মানুষের কেনাকাটার বিল সহজে পরিশোধের জন্য চালু হওয়া ‘বাংলা কিউআর’ কোড এখন নগদ টাকা উত্তোলনের সহজ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। পণ্য বা সেবা বিক্রি না করেই কিউআর কোডের মাধ্যমে নগদ অর্থ উত্তোলনের সুবিধা দিচ্ছেন অনেক পণ্য বা সেবা বিক্রেতা (মার্চেন্ট)। এতে একদিকে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বা এমএফএসের দীর্ঘদিনের চেষ্টায় গড়ে তোলা লেনদেন ইকোসিস্টেম বা এজেন্ট ব্যবস্থা। দেশে সব মিলিয়ে এমএফএসের ২০ লাখ এজেন্ট রয়েছে। এজেন্টদের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিয়েছে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো। এখন কিউআর কোড ব্যবস্থা চালুর পর মার্চেন্ট অবৈধ ক্যাশ আউট সেবার কারণে এসব এজেন্টের ব্যবসা হুমকির মুখে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ডিজিটাল লেনদেনকে উৎসাহিত করতে চালু হওয়া সর্বজনীন বাংলা কিউআর কোড ব্যবস্থার অপব্যবহার শুরু হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তাঁরা বলেন, এমএফএস ইকোসিস্টেমে এজেন্ট থেকে নগদ টাকা তুলতে বা ক্যাশ আউট করতে গ্রাহককে নির্দিষ্ট হারে মাশুল বা ফি দিতে হয়। এমএফএস–ভেদে এই মাশুল হাজারে সর্বনিম্ন ১২ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ১৮ টাকা ৫০ পয়সা। তাতে কোনো গ্রাহক যদি এমএফএসে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া সর্বোচ্চ সীমা অনুযায়ী ৩০ হাজার টাকা নগদে উত্তোলন করেন বা ক্যাশ আউট করেন, তাঁকে সর্বনিম্ন ৩৮৭ টাকা মাশুল বা ফি দিতে হয়। কিন্তু অনেক গ্রাহক এখন পণ্য বা সেবা বিক্রেতা বিভিন্ন মার্চেন্ট থেকে এই অর্থ নগদে উত্তোলন করছেন কোনো ধরনের ফি বা মাশুল ছাড়া। যেমন একজন দোকানদারের কাছ থেকে কোনো পণ্য বা সেবা না কিনে একজন গ্রাহক কিউআর কোডে ৩০ হাজার টাকা স্থানান্তর করে তা ওই দোকানদারের কাছ থেকে নগদে গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। বিনিময়ে নির্দিষ্ট কোনো ফি না দিয়ে দোকানদারের চাহিদা অনুযায়ী নামমাত্র কিছু অর্থ দিয়েই এই সুবিধা পাচ্ছেন। তাতে একদিকে নগদ অর্থ উত্তোলনকারী গ্রাহকের ফি বাবদ খরচ সাশ্রয় হচ্ছে। আর দোকানদার কোনো পণ্য বা সেবা বিক্রি না করে গ্রাহকের কাছ থেকে কিছু অর্থ পাচ্ছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সীমার বাইরে গ্রাহক বড় অঙ্কের অর্থ ক্যাশ আউটের সুযোগ পাচ্ছেন।

এ কারণে নগদ অর্থ উত্তোলনে বাংলা কিউআর কোডের এই অপব্যবহার বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো। তারা বলছে, বাংলা কিউআর কোডের অপব্যবহারের কারণে শুধু এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর ইকোসিস্টেমই নষ্ট হচ্ছে তা নয়, বরং এই অপব্যবহারের কারণে অর্থ পাচারের মতো নানা ঘটনার সুযোগও তৈরি হয়েছে। কেননা, এমএফএসের মাধ্যমে নগদ অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা বিধিনিষেধ ও লেনদেনের সীমা আরোপিত রয়েছে। কিন্তু বাংলা কিউআর কোডে লেনদেনে সেই ধরনের বিধিনিষেধ বা সীমা নেই। ফলে বিভিন্ন মার্চেন্ট থেকে গ্রাহকেরা ইচ্ছামতো অবৈধভাবে নগদে টাকা উত্তোলনের সুযোগ পাচ্ছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত জুলাইয়ে লেনদেনের ক্ষেত্রে বাংলা কিউআর কোড বাধ্যতামূলক করা হয়। ফলে দেশের সব ব্যাংক ও এমএফএস বাধ্য হয়ে নিজস্ব কোডের পরিবর্তে পণ্য ও সেবা বিক্রেতাদের (মার্চেন্ট) কাছে বাংলা কিউআর কোড স্থাপন করছে। এই মার্চেন্টদের এক ব্যাংক বা এমএফএস হিসাবের বিপরীতে বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠান ৪-৫টি পর্যন্ত বাংলা কিউআর কোড দিয়েছে। এতে দেশজুড়ে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা মার্চেন্টরা নগদ অর্থ উত্তোলনের বিকল্প ব্যবস্থা হয়ে উঠেছে। গ্রামগঞ্জের দোকানদার থেকে শুরু করে বড় বড় সেবা ও পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান এই মার্চেন্টের তালিকায় রয়েছে। ফলে বিপুলসংখ্যক মার্চেন্টের প্রভাবে ভেঙে পড়েছে এমএফএসে এজেন্ট ইকোসিস্টেম।
বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণে বিক্রেতাদের খরচ শূন্য করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ ও নগদে তা গ্রাহককে ফেরত দিতে কোনো মাশুল দিতে হবে না মার্চেন্টদের। তার বিপরীতে বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো এমএফএসের এজেন্ট থেকে ক্যাশ আউটে নির্দিষ্ট অঙ্কের ফি দিতে হবে। এই ফি বাবদ এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো যে অর্থ পায় তার মধ্যে প্রতি হাজারের জন্য সরকারকে রাজস্ব দেয় ৩ টাকার বেশি। কিন্তু মার্চেন্টদের মাধ্যমে অর্থ তুললে কোনো খরচ নেই। আবার সরকারকে কোনো রাজস্ব দিতে হবে না মার্চেন্টদের। ফলে এই কিউআর কোড ব্যবহার করে মার্চেন্টদের কাছ থেকে নগদ অর্থ উত্তোলন গ্রাহক ও মার্চেন্ট উভয়ের জন্য লাভজনক। সরকার ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানের জন্য তা বড় ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর সম্প্রতি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ধরনের কোম্পানির জন্য লেনদেনে বড় ছাড় দিয়েছে। সেই অনুযায়ী বছরে দুই কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিকে কোনো টার্নওভার বা লেনদেন কর দিতে হবে না। এই সুবিধার কারণে কিউআর কোডে অর্থ স্থানান্তর করে নগদে তা গ্রাহককে পরিশোধে করের কোনো ঝামেলায়ও পড়তে হবে না মার্চেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠান নগদের সাবেক চেয়ারম্যান কে এ এস মুরশিদ প্রথম আলোকে বলেন,‘বাংলাদেশের মতো নগদ টাকা নির্ভর অর্থনীতির দেশে রাতারাতি ক্যাশলেস করা সম্ভব না। ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে বাংলা কিউআর চালুর পর পূর্ণাঙ্গভাবে তা শুরু করা দরকার ছিল। সেটা না করে তড়িঘড়ি করে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক ও মাশুল প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে মার্চেন্টরা পণ্য বা সেবা বিক্রির পরিবর্তে অর্থ উত্তোলন ব্যবসা শুরু করে দিয়েছে। এতে সরকার রাজস্ব হারাবে এবং অবৈধ অর্থের লেনদেনের সুযোগ বেড়ে যাবে।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘মানুষের জীবন সহজ করতে ও নগদ টাকার লেনদেন কমাতে বাংলা কিউআর চালু করা হয়েছে। তবে এই সুবিধার কোনো অপব্যবহার হলে আইনের আওতায় শাস্তির সুযোগ আছে।’
বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করার পর গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশজুড়ে ৩৫ লাখ মার্চেন্ট কিউআর কোড স্থাপন করেছে বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠান। এখন প্রতিদিন গড়ে ১৩৭ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে কিউআর কোডে। এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, মার্চেন্টদের মাধ্যমে কম খরচে নগদ টাকা উত্তোলনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় এখন অনেকে সেই পথ বেছে নিয়েছে। এ কারণে দ্রুত কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন বাড়ছে।
সম্প্রতি কয়েকটি ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠান কিউআর কোডে কয়েকজন গ্রাহকের অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে। পরে বিষয়টি যাচাই–বাছাই করতে গিয়ে এসব গ্রাহকের মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পায় প্রতিষ্ঠানগুলো। যেমন নেত্রকোনার ৩০ বছর বয়সী জাকিয়া আফরিন নামের বিকাশের এক গ্রাহক গত ১৪ থেকে ১৮ আগস্ট দুটি ব্যাংকের কিউআর কোড ব্যবহার করে ৩৬ লাখ ৩৯ হাজার ৪৯০ টাকা লেনদেন করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কয়েকটি মোবাইল ফোনের দোকানে এই লেনদেন হয়। একইভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সোহাগ মিয়া নামে এমএফএসের এক গ্রাহক গত ১৬ ও ১৭ আগস্ট দুই দিনে জেলার কয়েকটি দোকানে বাংলা কিউআর কোডে ৪০ লাখ টাকার লেনদেন করেন। এ রকম আরও বেশ কিছু গ্রাহকের অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যেসব গ্রাহকের নামে জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে এসব লেনদেন করা হয়েছে সেসব গ্রাহকের বেশির ভাগ হিসাব অন্য কারো নামে নিবন্ধিত। মূলত প্রবাসী আয়ের অর্থ, ব্যাংক থেকে জমা হওয়া টাকা মার্চেন্টদের মাধ্যমে নগদে উত্তোলন করা হয়েছে। এসব অর্থের প্রেরক ও গতিপথও অজানা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট দুজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে জানান, বাংলা কিউআরের মাধ্যমে নগদ অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি তাঁরা অবগত হয়েছেন। এটা প্রতিরোধে মার্চেন্টভিত্তিক লেনদেনের সীমা বেঁধে দেওয়া যায় কি না, তা যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে।
ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভরতায় এগিয়ে থাকা ব্যাংকগুলোর একটি পূবালী ব্যাংক। দেশজুড়ে ব্যাংকটি প্রায় সাড়ে ৪ লাখ বাংলা কিউআর কোড স্থাপন করেছে। বাংলা কিউআরের অপব্যবহারের বিষয়ে পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘মার্চেন্টের মাধ্যমে নগদ অর্থ উত্তোলন সেবা বন্ধ করতে হবে। কারণ, এতে কে টাকা পাঠাচ্ছে ও কে উত্তোলন করছে, তার হদিস পাওয়া যায় না। এই সুবিধা বন্ধ না হলে হুন্ডির প্রবণতা বেড়ে যাবে।’
দেশের শীর্ষ দুই এমএফএস প্রতিষ্ঠান বিকাশ ও নগদের একাধিক কর্মকর্তা জানান, একজন গ্রাহক যখন এমএফএস হিসাবে নগদ টাকা জমা করে ডিজিটাল টাকায় রূপান্তর করেন তার পেছনে এমএফএসগুলোর অর্থ খরচ হয়। কিন্তু এমএফএস অ্যাপ থেকে ব্যাংকের কিউআরে লেনদেনে এমএফএসগুলোর কোনো মুনাফা থাকে না। উল্টো ভর্তুকি দিতে হয়।
ধরা যাক, একজন গ্রাহক এজেন্টের মাধ্যম এমএফএস হিসাবে ১ হাজার টাকা জমা করলেন। যে এজেন্ট টাকা জমা নিলেন তাঁকে ও তাঁর পরিবেশক এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরকে কমিশন বাবদ ন্যূনতম ৬ টাকা ৪০ পয়সা দেন এমএফএসগুলো। কিন্তু বাংলা কিউআরে একজন গ্রাহক যখন অন্য ব্যাংকের কিউআরের মাধ্যমে মার্চেন্টে লেনদেন করেন তখন ১ শতাংশ রেটে এমডিআর (মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট) কাটে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান বা মার্চেন্টরা। তাতে এক হাজার টাকা লেনদেনে মার্চেন্ট ১০ টাকা কেটে রাখেন। এই ১০ টাকা পান কিউআর কোড স্থাপন করা ব্যাংক বা এমএফএস। যে প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ ব্যবহার করে লেনদেন করা হলো, ওই প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট বাদ দিয়ে কিউআর স্থাপন করা ব্যাংক ৬ টাকা ১০ পয়সা আইআরএফ (ইন্টারচেঞ্জ রেইমবার্সমেন্ট ফি) প্রদান করে। ফলে প্রতি ১ হাজার টাকা লেনদেনে গ্রাহকের কোনো খরচ নেই, মার্চেন্টের খরচ ১০ টাকা। যার মধ্যে সরকার ভ্যাট ও এআইটি বাবদ পায় ২ টাকা ৯১ পয়সা। এজেন্ট, পরিবেশক এবং মোবাইল অপারেটর পায় ৬ টাকা ৪০ পয়সা। ব্যাংকের খরচ বাদে আয় হয় ১৭ পয়সা। আর এমএফএসের লোকসান হয় কমপক্ষে ৩০ পয়সা।
এখন অনেক ব্যাংক প্রচারণা ও জনপ্রিয় করার অংশ হিসেবে মার্চেন্ট থেকে কোনো মাশুল নিচ্ছে না। ফলে কিউআরের অপব্যবহার আরও বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে আইআরএফ ও এমডিআর শূন্য হয়ে যাবে। তাতে বিভিন্ন মার্চেন্ট পয়েন্ট থেকে গ্রাহকের নগদে অর্থ গ্রহণের প্রবণতা আরও বাড়বে।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃত মডেল হলো, ডিজিটাল অর্থ লেনদেনের খরচ মার্চেন্টরাই বহন করে এবং মুনাফা থেকে এই খরচের সংস্থান করে। কিন্তু সেটি না হওয়ায় এখন মার্চেন্টরা হয়ে উঠেছেন এমএফএসের এজেন্টদের বিকল্প। এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে গড়ে ওঠা এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোও চাপে পড়েছে। ক্যাশ আউট কমে যাওয়ায় অনেক এমএফএস এজেন্ট ব্যবসায় আগ্রহ হারাচ্ছেন।
এ বিষয়ে নগদের সাবেক চেয়ারম্যান কে এ এস মুরশিদ বলেন, ‘ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে বিশ্বজুড়ে যেসব স্বীকৃত মডেল আছে, তা হুবহু অনুসরণ না করে বাংলাদেশ উপযোগী মডেল তৈরি করতে হবে। কারণ, যে মডেল দেওয়া হয়েছে, তা প্রতিষ্ঠিত এমএফএস কোম্পানিগুলোকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।’
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
অনেক মানুষ আছেন, যারা রাত জেগে কাজ করতে বা সময় কাটাতে পারেন অনায়াসে। কিন্তু সকাল হলেই যেন ঘুম ভাঙতে চায় না। অ্যালার্ম বেজে চলেছে, তবু বিছানা ছাড়তে ইচ্ছা করছে না। কোনোভাবে চোখ খুললেও মনে হয়, ঘুম যেন এখনো কাটেনি। সারাক্ষণ ঝিমুনি, মাথা ভার আর আলস্য ঘিরে থাকে। কিন্তু কেন এমন হয়? বিজ্ঞানী ও গবেষকদের মতে, ঘুম থেকে জেগে ওঠা কোনো যান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়। সুইচ চাপলেই যেমন সঙ্গে সঙ্গে আলো জ্বলে ওঠে, মস্তিষ্কও তেমনভাবে ঘুম থেকে জেগে ওঠে না। ঘুম ভাঙার প্রক্রিয়াটি ধীরে ধীরে সম্পন্ন হয়। আর আপনি ঘুমের কোন পর্যায়ে ছিলেন, তার ওপরও জেগে ওঠার অনুভূতি অনেকটাই নির্ভর করে। ঘুমের সময় মস্তিষ্কে কী ঘটে? জেগে থাকা অবস্থায় মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। চিন্তা করা, কথা বলা, সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে শুরু করে চারপাশের তথ্য বিশ্লেষণ-সবকিছুই তখন চলতে থাকে। ঘুমিয়ে পড়ার পর মস্তিষ্কের কার্যকলাপের ধরন পরিবর্তন হয় এবং ঘুমের বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্য দিয়ে শরীর-মস্তিষ্ক এগিয়ে যায়। ঘুম ভাঙার সময়ও মস্তিষ্ককে ধীরে ধীরে সক্রিয় অবস্থায় ফিরতে হয়। মস্তিষ্কের গভীর অংশ থেকে শুরু হওয়া জাগরণের সংকেত ধীরে ধীরে অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। রেটিকুলার অ্যাক্টিভেটিং সিস্টেম বা আরএএস এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি মস্তিষ্কের জাগ্রত থাকার প্রক্রিয়ায় যুক্ত একটি স্নায়বিক ব্যবস্থা। আরএএস থেকে সংকেত থ্যালামাসে পৌঁছায়। থ্যালামাসকে অনেকটা মস্তিষ্কের যোগাযোগকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য মস্তিষ্কের এক অংশ থেকে অন্য অংশে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। এরপর সংকেত মস্তিষ্কের বাইরের স্তর বা সেরিব্রাল কর্টেক্সে পৌঁছায়। এই অংশই চিন্তা, মনোযোগ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভূমিকা রাখে। গভীর ঘুমে থাকলে ওঠা কঠিন ঘুমের সব পর্যায় থেকে একইভাবে জেগে ওঠা যায় না। বিশেষ করে গভীর ঘুমের পর্যায়ে থাকলে হঠাৎ অ্যালার্মে ঘুম ভাঙার পরও কিছু সময় অস্বস্তি বা ঘোরের মতো অনুভূতি হতে পারে। চোখ খুলে গেলেও তখন মনে হতে পারে, মাথা ঠিকমতো কাজ করছে না। কথা বলতে, মনোযোগ দিতে কিংবা বিছানা ছেড়ে স্বাভাবিক কাজে ফিরতেও সময় লাগে। এই অবস্থাকে বলা হয় স্লিপ ইনার্শিয়া। সাধারণত এটি সাময়িক এবং কিছু সময় পর কেটে যায়। ঘুম ভাঙার পরও কেন ঝিমুনি থাকে? ঘুম থেকে ওঠার পর মস্তিষ্কের সব অংশ একই মুহূর্তে পুরোপুরি সক্রিয় হয়ে যায় না। জেগে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যকলাপ ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়। ফলে চোখ খোলার পরও কিছু সময় ঘুমঘুম ভাব থাকতে পারে। এছাড়া আপনি যদি ঘুমের মাঝামাঝি বা গভীর পর্যায়ে অ্যালার্মের শব্দে জেগে ওঠেন, তাহলে ঝিমুনি তুলনামূলক বেশি অনুভূত হতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, অনিয়মিত ঘুমের সময় এবং দীর্ঘদিনের ঘুমের ঘাটতিও সকালে সতেজ না লাগার কারণ হতে পারে। আরও পড়ুন কত কেজির ইলিশ কিনলে স্বাদে ভালো হয় জানেন? শরীরকে সময় দিন সকালে ঘুম ভাঙার পর সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে পুরোপুরি সক্রিয় মনে না হওয়া সবসময় কোনো সমস্যার লক্ষণ নয়। মস্তিষ্ককে ঘুম থেকে জেগে ওঠার অবস্থায় ফিরতে কিছুটা সময় লাগে। চোখ খুলে ফেললেও, মাথা কাজ করছে না। এই ঘোর ১৫ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত থাকতে পারে। আরও পড়ুন পিৎজা খেয়েও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবেন যেভাবে প্রতিদিন পর্যাপ্ত সময় ঘুমানোর পরও যদি দীর্ঘসময় তীব্র ঝিমুনি থাকে, দিনের কাজকর্মে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয় বা নিয়মিত অতিরিক্ত ঘুম পেতে থাকে, তাহলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। কারণ এর পেছনে ঘুমের গুণগত সমস্যা বা অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে। সূত্র: হেলথলাইন, স্লিপ ডট কম, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এসএকেওয়াই
সরকার নিয়োগ পরীক্ষায় ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর চার গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা ভাবছে। বাংলাদেশে ২০১৭ সালের শেষ দিক থেকেই কোটাবিরোধী মনোভাব জাগরিত হয়। তখন ডেইলি স্টার-এ এক লেখায় আমি যুক্তি দেখিয়েছিলাম যে সরকারি নিয়োগে কোটা এবং ভাইভা হচ্ছে বৈষম্যকরণের দুটি মোক্ষম হাতিয়ার।২০১৮ সালে ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হয়। তখন এর সপক্ষেও একাধিকবার লিখেছি। আমার একটি ইংরেজি গ্রন্থেও কোটা ও ভাইভাবিরোধী লেখা রয়েছে। আজ কেউ যেন না ভাবেন যে রাজনৈতিক পছন্দ বা অপছন্দ থেকে নতুন সরকারের ‘ভাইভা মোটাতাজাকরণ’ উদ্যোগের বিরোধিতা করছি।চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের প্রধান স্লোগান ছিল সরকারি নিয়োগে বৈষম্যের বিরোধিতা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বহু সংস্কারের ওয়াদা করে শেষে রাখতে পারেনি। তবে সরকারি চাকরির ভাইভায় দুর্নীতির সুযোগ রয়েছে বিধায় এর পরিধি ও তেজ কমিয়েছিল। বিসিএস পরীক্ষার মোট নম্বর ছিল ১১০০, যার মধ্যে ভাইভায় থাকত ২০০ নম্বর।৫ লাখ সরকারি চাকরি, কতটা বাস্তবসম্মত২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়োগপদ্ধতিকে আরও ‘স্বচ্ছ ও ন্যায়ভিত্তিক’ করার যুক্তিতে ভাইভার পরিধি ২০০ থেকে কমিয়ে ১০০ নম্বরে সংকুচিত করেছিল।গত জুনে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে নিশ্চিত করলেন যে বিসিএস পরীক্ষার ভাইভায় ইউনূস প্রবর্তিত সেই ১০০ নম্বরই রাখা হচ্ছে। কারণ হিসেবে তিনি ‘স্বচ্ছতা ও অনিয়ম কমানোর কথা’ উল্লেখ করলেন। তিন মাস না যেতেই সরকার ভাইভার নম্বর চার গুণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তথ্য উপদেষ্টা এই বৃদ্ধির পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। তাহলে কি সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীর ‘স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার’ যুক্তি মাত্র তিন মাসেই মাঠে মারা পড়ল?উপদেষ্টার যুক্তিতে ভাইভায় বেশি নম্বর থাকলে চাকরির সঙ্গে জুতসই মেধাবীকে টেনে তোলা যায়। একাডেমিক ফলাফল ও লিখিত পরীক্ষায় ভালো না করা কিঞ্চিৎ অপদার্থ ভাতিজাকেও যে ভাইভায় বেশি নম্বর থাকলে টেনে তোলা যায়, সে কথা কি উপদেষ্টা ভুলে গেলেন? আবার বিদ্বেষ থাকলেও একজন ভালো প্রার্থীকে অর্ধচন্দ্র দিয়ে বিদায় করা যায়, সে কথাই–বা উপদেষ্টা ভুললেন কী করে?সরকারের নিয়োগপদ্ধতি যদি এ রকম স্ববিরোধী হয়, তাহলে একটি মেধাসম্পন্ন আমলাতন্ত্র গড়ে উঠবে কী করে? বিএনপি তার নির্বাচনী ইশতেহারে একটি ‘মানবিক মর্যাদাসম্পন্ন জ্ঞানভিত্তিক সমাজ’ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। ‘ভাইভার মোটাতাজাকরণ’ প্রকল্প এই প্রত্যয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।ভাইভার অপব্যবহার ঘটিয়ে দলীয় নিয়োগ বাড়ানোর অভিযোগ আওয়ামী আমলেও উঠেছিল। তখন ওই সরকারের একজন রাজনৈতিক উপদেষ্টা দলীয় ছাত্রদের সভায় গিয়ে তাঁদের সরকারি চাকরিপ্রাপ্তি নিয়ে চিন্তা না করতে উপদেশ দিয়েছিলেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, ‘তোমরা খালি রিটেনটা পাস কোরো।’ এ নিয়ে মিডিয়ায় সমালোচনা হলে সেই উপদেষ্টা সংবাদ সম্মেলন করে নিজের কথার আরেক মাহাত্ম্য খাড়া করেন। উপদেষ্টাদের বাচালতায় সরকারের বিপদ ঘটে। এর আলামত এখনো শুরু হয়েছে।শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ীর এক গ্রামে আমার বাস। সব আমলেই দেখেছি সরকারদলীয় স্থানীয় নেতার বাড়িতে বেকার যুবকদের ভিড়। একটা সনদ নিতে হবে, যেখানে লেখা থাকবে, ‘এই রত্নটি একজন একনিষ্ঠ দলীয় কর্মী।’ শুনেছি এ-জাতীয় সনদ নাকি সরকারি চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে মহৌষধের ভূমিকা পালন করে থাকে। এতটা দলীয় কর্মীভিত্তিক প্রশাসন গড়েও কি শেষরক্ষা হয়? ক্ষমতার ভাগ্য তো জনতারই হাতে নির্ধারিত হয়ে থাকে।সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে, বেসরকারিদের কী হবেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে কি ঘুষ-দুর্নীতি কমে যাবেধরা যাক সরকারি কর্ম-কাঠামোর পুরোটাই, অর্থাৎ ১৪ লাখ কর্মচারীই আওয়ামী লীগ অথবা বিএনপির কর্মী। তাতেই কি সরকার শক্তিশালী হয়ে গেল? প্রতিবছর বেকারের জনস্রোতেই বের হয় ২২ লাখ মানুষ। এর মধ্য থেকে জাত-ধর্ম ও দলমত-নির্বিশেষে একটি মেধাবী ও দক্ষ জনবল সরকারি নিয়োগ পেলে দীর্ঘ মেয়াদে জাতিকে উৎপাদনশীল করা সম্ভব। জাতি-ধর্ম, লিঙ্গ, আঞ্চলিকতা ও দলীয় আনুগত্যের পছন্দে কর্মী বাহিনী গড়ে তুললে সেখানে মেধার প্রশ্ন গৌণ হয়ে যায়। ফলে একটা মানহীন গড় মেধাসম্পন্ন বা ‘মিডিওকার’ চরিত্রের লোকবল জাতিকে পেছনে টেনে ধরে। যে দল অযোগ্যকে খাতির করে চাকরি দেয়, সে দলেরই সমূহ পতনের আয়োজন করে থাকেন স্বজনপ্রীতির বরপুত্রগণ। ছাগল-কাণ্ড তারই প্রমাণ।তথ্য উপদেষ্টার দাবি অনুযায়ী ভাইভার আনুপাতিক পরিধি বাড়িয়ে চাকরির জুতসই প্রকৃত মেধাবী কর্মীকে খুঁজে পাওয়া যাবে। ভাইভা বোর্ডের ওই পাঁচজন জ্ঞানী ব্যক্তি কি কোনো অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন জহুরি যে তাঁরা মাত্র আধা ঘণ্টায় এক গুণধর রত্নকে চিনে ফেলবেন। এটি কি ‘ছাইচাপা আগুন’ আবিষ্কারের সদিচ্ছা, নাকি নিজেদের পক্ষপাতিত্ব জায়েজ করার একটা ঢাল? বিস্তর গবেষণা ভাইভাকে স্বজনপ্রীতি বা বর্ণবিদ্বেষের হাতিয়ার মনে করে থাকে। তাই এটিকে একেবারে তুলে না দিয়ে এর কঠিন সংস্কার করা হয়েছে পশ্চিমা দুনিয়ায়।সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিএনপির লোকদের ‘আত্মঘাতী’ নিয়োগসরকারের দুর্বলতা কাটাতে বেসরকারি খাত থেকে কেন নিয়োগ নয়আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ কমিটিতে কাজ করার সুযোগ হয়েছে একাধিকবার। চাকরিপ্রার্থীদের কী কী প্রশ্ন করা হবে, তা আমাদের মানবসম্পদ অফিস থেকে পাস করিয়ে নিয়ে আসতে হতো। সবাইকে এই এক সেট প্রশ্নের মধ্য দিয়েই বিচার করতে হবে এবং এর বাইরে একটি প্রশ্নও করা যাবে না। বিশেষ ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে আমাদের শেখানো হয়েছে—ভাইভার সময় কোনোরূপ বৈষম্যমূলক প্রশ্ন করা যাবে না। চাকরিপ্রার্থীর ধর্মীয় বিশ্বাস, রাষ্ট্রীয় পরিচয়, বয়স কিংবা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি—এর কোনো কিছু নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না। কারও চেহারা দেখে পছন্দ হয়ে গেলে সেটিও প্রকাশ করা যাবে না।মিতব্যয়িতা ও দালিলিক প্রমাণের প্রয়োজনে আজকাল অনেক বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভাইভা নিয়ে থাকে। মানবসম্পদ কর্মকর্তা ভদ্রমহিলাটি বললেন, সব ইন্টারভিউ রেকর্ড করা থাকবে। ‘আমি বললাম, রেকর্ডের কী প্রয়োজন?’ মহিলা বললেন, ‘ভাইভাতে বৈষম্য করা হয়েছে’ এই অভিযোগে কেউ কখনো মামলা দিলে আমরা রেকর্ডকৃত ভাইভা আদালতে পাঠাতে বাধ্য। শুনে আমি ভয়ে জড়সড়।মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম ভাইভার সময় কোনো বাঙালি প্রার্থী পেলেই উচ্ছ্বসিত হব না। কিংবা কাউকে দেখে যেন কোনোভাবেই আমার বিগলিত মন ধরা না পড়ে যায়। মনস্তত্ত্ববিদেরা এই ‘বিগলিত হয়ে যাওয়া’র স্বভাবকে অসচেতন পক্ষপাতিত্ব বা ‘আনকনশাস বায়াস’ বলে উল্লেখ করেছেন।একবার জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা মৌখিক পরীক্ষাকে বৈষম্যকরণের হাতিয়ার বলে মিছিল করেছিলেন। কিন্তু লিখিত পরীক্ষা বৈষম্যকরণের হাতিয়ার কি না—এ নিয়ে কোনো মিছিল আমাদের নজরে আসেনি। অভিযোগ রয়েছে যে ভাইভা কাউকে অতিরিক্ত মানসিক চাপে নার্ভাস বা দুশ্চিন্তায় কাতর করে ফেলে। প্রশ্নকর্তারা অনেক সময় হয়ে পড়েন ‘জাজমেন্টাল’। নিজস্ব খাপের মধ্য থেকে অন্যকে বিচার করেন।কখনো উত্তরদাতার ঘটে যায় ‘নিউরোডাইভার্জেন্স’ বা স্নায়ুগত বিক্ষিপ্ততা। দুশ্চিন্তা আরও বাড়ে যখন বিজ্ঞ প্রশ্নকর্তারা পরীক্ষার্থীকে ‘চাঁদের ওজন’ কিংবা ‘রাশিয়ার আয়তন’ জিজ্ঞেস করে বসেন। আরব-বাংলাদেশ ব্যাংকে আমার ভাইভার সময় গর্বাচেভের পেরেস্ত্রইকা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। কিন্তু ব্যাংকের কর্মজীবনে ব্যালান্স শিট মেলাতে গিয়ে কোথাও ওই পেরেস্ত্রইকার সন্ধান পাইনি। শুধু ভাইভার তামাশা নিয়েই বাংলা সাহিত্যে এক বিশাল মহাকাব্য রচনা সম্ভব।সরকার যদি সত্যিই মেধাসম্পন্ন একটি কর্মী বাহিনী গড়ে তুলতে চায়, তাহলে ভাইভার সংস্কারকর্মে তার দুটি পথ খোলা রয়েছে। এক. ভাইভা একেবারে তুলে দেওয়া। দুই. ভাইভার নম্বর যথাসম্ভব কম রেখে এর আধুনিকায়ন, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা।ভারসাম্যপূর্ণ জ্ঞানী মানুষকেই বোর্ড মেম্বার করতে হবে। অতি উচ্চ বা অতি নিম্ন নম্বর দিলে ভাইভার প্রশ্নকর্তাকে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। ভাইভার রেকর্ড থাকলে ভবিষ্যতে একজন সংক্ষুব্ধ মেধাবী আদালতের শরণাপন্ন হতে পারবেন। নিষ্ঠা ও সদিচ্ছা দিয়ে ভাইভার সংস্কার করলে সরকারি কর্মী বাহিনীর মেধা ও উৎপাদনশীলতা বাড়বে। দীর্ঘ মেয়াদে উপকৃত হবে অর্থনীতি।ড. বিরূপাক্ষ পাল যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক অ্যাট কোর্টল্যান্ড-এ অর্থনীতির অধ্যাপকমতামত লেখকের নিজস্ব
রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৪৭ জন গ্রেফতার হয়েছে। একই সময়ে ৪৮ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারদের মধ্যে রমনা বিভাগ ৩৭ জন, লালবাগ বিভাগ ৩২ জন, ওয়ারী বিভাগ ৭৭ জন, মতিঝিল বিভাগ ৫৮ জন, তেজগাঁও বিভাগ ৯২ জন, মিরপুর বিভাগ ১৩৮ জন, গুলশান বিভাগ ৫৩ জন, উত্তরা বিভাগ ৫৬ জন, গোয়েন্দা বিভাগ ২ জন ও সিটিটিসি বিভাগ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে। অভিযানকালে ২৩২১ পিস ইয়াবা, ২ কেজি ৩৮০ গ্রাম গাঁজা, ৮ বোতল ফেনসিডিল, ৫ বোতল বিদেশিমদ, ৮ টি মোবাইলফোন, ২০০ গজ ইন্টারনেট ক্যাবল, ১ টি বাস, ১২, ৭৫০ টাকা, ১ টি দেশীয় ওয়ান শুটার গান, ১ টি সামুরাই ও ২৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।জেএইচ