ারে বসে রয়েছেন তিনি। কয়েকজন প্রতিবেশী তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ঘরের উঠানে বসে মেয়ের জন্য আহাজারি করছেন সুনীলের স্ত্রী উষা রানী দাশ। মায়ের কান্না দেখে ফুঁপিয়ে কাঁদছিল মেয়ে আদিত্যা।মেয়ে ঈশার জন্য আহাজারি করতে করতে উষা রানী দাশ বলেন, ‘প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার সময়, আবার ফিরে এসে, মেয়েটা প্রথমে আমাকে জড়িয়ে ধরত। আমার হাতের বানানো নাশতা খেয়েই স্কুলের জন্য বিদায় নিয়েছিল সে। তার ফেরার অপেক্ষায় ছিলাম। দুপুরে এলাকার একজন ফেসবুকে ঈশার রক্তাক্ত ছবি দিয়ে দুর্ঘটনার কথা লেখেন। খবর পেয়ে আমি ছুটে গেছি। অ্যাম্বুলেন্সে মেয়েকে নিয়ে নগরের হাসপাতালে ছুটে যাই। আশা ছিল, মেয়েটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবে। আমার মেয়েটি আর ফিরল না।’বাড়িতে কথা হয় ঈশার চাচা স্বপন কান্তি দাশের সঙ্গে। স্থানীয় ঠাকুরদিঘি পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তিনি। প্রথম আলোকে তিনি জানান, অসুস্থ হয়ে প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর সুনীল কান্তি দাশের পরিবারে অভাব–অনটন দেখা দেয়। তবু দুই মেয়ের পড়াশোনায় যাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সেই চেষ্টা করে আসছিলেন সুনীল। মেয়েরা পড়ালেখা করে প্রতিষ্ঠিত হবে, সেই আশা ছিল তাঁর। এর মধ্যে একটি মেয়েকে এভাবে দুর্ঘটনায় হারাতে হলো।কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমদ উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আতিকুর রহমান বলেন, দুপুরের বিরতির সময় ঈশা স্কুল থেকে বের হয়। এ সময় চট্টগ্রামমুখী স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে নগরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে তার মৃত্যু হয়েছে।পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়ি থেকে টিফিন নিয়েই বিদ্যালয়ে গিয়েছিল ঈশা। সেই খাবার খায়নি। শিঙাড়া তার খুব পছন্দ ছিল। তাই দুপুরের বিরতিতে বিদ্যালয়ের অদূরে একটি দোকান থেকে শিঙাড়া কিনতে বের হয়েছিল। তবে দোকানে যাওয়ার পথেই একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়।ঈশার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। দুর্ঘটনার প্রতিবাদে তাঁরা প্রায় আড়াই ঘণ্টা চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করেন। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বাসটিও ভাঙচুর করা হয়।